১৩. পাথরের উপর বুটের ঘষা

পাথরের উপর বুটের ঘষা খাওয়ার শব্দে ডালিয়ার ঘুম ভাঙল। চোখ খুলেই একজোড়া বুট দেখতে পেল সে। ওদিক থেকে কেউ একজন হেসে উঠল।

কী আশ্চর্য! কত ভয়ে ভয়ে এগিয়েছি আমরা…আর এদিকে উনি দিব্যি নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন!

মেয়ের ফর্মাটা ভাল। নিক বলেছে তার কাজ শেষ হলে ওকে আমাদের হাতে তুলে দেবে…চমৎকার প্রস্তাব। আমাদের সবাইকে একাই অনেক আনন্দ দিতে পারবে মেয়েটা।

আধশোয়া অবস্থায় পাথরে হেলান দিয়ে স্থির হয়ে রয়েছে ডালিয়া। সব শেষ-বিফল হয়েছে সে। সম্পূর্ণ বিফল। কত সাবধানে ছিল, সবকিছুই ঠিক ঠিক করেছিল। জায়গাটা খুঁজে বের করে সময় মতই পৌঁছেছিল। ওরা কীভাবে যেন টের পেয়ে পিছু নিয়ে এখানে এসে উপস্থিত হয়েছিল। কিন্তু স

আজ কত ঘন্টা একটানা জেগে থাকার পরে ঘুমিয়েছে সে? এর আগেও কত রাত তাকে শুধু নামমাত্র ঘুমিয়ে কাটাতে হয়েছে? তার শরীরের উপর অবিরাম যাত্রার ধকল কতদিন ধরে যাচ্ছে? নিজেকে এইসব প্রশ্ন করছে না-অজুহাত খুঁজে লাভ নেই। এই অবস্থা থেকে রেহাই পাবার একটা উপায় বের করতে হবে।

রাইফেলটা আর তার পাশে নেই। ওরা সরিয়ে রেখেছে। মোট তিনজন ওরা। ওদের বিরুদ্ধে একা কী করতে পারে সে?

পাথরের উপর বুটের আওয়াজ উঠল। তারপর নিকোলাসের গলা শোনা গেল, কোথাও নেই। মনে হচ্ছে ব্যাটা মরেছে, নইলে এখানে ওকে নিশ্চয়ই দেখা যেত।

মরুকগে ও ছুঁড়ীটা তো বেঁচে আছে?

ডালিয়ার দিকে চেয়ে ওকে বুট দিয়ে তো দিল নিক। ওঠো, মটকি মেরে পড়ে থেকে কোন লাভ নেই।

বিনা প্রতিবাদে শান্তভাবেই উঠে দাঁড়াল ডালিয়া। একে একে সবার দিকে চেয়ে ওদের মুর ভাব লক্ষ করল। ভাবছে সে…মন্টির মুখে দয়া মায়ার কোন আভাস নেই। ওর কাছ থেকে কোনরকম সাহায্যই আশা করা যায় না।

অন্যজন একটু বেঁটে-খুব শক্ত গড়ন, তবু হয়তো…কিন্তু পরমুহূর্তেই সে যেমন লোলুপ দৃষ্টিতে ডালিয়ার দিকে চাইল, তাতে আর সন্দেহের অবকাশ থাকল না।

খুব বড় রকম বিপদে জড়িয়ে পড়েছে তা বুঝতে পারছে। মাথাটা ঠাণ্ডা রেখে চিন্তা করার চেষ্টা করছে সে। জেকবকে যে সে আশা করছে তা ওদের বুঝতে দেওয়া কিছুতেই চলবে না। আর যে ক্যানিয়ন ধরে সে আসবে, সেদিক থেকে ওদের নজর অন্যদিকে ফিরাবার ব্যবস্থা করতে হবে।

কোথায় সে? প্রশ্নটা এমনভাবে করল নিকোলাস যে মনে হলো তাতে ওর কিছুই যায় আসে না।

ওরা মেরে ফেলেছে ওকে। ওই ফ্রীডমের দলটা। ওদের সাথে কথা বলতে ঘোড়ার পিঠে করেই এগিয়ে গেছিল সে-দু’জন একপাশে দাঁড়িয়েছিল-ওরাই গুলি করেছে ওকে। মনে হয় ওদের একজনকে খতম করেছি আমি।

তুমি মেরেছ? অবাক হয়ে প্রশ্ন করল বেঁটে লোকটা। কীভাবে?

ওটা দিয়ে, হাত তুলে সরিয়ে রাখা রাইফেলটা দেখাল ডালিয়া। অন্য লোকটাকে পেলে ওকেও শেষ করব আমি।

খ্যাকখ্যাক করে হেসে উঠল সে। তারপর নিকোলাসের দিকে চেয়ে বলল, এই মাগীর ওপর সতর্ক নজর রাখতে হবে, নিক।

চিন্তার কোন কারণ নেই, আমি নিজেই নজর রাখব।

কয়েক পা সরে গিয়ে কৌতূহলী দৃষ্টিতে ক্লিফ, ঝোঁপ আর গাছগুলো লক্ষ করছে নিক। উপর দিকে যেখান থেকে বৃষ্টির সময়ে পানি পড়ে, সেই জায়গাটা অনেকটা গাছপালা আর আগাছায় ঢাকা পড়ে আছে। পিছনে সাদা ক্ষত চিহ্নের মত নগ্ন ক্লিফের পাথর উঁকি দিচ্ছে। ওদিকে একবার চেয়ে আবার ফিরে এল সে।

লোকটা যদি মরেই গেছে, তবে তুমি এখানে ফিরে এসেছ কেন?

মানে? অবাক হবার ভান করল ডালিয়া। ওর মৃতদেহ খুঁজে বের করে ওকে কবর দেব বলেই ফিরে এসেছি। ওই লোকগুলো চলে গেলেই আমি ওর দাফনের ব্যবস্থা করব। সোজাসুজি নিকোলাসের চোখের দিকে চাইল সে। ওর দেহটাকে শিয়াল শকুনে ছিড়ে খাবে, এটা কিছুতেই সহ্য করতে পারব না আমি।

হয়তো মরেছে সে..হয়তো মরেনি। নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করব আমরা। ডালিয়ার দিকে চাইল নিক। তুমি থাকায় সময়টা আমার আনন্দের মধ্যে দিয়েই কাটবে।

দূরে উপত্যকার দিকে ডালিয়ার চোখ পড়ল। উপত্যকার একটা সমতল অংশ বেশ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে ওখান থেকে। হঠাৎ ঘোড়াগুলোকে দেখতে পেল সে। সোনালী স্ট্যালিয়নটাই দলের সবাইকে পথ দেখিয়ে আগে আগে ছুটছে।

ডালিয়ার হার্ট বিট বেড়ে গেল। বুনো ঘোড়ার দল। বাতাস এদিক থেকে ডালিয়াদের দিকে বইছে। পথে কোন বাধা না পেলে সোজা এখানেই আসবে ঘোড়াগুলো! গন্ধ পাবে না।

কী ঘটবে? ওরা কি পাশ কাটিয়ে যাবে? নাকি সোজা এখানেই এসে ঢুকবে? ওদের দেখে আবার ছুটে পালিয়ে যাবে? আতঙ্কিত হয়ে ঘুরপাক খাবে-নাকি ওদের উপর দিয়েই চার্জ করে এগিয়ে যাবে?

আমি কিছু খাবার তৈরি করব ভাবছি, বলল ডালিয়া। তোমাদের আপত্তি আছে?

না, জবাব দিল নিক।

গাধার পিঠের থেকে যা যা দরকার বেছে নামাতে শুরু করল ডালিয়া। তাড়াহুড়া করছে না। ভাবছে, ঘোড়াগুলো যদি এখানেই আসে কতক্ষণ সময় লাগবে ওদের পৌঁছতে? ওরা যে মাঝেমাঝে এখানে আসে তা জেকবের কাছে শুনেছে সে। ওদের পায়ের ছাপও দেখেছে।

জেকবের পিছনে যারা তাড়া করেছিল তারা ওই দিকেই কোথাও আছে। ওদের দেখে ভয় পেয়ে ঘোড়ার দলটা মোড় নিয়ে ক্যানিয়ন ধরে উপরে উঠে আসাটাই স্বাভাবিক।

জিনিস ক’টা ওখানেই মাটিতে নামিয়ে রেখে ঘুরে ফিরে লাকড়ি জোগাড় করতে শুরু করল ডালিয়া। কেউ ওকে সাহায্য করতে এগিয়ে এল না। ওর দিকে কামুক চোখে চেয়ে চেয়ে ওরা ভবিষ্যৎ সুখ-স্বপ্ন দেখছে। এটাই চাইছিল ডালিয়া.. মনে মনে প্রত্যাশা সে-ও করছে। গাধার পিঠে অন্যান্য মালের সাথে জরুরী অবস্থায় ব্যবহারের জন্য একটা ছুরিও রাখা আছে।

আগুন জ্বালাবার জন্য সগ্রহ করা কাঠ নামিয়ে রেখে আবার গাধাগুলোর কাছে ফিরে গেল। যতক্ষণ সম্ভব আগুন জ্বালা স্থগিত রাখতে চাইছে-ধোয়ার গন্ধ নাকে গেলে আর ঘোড়াগুলো এদিকে আসবে না। জিনিসপত্রের ভিতর হাত ঢুকিয়ে মুঠো করে ছুরির বাটটা অনুভব করল। পাশেই ওর ঘোড়াটা রয়েছে।

ঠিক সেই সময়ে ক্যানিয়নের দিক থেকে একটা বিকট চিৎকারের সাথে সাথে দ্রুত এগিয়ে আসা খুরের শব্দ শোনা গেল। ছুরি হাতে ঝট করে ঘুরে দাড়াল ডালিয়া

ধুলোর মেঘ দেখে হতভম্ব হয়ে গেল সে। কিন্তু মুহূর্তে নিজেকে সামলে নিয়ে উদ্দীপ্ত হয়ে তাড়াতাড়ি নিজের ঘোড়ার উপর চড়ে বসল।

নিকোলাস ওকে চিৎকার করে থামতে বলল। কিন্তু ততক্ষণ ঘোড়াগুলো ঢুকে পড়েছে ওদের ক্যাম্পে। চট করে ঘুরে লাফিয়ে ঘোড়ার পথ থেকে সরে যেতে গিয়ে নিক হোঁচট খেয়ে পড়ল পাথরগুলোর ফাঁকে। মন্টি সীডার ঝোঁপের আড়ালে নিরাপদেই আছে। কিন্তু বেঁটে লোকটা ওই ঘোড়াগুলোর পথের মাঝখানে পড়ে গেল।

আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে সোনালী ঘোড়াটার দিকে পিস্তল তুলল সে। কিন্তু গুলি করার আগেই অন্যদিক থেকে একটা গুলির শব্দ উঠল। ঘুরে ছুটন্ত ঘোড়াগুলোর পায়ের তলায় উপুড় হয়ে পড়ল লোকটা।

এতগুলো বুনো ঘোড়ার মধ্যে পড়ে গিয়ে ডালিয়ার ঘোড়াটাও ওদের সাথে ছুটতে শুরু করল। উপরে সীডারের ঝোঁপগুলোর দিকে লাফিয়ে এগিয়ে গেল স্ট্যালিয়ন। পাথরের দেয়ালটার কাছে একা একটা বড় পাথরের পিছন দিয়ে ঘুরে সরু একটা পথ ধরে উপরের দিকে ছুটল। ডালিয়ার ঘোড়াটাও হোঁচট খেতে খেতে ছুটছে ওদের সাথে। ঝোঁপের ভিতর দিয়ে যাবার সময়ে একটা নিচু ডালের সাথে বাড়ি খাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে মাথা নুইয়ে কোনমতে ওটাকে কাটাল ডালিয়া। আপ্রাণ চেষ্টার পরে প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে মেসার ধার টপকে পার হয়ে গেল ঘোড়াটা। নো ম্যানস মেসার মাথায় উঠে এসেছে ওরা!

শক্ত হাতে লাগাম ধরে ঘোড়াটাকে ফেরাল ডালিয়া।

জেকব!

নিজের বাকস্কিনের পিঠে চড়েই ওদের সাথে উপরে উঠে এসেছে জেকব। লাফিয়ে নীচে নেমে ওর কাছে ছুটে গেল ডালিয়া। নামতে গিয়ে ডালিয়ার বাড়িয়ে দেওয়া হাতের মধ্যে প্রায় হুমড়ি খেয়ে পড়ল জেকব। শার্টের সামনের দিকটা রক্তে ভিজে লাল হয়ে গেছে। মড়ার মত দেখাচ্ছে ওকে।

রাইফেল, হাঁপ টেনে বলল সে। ওদের ঠেকাও!

বাকস্কিনটাকে ধরে কোনক্রমে দাঁড়াল সে। ওর হাত থেকে রাইফেলটা নিয়ে মেসায় ওঠার মুখটার দিকে ছুটে গেল ডালিয়া। কাউকেই দেখতে পেল না। তবু ভয় দেখানোর জন্য রাইফেল তুলে নীচের দিকে একটা গুলি করল। এখন আর সহজে আগে বাড়তে সাহস পাবে না ওরা।

ঘোড়াটাকে হাঁটিয়ে নিয়ে ডালিয়ার পাশে এগিয়ে এল জেকব। একটা পা সোজা রেখে এক হাঁটুর উপর ভর করে বসল। তারপর কেবল হাতের সাহায্যে নিজেকে টেনে শিলার উপর তুলল।

বন্য ঘোড়াগুলো উপরে উঠে গাছপালার ভিতর এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়েছে। মেসার উপরটা সীডার আর পাইন গাছে ভর্তি। অন্য গাছগুলো চিনতে পারল না ডালিয়া। এখানে ওখানে মাঝারি আকারের মাঠগুলোতে সুন্দর ঘাস জন্মেছে। বোঝাই যাচ্ছে ঘোড়াগুলো এখানে নিয়মিতই আসে।

রাইফেলটা জেকবের হাতে ধরিয়ে দিয়ে গাধাগুলোর কাছে এগিয়ে গেল ডালিয়া। ঘোড়াগুলোর সাথে ওরাও ছুটে উপরে উঠে এসেছে।

তাড়াতাড়ি একটা আগুন জ্বেলে পানি বসিয়ে দিল সে। তারপর জেকবের কাছে এসে ওর শার্টের বোতামগুলো খুলে ফেলল।

বুকের ক্ষতটা কিছুটা ফুলে উঠে কুৎসিত দেখাচ্ছে। যত্ন করে অল্প গরম পানিতে ওটা ধুয়ে দিল সে। কোমরের জখমটা সামান্যই-গুলিটা আঁচড় কেটে হাড়ের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। ঘোড়া থেকে পড়াতেই পায়ে চোট লেগেছে বেশি। নীল হয়ে আছে ওর উরু! ওটাও ধুয়ে পরিষ্কার করা শুরু করতেই ওকে বাধা দিল জেকব।

ওই যে গাছটা দেখছ, বলল সে। যেটায় ঘিরে রঙের ফুল ধরে আছে-ওটা এনে ঘেঁচে পানিতে ফুটিয়ে নাও।

কী গাছ ওটা?

ক্লিফ রোজ। এসব মেসায় ওই গাছ প্রচুর জন্মায়। হোপি ইন্ডিয়ানরা ওটা দিয়ে জখম ধোয়-বেশ কাজ হয় ওতে।

জেকবের নির্দেশ মতই কাজ করল ডালিয়া। পিউটে মেসার দেয়ালটায় অস্তগামী সূর্যের রঙ লেগেছে। নো ম্যানস মেসার ছায়াটা ধীরে ধীরে আরও লম্বা হচ্ছে।

এখন আমরা কী করব? প্রশ্ন করল ডালিয়া।

আগুনটাকে জিইয়ে রাখতে হবে। ওই গাছটার তলায় আমাকে শুইয়ে দাও। যতক্ষণ আক্রমণ না আসে, কিংবা ঘণ্টা দুই আমাকে ঘুমাতে দাও, তারপর তুলে দিয়ে এরপরে আমি পাহারায় থাকব। আগুনটা যদি জ্বেলে রাখা যায় তা হলে কারও পক্ষে অলক্ষ্যে উপরে উঠে আসা অসম্ভব।

একটু পরে জেকবকে শক্ত করে ধরে দাড় করাল ডালিয়া।

জেকব হঠাৎ বলে উঠল, আমার বাকস্কিনটা বুনো ঘোড়ার দলের সাথে গিয়ে মিশেছিল। একেবারে অবসন্ন অবস্থায় পড়েছিলাম, আর এক পা-ও এগোবার শক্তি ছিল না আমার। আমাকে খুঁজে পেয়ে ওর কী খুশি-ঠিক ছোট্ট কুকুরের বাচ্চার মত করছিল। কোনমতে ওর পিঠে চড়ে বসেছিলাম।

ওরা কি ওপরে ওঠার চেষ্টা করবে, জে? ওকে ধরে গাছটার তলায় শুইয়ে। দিয়ে জিজ্ঞেস করল ডালিয়া।

 লিয়া…তুমি দেখো। আমি…’ কথা জড়িয়ে গেল। ঘুমিয়ে পড়ল জেকব।

চারদিক নিস্তব্ধ। সূর্য ডুবে গেছে। আগুনে দেওয়ার জন্য অনেক শুকনো ডালপালা জোগাড় করে স্তূপ করে রাখল ডালিয়া।

পায়ে সাদা মোজার মত ছোপওয়ালা বুড়ো ঘোড়াটা কাছেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। ওদের কাছ থেকে সরে যাবার বড় একটা তাগিদ নেই ওর। মনে হয় ক্যাম্পের ধোয়ার গন্ধে পুরোনো স্মৃতি ফিরে আসছে তার।

রাইফেলটা চেক করে তাতে আবার গুলি ভরে নিল সে। জেকবের পিস্তলেও খালি ঘরগুলোতে গুলি ভরে রাখল। আগামীতে কী হতে যাচ্ছে ভেবে একটু ভয় ভয় করছে ওর-কিন্তু ঠিক ভয়-ও বলা যায় না একে। জেকব পাশে থাকতে তার আবার ভয় কীসের? হোক না সে আহত-পাশে জেকব থাকলে কাউকে সে ভয় পায় না।

গভীর কালচে নীল রঙ ধারণ করল আকাশ। একটা দুটো করে তারা ফুটে উঠছে। আশেপাশের ছোটবড় পাহাড়গুলোকে কালো আর রহস্যময় দেখাচ্ছে। রাতের ঠাণ্ডা ফুরফুরে হাওয়ায় চাঙ্গা বোধ করছে ডালিয়া। গাধার পিঠ থেকে কম্বল এনে জেকবের দেহটা ঢেকে দিল সে।

অস্থির বোধ করছে। ক্লিফের ধারে গিয়ে কিছুক্ষণ কান পেতে রইল। নীচে ওদের ক্যাম্পে আগুন জ্বলতে দেখা যাচ্ছে।

দক্ষিণ দিকে চাইল সে। ওদিকে দূরে গুহার মত দেখা যাচ্ছে। ওরা দু’জনে মিলে যেখানটায় সজি বাগান করেছিল সেখানেও মেসার উপরে এইরকম গুহা ছিল। সাধের বাগানটা ছেড়ে আসতে বেশ খারাপ লেগেছিল ওর।

আজ রাতেই আক্রমণ আসবে। মনে মনে এটা নিশ্চিত জানে ডালিয়া। কিন্তু এবারে সে তৈরি থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *