০৬. পথ হারানো আত্মা

পথ হারানো আত্মা

এই কাহিনিটা শোনান সিংগাপুরের এক তরুণী ক্লার্ক। তাঁর জবানীতেই পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো এটা।

ভূত-প্রেতের ব্যাপারে আমার বড় ভাইয়ের কখনওই খুব একটা আগ্রহ ছিল না। এসবে ওর বিশ্বাস ছিল বলেও মনে হয় না। তারপরই তার জীবনে ঘটল অস্বাভাবিক একটা ঘটনা।

বছর দুয়েক আগের কথা। একদিন বাসায় ফিরল সে হতবিহ্বল চেহারা নিয়ে। কপালে চিন্তার রেখা। রাতে খাবার সময় এমনকী তার পরেও তাকে বেশ বিষণ্ণ দেখাল। ঘুমানোর আগে আমি আর আমার বোন জানতে চাইলাম এমন চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন তাকে? শুরুতে কিছু বলতে চাইল না। তবে পরের দিন রইল কেন যেন মনে হচ্ছে দুটো চোখ তার মাথার পিছনে সেঁটে আছে। তার সব কিছুর ওপরই নজর রাখছে ওই দুটো চোখ। আমি আর আমার বোন হেসে উড়িয়ে দিলাম কথাটা। বিষয়টা নিয়ে বেশ কিছুটা সময় ঠাট্টা-মস্করাও করলাম। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই বুঝে গেলাম এটা মোটেই হেলাফেলা করার মত ব্যাপার নয়।

আমার ভাই সবসময়ই বেশ ঠাণ্ডা মাথার মানুষ। তবে এই সপ্তাহে সে কেমন উদ্ভট আচরণ করতে লাগল। ঘুমের মধ্যে বিড়বিড় করে কী যেন বলে, আরা সারা রাত এপাশ-ওপাশ করে। কখনও কখনও তার ঘুমের মধ্যে কথা বলার শব্দে আমাদেরও ঘুম ভেঙে যায়। ধীরে-ধীরে ওজন হারাতে লাগল সে। এমনকি কেউ তার সঙ্গে কথা বললেও সেদিকে নজর থাকে না। খুব চিন্তায় পড়ে গেলাম আমরা। তার এক বন্ধুকে বিষয়টা জানালাম। বাসায় এসে একবার ওর দিকে তাকিয়েই বলল, এটা মোটেই সাধারণ কোনো ব্যাপার মনে হচ্ছে না।

ভাইয়ের বন্ধু তাকে দুজন লোকের কাছে নিয়ে গেল। তাদের পারিবার যে কোনো অস্বাভাবিক সমস্যার মুখোমুখি হলেই এই দুজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের একজনই ধরতে পারলেন ভাইয়ার সমস্যাটা।

যেদিন ভাইয়ার প্রথম মনে হয়েছে দুটো চোখ তার পিছনে সেঁটে আছে সেদিনই ঘটনাটি ঘটে। কাজ থেকে ফিরবার সময় একটা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের জায়গার পাশ দিয়ে আসছিল সে। এসময় এমন একটা পথে পা দিয়ে বসে যেটা একটা আত্মা অন্য পৃথিবীতে যাবার জন্য ব্যবহার করে। দুর্ভাগ্যক্রমে ওই একই সময়ই অন্য পৃথিবীতে যাওয়ার পথে ছিল ওটা। ভাইয়া তার যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়ে আত্মাটা তার শরীরে ঢুকে পড়ে। এখন সে পথ হারিয়েছে।

আত্মাটা তার যাত্রাটা শেষ করতে চায়, আর ভাইয়াও চায় মুক্তি। এর একটাই সমাধান। তা হলো ভাইয়াকে আবার সেই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের জায়গাটার কাছে গিয়ে পথটার ঠিক যেখানে পা দিয়েছে সেটা খুঁজে বের করে সেখানে দাঁড়াতে হবে। আর আত্মাটাও সেক্ষেত্রে খুশি মনে তাকে ছেড়ে যাবে।

ভাইয়া লোকটির পরামর্শটা মেনে নিল। তারপর যেখানে ঘটনাটা ঘটেছে সেখানে ফিরে গেল। সৌভাগ্যক্রমে যে জায়গায় আত্মাটা তার ওপর সওয়ার হয়েছিল বলে মনে হয়েছে সেটা খুঁজে পেল। পরে সে আমাদের বলেছে ঠিক সেই মুহূর্তে তার দারুণ শান্তি লাগে। আর মনে হয় কী একটা বোঝা শরীর থেকে সরে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *