১৩. স্তব্ধ হয়ে গেছে ট্রিনিটি বেস

স্তব্ধ হয়ে গেছে ট্রিনিটি বেস। সবাই পাথরের মত স্থির। কারও মুখে কথা নেই। অপেক্ষা করছে সবাই। আর মাত্র দুই মিনিট তিরিশ সেকেন্ড পরেই বিস্ফোরণ ঘটান হবে। প্রথমে একটা চাপা গুম গুম শব্দ শোনা যাবে। তারপর কাঁপতে শুরু করবে মাটি। প্রথমে খুবই ধীরে, আস্তে আস্তে বাড়বে কম্পন। আরও বাড়বে, আরও। ভয়ে গাছপালা মাটি ছেড়ে আকাশে উঠে যাবে পাখির দল। আতংকিত গলায় চেঁচাতে থাকবে ওরা।

থির থির করে কাঁপবে পিরিচে রাখা কাপ। কাপতে কাঁপতে গড়িয়ে পড়বে টেবিলে, সেখান থেকে মাটিতে। বিস্ফোরিত এলাকার কেন্দ্র থেকে কয়েকশো গজ ব্যাস নিয়ে মাটি ফোড়ার মত ফুলে উঠবে। উপড়ে পড়বে বড় বড় সব গাছপালা। দিন যাবে এর পর। আস্তে আস্তে আবার বসে যাবে ফোঁড়াটা। আশেপাশের চাইতে আরও নিচে বসে যাবে মাটি। নতুন গাছপালা জন্মাবে।

বিস্ফোরণের পরে শুধু গাছপালা ধ্বংস হওয়াই নয়, অনেক ধরনের আণবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। কেন্দ্রের কাছে অন্তত একশো গজ ব্যাসের মধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে গাছপালা ঘাস মাটি। এখানটায় কোনদিই আর সবুজের চিহ্ন দেখা যাবে না। কিন্তু এই একশো গজ ব্যাসের মাটি সরে গিয়ে বাঁচিয়ে যাবে উত্তর আমেরিকার বিশাল এক জনবহুল অংশ।

টেলিমেট্রি ট্রাকের পাশে ওয়অর্ক টেবিলের সামনে বসে আছেন গোল্ডম্যান। তাঁর পাশে রেনট্রি। টাইমওয়াচে সময় গুনছে। শূন্য দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে আছেন গোল্ডম্যান। একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেছেন। অস্টিনের চিন্তা কিছুতেই মন থেকে দূর করতে পারছেন না। ফিরে গিয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে কি জবাব দেবেন তিনি? রহস্যজনকভাবে স্থানীয় লোক গায়েব হয়ে যাচ্ছিল ব্যাটল মাউনটেনের আশেপাশের অঞ্চল থেকে। গায়েব হচ্ছিল ভ্রমণকারী, শিকারী। মাঝেমধ্যে দু একজন বদ্ধ উন্মাদ অবস্থায় ফিরে আসে, অধিকাংশই আসে না। শেষ পর্যন্ত যখন কয়েকজন নামকরা বিজ্ঞানী এই অঞ্চলে ভৌগলিক কারণ অনুসন্ধান করতে এসে হারিয়ে গেলেন, আর চুপ করে থাকতে পারলেন না সরকার। গোল্ডম্যানের উপর নির্দেশ এল, জলদি অনুসন্ধান না করে এর কারণ বের করা হোক। কি ভেবে অস্টিনকেই ইনভেস্টিগেটর হিসেবে সরকারের কাছে চেয়ে নিলেন গোল্ডম্যান। প্রথমে রাজি হতে চাননি প্রেসিডেন্ট। কিন্তু গোল্ডম্যান বুঝিয়েছেন, শুধু লোক গায়েব হওয়াই নয়, একটা আজব কিংবদন্তীও আছে এই এলাকায়। পুরাণে কথিত সাসকোয়াচকে নাকি দেখা যায় এখানে। বিজ্ঞানীরা তার পায়ের ছাপ আবিষ্কার করেছেন, নাম দিয়েছেন বিগফুট। এই রহস্য ভেদ করতে হলে অস্টিনের মত অতি মানবই দরকার। এভাবেই নানারকমে বুঝিয়ে শুনিয়ে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে সিক্স মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের অতি-মানবকে চেয়ে নিয়েছেন গোল্ডম্যান। বুঝতে পারছেন, জবাব দেবার কিছুই নেই তার। একমাত্র পথ আত্মহত্যা। মানস চোখে দেখলেন, তার লাশ দাফন করার সময়ে কোন সামরিক সম্মান দেখান হচ্ছে না। সিলভার স্টার বা অন্য কোন সম্মান পদক রাখা হচ্ছে না কফিনের ডালায়। আর দশজন সাধারণ মানুষের মতই কোন অখ্যাত গির্জায় কাঠের বাক্সে ভরে তাঁর লাশ পুঁতে রেখে আসছে সামরিক বাহিনীর নিম্নস্তরের কিছু লোক।

রেনট্রির কথায় চমক ভাঙল গোল্ডম্যানের। কিন্তু তাকে কিছু বলছে না রেনট্রি। রেডিও মাইক্রোফোনে আদেশ দিচ্ছে, মার্ক ঠিক রাখ। আর দুই মিনিট তিরিশ সেকেন্ড।

সুইচ অফ করে গোল্ডম্যানের দিকে তাকাল রেনট্রি। কি বলবে বুঝতে পারল না। তবু আস্তে করে জিজ্ঞেস করল, কফি খাবেন?

এদিক ওদিক মাথা নাড়লেন গোল্ডম্যান। রেনট্রির দিকে তাকাবারও প্রয়োজন বোধ করলেন না।

খুব ভাল কফি আছে, আবার বলল রেনট্রি। আসলে গোল্ডম্যানের এই নীরবতা পীড়া দিচ্ছে তাকে। অস্টিনের মৃত্যুটা যেন তার দোষেই ঘটতে যাচ্ছে, এমনি মনে হচ্ছে রেনট্রির।

অন্য সময়, শান্ত শোনাল গোল্ডম্যানের গলা।

মিস্টার গোল্ডম্যান…আমি, আমি দুঃখিত।

নিজেকে অযথা দোষী ভাবছ কেন?

মিস্টার গোল্ডম্যান, বলে গেল রেনট্রি, আমার মনে হয় ওই এলাকায় নেই অস্টিন। থাকলে তাকে পাওয়া যেতই, যেভাবে গরুখোঁজা হয়েছে। মাত্র তিন-চার মাইলের মধ্যে শয়ের ওপরে লোক খুঁজছে। কোন চিহ্নই পায়নি ওরা। তার মানে, ওই এলাকায় নেই সে। সাসকোয়াচের পিছু নিয়ে অন্য কোথাও চলে গেছে হয়ত।

আমাদের জানিয়ে যেতে পারত, বলনে গোল্ডম্যান। তার কাছে রেডিও তো আছেই।

কই, না ত!

গোল্ডম্যানের মনে পড়ল, অস্টিনের উরুর গুপ্ত কুঠুরিতে রেডিও আছে, জানা নেই রেনট্রির। জানানোর প্রয়োজনও মনে করলেন না তিনি। জানালেই আরও হাজারটা প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। কথা বলতে মোটেই ভাল লাগছে না এখন তাঁর।

টাইম-ওয়াচের দিকে তাকাল রেনট্রি! আবার রেডিওর সুইচ অন করে মাইক্রোফোন তুলে নিল। একবার খাকারি দিয়ে গলা পরিষ্কার করে নিয়ে বলল, আর দুই মিনিট।

কোথায় ডেটোনেশন ঘটান হবে, রেনট্রির মুখে শুনেছে অস্টিন। জায়গাটা বেকি দম্পতি যেখানে শেষ সেন্সর বসিয়েছিল, তার কাছাকাছিই। ছুটছে সে। গতিবেগ ষাটের কাছাকাছি।

পেছন থেকে আক্রান্ত হবার কোন আশংকা নেই। নিজেদের আস্তানাতেই সাহস করেনি, বাইরে বেরিয়ে অস্টিনের সঙ্গে লাগার দুঃসাহস ওদের হবে না। সাসকোয়াচ আসতে পারত, কিন্তু তাকে তো আহত করে ফেলে এসেছে সে।

বিস্ফোরণ-এলাকার কাছাকাছি একটা ছোট পাহাড়ের চূড়ায় এসে দাঁড়াল অস্টিন। সামনে, খোলা উপত্যকার দিকে তাকাল। কয়েকটা আজব যন্ত্রপাতি চোখে পড়ছে। দেখে মনে হচ্ছে বোম ফাটান নয়, তেল উত্তোলনের কাজ চলছে ওখানে। মোটাসোটা একটা পাইপের এক মাথা মাটির তিন ফুট ওপরে বেরিয়ে আছে। মাথায় বসান একটা বাক্স। কন্ট্রোল ইকুইপমেন্ট সব এতে। ট্রিনিটি বেস থেকে রেডিও সিগন্যাল পাবার সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করবে বাক্সের ভেতরে বসান কম্পিউটার। বিস্ফোরণ ঘটাবে।

শ্যালনের খোঁজে এদিক ওদিক তাকাল অস্টিন। উপত্যকায় কোথাও নেই। ইনফ্রারেড চালু করল সে। সামনের দিকে অর্ধবৃত্তাকারে একবার দৃষ্টি ঘুরিয়ে আনল। দেখে ফেলেছে সে শ্যালনকে। অর্ধবৃত্তের এক মাথায় একটা পাহাড়ের চূড়ায় ছোট ছোট কয়েকটা গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে আছে শ্যালন। দৃষ্টি বিস্ফোরণ এলাকার দিকে। বিন্দুমাত্র দেরি না করে রওনা দিল অস্টিন। যত দ্রুত সম্ভব পাইপটার কাছে পৌঁছতে হবে।

পাইপটা শ্যালনও দেখেছে। কিন্তু তার বায়োনিক চোখ নেই, তাই অস্টিনকে দেখতে পেল না। রিস্টওয়াচ দেখল। বিস্ফোরণ ঘটতে মাত্র আর এক মিনিট পনের সেকেন্ড বাকি। আর দেরি করা যায় না। এমনিতেই বিস্ফোরণ এলাকা খুঁজে বের করতে অনেক সময় গেছে। টি.এল.সি. ব্যবহার করে চোখের পলকে পাইপটার কাছে এসে দাঁড়াল সে। এগিয়ে গিয়ে এক পাশের এক্সেস প্যানেল টান মেরে খুলল। ধাতব বাক্সের ভেতর অসংখ্য জট পাকান তার। দুটো বিশেষ তার দৃষ্টি আকর্ষণ করল। ও দুটোর ওপর আলতো করে আঙ্গুল ছোয়ালো সে। অত্যন্ত সতর্ক। একটু এদিক ওদিক হলে রক্ষা নেই। দরদর করে ঘামছে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম রোদের আলোয় মুক্তাবিন্দুর মত চকচক করছে। ঝুঁকে বাক্সের ভেতরে আরও ভালোমত তাকাল সে। কিন্তু আসল জিনিসটা খুঁজে পাচ্ছে না। সময়ও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। বাক্সের অন্যপাশে চলে এল। আরেকটা এক্সেস প্যানেলের ডালা খুলল। ঠিক এই সময় পেছনে শুকনো ডাল ভাঙার আওয়াজ শুনল শ্যালন। সঙ্গে সঙ্গে স্থির হয়ে গেল সে। আস্তে করে ঘাড় ফিরিয়ে তাকাল। স্তব্ধ হয়ে গেল চেয়েই।

প্রচন্ড বায়োনিক গতিতে সোজা তার দিকে ছুটে আসছে অস্টিন। ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে চেহারা। আতংকে শিউরে উঠল শ্যালন। যত শক্তিশালীই হোক, পরীক্ষাগারে টেবিলে শুইয়ে বায়োনিক ম্যানকে পরীক্ষা করা এক কথা, আর খোলা জায়গায় ওই দানবীয় ক্ষমতার মুখখামুখি দাঁড়ান পুরো ভিন্ন ব্যাপার। এক লাফে কন্ট্রোল বক্সের কাছ থেকে সরে এল শ্যালন।

শ্যালনের ছয় ফুট দূরে এসে দাঁড়াল অস্টিন।

প্লীজ, প্লীজ অস্টিন, আমাকে ছুঁয়ো না! অনুরোধের ভঙ্গিতে একটা হাত তুলল শ্যালন।

কিন্তু তোমাকে ডেটোনেশন বন্ধ করতে দেব না আমি কিছুতেই।

বন্ধ আমাকে করতেই হবে, হিস্টিরিয়াগ্রস্তের মত দেখাচ্ছে শ্যালনকে।

না, কঠিন হয়ে উঠেছে অস্টিনের গলা। আচমকা ডাইভ দিল সে। চকিতে ডান হাতটা উরুর কাছে চলে এল শ্যালনের। উরুতে আটকান টি.এল.সি-র সুইচ টিপে দিল। চোখের পলকে নেই হয়ে গেল সে সেই জায়গা থেকে। কন্ট্রোল বক্সের আরও কাছাকাছি এসে দাঁড়াল।

লক্ষ্যবস্তু হারিয়ে দড়াম করে মাটিতে আছড়ে পড়ল অস্টিন। এমনিতেই মেয়েমানুষের সঙ্গে লাগতে ভীষণ খারাপ লাগছে তার। এর ওপর আবার সেই মেয়েমানুষই তাকে কলা দেখাল, এটা সহ্যের অতীত। উঠে দাঁড়িয়ে পাইপের কাছে দাঁড়ান শ্যালনের দিকে তাকাল সে। দুচোখ জ্বলছে রাগে।

প্লীজ, স্টিভ…

না, ধমকে উঠল অস্টিন।

দোহাই তোমার, স্টিভ আমার লোকদের রক্ষা করতেই হবে…

আমার লোকদের কি হবে?

দুঃখিত, স্টিভ, মাথা নিচু করল শ্যালন।

চমৎকার! শুকনো অস্টিনের গলা। চমৎকার কথা বলেছ। তোমাদের মুষ্টিমেয় কয়েকজন হারামী লোকের জন্যে আমাদের লাখ লাখ নিরপরাধ লোক মারা যাবে! সত্যিই চমৎকার!

আমি সত্যিই দুঃখিত, বলল শ্যালন। মাথা নিচু করে আছে। আসলে অস্টিনের চোখের দিকে চাইতে সাহসই হচ্ছে না তার।

হাসি পাচ্ছে আমার শুনে, আচমকা লাফ দিল অস্টিন। উড়াল দিয়ে এসে পড়ল শ্যালনের গায়ের ওপর। মাথা নিচু করে থাকায় সময় মত হুশিয়ার হতে পারল না শ্যালন। ওর হাত টি.এল.সির সুইচ স্পর্শ করার আগেই কব্জিতে প্রচন্ড চাপ অনুভব করল।

শ্যালনের হাতটা বাঁকিয়ে পিঠের ওপর নিয়ে গেল অস্টিন। ধাক্কা মেরে কয়েক পা পেছনে সরিয়ে নিল তাকে। বাঁ-হাতে উরুতে বাধা টি.এল.সির সুইচ নাগাল পাবে না শ্যালন। তাড়া খেয়ে আটকা পড়া বেড়ালের মত ফোঁস করে উঠল সে। ছাড়, ছেড়ে দাও আমাকে, চেঁচিয়ে উঠল।

সেদিকে কানই দিল না অস্টিন। ডান হাতে প্রায় থাবা মেরে শ্যালনের উরু টি.এল.সি-টা বাধন ছিড়ে নিয়ে এল। সঙ্গে সঙ্গে মুখে পুড়ে দিল ছোট্ট যন্ত্রটা। এটাই সব চেয়ে নিরাপদ জায়গা মনে হল তার।

টি.এল.সি-টা বাগিয়ে নিয়েই শ্যালনকে তুলে নিজের কাঁধের ওপর ময়লার বস্তার মত বুলিয়ে নিল অস্টিন। ছুটতে শুরু করল পরক্ষণেই। বিপদসীমা থেকে যত দ্রুত সম্ভব সরে যেতে হবে। সমানে চেঁচিয়ে চলেছে শ্যালন, অনুরোধ উপরোধ করছে। কিন্তু কানই দিল না অস্টিন।

বিপদসীমা ছাড়িয়ে একটু উঁচু জায়গায় এসে পৌছতেই গুরুগম্ভীর শব্দটা কানে এল অস্টিনের। চাপা মেঘগর্জন শোনা যাচ্ছে একটানা। কয়েক সেকেন্ড পরেই অস্টিনের পায়ের নিচে মাটি আচমকা ফুলে উঠল। তাল সামলাতে না পেরে চিত হয়ে পড়ে গেল অস্টিন। তার বুকের ওপর পড়ল শ্যালন।

না না, পাগলের মত এদিক ওদিক মাথা ঝাঁকাচ্ছে শ্যালন, আর চেঁচাচ্ছে, সব শেষ। সবাই শেষ ওরা…

মাটি কাঁপছে। পাউরুটির পিঠের মত ফুলে উঠছে ওপর দিকে। অস্টিন আর শ্যালনের মাথার উপরে পাতার ঝড় উঠেছে। প্রচন্ড কাঁপুনিতে শুকনো, আধ শুকনো সমস্ত পাতা খসে গেছে গাছ থেকে। তীব্র হাওয়ায় উড়ছে। আরও ওপরে দিকবিদিক-জ্ঞানশূন্য হয়ে উড়ছে পাখির দল। আতংকিত গলায় সমানে চেঁচাচ্ছে ওরা।

উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করছে অস্টিন, কিন্তু পারছে না। মাটির প্রচন্ড কাঁপুনিতে পড়ে যাচ্ছে বার বার। মুখের ভেতর এদিকে খোচাচ্ছে টি.এল.সি-র তীক্ষ্ণ কোণগুলো। অগত্যা ওটা মুখ থেকে বের করে প্যান্টের পকেটে ভরলো সে। তারপর উবু হয়ে বসে কাঁধে তুলে নিল আবার শ্যালনকে। পরক্ষণেই লাফিয়ে উঠে ছুটতে শুরু করল। দাঁড়াবার চেষ্টা করছে না। তাহলেই আবার মাটিতে আছড়ে পড়বে।

সমানে কাঁদছে শ্যালন। ধরেই নিয়েছে ওর সঙ্গীসাথীরা কেউ বেঁচে নেই।

আরও কয়েক সেকেন্ড পরে হঠাৎ থেমে গেল মাটির কাঁপুনি। থামল অস্টিন। কাঁধ থেকে শ্যালনকে নামাল। ভূমিকম্প শেষ, বলল সে।

কিন্তু তার মুখের কথা শেষ হবার আগেই বুঝল ভুল বলেছে। আসলে ভূমিকম্প নয়, বিস্ফোরণ শেষ হয়েছে। ভূমিকম্প আসবে এবার।

আস্তে আস্তে এল কাঁপুনি, দ্বিতীয়বার। দ্রুত এগিয়ে আসছে তীব্র, চাপা মেঘগর্জন। এক ধাক্কায় শ্যালনকে মাটিতে ফেলে দিল অস্টিন, নিজেও উবু হয়ে শুয়ে পড়ল তার পাশেই। পড়ে থাকা পাতার পুরু গালিচায় মুখ ঢাকল।

গোল্ডম্যান ছাড়া ট্রিনিটি বেসের অন্য সবাইও মাটিতে শুয়ে পড়েছে। তিনি শুধু মেটাল ফোল্ডিং চেয়ারটা ছেড়ে মাটিতে বসেছেন। দুহাতে চেপে ধরে রেখেছেন দুই কান। মাটির সঙ্গে সঙ্গে থর থর করে কাঁপছেন তিনিও।

ঈশ্বর তোমার সহায় হোন, স্টিভ, বিড়বিড় করে প্রার্থনা করলেন গোল্ডম্যান। কতদিন পর নিজেই বলতে পারবেন না, আবার তার দুচোখের কোল বেয়ে অশ্রুর ধারা নেমেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *