০৭. চিৎকার করে ডাকল সলটার

জো, দাঁড়াও, প্রায় চিৎকার করে ডাকল সলটার। জোর নাগাল পাওয়ার জন্যে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করল ও। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে কাঁধের ব্যথাটা চেগিয়ে উঠল। জো ততক্ষণে মিলিয়ে গেছে চোখের সামনে থেকে। এপথ ধরেই হেলগার কেবিনের কাছে গিয়েছিল মার্টিন। সম্ভবত র‍্যাঞ্চ ও-র লোকেরা দেখে ফেলেছে ওকে। তারপরই এই গুলির ঘটনা ঘটেছে।

মোড়ে পৌঁছে সলটার দেখল জো ঝুঁকে পড়েছে একটা পতিত শরীরের ওপর। সলটারের বা কাঁধটা দপদপ করছে। সেখানটায় হাত চাপা দিল সে।

মাটিন? ঢোক গিলে প্রশ্ন করল সলটার।

হ্যাঁ, ফাঁসফেঁসে শোনাল জোর কণ্ঠ। সিধে হল সে। মারা গেছে।

বার্ন, কোনমতে বলল সলটার। র‍্যাঞ্চও-র লোক দুটো একাজ করে থাকলে ঘোড়ার জন্যে আস্তাবলে গেছে। পালাবে। শিগগির চল।

কথা কটা বলেই ঘুরে দৌড় শুরু করল সলটার। প্রাণপণে। ব্যথার পরোয়া করল না। মুহূর্ত পরেই ওকে রেসের ঘোড়ার মত অতিক্রম করে গেল জো। তার ডান হাতে শক্ত করে ধরা রয়েছে বিশাল সিক্সগান।

গুলির কারণ জানার জন্যে বেরিয়ে এসেছিল অনেকে। ওদের দুজনকে ঊধ্বশ্বাসে ছুটতে দেখে লাফিয়ে সরে গেল তারা।

দাড়াও, চেঁচিয়ে নির্দেশ দিল কে যেন। নইলে গুলি করব।

নতুন শেরিফের গলা, চিনতে পারল সলটার। তবে ছোটা থামাল না সে। পেছনে তাকিয়ে চিৎকার করে বলতে লাগল, আমি সলটার। মার্টিনকে গুলি করে মেরে ফেলেছে। মোড়ে পড়ে রয়েছে লাশ। খুনী বোধহয় বার্নে গেছে।

আর কিছু বলল না শেরিফ। ছুটে চলল সলটার। জোকে দেখতে পাচ্ছে না সে। ও এগিয়ে রয়েছে অনেকখানি। আস্তাবলের গেটে এসে থামল। হেলান দিল একটা পোস্টে। পিস্তল ড্র করল। প্রচণ্ড হাঁপিয়ে গেছে সে। জোর পাচ্ছে না। পায়ে। মনে হচ্ছে যেন হাঁটু মুড়ে পড়ে যাবে। বহুকষ্টে বার্নের দিকে চলল সলটার। এ সময় কানে এল গুলির শব্দ। বার্নের ছায়ায় আড়াল নিল সে।

আরও দুবার গুলি হল। বানের ভেতরে দরজার কাছে পৌঁছে গেল সলটার। দেখল দরজার পোস্ট ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে লম্বা একটা শরীর। জো। ওর কাঁধে হাত রাখল সে।

কি ব্যাপার, জো? অতিকষ্টে কথা কটা উচ্চারণ করল সলটার।

ওরা বার্নের ভেতরে রয়েছে, ক্রুদ্ধস্বরে বলল জো। আমি দরজার কাছে পৌঁছতেই গুলি শুরু করল। তারপর ঢুকে পড়েছে। পেছন দিক থেকে তাড়িয়ে আনতে হবে শালাদের।

এক মিনিট। এদের চ্যালেঞ্জ করে দেখি, সলটার বলল। আমি জানতে চাই ওরা কারা।

ওদের খুন করি আগে, তারপর জেনো, ভয়ঙ্কর শোনাল জোর কণ্ঠ। ওরা খুনী, কোন সন্দেহ নেই। একজন দরজায় পাহারা দিচ্ছিল, আরেকজন ছিল ভেতরে। ঘোড়ার ব্যবস্থা করছিল।

তোমার মনের অবস্থা বুঝতে পারছি, জো, সলটার বলল। মার্টিন তোমার প্রিয় বন্ধু ছিল। কিন্তু এ লোক দুটোকে জ্যান্ত ধরা উচিত। তাতে খোলাসা হবে অনেক রহস্য। প্লীজ।

ঠিক আছে। এখান থেকে কথা বলে দেখ ওদের সঙ্গে, হাঁটা দিল জো। আমি পেছন দিকে যাচ্ছি।

মাথা ঝাঁকাল সলটার। জো চলে গেলে পর খানিকটা সহজ হল সে। হাতে পিস্তল নিয়ে খানিকক্ষণ অপেক্ষা করল। জোকে পজিশন নেয়ার সুযোগ দেয়ার জন্যে। বার্নের ভেতরে এখন কোন সাড়াশব্দ নেই।

বার্ন ঘেরাও করা হয়েছে, চেঁচিয়ে বলে উঠল সলটার। তোমরা মাথার ওপর হাত তুলে বেরিয়ে এস।

পরপর কয়েকটা গুলি করে জবাব দিল ওরা। সলটারের মাথার কাছের কাঠে লাগল সেগুলো। কাঠের টুকরো ছিটকে পড়ল ওর মাথায়। মাটিতে শুয়ে পড়ল সলটার। পিস্তলের বাটে শক্ত হল হাত। ক্রল করে আস্তাবলের ভেতর দিকে এগোল সে। আবার এক ঝাঁক গুলি বেরিয়ে গেল দরজা দিয়ে। মুহূর্ত পরে তৃতীয় একজন গুলি ছুঁড়তে শুরু করল। প্রথম দুজন তার প্রত্যুত্তর দিল না। নিশ্চুপ রইল।

গুলি চালাচ্ছে জো। ব্যাপারটা পছন্দ হল না সলটারের লোক দুটোকে গোলাগুলি ছাড়া প্রতে পারলে প্রমাণ করা যেত অনেক কিছু। সদ্য ব্যবহৃত অস্ত্রসহ ওদের ধরতে পারলে আইনের চোখে সহজেই দোষী প্রমাণিত হত ওরা। কিন্তু সে আশা ভেস্তে গেছে। হতাশা ঘিরে ধরল ওকে।

গুলি বন্ধ কর, উঠনের দিক থেকে চিৎকার করে উঠল কর্কশ একটা কণ্ঠ।

নতুন শেরিফ, ম্যাকডারমট! দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে সে। হাতে পিস্তল।

জো, চেঁচাল সলটার। গুলি থামাও। বন্ধ হয়ে গেল গোলাগুলি। অস্বস্তিকর নীরবতা ফিরে এল আবার।

গণ্ডগোলের কারণটা কি? গুলি শুরু করেছে কে? চেঁচিয়ে জানতে চাইল শেরিফ।

মার্টিন মারা গেছে বলেছি তোমাকে, রাগতস্বরে বলল সলটার। ওর খুনীদের ধরার জন্যে এখানে এসেছি আমরা।

খুনীরা বার্নের ভেতরে রয়েছে?

হ্যাঁ, জবাব দিল সলটার। তার কানে এল খুরের শব্দ। খুব সম্ভব লোক দুটো পালানর চেষ্টা করবে। মনে মনে তাই চাইল সলটার। তাতে ওদের বিরুদ্ধে যুক্তি খাড়া করা যাবে।

বার্নের ভেতর কেউ থেকে থাকলে বেরিয়ে এস। আমি শেরিফ ম্যাকডারমট। জলদি।

গাধা দুটোকে গুলি করতে মানা কর। আমরা আসছি, জবাব এল। ঘোড়া নিতে এসে গুলির মুখে পড়লাম। মগের মুল্লুক নাকি?

সলটার, পিস্তল ঢোকাও, চিৎকার করে বলল শেরিফ। তোমরা বেরিয়ে এস।

উঠে দাঁড়িয়ে হোলস্টারে পিস্তল ভরল সলটার। পরমুহূর্তে বেরিয়ে এল লোক দুজন। আবছা আঁধারে অস্পষ্ট তাদের মুখ।

গুড, বলল শেরিফ। আমার অফিসে চল। তোমাদের নাম?

জিওফ হাওয়ার্থ, বলল একজন।

বব হ্যারিসন, জবাব দিল অন্যজন।

এরা র‍্যাঞ্চ ওর লোক, আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে বলল জো, খানিক আগে মার্টিনকে খুন করেছে।

ওর মাথার ঠিক নেই, হ্যারিসন বলল। আমি আর জিওফ শহরের বাইরে যাচ্ছিলাম। ঘোড়া নেয়ার জন্যে এসেছি এখানে। আর অমনি এ দুজন গুলি চুড়তে শুরু করেছে।

বাজে কথা বলবে না, রেগে উঠল জো। এরা মার্টিনের খুনী। আমি জানতে চাই কেন খুন করা হয়েছে তাকে।

প্রশ্ন করার দায়িত্ব আমার, ম্যাকডারমট বলল।

আমার লোকেরা নির্দোষ, কর্কশ কণ্ঠে বলে উঠল এক লোক। চমকে তাকাল সবাই। ছায়ার আড়াল থেকে বেরিয়ে এল ম্যাকগ্র। জো, তোমার ধারণা এরা মার্টিনকে মেরেছে?

হ্যাঁ, জোরাল গলায় জবাব দিল জো।

বেশ, প্রমাণ কর, চাবুক কষাল যেন ম্যাকগ্র। এদের গুলি করতে দেখেছ?

না, আমি আর সলটার তখন গজ ত্রিশেক দূরে ছিলাম। গুলির শব্দে ছুটে গিয়ে দেখি পড়ে রয়েছে মার্টিনের মৃতদেহ। সঙ্গে সঙ্গে চলে এসেছি বার্নে। আমাকে দেখেই এদের একজন গুলি ছুঁড়ল। তারপরও বলতে চাও এরা নির্দোষ?

সবাই আমার অফিসে চল, ম্যাকডারমট বলল। তোমাদের কারও কথাতেই সন্তুষ্ট নই আমি। লটার, আমি ভেবেছিলাম তুমি এসবের বাইরে থাকবে।

উপায় ছিল না, সংক্ষিপ্ত জবাব দিল সলটার। এদের ঠেকিয়েছি আমরা। নইলে পালাত। গত সপ্তাহের খুনীকে ধরতে পারিনি। এবারের খুনীদের পেরেছি।

কোর্টে প্রমাণ করা অত সহজ হবে না, ভারী গলায় বলল ম্যাকগ্র।

হাওয়ার্থ, তুমি মার্টিনকে গুলি করেছ?

না, বস।

হ্যারিসন, তুমি?

আমি খুনী নই, বস।

ব্যস। আমি এতেই সন্তুষ্ট। শেরিফ, তুমি কি বল? এদের আটকে রাখার কোন যুক্তি আছে? রাস্তার মোড়ে খুন করে এসে এখানে আবার জোকে গুলি করা এক কথায় অসম্ভব। এরা তো পাখি নয় যে উড়ে আসবে।

ঠিক আছে, ক্লান্ত গলায় বলল শেরিফ। কাল দেখা যাবে। তোমরা দুজন আমার অনুমতি ছাড়া কাউন্টি ছেড়ে নড়বে না। সলটার, তুমি আর জো মাথা ঠাণ্ডা রাখ। আর ঝামেলা বাড়িয়ো না।

সলটারকে জেলে ঢোকানো উচিত, সহজ গলায় বলল ম্যাকগ্র। সে-ই ঝামেলা পাকাচ্ছে।

র‍্যাঞ্চ ও-র ফোরম্যান তার লোকদের ইঙ্গিত করল। তারা পিছু নিল ওর। সদম্ভে উঠন পেরোল ম্যাকগ্র। অনেক লোক জড়ো হয়েছে গেটে। তারা পথ ছেড়ে দিল ওদের।

দাঁতে দাঁত চাপল সলটার। শুনতে পেল দীর্ঘশ্বাস ফেলল জো। অসহিষ্ণুর মত পায়চারি করতে লাগল শেরিফ।

জো, সব দোষ তোমার, দাঁতের ফাঁকে বলল সলটার। তুমি গুলি না করলে ওরাও করত না। ওদের পিস্তল চেক করতে পারত শেরিফ।

তোমাকে তো বলেছি, গুলি আমি শুরু করিনি, ক্ষোভের সঙ্গে বলল জো।

এক কথা কবার বলব?

রাস্তায় যখন আমি ডেকেছিলাম, তখন যদি থামতে; তবে তোমাদের সঙ্গে আসতাম আমি। ওদের চ্যালেঞ্জও করতে পারতাম। আইন অমান্য করতে সাহস পেত না ওরা। এখন দেখলে তো-

ওদের পালাতে দিতে চাইনি আমরা। দেরি করলে ঠিকই পালাত, সলটার বলল।

পালাত মানে? পালিয়ে তো গেলই। ওদের বিরুদ্ধে আর খুনের চার্জ আনা যাবে না। কোন প্রমাণ নেই। তারচেয়ে চল মার্টিনের লাশ দেখে আসি। যদিও কোন লাভ হবে না তাতে। তোমাদের আর ওদের কথা পরস্পার বিরোধী। মার্টিনকে গুলি করতে দেখেনি কেউ।

তাই বলে দোষ করেও পার পেয়ে যাবে? প্রায় চেঁচিয়ে উঠল জো।

রাগ-ঝাল করে তো আর মার্টিনকে ফিরে পাবে না, বলল ম্যাকডারমট। উঠনের দিকে এগোল। চল, একবার রাস্তার মোড় থেকে ঘুরে আসি।

রাস্তায় বেরিয়ে এল ওরা। ওদের পিছু নিল জনতা। ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থলে লণ্ঠন নিয়ে হাজির হয়ে গেছে লোকজন। মোড়ে পৌঁছে গেল ওরা। মৃতদেহের চারপাশে খানিকটা ফাঁকা জায়গা রয়েছে। ভিড় ঠেলে মৃতদেহের একপাশে চলে এল ওরা। উত্তেজিত গলায় আলোচনা করছে লোকে। রাগে গা জ্বলে গেল সলটারের।

তামাশা দেখতে এসেছ? ভাগ এখান থেকে, চিৎকার করে বলে উঠল সে।

ওর ধমকে কাজ হল। চুপ করে গেল সকলে। চারদিকে চাইল একবার শেরিফ।

কেউ খুনের ঘটনাটা দেখেছ? জান কিছু প্রশ্ন করল সে। জানা থাকলে বলে ফেল। ভয়ের কিছু নেই।

তোমার অফিসের দিক থেকে দুজন লোক এদিকে ছুটে এসেছিল, বলল কেউ একজন।

সে সময় তুমি কোথায় ছিলে? প্রশ্ন করল ম্যাকডারমট।

ওই যে ওদিকে, উল্টো দিকে আঙুল দেখাল সে। স্যালুনের দিকে যাচ্ছিলাম আমি। দুটো পিস্তল দিয়ে পেছন দিক থেকে গুলি করেছিল একে। এও পাল্টা গুলি করেছিল কিন্তু টিকতে পারেনি দুজনের বিরুদ্ধে।

পিস্তল দুটো ছিল? জানতে চাইল কৌতূহলী শেরিফ।

লোক ছিল কজন? একজন না দুজন? দুটোই একজনের হাতে ছিল না তো?

না। দুজন লোক। পিস্তল দুটোর ব্যবধান দশ ফুটের মত ছিল। গুলির শব্দ মিলিয়ে যেতেই শুনলাম দুজন লোক ছুটে পালাচ্ছে। লোকটি অর্ধেকখানি ঘুরে অন্ধকার যে রাস্তাটা দেখাল সে রাস্তাতেই রয়েছে হেলগা ডিকসনের কেবিন। তারপর এল এই লোক দুটো। লাশ দেখেই ঘুরে দৌড়াল। কিছুক্ষণ পরে বার্নে গোলাগুলি শুনলাম।

তোমাকে ঠিক এ কথাগুলোই বলেছিলাম আমরা, শেরিফকে উদ্দেশ্য করে বলল সলটার। খুনীরা দেখতে কেমন? লোকটিকে প্রশ্ন করল সে।

দেখতে পাইনি। আলো ছিল না। শুধু ছুটতে দেখেছি।

তোমার নাম? প্রশ্ন করল শেরিফ। স্টেটমেন্ট লাগবে।

কার্ল হুপার, জবাব এল। স্টেজ অফিসে আছি আমি। সারাদিনই পাবে ওখানে।

লোকজন সরে যেতে শুরু করেছে। বুঝে ফেলেছে উত্তেজনা ফুরিয়ে গেছে।

আমাদের কথা বিশ্বাস হল এবার? শেরিফকে জিজ্ঞেস করল সলটার।

অবশ্যই, জবাব দিল সে। কিন্তু এতে প্রমাণিত হয় না যে হাওয়ার্থ আর হ্যারিসন খুনী।

লাশের একটা ব্যবস্থা করতে হয়, কর্কশ কণ্ঠে বলে উঠল কেউ।

সলটার ঘুরে তাকাল। তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ফ্রেড। আণ্ডারটেকার।

মাথা ঝাঁকাল সলটার। পাশে দাঁড়ানো অন্য লোকটিকে কার্ট নিয়ে আসতে নির্দেশ দিল ফ্রেড। আর সে নিজে এগিয়ে এল লাশ পরীক্ষা করার জন্যে।

খরচ দেবে বক্স ডব্লিউ, বলল সলটার।

কাজটা কার? প্রশ্ন করল ফ্রেড।

জানি কাদের কিন্তু প্রমাণ করতে পারছি না, জো বলল। তবে, ওদের ছাড়ব আমি।

তুমি তদন্ত কর, শেরিফকে বলল সলটার। চল, জো, র‍্যাঞ্চে ফিরে যাই। জোহানকে তো পেলাম না। মাঝখান থেকে মার্টিনকে হারালাম। জর্জকে জানাতে হবে সব।

সলটার, ঝামেলা এড়িয়ে চলবে, সে হাঁটা ধরতেই বলল শেরিফ। জবাব দিল না সলটার।

কি ভাবছ, সলটার? খানিকদূর আসার পর প্রশ্ন করল জো। নিশ্চয়ই র‍্যাঞ্চে ফিরছ না? তোমার নির্দেশ পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে মার্টিন। ওর লাশ মাড়িয়ে ফিরর না কিছুতেই।

প্রশ্নই ওঠে না। শেরিফকে শোনালাম কেবল।

তবে এত কি ভাবছ?

হাওয়ার্থ আর হ্যারিসন ম্যাকগ্রর সঙ্গে বেরিয়ে গেছে। ঘোড়া নেয়নি। আমার ধারণা শহরেই রয়েছে ওরা তিনজন। সুযোগের অপেক্ষা করছে। চরম কিছু ঘটাতে চায়।

সেই ভাল। একটা এসপার ওসপার হয়ে যাওয়া দরকার।

হু। ওদের তিনজনের কাছ থেকে কথা বার করতে পারার প্রশ্নই ওঠে না, নিচু গলায় বলল সলটার। চিন্তামগ্ন। ওর দিকে চাইল জো।

তবে?

হেলগা নিশ্চয়ই ম্যাক আর জোহানের কাজ-কারবার সম্বন্ধে জানে, ফ্যাসফেঁসে শোনাল সলটারের গলা। ওর সঙ্গে কথা বলব আমরা।

হেলগা যদি মুখ না খোলে? চিন্তিত ভঙ্গিতে বলল জো। আমাদের দেখে চেঁচামেচি জুড়ে দিতে পারে।

সেটাই চাই আমি, কঠিন গলায় বলল সলটার। ম্যাকগ্র জানুক হেলগার কাছে গিয়েছি আমরা। যা হওয়ার সামনাসামনি হোক।

সলটার ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার রাস্তার মোড়ের দিকে রওনা হল। ওকে অনুসরণ করল জো।

সলটার, ডাকল জো। হেলৰ্গাকে এসবে না জড়ালে হয় না? হাজার হোক, মেয়ে মানুষ।

উপায় নেই, এখন ও-ই ভরসা।

নিচু গলায় খিস্তি করল জো। সলটার চলে গেল কেবিনের কাছে। জানালার পাতলা পর্দা ভেদ করে আলো আসছে। পর্দার ফুটোয় চোখ রাখল সলটার। খাটে বসে ম্যাগাজিন পড়ছে হেলগা।

একাই রয়েছে ও, ফিসফিস করে জোকে বলল সে। বিড়বিড় করে কি যেন বলল জো। বুঝল না সলটার। তুমি বাইরে থাক, লক্ষ রাখবে; ম্যাকগ্রকে দেখলেই সতর্ক করবে আমাকে।

ঠিক আছে, দৃঢ় গলায় বলল জো।

দরজার কাছে গিয়ে বার কয়েক মৃদু আঘাত করল সলটার। চারপাশে সতর্ক দৃষ্টি বোলাল। খুলে গেল দরজা। উঁকি দিল হেলগা।

কি চাও? প্রশ্ন করল সে। কেটে পড়। ম্যাকগ্র আসার আগেই, সলটারের মুখের ওপর দরজা টেনে দিল সে। তবে লাগানর আগেই ডান কাঁধ দিয়ে প্রচণ্ড ধাক্কা দিল সলটার। দড়াম করে খুলে গেল দরজা। ধাক্কার চোটে কয়েক পা পিছিয়ে গেল হেলগা। সলটার শুনতে পেল অন্ধকার কোণ থেকে খিস্তি করল জো।

ভেতরে ঢুকল সলটার। ভেজিয়ে দিল দরজা। কি চাও? ভয়ে ভয়ে প্রশ্ন করল হেলগা।

তোমাদের মতলবটা কি জানতে চাই, দ্রুত জবাব দিল সলটার। হেলগা প্রতিবাদ করতে যেতেই হাত তুলল সে। ম্যাকগ্রর ব্যাপারে জানি আমি, ভাও দিল সলটার, কাজেই ওর কথা না বললেও চলবে। জোহানকে নিয়ে কি করতে চায় সে?

আমি কি জানি? জোহান শহরে নেই, বলল সে। জানতে না?

আন্দাজ করেছিলাম। কিন্তু নেই কেন? ম্যাকগ্র ওকে কাজে লাগাতে পারেনি?

মানে? তুমি কিছু জান নাকি? উত্তেজনা ধরা পড়ল মেয়েটির কঠে। চোয়াল শক্ত হল সলটারের। জানা থাকলে তো কথাই ছিল না। কিন্তু প্রকাশ করল না। সেটা। হেলগার কাছ থেকে খবর বার করতে হবে, যে ভাবে হোক।

যতটুকু জানি তা তোমাকে জেলে পারার জন্যে যথেষ্ট। কটা বছর থেকে আসবে নাকি?

সব তোমার চাপাবাজি, ফাঁকা হেসে বলল হেলগা।

তবে ভয় পাচ্ছ কেন? জোর করে হাসল সলটার। ভেবেছিলাম তুমি জোহানের বন্ধু। এখন দেখছি তা নয়। ম্যাকগ্রর নির্দেশ পালন করে গেছ শুধু। ওরা যদি জোহানকে খুন করে তবে তার দায় তোমার ঘাড়েও বর্তাবে।

ফ্যাকাসে হয়ে গেল হেলগার মুখ। জেদি মেয়ের মত দুপাশে মাথা নাড়ল। সে।

ম্যাকগ্র কি করবে না করবে সে তার ব্যাপার। আমি সেজন্যে দায়ী হতে যাব কেন?

সব জেনেশুনে চুপ করে থাকলে দায়ী হবে না? বলল সলটার। ম্যাকগ্রর দুজন লোক মার্টিনকে খুন করেছে। আমি র‍্যাঞ্চে ফিরে খবরটা জানালেই দু’র‍্যাঞ্চে যুদ্ধ বেধে যাবে। তুমি কি তাই চাও? আমাকে সব খুলে বল। একশ ডলার পাবে।

বেরোও এখান থেকে, চেঁচিয়ে উঠল হেলগা। তোমার যা ইচ্ছে করগে যাও।

ঠিক আছে, যাচ্ছি। তোমার ভালর জন্যেই বলেছিলাম, শ্রাগ করে বলল সলটার। এখন শেরিফকে সব জানানো ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এল সে। মনে আশা এই বুঝি পিছু ডাকবে হেলগা। কিন্তু চুপ। করে রইল মেয়েটি। আশা নিভে গেল সলটারের। তার ধোকায় কাজ হয়নি। দরজাটা ভিড়িয়ে দিয়ে জো এর দিকে কয়েক পা এগিয়েছে কেবল এসময় আচমকা খুলে গেল দরজা।

আমি রাজি। কারও জন্যে জেল খাটব না আমি। তবে কথা রাখতে হবে। তোমাকে। পুরো টাকা চাই।

পাবে, দ্রুত বলল সলটার। আমি চাই এ শহরের একজন লোক নিজের কানে তোমার সব কথা শুনুক।

শেরিফ? প্রশ্ন করল হেলগা। উফ!

প্রমাণ দরকার শেরিফের। আমার নয়। কাজেই ওকে বাদ দেয়া যায় না।

আমি পরিস্থিতির শিকার, তিক্ত কণ্ঠে বলল মেয়েটি। ঠিক আছে, সব। জানাব আমি। তবে ম্যাকগ্রর হাত থেকে আমাকে রক্ষা করার দায়িত্ব তোমার। মনে থাকে যেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *