১১. অচেতন হয়ে পড়ে যাওয়া বিজয়ী নাইট

সেড্রিক যখন দেখলেন অচেতন হয়ে পড়ে যাওয়া বিজয়ী নাইট আর কেউ নয়, তারই একমাত্র ছেলে আইভানহো, ছুটে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরার ইচ্ছে হলো তার। কিন্তু তাঁর অহঙ্কার তাঁকে পেছনে টেনে রাখলো। যে ছেলে পিতার অবাধ্য হয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে, যাকে তিনি উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন, এত লোকের সামনে তার ব্যাপারে দুর্বলতা দেখাতে সংকোচ বোধ করলেন তিনি। ধীরে ধীরে সরে এলেন সে জায়গা থেকে। কিন্তু ছেলের জন্যে আকুলতা তাঁর গেল না। শেষ পর্যন্ত অনেক ভেবে চিন্তে বিশ্বস্ত ভৃত্য অসওয়াল্ডকে পাঠিয়ে দিলেন আইভানহোর দেখাশোনা করার জন্যে। ভাবলেন, অবাধ্য ছেলের জন্যে এর চেয়ে বেশি আর কি করবেন তিনি?

অসওয়াল্ড এগিয়ে গেল নাম না জানা নাইট যেখানে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছিলো সেখানে। কিন্তু কোথায় নাইট? আঁতিপাতি করে খুঁজলো অসওয়াল্ড। কোথাও দেখলো না আইভানহোকে। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে বিচারকদের শরণাপন্ন হলো সে। আইভানহো কোথায় কি অবস্থায় আছে, জানতে চাইলো। বেশিরভাগ বিচারকই বললেন তারা জানেন না। একজন কেবল বললেন, তিনি জানেন। এক মহিলা দর্শক খুব যত্নের সাথে তাকে নিজের পালকিতে উঠিয়ে নিয়ে চলে গেছে। বাহকরা পালকি নিয়ে কোথায় বা কোন দিকে গেছে তা তিনি বলতে পারলেন না।

আরো দুচারজনকে জিজ্ঞেস করলো অসওয়াল্ড। কিন্তু কেউই নতুন কিছু বলতে পারলো না। মনিবকে খবরটা জানানোর জন্যে ফিরে আসছে, এমন সময় গার্থের ওপর নজর পড়লো তার। হঠাৎ করে আইভানহো অদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় বেচারা শুয়োর পালক এমন দিশেহারা হয়ে পড়েছে যে ছদ্মবেশ সম্পর্কে তার যে সতর্ক হওয়া দরকার তা তার একদম মনে নেই। অসওয়াল্ড দেখামাত্র ওকে চিনে ফেললো। এবং দুদিন ধরে নাম না জানা নাইটের ভৃত্য হিশেবে যাকে দেখা যাচ্ছিলো সে যে গাৰ্থই তা-ও বুঝতে পারলো। পাকড়াও করে মনিবের কাছে নিয়ে এলো ওকে অসওয়াল্ড।

গার্থকে দেখেই ভয়ানক ক্ষেপে উঠলেন সেড্রিক। ওর পোশাক আশাক দেখে তিনিও বুঝতে পেরেছেন এই দুদিন আইভানহোকে সাহায্য করেছে ও।

বদমাশকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখো! চিৎকার করে নির্দেশ দিলেন তিনি।

এরপর সেড্রিক অসওয়ান্ডের কাছে জানতে চাইলেন আইভানহোর খবর। যা যা জানতে পেরেছে সব বললো অসওয়াল্ড। শুনে একটু স্বস্তি বোধ করলেন সেড্রিক। এবার তার মনে জেগে উঠলো অভিমান। সবাইকে শুনিয়ে শুনিয়ে বললেন, হতভাগা যে চুলোয় খুশি যাক! আমার কি? যাদের জন্যে ও আমাকে ছেড়ে গেছে তারাই ওর সেবা যত্ন করুক পারে তো। তোমরা সব তৈরি হও, ভৃত্যদের দিকে তাকিয়ে নির্দেশ দিলেন তিনি, আমরা এক্ষুনি রওনা হবো।

কয়েক মিনিট লাগলো তৈরি হতে। তারপর রওনা হলেন সেড্রিক দলবল নিয়ে। ইতোমধ্যে অ্যাথেলস্টেন একটু বিশ্রাম নিয়ে, যথাসম্ভব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে এসে যোগ দিয়েছে তাদের সাথে। স্যাক্সন হওয়া সত্ত্বেও নরম্যানদের হয়ে কেন লড়লো সে সম্পর্কে তাকে একটা প্রশ্নও করলেন না সেড্রিক।

সন্ধ্যার কিছু পরে বার্টন-অন-ট্রেন্ট-এ পৌঁছুলেন ওঁরা। বার্টন-অনট্রেন্টের সেইন্ট উইদহোন্ড মঠের প্রায়োরকে আগেই সেড্রিক খবর দিয়ে রেখেছিলেন, তারা আসছেন; মঠে রাতটা থেকে ভোরে বাড়ির পথে রওনা হবেন।

মঠের স্যাক্সন প্রায়োর অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে অভ্যর্থনা জানালেন ওঁদের। আগে থাকতে খবর পাওয়ায় ভালো খাবার দাবারের আয়োজন করতে পেরেছিলেন তিনি। মঠে ঢুকেই খেতে বসে গেল সবাই। খাওয়া দাওয়ার পর অতিথিরা কে কোথায় ঘুমাবেন দেখিয়ে দিলেন প্রায়োর।

সকালে ঘুম থেকে উঠে পেট ভর্তি নাশতা করে দলবল নিয়ে বাড়ির পথ ধরলেন সেড্রিক।

সারাদিন একটানা পথ চলে দিন শেষে এক বনের কাছে পৌঁছুলেন তাঁরা। পথচারীদের জন্যে খুব খারাপ জায়গা এ বন, চোর, ডাকাত, আইন বিরোধীদের স্বর্গ। রাতে তো বটেই দিনের বেলায়ও মাঝে মাঝে পথিকদের সর্বস্ব কেড়ে রেখে দেয় এ বনের দস্যুরা। কিন্তু সেড্রিক ভয় পেলেন না। কারণ তিনি জানেন ইংল্যান্ডের বেশিরভাগ ডাকাতই স্যাক্সন। নরম্যান রাজশক্তির কোপানলে পড়ে তারা ডাকাত হয়েছে। আগে ওরা সব সাধারণ মানুষই ছিলো। এখন নিছক বেঁচে থাকার জন্যে ডাকাতি করে। তার ধারণা তার আর অ্যাথেলস্টেনের নাম শুনলে ডাকাতি দূরে থাক সম্মান জানিয়ে কূল পাবে না ওরা। তাছাড়া তিনি নিজে এবং অ্যাথেলস্টেন দুজনই যোদ্ধা, সঙ্গে আছে বারো জন অনুচর। সুতরাং ভয় পাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

বনে ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যে সন্ধ্যা হয়ে গেল। অন্ধকার হয়ে এলো চারদিক। ধীর গতিতে ঘোড়া চালিয়ে চলেছেন সেড্রিক ও অ্যাথেলস্টেন। হঠাৎ দূর থেকে ভেসে এলো নারীকণ্ঠে করুণ কান্নার শব্দ। মাঝে মাঝে কাতর চিৎকার: বাঁচাও! একটু সাহায্য করো আমাদের!

শব্দ লক্ষ্য করে এগিয়ে গেলেন সেড্রিক। কিছুদূর যেতেই দেখতে পেলেন, পথের পাশে পড়ে আছে ঘোড়া ছাড়া একটা পাল্কি-গাড়ি। পাশে বসে অপূর্ব সুন্দরী এক তরুণী। ইহুদী ঢং-এ কাপড় পরা। কাঁদছে সে-ই। সামান্য দূরে এক বৃদ্ধ অস্থিরভাবে পায়চারি করছেন। তাঁরও পরনে ইহুদী ধাঁচের পোশাক। মাথায় ইহুদীদের হলদে টুপি। দেখা মাত্র সেড্রিক চিনতে পারলেন বুড়ো ইহুদী আইজাক ও তার মেয়ে রেবেকাকে।

আইজাক যা বললেন তার মর্মার্থ: অসুস্থ এক বন্ধুকে বয়ে নেয়ার জন্যে অ্যাশবি থেকে একটা পাল্কি-গাড়ি আর ছয়জন রক্ষী ভাড়া করেছিলেন তিনি। চুক্তি হয়েছিলো ডাঙ্কেনস্টার পর্যন্ত তাদের পৌঁছে দেবে ওরা। এ পর্যন্ত নিরাপদেই এসেছেন কিন্তু তারপর এক কাঠুরিয়ার সাথে দেখা হয়ে যায় তাঁদের তখন সন্ধ্যা হতে সামান্য বাকি। কাঠুরিয়া রক্ষীদের নিষেধ করে আর এগোতে। কারণ সে নাকি দেখেছে, একটু সামনে একদল ডাকাত ওঁৎ পেতে বসে আছে। এই শুনে আর একমুহূর্ত দেরি করেনি ভাড়াটে লোকগুলো। ঘোড়া কটা নিয়ে চম্পট দিয়েছে। পাল্কি-গাড়িটা কেবল রেখে গেছে, সম্ভবত অসুস্থ লোকটাকে নামিয়ে রাখতে গেলে যেটুকু দেরি করতে হতো সেটুকু করারও সাহস পায়নি তারা। বৃদ্ধ, তার মেয়ে আর অসুস্থ লোকটাকে ফেলে রেখে গেছে ডাকাতদের দয়ার ওপর।

যতক্ষণ না বন পার হচ্ছি ততক্ষণ দয়া করে আমাদের সাথে নেবেন আপনারা? বিনীত ভঙ্গিতে প্রার্থনা জানালেন আইজাক।

না, সেড্রিক কিছু বলার আগেই বলে উঠলো অ্যাথেলস্টেন। ইহুদী কুকুর! টুর্নামেন্টের সময় গ্যালারিতে বসবার জন্যে আমার সাথে কেমন অদ্র ব্যবহার করেছিলে ভুলে গেছ এর মধ্যে? ডাকাতরা যদি ধরেই তুমি তাদের সাথে যুদ্ধ করবে, না পালিয়ে যাবে, না আপোষে তাদের সাথে মিটমাট করবে তা তুমি জানো। আমাদের কাছ থেকে কোনো সাহায্য পাবে না। এতদিন নিরীহ মানুষদের কাছ থেকে সুদ খেয়ে খেয়ে পেট মোটা করেছে, এবার তার খেসারত দাও।

অ্যাথেলস্টেনের কথা শুনে মাথা নাড়লেন সেড্রিক। কেন যেন ইতস্তত করছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বলেই ফেললেন, না, অ্যাথেলস্টেন, বেচারা যখন এত করে বলছে, কিছু হলেও আমাদের সাহায্য করা দরকার। আমি বলি কি, গোটা দুই ঘোড়া আর জনা দুই লোক দিয়ে যাই। তাহলে, আমার মনে হয়, সামনে প্রথম যে গ্রাম পড়বে সেখানে গিয়ে ওরা একটা আশ্রয় খুঁজে নিতে পারবে। আমাদের দুজন লোক কমে যাবে বটে, কিন্তু অ্যাথেলস্টেন, তুমি যখন সঙ্গে আছো, বোধহয় কোনো দুশ্চিন্তা না করলেও চলবে আমাদের, কি বলো?

বাবা, ঠিকই বলেছো, রোয়েনা সমর্থন করলো সেড্রিকের কথা।

এমন সময় রেবেকা এগিয়ে এলো। রোয়েনার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে চুমু খেলো ওর গাউনের প্রান্তে।

দয়া করুন আমাদের, কাতর কণ্ঠে মিনতি করলো সে। আপনাদের সাথে যাওয়ার সুযোগ দিন দয়া করে। আমি আমার জন্যে বলছি না, আমার বুড়ো বাবার জন্যেও না, আমি বলছি ঐ অসুস্থ ভদ্রলোকের জন্যে। অনেকের কাছেই তার প্রাণ খুব দামী, আপনার কাছেও। যদি ওঁর কিছু হয়ে যায় সারাজীবন আপনি এ নিয়ে আক্ষেপ করবেন।

রেবেকার কাতর স্বরে মন নরম হয়ে গেল রোয়েনার। সেড্রিকের কাছে গিয়ে সে বললো, বুড়ো বাপটা দুর্বল; মেয়েটা যুবতী, সুন্দরী; সঙ্গী অস্থ। আমি বলি কি, বাবা, ওদের সাথে নিয়ে নাও। একটা ঘোড়াই পাল্কি-গাড়িটা টানতে পারবে, আর ওদের বাপ-বেটির জন্যে লাগবে দুটো ঘোড়া। আমার মনে হয় না তিনটে ঘোড়া দিয়ে দিলে আমাদের খুব অসুবিধা হবে। যে ঘোড়াগুলো মালপত্র বইছে তাদের বোঝা একটু বাড়বে এই যা, তা-ও খুব বেশিক্ষণের জন্যে নয়। সামনের গ্রামটায় পৌঁছে গেলেই তো ওরা ওদের পথে চলে যেতে পারবে।

রাজি হয়ে গেলেন সেড্রিক। ভৃত্যরা জিনিসপত্র নামিয়ে তিনটে ঘোড়া খালি করে দিতে লাগলো।

সেড্রিক তার কথা না শোনায় একটু ক্ষুন্ন হয়েছে অ্যাথেলস্টেন।

ওরা তাহলে আমাদের একেবারে পেছনে থাকবে, রুক্ষ কণ্ঠে বললো সে। আর, ওয়াম্বা, তুই তোর শুয়োরের মাংসের ঢাল নিয়ে ওদের রক্ষা করবি।

আমার চেয়ে অনেক বড় বড় বীর টুর্নামেন্টে বর্ম ফেলে এসেছেন, ওয়াম্বা জবাব দিলো। তাদের দেখাদেখি আমিও আমার ঢালটা ফেলে এসেছি ওখানে।

অপমানে চোখ মুখ লাল হয়ে উঠলো অ্যাথেলস্টেনের। সত্যি সত্যিই তাকে পরাজিত হয়ে বর্ম ফেলে আসতে হয়েছে। ওয়াকে উচিত একটা শিক্ষা দেয়ার ইচ্ছা হলেও আপাতত সামলে নিলো সে। ওয়াম্বা ক্রীতদাস হলেও সেড্রিকের প্রিয় পাত্র। ওকে কিছু বললে সেড্রিক তা সুনজরে দেখবেন না।

তুমি তো আমার পাশে পাশে যেতে পারো, রেবেকার কাছে গিয়ে রোয়েনা বললো।

না, জবাব দিলো রেবেকা। সেটা ভালো দেখাবে না। আপনি যে অনুগ্রহ দেখিয়েছেন তা-ই যথেষ্ট আমার জন্যে।

একটা ঘোড়ার পিঠে দুহাত বাঁধা অবস্থায় বসে ছিলো গাৰ্থ। সেড্রিকের নির্দেশে ওয়াম্বা তাকে নামিয়ে ঘোড়াটা দিলো বৃদ্ধ ইহুদীকে। এরই ভেতর এক ফাঁকে সে দয়া পরবশ হয়ে গার্থের হাতের বাঁধনটা একটু ঢিলে করে দিলো। সব কিছু যখন ঠিক ঠাক করে আবার রওনা হলো দলটা তখন এক সুযোগে গার্থ হাতের বাঁধন পুরো খুলে ফেলে এক ছুটে ঢুকে পড়লো বনের ভেতর। দলের কেউ তা খেয়াল করলো না।

.

সদলবলে এগিয়ে চলেছেন সেড্রিক বন-পথ ধরে। পথ ক্রমেই সরু হয়ে আসছে। শেষকালে এমন হলো পাশাপাশি দুজন চলাও দায় হয়ে পড়লো। সামনে একটা নালা। নালার পরেই শুরু হয়েছে জলাভূমি। মাঝখান দিয়ে এগিয়ে গেছে সরু পথ। সেড্রিক ভাবলেন, ডাকাতরা যদি হামলা করে এখানেই করবে। সবাইকে তাড়াতাড়ি এগোনোর নির্দেশ দিলেন তিনি।

ঠিকই ভেবেছিলেন সেড্রিক। দলের অর্ধেক সবে মাত্র পার হয়েছে নালা, এই সময় চারদিক থেকে সবুজ পোশাক পরা ডাকাত দল আক্রমণ করলো তাদের। আচমকা আক্রান্ত হয়ে সবাই এমন হকচকিয়ে গেলেন যে দস্যুদের ঠিক মতো বাধাও দিতে পারলেন না। একমাত্র ওয়াম্বা ছাড়া আর সবাই বন্দী হলো ডাকাতদের হাতে।

তলোয়ার হাতে বেশ কিছুক্ষণ লড়লো ওয়া। কয়েকজন ডাকাতকে কাবুও করলো। তবে শেষ পর্যন্ত গতিক সুবিধার নয় দেখে হৈ–চৈ-এর ভেতর এক ফাঁকে পালিয়ে গেল জঙ্গলে।

.

বনের ভেতর কিছুক্ষণ এদিক সেদিক ঘুরে বেড়ালো ওয়া। কি করবে কিছু বুঝতে পারছে না। তারপর হঠাৎ নিচুকণ্ঠের একটা ডাক শুনে চমকে উঠলো ও। ওর নাম ধরেই ডাকছে।

ওয়াম্বা! আবার শোনা গেল ডাকটা।

এবার চিনতে পারলো ওয়াম্বা গার্থের গলা।

গার্থ নাকি? নিচু কণ্ঠে প্রশ্ন করলো ও।

জবাবে কাছের একটা ঝোপের আড়াল থেকে বেরিয়ে এলো গার্থ।

ব্যাপার কি, ওয়াম্বা? জিজ্ঞেস করলো সে। একটু আগে চিৎকার চেঁচামেচি আর তলোয়ারের ঠোকাঠুকি শুনলাম!

আমাদের মনিব আর তাঁর মেয়ে দলবলসুদ্ধ বন্দী হয়েছেন ডাকাতদের হাতে। আমি পালিয়ে এসেছি কোনোমতে।

দুশ্চিন্তার ছাপ পড়লো গার্থের মুখে।

ওয়া, বললো সে, তোমার কাছে তলোয়ার আছে, বুকের ভেতর কলজেটাতে সাহসও আছে, তার ওপর আছি আমি। চলো, দুজনে মিলে মনিবকে উদ্ধার করা যায় কিনা দেখি। এসো–

থামো!

ঝোপ ঝাড়ের আড়াল থেকে বেরিয়ে এলো এক লোক। পরনে সবুজ পোশাক। ওয়াম্বা ভাবলো এ-ও বোধহয় ডাকাতদেরই একজন। সঙ্গে সঙ্গে তলোয়ার বাগিয়ে ধরলো ও। কিন্তু গাৰ্থ চিনতে পারলো লোকটাকে। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনে তীর ছোঁড়া প্রতিযোগিতায় যে বিজয়ী হয়েছিলো সেই লক্সলি।

কি ব্যাপার? এখানে কারা কাকে আক্রমণ করে বন্দী করলো? জানতে চাইলো সে।

খানিকটা এগিয়ে গেলেই দেখতে পাবে কারা, ঝঝের সাথে বললো ওয়াম্বা। পোশাক দেখে তো মনে হচ্ছে তুমি তাদেরই দলের লোক। আর কাকে, শুনবে? আমার মনিব মহান স্যাক্সন সেড্রিক আর তার মেয়ে রোয়েনাকে।

একটু যেন থমকালো লোকটা।

আচ্ছা, দাঁড়াও তোমরা, আমি দেখে আসছি। আমি না ফেরা পর্যন্ত নোড়ো না, নইলে কিন্তু বিপদে পড়ে যাবে।

বনের ভেতর অদৃশ্য হয়ে গেল লক্মলি। ফিরে এলো একটু বাদেই।

তোমাদের মনিবকে কারা আটকেছে, কোথায় নিয়ে যাচ্ছে আমি জানতে পেরেছি, বললো সে। ওরা সংখ্যায় এত বেশি, আমরা মাত্র তিনজন এই মুহূর্তে কিছু করতে পারবো না ওদের। তাই বলে ভেবো না আমি বসে থাকবো। আমার সব লোকদের জড় করে আমি উদ্ধার করবো স্যাক্সন সেড্রিককে। এসো আমার সাথে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *