১১. পরদিন সূর্য ওঠার আগেই

পরদিন সূর্য ওঠার আগেই ঘুম থেকে উঠে পড়ল তিন গোয়েন্দা। নাস্তা সারতে সারতে আরও আলোচনা করল ইসাবেলের ব্যাপারে।

আমাকে বোকা বানাতে চেয়েছে সে, কিশোর বলল।

কিভাবে? মূসার প্রশ্ন।

লেকে ফিরে যাচ্ছে বলে! বেশ তাড়াহুড়া, এমন একটা ভাব, যেন তক্ষুণি রওনা হয়ে যাবে লেকের উদ্দেশে।

মাথা দোলাল রবিন। রাতের বেলা এসব পাহাড়ে পথ চলাই মুশকিল। যাওয়ার ইচ্ছে থাকলে সকালেও তো রওনা হতে পারত। পুরো ব্যাপারটাই আসলে ভাঁওতাবাজি।

আর ওই ঘড়িটা, কিশোর বলল, বার বার কজি থেকে নেমে যাচ্ছিল, ঠেলে ঠেলে তুলতে হচ্ছিল ওপরে। মনে হলো… শ্রাগ করল সে, …জানি, না, আলোর কারসাজি হতে পারে। ভুলও দেখে থাকতে পারি।

কি? জিজ্ঞেস করল মুসা।

ওর কব্জিতে একটা দাগ দেখেছি। শিওর না।

মুসা দেখেনি, জানাল সে কথা।

রবিন বলল, মহিলা ভীষণ চালাক। ওর অনেক কিছুই খটকা লাগার মত। আমার অবাক লেগেছে, যখন জানলাম, কন্টাক্ট লেন্স পরে। সাধারণত যা পরে না। মানুষ…

কন্টাক্ট লেন্স? বাধা দিল মুসা।

হ্যাঁ। বাসে মুছতে দেখেছি। মাথা নিচু করে রেখেছিল, প্রথমে বুঝতে পারিনি কি করছে। পরে ভালমত দেখে বুঝলাম। আরেকটা ব্যাপার আরও বেশি অবাক করেছে। চুপ হয়ে গেল রবিন।

সেটা কি? জানতে চাইল কিশোর। বলতে এত দেরি করছে রবিন, এটা সহ্য হচ্ছে না ওর।

আরেকটা ব্যাপার হলো… কিশোরের অবস্থা বুঝে হাসল রবিন। ইচ্ছে করেই দেরি করছে বলতে। তথ্য গোপন করে কিশোরও অনেক সময় ওদেরকে এরকম অস্থিরতার মাঝে রাখে। সুযোগ পেয়ে শোধ তুলছে সে।

কী! বলো না! খেপে গেল কিশোর। ওয়াকি-টকি দিয়ে এই পর্বতের ভেতর কি করে সে? প্লেটের বীন সেদ্ধ শেষ করে কয়েকটা পাইনের পাতা কুড়িয়ে নিয়ে সেগুলো দিয়ে মুছে পরিষ্কার করতে লাগল প্লেটটা রবিন। আবার চুপ।

অস্থির হয়ে উঠেছে কিশোর। এক থেকে দশ পর্যন্ত গুনল। তারপর যখন খেঁকিয়ে উঠতে যাবে তখন রবিন বলল, বারোর পিঠের একটা পোটলা থেকে ওয়াকি-টকির অ্যান্টেনা বেরিয়ে আছে দেখলাম মনে হলো। পঞ্চো ভিলার ব্যাপারে যখন তোমাকে জ্ঞান দিচ্ছে, তখন উঠে গেলাম ভাল করে দেখার জন্যে। ওয়াকিটকি একটা আছে ওর কাছে।

ওয়াকি-টকি দিয়ে এই পর্বতের ভেতর কার সঙ্গে কথা বলে সে? অবাক হলো মুসা। ডজ হতে পারে না। কারণ ওকে দেখতে পারে না মহিলা। তাছাড়া ডজের সমস্ত পোটলা-পাটলি ভাল মত দেখেছি আমি। ওয়াকি-টকি নেই।

পিরেটোর আছে, কিশোর বলল। নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আমি মেরামত করে দিয়েছি। কিন্তু র‍্যাঞ্চ এখান থেকে অনেক দূর। ওয়াকি-টকিতে যোগাযোগ অসম্ভব।

উঠল ওরা। সাবধানে আগুন নেভাল, যাতে ছড়িয়ে গিয়ে দাবানল সৃষ্টি করতে পারে। শারির কাঁধে মালপত্র বাঁধল কিশোর।

লেকে যদি, বারোর পিঠে আলতো চাপড় দিয়ে চিন্তিত ভঙ্গিতে যেন নিজেকেই প্রশ্ন করল কিশোর। সত্যিই না গিয়ে থাকে ইসাবেল, তাহলে কি করবে? হতে পারে, এই মুহূর্তে পাথরের আড়ালে লুকিয়ে আমাদের ওপর নজর রাখুছে সে। আলো বেড়েছে। বাড়ছে ক্রমেই। চারপাশে তাকাল সে। আমরা এগোলেই আমাদের পিছু নেবে, চিহ্ন ধরে ধরে। আমাদেরকে জানতে দিতে চায় না। হয়তো, সে-ও যে ওই পেসোর পেছনে লেগেছে।

হাত ওন্টাল মুসা। যদি সেটা করতেই চায়, করবে, আমাদের কিছু করার নেই। চিহ্ন তো আর লুকাতে পারব না।

তা পারব না। শারিকে চলার নির্দেশ দিল কিশোর। তবে একটা সুবিধা আমাদের আছে।

কি?

কাল রাতে ইসাবেলের বারোর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ফেলেছে শারি। আর মিস্টার সাইমন জানিয়েছেন, বারোরা চেনা বারোকে অনেক দূর থেকেও গন্ধ শুকে চিনতে পারে। একজন আরেকজনকে ডাকাডাকি করে জানান দেয়। তাই, ইসাবেলের বারোটা যদি খুব কাছাকাছি চলে আসে, ডাক দেবেই। শারিও জবাব দেবে। মাইল দুয়েকের মধ্যে থাকলেও জেনে যেতে পারব আমরা।

সেদিনকার পথচলা অন্যদিনের চেয়ে কঠিন হল। সব চেয়ে খাড়া আর উঁচু চূড়ায় উঠতে থাকল শারি। ঢালের গভীর সব খাঁজ আর শৈলশিরার ভেতর দিয়ে একেবেঁকে উঠে চলল অনেক উঁচু চূড়াটার দিকে।

একটি বারের জন্যেও থামল না কিংবা ডাকল না ওটা। বার বার পেছনে ফিরে তাকাল তিন গোয়েন্দা, কিন্তু ইসাবেল বা তার বারোর ছায়াও চোখে পড়ল।

আরেকবার ধোঁয়া দেখতে পেল ওরা। এক জায়গা থেকে লম্বা হয়ে উড়ছে ঘন সাদা ধোঁয়া। মনে হলো, যে চূড়াটায় উঠছে ওরা, তার ওপাশ থেকে উঠছে ওই ধোঁয়া।

অদ্ভুত তো? মুসা বলল। বনই নেই, আগুন লাগল কিসে? ক্যাকটাস ছাড়া আর কিছুই দেখি না।

হুঁ, মাথা দোলাল কিশোর। পাহাড়ের অন্যপাশে আছে হয়তো।

তিক্ত কণ্ঠে রবিন বলল, এখানে যেন সবাই মিথ্যুক। ডজ মিছে কথা বলে, ইসাবেল মিথ্যে বলে, এখন পাহাড়ও দাবানল লেগেছে বলে ফাঁকি দিয়ে চলেছে আমাদের।

আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে মুসা। ধোঁয়ার রঙও কেমন আজব! সাধারণ ধোঁয়ার মত নয়।

অনেক ওপরে উড়ছে শিকারি পাখিরাঃ শকুন, ঈগল, চিল। সেদিকে তাকিয়ে রবিন বলল, দাবানল পাখিদের কিছু করতে পারে না। বনের সবাই মরলেও ওরা পালায়। আগুন ছুতেও পারে না ওদের। এদিক থেকে ওরা ভাগ্যবান।

এগিয়ে চলেছে ওরা। রহস্য সমাধানের প্রচন্ড নেশাই রুক্ষ দুর্গম পথে শারির পিছু পিছু টেনে নিয়ে চলেছে কিশোরকে। বিকেলের শুরুতে মুসা আর রবিনকে অনেক পেছনে ফেলে এল ওরা।

এই থাম! আচমকা চিৎকার শোনা গেল। এক পা এগোবে না আর!

থেমে গেল রবিন আর মুসা। মুখ তুলে দেখল ওদের অনেক ওপরে হাত তুলছে কিশোর।

এইবার আস্তে আস্তে এগোও, বলল সে। বারোটাকে অনুসরণ করো।

অবাক হয়ে পরস্পরের মুখের দিকে তাকাল দুই সহকারী গোয়েন্দা। তাই তো করছে ওরা। তাহলে কি বলতে চাইছে কিশোর?
ধীরে ধীরে যেন প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে উঠতে আরম্ভ করল আবার রবিন আর মুসা। শারির একেবারে পেছনেই রয়েছে কিশোর। কোন রহস্যময় কারণে হাত তুলেই রেখেছে সে। বুঝতে পারছে না ওরা।

তারপর থেমে গেল গোয়েন্দাপ্রধান।

আর কাছে এসো না, পাহাড়ে পাহাড়ে প্রতিধ্বনি তুলে আবার ভেসে এল কিশোর পাশার কণ্ঠ। কে তোমরা? এখানে কি চাই?

আবার একে অন্যের দিকে তাকাল মুসা আর রবিন। পুরো ব্যাপারটাই কেমন ভূতুড়ে লাগছে এখন ওদের কাছে। হচ্ছেটা কি? পাগল হয়ে যাচ্ছে নাকি ওরা? ওদের মাথায় যেন গোলমাল করে দেয়ার জন্যেই আবার শোনা গেল আমি কিশোর পাশা। তোমার জন্যে খবর নিয়ে এসেছি।

ওর কথা যে কি প্রতিক্রিয়া করছে ওর বন্ধুদের ওপর ভাবল না কিশোর, ভাবার অবকাশও নেই। ওর কাছেও পরিস্থিতিটা বিপজ্জনক। পথের একটা মোড় ঘুরতেই চোখ পড়েছে একটা রাইফেলের নলের ওপর। পাথরের আড়াল থেকে উঁকি দিয়ে আছে ওটা।

থাম! আবার আদেশ দিল আগের কণ্ঠটা। এগোবে না আর!

ওই কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দিয়েছে শারিকেও। খাড়া হয়ে গেছে কান। মোলায়েম ডাক ছাড়ল একবার।

আবার ধীরে এগোনোর আদেশ হলো। শারিকে নিয়ে এগিয়ে চলল কিশোর। নলের গজখানেক সামনে এসে দাঁড়িয়ে গেল। এখনও রাইফেলের নল স্থির হয়ে আছে কিশোরের বুকের দিকে।
পাথরের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল কিশোরেরই বয়েসী একটা ছেলে। তবে ওর চেয়ে লম্বা। এলোমেলো সোনালি চুল, রোদে পোড়া তামাটে মুখ। পরনে জিনস, পায়ে মেকসিকান বুট, গায়ে ডেনিম জ্যাকেট। রাইফেল নামাল না। নজর শারির দিকে।

শারি, বলল সে। তুই এখানে এলি কি করে?

কেঁপে উঠল বারোর কান। মুখ ঘুরিয়ে তাকাল ছেলেটার দিকে। তারপর কিশোরের দিকে, তারপর আবার ছেলেটার দিকে। দ্বিধায় পড়ে গেছে।

আদর করে ওর গলা চাপড়ে দিল কিশোর।

আমি নিয়ে এসেছি, শারির হয়ে জবাব দিল সে। কিংবা বলা যায়, আমাকে এনেছে ও। তুমি কি টনি?

জবাব দিল না ছেলেটা। কিশোরের দিকে একই ভাবে রাইফেল তাক করে রেখে সরে এল কিনারে, নিচে তাকাল। তিরিশ গজ নিচে ধীরে ধীরে উঠে আসছে রবিন আর মুসা।

ওরা কারা? ছেলেটার কণ্ঠে সন্দেহ।

অল্প কথায় জানাল কিশোর, ওরা তার বন্ধু, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে এসেছে।

তোমাকে সাহায্য করতে এসেছি আমরা। আবার নাম জিজ্ঞেস করল কিশোর, তোমার নাম টনি, তাই না?

হ্যাঁ। রাইফেল নামাল না টনি। কি সাহায্য করতে এসেছ?

তোমাকে সাবধান করে দিতে যে, ডজ মরিস…

ও কোথায়? সহসা শঙ্কা ফুটল টনির চোখে। তোমার বন্ধুদের সঙ্গে আছে?

না। আমাদেরকে নিয়ে একসাথেই বেরিয়েছিল। তারপর তার ঘোড়ার পায়ে অসুখ দেখা দিল। ও তাই বলেছে। কয়েক মাইল পেছনে ফেলে এসেছি ওকে আমরা। কাল নাগাদ হাজির হয়ে যেতে পারে।
থ্যাংকস। আমাকে জানানোর জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ তোমাকে। সেফটি ক্যাচ অন করে রাইফেলটা কাঁধে ঝোলাল টনি। তোমরা এলে কি করে এখানে?

বললাম না শারি নিয়ে এসেছে। যেখান থেকে গিয়েছিল ও সেখানেই ফিরে এসেছে।

এত তাড়াতাড়ি ওকে পোষ মানাল কি করে ডজ?
ও পারেনি। এখনও বুনোই রয়ে গেছে বারোটা। কেবল আমাকেই কাছে ঘেঁষতে দেয়। ওর হয়তো ধারণা, আমিই ওর প্রাণ বাঁচিয়েছি। আমাকে তুমি ভেবেছে।

আমি? কেন?

কারণ, আমাদের দুজনের কণ্ঠস্বরই এক রকম মনে হচ্ছে তুমি এটা খেয়াল করনি। শারির কাছে তাই আমরা দুজনেই এক। আমার গলা প্রথমে শুনে ভেবেছে আমিই তুমি। ওর কাছে এটা সেই কণ্ঠ, যে তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে গেছে লেকের কাছে, যখন সে অন্ধ ছিল। ওকে ভাল করার জন্যে কৃতজ্ঞতা বোধ থেকেই আমাকে পছন্দ করেছে সে। আমার কথা শোনে। তোমার কথা শুনে অবাক হয়েছে। কারণ, একই রকম কণ্ঠস্বর।

বারোটার দিকে তাকিয়ে হাসল টনি। আয়, শারি। লক্ষ্মী শারি।

এখনও কাঁপছে বারোর কান। ঘোরের মধ্যে যেন কথা শুনল টনির, এগিয়ে গেল। তারপর যখন ওকে আদর করল টনি, আস্তে আস্তে ঘোর ভাঙল যেন। টনির বুকে নাক ঘষল।

রবিন আর মুসা উঠে এল সেখানে।

পরিচয় করিয়ে দিল কিশোর, আমার বন্ধু মুসা আমান। আর ও রবিন মিলফোর্ড।…রবিন, ও টনি… পুরো নাম শোনার জন্যে তাকাল ওর মুখের দিকে।

টনি ইয়ালার। হাত বাড়াল সে, হাই, তোমাদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে খুশি হলাম।

রবিন আর মুসা হাসল। এখন বুঝতে পারছে, কিশোরের উল্টো পাল্টা কথার মানে। আসলে কিশোর বলেনি ওসব কথা, বলেছে টনি। তার কণ্ঠকেই কিশোরের কণ্ঠ বলে ভুল করেছে ওরা।

মনে হয় পিপাসা পেয়েছে তোমাদের, টনি বলল। যে রকম পথে হেঁটে এসেছ, পাওয়ারই কথা। এসো। দিচ্ছি। আমার ঘরটাও দেখবে।

শারির দড়ি ধরে নিয়ে চলল টনি। একটা শৈলশিরার পাশের ঘোরানো পথ ধরে ওপরে উঠে পর্বতের গায়ে দেখতে পেল প্রায় লুকানো একটা ফোকর। সুড়ঙ্গ মুখ।

মাথা নুইয়ে রাখ, সরু, নিচু সুড়ঙ্গে ঢোকার আগে সাবধান করে দিল টনি। কিছুদূর এগোনোর পর বলল, ঠিক আছে, এবার সোজা হও।
ভেতরে আবছা আলো। সেই আলোয় তিন গোয়েন্দা দেখল, বিশাল এক গুহায় এসে দাঁড়িয়েছে ওরা। ছাত অনেক উঁচুতে।

দেশলাই দিয়ে মোম ধরল টনি। কিশোর আন্দাজ করল, বেশ কিছুদিন ধরে এখানে বাস করছে সে। মেঝেতে গোটানো রয়েছে একটা স্লীপিং ব্যাগ। বাসন, হাঁড়ি-পাতিল, একটা কেরোসিনের চুলা, আধবোঝাই কয়েকটা বস্তা, গাঁইতি, শাবল রাখা হয়েছে দেয়াল ঘেঁষে। ছাত দেখেই অনুমান করা যায় এখানে কখনও বারুদ বিস্ফোরিত হয়নি। পঞ্চো ভিলার গুহা নয় এটা।

একটা বস্তা তুলে নিয়ে মেঝেতে জই ঢালল টনি। আব্বা এনেছিল, ঘোড়ার জন্যে। ভালই হয়েছে, কিছুটা রয়ে গেছে। এখানে ঘাসপাতার যা আকাল। এই জই না থাকলে না খেয়ে থাকতে হত শারিকে।
একমাত্র স্লীপিং ব্যাগটার দিকে তাকিয়ে রয়েছে রবিন। তোমার আব্বা কোথায়?

কেন? তার কি দরকার? আবার সন্দেহ জাগল টনির চোখে।

কারণ তাকেও ডজের ব্যাপারে সাবধান করে দিতে চাই।
মাটির জগ তুলে নিয়ে একটা মাটির ছোট গামলায় শারির জন্যে পানি ঢালল টনি।

আব্বা নেই। ঘোড়া নিয়ে গেছে, খাবারদাবার আনার জন্যে। জগটা বাড়িয়ে দিল তিন গোয়েন্দার দিকে। নাও, পানি।
কোনদিকে গেছেন তিনি? জানতে চাইল কিশোর। লেকের দিকে? তাহলে ডজের সামনে পড়ে যেতে পারেন।

না, ওদিকে যায়নি। পর্বতের অন্যপাশে একটা গ্রাম আছে। গোটা দুই দোকান আছে ওখানে। সব জিনিস পাওয়া যায় না। তবে বাস থামে। আর বাস দিয়ে…

থেমে গেল টনি। সন্দেহ যাচ্ছে না। দ্বিধা করছে। মনস্থির করার চেষ্টা করছে, ওদেরকে বিশ্বাস করবে কিনা।

এখানে কেন এসেছ, বলো তো? জিজ্ঞেস করল সে।

ডজের ধারণা…

বলতে গিয়ে চুপ হয়ে গেল কিশোরও। সব কথা টনিকে বলার সময় এসেছে। জোরে একবার দম নিল সে। তারপর শুরু করল। ক্রসওয়ার্ড পাজল প্রতিযোগিতা থেকে। একে একে বলল, কি করে ওরা জানতে পেরেছে পঞ্চো ভিলার পেসোর কথা।

নীরবে শুনছে টনি। মেঝেতে তিন গোয়েন্দার পাশাপাশি বসেছে। পেসোর কথা শুনে হঠাৎ উঠে দাঁড়াল সে। ওগুলোর কথা জজ বলেছে? আর কি বলেছে? পেলে লুটের মাল ভাগাভাগি করে নেবে?

না, মুসা সন্দেহমুক্ত করার চেষ্টা করল তাকে। ভুলেও একবার পেসোর কথা উচ্চারণ করেনি ডজ। ও আমাদেরকে বলেছে, পর্বতে যেতে হবে বারোটাকে ছেড়ে দিয়ে আসার জন্যে। ওটার জন্মভূমিতে। শারির খুর নাকি বড় হয়ে যাচ্ছে, পর্বতের পাথুরে অঞ্চলে ঘষা না খেলে সমান হবে না।

কী!

মুসা আরও বলল, ইসাবেল আমাদেরকে বলেছে রূপার পেসোর কথা।

ইসাবেল? চিনতে না পেরে ভ্রূকুটি করল টনি। এই ইসাবেলটা আবার কে?

চেহারার বর্ণনা দিল রবিন। কালো বেনির কথা বলল। কালো চোখ আর লাল শলের কথা বলল।

মেকসিকান? এখনও ভুরু কুঁচকেই রেখেছে টনি।

মনে তো হলো, জবাব দিল কিশোর। স্প্যানিশ ছাড়া আর কোন ভাষা বোঝে না। ওর চামড়ার রঙও মেকসিকানদের মত বাদামী। নিজেও অবাক হয়ে ভাবতে আরম্ভ করেছে এখন, আসলেই মহিলা মেকসিকান কিনা! ডজের ব্যাপারে তোমাকে সাবধান করে দিতে বলেছে আমাদেরকে। তোমার নাকি বন্ধু। তুমি তাকে চেন?

মাথা নাড়ল টনি। নামই শুনিনি কখনও। আর চেহারার যা বর্ণনা শুনলাম, তাতে বুঝতে পারছি, ওর সঙ্গে জীবনে কখনও দেখা হয়নি আমার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *