০৫. পিটপিট করে তাকালাম

অ্যাই, হাক! ওঠ, হতচ্ছাড়া!

পিটপিট করে তাকালাম; চারপাশে চেয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম, আমি কোথায়। রোদে স্নান করছে ঘর; অনেকক্ষণ ঘুমিয়েছি, মরার মত। বাবা আমার উপর ঝুঁকে দাঁড়িয়ে, চোখে-মুখে বিরক্তির ছাপ। কিছুটা অসুস্থ দেখাচ্ছে।

বন্দুক দিয়ে কী করছিলি? জিজ্ঞেস করল।

কাল রাতের কথা, অনুমান করলাম, মনে নেই তার। বললাম, রাতে কেউ ঢোকার চেষ্টা করেছিল। তাই খাপ পেতে বসেছিলাম।

আমাকে ডাকিসনি কেন?

ডেকেছি, তুমি ওঠনি।

হুঁম! তো আর বাজে না বকে বাইরে গিয়ে দ্যাখ চারে মাছ-টাছ কিছু পড়ল কি-না। নাস্তা খেতে হবে। আমি এই এলাম বলে।

দরজা খুলে দিল বাবা। নদীর ধারে গিয়ে দেখি পানি বাড়তে শুরু করেছে। হরেক রকমের জিনিস গাছের ডাল, ছাল-বাকল ভেসে আসছে স্রোতের টানে। এখন শহরে থাকলে কী মজা-ই না হত। জুন মাসে বানের সময় প্রতিবারই কপাল খুলে যায় আমার। বড় বড় কাঠের টুকরো কিংবা ভেলা ভেসে আসে জোয়ারে। আমার কাজ কেবল ওগুলো ধরে ধরে ওই লাকড়ির দোকান, বা করাতকলে বিক্রি করা।

তীর ধরে হাঁটছি; একটা চোখ বুড়োর পথের দিকে, কখন আবার এসে পড়ে। অপরটা রইল নদীর দিকে, যদি কিছু ভেসে আসে নেবার মত। হঠাৎ দেখি, একটা ডিঙি ভেসে আসছে। সুন্দর দেখতে, তের চোদ্দ ফুটের মত লম্বা। রাজহাঁসের মত দুলছে ঢেউয়ের মাথায়। নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়লাম আমি, ডিঙিটা ধরে লুকিয়ে রাখলাম ঝোপের ভেতর। একবার ভাবলাম বাবাকে দেখাব ডিঙিটা। ওটা দেখলে ভারি খুশি হবে বুড়ো-কমপক্ষে দশ ডলারে বিকোবে ডিঙিটা। পরক্ষণেই বিদ্যুচ্চমকের মত একটা বুদ্ধি খেলে গেল মাথায় পালাবার সময় কাজ দেবে ওটা। ডিঙিতে চেপে পঞ্চাশ মাইল ভাটিতে গিয়ে আড্ডা গাড়ব কোথাও। তাহলে আর মিছেমিছি হেঁটে মরতে হবে না আমাকে। ডিঙিটা যেখানে লুকোলাম, সেখান থেকে পরিষ্কার দেখা যায় আমাদের কেবিন। একটা উইলো ঝোপের আড়াল থেকে উঁকি দিলাম সেদিকে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে একটা পাখির দিকে বন্দুক তাক করছে বাবা। হাঁফ ছেড়ে বাচলাম, কিছুই দেখতে পায়নি বুড়ো। তাকে আসতে দেখে ছিপ হাতে মাছ ধরার ভান করলাম। আলসে বলে আমাকে বকাঝকা করল বাবা। বললাম, নদীতে পড়ে গিয়েছিলাম, সেজন্যে দেরি হল এত। তাছাড়া, আমি জানতাম, আমার ভিজে জামাকাপড় দেখে নানা প্রশ্ন করবে বাবা। পাঁচটা মাঝারি সাইজের মাছ ধরে বাড়ি ফিরে এলাম আমরা।

নাস্তার পর দুজনেই শুয়ে পড়লাম একটু ঘুমিয়ে নিতে, ক্লান্তি ভর করেছে আমাদের। শুয়ে-শুয়ে আমি চিন্তা করতে লাগলাম, কী ভাবে পালান যায়। এমন একটা ফিকির বের করতে হবে যাতে, আমার অনুপস্থিতি বাবা আর ওই বিধবা টের পাবার আগেই, বহুদূরে পালিয়ে যেতে পারি।

একটু বাদেই উঠে আর এক ব্যারেল পানি খেল বাবা। তারপর আমার দিকে ঘুরে বলল, ফের যদি কাউকে ঘুরঘুর করতে দেখিস এখানে, আমাকে ডাকবি। বুঝলি? ব্যাটা বিনা মতলবে আসেনি। ধরতে পারলে ওকে গুলি করব আমি। কথা শেষ করে শুয়ে নাক ডাকতে লাগল বাবা। চকিতে আশার আলো দেখতে পেলাম তার কথায়। এবার, আপনমনে বললাম, এমনভাবে জাল গোটাব যে আমার পিছু নেয়ার কথা চিন্তাও করবে না কেউ।

দুপুর বারটা নাগাদ আবার নদীর ধারে গেলাম আমরা। জোয়ারে বেশ ফুলেফেঁপে উঠেছে পানি। প্রচুর কাঠের টুকরো ভেসে যাচ্ছে স্রোতে। এক সময় কাঠের গুড়ির তৈরি ভেলাও ভেসে এল। নটা গুঁড়ি একত্রে বাধা। ভেলাটাকে তীরে নিয়ে এলাম আমরা। তারপর কেবিনে ফিরে দুপুরের খাওয়া সারলাম। বাবার জায়গায় আর কেউ হলে সারাদিন নদীর পারে বসে থাকত আরও জিনিস পাবার আশায়। কিন্তু সেটা ওর ধাতের বাইরে। একযাত্রায় নটা গুড়িই ঢের। এবার ওগুলো শহরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে মদ গিলবে সে। তা-ই হল, বেলা সাড়ে তিনটের দিকে আমাকে আটকে রেখে রওনা হয়ে গেল বাবা। অনুমান করলাম, আজ রাতে আর ফিরছে না। বাবা রওনা হওয়া মাত্র কাজে নামলাম আমি। দ্রুত করাত দিয়ে কেটে দেয়ালের সেই ফাঁকটাকে বড় করলাম। তারপর সেখান দিয়ে গলে বাইরে এলাম। নদীর দিকে তাকিয়ে দেখলাম, দূরে একটা বিন্দুর মত দেখা যাচ্ছে বাবার ভেলাটা।

এবার ধীরে ধীরে প্ল্যানমাফিক এগুতে লাগলাম। প্রথমে এক বস্তা ভুট্টার ছাতু নিয়ে গেলাম লুকোনো ডিঙিটার কাছে। ডাল, লতা-পাতা সরিয়ে ওটার ওপর রাখলাম বস্তাটা। পরের বার কিছু মাংস নিলাম। তারপর মদের জগ, এবং যতটা কফি আর চিনি ছিল, তার সবটুকুই নিলাম। এরপর খানিকটা ন্যাকড়া, একটা বালতি, লণ্ঠন, টিনের বাটিও নেয়া হল। কার্তুজ, করাত, দুখানা কম্বল, রান্নার বড় চামচ, কফির পাত্র—এগুলোও রেখে এলাম। ছিপ, বড়শি, ম্যাচ-সোজা কথায় এক পয়সাও দাম আছে যার এমন কোন জিনিসই বাদ রাখলাম না; নিয়ে নিয়ে খালি করে ফেললাম ঘরটা। এবার একটা কুড়োল দরকার। ঘরে নামমাত্র একটা ছিল; ওটাই বা রেখে যাই কেন, ভাবলাম। সব শেষে নিলাম বন্দুকটা।

ফোকরের ভেতর দিয়ে বারবার যাতায়াতের ফলে মেঝেটা ক্ষয়ে গিয়েছিল খানিকটা। তাই, যতটা পারা যায়, ধুলো মাটি দিয়ে সমান করলাম জায়গাটা। তারপর ফাঁকের মাঝে কাটা গুড়িটাকে খুঁজে খাঁজে বসিয়ে তলায় দুটো পাথর দিয়ে ছিপি এটে দিলাম, যাতে পড়ে না যায় গুড়িটা। এখন চার-পাঁচ হাত দূর থেকে হঠাৎ দেখলে কেউ বুঝতেই পারবে না, করাত দিয়ে কাটা হয়েছিল ওটা।

এরপর চারদিক ঘুরে ভালমত দেখলাম, আমার কোন ট্র্যাক রয়ে গেছে কি-না পেছনে। না, নেই। কেবিন থেকে ডিঙি পর্যন্ত মাটি ঘাসে ছাওয়া, অক্ষতই রয়েছে মাথাগুলো। চারিদিকে চেয়ে সবকিছু যখন নিরাপদ মনে হল, বন্দুক হাতে বনের ভেতর ঢুকলাম। পাখি শিকারের জন্যে ঘুরছি, আচমকা চোখে পড়ল একটা বুনো শুয়োর, কারো খোঁয়াড় থেকে পালিয়েছে হয়ত-বা।

শুয়োরটাকে মেরে নিয়ে এলাম কেবিনের কাছে। কুঠার দিয়ে তালা ভেঙে ওটাকে নিয়ে ঢুকলাম ঘরে। টেবিলের কাছে গিয়ে কুঠারের এক কোপে দুফাক করে ফেললাম শুয়োরটার গলা। মেঝের ওপর রক্ত চুয়ানোর জন্যে সেখানেই ফেলে রাখলাম ওটাকে। এবারে বড় বড় পাথরের টুকরো দিয়ে একটা বস্তা ভর্তি করে হেঁচড়ে নিয়ে গেলাম নদীর ধারে, তারপর পানিতে ফেলে দিলাম বস্তাটা। পাথরের ভারে তলিয়ে গেল ওটা। এখন দেখে মনে হবে কোনকিছু টেনে আনা হয়েছে মাটির ওপর দিয়ে। টম সয়্যার এসময়ে থাকলে ভাল হত। এসব ব্যাপারে, আমি জানি, ও খুউব চালু-তুলির শেষ আঁচড়টা দেয় চমৎকার।

এরপর আমার মাথার চুল ছিড়লাম এক গোছা। কুড়োলটায় আচ্ছাসে রক্ত মাখিয়ে তাতে আটকে দিলাম চুলগুলো। তারপর ঘরের পেছন দিকে এক কোণে ফেলে রাখলাম ওটা। শুয়োরটা এবার সরিয়ে ফেলতে হয়, ভাবলাম। কোটের ল্যাপেলের সঙ্গে ভাল করে চেপে ধরলাম ওটাকে, যাতে রক্ত নিচে পড়তে না পারে। হঠাৎ মেঝেতে এক টুকরো কাপড় চোখে পড়ল। ওই কাপড়টা দিয়েই রক্ত পড়া বন্ধ করলাম। তারপর শুয়োরটাকে নদীতে ফেলে এলাম।

এবার আরেকটা চিন্তা মাথায় এল। ফের ডিঙিতে গিয়ে ছাতুর বস্তা আর করাতটা নিয়ে এলাম ঘরে। করাত দিয়ে বস্তার তলায় একটা ছ্যাঁদা করলাম। তারপর বাড়ির পুবদিকে একশ গজ দূরে ঘাস ও উইলো ঝোপের ভেতর দিয়ে হ্রদের পাড়ে টেনে নিয়ে এলাম বস্তাটা। পাঁচ মাইল চওড়া হ্রদ। শীতের সময়ে হাঁসে পরিপূর্ণ থাকে। হ্রদের ওপাশ দিয়ে একটা খাল বা খড়ি অন্যদিকে চলে গিয়েছে। কোথায়, জানি না—তবে নদীতে নয়। ছাতুর গুড়ো ঝরে ঝরে হ্রদ অবধি যাবার একটা চিহ্ন তৈরি হয়েছে। বাবার শান দেবার পাথরটাও রেখে দিলাম ওখানে। দেখে মনে হবে কোন দুর্ঘটনায় হয়েছে অমনটা। তারপর ফুটোটা ভাল করে আটকে, করাতসহ, বস্তাটা আবার ডিঙিতে নিয়ে গেলাম।

ইতিমধ্যে আঁধার ঘনিয়ে এসেছে। ডিঙিটাকে উইলো পাতা দিয়ে ঢেকে রেখে চাঁদ ওঠার অপেক্ষায় রইলাম। একফাকে খেয়ে নিলাম কিছু। তারপর ডিঙিতে শুয়ে পাইপ টানতে টানতে ভবিষ্যতের কথা ভাবতে লাগলাম। বুঝতে পারছি, বস্তা-টানা চিহ্ন ধরে লোকজন নদীর তীরে আসবে, এবং জাল ফেলে আমার লাশ উদ্ধারের চেষ্টা করবে। ছাত ঝরে যে-রাস্তাটা তৈরি হয়েছে সেটা ধরে হ্রদের দিকেও যাবে তারা। যে-ডাকাতেরা আমাকে মেরে মালসামান নিয়ে উধাও হয়েছে, তাদের ধরার জন্যে তোলপাড় করবে খাঁড়ি। নদীতে আমার লাশ ছাড়া অন্য কিছু খুঁজবে না ওরা। এবং অচিরেই ক্লান্ত হয়ে আমার ব্যাপারে চিন্তা করা ছেড়ে দেবে। এবং সবকিছু শান্ত হয়ে গেলে যেখানে ইচ্ছে যেতে পারব আমি। জ্যাকসনের দ্বীপটা আমার জন্যে চমৎকার জায়গা। ওই দ্বীপ আমার চেনা; কেউ যায় না ওখানে। রাতে সেখান থেকে শহরে গিয়ে হাতের কাছে যা পাব নিয়ে আসব। হ্যাঁ, জ্যাকসনের দ্বীপই উপযুক্ত জায়গা।

দারুণ ক্লান্ত লাগছে, ঘুমিয়ে পড়লাম। জেগে উঠে মিনিট খানেকের জন্যে ঠাহর করতে পারলাম না কোথায় আছি। উঠে বসলাম। চারদিকে চেয়ে ভয় পেয়ে গেলাম। ধীরে ধীরে স্মরণশক্তি ফিরে এল আমার। নদীটাকে মনে হল যোজনবিস্তৃত। থালার মত চাঁদ, পাড় থেকে কয়েক শ গজ দূর দিয়ে ভেসে যাওয়া কাঠের গুড়িগুলোকে গোনা যাচ্ছে অনায়াসে। চারপাশে সব নিঝুম, মৃত্যুর মত। আন্দাজ করলাম, অনেক রাত হয়েছে; বাতাসে যেন নিশুতি রাতের গন্ধ পেলাম।

একটু সময় নিয়ে হাতপায়ের খিল ছাড়িয়ে নিলাম। রওনা দেব এমন সময় একটা শব্দ ভেসে এল দূর থেকে। একটু বাদেই বুঝতে পারলাম ব্যাপারটা। ছোট ছোট খেপ মেরে বৈঠা চালানোর মত নিয়মিত একটা একঘেয়ে শব্দ। এরকম শব্দ গভীর রাতে স্পষ্ট শোনা যায়। উইলো ডালের আড়াল থেকে উঁকি মারলাম। একটা ডিঙি, এগিয়ে আসছে আড়াআড়িভাবে। ডিঙিটা কাছে আসতে দেখলাম মাত্র একজন লোক রয়েছে ওতে। মনে হল বাবা, যদিও তাকে আশা করিনি আমি। স্রোতের টানে আমার পেছন দিকে চলে গেল ডিঙিটা, তারপর আবার একটু একটু করে ঘুরে এগিয়ে আসতে লাগল তীরের দিকে। হ্যাঁ, বাবাই তো। বৈঠা চালানোর ধরন দেখে বুঝলাম মাথাটা শান্তই আছে তার।

আর সময় নষ্ট করলাম না আমি। পরমুহুঁর্তেই ঘুরে ভাটির দিকে নিঃশব্দে অথচ দ্রুত গতিতে আঁধারের ভেতর মিলিয়ে গেলাম। এভাবে আড়াই মাইল যাবার পর আবার চলে এলাম মাঝ নদীতে। কারণ তা না-হলে ফেরিঘাটের পাশ দিয়ে যেতে হবে, এবং ঘাট থেকে দেখতে পেয়ে লোকজন ডাকবে আমাকে। ভেসে যাওয়া তক্তাগুলোর কাছে চলে এলাম আমি। পাটাতনের ওপর শুয়ে পড়ে ইচ্ছেমত চলতে দিলাম ডিঙিটাকে। চিৎ হয়ে শুয়ে নীরবে ধূমপান করতে লাগলাম। নির্মেঘ আকাশ, জোছনা রাতে গভীর আর বিরাট মনে হচ্ছে আকাশটাকে। এরকম রাতে কতদূর থেকে যে কথা শোনা যায় আগে জানতাম না। স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে ফেরিঘাটের কলরব। ক্রমে সেগুলো দূর থেকে দূরে মিলিয়ে যেতে লাগল।

এক সময় অনুভব করলাম ফেরিঘাট থেকে দূরে চলে এসেছি। উঠে বসলাম। অদূরেই দেখা যাচ্ছে জ্যাকসনের দ্বীপ। আড়াই মাইল দূরে, ভাটিতে। গাছপালায় ভরা, নদীর ভেতর দাঁড়িয়ে আছে দ্বীপটা। বেশ বড়; ঘন অন্ধকারে ঢাকা। যেন বাতিহীন একখানা জাহাজ দাঁড়িয়ে। দ্বীপের সামনে বালিয়াড়ির কোন চিহ্ন নেই, পানির নিচে ডুবে রয়েছে।

অল্পক্ষণের ভেতর পৌঁছে গেলাম সেখানে। দ্বীপের মাথার দিকে স্রোতের টান খুব বেশি, তরতর করে চলে গেলাম আমি। পাড়ে নেমে ডিঙিটাকে একটা খাঁজের ভেতর ঢুকিয়ে দিলাম। জায়গাটা আমার চেনা। ডিঙিটা বেঁধে উইলোর ডালপালা দিয়ে ভাল করে ঢেকে দিলাম। এখন আর বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে না ওটা।

এবার ওপরে উঠে দ্বীপের মাথায় একটা গুড়ির ওপর গিয়ে বসলাম। নদীর পানে চেয়ে দেখি, দুরে শহরের দিকে ভেসে যাচ্ছে কালো কাঠের টুকরোগুলো। মিটমিট করে জ্বলছে তিন-চারটে বাতি। মাঝ-দরিয়ায় একটা প্রকাণ্ড গুড়ির ভেলা, ভাটির দিকে ভেসে আসছে। ভেলাটার মাঝখানে লণ্ঠন জ্বলছে।

ডানদিকের ঘাটে ভেড়াও। ভেলা থেকে ভেসে এল একটা গলা। ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছে পুবের আকাশ। বনের ভেতর পা চালালাম আমি। সকালে নাস্তার আগে একটু ঘুম দরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *