০৭. মুসা নিজেই প্রস্তাব দিল

মুসা নিজেই প্রস্তাব দিল, জেটির কাছে থেকে বিলের ওপর নজর রাখবে। বলল, যদি কিছু করে, দেখতে পারব। তোমাকে চিনে ফেলেছে সে। আমাকে চেনে না, কাজেই কাছাকাছি থাকা সহজ হবে। খেয়ালই করবে না।

খুব সাবধান, সতর্ক করল কিশোর।

থাকব।

সাইকেল নিয়ে রওনা হয়ে গেল কিশোর। রাস্তা পেরিয়ে সৈকতের দিকে চলল মুসা। তাপর সাইকেল ঘুরিয়ে চলে এল একটা খিলানের নিচে, পানির কিনারে। খিলানের সঙ্গে শেকল পেঁচিয়ে তালা দিয়ে রাখল সাইকেল। ভাবসাব এমন, যেন নিকারোদের ব্যাপারে কোন আগ্রহই নেই। যে-ই দেখুক, ভাববে, সাইকেল রাখার নিরাপদ জায়গা খুঁজছে।

সৈকত ধরে কিছুদূর এগোল সে, কয়েকজন মাছশিকারির পাশ কাটাল। তারপর একটা শুকনো জায়গা বেছে বসে পড়ল বালিতে। চোখ রাখল টিনার ওপর। আবার বোটে উঠেছে বিল। পেতল ঘষছে৷৷

সুন্দর কাটছে সকালটা। খিলানের কাছে সৈকতে খেলতে এল একদল ছেলেমেয়ে। ওদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়ে ফেলল মুসা। কথায় কথায় জানল, ওরা কাছাকাছিই থাকে। আরও জানল, হাইওয়ের ধারে ছোট একটা বাড়িতে বাস করে বিল। আরও দুজন বন্ধু থাকে তার সাথে। বিদেশী ভাষায় কথা বলে। সহজেই এত তথ্য জানতে পেরে খুশি হল মুসা। ভাবল, কিশোরও এরচেয়ে বেশি কিছু করতে পারত না।

কাছের একটা ছোট বাজার থেকে স্যাণ্ডউইচ কিনে লাঞ্চ সারল মুসা। আবার ফিরে এসে বসল আগের জায়গায়। দুপুর গড়িয়ে বিকেল পাঁচটা বাজল। পাঁচটার সামান্য পরে জেটি থেকে রাস্তায় গিয়ে উঠল বিল। পিছু নিল মুসা।

রাস্তার দিকে মুখ করে আছে ছোট কটেজটা। পুরানো। দেখে মনে হয় ধসে পড়বে যে-কোন সময়। বালিতে অসংখ্য খুঁটি গাড়া, তার ওপর রয়েছে বাড়িটার পেছনের ভার। ঢুকে গেল লোকটা। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মুসা ভাবতে লাগল, এবার কি করবে? কি করে জানবে বিলের সঙ্গে অন্ধ ভিক্ষুকের কি সম্পর্ক?

পুরানো একটা ট্রাক বিকট গর্জন তুলে ছুটে এল হাইওয়ে ধরে। কটেজের কাছে এসে থামল। নামল এক যুবক। হাত নেড়ে ড্রাইভারকে ধন্যবাদ জানিয়ে, রাস্তা পেরিয়ে গিয়ে ঢুকল বাড়িতে।ট্রাক চলে গেল নিজের পথে।

কয়েক মিনিট পর এল তৃতীয় আরেকজন, সে-ও যুবক। পুরানো একটা বুইক চালিয়ে। বাড়ির পাশে ঘাসে ঢাকা একটুকরো সমতল জমিতে গাড়িটা পার্ক করে রেখে গিয়ে বাড়িতে ঢুকল সে, দড়াম করে বন্ধ করল সামনের দরজা।

সৈকতে মাছশিকারির সংখ্যা কমে এসেছে। পশ্চিমে ডুব দেয়ার জন্যে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে যেন সূর্য। মুসা ঠিক করল, আর দশ মিনিট, তারপর বাড়ি রওনা হবে।

কথাটা ভেবে সে শেষও করতে পারল না, খুলে গেল কটেজের দরজা। তিনজনেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাইওয়ে ধরে এগোল। পিছু নিল মুসা। নিকারোদের বাড়ি পেরোল তিন যুবক, উঠতে শুরু করল আঁকাবাঁকা একটা ড্রাইভওয়ে ধরে। চূড়ায় একটা বাড়ি, সাগরের দিকে মুখ। সাইনবোের্ড রয়েছেঃ প্যাসিফিক মোটেল।

প্রায় চূড়ার কাছে পৌঁছে গেছে তিনজন, এই সময় একটা গাড়ি এসে মোেড় নিয়ে মোটেলের ড্রাইভওয়ে ধরে উঠতে শুরু করল। ওটার পর পরই এল আরেকটা গাড়ি, প্রথমটাকে অনুসরণ করল। তারপর এল আরেকটা, দাঁড়িয়ে গেল পথের ধারে। তৃতীয় গাড়ি থেকে একজন মহিলা আর একজন পুরুষ নেমে ড্রাইভওয়ে ধরে হেঁটে উঠতে লাগল। ঠিক তাদের পেছনেই এল মোটরসাইকেল আরোহী দই তরুণ, ইঞ্জিনের প্রচণ্ড গর্জন তুলে উঠে চলল ড্রাইভওয়ে দিয়ে।

দেখছে আর ভাবছে মুসা, অবাক হওয়ার মত কিছু আছে কি? যখন এক ভ্যান বোঝাই তরুণ তরুণী এসে হাজির হল, সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল সে, এবার কিছু একটা করা দরকার। ছোট একটা সেডান এসে রাস্তার পাশে থামতেই হাইওয়ে পেরোল সে। গাড়ি থেকে নামল মাঝবয়েসী এক দম্পতি। তাদের সঙ্গে দুটো ছেলে, তেরো থেকে পনেরোর মধ্যে ওদের বয়েস। দম্পতির পেছনে হেঁটে চলল ছেলেদুটো। ওদের কয়েক গজ পেছনে রইল মুসা।

পরিবারটার পিছু পিছু চূড়ায় উঠে এল সে। ঘুরে এগোল মোটেলের পেছনে পার্কিং লট আর সুইমিং পুলের ধার দিয়ে। পেছন দিকের সব দরজা খোলা। ওদের মাথার ওপরে বাড়ির ছাঁইচে ইতিমধ্যেই হেসে উঠেছে উজ্জ্বল আলো। পুলের চারপাশে আর পার্কিং লটের কালো রঙ করা চত্বরের কিছুটা জুড়ে সাজানো হয়েছে ফোল্ডিং চেয়ার। পুল থেকে দূরে একটা খোলা জায়গায় রয়েছে বিল আর তার দুই বন্ধু, তাদের সামনে মস্ত ইজেলে বিশাল তিনটে ফটোগ্রাফি। সাদা-কালো একটা ছবিতে দেখা যাচ্ছে সাদা-চুল একজন মানুষ, পরনে নানারকম কাজ করা ইউনিফর্ম। আরেকটা রঙিন ছবি, একটা শহরের ওপর পড়েছে সোনালি উজ্জ্বল রোদ। তৃতীয় ছবিটা দেখে চমকে গেল মুসা। এটাও একজন লোকের, ধূসর চুল, গালে কাটা দাগ, চোখে কালো চশমা। রবিনের অন্ধ ভিখারির প্রতিকৃতি।

অস্বস্তি লাগছে মুসার। এখানে তার কোন অধিকার নেই। পালিয়ে যাওয়ার জোর ইচ্ছেটা দমন করল কিশোরের কথা ভেবে, কিশোর অসন্তুষ্ট হবে। নিশ্চয় কোন ধরনের সভার আয়োজন হয়েছে এখানে, যাতে অন্ধ লোকটার কথা আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর এই সভায় টিকেটের প্রয়োজন নেই, যে খুশি আসতে পারে, মুসার অন্তত তা-ই মনে হল। তার দিকে তাকাচ্ছেও না কেউ। সন্দেহজনক কিছু না করলে তাকাবে বলেও বোধহয় না।

একটা চেয়ারে বসে পড়ল সে। পাশে এসে বসল মোটাসোটা এক লোক। ওপরে ওঠার পরিশ্রমে বেজায় হাপাচ্ছে। তার দিকে চেয়ে খাতির-জুমানো-হাসি হাসল মুসা।

আরও লোক আসছে। সব চেয়ার ভরে গেল। এরপরও যারা এল, মোটেলের সিঁড়িতে, সুইমিং পুলের ধারের দেয়ালে উঠে বসতে লাগল। মোটেলের ভেতরে কোন আলো নেই। ব্যাপার কি?-ভাবল মুসা। গরমের সময় ছাড়া এই মোটেল, খোলে না নাকি?

অন্ধকার হয়ে আসছে, এই সময় একটা টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল বিল। ছবিগুলোর সামনে রাখা হয়েছে টেবিলটা। মোটেলের অফিসের পেছন থেকে মার্চ করে এগিয়ে এল তার এক বন্ধু, হাতে নীল মখমলের পতাকা, সোনালি বর্ডার, মাঝে একগুচ্ছ সনালি ওকপাতা।

গান শুরু করল এক মহিলা। যোগ দিল আরেক মহিলা। তাদের সঙ্গে গলা মেলাল এক লোক। তারপর একে একে সবাই। উঠে দাঁড়িয়ে গাইছে। মুসাও গাওয়ার ভান করছে। সুরটা তার অপরিচিত, কখনও শোনেনি। লড়াইয়ের গানের মত মনে হল তার। শেষ হল গান। গুঞ্জন শুরু হল। কেশে উঠল মুসা। চেয়ারে বসার মচমচ। টেবিলের সামনে থেকে সরে এল বিল।

তার জায়গায় গিয়ে দাঁড়াল এক স্প্যানিশ ভদ্রলোক, বৃদ্ধ। দেশী ভাষায় কথা শুরু করল। মনে মনে গুঙিয়ে উঠল মুসা। স্প্যানিশ বোঝে না সে।

মোলায়েম ভঙ্গিতে আরম্ভ করেছিল, ধীরে ধীরে গলার জোর বাড়ল বক্তার। মুঠো তুলে আঁকাতে লাগল, যেন শাসাচ্ছে উপস্থিত জনতাকে। কিংবা এই মোটেলের সীমানার বাইরে কোন জনগোষ্ঠীকে।

বক্তৃতা শেষ হতেই তুমুল করতালি আর চিৎকার করে তাকে সমর্থন করল জনতা। তারপর বক্তৃতার জায়গায় গিয়ে দাঁড়াল অল্পবয়েসী এক মহিলা, মাথায় লম্বা সোনালি চুল। জনতার দিকে মুখ করে চেঁচিয়ে কিছু বলল, মুসার মনে হল, শ্লোগান। আবার হাততালি, চিৎকার, শিস। মাটিতে পা ঠুকল কেউ কেউ।

মহিলা হাত তুলতেই চুপ হয়ে গেল জনতা। কথা শুরু করল সে। ভাষা না বুঝলেও মুসার অনুমান করতে কষ্ট হল না, জ্বালাময়ী ভাষায় বক্তৃতা চলছে। ফ্লাডলাইটের আলোয় জ্বলছে, যেন বক্তার-চোখ। মাঝে মাঝেই হাত তুলে ইঙ্গিত করছে অন্ধ লোকটার ছবির দিকে, হুল্লোড় করে উঠছে জনতা।

বক্তৃতা শেষ হলে আবার কোলাহল। মহিলা সরল। আবার সে-জায়গায় এসে দাঁড়াল বিল। ধীরে ধীরে চুপ হয়ে গেল জনতা। তারপর, মুসাকে আতঙ্কিত করে দিয়ে লোক বাছাই করতে আরম্ভ করল সে, যাদেরকে বক্তৃতা দিতে হবে। যাদেরকে ইশারা করল, এক এক করে বক্তব্য রাখল তারা। প্রথম সারি থেকে বলল একজন লোক, তারপর মাঝখান থেকে এক মহিলা, শেষে সিঁড়িতে বসে থাকা এক কিশোর। স্প্যানিশ ছাড়া আর কিছু বলছে না। কি বলল তিনজুনে, এক বর্ণ বুঝতে পারল না মুসা।

হঠাৎ মুসার দিকে হাত তুলল বিল। সব কটা চোখ ঘুরে গেল তার দিকে।

মাথা নাড়ল মুসা। কিন্তু তাকে ঠেলে তুলে দিল পাশে বসা মোটা ভদ্রলোক।

দুঃস্বপ্ন দেখছে যেন মুসা। ভাবনাও চলছে না আর, জমে গেছে যেন মগজ।

কিছু বলল বিল। হেসে উঠল জনতা,। ওদের মুখের দিকে তাকাল সে। সবাই তাকিয়ে আছে তার দিকে, অপেক্ষা করছে।

দৌড়ে পালাতে ইচ্ছে করছে তার। দ্রুত তাকাল এদিক ওদিক। চেয়ারগুলোর  পাশ দিয়ে গিয়ে ড্রাইভওয়েতেও পৌঁছতে পারবে না, তার আগেই ধরা পড়ে যাবে। সে গুপ্তচর, এটা যদি বুঝে যায় ওরা…

মোলায়েম গলায় কিছু বলল পাশে বসা ভদ্রলোক। প্রশ্ন করল? নাকি হুমকি?

আচমকা গলা চেপে ধরল মুসা। হাঁ করে বিচিত্র একটা শব্দ করল। মাথা নাড়ল জোরে জোরে।

ও! বলল পাশে বসা লোকটা। ল্যারিনজাইটিস!

মাথা ঝাঁকাল মুসা, জোর করে হাসল। আবার হেসে উঠল জনতা। হাঁপ ছেড়ে বাঁচল সে, বসে পড়ল। তার পিঠ চাপড়ে সহানুভূতি জানাল ভদ্রলোক। অন্যদিকে চোখ ফেরাল জনতা। আরেকজন লোকের দিকে হাত তুলল বিল। সেই লোকটা উঠে কিছু বলল।

বক্ততার পালা শেষ। একটা ঝুড়ি নিয়ে এগোল বিল আর তার এক বন্ধু, দুজনে দুদিকে ধরেছে। এগোল সারির ভেতর দিয়ে। থামছে প্রতিটি লোকের সামনে। উঠে দাঁড়িয়ে জ্বালাময়ী কণ্ঠে জনতাকে কি সব বলছে সেই অল্পবয়েসী মহিলা। বোধহয় মুক্ত হস্তে দান করার অনুরোধ জানাচ্ছে।

মুসার সামনে যখন এল ঝুড়িটা, অনেক টাকা জমে গেছে। সে-ও ফেলল একটা ডলার। ড্রাইভওয়ে থেকে চেঁচিয়ে কি যেন বলল একজন। চোখের পলকে কোথাও উধাও হয়ে গেল ঝুড়ি।

দেখতে দেখতে জনতার সামনে দুটো গিটার আর একটা অ্যাকর্ডিয়ন নিয়ে দাঁড়িয়ে গেল বিল আর তার দুই বন্ধু। গিটারে টোকা দিল বিল। বেজে উঠল অ্যাকর্ডিয়ন। মিষ্টি সুরে গান ধরল অল্পবয়েসী মহিলা।

তার সঙ্গে গলা মেলাল অনেকে। আঞ্চলিক গান, সুরে বোঝা যায়।

মোটর সাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ কানে এল। ফিরে চেয়ে মুসা দেখল, উঠে এসেছে একজন পুলিশ, হাইওয়ে পেট্রলম্যান।

হাত নাড়ল গায়িকা। থেমে গেল সঙ্গীত।

মোটর সাইকেল স্ট্যাণ্ডে তুলে চেয়ারগুলোর পাশ দিয়ে ঘুরে গিয়ে টেবিলের কাছে দাঁড়াল পুলিশ অফিসার। হাত তুলে বলল, সরি, বাধা দিলাম। কিছু মনে করবেন না। আপনাদের লীডার কে?

আমি, বিল বলল। কি ব্যাপার, অফিসার? রিহারসালের অনুমতি নিয়েই এসেছি মিস্টার বারকেনস্টিনের কাছ থেকে।

বারকেনস্টিন? অফিসের দিকে তাকাল অফিসার। মোটেলের মালিক?

হ্যাঁ। কমুনিটি রুম ভাড়া নিয়েছি। রসিদ দেখতে চান?

না, বিশ্বাস করছি। কিন্তু ওটা তো কমুনিটি রুম নয়। তাছাড়া বারকেনস্টিন বলেনি জায়গাটা নিরাপদ নয়? মোটেল বন্ধ কেন, জানেন? এর নিচের মাটি আলগা, অতিবৃষ্টিতে এরকম হয়েছে। যে কোন সময় ধস নামতে পারে। আসলে কি করছেন এখানে, বলুন তো? এত লোক কেন?

নিস্পাপ হাসি ফুটল বিলের ঠোঁটে। একটা গানের দল গঠন করেছি আমরা, কান্ট্রি সং ফেডারেশন। রিহারসাল দিচ্ছি, কলিসিয়ামে সাতাশতম কান্ট্রি মিউজিক জাম্বােরিতে প্রতিযোগিতা করব।

জনতার ওপর চোখ বোলাল অফিসার। এত লোক? সবাই…সবাই যাবেন প্রতিযোগিতা করতে?

অ্যামেচারদেরই প্রতিযোগিতা হয় ওখানে, ধৈর্যের সঙ্গে জবাব দিল বিল। লোক কম-বেশির প্রশ্ন নেই। আপনি বলছেন ধস নামবে, মিস্টার বারকেনস্টিন তো তা বললেন না। তিনি বলেছেন ঠিকই আছে। তাছাড় এখন আর রিহারসাল ক্যান্সেল করা যাবে না। দূর থেকে এসেছে ওরা, এমন কি ল্যাগুনা থেকেও এসেছে অনেকে। ভোলা জায়গায়ই তো প্র্যাকটিস করছি। মোটেল যদি বসেও যায়, আমাদের কিছু হবে না।

সেটা আপনি বলছেন। আপনার কথায় তো আর হবে না, গলা চড়াল অফিসার। জনতার দিকে ফিরল, সরি, আপনাদের চলে যেতে হবে এখান থেকে। যত তাড়াতাড়ি পারেন। সাংঘাতিক বিপদ হতে পারে। তাড়াহুড়ো করবেন না। আস্তে আস্তে শৃঙ্খলা বজায় রেখে নেমে যান। যান, উঠুন। না না, চেয়ার গোটানোর দরকার নেই। যেমন আছে থাক।

অফিসারের কথা মানল জনতা। উচ্ছল হল না। শান্ত হয়ে সারি দিয়ে নেমে যেতে শুরু করল। ড্রাইভওয়ে দিয়ে নামার সময় মুসার কানে এল, বিল বলছে, এত তাড়াহুড়ো করছেন কেন? যাচ্ছি তো। গিটারটা তো নিতে দেবেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *