১৪. উত্তপ্ত বাতাস ধুলো উড়িয়ে

উত্তপ্ত বাতাস ধুলো উড়িয়ে নিয়ে এল খোলা জায়গায়, কূপের উপর মিহি আস্তরের মত ভাসমান একটা চাদর তৈরি করল কিছুক্ষণের জন্য, শেষে ধীরে ধীরে থিতিয়ে এল। পানির উচ্চতা প্রায় তলানিতে নেমে গেছে, সামান্য অবশিষ্ট আছে। সূর্য মাথার উপর, গনগনে তাপ ছড়িয়ে দিচ্ছে উনুনের মত উত্তপ্ত মরুভূমির বুকে। পাথুরে চাতাল থেকে মরুভূমিতে দৃষ্টি চালাল এড মিচেল, বালিতে প্রতিফলিত সূর্যের আলোয় চোখ ধাধিয়ে গেছে। নিজেকে ক্লান্ত এবং পর্যুদস্ত মনে হচ্ছে ওর, জীবনে এই প্রথম উপলব্ধি করল বয়স হয়েছে। কঠিন জীবনে অভ্যস্ত ছিল বরাবর, উদয়াস্ত পরিশ্রম করত, সামান্য খাবার আর পানি হলেও দিব্যি কাটিয়ে দিতে পারত দিনের পর দিন, ক্লান্তি বলে কিছু জানা ছিল না। শঙ্কা বা উদ্বেগ শব্দগুলোর সঙ্গে পরিচয় ছিল না। কিন্তু এখন জানে সে। ক্লান্তির চরমে পৌঁছে গেছে।

উইনচেস্টার পরখ করল এরিক ক্ৰেবেট। ক্যাম্পের ওপাশে বসে থাকা মেলানির দিকে তাকাল। সকাল থেকে একেবারে চুপ হয়ে গেছে মেয়েটা। অবশিষ্ট খাবার যা ছিল, নীরবে বিলিয়ে দিয়েছে সবাইকে। একটা শব্দও উচ্চারণ করেনি। ড্যানের পাশে বসে আছে মিমি, মৃদু স্বরে আলাপ করছে নিজেদের মধ্যে। একটু দূরে একা বসে আছে বেন,

গতরাতের ঘটনা সবার জানা হয়ে যাওয়ার পরও ডেভিসকে কিছু বলেনি এরিক। লোকটাকে শুরু থেকে অপছন্দ ওর, কিন্তু তারপরও ভেবেছিল সবার সঙ্গে থাকবে সে, একাট্টা হয়ে লড়বে যোগ্য পুরুষের মত; প্রত্যাশাটা অতিরিক্ত ছিল। তবে এও ঠিক ডেভিস কাপুরুষ নয়, বড়জোর স্বার্থপর। সময়ে সময়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে এ ধরনের মানুষ, অভিজ্ঞতা থেকে জানে এরিক

লোভে পেয়ে বসেছে ডুগানকে। নিজেদের প্রতিরক্ষার চেয়ে বরং বিগ জুলিয়ার সোনা সম্পর্কে বেশি ভাবছে। লোকটার উপর আস্থা রাখা যাবে না, নিজেকে মনে করিয়ে দিল এরিক।

ওর জন্য কফি নিয়ে এল মেলানি। প্রায় শেষের পথে, মৃদু স্বরে বলল মেয়েটি। অবশ্য এর অর্ধেকের বেশিই মেস্কিট বীন মেশানো। কিন্তু এই আছে আমাদের।

কাপটা নেওয়ার সময় আন্তরিক হাসল এরিক। নীরব বিস্ময় আর সমীহ নিয়ে ওকে দেখল মেলানি। ক্লান্তি বলে কিছু নেই এই লোকটির! তুমি শুধু আমাদের কথাই ভাবছ, অকপট স্বরে বলল ও। সার্জেন্ট ছাড়া শুধু তুমিই সবার মঙ্গলের চিন্তা করছ।

কারণ এখান থেকে জীবিত বেরিয়ে যেতে চাই আমি।

উঁহু, এরচেয়েও বড় কারণ আছে। শুধু নিজের জন্য এত কিছু করে না মানুষ।

একটা কথা বলি, ম্যাম, সামান্য দ্বিধার পর কথাটা বলেই ফেলল সার্জেন্ট হ্যালিগান। যাই ঘটুক, ওর সঙ্গে লেগে থেকো। কেউ যদি তোমার যত্ন নিতে পারে, তো সেই লোক হচ্ছে ও।

হয়তো এখনও আমাকে বীয়ারের ফেনাই ভাবো তুমি, সার্জেন্ট চলে যাওয়ার পর মৃদু স্বরে বলল মেলানি। দেখতে সুন্দর, কিন্তু কোন কাজে আসে না। এই দেশে টিকে থাকতে কী ধরনের মানুষ হতে হয়, শেষপর্যন্ত তোমার কথাটার মানে বুঝতে শুরু করেছি।

তোমার বাবা একটা ছেলেকে খুন করেছিল, সিগারেট রোল করার ফাঁকে বলল এরিক। ঘটনাটা জানি আমি। ছেলেটার নাম ছিল রিও, তাই না?

হ্যাঁ।

আসলে ও ছিল বন্দুকবাজ, ভাড়াটে খুনী। তোমার বাবাকে খুন করার জন্য পাঠানো হয়েছিল ওকে।

সরাসরি এরিকের চোখে চোখ রাখল মেলানি, নিরীখ করল। আমাকে সান্ত্বনা দিতে এসব বলছ না তো?

হয়তো কয়েক ঘণ্টা পরই মারা যাব সবাই, এই পরিস্থিতিতে যে লোক মিথ্যে বলে, সে বোকারও অধর্ম। আমার কথা বিশ্বাস না হলে মিচেল বা ডুগানকে জিজ্ঞেস কোরো। সীমান্তের আশপাশে সবাই জানে ঘটনাটা। রিও আসলে এল পাসো থেকে এসেছিল, ঝগড়াটে ঝামেলাবাজ। বন্ধুরা তোমার বাবাকে পরামর্শ দিল একজন বন্দুকবাজ ভাড়া করতে, সে-ই মুখোমুখি হবে রিওর, কিন্তু হেসে কথাটা উড়িয়ে দিল জিম রিওস। নিজের লড়াই আজীবন নিজে করে এসেছে সে, স্বভাবটা বুড়ো বয়সে বদলানোর মত দুর্বল হয়ে যায়নি সে।

বোকার মত ঘটনাটার ভুল ব্যাখ্যা বিশ্বাস করেছি আমি।

বোকামি কে না করে? রিওকে দেখলে বহু লোকই এমন ভুল করবে। মুখে হাসি থাকলেই ভাল ছেলে হয় না। নিজের চোখে রিওকে দেখেছি আমি। হাসিখুশি, আমোদপ্রিয়। ঘোড়ার পিঠে দুর্দান্ত, হাঁটার ভঙ্গিও আকৃষ্ট করার মত; কিন্তু মনটা র্যাটলারের চেয়েও নীচ আর বিষাক্ত ওর।

নীরব থাকল মেলানি। এরিক, বাড়ি ফিরে যেতে চাই আমি। বাবার কাছে ফিরে যেতে চাই।

খুবই খুশি হবে তোমার বাবা।

তুমি কি নিয়ে যাবে আমাকে?

চার চোখ একত্রিত হলো, মেলানির চোখে কী যেন খুঁজল এরিক। যদি এখান থেকে বেরিয়ে যেতে পারি, প্রতিশ্রুতি দিল ও। তোমার বাবার কাছে নিয়ে যাব তোমাকে।

নুড়িপাথরে একটা বুটের সংঘর্ষের শব্দ হলো। আমাকে ফেলেই পালাবে, মেলানি? একটু দূরে, ওদের ডান দিকে দাঁড়িয়ে আছে বেন ডেভিস। উঁহু, মেলানি, পার পাবে না। ক্ৰেবেটও তোমাকে নিয়ে কোথাও যেতে পারবে না।

মরুভূমি কত পরিবর্তনের জন্ম দেয়, সে-মুহূর্তে আবারও উপলব্ধি করল মেলানি, মিথ্যে ও অহমিকার বেসাতি ধসে পড়ে; এখানে দাঁড়াতে হলে দরকার নির্জলা সাহস আর দুর্জয় মনোবল।

এ-ব্যাপারে পরে কথা বলব আমরা, মৃদু স্বরে বলল এরিক। যথেষ্ট ঝামেলা হয়েছে, আর নয়।

খরখরে স্বরে হেসে উঠল বেন। ঝামেলা থেকে দূরে থাকার বুদ্ধিটা তোমার ভালই, ক্ৰেবেট। কিন্তু ক’বার এড়াবে? কেলার, ডুগান আর জুলিয়ার সঙ্গে খুব চোটপাট দেখিয়েছ। যথেষ্ট হয়েছে। বারবার একই কথা শুনতে শুনতে কান পচে গেছে আমার। কাল রাতে চলে যেতে চেয়েছিলাম, জেনেও কিছু বলেনি আমাকে। কেন? ওদের মত আমাকেও শাসাতে এলে না যে? ভয় পাচ্ছ?

ভয় পাব কেন?

গুলি করে উড়ন্ত কাক মেরেছি আমি, ক্ৰেরেট, বিদ্রুপের ভঙ্গিতে বাকা হয়ে গেছে বেন ডেভিসের ঠোঁটের কোণ। মাত্র এক গুলিতে।

কাকটার কাছে কি পিস্তল ছিল? শান্ত স্বরে জানতে চাইল এরিক, দেখল ডেভিসের হাসিটা ম্লান হয়ে গেছে। কাকের মত হাওয়ায় উড়ব আমি, ডেভিস, এবং একটা পিস্তলও, থাকবে আমার হাতে। নরকে

কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে সার্জেন্ট হ্যালিগান, আড়চোখে তাকাল এরিকের দিকে। দু’জনের মাঝখানে আছ তুমি, ডেভিস, সহজ একটা টার্গেট। বেতাল কিছু করেছ তো ফুটো হয়ে যাবে।

নিজেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হলো বেন ডেভিস

দারুণ গরম পড়ছে। ধুলো উড়ছে মরুভূমিতে। পাথুরে চাতালে উঠে এল এরিক, স্থির বসে থেকে নজর রাখল, নিজেকে সুস্থির করার চেষ্টা করছে। উদ্বেগ ওকেও পেয়ে বসেছে, তটস্থ নার্ভে চাপ পড়ছে। পিস্তলে নিজের উপর প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী বেন ডেভিস…এমনকী খ্যাতিপাগল আনাড়ি তরুণদের চেয়েও। ডেভিস ধরেই নিয়েছে এরিককে শোডাউনে হারিয়ে দিতে পারবে, সম্ভবত দুনিয়ার কোন বন্দুকবাজকেই নিজের সমকক্ষ মনে করে না সে।

খুবই বিপজ্জনক লোক সে। এরকম পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়ে বহু কঠিন মনের মানুষ, চাপ সইতে পারে না; অল্পতে দিশেহারা হয়ে পড়ে। বেপরোয়া পদক্ষেপ শুধু তার নিজেরই নয়, অন্যদেরও অমঙ্গল ডেকে আনে।

এমন নির্জন জায়গায়, যেখানে দেখার নেই কেউ, যে-কোন কিছু ঘটতে পারে। জেফ কেলারের মন্তব্যটা শুনেছে এরিক-যে-ই বেঁচে থাকবে, বড়লোক হয়ে যাবে। বেন ডেভিসও শুনেছে। নিশ্চই নিজস্ব কোন পরিকল্পনা রয়েছে তার, মেলানি রিওসের চেয়ে বোধহয় সোনাই বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে তার কাছে।

ডুগান, কেলার এবং ডেভিস…তিনজনই শত্রু বনে গেছে। সেজন্য পরিস্থিতি, নাকি ও নিজেই দায়ী, বুঝতে পারছে না এরিক। মিচেল বা চিডল কোন পক্ষ নেবে, বলা যাচ্ছে না।

পাথুরে চাতালের কিনারে এসে অবস্থান নিল সবাই। দিনটা বড় দীর্ঘ মনে হবে ওদের, খাবার নিঃশেষ হয়ে গেছে। সামান্য পানি অবশিষ্ট আছে। মরুভূমিতে, একটু আগে মৃত্যুর কাছে হার স্বীকার করেছে টিমথি ব্লট, কিন্তু সৈনিকের করুণ আর্তনাদ এখনও কানে লেগে আছে ওদের।

দিগন্তে ঘুরে বেড়াল এরিকের দৃষ্টি, তাপতরঙ্গ আর উড়ন্ত ধুলো ছাড়া কিছু চোখে পড়ল না। প্রাণের কোন চিহ্ন নেই। আছে শুধু বালি, নীল আকাশ এবং চিরুনির খুঁজের মত সুউচ্চ রীজের সারি-তাপদগ্ধ দিগন্তের পটভূমিতে হাড় ঝিরঝিরে শাখাপ্রশাখা বাড়িয়ে দিয়েছে।

মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে সবকটা ঘোড়া। চাতাল থেকে নীচে নেমে গেল এড মিচেল, অস্থিরভাবে পায়চারি করছে, চিন্তিত দৃষ্টিতে সামনের বোল্ডার আর পাথরসারি দেখছে, যেন বেরিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে।

কোলে দুই স্যাডল ব্যাগ নিয়ে বসে আছে বিগ জুলিয়া। উত্তাপ, সন্দেহ এবং আশঙ্কায় পর্যুদস্ত। ভয়ে ভয়ে আছে কেউ হয়তো মূল্যবান সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করবে ওকে। ভুলেও ওর দিকে তাকাচ্ছে না জেফ কেলার। এই কদিনে ওজন হারিয়েছে বিশালদেহী সৈনিক, আগের চেয়ে শীর্ণ দেখাচ্ছে। ঘাটতি পুষিয়ে নিয়েছে নীচতা আর শঠতার মাধ্যমে।

কেবল টনি চিডলের কোন পরিবর্তন ঘটেনি। গোড়ালির উপর ভর দিয়ে বসে আছে; জিভ দিয়ে কাগজ ভিজাল সে, সিগারেট রোল করা সম্পূর্ণ করল। মাঝে মধ্যে মিচেলের দিকে তাকাচ্ছে।

চাতালে সবার উঁচুতে রয়েছে হ্যালিগান, গুলি করতে পারবে এমন টার্গেট খুঁজে পেতে উগ্রীব। হঠাৎ তাকে রাইফেল তুলতে দেখতে পেল এরিক, ভঙ্গিটায় যুগপৎ নিখাদ সতর্কতা এবং দক্ষতা রয়েছে; দুই পাথরের চেরা দিয়ে স্বচ্ছন্দে মাজল সামনে বাড়াল সে, বাট ঠেকাল গালের সঙ্গে।

গুলির শব্দ শুনে এরিকের মনে হলো সার্জেন্টই গুলি করেছে; কিন্তু আধপাক ঘুরে গেল তার দেহ, হাত থেকে খসে পড়ল রাইফেল। মুখ থুবড়ে পড়ে গেল সে, পাথর থেকে কূপের কিনারে গড়িয়ে পড়ল। উঠে দাঁড়াল সে, এলোমেলো দুই কদম ফেলল, তারপর আবার মুখ থুবড়ে পড়ল বালিতে।

দৌড়ে তার কাছে চলে গেল এরিক, ঠেলে চিৎ করল দেহটা। সার্জেন্টের চোখে নিষ্প্রাণ দৃষ্টি।

আরও একজন কমে গেল, ক্ৰেবেট, মুখিয়ে উঠল ডেভিস। পরিণতির দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলে।

তুমিও এর বাইরে নও

সার্জেন্টের রাইফেল তুলে নিয়ে অ্যামুনিশনের খোঁজে থমাস হ্যালিগানের পকেট চেক করল এরিক।

এরিক! হঠাৎ গলা ফাটিয়ে চেঁচাল ড্যান কোয়ান। আসছে ব্যাটারা!

দ্রুত পজিশন নিল ওরা। কিন্তু শূন্য মরুভূমি চোখে পড়ল সামনে। আঙুল তুলে একটা মেস্কিট ঝোঁপ দেখাল ড্যান। মৃদু নড়ে উঠল ঝোঁপটা, দেখল এরিক। উঁহু, বাতাসে নড়েনি। রাইফেল সামনে এনে পরপর তিনটা গুলি পাঠিয়ে দিল ও। দ্রুত, পাশাপাশি নির্দিষ্ট দূরত্বে।

গুলি করেছে চিড়ল, আবারও করল। উল্টোদিকে, কূপের ঠিক উপরের পাথরের আড়াল থেকে গুলি করল ডেভিস আর গান। মিচেলের গুলির পরপরই ক্ষণিকের নীরবতা নেমে এল। আচমকা উঠে দাঁড়াল বুড়ো স্কিনার, ঝোপে গুলি করে খালি করে ফেলল পয়েন্ট সেভেন-থ্রি উইনচেস্টার। দ্রুত, একটানা সতেরোটা গুলি করল সে, সম্ভাব্য কাভারের প্রতিটি জায়গা ছিন্নভিন্ন করে ফেলল। তারপর দ্রুত জায়গা বদল করল সে, আড়ালে গিয়ে রিলোড করল।

লাফিয়ে পাথরের উপর উঠে এল সে, বালিয়াড়ির কিনারায় গুলি করল। দৌড়ে জায়গা বদল করছে আর একের পর এক গুলি করছে। কোন জায়গাই বাদ রাখল না, ঝোঁপ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল কিংবা পাথরে ঠিকরে গিয়ে গুপ্ত জায়গায় হানা দিল বুলেট।

এড! মুহুর্মুহু গুলির শব্দ ছাপিয়ে উঠল এরিকের চিৎকার। মাথা নিচু করো, ম্যান! বসে পড়ো!

কিন্তু কে শোনে কার কথা! পাথরের উপর সহজ টার্গেটে পরিণত হয়েছে মিচেল। গুলি করল আবারও, যেন নতুন কোন টার্গেট দেখতে পেয়েছে ও, পাশ ফিরল হঠাৎ, সেগুয়েরো ক্যাকটাসের গোড়ায় পরের গুলি করল। উল্টোদিকে পঞ্চাশ গজ দূরে একসঙ্গে গর্জে উঠল কয়েকটা রাইফেল। গুলির ধাক্কায় ঝাঁকি খেল এড মিচেলের দেহ, আধ-পাক ঘুরে মুখ থুবড়ে পড়ল পাথরের উপর।

দৌড়ে তার কাছে চলে গেল এরিক। কেঁপে উঠল মিচেলের চোখ। উপায় ছিল না, এরিক, কাউকে তো বেপরোয়া হতেই হত, কর্কশ স্বরে বলল সে। আর সইতে পারছিলাম না। টনির দিকে খেয়াল রেখো, ইন্ডিয়ান হলেও মানুষটা ভাল ও।

এড! প্রায় ফরিয়াদ জানাল এরিক। ধৈর্য ধরো!

মাথা নাড়ল মিচেল। দুঃখিত, বয়। পিছন দিকে খেয়াল রেখো…নিজের পিঠের দিকে।

দৃষ্টি তুলতে মেলানিকে পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে পেল এরিক। ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল ও।

কী বলল ও? জানতে চাইল মেলানি। নিজের প্রাণের বিনিময়ে ইন্ডিয়ান হামলাটাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। মিচেল। ঠিকই বলেছে সে, উপায় ছিল না, অ্যাপাচিদের সম্মিলিত আক্রমণ রুখে দিতে এমন বেপরোয়া দুঃসাহসেরই প্রয়োজন ছিল। মিচেলের মৃত্যু যেন নিরুৎসাহিত করে তুলেছে রেডস্কিনদের, নীচে মরুভূমিতে নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। কোথাও কিছু নড়ছে না, সামান্য শব্দও নেই। শুধু সূর্য আগের মতই আছে। গরম, প্রচণ্ড গরম পড়ছে।

ব্যাটাদের বোধহয় উচিত শিক্ষা দিতে পেরেছে এড; বলল ড্যান কোয়ান।

সম্ভবত। বুদ্ধি করেই গুলি ছুঁড়েছে ও। সম্ভাব্য যত কাভার ছিল, একটাও বাদ দেয়নি। প্রতিটা ঝোঁপ ছিন্নভিন্ন করেছে। তবে কতটা সফল হয়েছে, কখনোই জানতে পারব না আমরা।

কী মনে হয়, বেরিয়ে যেতে পারব আমরা? মাথা ঝাঁকাল এরিক। কারণ জানি না, আমার মনে হচ্ছে হয়তো বেরিয়ে যেতে পারব আমরা, সবাই না হলেও অন্তত কয়েকজন। কিন্তু অ্যাপাচিদের ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু বলা যায় না। কারও চোখে পড়ার আগেই মৃতদের সরিয়ে নিয়ে যায়, ওরা। তুমি যদি কাউকে খুন করতেও পারো, কখনোই জানতে পারবে না, যদি না সবাইকে খুন করতে পারো।

ছয়জন, ছয়জন ভালমানুষ মরে গেল!

এরিকের পাশে এসে হামাগুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ল মেলানি। পাশ ফিরে ওর দিকে তাকাল এরিক, জানতে চাইল: আয়না আছে তোমার কাছে?

আয়না? চোখ বড়বড় হয়ে গেল মেলানির। বলতে চাইছ নিজের চেহারা দেখা উচিত আমার? জানি আমাকে দেখতে খুব বাজে লাগছে এখন…

উঁহু, চেহারা দেখতে বলছি না। একটা আয়না চাই আমার, যত বড় হবে তত ভাল।

একটা আছে আমার কাছে, কিন্তু…’

নিয়ে এসো। ওটা আনার পর পালাক্রমে কাজ করবে তুমি আর মিমি। আয়নায় সূর্যের আলো ফেলে ওই শৃঙ্গটার উপর ফ্ল্যাশ করবে… ইশারায় উত্তর-পুবের নির্দিষ্ট একটা শৃঙ্গ দেখিয়ে দিল এরিক। আর এই বরাবর পাঠাতে হবে…উত্তর-পশ্চিমে আরও একটা শৃঙ্গ দেখাল ও দুই পাহাড়ের মাঝখানের জায়গা কাভার করবে। এখনই শুরু করো, এক ঘণ্টা পরপর একে অন্যকে বিশ্রাম দেবে। যতক্ষণ সূর্যের আলো থাকবে, ততক্ষণ কাজটা করতে হবে তোমাদের। বুঝেছ?

সঙ্কেত পাঠাতে বলছ? আলোর সঙ্কেত পাঠাব আমরা?

হ্যাঁ, আশা করি কারও চোখে পড়বে, আঙুল দিয়ে হ্যাটের ব্রিম পিছনে ঠেলে দিল এরিক। এতদিনে ইয়োমা থেকে সশস্ত্র একটা দলের চলে আসার কথা। হয়তো তোমার বাবা, বা আর্মি, কিংবা সাধারণ মানুষ এবং সৈনিকদের মিলিত দল। যাই হোক, আলোর সঙ্কেত চোখে পড়লে এখানে চলে আসবে।

অবশ্য এত দক্ষিণে আমাদের আশা করবে না ওরা। আয়নায় আলোর প্রতিফলনও কাছ থেকে চোখে পড়বে না, ধরে নিচ্ছি দূরে কোথাও আছে ওরা, সেক্ষেত্রে নিশ্চই দেখতে পাবে। এ-ধরনের সঙ্কেত বহু মাইল দূর থেকে চোখে পড়ে, পাথুরে সিলিঙে সূর্যের আলোও অনেকদূর থেকে দেখা যায়। দেখতে পাক বা না-পাক, চেষ্টা করতে ক্ষতি নেই। আর আশায় থাকতে হবে।

আমার আয়নাটা খুবই ছোট, জানাল মেলানি। স্যাডল ব্যাগের বিশেষ একটা পকেটে থাকে ওটা। বাবা পকেটটা তৈরি করে দিয়েছিল। আয়নাটাও। ইস্পাতের তৈরি ওটা, ছয়-বাই-আট ইঞ্চি।

দারুণ! এরচেয়ে ভাল কিছু আশাও করিনি আমি।

এরিক, হঠাৎ এরিকের বাহু চেপে ধরল মেলানি। আগে কেন সঙ্কেত পাঠাইনি আমরা? হয়তো অনেক দেরি হয়ে গেছে।

হয়তো, কিন্তু আমার মনে হচ্ছে দেরি হয়ে যায়নি। এদিকে ঝামেলা হয়েছে, এটা বুঝতে কয়েকদিন লেগে যাওয়ার কথা। পাসি বা সৈন্যরা ফিরে যায়নি, জেনেও প্রথমে পাত্তা দেবে না ওরা, কারণ মরুভূমিতে দেরি হওয়ার বহু কারণ রয়েছে, তবে কয়েকদিন কেটে গেলে উদ্বিগ্ন হওয়াই স্বাভাবিক।

একটা কিছু ঘটেছে এবং কিছু করা উচিত, সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগবে। কেউ কেউ সবসময়ই অদৃষ্টে বিশ্বাসী, মনে করে নিরাপদে ফিরে আসবে সবাই, কিন্তু এখন ওরা নিশ্চিত হয়ে গেছে যে খারাপ কিছু ঘটেছে এতগুলো মানুষের ভাগ্যে। যাত্রার প্রস্তুতি এবং এখানে আসার জন্য দু’দিন হিসাব করলে…এতক্ষণে কাছাকাছি চলে আসার কথা ওদের। আমার মনে হয় সঙ্কেত দেওয়ার জন্য সময়টা ঠিকই আছে।

বেশ।

মেলানি চলে যেতে তন্নতন্ন করে মরুভূমি জরিপ করল এরিক ক্ৰেবেট। কাছ থেকে দূরে প্রসারিত করল দৃষ্টি, তারপর খুঁটিনাটি প্রতিটি জায়গা দেখল সময় নিয়ে দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়ল চোখজোড়া। এত কষ্টকর কাজ, নিজে না করলে বোঝা যায় না। শেষে ফিল্ডগ্লাসের সাহায্যে পাহাড়সারি, নিরীখ করল। কিন্তু সব মিলিয়ে আধ ঘণ্টাও পেরোয়নি, তার আগেই ক্ষান্ত দিতে বাধ্য হলো।

সেদিন কয়েকবারই বিক্ষিপ্তভাবে তীর ছুঁড়ল অ্যাপাচিরা, দু’বার গুলি করল, কিন্তু কোন ক্ষতি করতে পারল না ওদের।

*

মাঝ দুপুরে এরিকের কাছে এল কেলার, ডেভিস আর ডুগান। লুকআউট থেকে পিছিয়ে এসে ছায়া আছে এমন একটা জায়গায় বসেছে এরিক, ক্লান্ত পা জোড়াকে খানিকটা বিশ্রাম দিচ্ছে। এক চুমুক পানি পান করেছে। ডেভিসের নেতৃত্বে ওর সামনে এসে দাঁড়াল ওরা

ক্ৰেবেট, আমরা এখান থেকে চলে যেতে চাই। ঘোড়া নিয়ে ছুটব ইয়োমার দিকে। এখন যথেষ্ট ঘোড়া আছে আমাদের, এবার আর বাধা দিতে পারবে না। আমার তো মনে হয় নিরাপদে পৌঁছে যেতে পারব, অন্তত কয়েকজন তো পৌঁছবে।

দুঃখিত।

দেখো, ক্ৰেবেট, রুক্ষ হয়ে গেল বেন ডেভিসের কণ্ঠ। যথেষ্ট দুর্ভোগ সয়েছি। এখানে যদি থাকি, একজন একজন করে খুন হয়ে যাব। তারচেয়ে কি লড়াই করা মরা উচিত নয়?

ডেভিস, উত্তরের ওই পথে যাবে বলে ঠিক করেছ তোমরা, শান্ত স্বরে বলল এরিক। ওটার আরেক নাম জানো? ক্যামিনো ডেল ডায়াবলো-ইংরেজিতে যদি শুনতে চাও, তা হলে ভাষান্তর করে দিচ্ছি-শয়তানের মহাসড়ক। ওখানে মাত্র এক জায়গায় পানি আছে, অ্যাটলাস টিনাজায়, ট্রেইলের পাশে রীজের মধ্যে পাথুরে গর্তে জমা পানি। শত শত লোক মারা গেছে ওই ট্রেইলে, এদের কয়েকজন ওই পানির মাত্র কয়েক গজ দূরে ছিল, অথচ অবস্থান জানত না। ভাগ্য ভাল হলে হয়তো জায়গাটা খুঁজে পাবে, কিন্তু দেখবে সবুজ শ্যাওলা পড়ে আছে, কিংবা হয়তো নির্জলা পানিই পাবে। বছরের এই সময়ে পানি থাকে না ওখানে। তো, পানি না পেলে কী করবে?

যেভাবে হোক পৌঁছব আমরা।

তা ছাড়া, যোগ করল এরিক। এখনও একটা ঘোড়া কম আছে আমাদের। আটটা ঘোড়ার বিপরীতে মানুষ আছি নয়জন।

রাইফেল ঘুরাল কেলার। সমস্যার সমাধান করে দিচ্ছি এখনই! টনি চিডলের পিঠে নিশানা করল সে, মরুভূমির উপর নজর রাখছে পিমা ইন্ডিয়ান।

রাইফেলটা ফেলে দাও, কেলার, পিছন থেকে নির্দেশ দিল ড্যান কোয়ান, পাথরের আড়ালে রয়েছে সে। একটু দেরি করেছ কি তুমি নিজেই শকুনের খাবার হয়ে যাবে, মি. কিলার!

খিস্তি করতে করতে অস্ত্র ফেলে দিল কেলার।

পিস্তল ছুঁইছুঁই করছে বেন ডেভিসের হাত। সবসময়ই কি অন্যরা তোমার গোলাগুলির কাজটা চালিয়ে যায়, ক্ৰেবেট? যতদূর মনে পড়ছে। শেষবার একটা মেয়ে দায়িত্বটা নিয়েছিল।

কেলারের ব্যবস্থা করতে পারবে ড্যান, জানি আমি, মৃদু স্বরে বলল এরিক, ঠোঁটে স্মিত হাসি। তোমার জন্য আমি অপেক্ষা করছি।

আড়ষ্ট হয়ে গেছে বেন ডেভিসের মুখ, সামান্য বিস্ফারিত হলো চোখজোড়া। পিস্তলের বাঁট ছুঁয়েছে তার হাত, যে-কোন সময়ে বিদ্যুৎ খেলে যাবে হাতে, মুঠিতে উঠে আসবে ভয়ঙ্করদর্শন কোল্টটা।

অপেক্ষায় থাকল এরিক, স্মিত হাসিটা মুখে ধরে রেখেছে এখনও, এমনকী হাসিটা চোখও স্পর্শ করেছে।

হঠাৎ হাত সরিয়ে নিল ডেভিস, ঝটিতি ঘুরে দাঁড়াল। চোখ কুঁচকে তাকে দেখল এরিক। কাপুরুষ নয় সে, জানে ও, কিংবা ভয় পেয়েও পিছিয়ে যায়নি। পিছনে ড্যান কোয়ানের অবস্থানই তাকে নিরস্ত করেছে। ডেভিস ভেবেছে সে এরিককে গুলি করলে, সঙ্গে সঙ্গে তাকেও গুলি করবে ড্যান

পাথুরে চাতাল থেকে কিছুই চোখে পড়ছে না। একের পর এক গুলি ছুটে আসছে অ্যাপাচিদের দিক থেকে মাঝে মধ্যে ভূতের মত উঁকি দিচ্ছে শয়তানগুলো। দু’বার গুলি করল ডুগান, কিন্তু লাগাতে পারল না। ভোজবাজির মত উধাও হয়ে গেছে অ্যাপাচিরা। তবে একটা চোখ সবসময় জুলিয়ার দিকে রেখেছে সে। মহিলার ধারে-কাছেও যায়নি কেউ, কিংবা কথাও বলেনি। জুলিয়ার ভারী শরীরটা ক্লান্ত, বিপর্যস্ত দেখাচ্ছে, কিন্তু চোখজোড়া, সতর্ক, সচেতন সর্বক্ষণ। যখনই কেউ নড়ছে, সঙ্গে সঙ্গে সেদিকে শটগানের নল ঘুরে যাচ্ছে।

শেষ বিকেলের আলোয় পুরো ক্যাম্পে চক্কর দিল এরিক, সবার অবস্থান,পরখ করল। এখনও যদি দশ-বারোজন ইন্ডিয়ান থেকে থাকে, রাতে আক্রমণ করলে প্রথম দফায় শেষ হয়ে যাবে ওরা; যদিও সেজন্য মাশুলও দিতে হবে তাদের। চুরুতির কথা মনে পড়ল ওর…এমনকী অ্যাপাচিরাও পাগলাটে বলে লোকটাকে, বলে চুরুতির কৌশল খুব নৃশংস কিন্তু কার্যকরী। সেক্ষেত্রে, নেতার অনুপস্থিতিতে বিমূঢ় হয়ে পড়বে অ্যাপাচিরা। কালো মোটা ভুরুর এই যোদ্ধার মুখটা স্মরণ করল ও, মনে পড়ল তার অসংখ্য খুনের ঘটনা।

বেশ কয়েকজন ইন্ডিয়ান মারা গেছে, সংখ্যাটা ওদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি নিশ্চই। সকালে নিজেদের সম্ভাবনা বিচার করছিল এরিক, মোটামুটি সন্তোষ বোধ করেছে। ওরা প্রত্যেকেই অস্ত্রে দক্ষ, নিশানা গড়পড়তার চেয়ে ভাল। টার্গেট ঠিকমত দেখতে না পেলেও ইন্ডিয়ানদের অস্ত্রের স্ফুলিঙ্গ দেখে গুলি করেছে, কয়েকবারই বোধহয় লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম হয়েছে।

রাত নামল। বাতাস বেড়ে গেছে। উত্তাপ চলে গিয়ে ঠাণ্ডা হয়ে গেল মরুভূমির পরিবেশ। তীব্র বেগে বইছে বাতাস, বালি উড়ছে সেইসঙ্গে, কেড়ে নিচ্ছে দেহের উষ্ণতা। ছোট্ট একটা আগুন জ্বালিয়ে পালাক্রমে শরীর গরম করতে থাকল ওরা।

কূপের কাছে গিয়ে পান পান করল এরিক। ঘুরে জুলিয়ার দিকে ফিরল, তারপর আবার ঝুঁকে পড়ে কাপটা ভরে নিল, সিধে হয়ে এগোল মহিলার দিকে। নিচু স্বরে কী যেন বলল কেউ, ঝট করে মুখ তুলে চারপাশে তাকাল বেন ডেভিস।

এগিয়ে গেল এরিক, শটগান ঘুরিয়ে ওকে কাভার করল বিগ জুলিয়া।

দূরে থাকো।

গত কয়েক ঘণ্টায় এই প্রথম কিছু বলল মহিলা। না থেমে এগিয়ে গেল এরিক, কাপটা ধরে রেখেছে সামনে। পানি খাওয়া দরকার তোমার, জুলিয়া, শান্ত স্বরে বলল ও। তোমার জন্য পানি নিয়ে এসেছি।

ফিরে যাও! এবার আতঙ্ক প্রকাশ পেল জুলিয়ার কণ্ঠে।

কিন্তু থামল না এরিক, কাছে গিয়ে কাপটা ধরিয়ে দিল মহিলার হাতে। মুখ তুলে ওর দিকে তাকাল জুলিয়া, শটগানের ট্রিগারে আঙুল রেখে বাম হাতে কাপ তুলে চুমুক দিল। তৃষ্ণার্ত চাতকের মত পানি পান করল, তারপর কাপটা ফিরিয়ে দিল এরিককে, মুহূর্তের জন্যও এরিকের চোখ থেকে দৃষ্টি সরায়নি।

ঘুরে দাঁড়িয়ে ফিরে এল এরিক। শটগানের মুখে পিঠ পেতে দিয়েছে, কিন্তু সামান্য শঙ্কাও নেই ওর মনে।

ও যদি গুলি করত! অস্ফুট স্বরে শঙ্কা প্রকাশ করল মেলানি।

উঁহু, করত না।

মি, ক্ৰেবেট, মিমির কণ্ঠ। পাথুরে চাতালে উঠে দাঁড়িয়েছে মেয়েটি, হাতে এড মিচেলের রাইফেল। মি. ক্ৰেবেট, মনে হচ্ছে একটা আগুন দেখেছি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *