০৫. মিনিট পনেরো পরে আবার

মিনিট পনেরো পরে আবার ক্রিস্টমাস গাছগুলোর পেছনে জমায়েত হলো গোয়েন্দারা। সাবধান রইল যাতে কারও চোখে না পড়ে।

ওরা এখন নিশ্চিত, ফাদার ক্রিস্টমাসের ছদ্মবেশের আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়ানক দুজন অপরাধী। কিন্তু দুটো বড় প্রশ্নের উত্তর অজানা রয়ে গেল।এক, কি করে প্রমান করবে লোকগুলো অপরাধী। দুই, এদের সঙ্গে গালকাটা লোকটার সম্পর্ক কি?

কি করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা করছে ওরা, এই সময় ঘণ্টা বেজে উঠল। হেনরির ডিপার্টমেন্টাল স্টোর আর অন্য সব দোকানপাট বন্ধ করার সময় হয়েছে। বড়দিনের সময় বলে এখন অনেক দেরি করে বন্ধ হয়, যাতে অফিস ফেরতা লোকজন বাজার করে যেতে পারে। দোকানগুলো থেকে ঝাঁক বেঁধে বেরিয়ে আসতে শুরু করল ক্রেতার দল। চত্বর পেরিয়ে রাস্তায় নেমে যেতে লাগল। বিক্রি না হওয়া ক্রিস্টমাস গাছগুলো দোকানের ভেতর নিয়ে যেতে শুরু করল দোকানদার।

শেষবারের মত একটা বাচ্চার ছবি তুলল ফাদার ক্রিস্টমাসরা। তারপর যখন দেখল, আর একজন ক্রেতাও অপেক্ষা করছে না কোথাও, রাস্তা ধরে হটিতে শুরু করল দুজনে।

আজকের মত কাজ শেষ ওদের, মুসা বলল।

হ্যাঁ, কাজ মানে তো মুদ্রা পাচারী একদিনের জন্যে যথেষ্ট পাচার-টাচার করে এখন গোপন আস্তানায় ফিরে যাচ্ছে, বব বলল।

তাহলে ওদের পিছু নিলেই পারি, ফারিহা বলল।

চমৎকার প্রস্তাব! লুফে নিল রবিন।

কেউ আপত্তি করল না। লোকগুলোর পেছন পেছন রওনা হলো।

মোড় নিয়ে মিলরোডে ঢুকে অদৃশ্য হয়ে গেল লোকগুলো।

জলদি এসো? কিশোর বলল। কোন বাড়িটাড়িতে ঢুকে পড়লে আর দেখতে পাব না।

দৌড়াতে শুরু করল ওরা। আগে আগে ছুটছে টিটু। মাটিতে নাক নামিয়ে গন্ধ নিছে। এতক্ষণ পর একটা কাজের মত কাজ পেয়ে গিয়ে মহাখুশি।

কিন্তু মোড় নিয়ে অন্য পাশে এসে হতভম্ব হয়ে গেল ওরা।

লোকগুলো উধাও!

খাইছে। হাপাতে হাপাতে বিমূঢ়ের মত এদিক ওদিক তাকাচ্ছে মুসা।

আমরা যে পিছু নিয়েছি নিশ্চয় বুঝে ফেলেছে, অনিতা বলল।

কিংবা হয়তো গাড়িটাড়ি কিছু রাখা ছিল এখানে। তাতে উঠে চলে গেছে, ডলি বলল।

কিংবা হরিণে টানা স্লেজ, ব্যঙ্গ করে বলল রবিন। যে গাড়িতে চড়ে চলাফেরা করে ফাদার ক্রিস্টমাস।

কিন্তু এ মুহূর্তে এ রসিকতায় হাসতে পারল না কেউ। ভীষণ হতাশ হয়ে বব বলল, তারমানে ওদের সাক্ষাৎ পাওয়ার জন্যে কাল সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে আমাদের। হেনরির দোকান যখন খোলে।

কিন্তু হঠাৎ করেই জোরে হাত নেড়ে বন্ধুদের সাবধান করে দিল কিশোর। ঠেলে, ধাক্কা দিয়ে সবাইকে নিয়ে চলে এল একটা পার্ক করে রাখা গাড়ির আড়ালে। ওই যে ওরা! কয়েক মিনিটের জন্যে ওই অফিস বাড়িটায় ঢুকেছিল।

তাই তো মনে হচ্ছে নিচু স্বরে বলল বব। পোশাক খোলার জন্যে হবে। হয়তো।

দেখলে? চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে ফারিহা। মোটেও অপরাধী মনে হচ্ছে না এখন ওদেরকে।

অনিতাও হা হয়ে গেছে। বয়েসও তো আমাদের চেয়ে তেমন বেশি না।

খানিক দূরে একটা অফিস বিল্ডিঙের সদর দরজা দিয়ে বেরিয়ে এসেছে দুজন তরুণ। বগলে দুটো লাল-সাদা রঙুের পোশাক।

ওখানে ঢুকেছিল পরনের ফাদার ক্রিস্টমাসের আলখেল্লা খোলার জন্যে, মুসা বলল। নিচে তো একেবারে সাধারণ পোশাক।

কিন্ত ওই পোশাক এ ভাবে খোলাখুলি নিয়ে যাচ্ছে কেন? মানুষে দেখলে যে চিনে ফেলবে সেই পরোয়াও করছে না নাকি? আনমনে বিড়বিড় করল কিশোর। ব্যাপারটা মাথায় ঢুকছে না আমার।

পিছু নেব নাঁকি ওদের? জিজ্ঞেস করল রবিন। তাহলে হয়তো আরও কিছু জানা যাবে। কি, নেব?

অতএব রওনা হয়ে গেল ওরা। পার্ট করে রাখা গাড়িগুলোর আড়ালে আড়ালে বেশ কিছুটা দূরত্ব রেখে অনুসরণ করে চলল লোকগুলোকে।

একের পর এক রাস্তা পেরিয়ে যেতে লাগল ওরা। শহরের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া নদীটার পাড় ধরে এগোল খানিক। তারপর একটা বাগানওয়ালা চত্বরে চুকল। এক সারি সামনে গিয়ে কথা বলতে লাগল দুজনে।

বাগানে ঢুকে পড়া উচিত আমাদের, কিশোর বলল। পাতাবাহারের আড়ালে আড়ালে ওদের অনেক কাছে চলে যেতে পারব।

দ্রুত একটা ঝোপের আড়ালে এসে লুকাল ওরা, লোকগুলোর খুব কাছে।

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলে বলেই রাত কাবার করবে নাকি? ফিসফিস করে বলল ডলি। উফ, ঠাণ্ডায় জমে যাচ্ছি আমি!

বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না ওকে। হাত মেলাল লোকগুলো, তারপর দুজন দুদিকে হাটতে শুরু করল।

সবে পা বাড়াতে যাবে ওরা, এই সময় বড় একটা কালো গাড়ি এসে ঘ্যাচ করে থামল ওদের পাশে। পাকা চত্বরে রবারের চাকা ঘষার শব্দ মিলানোর আগেই লাফ দিয়ে গাড়ি থেকে নেমে এল দুজন লোক।

আরে, সেই গালকাটা! দম বন্ধ করে ফেলল অনিতা।

এতটাই চমকে গেল দুই ফাদার ক্রিস্টমাস, বাধা দেয়ার কথাও যেন মাথায় এল না। সহজেই ওদের কাবু করে ফেলা হলো।

স্তব্ধ হয়ে গেছে গোয়েন্দারা। হা করে তাকিয়ে দেখছে পাতাবাহারের ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে থেকে।

এত দ্রুত ঘটে গেল ঘটনাটা, টু শব্দটি করার সুযোগ পেল না ফাদার ক্রিস্টমাসেরা। তাদের একজনকে ধাক্কা দিয়ে তুলে দেয়া হলো গাড়িতে। কিন্তু দ্বিতীয়জনকে তোলার আগেই হঠাৎ ঝাড়া দিয়ে হাত ছাড়িয়ে নিয়েই দৌড় মারল সে। পালিয়ে গেল। দোকানের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ফটো তোলে যে লোকটা, এ সে-ই।

এক দৌড়ে গিয়ে ফ্ল্যাটগুলোর মাঝে ঢুকে হারিয়ে গেল সে। ওর অাক্রমনকারীরা দ্বিধা করল। বুঝতে পারল, আর তাড়া করে লাভ নেই। গাড়িতে বসল দুজনে। ইঞ্জিন চালু করেই রেখেছে ড্রাইভার। ওরা উঠে বসতেই গাড়ি ছেড়ে দিল।

পুরো ঘটনাটা ঘটতে মিনিটখানেকের বেশি লাগল না। আশেপাশে আর দ্বিতীয় কোন লোক নেই যে দেখবে। গোয়েন্দাদের চোখের সামনে নির্বিবাদে একজন ফাদার ক্রিস্টমাসকে কিডন্যাপ করে নিয়ে চলে গেল ওরা।

দুই হাতে চেপে ধরে আছে কিশোর টিটুর চোয়াল।

চিৎকার করার জন্য পাগল হয়ে উঠেছে কুকুরটা।

গাড়ি চত্বর থেকে বেড়িয়প যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝাড়া দিয়ে কিশোরের হাত থেকে মুখ ছুটিয়ে নিল টিটু।

হউ! হউ! হউ। হউ! টানাটানি করে শিকল ছুটানোর চেষ্টা করছে। পাকা চত্বরে তার নখ ঘষা লাগার শব্দ হচ্ছে।

থাম, টিটু! চুপ কর! শান্ত হ! তুই গিয়ে আর এখন কিছু করতে পারবিনে!

কোনমতেই ছাড়ল না ওকে কিশোর। তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এল মুসা আর বব। অবশেষে শান্ত হলো টিটু।

ঘটনাটা নিয়ে আলোচনার সুযোগ পেল গোয়েন্দারা।

কোথায় নিয়ে গেল লোকটাকে? মুসার প্রশ্ন।

লোকটা কে? রবিন জানতে চাইল।

কিন্তু কেউ ওদের কথার জবাব দিতে পারল না।

অন্ধকার হয়ে আসছে। চত্বরটা এখনও নির্জন। দুটো ষ্ট্ৰীট ল্যাম্পের আলো পড়ছে রাস্তায়। দিনের আলো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলে উজ্জল হতে পারছে না আলোটা। অন্ধকারের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ঠাণ্ডা।

ধস্তাধস্তিটা হয়েছে যে জায়গায়, সেখানে এসে দাঁড়াল গোয়েন্দারা। ফাদার ক্রিস্টমাসের একটা লাল-সাদা পোশাক পড়ে থাকতে দেখল ফারিহা পানি নিষ্কাশনের ড্রেনের মধ্যে। বাতাসে উড়ছে তুলোর তৈরি সাদা লম্বা দাড়ি। তুলে নিল সে।

ডলির দাঁতে দাঁতে বাড়ি খাচ্ছে। শীতে না যতটা, তারচেয়ে বেশি ভয়ে।

আরেকজন ফাদার ক্রিস্টমাসের খোঁজে যেতে হবে এখন আমাদের, কিশোর বলল। বিল্ডিঙের দিকে পালিয়ে গেছে যে লোকটা। লাল-সাদা আলখেল্লাটা তুলে নিল সে।

কি ভাবে খুঁজে বের করব? ববের প্রশ্ন। দরজায় দরজায় গিয়ে তো আর নক করে জিজ্ঞেস করা যাবে না-এই ভাই, একজন নকল ফাদার ক্রিস্টমাস আছে নাকি এখানে।

তা ছাড়া লোকগুলোর আসল পরিচয়ও জানি না আমরা, ববের কথা সমৰ্থন করল মুসা।যারা ওদের আক্রমণ করল, তাদের সম্পর্কেও কিছুই জানি না। ওরা কি অপরাধী না পুলিশের লোক, তা-ও জানা নেই। রহস্যটা বড়ই জটিল মনে হচ্ছে আমার কাছে। অন্ধকারে ছায়া ঢাকা অপরিচিত বাড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল, সবচেয়ে ভাল হয় যদি এখন আমরা ..

বাড়ি না গিয়ে বরং লোকটাকে খুঁজতে যাই, মুসাকে বাধা দিয়ে বলে উঠল রবিন।

আমিও রবিনের সঙ্গে একমত, কিশোর বলল। সবে জমে উঠতে আরম্ভ করেছে রহস্যটা, এ সময়ে এটাকে বাদ দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না আকাশের দিকে মুখ তুলে তাকাল ফারিহা। ঠাণ্ডা, মোলায়েম কি যেন গালে লেগেছে। চিৎকার করে উঠল, আরি! তুষার পড়ছে!

বলতে না বলতেই আরেক কণা তুষার উড়ে এসে পড়ল তার নাকে।

তুষারই তো! অনিতাও চিৎকার করে উঠল।

তুষার! তুষার! সমস্বরে কেঁচাতে শুরু করল সবাই। হঠাত করেই উত্তেজিত হয়ে পড়ল ওরা। আনন্দে অস্থির। মনে হচ্ছে এবারের বড় দিনটা প্রচুর তুষার-পড়া সাদা বড় দিন-এ পরিণত হবে। সেটা খুব মজার।

আকাশের দিকে জন্যে মুখ এটা উঁচু করে, হাত তুলে, উন্মাদ নৃত্য জুরে দিল ওরা।মুসা অার কিশোরের জন্য এটা ধর্মীয় উতসব নয়।কিন্তু সাময়িকভাবে তাতে আনন্দ করায় কোন বাধা নেই। সবার খুশি দেখে টিটুও চুপ করে থাকতে পারল না। প্রবল লাফালাফি জুড়ে দিল। পেঁজা তুলোর মত ভেসে ভেসে নেমে আসছে হালকা তুষার কণা। লাফিয়ে উঠে সেগুলেী ধরার চেষ্টা করতে লাগল সে।

কয়েকজন পথচারীকে দেখা গেল এতক্ষণে কাজ শেষে করে বাড়ি ফিরছে।

ছেলেমেয়েদের দিকে বিরক্ত চোখে তাকাল। তুষার ওদের কোন আনন্দ দিতে পারল না। থুতনির কাছে অল্প কিছু দাড়িওয়ালা একজন লোক তো দাঁড়িয়েই গেল জ্ঞান দেয়ার জন্যে, তোমাদের কাছে যতই ভাল লাগুক, তুষার জিনিসটা মোটেও ভাল নয়। ঠাণ্ডা, পিচ্ছিল, প্যাঁচপেঁচে! অতি জঘন্য।

ঠান্ডা দূর করাটা তো কঠিন কিছু না, জবাব দিল অনিতা। আমাদের মত নাচাকুঁদো করুন। দেখবেন গা গরম হয়ে গেছে।

যেন তার কথায় সমর্থন জানাতেই আরও জোরে লাফানো শুরু করে দিল টিটু।

ওপর দিকে চোখ পড়তেই থেমে গেল রবিন। কেঁচিয়ে উঠল, দেখো দেখো।

ওই বাড়িটার একেবারে ওপরতলার জানালাটা-ডান দিকের!

হাত তুলে একটা আলোকিত জানালা দেখাল সে কেন; তোমার কি মনে হচ্ছে ওই লোকটাই জানালাটার দিকে তাকিয়ে আছে কিশোর। জানালার কাছে দাড়িয়ে আছে কেউ। হঠাৎ করেই আলো নিভিয়ে দেয়া হলো। অন্ধকারে কোন কিছুই আর চোখে পড়ল না।

ওই লোকটাই, কোন সন্দেহ নেই আমার, রবিন বলল। ওকে চিনতে পেরেছি আমি। যে লোকটা ছবি তুলছিল। জানালার কাচে নাক ঠেকিয়ে মনে হয় দেখছিল সে।

তারমানে আমাদের ওপর নজর রাখছিল, ডলি বলল। উদ্দেশ্যটা কি তার?

কি করতে চায়? ভীত মনে হচ্ছে তাকে।

অত ভয় পাছ কেন? মুসা বলল। আমাদের চেঁচামেচি শুনে সাধারণ কৌতূহল হয়েছিল, দেখতে এসেছিল। অন্য কিছু না।

ছাড়া আরেকটা কথা ভুলে যাচ্ছ, বব বলল, ভয় পাওয়ার মত যথেষ্ট কারণ রয়েছে অারও।

অনিতা ভয় পায়নি। রহস্যময় এই ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানার ইচ্ছে তার কৌতূহল সামলাতে পারছে না। বলল, ওপরে গিয়ে দেখা যায় না?সবার যাওয়া ঠিক হবে না।রবিন-মুসা তোমরা আমার সঙ্গে এসো। ববের সঙ্গে মেয়েরা সব এখানেই থাকো।

তারমানে এ ক্ষেত্রেও মেয়েদের বেলায় অন্য বিচার রেগে উঠল অনিতা তোমরা গিয়ে মজা করবে আর আমরা দাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আঙুল চুষি। বড় অন্যায়।

আমি তো মেয়ে নই, নাকি? অনিতার কথার প্রতিবাদ করল বব। আমি তো থাকতে আপত্তি করছি না। অন্যায়ের কি দেখলে?

জবাব খুঁজে না পেয়ে চুপ হয়ে গেল অনিতা নাও, ধরো, টিটুর শিকলটা বাড়িয়ে দিল কিশোর। এর দায়িত্ব তোমার।

অনিতার কথায় কিছু মনে করেনি সে। দলে নতুন এসেছে অাস্তে অাস্তে শিখে যাবে। কিন্তু কোনমতেই হাসি ফুটল না অনিতার মুখে। মুখ গোমড়া করে রইল। কিশোরদের সঙ্গে যাওয়ার একান্ত ইচ্ছে তার।

বাড়িটায় ঢুকে লিফটে উঠল কিশোর। ড্রেনে পড়ে থাকা ফাদার ক্রিস্টমাসের পোশাকটা সাথে নিয়ে এসেছে।

বোতাম টিপে দিল মুসা। টপ ফ্লোরে লিফট থেকে নামল ওরা। এখন, কোনদিকে যাবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *