০৯. কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল মুসা

কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল মুসা, মাথা নেড়ে বারণ করছে কিশোর। কথা বলা বৃথা এখন। চেঁচামেচির জন্যে বোঝা যাবে না ঠিকমত, অযথা চেঁচিয়ে গলা ফাটানোই সার হবে।

হ্যারিস যেদিন লাঞ্চ খাইয়েছে তার পরদিন শেষ বিকেলের ঘটনা। সাইকেল নিয়ে মিস কারমাইকেলে বাড়ি এসেছে তিন গোয়েন্দা।

লিটল টোকিও থেকে বাড়ি ফিরে গিয়েই মহিলাকে ফোন করেছিল কিশোর, পরদিন সকালে তার বাড়িতে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিল। পেয়েছিল অনুমতি, কিন্তু সকালে বেরোতে পারল না। কোথা থেকে জানি বিশাল এক পুরানো রেফ্রিজারেটর আর কতগুলো বাতিল পুরানো আমলের লোহার চুলা নিয়ে এসেছেন রাশেদ পাশা। বরাবরের মতই চাচী গেছেন রেগে। তাদের ঝগড়া থামাতে হয়েছে কিশোরকেই, এরপর কাজে লাগতে হয়েছে। তার ওপর আগের রাতে হয়েছে বৃষ্টি। বাইরে চত্বরে ফেলে রাখা কিছু জিনিস মুছে গোছগাছ করতে করতে দুপুর। খেয়ে ইয়াভের আরও কিছু জরুরী কাজ সেরে বেরোতে বেরোতে একেবারে বিকেল।

আজ আর রাত করবে না, ভাবল কিশোর। কাজ শেষ করে রাতের আগেই ফিরে যাবে। কে জানে, আজ কি নিয়ে বোপের ভেতর অপেক্ষা করছে রিচার্ড হ্যারিস। হয়তো ইয়া বড় এক রাম দা। ঘাড়টা নাগালে পেলেই দেবে কোপ মেরে।

বেল বাজার সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দিলেন মিস কারমাইকেল। কালো মখমলের লম্বা হাতাওয়ালা পোশাক পরেছেন, শোক প্রকাশের জন্যে। বার বার রুমাল দিয়ে চোখ মুছছেন। ছেলেদেরকে নিয়ে এলেন সাউণ্ড ঘরে।

দেখো, আর কিছুই বলতে পারলেন না, কষ্ঠ রুদ্ধ হয়ে গেল। শুধু হাত তুলে দেখিয়ে দিলেন টেবিলের দিকে।

সাদা কাপড়ের ওপর পড়ে আছে আরেকটা বাজ পাখি।

টেবিলের দিকে এগোচ্ছে মুসা, কি মনে করে মিস কারমাইকেলের কাধ থেকে উড়ে এসে মুসার মাথার ওপর এক মুহূর্ত ফড়ফড় করল তোতাটা, তারপর কাঁধে বসে পড়ল।

কি নিষ্ঠুর! রীতিমত ফেঁপাচ্ছেন এখন মিস কারমাইকেল।

নিষ্ঠুর! প্রতিধ্বনি করল তোতাটা। নিষ্ঠুর নিষ্ঠুর!

মরা বাজটাকে পরীক্ষা করে দেখল কিশোর। আঘাতের কোন চিহ্ন নেই। অন্য বাজটার মত এটাকেও বোধহয় বিষ খাইয়ে মারা হয়েছে।

কখন পেয়েছেন এটা? জিজ্ঞেস করল সে।

সামলে নেয়ার চেষ্টা করলেন মিস কারমাইকেল, ফেঁপানী বন্ধ হয়েছে, তবে বার বার রুমাল দিয়ে চোখ মোছা থামেনি। এই তো, খানিক আগে।

কোথায়?

আগের জায়গায়, ঢোক গিললেন, আঙুল বোলালেন মুক্তার হারে। স্টীলকে যেখানে পেয়েছিলাম সেখানেই।

বাজের খাবার যেখানে রেখে আসেন?

নীরবে মাথা ঝোঁকালেন মিস কারমাইকেল।

মহিলার অবস্থা দেখে খারাপই লাগছে কিশোরের, সহানুভূতি জানিয়ে বলল, আপনার এখন মনের অবস্থা কেমন, বুঝতে পারছি। তবু দয়া করে কয়েকটা প্রশ্নের জবাব যদি দেন…

নীরবে মাথা কাত করলেন মিস কারমাইকেল। মুক্তার হারে আঙুল বুলিয়েই চলেছেন, বোধহয় বেদনা কিছুটা লাঘব হচ্ছে এতে।

চেষ্টা করব, বললেন তিনি।

আগের বার যখন এসেছিলাম, বলল কিশোর, আপনার পোষা দোয়েল, হীরা… থেমে গেল সে, আবার না পুরানো শোক মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে মহিলার, কেঁদে ফেলেন, তাহলে তার প্রশ্নের জবাব পাওয়ার আর আশা নেই।

কিন্তু কাঁদলেন না মিস কারমাইকেল, মাথা ঝাকালেন শুধু। আপনি বলেছেন, পাখিটা নাকি নানারকম জিনিস কুড়িয়ে আনার ওস্তাদ ছিল।

মুক্তো, প্রিয় অতীতের কথা মনে করে মলিন হাসি ফুটল মিস কারমাইকেলের ঠোঁটে। তিন তিনটে মুক্তো এনে দিয়েছিল আমাকে।

বলেছিলেন, দুটো দোয়েল আছে আপনার। আরেকটার নাম কি?

পান্না।

সে-ও কি জিনিস এনে দেয়?

মাঝেমধ্যে, রুমালটা পকেটে ঢুকিয়ে রাখলেন মিস কারমাইকেল, আর কাঁদবেন না স্থির করেছেন বোধহয়, কিন্তু হীরার তুলনায় পান্না কোন কাজেরই না। যত সব অকাজের জিনিস কোখেকে গিয়ে নিয়ে আসে, একেবারেই বাজে।

মরা বাজটার দিকে চেয়ে আনমনে ঠোঁট কামড়াচ্ছে কিশোর। কখনও কোন মেসেজ এনে দিয়েছে?

মেসেজ?

এই, কাগজের টুকরো। তাতে লেখা-টেখা কিছু?

না আনেনি। তেমন কিছু কখনও আনলে মনে থাকত। এই তো, আজ সকালে দেখো না, কি এনেছে। দেখতে চাও?

অবশ্যই দেখতে চায়, জানাল কিশোর।

সাইড টেবিলের ওপর থেকে একটা কাঁচের অ্যাশট্রে নিয়ে এলেন মিস কারমাইকেল। বাড়িয়ে ধরলেন কিশোরের দিকে।

দেখল কিশোর। চুল দিয়ে পাকানো খুদে একটা বল। হাতে নিয়ে পরীক্ষা করল সে। খসখসে, কালো কোঁকড়ানো চুল দিয়ে তৈরি। দোয়েল পাখির আজব খেয়াল, অনেক সময় নিয়ে ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে আশ্চর্য নৈপুণ্যে বানিয়েছে বলটা। মিস কারমাইকেলের অনুমতি নিয়ে যত্ন করে বলটা পকেটে রেখে দিল কিশোর। আচ্ছা, কোথায় পেয়েছে এটা, বলতে পারবেন?

না, অ্যাশট্রেটা আবার আগের জায়গায় রেখে এলেন মিস কারমাইকেল। হীরা ও মুক্তোগুলো কোথেকে এনেছিল, জানি না।

জানালার বাইরে তাকাল কিশোর। বেলা শেষ, তবে আঁধার হতে এখনও ঘণ্টা দুই বাকি। মুসা আর রবিনকে বলল, চলো যাই, আরেকবার ঘুরে দেখিগে বাগানে। মিস কারমাইকেলের দিকে ফিরল, আপনার আপত্তি নেই তো?

না না, আপত্তি থাকবে কেন? তোমরা যা করছ আমার জন্যে, কে কার জন্যে করে? মিস্টার হ্যারিসের কাছেও আমি ঋণী। কিন্তু বাবা, কিছু মনে কোরো না, আমি তোমাদের সঙ্গে যেতে পারছি না। সইতে পারব না, রুমাল রে করলেন তিনি।

আবার যদি কিছু দেখি… গলা কেঁপে উঠল তার।

ঠিক আছে ঠিক আছে, আপনি থাকুন, তাড়াতাড়ি হাত নাড়ল কিশোর।

বিশাল জানালা দিয়ে কোলাহলের মধ্যে বেরিয়ে এল ওরা। তোতাটা বসে আছে মুসার কাঁধে। ওদের সঙ্গে বাগানে ঘোরার ইচ্ছে হয়েছে বুঝি। মুসা থাকতে দিল পাখিটাকে, টমের মতই তোতাটাকেও পছন্দ হয়েছে তার।

লনের প্রান্তে খোয়া বিছানো পথের ধারে এসে থামল ওরা। খানিক দূরে গাছ, যেটার তলায় মরে পড়ে ছিল দুটো বাজপাখি। আজ জায়গাটা পরিষ্কার। মাংসের টুকরো পড়ে নেই, পায়ের ছাপ নেই।

চলো, বনের দিকে দেখিয়ে চেঁচিয়ে বলল কিশোর, আলাদা হওয়ার দরকার নেই। এক সঙ্গে যাই।

সেটাই ভাল, গলা ফাটিয়ে জবাব দিল মুসা। রিচার্ড হ্যারিসের লাঠির বাড়ি খেতে চাই না। তার মেজাজ আজ ভাল না মন্দ কে জানে।

এক ঘণ্টা ধরে ঘোরাঘুরি করল তিন গোয়েন্দা, বনের ভেতর, ঝোপের ধারে, সরু পথে। বৃষ্টিতে ভিজে মাটি নরম হয়ে আছে কোথাও কোথাও। আজ আর কারও সঙ্গেই সাক্ষাৎ হলো না।

অবশেষে বনের ধারে ঘাসে ঢাকা ছোট একটা খোলা জায়গায় বেরিয়ে এল ওরা। আশ্চর্য নীরবতা এখানে। কোলাহলকারী পাখিরা যেন এড়িয়ে চলে জায়গাটাকে, ওদের কলরব অনেক পেছনে।

শুকনো জায়গা দেখে বসে পড়ল কিশোর। হাঁপিয়ে উঠেছে, জিরিয়ে নেবে।

মুসা পা ছড়িয়ে বসল তার পাশে। খানিকদূরে একটা গাছে হেলান দিয়ে বসল রবিন!

প্রায় মিনিট পাঁচেক গেল। একটা রবিন এসে বসেছে তাদের কয়েক গজ সামনে, ভেজা মাটি থেকে ঠুকরে কেঁচো বের করে খাচ্ছে। আনমনে পাখিটাকে দেখছে মুসা।

নাহ, এবার ওঠা দরকার। উঠতে যাবে কিশোর, এই সময় একসঙ্গে তিনটে ঘটনা ঘটল, চোখের পলকে।

আঙ্কে চিৎকার দিয়ে তোতাটা উড়ে গেল মুসার কাঁধ থেকে। মাথা তুলে আকাশের দিকে চেনেই চমকে গেল রবিনটা। কালে! একটা ছায়া পাথরের মত এসে পড়ল তার ওপর। পালানোর কোন সুযোগই পেল না পাখিটা। ভয়ানক এক শিকারী বাজ নাপিয়ে পড়েছে। ধারাল নখ আর ঠোঁট দিয়ে টেনে টেনে রবিনের শরীরটা নিমেষে ছিড়ে ফেলে, যা যা খাওয়ার বের করে নিল বাজ। মাংসটা নখে ঝুলিয়ে নিয়ে উড়ে চলে গেল রকেটের মত। মাটিতে পড়ে রইল শুধু রবিনের মাথা, পা দুটো আর কয়েকটা রক্তাক্ত পালক।

পুরো এক মিনিট কোনও কথা বলতে পারল না তিন কিশোর। ঘটনার আকস্মিকতায় বোবা হয়ে গেছে যেন ওরা।

গাছের ডাল থেকে ফিরে এসে আবার মুসার কাঁধে বসল তোতাটা। নিষ্ঠুর! চেঁচিয়ে উঠল তীক্ষ্ণ স্বরে। নিষ্ঠুর! নিষ্ঠুর!

ঠিকই বলেছিস, পাখিটার সঙ্গে একমত হলো কিশোর। তবে রবিনটা জীবন দিয়ে জানিয়ে দিয়ে গেল আমাদের, দুআঙুলে পায়রাটাকে কে খুন করেছে।

এবং কেন বাজ মারছে কেউ,যোগ করল রবিন। রেসিং হোমারদের খুন করে বলেই তো বাজ মারে, নাকি?

হ্যাঁ, পকেট থেকে কাগজে মোড়া চুলের বলটা বের করল কিশোর। মোড়ক খুলে তাকাল। কিন্তু কে বিষ খাওয়াচ্ছে জানি না এখনও। হীরাকে পিটিয়ে মেরেছে কে, তা-ও জানি না। উঠে দাঁড়াল সে। পায়ের ছাপ, চিন্তিত ভঙ্গিতে বলল, গতরাতে বৃষ্টি হয়েছে, মাটি জায়গায় জায়গায় এখনও ভেজা, ছাপ থাকতে বাধ্য। আমরা খুঁজে পাইনি, কিন্তু আছেই। আকাশের দিকে তাকাল। এসো, যাই। আরও. এক ঘণ্টা আলো থাকবে। এবার ভাগ হয়ে তিন দিকে চলে যাব, ছড়িয়ে পড়ে খুঁজব। মুসা, তুমি এদিকে যাও, রবিন তুমি ওদিকে। মাটিতে প্রতিটা ইঞ্চি দেখবে, বিশেষ করে কাদামাটি যেখানে আছে।

কিছু দেখলে কিভাবে জানাব? জিজ্ঞেস করল রবিন। কি সঙ্কেত?

আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি, সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিল কিশোর। জোরে জোরে গাইবে।

দি হাইমস অভ দা ব্যাটল?

না। অন্য সুর। এসো, আমার সঙ্গে সঙ্গে গাও। আমার সোনার বাংলা…

কিশোরের সঙ্গে সঙ্গে বার কয়েক গেয়ে প্র্যাকটিস করে নিল মুসা আর রবিন। তারপর নিজে নিজে গাইল, কিশোরের চেয়ে গলা ডাল দুজনেরই, রবিন তো মৎকার গাইল।

পায়ের ছাপ খোঁজার জন্যে তিনদিকে ছড়িয়ে পড়ল ওরা। মুসা জে পেল, মিনিট পনেরো পরে। সরু পথ ধরে এগিয়ে গেছে একজোড়া বুটের ছাপ, ভেজা নরম মাটিতে বেশ গভীর হয়ে বসেছে।

দাঁড়িয়ে পড়ল মুসা। মলে নিভে আসছে দ্রুত! রাতের সাড়া পেয়েই কলরব কমিয়ে দিয়েছে পাখির দল, শব্দ এখন অনে? কম। আবছা অন্ধকার বনপথ দাঁড়িয়ে অকারণেই গা ছমছম করে উঠল মুসার। ভয়ে ভয়ে তাকল চারদিকে, মাথায় ডাণ্ডা মারতে আসছে ন-তে আবার কেউ?

গান গাওয়ার জন্যে মুখ খুলল মুসা।

কিন্তু সুর ভুলে গেছে। অথচ তখন বেশ গেয়েছিল, এত তাড়াতাড়িই ভুলে গেল? গেছে, কি আর করবে। চেষ্টা করল, আ-আমার সোনার দূর হচ্ছে না। আবার চেষ্টা করল। হলো না।

আমার সোনার বাংলা, গেয়ে উঠা কাঁধে বসা তোতাটা, চমৎকার শিখে নিয়েছে, সুরও বেশ হয়েছে।

ধন্যবাদ, তোতামিয়া, হেসে আলতো চাপড় দিয়ে পাখিটাকে আদর করা মুসা। সাধনা করলে ওস্তাদ হতে পারতে। গলা চড়িয়ে গাইল, আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি।

কাছাকাছিই রয়েছে কিশোর আর রবিন, সাড়া মিলল সঙ্গে সঙ্গেই।

মিনিটখানেক পরই আবার একসাথ হলো তিনজনে।

গভীর মনোযোগে বুটের ছাপগুলো দেখল কিশোর। পকেট থেকে আবার বের করল চুলের বল। তাড়াতাড়িই পেয়েছ, মুসা, গুড। এগুলো হ্যারিসের নয়। গতকাল ওর সঙ্গে লাস্থ করার সময় ভালমত দেখেছি ওর জুতো। অনেক ছোট পা, জুতোর নাক ভোঁতা। সুতরাং, চুলের বনটার দিকে তাকিয়ে বলল, এটা হ্যারিসের দাড়ি নয়। কাটা ঝোপে আটকে তার দাড়ি ছেড়েনি, যেটা খেলার সময় পেয়ে গিয়ে বল বানিয়েছে পান্না।

আপাতত আর কিছু দেখার নেই। বন থেকে বেরিয়ে এল ওরা, যেখানে সাইকেল রেখেছে সেখানে।

দোতলায় মিস কারমাইকেলের শোবার ঘরে আলো জ্বলছে। কিশোর অনুমান করল, তিনি শুয়ে পড়েছেন, ঘুমিয়ে শোক ভুলতে চাইছেন।

তাঁকে জানানোর মত এখনও কিছু আবিষ্কার করিনি আমরা, কারও উদ্দেশে কথাগুলো বলছে না কিশোর। যা জানি, শুধুই অনুমান।

রংকির পায়ের ছাপ সন্দেহ করছ? রবিনের মনে পড়েছে, কিশোর বলেছিল, স্ন্যাকস রেস্টুরেন্টে চোখা মাথাওয়ালা বুট পরা ছিল সেটারের পায়ে।

তাকে পয়লা সন্দেহ, মাথা ঝাঁকিয়ে বলল কিশোর। দ্বিতীয় সন্দেহ হারিকিরি। আমার ধারণা, সমস্ত রহস্যের চাবিকাঠি ওই জাপানীটা।

কেন? জানতে চাইল মুসা।

মেসেজটা হ্যারিকিরিই লিখেছে : আজ মুক্তো নেই, এক আঙুল তুলল কিশোর। দুই আঙুল তুলে বলল, লিটুল টোকিওয় হ্যারিকিরির বাড়িতেই গিয়েছিল রিচার্ড হ্যারিস। তিন আঙুল তুলল, আর স্ন্যাকস রেস্টুরেন্টে হ্যারিকিরির জন্যেই

অপেক্ষা করছিল ব্লিংকি।

হুঁ, মাথা দোলাল মুসা, পরিষ্কার হচ্ছে।

রবিনের সৌজন্যে জেনেছি, কেন অপেক্ষা করছিল ব্লিংকি, আর কেনই বা ছুটে গিয়েছিল সবুজ ভ্যানকে অনুসরণ করার জন্যে।

আমার সৌজন্যে? ভুরু কোচকাল রবিন।

হ্যাঁ, তাই তো। তুমিই তো দেখে এসেছ, হ্যারিকিরির ডাকবাক্সে নতুন রঙ করা হয়েছে, তারমানে নতুন বাড়ি বদলেছে জাপানীটা। এটাই জানতে চেয়েছিল রিংকি কোথায় নতুন বাড়ি নিয়েছে হ্যারিকিরি।

কেন?

সেটাই জানতে হবে আমাদের। হ্যারিকিরির সঙ্গে ব্লিংকির কি সম্পর্ক, আর মুক্তোরই বা কি সম্পর্ক।

এক মুহূর্ত চুপ থেকে বলল কিশোর, সবুজ ভ্যানটাকে আবার অনুসরণ করতে হবে আমাদের। জানার এটাই একমাত্র উপায়।

বীপার তো লাগানোই আছে, বলল মুসা।

মাথা নাড়ল কিশোর। এটা দিয়ে আর কাজ হবে না। নিশ্চয় এতক্ষণে ব্যাটারি ফুরিয়ে গেছে। হ্যারিকিরির বাড়ি গিয়ে ব্যাটারি বদলে দিয়ে আসা খুব ঝুঁকির ব্যাপার।

তাহলে?

কাজটা তোমাকেই করতে হবে, মুসা, গোয়েন্দা-সহকারীর দিকে তাকাল কিশোর।

ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল মুসা। দু-হাত নেড়ে বলল, হ্যাঁ, এই ভয়ই করছিলাম। কপালই খারাপ। যত কঠিন আর ঝুঁকির কাজ, সব এই মুসা আমানের ঘাড়ে। কি আর করব, মাথায় তো আমারই সইবে,চোখ নাচিয়ে জিজ্ঞেস করল,

তা জনাব, কাজটা কি?

নিষ্ঠুর! চেঁচিয়ে উঠল তোতা। নিষ্ঠুর নিষ্ঠুর!

দূর ব্যাটা! তিক্ত কণ্ঠে বলল মুসা। চুপ থাক!

তোতাটাও বল, দৃর ব্যাটা! চুপ থাক!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *