০৬. চোখের পলকে খোলা জায়গাটুকু

চোখের পলকে খোলা জায়গাটুকুর মাঝখানে চলে এল সাসকোয়াচ। অস্টিনের ফুট দশেক সামনে থমকে দাঁড়াল। এক মুহূর্ত স্থির চোখে দেখল অস্টিনকে। যেন তার শক্তির পরিমাণ বুঝে নেবার চেষ্টা করছে। যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করল জানোয়ারটা। ধীরে ধীরে সামনের দিকে ঝুঁকছে। কোমর বাঁকা করে দুহাতের আঙ্গুলের ডগা মাটিতে ছোঁয়াল। আক্রমণাত্মক ভঙ্গিটা অনেকটা গরিলার মত।

সাসকোয়াচ ঠিক কতখানি বুদ্ধিমান, জানা নেই অস্টিনের। হয়ত বা মানুষের পর পরই ওর স্থান। কিন্তু কি করে বোঝা যাবে সেটা? মানুষের কথা বুঝতে পারে কিনা, কে জানে। কথা বলল অস্টিন, মানুষের কথা বোঝ তুমি?

উত্তরে দপ করে জ্বলে উঠল সাসকোয়াচের চোখ। দৃষ্টি দিয়েই অস্টিনকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ভস্ম করে দেবে যেন।

কোন জাতের জীবন তুমি? আবার জিজ্ঞেস করল অস্টিন। বিকট দাঁত বের করে ভেঙুচাল সাসকোয়াচ।

রাগ কর না, সাসকোয়াচ, নরম গলায় বলল অস্টিন। বুঝে থাকলে আমার প্রশ্নের উত্তর দাও।

নড়ে উঠল জীবটা। সরাসরি আক্রমণ করল না। অস্টিনকে কেন্দ্র করে চক্কর দিতে আরম্ভ করল।

কি হল, এগিয়ে আসতে ভয় পাচ্ছ? বুঝল অস্টিন, জীবটা টের পেয়ে গেছে, সে সাধারণ মানুষ নয়। একটা ব্যাপারে অস্টিন নিশ্চিত হল, সাসকোয়াচ অত্যন্ত বুদ্ধিমান।

অস্টিনের কথায় আরেকবার বিকটভাবে দাঁত ভেঙচাল সাসকোয়াচ।

হ্যাঁ, ভাল কথা, আমাদের মার্লিন নিশ্চয়ই তোমার কাছে আছে? ওই মেয়েটা, যাকে ক্যাম্প থেকে…

হঠাৎ এক লাফে একেবারে সামনে চলে এল জীবটা। হাত বাড়িয়ে ধরতে চেষ্টা করল অস্টিনকে।

হুঁশিয়ার হয়েই আছে অস্টিন। বিদ্যুৎ গতিতে ছিটকে পেছনে সরে গেল সে। সামনে ছুটে এল সাসকোয়াচ। পাশ কাটাল অস্টিন। তার পাশ দিয়ে দমকা হাওয়ার মত ছুটে গেল জীবটা।

পাল্টা আক্রমণ করল না অস্টিন। কথা বুঝতে পারলে, বুঝিয়ে শুনিয়ে জীবটাকে কায়দা করার ইচ্ছে তার।

ঘুরে দাঁড়িয়েছে সাসকোয়াচ।

দেখ, মারপিট মোটেই পছন্দ না আমার। কথা বললেও আক্রমণ প্রতিহত করার জন্যে তৈরি হয়েই আছে অস্টিন। তবে ইচ্ছে করলে তোমার মত এক আধজনকে পিটিয়ে লাশ করতে পারি। এখন দয়া করে বল, মানুষের কথা বোঝ তুমি?

লাফিয়ে কাছে চলে এল সাসকোয়াচ। অস্টিনকে ধরতে চায়। কায়দা করে তার নাগালের বাইরে থাকল অস্টিন।

দেখ, আমরা দুজনে বন্ধু হয়ে যেতে পারি…

এবারে আর লাফ দিল না জীবটা। ধাঁ করে সোজা ছুটে এল। পৌঁছতে গিয়ে একটা ছোট্ট গাছের চারায় পা বেধে গেল অস্টিনের। পড়ল না, কিন্তু বাধা পাওয়ায় সময় মত সরে যেতে পারল না। তার একটা হাত ধরে ফেলল সাসকোয়াচ। টান মেরে ছুঁড়ে দিল ওপর দিকে।

শূন্যে থাকতেই ভারসাম্য ঠিক করে ফেলেছে অস্টিন। আলতো ভাবে এসে নামল মাটিতে। ছাড়া পাওয়া স্প্রিঙের মত লাফ দিল পরক্ষণেই। একেবারে সসকোয়াচের সামনে এসে নামল। মুখখামুখি হল দুজনে।

বুঝলাম, বলল অস্টিন। ধোলাই দরকার তোমার…

লাফিয়ে এসে তাকে ধরতে চেষ্টা করল সাসকোয়াচ। সামান্য একটু পাশে সরে গেল অস্টিন। পরক্ষণেই বায়োনিক হাতে প্রচন্ড জোরে জীবটার পেটে ঘুসি মারল। বাতাস ভরা রবারের টায়ারের ওপর যেন আঘাত পড়ল। কোন প্রতিক্রিয়া নেই আজব জীবটার। অথচ এই আঘাতে গরিলার মত জানোয়ারও মাটিতে শুয়ে পড়ার কথা। শুধু হাপর থেকে বাতাস বেরোনোর মত একটা আওয়াজ করে উঠল সাসকোয়াচ। এ কোন ধরনের জীবরে বাবা, ভাবল অস্টিন।

তড়াক করে পিছনে সরে এল অস্টিন। আবার মারার জন্যে তৈরি হল।

তীব্র গতিতে সামনে ছুটে আসছে সাসকোয়াচ। লাফ দিল অস্টিন। শূন্যে ডিগবাজি খেল। চক্কর পুরো হতেই সোজা করল দুপা। ভয়ংকর ফ্লাইং কিক লাগল জীবটার সোলার প্লেক্সাসে। ঠেসে ভরা ময়দার বস্তায় লাফ মারল যেন সে। পেছনে উল্টে পড়ল সাসকোয়াচের ভারি শরীরটা। তার দেহের ভারে চেপ্টে গেল বিশাল এক ঝোপ।

লাথি মেরেই কাত হয়ে মাটিতে পড়ে গিয়েছিল অস্টিন, কিন্তু চোখের পলকে উঠে দাঁড়াল আবার।

ভারি শরীরটা টেনে তোলার চেষ্টা করছে সাসকোয়াচ।

মারপিটের শখ মজেছে? জিজ্ঞেস করল অস্টিন। এবার বল তো, জীবটা আসলে কি তুমি?

উঠে দাঁড়িয়েছে সাসকোয়াচ। ভয়ংকর এক হাঁক ছাড়ল। আওয়াজটা কেমন যেন যান্ত্রিক মনে হল অস্টিনের। ক্রমেই তাকে আরও বিস্মিত করছে আজব জীবটা। ওটা কি, তাই বুঝতে পারছে না এখনও।

আবার এগিয়ে আসছে সাসকোয়াচ। কিন্তু এবারে আর একরোখার মত নয়। বুঝে শুনে, গার্ড রেখে। অপেক্ষা করছে অস্টিন। তার তিন ফুটের মধ্যে এসেই হঠাৎ বাঁয়ে সরল জীবটা, পরক্ষণেই ডানে। এবং ডানে সরার সময়ই প্রচন্ড ঘুসি চালাল।

অস্টিনের বুকে লাগল আঘাতটা। উড়ে গিয়ে একটা রেডউডের চারার ওপর পড়ল। শব্দ করে ভাঙল চারাটা। হাত পা ছড়িয়ে চিত হয়ে মাটিতে পড়ে গেল অস্টিন।

এগিয়ে আসছে সাসকোয়াচ। সামলে নিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে অস্টিন। মুখোমুখি হল দুজনে। আবার অস্টিনের বুকে মারার চেষ্টা করল সাসকোয়াচ। কিন্তু এবারে আর সুযোগ দিল না অস্টিন। চট করে বসে পড়ল। ঘুষিটা তার মাথার উপর দিয়ে চলে গেল। ভারসাম্য হারাল সাসকোয়াচ। একটু কাত হয়ে গেল। বেকায়দা অবস্থায় থেকে ভয়ানক ঘুসি খেল পেটে। সামনের দিকে একটু কুঁজো হয়ে গেল তার শরীর। কায়দামত পেয়ে জীবটার ডান চোয়ালে বায়োনিক হাতের এক সাংঘাতিক ঘুষি লাগাল অস্টিন। ছিটকে মাটিতে পড়ে গেল সাসকোয়াচ। কিন্তু আশ্চর্য! সামান্যতম গোঙানি কিংবা ওই ধরনের কোন আওয়াজ বেরোল না তার মুখ থেকে এবারও। ব্যথা পাবার কোন লক্ষণই নেই।

অস্টিনের অবচেতন মনে ছিল চিন্তাটা এতক্ষণ, এবারে স্বচ্ছ হতে আরম্ভ করল। তারই মত বায়োনিক কোন সৃষ্টি নয়ত জীবটা? গরিলা সাইবর্গ? কিন্তু গরিলা তো এত লম্বা হতে পারে না।

অন্ধকার সেন্সর ডিসপ্লে রুমে বসে টেলিভিশনের পর্দায় যুদ্ধ দেখছে তিনজনে।

দারুণ…চমৎকার…! হেসে বলল প্রথম পুরুষ।

শক্তিতে কেউ কারও চাইতে কম না, বলল দ্বিতীয়জন।

আমার সন্দেহ আছে, বলল মেয়েটা।

এখনও বাজি রাখতে পারি, সাসকোয়াচই জিতবে। জোর দিয়ে বলল প্রথমজন।

আরেকটা আক্রমণ ঠেকাবার জন্যে তৈরি হচ্ছে অস্টিন। আচমকা তেড়ে এল সাসকোয়াচ। কিন্তু অর্ধেক এসেই কি মনে করে থেমে গেল। আড়চোখে ডানে তাকাল। প্রায় আধমন ওজনের একটা বিশাল পাথর পড়ে আছে। এগিয়ে গিয়ে পাথরটা তুলেই ধাই করে ছুঁড়ে মারল সে। বায়োনিক হাতের তালু দিয়ে অতি সহজেই পাথরটাকে ঠেকাল অস্টিন, তারপর শটপুটে বর্শা ছোঁড়ার মত করে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিল।

আরে, বলল অস্টিন, যুদ্ধে টুলস ব্যবহারও জানা আছে দেখছি তোমার?

উত্তরে মাথা নিচু করে ডাইভ দিল সাসকোয়াচ। দড়াম করে মাথা দিয়ে মারল অস্টিনের পেটে। পড়ে গেল অস্টিন। পেটের চামড়ার নিচে রবারের পেশী লাগান থাকায় ব্যথা পেল না। কিন্তু উঠতে আধ সেকেন্ড বেশি সময় লাগল। এই সময়টুকুতেই তৈরি হয়ে গেল সাসকোয়াচ। অস্টিন উঠে দাঁড়াবার সঙ্গে সঙ্গে তাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল। অস্টিনকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে নিয়ে দানবীয় হাতের চাপ বাড়াল সে।

আরে ছাড়, ছাড়। হাড়গোড় ভেঙে ফেলবে নাকি আমার? ভয়ংকর চাপে দম ফেলতে পারছে না সিক্স মিলিয়ন ডলারম্যান। ঝাড়া মেরে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করল অস্টিন, পারল না। অনেক কষ্টে সাসকোয়াচের আলিঙ্গন থেকে বাঁ হাতটা বের করে এখনই পিস্টনের মত তীব্র বেগে পেছন দিকে চালাল। একটু ঢিল হল আলিঙ্গন। এই সুযোগে ঝাড়া মেরে নিজেকে মুক্ত করল অস্টিন।

অস্টিনের বায়োনিক কনুয়ের এই ভয়ংকর খোচায় সঙ্গে সঙ্গে প্রাণ হারাবে যে কোন গরিলা, কিন্তু সাসকোয়াচের কিছুই হল না। দুপা পিছিয়ে গেছে সে। চোখ দুটো আরও উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে।

আধ সেকেন্ড অস্টিনের দিকে স্থির তাকিয়ে থাকল সাসকোয়াচ, তারপর ঘুরেই হাঁটতে শুরু করল। না, যুদ্ধে হেরে চলে যাচ্ছে না সে। একটা ইঞ্চি চারেক পুরু গাছের চারার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। দুই বিশাল থাবায় চেপে ধরে হ্যাঁচকা টানে উপড়ে আনল চারাটা। এটা দিয়েই অস্টিনকে পেটানোর ইচ্ছে। স্থির দাঁড়িয়ে অদ্ভুত জীবটার গতিবিধি লক্ষ্য করছে অস্টিন।

কাছে এসে গাছটা দিয়ে মারল সাসকোয়াচ, বেসবল ব্যাট দিয়ে বল মারার মত করে। তৈরিই ছিল অস্টিন। বায়োনিক বাহু দিয়ে আঘাতটা ঠেকাল। তারপর গাছটা চেপে ধরল দুহাতে। কিন্তু রাখতে পারল না। গর্জন করে উঠে হ্যাঁচকা টানে গাছটা ছাড়িয়ে নিল সাসকোয়াচ। টানের চোটে সামনে ঝুঁকে গেল অস্টিন। সামলে নেবার আগেই গাছ ঘুরিয়ে আবার মারল দানবটা। এবারে অন্যপাশে। বাড়িটা লাগল অস্টিনের রক্তমাংসের হাতে। তীব্র ব্যথা ছড়িয়ে পড়ল বাহুতে। অস্ফুট একটা শব্দ করে পড়ে গেল সে।

সেন্সর ডিসপ্লে রুমের তিনজনে একটু অবাক হল। অস্টিনের পতনটাকে যেন ঠিক মেনে নিতে পারছে না ওরা। কৌতূহল আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

আরে, বলল প্রথম পুরুষ, ওর বাঁ হাতটাই শুধু বিশেষভাবে তৈরি মনে হচ্ছে!

ওরকমই তো লাগছে, বলল মেয়েটা।

ডান হাতে গাছের চারাটা উঁচু করে ধরল সাসকোয়াচ। গোড়া সামনের দিকে। বল্লম ছোড়ার মত ছুঁড়ল অস্টিনের দিকে।

গড়িয়ে একপাশে সরে গেল অস্টিন। তার পেছনের একটা গাছের গুঁড়িতে গিয়ে প্রচন্ড জোরে লাগল চারাটা।

উঠে দাঁড়িয়েছে আবার অস্টিন। এগিয়ে এসেছে সাসকোয়াচ। দুজনে দুজনের দিকে চেয়ে গার্ড রেখে ঘুরতে লাগল।

কি শুরু করেছ? বলল অস্টিন। পরিচয় দিতে এত আপত্তি কেন?

সেই একই উত্তর। গর্জন করে ছুটে এল সাসকোয়াচ।

যা শালা! বলেই পাশে সরে নুয়ে গেল অস্টিন। তার পাশ দিয়ে ছিটকে বেরিয়ে যাবার সময় খপ করে সাসকোয়াচের ডান হাতটা ধরে ফেলল। হ্যাঁচকা টান খেয়ে থেমে গেল সাসকোয়াচ। মুচড়ে হাতটা ওটার পেছনে নিয়ে এল অস্টিন, ঠেলে দিল ওপর দিকে। হাঁপর থেকে জোরে বাতাস বেরিয়ে যাবার মত এক ধরনের আওয়াজ করল সাসকোয়াচ এবারেও।

সাসকোয়াচের পেছনে দাঁড়িয়ে ওর হাতটা আরও ওপর দিকে ঠেলে দিল অস্টিন। এখনও বল, তুমি আসলে কি?

নিজেকে ছাড়িয়ে নেবার ব্যর্থ চেষ্টা করল সাসকোয়াচ। অস্টিন যেমনভাবে তাকে মেরেছিল পেছনে কনুই চালাবার চেষ্টা করল। পারল না। এতক্ষণ শুধু আত্মরক্ষা করে এসেছে অস্টিন। মনে মনে ঠিক করল, আর না। এবারে এর পরিসমাপ্তি ঘটাতে হবে। বেকায়দা অবস্থায় ফেলে, ব্যাটা কি ধরনের জীব জানতে হবে। প্রচন্ড জোরে সাসকোয়াচের হাতটা ওপরের দিকে ঠেলে দিল সে।

চিৎকার করে উঠবে সাসকোয়াচ, ভেবেছিল অস্টিন। কিন্তু কিছুই করল না দানবটা। তার বদলে আশ্চর্য একটা ব্যাপার ঘটল। ফাপা ধাতব শব্দ করে হাতটা কাধের কাছ থেকে ছিড়ে এল সাসকোয়াচের। রবার ছেড়ার শব্দ হল। কয়েকটা তীক্ষ্ণ শব্দ করে ওটার ভেতরে ইলেকট্রিক কানেকশন জ্বলে যাবার আওয়াজ হল বার কয়েক।

ভুরু কুঁচকে সাসকোয়াচের ছেড়া হাতটার দিকে তাকিয়ে রইল অস্টিন। ছেড়া জায়গায় চামড়া নেই, মাংস নেই, রক্ত নেই, হাড় নেই। বদলে আছে জটপাকান অসংখ্য তার, পুলি ইত্যাদি। রবারের তৈরি কৃত্রিম মাংসপেশী। ভেতর থেকে হালকা ধোঁয়া বেরুচ্ছে। পোড়া রবারের গন্ধ নাকে লাগছে অস্টিনের। গরিলাসাইবর্গ নয় সাসকোয়াচ, অতি উন্নতমানের গরিলা-রোবট।

নিজের ছেড়া হাতটার দিকে তাকিয়ে আছে সাসকোয়াচ। হঠাৎই ফিরে তাকাল ওটা অস্টিনের দিকে। হাপর থেকে বাতাস বেরোনর জোর আওয়াজ করে ছুটে এল। অস্টিন কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার হাত থেকে নিজের ভেঁড়া হাতটা ছিনিয়ে নিয়ে বনের দিকে ছুটে পালাল দ্রুত গতিতে।

পিছু নিল অস্টিন। মনে হাজারো চিন্তা এসে ভর করেছে। সাসকোয়াচের কিংবদন্তী অনেক পুরনো কমপক্ষে আড়াইশো বছর আগে থেকেই এই এলাকার ইন্ডিয়ানদের মাঝে এর কথা প্রচলিত। কিন্তু তখনকার পৃথিবীর কোন মানুষের পক্ষে অতি উন্নতমানের এই রোবট বানানো একেবারেই অসম্ভব ব্যাপার ছিল। তাহলে? তাহলে কি অদ্ভুত একটা চিন্তা খেলে গেল অস্টিনের মনে। ভাবতে ভাবতেই সাসকোয়াচের পিছু পিছু ছুটছে সে। যে করেই হোক ধরতে হবে রোবটটাকে।

দ্রুত ছুটছে অস্টিন। তার থেকে বড়জোর পঁচিশ তিরিশ গজ দূরে আছে সাসকোয়াচ। একটা হাত হারিয়ে গতির দ্রুততাও যেন অনেকখানি কমে গেছে ওটার। কোন ধরনের পাওয়ার লস নিশ্চয়ই।

ব্যাটল মাউনটেনের পশ্চিম ঢালের দিকে ছুটেছে সাসকোয়াচ। বনসীমার হাজার ফুট নিচে, এক জায়গায় পড়ে থাকা কয়েকটা গাছ লাফিয়ে ডিঙাল সে। একটা খাদ ডিঙাল, তারপর হারিয়ে গেল আরেকটা বিশাল খাদের ভেতরে। খাদটার পাড়ে পৌঁছে দেখল অস্টিন, তলা ধরে দ্রুত ছুটছে সাসকোয়াচ। পাহাড়ী ঢল সৃষ্টি করেছে কয়েকশো গজ দৈর্ঘ্যের এই খাদটা। এপারে দাঁড়িয়েই খাদের ওপারে পাহাড়ের গায়ের বিশাল গুহামুখটা দেখতে পাচ্ছে অস্টিন। বেশ কিছু রেডউড জন্মে আছে ওখানটায়, কয়েকটা পড়ে আছে মাটিতে। বায়োনিক চোখ ব্যবহার না করলে গুহামুখটা দেখতেই পেত না সে।

গুহামুখের কাছে গিয়ে একবার থমকে দাঁড়াল সাসকোয়াচ। তারপর ঢুকে পড়ল ভেতরে।

লাফিয়ে খাদের তলায় নামল অস্টিন। তীব্র গতিতে ছুটে গিয়ে দাঁড়াল গুহামুখে। ভেতরে উঁকি দিল।

পাথুরে খাদ। দশ ফুট মত উঁচু, পাশেও এতটাই হবে। তিরিশ ফুট সোজা এগিয়ে গিয়ে হঠাৎ শেষ হয়ে গেছে। ঢালু হয়ে একটা পাথরের দেয়াল নেমে এসেছে ওপাশে। কিন্তু অস্টিনের ধারণা ওখানেই শেষ হয়নি সুড়ঙ্গ।

চোখের ইনফ্রারেড স্ক্যানার চালু করল অস্টিন। কিন্তু সন্দেহজনক কিছু দেখল না। সাবধানে গুহামুখের ভেতরে পা রাখল সে। ইনফ্রারেড পরিবর্তন করে ফটোমালটিপ্লায়ার চালু করল। অস্টিনের চোখের সামনে একেবারে দূর হয়ে গেল গুহার অন্ধকার, কয়েক হাজার ক্লিয়েগ লাইট জ্বলে উঠেছে যেন।

একেবারে খালি গুহাটা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *