০৯. উইলফ্রিড অভ আইভানহো

উইলফ্রিড অভ আইভানহো! বাতাসের বেগে নামটা ছড়িয়ে পড়লো প্রতিযোগিতা স্থানের চারপাশে। দর্শকদের মুখে মুখে ফিরতে লাগলো। অবশেষে রাজপুত্র জনের কানেও পৌঁছুলো বিজয়ী নাইটের নাম পরিচয়। উদ্বেগের ছায়া পড়লো তাঁর মুখে।

কেন জানি না আমার বার বার মনে হচ্ছিলো, সহচর বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন, এই অহঙ্কারী নাইট রিচার্ডের বন্ধুই হবে, তারমানে আমার শত্রু।

আইভানহোর জমিজমা ভোগ করছে আমাদের রেজিনাল্ড, বললো দ্য ব্রেসি, এবার সব ওকে ফেরত দিতে হবে।

আইভানহোর বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে রাজা, রিচার্ড বড়সড় একটা জায়গীর উপহার দিয়েছিলেন তাকে। তারপর দুজনই ক্রুসেডে যোগ দেয়ার জন্যে চলে যান প্যালেস্টাইনে। মুসলমানদের সঙ্গে সন্ধি করে রিচার্ড যখন দেশে ফিরে আসছেন তখন ইংল্যান্ডেরই কয়েকজন নাইটের চক্রান্তে তাঁকে বন্দী করে ফ্রান্সে নিয়ে যান ফ্রান্সের রাজা ফিলিপ। খবরটা গোপনে জানানো হলো রিচার্ডের ভাই জনকে। জন ভীষণ খুশি হলেন শুনে। তাঁর সিংহাসনে আরোহণের পথে সবচেয়ে বড় বাধাটা দূর হয়েছে। যাদের চক্রান্তে রিচার্ড বন্দী হয়েছেন তাদের খুশি করা কর্তব্য মনে করলেন তিনি। এই কর্তব্যবোধ থেকেই রিচার্ড আইভানহোকে যে জায়গীর দিয়েছিলেন সেটা আইভানহোর অনুপস্থিতেই তিনি কেড়ে নিয়ে দিয়ে দেন রেজিনাল্ডকে। তাই বিজয়ী নাইটের নাম আইভানহো জানার পর সবার মনে প্রথম যে প্রশ্নটা জাগলো তা হলো, রেজিনাল্ড পারবে তো এত বড় বীরের জমিজমা নিজের দখলে রাখতে?

এতজন বীরকে হারিয়েছে, বললো এক নাইট, এবার নিশ্চয়ই আইভানহো তার সব সম্পত্তি দাবি করবে।

করলেই বুঝি রেজিনাল্ড সব ফেরত দিয়ে দেবে? বললেন বয়োবৃদ্ধ ওয়ার্ল্ডেমার। ওগুলো ফেরত নিতে হলে আইভানহোকে যুদ্ধ করেই নিতে হবে। আর যুদ্ধই যদি হয় আমাদের বন্ধুর সাহায্যে আমরা এগিয়ে যাবো না?

আপনি ঠিকই বলেছেন, ওয়াল্ডেমার, বললেন জন। তবে আমার মনে হয় না আমাদের সাহায্য দরকার হবে রেজিনান্ডের। ও একাই তিন তিনজন আইভানহোকে সামাল দেয়ার জন্যে যথেষ্ট। তা ছাড়া যে সব নাইট আমার বিশ্বস্ত তাদেরকে জায়গা জমি দান করার অধিকার নিশ্চয়ই আমার আছে?

তা অবশ্য ঠিক, স্বীকার করলেন ওয়াল্ডেমার। তারপর প্রসঙ্গ পাল্টে বললেন, আইভানহোকে দেখার পর আমাদের সৌন্দর্য ও প্রেমের রানী লেডি রোয়েনার চেহারা যে কী হয়েছিলো যদি দেখতেন!

আসলে কে এই লেডি রোয়েনা? জিজ্ঞেস করলেন জন।

স্যাক্সন সেড্রিকের পালিত মেয়ে, বললেন গুয়াল্ডেমার।

তার কথা কানেই যায়নি এমন ভঙ্গিতে প্রায়োর অ্যায়মার বললেন, শ্যারনের গোলাপের সঙ্গে মূল্যহীন মুক্তা! ভালো বুদ্ধি, কি বলো, দ্য ব্রেসি? এই সুন্দরী তরুণীকে বিয়ে করে ওর সব সম্পত্তি হাতাতে চাও না তুমি?

নিশ্চয়ই চাই। কিন্তু চাইলেই তো আর সব জিনিস পাওয়া যায় না।

বেশ, আমরা তার ব্যবস্থা করবো, কুটিল একটা হাসি হেসে বললেন জন। উঠে দাঁড়ালেন তিনি। আজকের মতো প্রতিযোগিতা শেষ। টুর্নামেন্টের শেষ পর্ব–সাধারণ যোদ্ধাদের অস্ত্র নৈপুণ্যের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে কাল।

রাজপুত্রের দেখাদেখি তার সঙ্গীরাও উঠে দাঁড়ালেন। এমন সময় রক্ষীদলের এক নেতা এসে একটা চিঠি দিলো জনের হাতে।

কোত্থেকে এলো এ চিঠি? জিজ্ঞেস করলেন রাজপুত্র। কে দিলো?

এক ফরাশি নিয়ে এসেছে, জবাব দিলো রক্ষী। বললো, খুব নাকি জরুরি। আজই যেন এটা আপনার হাতে পৌঁছায় সেজন্যে কাল সারাদিন, সারারাত ঘোড়া ছুটিয়ে এসেছে সে।

উদ্বিগ্ন হলেন জন। কি এমন জরুরি খবর? কে পাঠালো?

চিঠিখানা খুললেন তিনি। এবং পড়ার সাথে সাথেই মুখ শুকিয়ে গেল রাজপুত্রের। মাত্র দুই বাক্যের চিঠি। তাতে লেখা:

সাবধান! শয়তান পালিয়েছে!

নিচে ফ্রান্সের রাজার সিলমোহর।

শয়তান পালিয়েছে! কম্পিত কণ্ঠে উচ্চারণ করলেন জন। মানে কি? রিচার্ড পালিয়েছে?

দেখি চিঠিটা, ওয়াল্ডেমার বললেন।

কাঁপা কাঁপা হাতে এগিয়ে দিলেন জন। পড়ে ভুরু কুঁচকে উঠলো ওয়াল্ডেমারের।

তাই তো মনে হচ্ছে, চিন্তিত কণ্ঠে বললেন তিনি।

খবরটা ভুলও হতে পারে, সান্ত্বনার সুরে বললো দ্য ব্রেসি। চিঠিটাও জাল হতে পারে।

না, না, ফ্রান্সের রাজার হাতের লেখা আমি চিনি, বললেন জন। ফিলিপ নিজে লিখেছেন এ চিঠি। নিচে সিলমোহরও তাঁর। এ চিঠি জাল বা মিথ্যে হতে পারে না।

তাহলে তো সত্যিই চিন্তার বিষয়, বললো এক নাইট। তার নাম ফিটজার। আমাদের আর এক মুহূর্তও দেরি করা উচিত হবে না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ইয়র্ক বা অন্য কোনো সুবিধাজনক জায়গায় আমাদের সৈন্য সমাবেশ করা দরকার। রিচার্ড যদি এসেই পড়ে তাকে ঠেকাতে হবে। সেজন্যে আমার মতে এই ফালতু টুর্নামেন্ট এখনই শেষ করা উচিত।

তুমি ঠিকই বলেছো, স্যার ফিটজার, বললো দ্য ব্রেসি। তবে একটা কথা, সাধারণ যোদ্ধারা প্রতিযোগিতা করার জন্যেই অধীর হয়ে আছে। ওদের সুযোগ না দিয়ে ফালতু হোক আর যা-ই হোক টুর্নামেন্ট যদি শেষ করে দেয়া হয়, ওরা খুবই ক্ষুব্ধ হবে। রাজপুত্রের ওপর ক্ষেপেও উঠতে পারে।

কথাটা একেবারে ফেলে দেয়ার মতো বলেনি দ্য ব্রেসি, বললেন ওয়ান্ডেমার। তবে একথাও ঠিক টুর্নামেন্টের দিন আর একটা বাড়ানো যাবে না। আমি বলি কি, যাদের ইচ্ছে আজই প্রতিযোগিতায় নামুক। সন্ধ্যা হতে এখনো অনেক দেরি। এর ভেতর যা হয় হবে।

আমার মনে হয় তীর ছোড়ার প্রতিযোগিতাই জমবে ভালো, বললো একজন।

হ্যাঁ, সেরা তীরন্দাজকে একটা পুরস্কারও দেয়া যেতে পারে।

শেষ পর্যন্ত তা-ই ঠিক হলো। রাজপুত্রের নির্দেশে ঘোষক ঘোষণা করলো, অত্যন্ত জরুরি কাজে রাজপুত্র জন আগামীকাল ব্যস্ত থাকবেন। তাই কাল আর কোনো প্রতিযোগিতা হবে না। আজই টুর্নামেন্টের শেষ দিন। সেজন্যে এখনই আজকের প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘোষণা করা হচ্ছে না। সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিযোগিতা চলবে। দর্শকদের ভেতর যারা যোদ্ধা আছেন তাঁরা ইচ্ছে করলে তীর ধনুক নিয়ে তাঁদের নৈপুণ্যের প্রমাণ দিতে পারেন। যিনি সেরা তীরন্দাজ বলে বিবেচিত হবেন তাকে যথাযযাগ্য পুরস্কার প্রদান করা হবে।

সঙ্গে সঙ্গে জনা ত্রিশেক তীরন্দাজ এগিয়ে এলো। কিন্তু প্রতিযোগিতা যখন শুরু হলো, দেখা গেল আট জন মাত্র আছে। বাকিরা পরাজয়ের আশঙ্কায় সরে দাঁড়িয়েছে প্রতিযোগিতা থেকে। জন তার আসন থেকে নেমে এলেন প্রতিযোগীদের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্যে।

পরিচয় পর্ব শেষে শুরু হলো প্রতিযোগিতা।

শুরু থেকেই দর্শকরা বলাবলি করতে লাগলো, হিউবার্টই জিতবে। জনৈক নরম্যান নাইটের বনরক্ষী হিউবার্ট। তীর ছোঁড়ায় দারুণ হাত। গত কয়েক বছরের টুর্নামেন্টে সে-ই বিজয়ী হয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলেই সবার ধারণা।

আটজন মাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী। তাই প্রতিযোগিতা শেষ হতে বেশিক্ষণ লাগলো না। দর্শকদের ধারণাই সত্য প্রমাণিত হলো। সবাইকে হারিয়ে দিয়েছে হিউবার্ট। আবার সে প্রমাণ করেছে লক্ষ্যভেদে তার জুড়ি নেই।

জন উঠে দাঁড়িয়ে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করতে যাবেন, এমন সময় সবুজ পোশাক পরা এক তীরন্দাজ এগিয়ে এলো। দেখামাত্র চিনলেন জন। গতকাল যে তীরন্দাজ তার সাথে উদ্ধতভাবে কথা বলেছিলো লোকটা সে-ই। তাকে দেখেই চটে গেলেন জন।

কাল তো খুব বড় বড় কথা বলেছিলে, বললেন তিনি, আজ প্রতিযোগিতার সময় তোমার টিকিটাও যে দেখা গেল না?

এদের সাথে আমাকে তীর ছুঁড়তে দেয়া হবে কি না বুঝতে পারছিলাম, জবাব দিলো লোকটা। দিলেও লক্ষ্যভেদের ব্যবস্থা একই রকম হবে কি না জানি না। তা ছাড়া আমার ধারণা হিউবার্ট বিজয়ী হোক তা-ই আপনি চান। তাই দূরেই দাঁড়িয়ে ছিলাম।

চোখ-মুখ লাল হয়ে উঠলো জনের।

তুমি মনে করো হিউবার্টকে তুমি হারাতে পারবে? কঠোর কণ্ঠে প্রশ্ন: করলেন তিনি।

মনে প্রাণে চেষ্টা যে করবো তাতে সন্দেহ নেই।

এবার আরো রেগে গেলেন জন। আগের মতোই চিৎকার করে বললেন, নাম কি তোমার?

লক্সলি, মহামান্য রাজপুত্র।

লক্সলি! ঠিক আছে, নামো প্রতিযোগিতায়। হিউবার্টকে যদি হারাতে পারো নির্দিষ্ট পুরস্কার ছাড়াও অতিরিক্তষশটা রৌপ্য মুদ্রা তোমাকে দেয়া হবে। আর যদি হেরে যাও, তোমার জামা খুলে রেখে বাঁচাল বলে এখান থেকে বের করে দেয়া হবে!

তাতে আমার ওপর সুবিচার করা হবে না। যাক, আপনার যখন ইচ্ছা, নামছি আমি প্রতিযোগিতায়।

দূরে খাড়া করে রাখা একটা তক্তা হলো লক্ষ্যস্থল। তার গায়ে একটা কালো বৃত্ত আঁকা। কালো বৃত্তের কেন্দ্রে আবার ছোট্ট একটা বৃত্ত, শাদা রঙের। শাদা বৃত্তের কেন্দ্রে তীর বেঁধানোর চেষ্টা করতে হবে প্রতিযোগীদের।

হিউবার্টই ছুঁড়লো প্রথমে। তীরটা লক্ষ্যস্থলের কেন্দ্রে না লেগে লাগলো সামান্য একটু দূরে। এবার লক্সলির পালা। তার তীরও শাদা বৃত্তের কেন্দ্রে লাগলো না। তবে হিউবার্টের চেয়ে কেন্দ্রের অনেক কাছাকাছি লাগলো সেটা।

দেখে ভীষণ চটে উঠলেন জন। হিউবার্টকে লক্ষ্য করে বললেন, এই বাউণ্ডুলের কাছে যদি হেরে যাও, তোমাকে আমি আস্ত রাখবো না, বুঝলে?

এবার খুব মন দিয়ে লক্ষ্য স্থির করলো হিউবার্ট। ধনুকের ছিলা টেনে নিয়ে এলো কানের পাশে। কয়েক সেকেন্ড নিবিষ্ট মনে তাকিয়ে রইলো লক্ষ্যস্থলের দিকে। তারপর ছেড়ে দিলো ছিলা। তীরবেগে ছুটলো তীর। শাদা বৃত্তের ঠিক কেন্দ্রবিন্দুতে গিয়ে লাগলো। দর্শকরা উফুল্ল কণ্ঠে চিৎকার করে উঠলো। জনের মুখেও ফুটে উঠেছে হাসি।

এবার তুমি কি করবে লক্সলি? ব্যঙ্গ মেশানো স্বরে প্রশ্ন করলেন তিনি। তোমার তীর কি হিউবার্টের তীর সরিয়ে জায়গা করে নেবে?

হি-হি করে হেসে উঠলো জনের কয়েকজন সহচর।

দেখা যাক কি করি, গম্ভীর মুখে বলে ধনুকে তীর পরালো লক্সলি। কানের কাছে টেনে নিয়ে এলো ছিলাটা। লক্ষ্যস্থির করে ছেড়ে দিলো।

সাঁই শব্দ তুলে ছুটলো তীর। হিউবার্টের তীরের পেছনে লেগে সেটাকে আগা গোড়া দুভাগ করে কেটে শাদা বৃত্তের কেন্দ্রে গিয়ে বিধলো।

দর্শকদের উৎফুল্ল চিৎকার থেমে গেছে। কারো মুখে কথা সরছে না। নিজের চোখে দেখার পরও ঘটনা অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে সবার কাছে।

কেউ কেউ মন্তব্য করলো, লক্সলি মানুষ না, জাদুকর!

মহামান্য রাজপুত্র, লক্সলি বললো, প্রতিযোগিতার নামে এতক্ষণ যা হলো একে এক হিশেবে ছেলে খেলা বলা যেতে পারে। আমাদের দেশে, মানে উত্তর ইংল্যান্ডে যেভাবে তীর ছোড়ার প্রতিযোগিতা হয় তা এখানে দেখানোর অনুমতি পাবো কি?

অনুমতি দিলেন জন।

ছফুট লম্বা, খুব সরু একটা উইলোর ডাল মাটিতে পুঁতে লক্মলি বললে, একশো গজ দূর থেকে এই ডালে তীর লাগাতে হবে। যদি কেউ পারে আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, মহান রাজা রিচার্ডের সামনে প্রতিযোগিতায় নামার যোগ্যতা সে রাখে।

আমার বাপ, দাদা সবাই ভালো তীরন্দাজ ছিলো, বললো হিউবার্ট, আমি তো দূরে থাক তারাও এ ধরনের লক্ষ্যে কখনো তীর ছুঁড়েছে বলে শুনিনি। এই লোক ঐ ডালে যদি তীর লাগাতে পারে খুব খুশি মনেই আমি হার স্বীকার করে নেবো।

ব্যাটা ভীতু, চেষ্টা করে দেখতে তো পারতি! চিৎকার করে উঠলেন জন। ঠিক আছে, লক্সলি, দেখি তোমার ক্ষমতা কতটুকু। চ।

প্রথমে খুব সাবধানে ধনুকের ছিলাটা বদলালো ললি। তৃণ থেকে অনেকক্ষণ বেছে একটা তীর বের করলো। তারপর তৈরি হলো ছোঁড়ার জন্যে।

লক্ষ্যস্থির করে তীর ছুঁড়লো লক্সলি। সবাই আশ্চর্য হয়ে দেখলো, দুটুকরো হয়ে গেছে উইলোর ডালটা। রাজপুত্র পর্যন্ত হতভম্ব হয়ে গেছেন। সব বিদ্বেষ ভুলে শতকণ্ঠে, তিনি প্রশংসা করতে লাগলেন লক্সলির নৈপুণ্যের।

তুমি যে বিজয়ী হয়েছে, আমার মনে হয় না এ বিষয়ে কারো মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ আছে, বললেন জন। তারপর লক্সলির হাতে তুলে দিলেন বিজয়ীর পুরস্কার। প্রতিশ্রুতি মতো অতিরিক্ত বিশটা রৌপ্যমুদ্রাও দিলেন। এবং বললেন, তুমি যদি আমার দেহরক্ষী বাহিনীতে কাজ করতে রাজি হও, মাসে তোমাকে পঞ্চাশ রৌপ্যমুদ্রা দেবো।

অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ, মহামান্য রাজপুত্র, জবাব দিলো, লক্সলি, আপনার চাকরি করতে পারলে আমি খুশিই হতাম। কিন্তু আমার একটা প্রতিজ্ঞা আছে, চাকরি যদি করি, করবো আপনার ভাই রাজা রিচার্ডের। আর আপনার এই বিশটা মুদ্রা হিউবার্টকে দেবেন। খুব ভালো তীরন্দাজ ও। বেচারা যদি ভয় পেয়ে পিছিয়ে না যেতো, আমার মতো ও-ও দুটুকরো করে ফেলতে পারতো ডালটাকে।

না, না, অসম্ভব, আমি পারতাম না, হিউবার্ট বললো বটে তবে জন যখন রৌপ্য মুদ্রাগুলো ওকে দিলেন খুশি মনেই সে গ্রহণ করলো সেগুলো।

এরপর যখন আবার জন ললির খোঁজ করলেন কোথাও দেখতে পেলেন না তাকে। ভীড়ের ভেতর অদৃশ্য হয়েছে সে।

.

টুর্নামেন্টের সমাপ্তি ঘোষণা করলেন জন। তারপর নেমে এলেম আসন থেকে। সহচর বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এবার?

এক্ষুনি ইয়র্ক-এ সৈন্য সমাবেশ করতে হবে, বললেন ওয়ান্ডেমার। আমি রওনা হয়ে যাচ্ছি। কিছু টাকা পয়সার ব্যবস্থা করে আপনি আসুন।

বিশ্বস্ত এক রক্ষীকে ডেকে পাঠালেন জন।

এক্ষুণি অ্যাশবিতে যাও, বললেন তিনি। ইহুদী আইজাককে খুঁজে বের করে বলবে, আজ সূর্যাস্তের আগেই যেন দশ হাজার স্বর্ণমুদ্রা পৌঁছে দেয় আমার কাছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *