০৬. জেকব রাইটের অনেক আশা-আকাক্ষা

জেকব রাইটের অনেক আশা-আকাক্ষা আছে, কিন্তু তার মনে কোন আকাশ কুসুম কল্পনা স্থান পায়নি। সে কী চায় এ সম্বন্ধে স্পষ্ট ধারণা তার আছে।

যেখানে ভাল ঘাস আর পানি আছে এমন র‍্যাঞ্চ চাই তার। তাতে বিক্রি করার জন্য কিছু গরু-মহিষ থাকবে। ঘোড়াও থাকবে, কিন্তু তা সে ঘোড়া ভালবাসে বলেই রাখবে। হঠাৎ উত্তরাধিকার সূত্রে বিশাল সম্পত্তি পাওয়া, বৌ-এর টাকায় বড়লোক হওয়া অথবা লুট করে টাকা বানানোর মতলব নেই ওর। এর যে-কোন শর্টকাট বা সহজ পথ নেই তা সে জানে। নিজেরটা নিজেই গড়ে নিতে চায় জেকব, তাই নিজের সবকিছু নিজেই দেখাশোনা করে সে।

আত্মরক্ষা করার জন্য এবার লড়তে হবে তাকে। বিভিন্ন দিক থেকে তার উপর আক্রমণ আসতে পারে। নিজের বিপদ যদি ওরা ডেকে আনতে চায় তা হলে লড়তে আসুক-উচিত শিক্ষা দিয়ে দেবে সে।

তার জীবনে ডালিয়ার আগমন নিতান্তই আকস্মিক। তার পাশে চলার জন্য, তার জীবন-সঙ্গিনী করার জন্য মনে মনে কল্পনায় যে মেয়ের ছবি সে এঁকেছিল, ডালিয়া যেন ঠিক সেই মেয়েটি। সে জানত যে জীবন সে কাটাতে চায়, কোন মেয়ের পক্ষে তার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া খুবই কঠিন। ডালিয়াকে দেখামাত্রই বুঝেছে একেই এতদিন খুঁজছিল সে।

কেমন বাড়িতে থাকবে ওরা তাও কল্পনায় ঠিক করে রেখেছে জেকব। কিন্তু বাড়ি এখনও তৈরি হয়নি, তার আগেই মনের মানসীকে পেয়ে গেছে সে বাড়ি বলতে এখন যা আছে তা হচ্ছে ঝর্ণার পাশে পাহাড় থেকে বেরিয়ে থাকা একটা পাথরের নীচে একটা ছোট্ট গুহা।

প্রত্যেকদিন পাহাড়ে উঠে চারদিকে নজর রাখার সময়ে একা বসে অনেক কথাই ভাবে সে। পরবর্তীতে কী করবে, কোথায় যাবে এসব নিয়েই বেশি ভাবে। তার বিশ্বাস সব মানুষেরই একটা নির্দিষ্ট কর্মপন্থা থাকা দরকার। মানুষ একটা জাহাজের মত। চলার পথে তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে বহুবার তাকে দিক পরিবর্তন করতে হয়। স্রোতে অনিশ্চিতভাবে ভেসে না বেড়িয়ে পরিকল্পিত গতি নিয়ে তাকে এগিয়ে চলতে হয়।

শেষ পর্যন্ত নাভাজো এলাকায় বাস করার ইচ্ছা জেকবের নেই। তার ইচ্ছা দক্ষিণ-পশ্চিমে হোয়াইট মাউনটেনের কাছে গাছপালাবহুল সবুজ এলাকায় সরে যাবে। কিন্তু তার আগে কলোরাডোতে একটা বিশেষ বন্য ঘোড়ার দল থেকে কয়েকটা ঘোড়া তার চাই। বিশেষ করে ওই সোনালী রঙের বড় কোল্টটা ওর মন কেড়ে নিয়েছে।

নাভাজো বা ইউটে ইন্ডিয়ান কারও চোখে ওটা পড়ে থাকলে ওরা নিশ্চয়ই ঘোড়াটা ধরে নিয়ে যাবে। তবে ওরা এদিকটায় খুব কমই আসে, তাই জেকবের মনে এখনও আশা আছে। কপাল ভাল থাকলে এখান থেকে যাবার সময়ে ওই ঘোড়াটার সাথে আরও কয়েকটা ভাল ঘোড়া নিয়ে যেতে পারবে সে।

ওদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে খাবার। ফ্রীডমে রসদ আনতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে ওকে।

কিছু মাংসও ওদের দরকার। আগামীকাল দু’জনে মিলে কিছুটা ঘুরে আসার ইচ্ছা আছে ওর। পথে একটা বিগহর্ন বা হরিণ শিকার করতে পারলে ওদেরসমস্যা মিটবে কিছুটা।

ডালিয়া ছোট্ট ঝিলটার ধারে ওর জন্য অপেক্ষা করছিল। আমাদের রাতের খাবার তৈরি করে রেখেছি, বলল সে। কিন্তু ওদের কারোই খেতে যাবার কোন তাড়া দেখা গেল না। দুই পাহাড়ের ফাঁকে লাল সূর্যটা অস্ত যাচ্ছে। পাহাড়ের গায়ে লালচে রোদ আগুনের শিখার মতই দেখাচ্ছে। একটা জ্বলন্ত পাহাড় যেন। নীরবে পাশাপাশি বসে আলোর রঙ বদলানোর খেলা দেখছে ওরা। দূরে বিষণ্ণ স্বরে একটা তিতির ডেকে উঠল। ওদিক থেকে আর একটার জবাব শোনা গেল

এই স্তব্ধ পরিবেশ আমার খুব ভাল লাগে, বলল ডালিয়া। মনে হয় যেন এই ব্যাপ্তি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে নিজের সাথে আমাকে একাকার করে নিচ্ছে। এই বিশালত্বের সাথে এক হয়ে পার্থিব জ্বালা-যন্ত্রণা, অসন্তোষ সব কিছুই তুচ্ছ মনে হয়।

রাতে খাওয়ার পরে একা একা বসে দূরের উঁচু পাহাড়টার দিকে চেয়ে জেকব তাদের বর্তমান আস্তানাটার কথাই ভাবছিল। জায়গাটা সত্যিই খুব সুন্দর-এটা ছেড়ে চলে যেতে তার বেশ খারাপ লাগবে।

নীরবে ডালিয়া এসে বসল ওর পাশে।

পরিচিত প্রিয় পরিবেশ ছেড়ে এখানে এসে দম আটকে আসে না তোমার?

সেটাই স্বাভাবিক হত, জবাব দিল ডালিয়া, কিন্তু আশ্চর্যের কথা, এখন আর আমার নিজেরই বিশ্বাস হতে চায় না অন্য কোন জগৎ আমি কোনকালে চিনতাম। পাহাড়ী অঞ্চলের মানুষ আমি-সেই কারণেই হয়তো এইসব বিজন এলাকা আমার কাছে আপন বলে মনে হয়।

পরদিন সকালে ওরা ঝোঁপ আর পাহাড় থেকে খসে পড়া পাথরের আড়াল দিয়ে ঘোরা পথে নিজেদের আস্তানা ছেড়ে বেরিয়ে পড়ল। ক্লিফের পাশ ঘেঁষে উত্তর দিকে চলতে চলতে দু’বার দূরে হরিণ দেখতে পেল জেকব। ঘোড়ার পায়ের কাছ থেকে একটা খরগোশ লাফিয়ে উঠে পালিয়ে যাচ্ছিল, তৃতীয় লাফের সময়ে জেকবের গুলিতে মারা পড়ল ওটা।

খরগোশের মাংস খেতে খেতে পেটে চর পড়ে গেছে, বলল সে। কিন্তু মাংস তো বটে?

দু’বার ঘোড়ার পায়ের ছাপ দেখতে পেল ওরা। দাগগুলো খুব মনোযোগের সাথে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করল জেকব। একবার কয়েক মাইল পর্যন্ত ওই দাগ অনুসরণ করে এগিয়েছিল, কিন্তু সেগুলো ক্যানিয়নের আরও গভীরে চলে গেছে দেখে ফিরে এল।

যে দলটাকে আমি খুঁজছি ওরা আরও উত্তরে চড়ে বেড়ায়, চলো এগিয়ে যাই।

বুট মেসার বাঁক ঘোরার সময়ে ঘোড়াগুলো দেখতে পেল ওরা। মুনলাইট ক্রীকের দিক থেকে এসে সমতল জমিটার উপর ইতস্তত ছড়িয়ে ঘাস আর ছোট ছোট ঝোঁপের পাতা খাচ্ছে।

কয়েক মিনিট পরে সোনালী স্ট্যালিয়নটাকে দেখা গেল একটা ঢিবির উপর। নিশ্চল হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে-কান দু’টো সতর্ক ভাবে খাড়া।

দূরত্ব ওদের থেকে এক মাইলেরও বেশি হবে। দূরবীন চোখে লাগাল জেকব। ঠিক কাঁচা সোনার রঙ, বলল সে। কোমরের ওপর একটা সাদা ছোপ। এই দলটাকেই খুঁজছি আমি।

এবার অন্য ঘোড়াগুলোর দিকে মনোযোগ দিল জেকব। মোট পঁচিশ তিরিশটা হবে। কয়েকটারই কাঁধে ও পাছায় সাদা ছোপ রয়েছে।

দেখা শেষ করে ডালিয়ার দিকে দূরবীন বাড়িয়ে দিল জেকব। ওই স্ট্যালিয়নটাকে দেখো। ওটার সাথে আরও কয়েকটাকে ধরব আমি।

ডালিয়া ঘোড়াগুলোকে দেখার ফাঁকে জেকব বলে চলল, বৎসর কয়েক আগে একজন মরমন এসেছিল এই এলাকায়, সাথে করে কয়েকটা উঁচু জাতের ঘোড়া এনেছিল সে। তার নাম ছিল এড লিনেট। ঘোড়াগুলো ওর বাবা স্বয়ং ভার্জিনিয়া আর কেনটাকি থেকে এনেছিল। তারপর এড আইডাহোর নেজ পেরেজ থেকে একটা চমৎকার স্ট্যালিয়ন আর কয়েকটা মেয়ার জোগাড় করে।

এগুলো বুনো ঘোড়া না?

অবশ্যই। একেবারে জংলী। পোষা একটা ঘোড়া খুঁজতে এসে এডকে একটা ভালুকের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ভালুকটা তার ঘোড়াকে আক্রমণ করতে যাচ্ছে। দেখে ছুরি হাতে ঝাঁপিয়ে পড়ছিল সে। ভালুকটা ওর হাতে মারা পড়েছিল বটে কিন্তু মরার আগে তাকেও শেষ করেছিল।

অসাধারণ লোক তো!

হ্যাঁ, ওজনে মাত্র একশো বিশ পাউন্ড হলে কী হবে, শক্ত লোক ছিল সে। ঘোড়ার কোনরকম ক্ষতি সে সহ্য করতে পারত না। ভালুকটা ওকে খামচে কামড়ে ছিন্নভিন্ন করে ফেললেও ওর চামড়ায় নয়-দশ জায়গায় ছুরির মারাত্মক জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছিল।

কথায় কথায় আবার এগিয়ে চলল ওরা একটা ওয়াশ ধরে। বর্ষার পানির তোড়ে পাথর কেটে তৈরি হয়েছে ওয়াশ। সাবধানে এগোতে হচ্ছে, ঘোড়াগুলোর অলক্ষ্যে ওদের কাছে যেতে চাইছে জেকব। এত কিছুর মাঝেও পিছন থেকে কেউ আসছে কিনা সেটা বারবার খেয়াল করে দেখছে সে। এদেশে বেঁচে থাকতে হলে বন্দুক হাতের কাছে রাখা, আর পিছন দিকে নজর রাখা সবচেয়ে দরকারী।

সোনালী ঘোড়াটাকে এখন ধরার ইচ্ছা নেই ওর। কোন এলাকায় ওটা চলাফেরা করে, কোথায় চলে, কোথায় পানি খায় এসব জানতে চায় সে। সবচেয়ে বেশি চায় দেখা দিয়ে ওর সাথে একটু পরিচিত হতে-জেকবের তরফ থেকে ওর কোন বিপদ আসবে না এই বিশ্বাস ওর মনে জন্মাতে পারলে কাজ অনেক এগোবে।

সূর্যাস্তের আগে দু’বার ঘোড়াগুলোর আধ মাইলের মধ্যে গেল ওরা। কিন্তু দু’বারই আরও কাছে যাবার চেষ্টা না করে আবার দূরে সরে এল। মাথা উঁচু করে, নাক ফুলিয়ে, কান খাড়া রেখে শেষবার মাথা কয়েকশো গজ দূর থেকে স্ট্যালিয়নটা ওদের ফিরে যেতে দেখল।

রাতে হসকিনিনি মেসার একটা খাজে ওরা ক্যাম্প করল। ঝোঁপ আর পাথরের আড়ালে আগুন জ্বালাল যেন দূর থেকে দেখা না যায়। খাওয়া সেরে কফির কাপে চুমুক দেওয়ার সময়ে টের পেল সেই ঘোড়াগুলোই বেশ কাছে দিয়ে ওদের পেরিয়ে যাচ্ছে। মাঝ পথে সম্ভবত ওদের গন্ধ পেয়েই একবার থমকে দাঁড়িয়েছিল-পরে গন্ধটা চিনতে পেরে আবার নিশ্চিন্ত মনে এগিয়ে গেল। যাবার আগে একটা ঘোড়া যেন একটু বেশি ইতস্তত করল।

ওই ঘোড়াটা, নিচু স্বরে বলল জেকব, আগুন আর মানুষের গন্ধ চেনে বলে মনে হচ্ছে। খুব সম্ভব অল্পদিন আগেই ওটা আবার জংলী জীবনে ফিরে গেছে।

ডালিয়া ঘুমিয়ে পড়ার পরেও অনেকক্ষণ আকাশের তারাগুলোর দিকে চেয়ে দেখেই কাটাল জেকব। ফ্রীডম থেকে যারা তাড়া করে এসেছিল, তাদের কথাই ভাবছে সে। ওদের চেহারা মনে করার চেষ্টা করছে-প্রত্যেকেই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ লোক-সহজে হাল ছাড়বে না। ভাবতে ভাবতে একসময়ে ঘুমিয়ে পড়ল জেকব।

.

ফ্রীডম বা তার আশেপাশের কেউ সহজে লী-কে চটাতে সাহস পায় না। তারা সবাই জানে লী খুব পরিশ্রমী, সৎ আর দুঃসাহসী। ওকে চটালে উপায় নেই। একটু কঠিন আর অধৈর্যও সে। কোন কাজের সিদ্ধান্ত একবার নিয়ে ফেললে সেটা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ওর স্বস্তি নেই।

পরদিন সকালে সেলুন খোলার সাথে সাথেই বারে হাজির হয়ে গেল লী। সাত-সকালে ওকে দেখে সাবধান হলো ফ্রেড। গতরাতেই আঁচ করেছে সে আজ গোলমাল বাধতে পারে।

নিকোলাস এদিকে এসেছিল আজ? প্রশ্ন করল লী

ওর সাথে জড়াতে চাচ্ছ কেন? লোকটার মাথা থেকে পা পর্যন্ত সবটাই বিষাক্ত বলে মনে হয় আমার।

কঠিন চোখে ফ্রেডের দিকে চাইল লী। বিপদ “শক্ত-পাল্লার” আমাদের কী?

হয়তো…আমাদের বিপদ আনতে পারে সে।

মন্তব্যটা অগ্রাহ্য করল লী। মনস্থির করে ফেলেছে ও-কোন বাধাই আর মানবে না। বলল, ওকে পছন্দ করতেই হবে এমন কোন কথাই নেই–এনপ্রিয়তায় প্রতিযোগিতায় নামছে না সে।

তুমি কি টাউন মার্শাল পদের জন্যে ওর নাম প্রস্তাব করবে?

সে তাই চায়। জেকবকে ধরে আনতে পারলে ওকে কী পদ দেয়া হলো তাতে কিছু আসে যায় না আমার।

ব্যাপারটা আমার ঠিক পছন্দ হচ্ছে না, লী।

লী বিরক্তি ভরা চোখে ওর দিকে চাইল। পছন্দ না হলে তুমিই যাও না, শক্ত-পাল্লাকে ধরে নিয়ে এসো?

ফ্রেডের চেহারা গম্ভীর হয়ে গেল। জবাব না দিয়ে চট করে ঘুরে চলে গেল সে। মানুষকে কিছু কিছু ব্যাপারে একটু সহনশীল হতেই হয়। হাজার হোক ডেরিক ছিল লী-র বন্ধু। পশ্চিমের সবখানেই বন্ধুত্বের উপযুক্ত দাম দেওয়া হয়।

দরজা ঠেলে ডিক আর ডেভ সেলুনে ঢুকল। দুজনে একই টেবিলে বসল ওরা। সচরাচর ওদের বারে ঢুকতে দেখা যায় না। ফ্রেড ওদের অর্ডার মত দুই জ্বলন্ত পাহাড় গ্লাস বিয়ার পৌঁছে দিয়ে এসে আবার শুকনো তোয়ালেটা তুলে নিয়ে গ্লাস পালিশ করতে লাগল। একটু পরেই অ্যালেন আসবে…টাউন মার্শালের ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা শুরু করবে ওরা। খোলা জানালা দিয়ে রাস্তার দিকে চাইল ফ্রেড। গিবন আর ইউজিনের র‍্যাঞ্চে যাবার পথ ওটা। গিবন এখনও আসছে না কেন? এই মুহূর্তেই গিবনের ঠাণ্ডা মাথা আর বিচক্ষণ মতামত ফ্রীডমের দরকার।

একজন মার্শাল আমাদের নিশ্চয়ই দরকার, ডিককে বলতে শুনল ফ্রেড। বখে যাওয়া বাউণ্ডুলে লোকজনের আনাগোনা আজকাল অনেক বেড়ে গেছে শহরে। এই সেদিনের গোলাগুলির ঘটনাই ধরো-লোকটা ছিল বাজে গোছের একটা অকম্মার ঢেঁকি।

নিঃসন্দেহে ওকথা বলতে পারো না তুমি, ডেভ তার দাঁতে ধরা চুরুটটা নামিয়ে বলল। দোকানের ওরা তো বলছে বেশ বড় সাপ্লাই-এর অর্ডার দিয়েছিল লোকটা।

হাসল ডিক। বলল, তুমিও ওই কথা বলছ? আমার তো মনে হয় আর দু’একটা কথার পরেই সে বাকি চেয়ে বসত। লোকটার এদিকে কোন জায়গা জমি থাকত, তবু বুঝতাম-এসব ঢের দেখেছি।

বারে ঢুকে ওদের টেবিলেই বসে একটা বিয়ারের অর্ডার দিয়ে অ্যালেন বলল, আচ্ছা, লী, তুমি যে লোকটার কথা বলছ এই কাজের জন্যে সে উপযুক্ত হবে বলে মনে হয় তোমার?

আড়চোখে ওর দিকেচাঁইল লী। কাজটা সে নিজেই নিতে চেয়েছে, তা ছাড়া লোকটাকে দেখে তো শক্ত-সমর্থ বলেই মনে হয়।

পালিশ করা শেষ করে গ্লাসটা পিছনের তাকে রেখে আবার জানালা দিয়ে বাইরে চাইল ফ্রেড। নাহ, এখনও গিবন বা ইউজিনের দেখা নেই। লোকগুলো একটা বোকামি করতে যাচ্ছে,ফ্রীডমে আজ পর্যন্ত নিজেরা সামলাতে পারে না। এমন কিছু ঘটেনি।

আলোচনার টুকরো টুকরো অংশ ফ্রেডের কানে আসছে। নিকোলাস তো অবশ্যই তার চির শত্রু হয়ে দাঁড়াবে, লী-ও ব্যাপারটা অপছন্দ করবে-কিন্তু যা। হবার হবে, সে এর বিরুদ্ধেই ভোট দেবে। আসল মুশকিল হচ্ছে এই শহরের সংবিধান অনুযায়ী সংখ্যায় এক তৃতীয়াংশ জমির মালিক উপস্থিত থাকলেই ভোটের মাধ্যমে একটা স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। অর্থাৎ মাত্র বারোজন উপস্থিত থাকলেই চলবে? এখন লী, ডিক, ডেভ, অ্যালেন এরা যদি নেতৃত্ব দেয় তবে বাকি কয়েকজনও সহজেই জুটে যাবে।

ক্লাইভ আর বার্ট বারে ঢুকে এক বোতল মদ কিনে নিয়ে একটা আলাদা টেবিলে গিয়ে বসল। একটু পরেই ফ্রেড লক্ষ করল, পেনসিল দিয়ে টেবিলের উপর একটা নক্সা এঁকেছে বার্ট। নক্সার উপর একটা কাটা চিহ্ন এঁকে সে বলল, ঠিক এইখানটায় হচ্ছে মরমন কুয়া। আমরা যদি…’ গলার স্বর হঠাৎ নিচু করে ফেলায় আর শুনতে পেল না ফ্রেড। আর শোনার দরকারও নেই-হারানো ওয়্যাগনের আলাপই করছে ওরা।

লী উঠে এগিয়ে গেল ওদের টেবিলের দিকে। তোমার সাথে আমার জরুরী আলাপ আছে, বার্ট, বলল সে।

নিকোলাসকে মার্শাল করার ব্যাপারে তো? সে যদি শক্ত-পাল্লাকে ধরে আনবে বলে অঙ্গীকার করে-আমি ওকেই ভোট দেব।

আমিও, বলল ক্লাইভ।

নিজের টেবিলে ফিরে গেল লী। সবই ফ্রেডের কানে আসছে… কিন্তু গিবন কী করছে? সে আসছে না কেন এখনও?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *