০৭. দ্রুত চিন্তা করতে হবে

দ্রুত চিন্তা করতে হবে। বিন কমবয়সী এবং চটপটে ধরনের। এবং নিঃসন্দেহে আমার চাইতে শক্তিশালী।

ফাইল চাবিগুলো তুলে ধরলাম।

বিন, এগুলো ধরুন! চেঁচিয়ে উঠলাম। চাবিগুলো হঠাৎই ছুঁড়ে দিলাম ভােলা এক জানালা লক্ষ্য করে।

না! চিৎকার ছাড়ল বিন। জোরে চুঁড়িনি, এমনভাবে ছুঁড়েছি বিন যাতে জানালা দিয়ে পড়ে যাওয়ার আগেই লুফে নিতে পারে।

বিন চাবিগুলো ধরার জন্য ঝাপ দিতেই, ডেস্কের উপর দিয়ে লাফিয়ে এক দৌড়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলাম আমি। আমি জানি মুহূর্তের মধ্যেই নীচে ফোন করে ওদেরকে সতর্ক করে দেবে সে, জানাবে আমি কী করেছি।

কারও চোখে ধরা না পড়ে হাসপাতাল ত্যাগ করতে হবে আমাকে। হলের ওপাশে একটা সাপ্লাই ক্লজিট দেখতে পেলাম। দরজা খুলতেই ভিতরে অ্যাটেনডেন্টের সাদা উর্দি চোখে পড়ল। ওটা হুক থেকে তুলে নিয়ে পরে ফেললাম।

এলিভেটরে চেপে নেমে এলাম মেইন ফ্লোরে, বেরিয়ে আসার পর মেইন ডেস্কের পাশে লোকজনের ছোটাছুটি লক্ষ করলাম। নার্স লরি কথা বলছে সার্জেন্ট কলিরে সঙ্গে।

ও টীনএজার, কালো চুল, কালো চোখ, পাঁচ ফুট আট ইঞ্চি মত লম্বা, আমি তাকে বলতে শুনলাম। আমার বর্ণনা দিচ্ছে কলিন্সের কাছে।

কলিন্সকে মাথা ঝাকাতে দেখলাম। তিনি ঘুরে দাঁড়িয়ে আমাকে চিহ্নিত করার আগেই এক্সিটের দিকে দ্রুতপায়ে এগোলাম আমি। একটা পত্রিকা তুলে নিয়ে খুলে মুখের কাছে ধরলাম, আমার মুখ যাতে লোকেরা দেখতে না পায়।

এবার সদর দরজা দিয়ে হেঁটে বেরিয়ে এলাম। মেইন স্ট্রীটে পৌঁছনোর পর উর্দি খুলে ফেললাম। ওটা আর পত্রিকাটা ছুঁড়ে ফেলে দিলাম ফ্রন্ট লনে। তারপর শশব্যস্ত রাস্তা ধরে এগিয়ে চললাম।

এখন কোথায় যাব? হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এসেছি আমি, কিন্তু আমার সমস্যা আরও জটিল হয়েছে। হাসপাতালে আমার জন্ম রেকর্ড নেই কেন? চাচা-চাচী কি এত বছর ধরে আমাকে মিথ্যে বলে এসেছে? আমি কি অন্য কোথাও জন্মেছিলাম? যদি তাই হয়, তা হলে আমাকে বলেনি কেন?

মাথা গুলিয়ে গেল। পেটের ভিতরে আতঙ্ক বাসা বাঁধছে। আমার মনে হয় পুলিশে ধরা দেয়া উচিত।

কারণ আমি হয়তো সত্যিকারের কিশোর পাশা নই। আমি হয়তো অন্য কেউ। আমি হয়তো মি. লাউয়ির বর্ণনা করা সেই ছেলেটির মত, চেষ্টা করছি আমি নই এমন কারও ভূমিকা নিতে।

কিন্তু তা-ই যদি হবে, তবে আজ সকালে নিজের বাসায় আমার ঘুম ভাঙল কীভাবে? এবং কেউ আমাকে না চিনলেও আমি সবাইকে চিনছি কী করে?

সবচাইতে বেশি ভয় লাগছে, এখন আর এটাকে নিছক তামাশা মনে করতে পারছি না। ব্যাপারটা তার চাইতে অনেক জটিল আর বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

আমি কে প্রমাণ করার নিশ্চয়ই কোন উপায় আছে। স্কুলে লাভ হবে না। হাসপাতালেও না। কোথায় যাব আমি?

বাসায় যাব! জোরে বলে উঠলাম। বাসায় চাচা-চাচীর সঙ্গে আমার প্রচুর ছবি রয়েছে। বই রয়েছে যাতে আমার নাম লেখা। প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট, আমি কে।

ঘড়ি দেখলাম। ১:৩০। চাচা-চাচী আরও কয়েক ঘণ্টা বাইরে থাকবে। নিশ্চয়ই ডনকেও সঙ্গে নিয়ে যাবে। মেইন স্ট্রীট ধরে বাসার দিকে হেঁটে চললাম।

আকাশ হঠাৎই গোলাপী হয়ে গেল। সব কিছু যেন কাঁপছে, এবং কোথায় যেন জোরাল বাজনা শুরু হলো। অদ্ভুত বাজনা, রেডিওতে এমনটা বাজে না।

এক দোকানের সামনে টলতে টলতে গিয়ে দাঁড়ালাম। মেইন স্ট্রীটে আমি ছাড়া কেউ নেই! দু মুহূর্ত পর পর রং বদলাচ্ছে আকাশের। গোলাপী, হলুদ, কমলা, নীল, গোলাপী।

প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলো কাঁধে। দোকানের জানালার দিকে ঘুরে দাঁড়ালাম। সাহায্য আশা করছি। জানালায় চোখ রাখলাম। চকচকে কালো পোশাক পরে, জানালায় দাঁড়িয়ে, আমার দিকে চেয়ে মৃদু হাসছেন-মিস লি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *