০৯. নকশাটা সাবধানে ভাঁজ করে

নকশাটা সাবধানে ভাঁজ করে নিজের কাছে রেখে দিল কিশোর।

আরেকটা অংশ কিন্তু আছে টিকসির কাছে, মনে করিয়ে দিল মুসা। সেটা ছাড়া সমাধান হবে?

হতেও পারে, বলল কিশোর। হয়তো তার কাছেও এটারই আরেক কপি পাঠানো হয়েছে।

তাহলে তো সেও খুঁজতে আসবে এখানে, বলল জিনা। এলে আসবে, মুসা বলল। লুকিয়ে থাকব।

তারও দরকার নেই, মাথা নাড়ল কিশোর। আমাদের কাছে নকশা আছে জানছে কি করে? দেখে ফেললে বলব, ছুটিতে বেড়াতে এসেছি।

তারপর চোখ রাখব তার ওপর, হাসল রবিন। বেটি অস্বস্তি বোধ করবে?

করলে করুক, আমাদের কি… কথা শেষ না করেই চুপ হয়ে গেল মুসা, কিশোরের মুখের দিকে তাকিয়ে।

গম্ভীর হয়ে গেছে গোয়েন্দাপ্রধান। চিন্তিত ভঙ্গিতে বলল, টিকসি একা আসবে বলে মনে হয় না। হয়তো ডারটিকে নিয়েই আসবে। ডারটির কাছে মেসেজ নেই তো কি হয়েছে? টিকসির কাছে আছে। একই মেসেজ হলে ওই একটাতেই চলবে। ডারটি যদি ওদের সহকারী হয়, কিছুঁতেই তাকে ফেলে আসবে না টিকসি।

হ্যাঁ, তাই তো, মাথা দোলাল রবিন। আর ডারটি মেসেজ পায়নি শুনলে সন্দেহ জাগবে। হুঁশিয়ার হয়ে যাবে।

তার মানে যতটা সহজ মনে হয়েছিল, হাই তুলতে তুলতে বলল রবিন, তত সহজ নয় ব্যাপারটা…এহ্, বড্ড ঘুম পেয়েছে। যাই, শুয়ে পড়ি।

মুসাও হাই তুলল। আমিও যাই।

যার যার বিছানায় শুয়ে পড়ল মুসা আর রবিন। ওদের কাছ থেকে দূরে ঘরের এক কোণে বিছানা পাতল জিনা। শুয়ে পড়ল। তার পায়ের কাছে রাফিয়ান।

একটা রেখে বাকি মোমগুলো নিভিয়ে শুয়ে পড়ল কিশোরও।

দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়ল চারজনেই।

লম্বা হয়ে শুয়ে আছে রাফিয়ান, চোখ বন্ধ, কিন্তু কান খাড়া। সামান্যতম শব্দ হলেই নড়েচড়ে উঠছে।

একবার মৃদু একটা শব্দ হতেই ধড়মড়িয়ে উঠে বসল। নাক উঁচু করে বাতাস শুকল, পায়ে পায়ে এগিয়ে গেল সিঁড়ির কাছে। একটা ফাটলে নাক নিয়ে গিয়ে কল, পরক্ষণেই শান্ত হয়ে ফিরে এল আগের জায়গায়। সাধারণ একটা ব্যাঙ।

মাঝরাতের দিকে আবার মাথা তুলল সে। ওপরে রান্নাঘরে খুটখাট শব্দ হচ্ছে। সিঁড়ি বেয়ে নিঃশব্দে উঠে এল ওপরে। চাদের আলোয় পান্নার মত জ্বলে উঠল তার সবুজ চোখ।

দ্রুত চলে যাচ্ছে একটা জানোয়ার। রোমশ মোটা লেজ। শেয়াল। কুকুরের গন্ধ পেয়েই পালাচ্ছে।

সিঁড়ির মুখে অনেকক্ষণ বসে বসে পাহারা দিল রাফিয়ান। সিঁড়ি বেয়ে নেমে এল আবার।

গলে গলে শেষ হয়ে গেছে মোমটা। ঘর অন্ধকার। অঘোরে ঘুমোচ্ছে সবাই। জিনার পায়ের কাছে এসে আবার শুয়ে পড়ল সে।

 

সবার আগে ঘুম ভাঙল কিশোরের। শক্ত মেঝেতে শুয়ে পিঠ ব্যথা হয়ে গেছে। চোখ মেলে প্রথমে বুঝতে পারল না কোথায় আছে, আস্তে আস্তে সব মনে পড়ল। সবাইকে ডেকে তুলল সে।

তাড়াহুড়ো করে হাতমুখ ধুয়ে নাস্তা সেরে নিল সবাই। অনেক কাজ পড়ে আছে।

হ্রদের দিকে চলে গেছে একটা সরু পথ। দুই ধারে নিচু দেয়াল ছিল এক সময়, এখন ধসে পড়েছে। শেওলায় ঢেকে গেছে ইট। পথ ঢেকে দিয়েছে লতার জঙ্গল, মাঝে মাঝে ছোট ঝোপঝাড়ও আছে। পথের অতি সামান্যই চোখে পড়ে।

তেমনি নিথর হয়ে আছে কালো হ্রদটা। তবে তাতে, প্রাণের সাড়া দেখা যাচ্ছে এখন। ওদের দেখে কঁক করে পানিতে ডুব দিল একটা জলমুরগী।

বোটহাউসটা কোথায়? আনমনে বলল মুসা। আছে না নেই, তাই বা কে জানে।

হ্রদের ধারের পথ ধরে দ্রুত পা চালানোর চেষ্টা করছে ওরা, পারছে না। নানা রকম বাধা। লতা, ঝোপঝাড় যেন একেবারে পানির ভেতর থেকে গজিয়ে উঠে এসেছে ডাঙায়। বোটহাউস চোখে পড়ছে না।

এক জায়গায় হ্রদ থেকে একটা খাল বেরিয়ে ঢুকে গেছে জঙ্গলেন মধ্যে।

মানুষের কাটা খাল, বলল, কিশোর। নিশ্চয় বোটহাউসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

খালের পাড় ধরে এগোল ওরা। খানিক পরেই চেঁচিয়ে উঠল কিশোর, ওই যে! লাতাপাতায় এমন ঢেকে গেছে, বোঝাই যায় না। হাত তুলে দেখাল সে।

দেখল সবাই। সরু হতে হতে এক জায়গায় গিয়ে শেষ হয়েছে খাল। ঠিক সেখানে খালের ওপর নেমে গেছে সরু লম্বা একটা বাড়ি। লতাপাতা ঝোপঝাড়ে এমন ঢেকে ফেলেছে, ভালমত না দেখলে ঠাহরই করা যায় না, ওখানে কোন বাড়িঘর আছে।

মনে হয় ওটাই, খুশি হয়ে উঠেছে মুসা। ওয়াটার মেয়ারকে পেলে হয় এখন।

বৈঁচি আর এক জাতের কাঁটা-গাছই বেশি। ওগুলোর ভেতর দিয়ে পথ করে এগোতে গিয়ে কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে শরীর, কিন্তু উত্তেজনায় খেয়ালই করছে না ওরা।

বাড়ির সামনেটা পানির দিকে, ওটাই সদর। একটা চওড়া সিঁড়ি উঠে গেছে পানির ধার থেকে।

ওখান দিয়ে ওঠার চেষ্টা করল কিশোর। কিন্তু পা রাখতেই ভেঙে পড়ল পচা তক্তা। হতাশ ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল সে। না, হবে না এদিক দিয়ে। অন্য পথ খুঁজতে হবে।

অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আর কোন পথ পাওয়া গেল না।

পুরো বাড়িটাই কাঠ দিয়ে তৈরি। শেওলা জমে রয়েছে সবখানে। এক জায়গায় দেয়ালের তক্তা পচে কালো হয়ে গেছে।

লাথি মারল মুসা। জুতোশুদ্ধ পা ঢুকে গেল পচা কাঠে।

চারজনে মিলে সহজেই দেয়ালের তক্তা ভেঙে বড় একটা ফোকর করে ফেলল। আগে ঢুকল কিশোর। অন্ধকার। বাতাসে কাঠ আর পচা লতাপাতার ভেজা দুর্গন্ধ।

চওড়া সিঁড়িটার মাথায় এসে দাঁড়াল সে। নিচে কালো অন্ধকার পানি, একটা ঢেউও নেই। ফিরে ডাকল, এসো, দেখে যাও।

সিঁড়ির মাথায় এসে নিচে তাকাল সবাই। আবছা অন্ধকার। নৌকা রাখার ছাউনি এটা-বোটহাউস। পানির দিকে মুখ, কিন্তু এখন পুরোপুরি ভোলা নেই। আগাছা আর লতা অনেকখানি ঢেকে দিয়েছে। ছাত থেকে ঝুলছে লতা, নিচের পানির ভেতর থেকে গজিয়ে উঠেছে জলজ আগাছা, এরই ফাঁক দিয়ে যতখানি আলো আসতে পারছে, আসছে। তবে অন্ধকার তাতে কাটছে না বিশেষ।

চোখে সয়ে এল আবছা অন্ধকার। দেখতে পাচ্ছে এখন।

ওই যে নৌকা! নিচের দিকে দেখিয়ে চেঁচিয়ে উঠল মুসা।

খুঁটিতে বাঁধা। ওই তো, আমাদের ঠিক নিচেই একটা।

মোট তিনটে নৌকা। দুটো অর্ধেক ডুবে রয়েছে পানিতে, দুটোরই গলুই পানির নিচে।

তলা ফুটো হয়ে গেছে বোধহয়, ঝুঁকে নিচে চেয়ে আছে কিশোর। কোমরের বেল্ট থেকে টর্চ খুলে নিয়ে জ্বালল। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে আলো ফেলে দেখল বোটহাউসের ভেতরে।

দেয়ালে ঝোলানো রয়েছে অনেকগুলো দাঁড়। কতগুলো কালচে থকথকে নরম জিনিস রয়েছে কয়েকটা তাকে, পাটাতনে ফেলে বসার গদি, পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এক কোণে একটা নোঙর পড়ে আছে। দড়ির বাণ্ডিল সাজানো রয়েছে একটা তাকে। বিষণ্ণ পরিবেশ। কথা বললেই বিচ্ছিরি প্রতিধ্বনি উঠছে।

পরিত্যক্ত বোটহাউস ভূতের বাসা—মনে পড়ে গেল মুসার। ভয়ে ভয়ে তাকাল চারদিকে। সে-ও টর্চ খুলে নিল। আলো জ্বেলে ভূত তাড়ানোর ইচ্ছে। নিচু গলায় বলল, ওয়াটার মেয়ার কোনটা?

ওই যে, একটা নৌকার গলুইয়ের কাছে আলো ফেলে বলল কিশোর, ওয়াটার কি যেন? কয়েক ধাপ নামল সে। ও, ওয়াটার লিলি।

আরেকটা নৌকার গলুইয়ের কাছে আলো ফেলল মুসা।

অকটোপাস, বলে উঠল রবিন।

বাহুঁ, চমৎকার, বলল মুসা। একটার নাম ওয়াটার লিলি, আরেকটা একেবারে অকটোপাস। মালিকের মাথায় দোষ ছিল।

আর ওই যে, ওটার কি নাম? তৃতীয় নৌকাটা দেখাল জিন। ওটাই ওয়াটার মেয়ার?

দুটো টর্চের আলো এক সঙ্গে পড়ল নৌকাটার গলুইয়ের কাছে। শুধু এম অক্ষরটা পড়া যাচ্ছে। সাবধানে আরও নিচে নামল কিশোর। তক্তা ভেঙে পানিতে পড়ার ভয় আছে। রুমাল ভিজিয়ে ঘষে ঘষে পরিষ্কার করল নামের জায়গাটা।

হুঁ, বিড়বিড় করল কিশোর, অকটোপাস, লিটল মারমেইড, ওয়াটার লিলি…অকটোপাস, জলকুমারী, জলপদ্ম শিওর, জলঘোটকীও, এই পরিবারেরই মেয়ে…

অকটোপাসটা ছেলে, না? বলল মুসা।

কি জানি, হাত ওল্টাল কিশোর। ওটার মালিকই জানে।

কিন্তু ওয়াটার মেয়ারটা কোথায়? জিনার প্রশ্ন।

পানিতে ওদিকে কোথাও ডুবে আছে? বোটহাউসের মুখের দিকে দেখাল মুসা।

মনে হয় না, মাথা নাড়ল কিশোর। দেখছ না, পানি কম? ডুবে থাকলেও দেখা যেত। তলার বালি পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট।

তবু, আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্যে আলো ফেলে দেখল পানির যতখানি চোখে পড়ে। আর কোন নৌকা নেই এখানে।

গেল কোথায় জলঘোটকী, নিচের ঠোঁটে চিমটি কাটতে শুরু করল কিশোর। কখন? কিভাবে? কেন?

বোটহাউসের ভেতরটা আরেকবার ভালমত দেখল ওরা। সিঁড়ির কাছে, বোটহাউসের এক পাশের দেয়ালে ঠেস দিয়ে খাড়া করে রাখা হয়েছে কাঠের বড় একটা জিনিস।

কি ওটা? জিনা বলল। ওহহো, ভেলা।

কাছে গিয়ে ভেলাটা ভাল করে দেখল সবাই।

বেশ ভাল অবস্থায়ই আছে, ভেলার গায়ে হাত বোলাল কিশোর। ইচ্ছে করলে আমরা পাঁচজনেই চড়তে পারব এটাতে।

দারুণ মজা হবে, আনন্দে হাত তালি দিয়ে লাফিয়ে উঠল জিনা। ভেলায় চড়তে যা ভাল্লাগে না আমার। নৌকার চেয়েও মজার।

নৌকাও একটা আছে অবশ্য, কিছু ভাবছে কিশোর। ইচ্ছে করলে ওটাতেও চড়া যায়।

আচ্ছা, তিনটে নৌকাই খুঁজে দেখলে হয় না? প্রস্তাব দিল মুসা। লুটের মাল আছে কিনা?

দরকার নেই, বলল কিশোর। তাহলে জলঘোটকীর নাম থাকত না মেসেজে। তোমার সন্দেহ থাকলে গিয়ে খুঁজে দেখতে পারো।

কিশোর পাশা যখন বলছে নেই, থাকবে না।

এক কাজ করো, আবার বলল কিশোর। সন্দেহ যখন হয়েছে, গিয়ে খুঁজে দেখো। এসব ব্যাপারে হেলাফেলা করা উচিত নয়। শিওর হয়েই যাই।

কিন্তু ওয়াটার মেয়ার গেল কোথায়? বলল সে। পরিবারের সবাই এখানে হাজির, আরেকটা গিয়ে লুকাল কোথায়? হ্রদের তীরে কোথাও লুকানো হয়েছে?

হ্যাঁ, তা হতে পারে, ভেলাটা ঠেলছে কিশোর, থেমে গেল। ডাঙায় না হোক, পাড়ের নিচে কোথাও কোন গলিঘুপচিতে লুকিয়ে রেখেছে হয়তো।

চলো না তাহলে, এখনি খুঁজে দেখি, ভেলায় চড়ার লোভ আপাতত চাপা দিল জিনা।

দেয়ালের ভাঙা ফোকর দিয়ে আবার বাইরে বেরোল ওরা। বুক ভরে টেনে নিল তাজা বাতাস। বোটহাউসের দুর্গন্ধ থেকে দূরে আসতে পেরে হাঁপ ছেড়েছে। সব চেয়ে বেশি খুশি হয়েছে রাফিয়ান। অন্ধকার ওই ঘরটা মোটেও ভাল লাগছিল

তার। এই তো, কি চমৎকার উষ্ণ রোদ, কি আরামের বাতাস, লেজের রোম কি সুন্দর ফুলিয়ে দেয় ফুঁ দিয়ে।

কোনদিক থেকে শুরু করব? বলল রবিন। ডান, না বাম?

নীরবে পানির ধারে এগিয়ে গেল কিশোর, পেছনে অন্যেরা। ডানেও তাকাল, বায়েও। কিন্তু কোন দিকেই কোন পার্থক্য নেই, দু-দিকেই সমান ঘন ঝোপঝাড়।

পানির কাছাকাছি থাকাই মুশকিল, বলল কিশোর। দেখা যাক তবু। চলো, বাঁ দিক থেকেই শুরু করি।

শুরুতে জঙ্গল তেমন ঘন নয়, পানির কাছাকাছি থাকা গেল। পানির ওপর ঝুঁকে রয়েছে লতানো ঝোপ, যে কোনটার তলায় লুকিয়ে রাখা যায় নৌকা। উঁকি দিয়ে, পাড়ের নিচে নেমে, যতভাবে সম্ভব, নৌকা আছে কিনা দেখার চেষ্টা করল ওরা।

সিকি মাইল পর থেকেই ঘন হতে শুরু করল জঙ্গল। এত ঘন যে পথ করে এগোনোই কঠিন, থাক তো পানির ধারে গিয়ে উঁকি দেয়া। পানির ধারে মাটি রসাল বলেই বোধহয়, জঙ্গল ওখানে আরও বেশি ঘন।

নাহ্, এভাবে হবে না, এক সময় হাল ছেড়ে দিয়ে বলল কিশোর। যা কাঁটা। শেষে চামড়া নিয়ে ফিরতে পারব না।

হ্যাঁ, কাঁটা বেশিই, দুই হাতের তালু দেখছে মুসা, কেটে ছড়ে গেছে, কোন আঁচড়, এত গভীর, রক্ত বেরোচ্ছে। ঠিকই বলেছ, এভাবে হবে না।

অন্য দুজনেরও একই অভিমত। আনন্দ পাচ্ছে শুধু রাফিয়ান। বার বার উৎসুক চোখে তাকাচ্ছে বনের দিকে। বুঝতে পারছে না যেন, এত সুন্দর কাটা আর ঝোপকে কেন পছন্দ করছে না বোকা ছেলে-মেয়েগুলো?

ছেলেরা যখন ফিরল, রীতিমত আহত বোধ করল রাফিয়ান। হতাশ ভঙ্গিতে হেঁটে চলল ওদের পেছনে।

ডানে চেষ্টা করে দেখব নাকি? জিজ্ঞেস করল রবিন।

নাহ্‌ লাভ হবে না,মাথা নাড়ল কিশোর। ওদিকে আরও বেশি জঙ্গল। খামোকা সময় নষ্ট। তার চেয়ে এক কাজ করি এসো?…ভেলায় চড়ে ঘুরি?

ঠিক বলেছ। দারুণ হবে, সঙ্গে সঙ্গে বলল জিনা। কষ্টও হবে না, তাছাড়া পানির দিক থেকে দেখার সুবিধে অনেক। কোন ঘুপচিই চোখ এড়াবে না। সহজেই খুঁজতে পারব।

ইস্, আগে মনে পড়ল না কেন? আফসোস করল মুসা। তাহলে তো এভাবে হাত-পাগুলো ছুলতে হত না।

জঙ্গলের ভেতর দিয়ে আবার বোটহাউসের দিকে রওনা হলো ওরা।

হঠাৎ থেমে গেল রাফিয়ান। চাপা গর্জন করে উঠল।

কি হয়েছে, রাফি? থেমে গিয়ে নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল জিনা।

আবার গোঁ গোঁ করে উঠল রাফিয়ান।

সাবধানে পিছিয়ে গেল চারজনে। একটা ঝোপের ভেতর থেকে মাথা বের করে তাকাল বোটহাউসের দিকে। কই, কিছুই তো নেই? এমন করছে কেন তাহলে রাফিয়ান?

সবার আগে দেখল মুসা। কিশোরের পাঁজরে কনুই দিয়ে গুঁতো দিল।

এক তরুণী, আর একটা লোক। কথা বলছে।

নিশ্চয় টিকসি, ফিসফিস করে বলল কিশোর।

আর ওই ব্যাটা ডারটি রবিন, মুসা বলল, আমি শিওর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *