০৮. হেলগাকে নিয়ে শেরিফের অফিসে

হেলগাকে নিয়ে শেরিফের অফিসের দিকে রওনা দিল সলটার। সঙ্গে জোও রয়েছে। এতক্ষণের উত্তেজনায় ব্যথার কথা ভুলেই গিয়েছিল সলটার। এখন আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সেটা।

কী ঘটতে যাচ্ছে জানা নেই ওর। মেয়েটি কতখানি জানে? যতটুকু জানে তাতে ম্যাকগ্রদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারবে শেরিফ?

হেলগা নার্ভাস হয়ে পড়েছে। চাইছে এদিক-ওদিক। পেছন দিকে সতর্ক নজর রেখেছে সলটার। কার্টলির কথা ভোলেনি ও। এখনও শহরে রয়েছে সে। দৃষ্টি রাখছে সলটারের ওপর। তবে একটা ব্যাপারে ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়ে গেছে। সে। কার্টলি শেরিফ রজার হাপারের হত্যাকারী নয়। হত্যাকারীর গলা এবং অবয়ব এ লোকের সঙ্গে মেলে না।

শেরিফের অফিসের দরজার কাছে পৌঁছে দাঁড়াল ওরা। ইশারায় জোকে পেছন থেকে কভার দিতে বলল সলটার। অফিসের সামনের জানালায় আলো জ্বলছে। কিন্তু দরজা খুলতে ব্যর্থ হল সলটার। বন্ধ। অসহিষ্ণুভাবে গুঙিয়ে উঠল হেলগা।

পেছন ফিরল সলটার। জো, খুব সম্ভব খুনের জায়গায় রয়েছে শেরিফ। তুমি শিগগির খুঁজে আন তাকে। বলবে খুব জরুরি দরকার। আমি হেলগাকে নিয়ে রইলাম এখানে।

আমার ভয় করছে, জো সরে যেতেই উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল হেলগা। ম্যাকগ্রর লোকেরা নজর রাখছে তোমার ওপর। শুধু তোমাকে মেয়েই থামবে না ওরা। আমাকেও মারবে।

ভয় পেয়ো না, আমি তো আছি। আচ্ছা, প্রথমবার আমি তোমার কেবিন থেকে ফেরার পর কি ঘটল বল তো। খুব কৌতূহল হচ্ছে আমার।

খানিক বাদেই ম্যাকগ্র এল, ওকে বললাম জোহানকে খুঁজতে এসেছিলে তুমি। তারপর ওর দুজন লোক এসে তোমাদের সঙ্গে বার্নে দেখা হওয়ার কথা জানাল। ম্যাকগ্র বলে দিল বক্স ডব্লিউ-এর প্রত্যেকটা লোকের ওপর নজর রাখতে। আর সুযোগ পেলেই প্রাণে মারতে। লোক দুটো চলে গেল। তার কমুহূর্ত পরেই গোলাগুলির শব্দ শুনলাম।

লোক দুটো কারা?

জিওফ হাওয়ার্থ আর বব হ্যারিসন।

গুড, সব জানাবে শেরিফকে, তোমার আর চিন্তা নেই। ম্যাকগ্র ঝামেলা পাকাচ্ছে কেন জান কিছু?

ক্ষমতার জন্যে, বলল মেয়েটি। বক্স ডব্লিউ-এর ক্ষমতা পাওয়ার জন্যে তোমার বাবাকে খুন করেছে সে।

কি বললে? আবার বল, হেলগার কাঁধ ধরে ঝাঁকাল সে।

ছাড়। ব্যথা লাগে।

মাফ চাইল সলটার। হাত সরিয়ে নিল ওর কাঁধ থেকে। মেয়েটি রাস্তার দিকে চেয়ে সেঁটে এল সলটারের শরীরে। ওর কাঁধের ওপর দিয়ে চাইল সলটার। একটা ছায়ামূর্তি এগিয়ে আসছে। আরও কাছে আসতে চিনতে পারল সে। কার্টলি। অবশ্য ওদের দেখতে পায়নি ও। পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে গেল। হেলগা প্রচণ্ড ভয় পেয়েছে, বুঝল সলটার। পিস্তলের বাটে হাত চলে গেল তার। কপালে বিন্দু বিন্দু। ঘাম।

ঈশ্বর বাঁচিয়েছে, লোকটি চোখের আড়াল হতে বলল হেলগা। আমাকে মারতে চাও নাকি? চল আমার কেবিনে ফিরে যাই। শেরিফকে নিয়ে এস তুমি। ওখানেই কথা হবে। এখানে আর এক মুহূর্ত দাঁড়াচ্ছি না আমি।

একটু অপেক্ষা কর। এখন কেবিনে ফেরা আরও বিপজ্জনক। ম্যাকগ্র আমার বাবাকে মেরেছে বলছ, কিন্তু তুমি জানলে কিভাবে? ও নিশ্চয় বলেনি তোমাকে?

এক রাতে পাঁড় মাতাল হয়ে এসেছিল, বলল মেয়েটি। ঘুমের মধ্যে সব বলেছে। এও বলেছে তোমাকে চরম ঘৃণা করে ও।

কিন্তু কেন? প্রশ্ন করল সলটার। আমি ওর কি ক্ষতি করেছি?

তোমার বাবাকে মারল কেন? পাল্টা প্রশ্ন করল হেলগা। ফোরম্যান হওয়ার জন্যে। পারল কই? সে দায়িত্ব তো নিলে তুমি। ব্যাপারটা কিছুতেই মানতে পারেনি সে।

আমাকে তখন খুন করার চেষ্টা করল না কেন?

তক্কে তক্কে ছিল। এসময় এল উইলবার অসকার। ওর র‍্যাঞ্চের ফোরম্যান হল ম্যাকগ্র। কিন্তু তোমার প্রতি ঘৃণা দূর হয়নি তার। দায়িত্ব পেয়ে প্রতিশোধের নেশা আরও বাড়ল বরং। জর্জ ওয়াগনারকেও একই রকম ঘৃণা করে সে, ওকে ফোরম্যান করেনি বলে। তোমাদের দুজনের ওপরই প্রতিশোধ নিতে চায় সে। তোমাকে খুন করে, আর জর্জকে ধ্বংস করে।

গত সপ্তাহে ও-ই কি আমাকে খুন করার চেষ্টা করেছিল?

না। ঘটনাটা ঘটায় অন্যদের মত ও-ও অবাক হয়ে গিয়েছিল। যে কোন কিছু প্ল্যান করলেই আগে আমাকে জানায় সে। রাসলিং ঘটাচ্ছে সে-ই। জর্জ ওয়াগনারকে পথে বসানর দুটো রাস্তা বার করেছে ম্যাকগ্র। এক রাসলিং আর দুই জোহান ওয়াগনারকে নষ্ট করা।

জোহানকে কিভাবে নষ্ট করছে সে?

জোহানকে রাসলিং-এ ঢুকিয়ে পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে: ম্যাকগ্র। জোহানকে দিয়ে তোমাকে খুন করাতে চেয়েছিল। পারেনি। আমার সঙ্গে জোহানের মেলামেশায় বাধা দেয়নি ও। যাতে ওকে পুরোপুরি মুঠোয় পেয়ে যায়।

জোহান রাসলিং-এ জড়াল কিভাবে? জানতে চাইল সলটার।

জুয়া, বলল হেলগা।

তারমানে?

জুয়া খেলে প্রচুর টাকা হেরেছে জোহান। আর ওকে দুহাতে ধার দিয়েছে ম্যাক। ছেলেটা এখন নাক পর্যন্ত ডুবে আছে দেনায়। সে সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছে ম্যাকগ্র। ইদানীং ওকে টাকার জন্যে চাপ দিতে শুরু করেছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছে জোহান। ওকে বুদ্ধি বাতলে দিয়েছে ম্যাকগ্র। রাসলিং। বাপের গরু চুরি করে জুয়ার ধার শোধ করছে ছেলে। তবে কিছুদিন যাবৎ ম্যাককে বিরক্ত করছে জোহান। ওর খপ্পর থেকে বেরোতে চাইছে। ম্যাকগ্র প্রচণ্ড রেগে রয়েছে ওর ওপর।

জোহান এখন কোথায়? প্রশ্ন করল সলটার। শহরে নেই। সবখানে খুঁজেছি। আমি।

মাইল দুয়েক দূরে একটা শ্যাক আছে, বলল হেলগা। রাসলাররা ওখানেই জড়ো হয়। ওদের অনেকে র‍্যাঞ্চ ও-র লোক। সেটা অবশ্য জানে না অসকার। জোহান বলছিল দিন দুয়েক ওখানেই কাটাবে।

রাস্তার দিকে চাইল সলটার, জো বা শেরিফ কারও দেখা নেই। এখনই রওনা দেয়া দরকার। কিন্তু হেলগাকে একা রেখে যেতে সাহস করল না সে। হেলগার মুখে সব কথা শোনা দরকার শেরিফের। ম্যাকগ্র শহরে রয়েছে, ভাবনাটা মাথায় আসতেই চোখ চকচক করে উঠল সলটারের। খুনীটার মুখোমুখি হওয়ার সময় হয়ে এসেছে প্রায়। আপন মনে হাসল সে।

বুটের শব্দে সচকিত হল সলটার। ঘাড় ফেরাতেই দেখল ফিরে আসছে কার্টলি। উত্তেজনায় টানটান হল ওর শরীর। হাত চলে গেল পিস্তলের বাঁটে।

প্রথম সুযোগেই তোমাকে খতম করবে ও, চাপা গলায় বলল মেয়েটি। ম্যাকগ্র তাই বলছিল। ওর ধারণা তোমাকে যে-ই খুন করুক না কেন দোষ পড়বে হার্পারের খুনীর! কারণ সেদিন তোমাকে গুলি করেছিল সে।

চুপ, ফিসফিসিয়ে বলল সলটার। হেলগার গলা কানে গেছে কার্টলির। জেলখানার দিকে তখুনি মাথা ফেরাল সে। সলটার আশা করল শেরিফের জানালার আলো গানম্যানকে ধোকা দেবে। জিভ দিয়ে শুকনো ঠোঁট ভেজাল সে। আরও খানিকটা এগিয়ে এসেছে এখন কার্টলি। এ মুহূর্তে ওদের পাশ কাটাল সে।

এবারও তার চোখ এড়িয়ে গেল ওরা। হেলগার কাঁধে বাঁ হাত রাখল সলটার। ডান হাত শক্ত হল পিস্তলের বাটে।

ল অফিস ছাড়িয়ে প্রায় গজ বিশেক এগিয়ে গেছে কার্টলি। তীক্ষ্ণ চোখে ওকে নজর করছে সলটার। সামান্য উঁচু হল গানম্যানের ডান কাঁধ। অভিজ্ঞ সলটার বুঝতে ভুল করল না। কাঁধে চাপ দিয়ে হেলগাকে বসিয়ে দিল সে। কোল্ট চলে এল সলটারের হাতে। দেখতে পেল দ্রুত

ফিরে আসছে কার্টলি। তবে ভুল করে ফেলল সে। সম্পূর্ণ ঘোরার আগেই। পিস্তল বার করল। ইতোমধ্যে অনেকখানি কাছে চলে এসেছে সে। লণ্ঠনের আলোয় অস্পষ্ট ছায়ামূর্তির মত লাগছে তাকে।

সলটার? চেঁচিয়ে জানতে চাইল সে।

হ্যাঁ, আমি। পিস্তল কক করল ও। গানম্যানের ডান হাত এখন ওর দিকে তাক করা। ভয়ে আর্তচিৎকার করে উঠল হেলগা। ধপ করে এক হাঁটুর ওপর বসে পড়ল সলটার। লালচে আলো চোখে পড়ল তার। প্রচণ্ড শব্দে গুলি এল। লাগল ঠিক ওর পাশের দেয়ালে। পিস্তলটা ঝাঁকি খেল সলটারের ডান হাতে। আগের গুলির প্রতিধ্বনি মিলিয়ে গেল এবার। চোখ পিটপিট করে দেখার চেষ্টা করল সলটার। আবার গুলি করল কার্টলি। তবে সলটারের ধারে কাছে এল না সেটা। বাতাসে গানম্মোক, তারই মাঝ দিয়ে গানম্যানকে এক ঝলক দেখতে পেল সে। উপুড় হয়ে পড়ে যাচ্ছে লোকটা। পিস্তল কক করল সলটার।

খানিক অপেক্ষার পর উঠে দাঁড়াল। অবসাদগ্রস্ত। গুলির মিলিয়ে আসা প্রতিধ্বনি শুনল কান পেতে। হঠাই লাফিয়ে উঠে দৌড়াতে চেষ্টা করল হেলগা। ওর হাত চেপে ধরল সলটার।

বোকা কোথাকার, ধমকাল সে। তোমার জন্যে এখানটাই সবচেয়ে নিরাপদ।

ওকে দরজার দিকে ঠেলে দিয়ে কার্টলির দিকে এগোল সে। ফুটপাথে পড়ে রয়েছে গানম্যান। তার প্রাণহীন দেহটা পিস্তল দিয়ে কভার করল সলটার। নিশ্চিত হল, মারা গেছে কাটলি। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল সলটার। ফিরে এল হেলগার কাছে। লোকজন জমতে সময় লাগবে না। আর তাদের মাঝে ম্যাকগ্র থাকলে তো কথাই নেই। ওর সঙ্গে হেলগাকে দেখলেই সব বুঝে ফেলবে সে। প্রাণে মরবে হেলগা, কেউ ঠেকাতে চাইলে তাকেও ছাড়বে না ম্যাকগ্র। জন সলটারের মত রয় সলটারকে হয়ত জীবন দিতে হবে ওর গুলিতে।

বুটের শব্দ কানে এল সলটারের। লম্বা একটা মূর্তি ছুটে আসছে এদিকে। জো। তার পেছন পেছন দৌড়াচ্ছে ম্যাকডারমট। হাঁপ ছাড়ল সলটার।

কি হয়েছে? ব্যগ্র প্রশ্ন করল জো। থেমে দাড়াল মৃতদেহের কাছে।

বলছি, দ্রুত বলল সলটার। শেরিফ ওর কাছে পৌঁছলে বলল, অফিস খোল, ম্যাক। হেলগা তোমার সঙ্গে কথা বলবে। আমি চাই না কেউ দেখে ফেলুক ওকে।

দরজা খুলল ম্যাকডারমট। হেলগাকে নিয়ে ভেতরে ঢুকল সলটার। তাদের পেছনে ঢুকল জো আর শেরিফ। হেলগাকে সেলের দিকে ঠেলে নিয়ে চলল সলটার।

একে আপাতত আটকে রাখ, পরামর্শ দিল সে। লোকে ভরে যাবে এ জায়গাটা। ম্যাকগ্র ওকে দেখে ফেললে অসুবিধে হবে। খুন করবে নির্ঘাত।

তুমি কথা দিয়েছিলে, আমাকে রক্ষা করবে, ভয়ে কেঁপে উঠল হেলগার গলা।

তাই-ই করছি, পাল্টা বলল সলটার। দেরি কোরো না, ম্যাক।

এসব কি হচ্ছে? আমি কিছুই বুঝতে পারছি না, অবাক হয়ে জানতে চাইল শেরিফ, ডেস্ক থেকে বড় একগোছা চাবি নিল সে।

সব বলব তোমাকে। আগে যা বলছি কর, সলটার বলল, ম্যাকগ্র আর তার দুই চামচাকে ধরতে চাও তুমি। খুন আর রাসলিং এর অভিযোগে। সে ব্যবস্থাই করছি আমি।

ম্যাকগ্র শহরে রয়েছে, দ্রুত বলল জো। বড় স্যালুনটায় দেখেছি।

মাথা নাড়ল ম্যাকডারমট। বুঝতে পারছে না কি ঘটছে। সেল খুলে হেলগাকে ভেতরে ঢোকাল। তালা মেরে দিল দরজায়। যখন ফিরে এল তখনও চোখ মুখ থেকে বিস্ময় কাটেনি তার। অসহিষ্ণু বোধ করছে সলটার। দরজার দিকে এগোল সে। কিন্তু থমকে দাঁড়াতে হল শেরিফের ডাকে।

এসব পছন্দ হচ্ছে না আমার, বলল শেরিফ। সব জানতে চাই আমি।

একটা লাশ পড়ে রয়েছে বাইরে, সলটার বলল। ম্যাকগ্রর লোক। আমাকে গুলি করেছিল। আমাকে খুন করতে চায় ম্যাকগ্র, আবার প্রমাণিত হল সেটা। তাছাড়া হেলগা জানিয়েছে ছ’বছর আগে বাবাকে খুন করেছে সে-ই, হেলগার সঙ্গে ওর আলোচনা, সংক্ষেপে শেরিফকে জানাল ও। তবে প্রতিটি মুহূর্ত উৎকর্ণ রইল বাইরের শব্দ শোনার আশায়। কানে এল লোকজনের চাপা গলার কথাবার্তা।

এতে হবে না, সব শুনে বলল শেরিফ। আমি নিজে জিজ্ঞাসাবাদ করব ম্যাককে। এবং এক্ষুণি। ওই মেয়ের কথায় কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয় না।

আমার ওপর ব্যাপারটা ছেড়ে দাও। আমি স্যালুনে গিয়ে ম্যাকগ্রর সঙ্গে কথা বলব। তুমিও থাকবে আমার সঙ্গে। কার্টলিকে মেরে ফেলেছি জানলেই ওর প্রতিক্রিয়া দেখতে পাবে তুমি। ও কি করে তখন নিজের চোখে দেখবে।

আইন ওভাবে কাজ করে না, প্রতিবাদ জানাল শেরিফ। তোমাকে নেব না আমি। একাই যাব। এখানে নিয়ে আসব ওকে। ওর বক্তব্য শুনব। তুমি আর জো এসবের বাইরে থাকবে।

তোমার যা ইচ্ছে, ঠাণ্ডা গলায় বলল সলটার। আমি তবে আমার কাজে যাব। খুব সম্ভব বিপদে পড়েছে জোহান। জো, তুমি র‍্যাঞ্চে ফিরে যাও। যত দ্রুত সম্ভব। ছেলেদের জড়ো কর। আমি প্রথমে যাব শ্যাকে। সেখান থেকে সোজা স্যাডল ব্ল্যাঙ্কেট ক্রীক-এ। জর্জকে বলবে ছেলেদের নিয়ে ওখানে চলে যেতে। আমার জন্যে অপেক্ষা করবে। তারপর সকলে মিলে অসকারের র‍্যাঞ্চে যাব। দেখব কি বলে সে।

আমার মনে হয় ভুল করছ তুমি,সলটার, সতর্ক করল ম্যাকডারমট।

তুমি তোমার কাজ কর। আমার ব্যাপারে না ভাবলেও চলবে, কর্কশভাবে বলল সলটার। হেলগার যেন কোন ক্ষতি না হয়। ওকে আশ্বাস দিয়েছি আমি। আর ম্যাকগ্রকে ধরতে চাইলে রওনা দাও এখুনি। স্যালুন থেকে বেরিয়ে গেলে, পরে খুঁজে বার করতে অসুবিধে হবে।

আমি বরং তোমার সঙ্গে যাই, বলল জো। শ্যাকে গণ্ডগোল বাধলে সাহায্যের দরকার পড়তে পারে।

সাহায্য দরকার পড়বে র‍্যাঞ্চ ও-তে যাওয়ার সময়। এখন নয়, শান্তস্বরে বলল সলটার। এখন যা বলেছি কর।

ওকে, বলল কাউবয়। র‍্যাঞ্চে ফিরছি আমি। মাঝরাতের দিকে স্যাডল ব্ল্যাঙ্কেট ক্রীক-এ দেখা হবে।

ওখানে থাকব আমি, বলল সলটার। জোর পিছে পিছে বাইরে বেরিয়ে এল সে। এসময় শেরিফের ডাকে থামতে হল তাকে। চলে গেল জো।

সলটার, আমার সঙ্গে চল তুমি, গম্ভীরস্বরে শেরিফ বলল। তুমি সোজা স্যালুনে ঢুকবে। ম্যাককে বলবে তুমি জেনে গেছ সে তোমার বাবার হত্যাকারী। তারপর দেখি কি করে ও।

বুদ্ধিটা মন্দ নয়, বলল সলটার। শেরিফকে নিয়ে বেরিয়ে এল বাইরে। মৃতদেহের চারপাশ ঘিরে ভিড় জমেছে ততক্ষণে। ওরা হাঁটতে শুরু করতেই কিছু, কৌতূহলী লোক পিছু নিল ওদের।

মাথা ঠাণ্ডা রাখবে, পরামর্শ দিল শেরিফ। গোলাগুলি চাই না আমি। ম্যাকগ্র অপরাধী হলে আমি চাই সে তার দোষ স্বীকার করুক।

আমাকে দেখলেই সম্ভবত ড্র করবে সে, কঠিন শোনাল সলটারের কণ্ঠ।

আমিও নিশ্চয় দাঁড়িয়ে থাকব না তখন।

রাস্তা পেরোল ওরা। নিঃশব্দে। এগিয়ে চলল স্যালুনটার দিকে। চারপাশে চাইল সলটার। অনুমান করতে চেষ্টা করল আরও কোন বিপদ ওঁৎ পেতে রয়েছে। কিনা। হাওয়ার্থ আর হ্যারিসন কি তাদের ফোরম্যানের সঙ্গে রয়েছে? থাকুক, পরোয়া করে না সলটার। ক্রোধে জ্বলছে সে ভেতর ভেতর। বাবার খুনীর সঙ্গে দেখা হবে সামান্য পরেই। মার্টিনকেও খুন করিয়েছে ম্যাকগ্র। মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হবে, খুনীটাকে দেখেও। পারবে তো?

গত শনিবারের সেই গানম্যান কে? তার পরিচয় কি? ম্যাক হেলগাকে বলেছে সেদিনের ব্যাপারে কিছু জানে না সে। মিথ্যে বলবে না ও। সব। পরিকল্পনার কথা মেয়েটিকে জানায় ম্যাকগ্র। কাজেই ও ব্যাপারেও স্বীকার না করার কোন কারণ নেই।

দরজার কাছ থেকে নজর রাখব আমি, বলল শেরিফ। ব্যাট-উইং-এর কাছে পৌঁছে গেছে ওরা। সায় জানাল সলটার। এগিয়ে গিয়ে ডান কাঁধ দিয়ে দরজায় আঘাত করল সে। তারপর সদর্পে ঢুকে পড়ল ভেতরে। চারদিকে চেয়ে ম্যাকগ্রকে খুঁজল সে। যে কোন কিছুর জন্যে মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে।

ম্যাকগ্র নেই। হতাশ হল সলটার। হয়ত র‍্যাঞ্চে ফিরে গেছে। অপেক্ষা করছে কার্টলির জন্যে। সুখবর নিয়ে আসবে সে। এমনিতেই মার্টিন মারা গেছে; তার ওপর সলটার মারা পড়লে হাঙ্গামা হতে পারে; এই ভেবেই হয়ত শহর ত্যাগ করেছে সে।

একটা বিয়ার অর্ডার দিল সলটার। আরেকবার ভাল করে দেখল স্যালুনটা। টেণ্ডারকে জিজ্ঞেস করল, খানিক আগে ম্যাকগ্র ছিল এখানে, চলে গেছে নাকি?

হ্যাঁ। স্যালুনটা এক ঝলক দেখে নিল টেণ্ডার। কয়েকজন রাইডারকে নিয়ে এখানে ছিল সে। চলৈ গেছে এই তো আধ ঘণ্টার মত হবে। ও বেরোনর পরপরই গুলি হতে শুনলাম। ওর র‍্যাঞ্চের কে বলে মারা গেছে। তারপর আর ফেরেনি ম্যাকগ্র।

ঘুরে বিয়ার হাতে বারের দিকে এগোল সলটার। এক কোণে পরিচিত এক লোককে বসে থাকতে দেখল। সেদিকে এগোল সে।

কি খবর, ডায়াস, হাসিমুখে বলল সলটার। একটা ড্রিঙ্ক নেবে?

বয়স্ক লোকটি ওকে চিনতে পেরে এগিয়ে এল। শরীরের কাঠামো মজবুত এখনও তবে ঝুলে পড়েছে চামড়া।

কেমন আছ, সলটার? পাল্টা জিজ্ঞেস করল লোকটি। বাপের চেহারা পাচ্ছ দিনকে দিন। শুনলাম গুলি খেয়েছ। তা আছ কেমন এখন?

ভাল, বলল সলটার। ইশারায় এক গ্লাস বিয়ার আনার জন্যে অর্ডার করল টেণ্ডারকে। বসে পড়ল দুজনে। চারদিক একবার জরিপ করে মুখ খুলল, ডায়াস, তুমি তো বাবার বন্ধু ছিলে। বাবার খুনীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি জানই তো। আজ রাতে সে কিন্তু তোমার চোখের সামনেই ছিল।

চোখের সামনে? এখানে? বিস্ময়ে ভূ কোঁচকাল ডায়াস। কে সে?

ম্যাকগ্র। কঠোর শোনাল সলটারের গলা। আবার চাইল চারপাশে। দেখল ব্যাট উইং-এর ওপর দিয়ে উঁকি দিচ্ছে শেরিফ। শুনেছি অনেক গোপন কথা জানা আছে তোমার। সত্যি?

ফাঁকা হাসল লোকটি। কমুহূর্ত সলটারের দিকে চেয়ে থেকে মাথা ঝাঁকাল।

হু, বলল সে। ইদানীং এসব খবর বেচে পেট চালাতে হচ্ছে। বয়স তো আর কম হল না। কাজকর্মে শক্তি পাই না আগের মত। রজার হার্পারকেও সাহায্য করতাম আমি, খবর সরবরাহ করে।

তাই নাকি? অবাক হল সলটার। কখনও শুনিনি তো। যা হোক দশডলার রোজগার করতে চাইলে মুখ খোল। কি হচ্ছে এখানে? গত সপ্তাহে আমাদের গুলি করল কে?

গত সপ্তাহের খুনী র‍্যাঞ্চ ও-র লোক, বলল বুড়ো। এক ঢিলে দু’পাখি মারতে চেয়েছিল সে। তোমাকে আর শেরিফকে পেয়েও গিয়েছিল এক সঙ্গে।

নাম কি তার?

তা জানি না। ভাড়া করে আনা হয়েছিল তাকে। এতদিনে কোথায় গায়েব হয়ে গেছে কে জানে। এ কাউন্টির লোক নয় সে।

যে কাউন্টিরই হোক, বলল সলটার, আমাকে মারার জন্যে আবারও চেষ্টা চালিয়েছে সে। বক্স ডব্লিউতে গুলি করেছে আমার ওপর।

হতে পারে। এখন কি ম্যাককে খোঁজ করছ?

হ্যাঁ। তবে তার আগে জোহানকে পেতে হবে। নইলে বড় কোন বিপদ ঘটে যাবে ওর। সলটারের কাঁধের ব্যথাটা চাগাল আবার।

আজ রাতে কথা বলতে শুনেছি ওদের, বলল ডায়াস, পাশের টেবিলে ছিল ওরা। কোন ব্যাপারে খুব উদ্বিগ্ন ছিল ম্যাকগ্র। আমাকে পর্যন্ত খেয়াল করেনি। হাসল সে। ওরা জানে আমার কানের ক্ষমতা।

কিছু শুনেছ?

ম্যাকগ্রর সঙ্গের দুজন লোক একটা খুনের কথা আলাপ করছিল। আজ কাকে যেন মেরেছে ওরা।

হাওয়ার্থ আর হ্যারিসন। চিনি ওদের। ওদের কথা থাক। ম্যাকগ্র কি বলল?

শহরের বাইরে ওদের পাঠিয়েছে ম্যাকগ্র। কোন একটা শ্যাকে যেন। আরেকজন ছিল। বার কয়েক এসে ম্যাকগ্রর সঙ্গে কথা বলে গেছে সে। তোমার নাম শুনেছি ওদের মুখের তবে কি বলেছে বুঝতে পারিনি। শেষবারের মত ও লোকটা চলে যেতে বসে রইল ম্যাকগ্র। মনে হয় অপেক্ষা করছিল কোন কিছুর জন্যে। ওকে খুব উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছিল। তারপর খানিক আগে গুলির শব্দ কানে। যেতেই লাফিয়ে উঠল সে। বেরিয়ে গেল। আর ফেরেনি।

এতেই চলবে। বুক পকেট হাতড়ে কখানা রোল করা নোট বার করল সলটার। ডায়াসকে নোটগুলো দিয়ে উঠে পড়ল। বেরিয়ে এল ব্যাট উইং ঠেলে। শেরিফ অপেক্ষা করছিল বাইরে। তাকে খুলে বলল সব কথা।

তবে এক্ষুনি চল, বলল শেরিফ। স্যাডল ব্ল্যাঙ্কেট এ।

জোহান সম্ভবত মারা পড়েছে, সলটার বলল। আজ রাতে চরম পরীক্ষা আমাদের। চল রওনা দিই। আগে শ্যাকে যাব। এখান থেকে দু’মাইল।

সঙ্গে লোক নিয়ে নেব?

না। অত সময় নেই। এখন লোক লাগবে না। আমরা দুজনই যথেষ্ট। আর র‍্যাঞ্চ ও অপারেশনে বক্স ডব্লিউ-এর সবাইকে তো পাবই।

আস্তাবলে একসঙ্গে গেল ওরা। ঘোড়া নিয়ে বেরিয়ে এল দ্রুত। ক্লান্তিবোধ করছে সলটার। বড় জ্বালাতন করছে জখমটা।

রাতটা বড় নিঝুম। আকাশে মেঘ নেই। অসংখ্য তারা উঠেছে আজ। শেরিফের ঘোড়ার সঙ্গে পাল্লা দিতে খানিকটা অসুবিধেই হচ্ছে সলটারের। শ্যাকের কাছাকাছি আসার পর লাগাম টেনে ধরল ওরা। উঁচু একটা টিবির ওপর এসে দাঁড়িয়েছে। স্যাডল থেকে নেমে পড়ল সলটার। একটা গাছের কাছে টেনে নিয়ে গেল ঘোড়া। তারপর হেলান দিল গাছের গায়ে।

তুমি ঠিক আছ তো, সলটার? উদ্বিগ্ন গলায় প্রশ্ন করল শেরিফ। যেতে পারবে? ঘোড়া নেয়া কিন্তু উচিত হবে না। ওরা শব্দ শুনে ফেলতে পারে।

হুঁ, বলল সলটার। কপাল থেকে ঘাম ঝাড়ল সে। পা দুটো কাঁপছে ওর। মনে হয় আজ রাতে বড় ভোগাবে। এখানকার কাজ সুষ্ঠুভাবে শেষ করে যেতে হবে স্যাডল ব্ল্যাঙ্কেট ক্রীক। তারপর র‍্যাঞ্চ ও অভিযান তো বাকিই রয়েছে। টিকতে পারবে তো সে? ঘোড়া দুটো গাছের সঙ্গে বাঁধল শেরিফ। বাঁধা শেষে দুজনে নেমে আসতে লাগল টিবি থেকে।

শ্যাকটা কোথায় জানে দুজনেই। ওখানে পৌঁছনর অনেক আগেই আলো চোখে পড়ল ওদের। একটা জানালায় জ্বলছে। রুক্ষ জমিতে দ্রুত পা চালাতে চেষ্টা করল ওরা। শ্যাক থেকে শ’খানেক গজ দূরে আড়াল নিল। হাঁপাচ্ছে দুজনেই। জখমের কারণে সলটার আর বয়সের ভারে শেরিফ। তবে কথা যখন বলল তখন দৃঢ় শোনাল শেরিফ ম্যাকডারমটের গলা।

তোমার ধারণা এটা রাসলারদের আড্ডাখানা? যদি তাই হয়, তবে যাই করি না কেন বুঝে শুনে করতে হবে।

হ্যাঁ, চল গোপনে ঢুকে পড়ি। কটা ঘোড়া আছে গুনতে হবে। জানালা দিয়েও উঁকি মারব। হাওয়ার্থ আর হ্যারিসন এখানে এসে থাকলে জোহানের বারোটা বাজিয়েছে হয়ত।

শ্যাকের দিকে এগোল ওরা। দুজনের হাতেই পিস্তল। সলটার জরিপ করল চারপাশটা। স্নান আলোয় বুঝতে চাইল গার্ড রয়েছে কিনা। পা টিপে টিপে শ্যাকের এক কোণে চলে এল ওরা। ছায়া পড়েছে এখানটাতে। এ সময় উঠনটা আলোকিত হয়ে উঠল। কর্কশ গলায় কথা বলল কেউ। দড়াম করে বন্ধ হয়ে গেল দরজা। আবার অন্ধকার।

দশ মিনিটের মধ্যে হাওয়া হব আমি। তারপর গুলি করবে ওকে।

শেরিফের হাত শক্ত করে চেপে ধরল সলটারের, ডান কনুই। মাথা ঝাঁকাল সলটার। পরিচিত কণ্ঠস্বর। ম্যাকগ্রর। মুহূর্ত কয়েক বাদেই স্যাডলে চাপল র‍্যাঞ্চ ও-র ফোরম্যান। বেরিয়ে গেল দ্রুত। দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরল সলটার। কিন্তু পরক্ষণেই বুঝ দিল নিজেকে। ম্যাকগ্রর সঙ্গে পরেও বোঝাপড়া করা যাবে। তারচেয়ে অনেক বড় দায়িত্ব এখন ওর কাঁধে। খানিক বাদেই খুন হবে কেউ। কে হতে পারে মোটামুটি আন্দাজ করতে পারছে সে। কেবিনের দিকে এগোল সে। সঙ্গে শেরিফ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *