০৯. এক বিরাট ক্ষতি

এক বিরাট ক্ষতি

সন্ধ্যায় পৌঁছলাম ইয়ারমাউথে পেগোটির বাড়িতে। দরজায় মৃদু টোকা দিতেই খুলে দিলেন মি. পেগোটি। তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন রান্নাঘরে। সেখানে আগুনের পাশে বসে আছে এমিলি। বিষণ্ণ, চুপচাপ। হ্যাম দাঁড়িয়ে আছে ওর পাশে। ওর কাঁধে হাত রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু ও যেন পছন্দ করছে না কাধে হাত দেয়া। হ্যাম আমাকে বলল যে সপ্তা দুয়েকের মধ্যে বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই ওদের বিয়েটা হয়ে যাবে।

আমি বসে বসে ঘড়ির টিকটিক শব্দ শুনতে লাগলাম। একটু পরেই ক্লান্ত বিধ্বস্ত চেহারা নিয়ে পেগোটি এসে হাজির হলো। আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল ওপরতলায় যেতে। সেখানে শোবার ঘরে শুয়ে আছেন বার্কিস-নীরব, অচেতন।

ভাটার টানের সাথে সাথে সে চলে যাচ্ছে। সাগরকূলের মানুষ মারা যায় ভাটার টানের শেষে, বলল পেগোটি ফিসফিস করে।

বার্কিসের কাছে কয়েক ঘণ্টা আমরা রইলাম। একবার চোখ মেলে তাকালেন। আমার দিকে একটা হাত বাড়াতে চেষ্টা করলেন।

অতিকষ্টে মুখে একটু হাসি আনার চেষ্টা করে বার্কিস ইচ্ছুক! বলেই তিনি ঢলে পড়লেন মৃত্যুর কোলে।

পরদিন নীরবে শেষ হলো অন্ত্যেষ্টির কাজ। আমরা চলে গেলাম যার যার পথে। কথা রইল সন্ধ্যায় মিটার পেপগাটির জাহাজ-বাড়িতে একত্র হব। দিনটা কাটল ধীর গতিতে।

বৃষ্টি শুরু হলো অঝোর ধারায়। তবে মেঘের আড়ালে চাদ আছে। তাই জাহাজ-বাড়ির পথটা তেমন অন্ধকার নয়। সেখানে পৌঁছে দেখি পেগোটি, মিসেস গামিজ আর মি. পেগোটি আছেন।

একটুখানি পরে এসে ঢুকল হ্যাম। একা।

এমিলি কোথায়? জিজ্ঞেস করলেন মি. পেগোটি।

হ্যাম এমন ভঙ্গিতে হাত নাড়ল যাতে মনে হতে পারে ও বাইরে আছে। তারপর সে ফিরল আমার দিকে। তার চেহারা মড়ার মত ফ্যাকাসে। বলল, মাস্টার ডেভি, এক মিনিটের জন্য বাইরে চলুন। আমি আর এমিলি আপনাকে একটা জিনিস দেখাব।

আমরা বাইরে গেলাম। হ্যাম দরজা বন্ধ করে দিল যাতে কেউ কিছু না শোনে। তারপর বলল, এমিলি পালিয়ে গেছে। এ কথা আমি কেমন করে বলব মি. পেগোটিকে? বলে হু-হু করে কেঁদে ফেলল হ্যাম। কাঁদতে কাঁদতে একটা ভাজ করা কাগজ গুজে দিল আমার হাতে।

বিস্মিত হবার সময়ও পেলাম না, কারণ মি. পেগোটি দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন। আমাদের দিকে এক নজর তাকিয়েই তিনি বুঝে ফেললেন গুরুতর কিছু ঘটে গেছে।

আমরা ফিরে গেলাম ঘরে। পেগোটি ও মিসেস গামিজ ডুকরে কেঁদে উঠলেন। জড়িয়ে ধরলেন মি. পেপগাটিকে। মি. পেগোটির ওয়েস্টকোট হেঁড়া, চুল এলোমেলো, মুখ আর ঠোঁট দুটো সাদা, মুখ থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে বুকের ওপর। স্থির দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে কাঁপা কাঁপা স্বরে তিনি বললেন, চিঠিটা পড়ুন, স্যার।

আমি পড়লাম। এমিলি তার চিঠিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে হ্যামের জন্য-যে তাকে ভালবেসেছিল। ও দুঃখ প্রকাশ করেছে ঘর ছেড়ে, প্রিয়জনদের ছেড়ে, ওর অতি স্নেহপ্রবণ কাকাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে বলে। লিখেছে, যার সঙ্গে সে চলে যাচ্ছে সে যদি ওকে একজন লেডির মর্যাদা দিয়ে ফিরিয়ে না আনে তাহলে সে আর ফিরবে না। হ্যামকে সে অনুরোধ করেছে ওর প্রিয় কাকাকে দেখার জন্য। বলেছে হ্যাম যেন একটি ভাল মেয়েকে বিয়ে করে।

স্থির দাঁড়িয়ে মি. পেগোটি শুনলেন। কাঁপতে লাগলেন থরথর করে। জিজ্ঞেস করলেন, লোকটা কে?

হ্যাম আমার দিকে তাকিয়ে নীরব রইল। আমি একটা ধাক্কা খেলাম—বুঝতে পারলাম লোকটা কে। অবসন্নভাবে বসে পড়লাম চেয়ারে।

লোকটার নাম বললা! গর্জে উঠলেন মি. পেগোটি।

হ্যাম থতমত খেয়ে বলল, গত কদিন ধরে একটা চাকর আর তার মনিব অসময়ে ঘুরঘুর করছিল এদিকে। গত রাতে চাকরটা বেচারি এমিলির সঙ্গে দেখা করে। লোকটি এখানে কোথাও লুকিয়ে থাকত।

পেগোটি পেছন থেকে আমার গলা জড়িয়ে ধরল। কিন্তু আমার তখন নড়ার শক্তিও নেই।

আজ খুব ভোরে শহরের বাইরে নরউইচের রাস্তায় একটা অচেনা ঘোড়ার গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। এমিলিকে নিয়ে চাকরটি ওই গাড়িতে ওঠে। তার মনিব গাড়ির ভেতরে ছিল।

ওর নাম কি স্টিয়ারফোর্থ?

হ্যাম আমার দিকে ফিরে ভাঙা গলায় বলল, মাস্টার ডেভি, এতে আপনার কোন দোষ নেই। তবে লোকটার নাম স্টিয়ারফোর্থ এবং সে একজন জঘন্য বদমাশ!

মি. পেগোটি কাঁদলেন না। চোখের পানি ফেললেন না। নড়লেন না। তারপর যেন হঠাৎ জেগে উঠলেন ঘুম থেকে। দেয়ালে ঝোলানো কোটটা নামিয়ে নিলেন। বললেন, আমার হ্যাটটা দাও।

হ্যাম জিজ্ঞেস করল তিনি কোথায় যাচ্ছেন।

যাচ্ছি আমার ভাইঝিকে খুঁজতে। আমার এমিলিকে খুঁজতে। প্রথমে স্টিয়ারফোর্থের নৌকাটা ফুটো করে ডুবিয়ে দেব। তাকেও ওখানে ডোবাতাম যদি তার মতলবটা টের পেতাম। তারপর আমি খুঁজব এমিলিকে।

কোথায়? দরজা আগলে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল হ্যাম।

যে-কোন জায়গায়। দুনিয়ার সবখানে। কেউ আমাকে বাধা দিতে পারবে।

না, না, বলে কেঁদে উঠলেন মিসেস গামিজ। না, তোমার বর্তমান অবস্থায় যেতে পারবে না। পরে, শান্ত ও সুস্থ হয়ে তুমি যেয়ো। এখন নয়।

শান্ত হলেন মি. পেগোটি। কাঁদতে লাগলেন। আমার ইচ্ছে হলো হাঁটু গেড়ে বসে তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইতে। কারণ, আমার জন্যই তাদের জীবনে এ দুর্যোগ নেমে এসেছে। আমিই স্টিয়ারফোর্থকে এনেছিলাম এখানে।

কিন্তু আমি ক্ষমা চাইলাম না। স্টিয়ারফোর্থকে অভিসম্পাতও দিলাম না। শুধু কাঁদলাম বসে বসে। বন্ধুর স্মৃতিটা আমার কাছে প্রিয়। তবে, অনুভব করলাম যে আমাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে। তার সঙ্গে শেষ সাক্ষাতের রাতে সে-ও তা অনুভব করেছিল। এজন্যই সম্ভবত গতকাল হাইগেট-এ সে বলেছিল, আমাদের মধ্যে যদি কোনদিন বিচ্ছেদ ঘটে, আমাকে মন্দ ভেবো না।

মি. পেগোটিকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা বৃথা।

আমি এখন আমার ভাইঝিকে খুঁজতে যাচ্ছি। গোটা দুনিয়ায় খুঁজে বেড়াব। হ্যাঁ, আমি খুঁজব। আর ওই লোকটাকে নৌকাসুদ্ধ ডুবিয়ে মারা আমার উচিত ছিল… বলতে লাগলেন তিনি উন্মাদের মত চিৎকার করে।

পরদিন ওদের দেখা পেলাম সাগরতীরে। চেহারা দেখেই বুঝলাম সারা রাত ঘুমায়নি। বসে ছিল মুখোমুখি। দুজনই সাগরের মত গম্ভীর এবং স্থির।

কি করব না করব সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এখন আমাদের কর্মপন্থা পরিষ্কার, বললেন মি. পেগোটি।

হ্যামের দিকে তাকালাম। সে চেয়ে আছে সাগরের দিকে। তার মুখে যেন একটা দৃঢ় সংকল্পের অভিব্যক্তি। আমার ভয় হলো স্টিয়ারফোর্থের দেখা পেলেই তাকে খুন করবে সে।

এখানে আমার কাজ শেষ হয়েছে। আমি ওকে খুঁজতে যাচ্ছি। এখন ওটাই আমার বড় কর্তব্য।

আমি মি. পেগোটিকে জিজ্ঞেস করলাম তিনি লণ্ডন যাবেন কিনা। গেলে যেতে পারেন আমার সঙ্গে। তার কোন কাজে লাগতে পারি ভেবে আজ যাইনি। কাল যাব।

যাব, স্যার। হ্যাম, তুমি এখানে নিজের কাজকর্ম করবে। আমার বোনের সঙ্গে গিয়ে থাকবে। আমার জাহাজ-বাড়িটা যেমন আছে তেমনি থাকবে। শীতেগ্রীষ্মে রোদে-বৃষ্টিতে। এমিলি যেমন ফেলে গেছে তেমনি, বললেন মি. পেগোটি।

পেগোটির বিষয়-আশয়ের ব্যবস্থাপনার কাজে হাত দিলাম। বার্কিসের উইল অনুযায়ী সব কিছুর বিলিবণ্টনের দায়িত্ব নিলাম।

তারপর যথাসময়ে ফিরে এলাম লণ্ডনে।

মি. পেগোটি আমাকে জানালেন যে তিনি প্রথমে মিসেস স্টিয়ারফোর্থের সঙ্গে দেখা করতে চান। আমি বিনীতভাবে মিসেস স্টিয়ারফোর্থকে চিঠি লিখে অনুরোধ করলাম বিপন্ন মানুষটিকে সাক্ষাৎ দেয়ার জন্য। তিনি রাজি হলেন।

নির্ধারিত সময়ে আমরা পৌঁছলাম। মিসেস স্টিয়ারফোর্থ বসে ছিলেন ড্রয়িংরূমে। মিস ডার্টল এসে দাঁড়ালেন তাঁর চেয়ারের পেছনে।

মিসেস স্টিয়ারফোর্থের মুখের দিকে তাকিয়েই বুঝলাম ছেলের অপকর্মের খবর তিনি তার কাছ থেকেই পেয়েছেন। কিন্তু তিনি অবিচল। আর্মচেয়ারে বসে আছেন গর্বিত ভঙ্গিতে। মি. পেগোটিকে তীক্ষ দৃষ্টিতে দেখলেন। একটা চেয়ার দেখিয়ে বসতে ইঙ্গিত করলেন। মি. পেগোটি এমিলির চিঠিটা তার হাতে দিয়ে বললেন এমিলি লিখেছে: একজন লেডি হিসেবে (স্টিয়ারফোর্থের বৌ হিসেবে) ফিরিয়ে না আনলে ও আর ফিরবে না। আমি জানতে এসেছি, ম্যাডাম, আপনার ছেলে কি তার কথা রাখবেন?

না।

না কেন?

পরদিনই অফিসে গিয়ে মি. স্পেনলো এবং তার পার্টনার মি. জোর্কিনের সঙ্গে দেখা করলাম। আমার আর্থিক সঙ্কটের বিষয় জানালাম তাদেরকে। বললাম আমার ট্রেনিং-এর খরচ দিচ্ছিলেন দাদী। ওটা বন্ধ করতে হবে। দুজনের কেউই বললেন না যে তুমি থেকে যাও, বা ট্রেনিং চলুক। ট্রেনিং-এর জন্য দাদী যে এক হাজার পাউণ্ড অগ্রিম দিয়েছিলেন ওটা ফেরত দেয়ার কথাও তারা বললেন না।

অফিস থেকে ফিরে চললাম বাড়িতে। চরম আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে কিভাবে চলব সেই চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে। হঠাৎ একটা একা গাড়ি এসে থামল আমার পাশে। তাকাতেই চোখ পড়ল সেই একটি মুখের ওপর যে মুখটি দেখলেই খুশি হয়ে উঠি আমি। অ্যাগনেস বসে আছে গাড়িতে!

আরে অ্যাগনেস যে! কী সৌভাগ্য আমার! তোমাকেই আমি এখন চাচ্ছিলাম মনেপ্রাণে। ভাবছিলাম তোমার সঙ্গে কথা বলতে পারলে কি ভালই না হত, বললাম উচ্ছ্বাসের সঙ্গে।

গাড়ি ছেড়ে নামল অ্যাগনেস। হাঁটতে লাগলাম দুজনে। ও বলল যে আমার দাদীর আর্থিক সমস্যার কথা শুনে তার সঙ্গে দেখা করতে লণ্ডনে এসেছে। অ্যাগনেস ও আমার দাদী বহু বছর ধরে পরস্পরের খুব ঘনিষ্ঠ। ওর সাথে ওর বাবা আর উরিয়া হীপ এসেছে। অ্যাগনেস বিষণ্ণভাবে বলল যে বাবার সঙ্গে ও এখন একা থাকতে বা কথা বলতে পারে না। এমনকি নিজেও একা থাকতে পারে না। কারণ, উরিয়া হীপ কেবল মি. উইকফিল্ডের ব্যবসারই অংশীদার হয়নি, সে ওদের বাড়িতে উঠে এসেছে এবং থাকছে।

ট্রেট, আমার ভয় হচ্ছে হীপ বাবার বিরুদ্ধে কোন জালিয়াতি কিংবা বেঈমানীর মতলব আঁটছে, বলল ও কম্পিত স্বরে। তবে আমি প্রার্থনা করি, আশঙ্কা যেন ভুল প্রমাণিত হয়।

আমরা পৌঁছে গেলাম আমার ফ্ল্যাটে। দাদী সাদরে অভ্যর্থনা করলেন অ্যাগনেসকে। ওকে বলতে লাগলেন তার দুর্ভাগ্যের কথা। এই প্রথমবারের মত আমি জানলাম আমার দাদীর টাকা-পয়সার ঠিক কি হয়েছে। মনে হলো তিনি উইকফিল্ড অ্যাণ্ড হীপ কোম্পানির পরামর্শে কোন এক ব্যাঙ্কে শেয়ারের জন্য টাকা লগ্নি করেছিলেন। কিন্তু ব্যাঙ্কটি ফেল মারে। লগ্নিকারকরা সবাই সর্বস্বান্ত হয়।

কিছু একটা করতেই হবে! বললাম আমি।

কি বললে? আঁতকে উঠলেন দাদী বেটসি। জাহাজে কিংবা সেনাবাহিনীতে চলে যাবে? আমি ওসব কথা শুনতেই চাই না। তুমি তোমার পড়াশোনা চালিয়ে যবে প্রােক্টর হবে। তারপরে হয়তো আইনজীবী হবে।

বিবর্ণ মুখে এবং প্রায় রুদ্ধশ্বাসে এসব কথা শুনছিল অ্যাগনেস। অবশেষে ও বলল, ডেভিড, তুমি হয়তো তোমার ট্রেনিং চালিয়ে যেতে পারবে, সেই সঙ্গে অবসর সময়ে কাজও করতে পারবে। তোমার প্রিয় পুরানো শিক্ষক ড. স্ট্রং এখন লণ্ডনে। তিনি একজন সেক্রেটারি খুঁজছেন। তার অভিধান রচনার কাজে সাহায্য করার জন্যে। অভিধানটি তিনি এখনও লিখছেন। কাজটা নেবে নাকি?

নেব না মানে? বলছ কি, অ্যাগনেস! প্রায় চেঁচিয়ে উঠলাম। তুমি ছাড়া আর

ওটা অসম্ভব। সে ছোট হয়ে যাবে সমাজে। আপনার না জানার কথা নয় যে মেয়েটি সামাজিক মর্যাদার দিক থেকে তার চেয়ে অনেক নিচে, বললেন মিসেস স্টিয়ারফোর্থ।

ওকে ওপরে তুলে নিন, বললেন মি. পেগোটি।

সে অশিক্ষিত এবং অজ্ঞ। তাছাড়া নিচু ঘরের মেয়ে। ওরকম মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হলে আমার ছেলের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে।

মিসেস স্টিয়ারফোর্থ বললেন এমিলির সঙ্গে তার ছেলের বিয়ে হবে না। তবে যা ঘটেছে এবং মি. পেগোটির যে ক্ষতি হয়েছে সেটা তিনি অন্যভাবে পূরণ করে দিতে পারেন। অন্যভাবে, মানে টাকাপয়সা দিয়ে।

মি. পেগোটি ঘৃণাভরে তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন। তিনি বললেন স্টিয়ারফোর্থদের বাড়িটা তাঁর ও তাঁর পরিবারের জন্য চরম অশুভ বয়ে এনেছে। এ বাড়িতে দাঁড়িয়ে থাকার বা কথা বলার আর কোন অর্থ হয় না।

আমরা বেরিয়ে এলাম। মি. পেগোটি বললেন যে লণ্ডনে তার কাজ শেষ হয়েছে। এখন তিনি তার ভাইঝিকে খুঁজতে বেরুবেন। সেদিনই তিনি বিদায় নিলেন আমার কাছ থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *