০৬. আকাশের দিকে চাইল সলটার

আকাশের দিকে চাইল সলটার, আঁধার ঘনিয়ে আসছে। জোহানকে খুঁজে বার করে তার সঙ্গে কথা বলতে হবে। জর্জ ওয়াগনারের ওপর খেপে উঠল সে মনে মনে। জোহানের সঙ্গে এমন ব্যবহার না করলেও চলত। জোহানকে দিয়ে সত্যি কথা বলিয়ে নেয়ার সুযোগটা নষ্ট করে দিল জর্জ। তবে হাল ছাড়ার পাত্র নয় সলটার। সুযোগ সে বার করবেই।

স্যালুনের দিকে হাঁটা ধরল ও। ওর পেছনে দেখতে পেল মার্টিনকে। নিশ্চিন্ত হল সে। বিপদের সম্ভাবনা দেখলেই সতর্ক করে দেবে মাটিন।

স্যালুন খোলাই ছিল। গোটা দুয়েক প্রদীপ জ্বলছে ভেতরে। ব্যাটউইং ডোরের ওপর দিয়ে তাকাল সলটার। বারের কাছে দাঁড়িয়ে রয়েছে জো। তবে জোহানকে দেখা গেল না ভেতরে। সলটার ঢুকে পড়ল স্যালুনে। মুহূর্ত পরেই ওকে অনুসরণ করে ঢুকল মার্টিন। নিজেদের জন্যে বিয়ার কিনল সলটার। বারের কাছে দাড়িয়ে গল্প করতে লাগল ওরা।

জোহানের টিকিটিও দেখলাম না, জো বলল। আস্তাবলের বাইরে হিচিং রইলে রয়েছে ওর ঘোড়া। বোধহয় শহরে বেশিক্ষণ থাকার ইচ্ছে নেই। টেণ্ডার বলেছে গত শনিবার তুমি জোহানকে স্যালুন থেকে নিয়ে যাওয়ার পর আর দেখেনি ওকে।

হেলগা ডিকসন, বলল সলটার। ওখানেই রয়েছে সে। আমি চিনি ওকে। বাপের সঙ্গে ঝগড়া করে এসেছে। কাজেই এখন সহানুভূতি দরকার ওর।

কিন্তু ম্যাকগ্র দেখে ফেললে বিপদ আছে, জো বলল।

তুমি জান না, জো, বলল সলটার। ম্যাকগ্র জোহানকে উৎসাহিত করছে। মেয়েটির সঙ্গে সময় কাটানর জন্যে। কেন, সেটাই রহস্য।

জো-র রুক্ষ মুখে বিস্ময় লক্ষ করে হেসে ফেলল সলটার। প্রথমে শুনে আমিও বিশ্বাস করিনি। চল, হেলগার কেবিনে গিয়ে দেখি জোহান রয়েছে কিনা।

বিয়ার শেষ করে বেরিয়ে এল ওরা। ছায়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। দূরের চূড়াগুলোর আড়ালে অদৃশ্য হয়েছে সূর্য।

তুমি পিছন থেকে আমাদের কভার দাও, মার্টিন, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পড়ে নির্দেশ দিল সলটার। মাথা ঝাঁকিয়ে সায় জানাল মার্টিন। ওদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার জন্যে দাঁড়িয়ে পড়ল সে। ওরা খানিকদূর এগোতেই পিছু নিল। চোখজোড়া সদাসতর্ক। প্রয়োজনের মুহূর্তে সিক্সগানটা টেনে বার করার জন্যে তৈরি রয়েছে হাত।

সলটার দাঁড়িয়ে পড়ল হঠাৎ, চাইল চারপাশে। বাফেলো ফ্ল্যাট নিস্তব্ধ। আজ শুক্রবার। এসময়ে প্রচুর লোক থাকার কথা স্যালুনে। আশপাশের বাড়িঘর গুলোতে আলো জ্বালানো হয়েছে। ডান দিকে মোড় নিল সলটার। হেঁটে চলল ফুটপাথ ধরে। এসে থামল এক সারি বাড়ির সামনে। শহরের এ এলাকায় স্বল্প আয়ের লোকজন বাস করে। গোটা ত্রিশেক বাড়ি রয়েছে এখানে।

ওইটাতে স্যালুনের মেয়েরা থাকে, একটা কেবিনের দিকে আঙুল তাক করল জো। অন্যান্য বাড়িগুলোর চেয়ে খানিকটা তফাতে রয়েছে ওটা।

তুমি জানলে কিভাবে? প্রশ্ন করল মার্টিন। তবে জবাব শোনার জন্যে অপেক্ষা করল না। হেসে উঠল দু’জনেই।

এগোল সলটার। লণ্ঠন জ্বলছে কেবিনে। সে আশা করল জোহানকে পারে ওখানেই। কেবিনের কাছে পৌঁছে থেমে দাঁড়াল সলটার। ফিরল দুই সহযাত্রীর দিকে।

আড়াল নাও তোমরা। চোখ-কান খোলা রাখবে, বলল সে। জোহানের সঙ্গে আমার একা কথা বলাই ভাল।

দেখো, ভালুকটার খপ্পরে পড়ো না যেন, বলল জো। ম্যাকগ্র সম্ভবত শহরেই আছে। এবং এ জায়গাটাই সবচেয়ে পছন্দ তার।

আমাকে চিনতে বাকি নেই ওর, ঘোষণা দিল সলটার। ঘুরল সে। পৌঁছে গেল কেবিনের দরজার কাছে। টোকা দিল বার কয়েক। কয়েক সেকেন্দ্রে বিলম্ব, তারপর ছিটকিনি খোলার শব্দ হল ভেতর থেকে। খুলে গেল দরজা। সামনে দাঁড়ানো মেয়েটিকে চেনে সলটার। হেলগা ডিকসনের বয়স বড় জোর বাইশ। লম্বা, সোনালি চুলগুলো ছড়িয়ে রয়েছে কাঁধের ওপর। নিঃসন্দেহে সুন্দরী। হেলগার তাকানর ভঙ্গি দেখে মনে হল যেন সলটারের জন্যেই অপেক্ষা করছিল। সে।

কি খবর তোমার? অভ্যস্ত কণ্ঠে বলল সে। কুকুর হারিয়েছ আবার?

মৃদু হাসল সলটার। জোহানকে বারবার বক্স ডব্লিউতে ফিরিয়ে নিয়ে যায় সে। ফলে ব্যাপারটা সবার কাছেই তামাশা হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন।

ও আছে এখানে? থাকলে একটু ডেকে দাও। পাঁচ মিনিটের বেশি সময় নেব, বলল সলটার।

এখানে নেই, ডিয়ার, জবাব দিল মেয়েটি। আমি ম্যাকগ্রর জন্যে অপেক্ষা করছি। তবে চাইলে ভেতরে আসতে পার। গত শনিবারের ঘটনা শুনেছি আমি।

তোমার পক্ষেই সম্ভব। সেদিনের পর ম্যাকগ্রর সব কিছুর ওপরে তোমার অধিকার এসে গেছে। এমনকি আমার ওপরেও।

ধন্যবাদ, সলটারের হাসি দু’কানে গিয়ে ঠেকল। জোহানকে খুব দরকার আমার। ওকে সত্যিই দেখনি? প্রসঙ্গ পাল্টাল সে।

এসেছিল। ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছি। বলেছি ম্যাকগ্র আসছে।

ও, ঘুরে রওনা দেয়ার সময় আবার দাঁড়িয়ে পড়ল সলটার। জোহান কোথায় গেছে বলেছে কিছু?

উহুঁ। আমাকে কিছু বলে না ও।

তাই? আমি ভেবেছিলাম তোমরা খুব ঘনিষ্ঠ, কথা আদায়ের চেষ্টা করল সলটার। কিন্তু ওর ফাঁদে পা দেয়ার মেয়ে হেলগা নয়। চরে খায় সে। বিদ্রুপাত্মক হেসে সলটারের মুখের ওপর দড়াম করে দরজা বন্ধ করল ও। ছিটকিনি লাগিয়ে দিল।

ঠোঁট চাপল সলটার, ক্ষতস্থান ব্যথা করছে। কাউবয় দুজনের কাছে ফিরে এল সে। নেই, হতাশ কণ্ঠে বলল সে। এসে চলে গেছে। হেলগা বলল আজ রাতে ম্যাকগ্র আসবে। হয়ত ওর সঙ্গে দেখা করার জন্যে শহরের বাইরে গেছে জোহান।

আমার তা মনে হয় না, খুব সম্ভব ম্যাকগ্রর জন্যে কোথাও ঘাপটি মেরে অপেক্ষা করছে সে, জো বলল।

হতে পারে, সলটার বলল। জো, তুমি এক কাজ কর। আস্তাবলে গিয়ে লুকিয়ে বসে থাক। ম্যাক নিশ্চয়ই একা আসবে না। সঙ্গে লোকজন থাকবে। ওদের সঙ্গে কথা বলবে সে, তুমি আড়ি পেতে শুনবে কি বলে। কিছুতেই ধরা পড়া চলবে না কিন্তু। বুঝেছ?

সজোরে মাথা ঝাঁকাল জো। ঘুরে রওনা দিল। মার্টিন রইল সলটারের সঙ্গে। নির্দেশের অপেক্ষা করতে লাগল সে। চুপ করে রয়েছে সলটার। ভাবছে। জোহানকে না পাওয়া পর্যন্ত কিছুই করার নেই ওদের, সতর্ক থাকা ছাড়া। খুনীর টার্গেট হওয়ার কোন ইচ্ছে নেই ওর। তারচেয়ে সরাসরি সাক্ষাৎ হওয়াই ভাল। খুনী ম্যাকগ্র নিজে বা ওর র‍্যাঞ্চের আর কেউ হতে পারে। শহরে এসে সলটারকে ঘুরে বেড়াতে দেখলে মাথা খারাপ হয়ে যাবে ম্যাকগ্রর। হয়ত আবার খুন করার বা করার চেষ্টা করতে পারে। সলটারকে পেছন থেকে মার্টিন কভার দিলে খুনী আর তার চান্স সমানই বলতে হবে। মার্টিনকে পরিকল্পনার কথা জানাতেই প্রবল আপত্তি করল সে।

বোকামি কোরো না, সলটার, প্রায় চেঁচিয়ে উঠল মার্টিন। তুমি মারা পড়লে নিজেকে কোনদিন ক্ষমা করতে পারব না আমি। যদি ওকে দেখতে না পাই তবে? যদি পিস্তল ড্র করতে দেরি হয়ে যায় আমার? না, এতবড় ঝুঁকি কিছুতেই নেব না আমি।

আমার জান গেলে যাক, বলল সলটার। ঝুঁকি আমি নেবই।

ব্যাপারটা আমার পছন্দ হচ্ছে না, সলটার, অসন্তোষভরে বলল মার্টিন। তুমি আমার বস, যা বলবে তাই করতে বাধ্য আমি। তবে একটা অনুরোধ করব, নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চলবে। নইলে কভার করতে পারব না।

হেসে সায় দিল সলটার। হাঁটা ধরল মেইন রোডের দিকে। রাস্তার আলোয় জোর শরীরটা চোখে পড়ল ওর। রাস্তার উল্টোদিকে চলে গেল সলটার। ছোট স্যালুনগুলো চেক করার জন্যে। পুরো রাস্তাটা হেঁটে এল সে। তার পিছে সর্বক্ষণ লেগে রইল মাটিন।

ছোট শহরটা সম্পূর্ণ খোঁজার পর বিরক্ত হয়ে পড়ল সলটার। জোহান নেই কোথাও। রাস্তার এক কোণে থামল সে। তার কাছে ঘেঁষে এল মাটিন। কয়েকটা নিচুপ মুহূর্ত কাটল। তারপর সলটার ঘুরে হাঁটা দিল আস্তাবলের দিকে। ম্যাকগ্রর

আসার সময় হয়ে এল বোধহয়, ভাবল সে।

উঠনে যখন প্রবেশ করল ওরা তখন আলো নেই আস্তাবলে। একটা ওয়াগনে। গাদা করা রয়েছে খড়, সেটার ছায়ায় এসে দাঁড়াল সলটার। জো ভেতরে রয়েছে। কাজেই ওদের ঢোকার কোন দরকার নেই। ওয়াগনের ছায়ায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা। করতে লাগল ওরা। দূরের স্যালুনগুলো থেকে ভেসে আসছে হৈ-হল্লার ক্ষীণ শব্দ। এভাবে কতক্ষণ কেটে গেছে জানা নেই সলটারের। হঠাৎ খুরের শব্দে সচকিত হল ওরা। দু’জনে খানিকটা চেপে এল ওয়াগনের গায়ে। চার অশ্বারোহী উঠন পেরিয়ে ঢুকল ভেতরে। তারপর এল আস্তাবলের দিকে।

ব্যথা ভুলে গেল সলটার। সতর্ক হয়ে গেছে। চারজনের প্রথমজন বক্স ওর ফোরম্যান ম্যাকগ্র। সলটারের ঠিক উল্টোদিকে, ওয়াগনের অন্যপাশে ঘোড়া থামাল সে।

শোন, সহযাত্রীদের উদ্দেশে বলল, আমি কোন গোলমাল চাই না, কথাটা আবার বলে রাখছি। নতুন শেরিফ হার্পারের চেয়েও বদমাশ। কাটলি, তুমি শহরের খবরাখবর জোগাড় করবে। জানা দরকার এখানকার কি অবস্থা। সলটার শহরে এসেছিল কিনা বা এখনও রয়েছে কিনা জানতে হবে।

আচ্ছা, দ্রুত ঘোড়া ছোটাল একজন। বাকি দুজন ম্যাকগ্রর কাছাকাছি হল।

জোহান ওয়াগনার, সম্ভবত শহরেই রয়েছে, ওদের উদ্দেশে বলল ম্যাক, ওকে খোঁজ। জরুরি কথা আছে। হেলগার কেবিনে যেতে বলবে ওকে। আমি ওখানেই থাকব।

লোক দু’জন নেমে ঘোড়া নিয়ে ঢুকল আস্তাবলে। সোজা হল সলটার। দেখল উঠন পেরিয়ে গেল ম্যাকগ্র। মার্টিনের দিকে চাইল সে। ঝলসে উঠতে দেখল কাউবয়-এর সাদা দাঁত।

হেলগার কেবিনে গেল ম্যাকগ্র। আমাদেরও যাওয়া দরকার, কঠোর গলায় বলল মাটিন। মনে হচ্ছে জোহানের সঙ্গে বোঝাপড়া করবে ম্যাকগ্র।

হ্যাঁ। কিন্তু জোহান কোথায়? শহর ছেড়ে চলে গেল নাকি?

নাহ। ম্যাকগ্র হাজির হয়েছে, কাজেই জোহানের দেখা মিলতে দেরি হবে, বলল মার্টিন। আমাদের তৈরি থাকতে হবে।

হঠাৎ হুড়োহুড়ির শব্দ শোনা গেল আস্তাবলে। কানখাড়া করল সলটার। একটা ঘোড়া খুর দাপাল। সঙ্গে সঙ্গে অন্যগুলোও তাল মেলাল। চাপা আওয়াজ করল কে যেন। আস্তাবলের দিকে পা বাড়াল মাটিন। ওর হাত চেপে ধরল। সলটার।

দাঁড়াও, বলল সে। জো না-ও হতে পারে লোকটা। সাবধানে চল, দেখি গিয়ে।

ওয়াগনের আড়াল ছেড়ে বেরিয়ে এল ওরা। আস্তাবলের এক পাশের ফাঁকা জায়গা পেরোল। সামনের দিকের এক কোণে এসে দাড়িয়ে পড়ল। লণ্ঠনের আলো বেরিয়ে আসছে কাঠের ফোকর দিয়ে। একটা কাঠের ফুটোয় চোখ রাখল সলটার। বার্নের দরজার চৌকাঠে দাড়িয়ে রয়েছে ম্যাকগ্রর সেই দুই স্যাঙাৎ। ঘরের অন্ধকার কোণের দিকে চেয়ে রয়েছে তারা। লণ্ঠনের আলো পৌঁছেনি এ অংশে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে একই লক্ষ্যে তাকাল সলটারও। খিস্তি করল এক লোক। জো, তবে দেখা গেল না তাকে। এদিকে দরজায় দাঁড়ানো দু’জনের মধ্যে একজনের হাতে এখন সিক্সগান।

জলদি বেরিয়ে এস, অস্ত্রধারী গর্জাল। দেরি করলে ঝাঁঝরা করে দেব। কে তুমি? এখানে লুকিয়ে কি করছ?

অধীর হয়ে অপেক্ষা করতে লাগল সলটার আর মার্টিন। দু’জনেরই হাত চলে গেছে কোমরে। হোলস্টারে। ক’ মুহূর্ত বাদে আলোয় বেরিয়ে এল জো। পোশাক থেকে খড়কুটো ঝাড়তে ঝাড়তে। হচ্ছেটা কি এখানে? বিরক্ত কণ্ঠে জানতে চাইল সে।

বক্স ডব্লিউ-এর রাইডার, বলল একজন। লুকিয়ে বসে করছটা কি এখানে?

লুকিয়ে থাকব কেন? পাল্টা প্রশ্ন করল জো, চোখটা লেগে এসেছিল। বিয়ার পেটে পড়েছে কিনা।

শহরে কি করছ?

তোমার তাতে কি দরকার? কর্কশ কণ্ঠে কথাগুলো বলল জো। শঙ্কিত হল সলটার। এমুহূর্তে গোলমাল চায় না সে।

দরকার আছে, বলল সিক্সগানওয়ালা। পিস্তলটা ফেলে দাও। নইলে বাপের নাম ভুলিয়ে দেব।

এবার বার্নের সামনের দিকে এগোল সলটার। তার পিছনে মার্টিন। শুনতে পেল ভেতরে তর্ক করে চলেছে জো। দ্রুততর হল সলটারের চলার গতি। লোক দু’জনের ঠিক পেছনে এসে দাঁড়াল সে। ওরা ততক্ষণে প্রায় পৌঁছে গেছে জোর কাছে। একজনের হাতে অস্ত্র।

দাঁড়াও, তীক্ষ্ণকণ্ঠে আদেশ করল সলটার। পাঁই করে ঘুরল ওরা। কোল্টের বাঁটে সলটারের হাত, কিন্তু ড্র করার চেষ্টা করল না সে। লোক দুটোর পেছনে জো এর হাতে পিস্তল এসে গেছে তখন। ও, সলটার। তারমানে সুস্থ হয়ে উঠেছ। অস্ত্রধারীর কণ্ঠে রাজ্যের বিরক্তি ঝরে পড়ল।

দুঃখ পেয়েছ মনে হয়, বিদ্রূপ করল সলটার। আমার লোককে হুমকি দিচ্ছ কেন?

ও এখানে আড়ি পেতেছিল।

তাতে ক্ষতি কিসের? দ্রুত প্রশ্ন করল মার্টিন। জো তোমাদের কথা শুনে ফেলেছে? অসুবিধে কি? তোমরা নিশ্চয়ই ষড়যন্ত্র করছিলে না।

হ্যাণ্ডগান ফেলে দাও, লোক দুটোর পেছন থেকে বলল জো।

বাদ দাও, জো, বলল সলটার। দরজা ছেড়ে দাঁড়াল সে। লোক দুজনকে চলে যেতে ইঙ্গিত করল। দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে উঠন পেরোল ওরা। তারপর রাস্তায় পৌঁছে দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে গেল।

মুশকিলে ফেলে দিলে, জো, বলল সলটার, ওরা এরপর তৈরি হয়ে থাকবে।

তৈরি ওরা হয়েই রয়েছে। ম্যাকগ্রর কথাতে, বোঝনি? শান্ত অথচ জোরালভাবে কথাগুলো বলল মার্টিন। আমাদের কাজ এখন জোহাকে খুঁজে বার করা।

ঠিক, ঘুরল সলটার। এই লোক দুটো এক্ষুণি গিয়ে ম্যাকগ্রকে সব জানাবে। আমাদের কথা জেনে যাবে ম্যাকগ্র। আচ্ছা, জো, তুমি তো আলাদা হয়ে গিয়েছিলে, জোহানকে দেখেছ?

না, এবার কোথায় লুকিয়েছে কে জানে।

ম্যাকগ্রও হন্যে হয়ে খুঁজছে তাকে। কেন কে জানে, চিন্তিত ভঙ্গিতে বলল মার্টিন। সলটারের পিছু পিছু বেরিয়ে এল বার্ন থেকে।

মেইন রোডে আবছা অন্ধকার। র‍্যাঞ্চ ও-র লোক দুটোকে দেখা গেল না কোথাও! স্যালুনগুলো পেরনর সময় জোহানকে আরেকবার করে খুঁজে গেল সলটার। নেই। খুব সম্ভব র‍্যাঞ্চে ফিরে গেছে সে। তবে পরক্ষণেই বুঝল এটা কষ্ট কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়। জোহানের জন্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছেই তার।

মার্টিন, বলল সে। তুমি হেলগার কেবিনে ফিরে যাও। লোক দুটো ম্যাককে কি বলে লুকিয়ে শোনার চেষ্টা করবে। জো, তুমি ফলো কর আমাকে। রওনা দিল মাটিন। রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে গেল সে।

জোকে নিয়ে হাঁটা ধরল সলটার। ম্যাকগ্রর কথা ভাবছে সে। নতুন কি ফন্দি আঁটছে র‍্যাঞ্চ ও-র ফোরম্যান? কার্টলি নামের এক লোক এ মুহূর্তে রয় সলটারের খোঁজ করছে শহরে। কেন?

শেরিফের অফিসের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ভেতরে চাইল সলটার। ডেস্কে বসে রয়েছে ম্যাকডারমট। দেখে মনে হল চিন্তামগ্ন।

খানিক দূর যেতেই এক লোককে হেঁটে আসতে দেখা গেল ওদের দিকে। লোকটা থেমে দাঁড়িয়ে উঁকি দিল একটা স্যালুনে। বেঁটে-খাটো গড়ন। মার্টিন নয়। ম্যাকগ্রর সেই চর নয় তো?

যে লোকটা এদিকে আসছে, জোকে বলল সলটার, মনে হয় ম্যাকগ্রর লোক সে। আমাকে খুঁজছে।

অস্ফুটে কিছু বলল জো। তারপর ফুটপাথের দিকে সরে গেল। আগুয়ান লোকটাকে এখন তাদের দুজনের মাঝ দিয়ে পেরোতে হবে। ধীর পদক্ষেপে হাঁটতে লাগল ওরা। লোকটা এসময় দেখে ফেলল ওদের। চিনতে চেষ্টা করল। রাস্তার আলো পড়েছে সলটারের মুখে। আগন্তুকের চেহারাও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে এখন। এই লোকই ম্যাকগ্রর সঙ্গে আস্তাবলের উঠনে গিয়েছিল। অবয়ব দেখে চিনতে পারল সলটার।

তুমি রয় সলটার না? ফুটপাথে দাঁড়িয়ে পড়েছে লোকটা। জোর দিকে একবার তাকিয়েই চোখ ফেরাল সলটারের চোখে।

হ্যাঁ, কিন্তু তোমাকে তো চিনলাম না, হোলস্টারে হাত চলে গেল সলটারের। র‍্যাঞ্চ ও-তে বেশ কজন নতুন লোক নেয়া হয়েছে। এ লোকটা তাদের একজন।

এ কাউন্টিতে নতুন এসেছি আমি। তবে গত সপ্তাহের ঘটনা শুনেছি। তোমাকে সুস্থ দেখে ভাল লাগছে। বেচারা রজার হার্পার! খুব ভাল লোক ছিল নাকি

ঠিকই শুনেছ, কর্কশ কণ্ঠে বলল জো।

এ কাউন্টিতে বড় গোলমাল, তাই না?

সবে তো শুরু, সলটার বলল। জোহানকে দেখেছ এদিকে কোথাও?

না, দ্রুত জবাব এল। চলি। ফুটপাথ ধরে এগোল লোকটা।

নতুন লোক হিসেবে বড় বেশি জার্নে ব্যাটা, জো মন্তব্য করল।

কিছু একটা বলার জন্যে মুখ খুলেছিল জো। কিন্তু বলা আর হল না। হঠাৎ গুলির শব্দে কেঁপে উঠল ওরা। পরপর কয়েকটা গুলি হল। তবে ধারে কাছে এল ওদের। মাজল লাইটের লালচে শিখা চোখে পড়ল সলটারের। মাথা নিচু করে দ্রুত পা চালাল সেদিকে। মার্টিনের জন্যে চিন্তা হচ্ছে। সে রয়েছে ওদিকটাতেই। জোর মাথাতেও একই চিন্তা। অসুস্থ সলটারকে পিছনে ফেলে রেখেই এগিয়ে গেল সে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *