০৩. শহর থেকে জেনিকে নিয়ে

শহর থেকে জেনিকে নিয়ে ফেরত আসার তৃতীয় দিনে দেখা দিল বিপদ। প্রথমে ক্যানিয়নে দেখা গেল অসংখ্য গরু-মহিষ। বোঝা যাচ্ছে আগেই আনা হয়েছে ওগুলো, রাতের বেলা আড়ালে ক্যাম্প করে ছিল ওরা।

জাভেদ পাহাড়ের ভিতর লুকানো একটা আস্তানায় খাবার জড়ো করার সময়ে লক্ষ করল ঘটনা। অত্যন্ত দ্রুত এগিয়ে আসছে জন্তুগুলো। জিকোর চিৎকার শুনতে পেল সে।

চিৎকারের সাথে সাথে একটা গুলির শব্দ হলো। হাতের কাজ ফেলে ছুটে এল জাভেদ। হুড়মুড় করে উঠানে ঢুকে আসছে জন্তুগুলো। প্রথমটাকে গুলি করে মারল সে, কিন্তু পরক্ষণেই বুঝতে পারল এভাবে ঠেকানো যাবে না ওদের-কয়টাকে গুলি করে মারবে? স্রোতের মত এগিয়ে আসছে অগুনতি গরু-মহিষের পাল। জিকোর পিছন পিছন সে-ও চট করে কেবিনে ঢুকে পড়ে দরজার খিল আটকে দিল। জানালার কাছে পৌঁছে দেখল গরুতে বোঝাই হয়ে গেছে তার উঠান।

জানালার উপর উইনচেস্টারের নলটা রেখে দরজার ওপাশে অন্য জানালাটার ধারে দাঁড়ানো জাভেদের দিকে ফিরে চাইল জিকো। বুদ্ধিটা ভাল, বলল সে। আমাদের আর বের হবার কোন পথ রাখেনি ওরা।

বিরাট দেহ নিয়ে একটা গরু দরজা চেপে দাঁড়িয়ে আছে। উঠানে আর তিল ধারণের জায়গা নেই, জন্তুগুলো ঠাসাঠাসি করে কোনমতে দাঁড়িয়ে আছে। আঙিনার গরুগুলোকে কর্মচারীরা দড়ির সাহায্যে একেবারে জাম করে আটকে রেখেছে গোল করে কেবিন ঘিরে। দূরে ডাইনে বাঁয়ে জল্পগুলো ইতস্তত ঘুরে বেড়াচ্ছে ছাড়া অবস্থায়। লোকজন কাউকেই কেবিন থেকে দেখা যাচ্ছে না।

অল্পক্ষণ পরেই ম্যাটের গলা শোনা গেল, এই যে শুনছ? চিৎকার করে বলল সে, ওখান থেকে যদি বেরুতে চাও তবে জানালা দিয়ে তোমাদের সব অস্ত্র ফেলে দাও!

জাভেদের দিকে চাইল জিকো। ইশারায় ওকে চুপচাপ থাকার নির্দেশ দিল জাভেদ। কয়েক মিনিট আবার নীরবে কাটল। প্রথম বিস্ময়টা কাটিয়ে ওঠার পরেই বিনাবাক্যব্যয়ে শান্তভাবেই আবার ঘরের কাজ করতে লেগে গেছে জেনি। যেন কিছুই হয়নি এমনভাবেই সে টেবিলের উপর রোজকার মত খাবার বেড়ে দিল। জাভেদ লক্ষ করল মেয়েটার পায়ে বুট জুতা আর পরনে রয়েছে তার হাইকিঙে যাবার উপযুক্ত পোশাক-সব পরিস্থিতির জন্যই তৈরি রয়েছে জেনি।

সুড়ঙ্গটার সম্বন্ধে কিছুই জানে না ম্যাট, ওটাই রক্ষা করবে ওদের এ যাত্রা। জিকো ছাড়া আর কেউ জানে না সে কথা। ওটা না থাকলে একেবারে অসহায় অবস্থায় পড়তে হত ওদের। উঠান থেকে গরুগুলোকে সরাতে না পারলে কারও পক্ষে কেবিন থেকে বের হওয়া অসম্ভব। গরুগুলোকে মারতে পারে ওরা কিন্তু তা হলে পরে জাভেদরা সবাই খুন হয়ে গেলেও কেউ মিস পেজের দোষ ধরবে না।

তোমরা খেতে চাইলে খাবার তৈরি, বলল জেনি।

জিকো, তুমি টেবিলে বসে খেয়ে নাও, আমি জানালার ধারে বসেই খাচ্ছি।

শুনেছ! আবার ম্যাটের গলা শোনা গেল। জাভেদ, আমি জানি তুমি কেবিনের ভেতরে আছ। খোদার কাছে প্রার্থনা করেও কোন লাভ হবে না, বন্দুক ছেড়ে আত্মসমর্পণ করো, তবেই একমাত্র ছাড়া পাবে তোমরা!

কেবিনের দখলটা হারাতে হবে জাভেদকে। শীত প্রায় এসে গেছে, এই সময়ে নতুন করে বানিয়ে ওরা তৈরি ঘরটাই ব্যবহার করতে চাইবে, তাই এটা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে নষ্ট করার ভয় করছে না জাভেদ। পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে টিকে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বটে কিন্তু কিছুদিনের জন্য ওরা সহ্য করতে পারবে এই কষ্ট। জানালার কাছ থেকে দূরে সরে এসে পরিস্থিতিটা ভাল করে বিবেচনা করে দেখছে ও।

এই ধরনের বিপদ আসতে পারে মনে করেই জাভেদ তৈরি করেছিল এই কেবিন উতেদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। যদিও যে কোন আক্রমণ প্রতিহত করার মত মজবুত করেই কেবিনটা তৈরি করেছে সে, তবু নেহাত বেকায়দায় পড়লে যেন পালানো যায় সেই পথও রেখেছে ও বুদ্ধি করে। সুড়ঙ্গটা মেসার ধারে একটা ঘন ঝোঁপের আড়ালে বেরিয়েছে। কাছেই আর একটা গোপন আস্তাবলও আছে তার।

উঠানের গরুগুলোর পিছন দিক থেকে লোকজনের কথার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছে জাভেদ। জবাব না পেয়ে ওরা বুঝে নিয়েছে কথাবার্তার মাধ্যমে আপোষ করা যাবে না। হয়তো ওদের পরবর্তী কর্মপন্থা নিয়ে আলাপ করছে ওরা।

জাভেদের কফি নিয়ে এল জেনি জানালার ধারে। ওর দিকে চেয়ে হাসল জাভেদ। খুব খারাপ লাগছে আমার, তুমি এখানে এসেই এই ঝামেলার মধ্যে পড়লে।

আমাদের কি এই জায়গা ছেড়ে চলে যেতে হবে?

হ্যাঁ।

তবে তো আমাদের গরম জামা-কাপড়, কম্বল এসব লাগবে; ঠিক আছে আমি সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছি।

ধীরপায়ে নিজের কাজে চলে গেল জেনি। ওর দিকে চেয়ে আশ্চর্য হয়ে ভাবছে জাভেদ কী শান্ত ভাবেই না সবকিছু গ্রহণ করেছে মেয়েটা। আবার জানালা দিয়ে বাইরের দিকে চাইল সে…রাত না হওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকতে হবে ওদের, দিনের আলোয় সবার চোখে ধুলো দিয়ে পালানো কঠিন হবে। চারদিক নিস্তব্ধ, গরুগুলো নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে উঠানে ঠাসাঠাসি করে। কোন কাজ না পেয়ে দু’একটা গরু এর মধ্যেই জাবর কাটতে শুরু করেছে।

আগুনটার পাশে উবু হয়ে বসে ঠাণ্ডায় জমে আসা হাত দুটো গরম করে নিচ্ছে ম্যাট। ওরা ওই কেবিনের মধ্যেই আটকা আছে এ সম্বন্ধে আমি নিশ্চিত।

অ্যালেক আগুনের পাশে বসে একটা সিগারেট বানাতে ব্যস্ত। কাজের থেকে চোখ না সরিয়েই সে বলল, ওদের ওখান থেকে বের করার একটা ব্যবস্থা আমাদের করতেই হবে। কেবিনে যদি খাবার মজুদ থাকে তবে সারা শীতই ইচ্ছা করলে ওরা কেবিনে কাটিয়ে দিতে পারবে।

চিন্তিত মুখে এদিক ওদিক চেয়ে ম্যাট বলল, ঘাসের ব্যাপারে মিথ্যা বলেনি লোকটা। এখানে যা অবস্থা দেখছি তাতে আমাদের পশুগুলোকে এক সপ্তাহের বেশি রাখা যাবে না।

আরও আছে, জবাব দিল অ্যালেক।

ওভারকোটের নীচে ঠাণ্ডায় কুঁজো হয়ে রয়েছে ম্যাট। যতই দেখছে ততই অসুবিধাজনক মনে হচ্ছে তার কাছে সবকিছুই-পরিস্থিতিটা মোটেই পছন্দ হচ্ছে না তার। এর উপর যদি তুষারপাত আরম্ভ হয়…

আমার মনে হয় এখনই কিছু লোক পাঠানো দরকার ঘাসের খোঁজে। ঘাস যদি পাওয়া যায় আমাদের সেখানেই সরে যেতে হবে।

আমার চেয়ে বেশি বোঝো মনে হচ্ছে? খেপে উঠল অ্যালেক।

চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল ম্যাটের। তুমি বলেছিলে এখানেই যথেষ্ট ঘাস আছে। তোমার কথায় বিশ্বাস করেছিল মিস পেজ। তোমার কথা সত্যি হলেই রক্ষা!

ঘাস আরও আছে এখানে।

ধীরে ধীরে চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে দেখল অ্যালেকজান্ডার শার্প। যখন খালি অবস্থায় দেখেছিল জায়গাটাকে অনেক বড় মনে হয়েছিল তার, কিন্তু এখন গরু-মহিষ ভরে যাবার পর অত্যন্ত ছোট মনে হচ্ছে সেটাকেই। মনে মনে নিজেও বেশ চিন্তিত হয়ে উঠছে সে। পাহাড়ের আশেপাশে ঘাস থাকতেই হবে, কিন্তু কোথায়? সে আশা করেছিল জাভেদের ব্যবহার করার ফলে সেগুলোতে পৌঁছবার চিহ্নিত সুগম পথ থাকবে, কিন্তু কই? তেমন কোন পথই তার নজরে পড়েনি। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এটুকুই জাভেদের র‍্যাঞ্চের সব-অথচ স্যান সিদ্ৰো আর সান্তে ফির লোকজন তাকে বলেছে জাভেদের র‍্যাঞ্চে কয়েক হাজার জন্তু পালার মত জায়গা আছে।

ঠিক আছে, শেষ পর্যন্ত মত দিল অ্যালেক। দুজন লোককে পাঠিয়ে দাও ঘাসের খোঁজে। কেবিনটার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে সে আবার বলল, চিমনি দিয়ে ধোঁয়া উঠছে বটে, কিন্তু মনে হচ্ছে আগুনটা নিভে আসছে।

চমৎকার ভাবে বানানো হয়েছে বাড়িটা, আগুনের প্রয়োজন ওদের কমই হয়।

বেশ ঠাণ্ডা পড়েছে। আকাশের দিকে চাইল ম্যাথিউ। শক্ত সবল একরোখা মানুষ সে, নীনা পেজের অধীনে অনেকদিন থেকে কাজ করছে ও। নীনার মুখের আদেশই ওর কাছে যথেষ্ট। এর আগে ওর বাবার অধীনে কাজ করেছে সে। নীনার বুদ্ধির তারিফ না করে পারে না ম্যাট, ওর বাবার চেয়ে অনেক বেশি ঘিলু আছে মেয়েটার মাথায়। ওর বাবা থাকলে টেক্সাসেই থেকে মারপিট করে টিকে থাকার চেষ্টা করত, কিন্তু নীনা ঠিকই জানে কোনসময়ে পাত্তাড়ি গুটিয়ে পালাতে হবে। নীনার কিছু পশু তাড়িয়ে নিয়ে গেছিল ওরা, তাই চলে আসার সময়ে আশেপাশে যত জীব-জন্ত পেয়েছে সবই খেদিয়ে নিয়ে এসেছে এরা।

ম্যাটের নিজস্ব ধারণা যে জাভেদের দেওয়া বুদ্ধিটাই ঠিক ছিল। ওদের পশুর দলের মধ্যে এত বিভিন্ন মার্কার পশু রয়েছে যে ওগুলো বিক্রি করে না দিলে যে কোন সময়ে ধরা পড়ে যেতে পারে ওরা।

একটা কাঠ হাতে তুলে নিয়ে আগুনটাকে একটু খুঁচিয়ে দিল ম্যাট। ওদের হাতে সময় নেই মোটেও, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খালি করাতে হবে র‍্যাঞ্চ-দরকার পড়লে খুন করেই। তবে সেটাকে শেষ উপায় হিসাবে রেখেছে ম্যাট। যদি সবরকম চেষ্টা বিফল হয় তবেই-কারণ জাভেদের মত মানুষকে হত্যা করায় ঝামেলা আছে। ও রকম শক্ত মানুষের বন্ধু-বান্ধবও শক্তই হবে, তারা আবার ম্যাটের পিছু নেবে বন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য।

জাভেদ আর লরেন্সের লড়াইটা সে নিজে দেখেনি বটে, কিন্তু পরে লরেন্সের চেহারা দেখে তার অনুমান করে নিতে অসুবিধে হয়নি। লরেন্সের যত চালবাজি আর বড়াই ছিল ওই এক মারের চোটে সব একেবারে ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। আজ পর্যন্ত ম্যাট জাভেদকে যতখানি দেখেছে তাতে লোকটাকে ভিটে ছাড়া করা যে সোজা কাজ হবে না তা ভাল করেই জানে সে।

জাভেদের চালচলনে তার উপর কিছুটা শ্রদ্ধাই এসে গেছে ম্যাটের। এতগুলো লোকের বিরুদ্ধে লড়তে হবে জেনেও বিন্দুমাত্র ভয় পায়নি লোকটা

অ্যালেক আর নীনার যথাসর্বস্ব নিয়োজিত রয়েছে এই গরু-মহিষগুলোর সাথে ফিরে যাবার আর কোন উপায়ই নেই ওদের। ওরা পিছনে যা ফেলে এসেছে তা হচ্ছে শত্রুতা আর দুর্নাম। ওদের পশুগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই র‍্যাঞ্চের উপর ওদের অধিকার এখনই প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তবু জাভেদের মত ম্যাটেরও ধারণা র‍্যাঞ্চ দখল করার ঝুঁকি না নিয়ে ওদের পশুগুলো বিক্রি করে দেওয়াই ভাল ছিল।

পেজদের সাথে প্রায় বিশ বছর আছে ম্যাট। বুড়ো একেবারে ডাকাত ছিল। অন্যের পশু চুরি করে নিজেদের মার্কা লাগিয়ে আর অন্যের জমি অন্যায়ভাবে দখল করে প্রচুর টাকা বানিয়েছিল লোকটা

নীনা পেজ তার বাপের চেয়ে অনেক ধূর্ত আর বিচক্ষণ। নিজের রূপ আর যৌবনকে সে পিস্তলের চেয়েও মারাত্মকভাবে ব্যবহার করতে জানে। কিন্তু অ্যালেককে ঠিক বুঝতে পারে না সে সব সময়ে। অ্যালেকের চাচীকে বিয়ে করেছিল বুড়ো পেজ, সেই থেকেই অ্যালেক এদের সাথেই আছে। মাঝে একবার কয়েক বৎসরের জন্য নিরুদ্দেশ হয়ে গেছিল। ওই সময়ে সে যে কোথায় ছিল, কী করেছে তা কেউ জানে না। কিন্তু ফিরে আসার পর দেখা গেল অনেক চালু হয়েছে সে, পোকার খেলাও ভালই শিখেছে। পিস্তল চালানোতেও হাত পাকিয়েছে বেশ। একদিন শার্ট বদলাবার সময়ে ওর দেহে বেশ কিছু বুলেটের দাগ দেখেছে ম্যাট, কিন্তু ওগুলো কী করে হলো তা আর জিজ্ঞেস করে ওঠা হয়নি কোনদিন

অন্য র‍্যাঞ্চের সাথে মারামারিতে বুড়ো মারা যায়। অ্যালেক ব্যাপারটাকে আয়ত্তে এনে ফেলে। আসল ঘটনা যে কী ঘটেছিল জানতে পারেনি ম্যাট। যে লোকটা বুড়োকে মেরেছে তাকে খুব কাছে থেকে গুলি করে মারা হয় তারই ঘরের দরজায়। তার ছেলে ছুটে পালাচ্ছিল, তাকেও গুলি করে মারে অ্যালেক।

এর পরে কিছুদিন পরপরই মারামারি লাগত। দেখা গেল র‍্যাঞ্চের কাজের লোকের চেয়েও বেশি বন্দুকবাজের দল অ্যালেকের বেতনভুক্ত হয়েছে। র‍্যাঞ্চের কাজ একেবারে গোল্লায় গেল, ওদিকে অ্যালেকের ভাড়া করা লোকের সাথে স্থানীয় লোকেদের ঝগড়া বিবাদ বেড়েই চলল। শেষে সবাই একজোট হয়ে পালটা জবাব দিতে আরম্ভ করায় ওদের বাধ্য হয়েই প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসতে হয়েছে।

হাত গরম করে নিয়ে সিগারেট বানাতে আরম্ভ করল ম্যাট। টেক্সাসে সব সময়েই মারামারির ঝামেলা অ্যালেকের উপরই থাকত, নিজেকে ব্যস্ত রাখত সে র‍্যাঞ্চের কাজে। সব সময়েই র‍্যাঞ্চের কাজ জানা লোকের অভাব ছিল ওদের-এখন তো ওদের সংখ্যা তিনে দাড়িয়েছে। বাকি সবাই লরেন্স, স্যান্ডি, বার্টদের মত জঘন্য চরিত্রের খুনী বন্দুকবাজ। এদের মধ্যে লরেন্স আর স্যান্ডিকে একেবারেই দেখতে পারে না ম্যাট। শুধু ওদের দুজনের জন্যই চার-পাঁচজন ভাল ব্যাঞ্চের কাজ জানা লোককে বিদায় করতে হয়েছে তাকে।

ভোর হবার সাথে সাথে এসে হাজির হলো নীনা পেজ। এক্কাগাড়িটা এতদূর পর্যন্ত আসে না বলেই ওটাকে নীচে ছেড়ে দিয়ে ঘোড়ায় চড়ে এসেছে সে। গরুগুলো এখনও ওই একই অবস্থায় কেবিনের দরজা আটকে দাড়িয়ে আছে। কেবিনের চিমনি দিয়ে সামান্য ধোয়া উঠছে। এতক্ষণ ঘাস বা পানি না পেয়ে জন্তুগুলো বেশ একটু অস্থির হয়ে উঠেছে।

সকালের ঠাণ্ডা হাওয়ায় কাপ ধরে গেছে নীনার। সতৃষ্ণ নয়নে চাইল সে কেবিন থেকে ওঠা ধোয়ার রেখাটার দিকে। ওদিক থেকে চোখ ফিরিয়ে চারপাশটা একবার ভাল করে দেখল নীনা। নিজের চোখে দেখার পর হতবুদ্ধি হয়ে সে জিজ্ঞেস করল, অ্যালেক, তুমি না আমাকে বলেছিলে এখানে কয়েক হাজার গরু চরার মত ঘাস আছে? কোথায়?

জাভেদের কয়েকশো পশু আছে এদিকেই কোথাও, জবাব দিল অ্যালেক। অনেক উপত্যকা আছে আশেপাশে, সেগুলো খুঁজে বের করে নেব আমরা।

খুঁজে দেখেছ?

খোঁজা হচ্ছে, জবাব দিল ম্যাট। তবে এখনও কিছুই পাওয়া যায়নি। কোন পথের চিহ্নও চোখে পড়েনি আমাদের।  

কেবিনের দিকে চাইল আবার নীনা। ওদের ওখান থেকে বের করা যায় না?

যায়, ইতস্তত করে বলল ম্যাট। তবে সেটা করতে হলে ওদের সবাইকে খুন করতে হয়। তাতে ঝামেলা অনেক বেড়ে যাবার আশঙ্কা আছে।

ওই গরুগুলোকে পানি খাওয়ানো দরকার। ওগুলোকে সরিয়ে নিয়ে যাও, আমি কেবিনে গিয়ে দেখি কী অবস্থা।

কেবিনের ভিতর থেকে গরু সরিয়ে নেওয়া দেখল জাভেদ। সব সরে গেলে নীনা ঘোড়ায় চড়ে এগিয়ে এল। দরজা সামান্য ফাঁক করে ডাকল সে, এস, ভিতরে এস, স্বাগতম জানাই অতিথিকে।

নীনা ঘরে ঢুকতেই অ্যালেক আর ম্যাটও পিছু নিয়েছিল। ওদের পায়ের কাছে একটা বুলেট বিধিয়ে চিৎকার করে জাভেদ বলল, তোমরা ওখানেই থাকো। কাউকে আহত করতে চাই না আমি।

জিকোর দিকে চাইতেই সে রাইফেল হাতে জানালার কাছে এগিয়ে গেল।

ভিতরে ঢুকেই ঘরের চারপাশটা একবার চেয়ে দেখল নীনা। এত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন একটা কামরা দেখবে আশা করতে পারেনি সে। জেনির সাথে চোখাচোখি হলো তার। একটা সাধারণ সুতির কাপড়ে সুন্দর দেখাচ্ছে মেয়েটাকে।

বোসো, বলল জেনি। গরম কফি দিচ্ছি আমি এখনই।

কেতাদুরস্ত কায়দায় পিছন থেকে চেয়ার ঠেলে দিয়ে নীনাকে বসাল জাভেদ। প্রায় সাথে সাথেই এক কাপ গরম কফি হাজির করল জেনি। কফি গরমই ছিল, সাথে এক প্লেট ডো-নাটও এনেছে সে

বেশ ভালই আছ দেখছি তোমরা, কিন্তু দুঃখের বিষয় এসব ছেড়ে যেতে হবে তোমাদের।

হ্যাঁ, ভালই আছি। এই আবহাওয়ায় এই এলাকায় কী করে টিকে থাকা যায় শিখে নিয়েছি আমরা। ইচ্ছে করেই কথার মোড় ঘোরাল জাভেদ।

ঘাস বিশেষ দেখছি না শেপাশে, কিন্তু আমার বিশ্বাস র‍্যাঞ্চ করা সম্ভব এখানে।

কে যে তোমাকে এই বুদ্ধি দিয়েছে জানি না, তবে আমার মনে হয় এর পিছনে আরও গৃঢ় কোন কারণ আছে তোমার।

এই জমি আমার, সেটাই কি আমার এখানে আসার যথেষ্ট কারণ হতে পারে?

ভুল করছ তুমি। তোমার দলিল গভর্নর আর্মিজোর দেয়া, ওটা কোর্টে গ্রাহ্য নয় জেনেই এখানে আশি বর্গমাইল জমি কিনেছি আমি-কাগজপত্রও আছে আমার সবই।

জাভেদের দিকে চেয়ে একটু হাসল নীনা। আপোষে মীমাংসা করার জন্যেই এসেছিলাম কিন্তু তা হবে না বুঝতেই পারছি। তবে এটা জেনো যে কোন কোর্টে যাব না আমরা, এর নিষ্পত্তি এখানেই করা হবে।

নীনার কফি শেষ হয়েছে দেখে উঠে দাড়াল জাভেদ। তা হলে আমাদের আর আলাপ আলোচনা করে কোন লাভ নেই। তোমাকে আমি এক ঘণ্টা সময় দিচ্ছি আমার জমি থেকে তোমার গরু-মহিষ সরিয়ে নেয়ার।

নড়ল না নীনা কাপটা হাতে তুলে নিয়ে মিষ্টি করে হাসল সে। দুর্ভাগ্য আমার যে আমরা দুজনে পরস্পরের শত্রু, বলল সে। বন্ধু হতেই চেয়েছিলাম আমি।

এখনও তা হতে পারে, বলে উঠল জেনি। তোমার গরু-মহিষ নিয়ে অন্য কোথাও নিজেদের জায়গা করে নাও, তারপর বন্ধু হিসেবে আমাদের সাথে দেখা করতে এসো।

আমাদের? আচ্ছা! উঠে দাঁড়াল নীনা। আমি জানতাম না তুমি এরই মধ্যে জাভেদের অংশীদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে নিয়েছ।

জেনির মুখ প্রথমে ফ্যাকাসে তারপরেই আবার আরক্ত হলো। জবাব দিল, তুমি ভুল বুঝছ, আমার বাবা তার বিশ্বস্ত লোক, তাই আমি মনে করি আমারও তার প্রতি বিশ্বস্ত হওয়াই স্বাভাবিক।

হ্যাঁ, তুমি যে তার বিশ্বস্ত আর অনুগত হতে চাইবে এটা আমিও বিশ্বাস করি। 

বাইরে বেরিয়ে এল নীনা। মুখে বাতাসের ঠাণ্ডা ঝাঁপটা লাগতেই মুহূর্তকাল দাঁড়াল সে। বাইরে তার ঠাণ্ডা লাগলেও ভিতরে ভিতরে জ্বলছে সে। তবে তাই হোক, অ্যালেক জানে কী করে কী করতে হবে! ঘোড়ায় উঠে বসল সে, কিন্তু জাভেদের চিন্তামগ্ন গম্ভীর মুখটা কিছুতেই ভুলতে পারছে না সে।

শিগগিরই মারা যাবে..খুন হয়ে যাবে লোকটা।

কিন্তু কী আর করা যাবে? যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নিজের মনকে বারবার বোঝাতে চাইল সে, আর কোন উপায়ই যে নেই।

ঠাণ্ডায় কুঁজো হয়ে বিরক্ত চোখে আকাশের দিকে চাইল অ্যালেক। তুমি ঠিক জানো ওখান থেকে বেরুবার আর কোন দরজা নেই?

হা, খেয়াল করে দেখেছি আমি, দরজা মাত্র একটাই।

তোমার কী মত, ম্যাট? প্রশ্ন করল অ্যালেক।

জিনের উপর একটু নড়েচড়ে বসল ম্যাট। আমাদের পক্ষে অসম্ভব হবে না কাজটা, তবে আমাদেরও কিছু লোক মারা পড়বে।

উপায় নেই, ঝুঁকিটা আমাদের নিতেই হবে, সিদ্ধান্ত দিয়ে দিল অ্যালেক।

স্যান্ডি আর লরেন্স দুজনেই বন্দুক চালানোতে ওস্তাদ। ওরা দুজন যদি একটু এগিয়ে গিয়ে জানালা দুটো কাভার করে, তবে আমাদের বাকি লোকজনের পক্ষে ওদের ভিতরে থাকা অসম্ভব করে তোলা কঠিন হবে না। এই সুযোগে যাদের সে পছন্দ করে না তাদের কায়দা করে শেষ করার সুযোগ ম্যাট হেলায় হারাতে চায় না।

ঠিক আছে, ঘোড়া ঘুরিয়ে নিল অ্যালেক। তবে তাই করো।

জলদি সবাইকে তাদের নির্দেশ জানিয়ে দিল ম্যাট। সবাই নিজের নিজের জায়গায় গিয়ে আস্তানা গাড়ল। স্যান্ডি থাকল ডানদিকে একটা গাছের আড়ালে আর লরেন্স বামে। তিনজন থাকল গুদামে, দুজন আস্তাবলে

একটা রাইফেল গর্জে উঠল। স্যান্ডি গুলি করেছে, ওর রাইফেলের নলের মুখে ধোয়া দেখা যাচ্ছে। কয়েক মিনিট আর কোন শব্দ পাওয়া গেল না। দূরে আগুনের ধারে বসে নীনা বোঝার চেষ্টা করছে কে গুলিটা করল। মানুষ মারা যাবে এখন…কিন্তু মানুষ তো আগেও মরেছে। তাদের গত টেক্সাসের গোলাগুলিতেই তো বারোজন মরেছিল, আহত হয়েছিল আরও বেশি।

স্যান্ডির গুলিটা জানালার চৌকাঠে লেগে কিছুটা চলটা উঠিয়ে নিয়ে বেরিয়ে গেল। আড়চোখে সেদিকে চেয়ে অপেক্ষা করে রইল জাভেদ। কাউকে দেখা না গেলে শুধু শুধু আন্দাজে গুলি ছুঁড়ে কোন লাভ নেই। তাড়া নেই ওর।

জাভেদের নির্দেশ অনুযায়ী কিছু খাবার প্যাকেট করতে ব্যস্ত জেনি। কম্বল আর গ্রাউন্ড শীট সে আগেই প্যাক করে রেখেছে।

একটা বুলেট সশব্দে কাঁচ ভেঙে ছাদে গিয়ে লাগল। একটু সরে বসল জিকো, তারপরেই গুলি করল সে। একটা অকথ্য গালি দিয়ে লাফিয়ে পিছনে সরে গেল লরেন্স। বুলেটটা ওর কাঁধে আগুনে জ্বালা ধরিয়ে দিয়ে বেরিয়ে গেছে। পিঠ বেয়ে রক্ত পড়া বেশ টের পাচ্ছে লরেন্স। একটা ঠাণ্ডা স্রোত বয়ে গেল ওর দেহে-লক্ষ্য স্থির করে গুলি করতে জানে লোকগুলো!

সারাটা বিকেল একটা দুটো করে গুলি চলল, কিন্তু কোন পক্ষেরই কেউ হতাহত হলো না তাতে। কতগুলো পাথরের আড়ালে বসে অ্যালেক লক্ষ রেখেছে। কেবিনটার উপর। এ পর্যন্ত মাত্র চারটে গুলি এসেছে ওখান থেকে। হয় ওদের গুলি কম আছে, নতুবা ওরা খুব সাবধানী, হিসাব করে খরচ করছে গুলি। লরেন্সের কাঁধে চোট লেগেছে আর স্যান্ডির বুটের একটা গোড়ালি উড়ে গেছে বুলেটের আঘাতে। আর দুবার অল্পের জন্য বেঁচে গেছে ম্যাট।

প্যাকেটগুলো টানেলের কাছে তৈরি রাখা হয়েছে। জিকো সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে গিয়ে লুকানো ঘোড়াগুলোকে খাইয়ে ওখানেই অপেক্ষা করছে। যখনই হোক কেউ কেউ পিছন দিকটায় আসবে, আর এলেই ঘোড়াগুলো তার চোখে পড়বে।

অন্ধকার হয়ে যেতেই জাভেদ চট করে বেরিয়ে কেবিনের দেয়ালের সাথে সেঁটে দাঁড়াল। ওরা ক্রল করে জানালার নীচে এসে হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে জানালা দিয়ে গুলি করার চেষ্টা করতে পারে অন্ধকারে। তৈরি হয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে বসে অপেক্ষা করতে লাগল জাভেদ।

কিছুক্ষণ পর একটা অস্পষ্ট নড়াচড়া লক্ষ করল সে গুদামের দেয়ালের পাশে। তারপর দেখতে পেল লোকটাকে, নিচু হয়ে মোজা পায়ে ছুটে আসছে। উঠে দাড়াল জাভেদ। ছাদের বাড়ানো অংশের নীচে তার দেহ অন্ধকারের সাথে একেবারে মিশে আছে। নিঃশব্দে ছুটে আসছে লোকটা। অন্ধকারে দেখতে পায়নি সে জাভেদকে, যখন দেখল অনেক দেরি হয়ে গেছে তখন। কানের পিছনে পিস্তলের বাড়ি খেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল লোকটা। কোমর থেকে গরুর পা বাধার দড়ি খুলে ওকে বেঁধে ফেলে মুখে একটা পুরোনো চটের টুকরো গুঁজে দিল সে।

লোকটা গলা দিয়ে গোঁ গোঁ আওয়াজ করে নড়ে উঠল। চুপ, ওর কানের কাছে নিচু স্বরে ফিসফিস করে বলল জাভেদ। নইলে আবার মাথায় বাড়ি খাবে।

ধীরে ধীরে আরও এক ঘণ্টা পার হয়ে গেল, কিছুই ঘটল না। তারপরে গুদাম ঘর থেকে দ্বিতীয় একজন রওনা হলো। দ্রুত ছুটে আসছে লোকটা। পায়ের আওয়াজ পেয়ে হাত-পা বাঁধা লোকটা একটা অস্ফুট শব্দ করে নড়ে উঠল। ছুটে আসা লোকটা থেমে দাঁড়িয়েই পিস্তল বের করল। হাঁটুর উপর ভর দিয়ে বসে পড়ল জাভেদ। লোকটা গুলি করার সাথে সাথেই সে-ও জবাব দিল, তারপর মাটিতে শুয়ে গড়িয়ে সরে গেল। ওর মাথার উপর দিয়ে আরেকটা বুলেট কেবিনের দেয়ালে গেঁথে গেল।

আরও এক ঘণ্টা পর দরজার কাছে এসে ভিতরে ঢোকার জন্য বিশেষ সঙ্কেত দিল সে। মুহূর্তে ওর পাশে এসে হাজির হলো জেনি। ব্যথা পেয়েছ তুমি? ওর স্বরে আন্তরিক উৎকণ্ঠা।

না, খিদে পেয়েছে আমার।

একটাকে ঘায়েল করেছ তুমি, জানালা দিয়ে ওকে ঘুরে পড়ে যেতে দেখেছি আমি, বলে উঠল জিকো। টানেল দিয়ে আবার ফিরে এসেছে সে।

একজন বন্দীও আছে।

অন্ধকারে টেবিলে বসে ডিনার খেয়ে নিল জাভেদ। কফি আর একটা ডো নাট হাতে করে জানালার ধারে গেল সে। বাইরেটা ভাল করে খুঁটিয়ে দেখে নিল।

সময় হয়েছে, বলল জাভেদ। তোমরা তৈরি হও।

লুকানো ঘোড়াগুলোর কাছে যখন পৌঁছল ওরা তখন আকাশে অনেক তারা উঠেছে। দু’এক মিনিটের মধ্যেই ওরা তিনজন তিনটে ঘোড়াকে হটিয়ে নিয়ে জঙ্গলে ঢুকে গেল। আরও কয়েক মিনিট নিঃশব্দে কাটার পর ওরা বুঝল প্রতিপক্ষ ওদের সরে আসা টের পায়নি এখনও।

মেসার পাশ দিয়ে হেঁটে এগিয়ে গেল ওরা। পথ দেখিয়ে আগে আগে জিকো আর সবার পিছনে গার্ড দিচ্ছে জাভেদ। কেবিন থেকে বেরিয়ে প্রায় সিকি মাইল। দূরে চলে আসার পর ঘোড়ায় চড়ে এগিয়ে চলল ওরা পশ্চিমে। পিছন থেকে কেউ অনুসরণ করছে না ওদে।

কেবিনে থাকতে পারত ওরা সহজে। সহজে বাইরে থেকে কেউ কিছু করতে পারত না ওদের। কিন্তু ওখানে থাকলে কোন এক সময়ে ওই লুকানো ঘোড়াগুলো ওরা আবিষ্কার করেই ফেলত। ওরা পালিয়ে এসেছে বটে, কিন্তু এখন নিজেদের ইচ্ছামত গতিবিধি আছে ওদের। এর প্রধান সুবিধা হলো, এখন যখন খুশি আক্রমণ করতে পারবে ওরা।

এক ঘন্টা চলার পরে ঘন জঙ্গল শেষ হয়ে ফাঁকা জায়গা পড়ল সামনে। এখনও মেসার পাশ দিয়েই যাচ্ছে ওরা। ওদের ডান পাশেই সোতা পাঁচশো ফুট খাড়া উঠে গেছে মেসার দেয়াল। পিছন থেকে জেনির পাশে এগিয়ে এল জাভেদ।

কী অবস্থা তোমার, জেনি? কষ্ট হচ্ছে খুব? জিজ্ঞেস করল সে।

কিছু অসুবিধে হচ্ছে না আমার, জাভেদ। দরকার হলে সারাদিন সারারাত ঘোড়ার পিঠে চলতে পারব আমি।

আসলেই শক্ত মেয়ে দেখছি তুমি!

জিকো নীরব রইল। চাঁদ উঠেছে এখন, তারাগুলো চাঁদের উজ্জ্বল আলোয় ম্লান হয়ে এসেছে। দূরে দিগন্তরেখায় মেঘ দেখা যাচ্ছে।

উত্তর দিকে চলেছি আমরা, ব্যাখ্যা করল জাভেদ। ওই যে পাহাড়গুলো দেখা যাচ্ছে, ওগুলোই ন্যাসিমিয়েনটো পর্বতমালা। ওই চূড়াটার দক্ষিণেই দুই পাহাড়ের ফাঁকে কোথাও রাতের মত ঠাই নেব আমরা।

সরাসরি হিসাবে মাত্র তিন চার মাইল এসেছে ওরা, কিন্তু পথ চলতে প্রায় ডবল ঘুরতে হয়েছে। পাহাড়ের চূড়াটাকে নিশানা করে এগিয়ে যাচ্ছে তিনজনে। প্রায়ই থেমে দাঁড়িয়ে জাভেদ নিশ্চিত হয়ে নিচ্ছে কেউ ওদের অনুসরণ করছে কিনা। ভোরের দিকে ইউরেকা মেসার পিছনে ক্যাম্প করল ওরা।

তোমার কি মনে হয়, ওরা আমদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে, নাকি র‍্যাঞ্চ পেয়ে গেছে মনে করে ফুর্তি করবে? গুহার ভিতরে আগুন জ্বালাতে জ্বালাতে প্রশ্ন করল জিকো।

নাকে তেল দিয়ে ঘুমোবার সুযোগ ওরা পাবে না। আমরা ফিরে গিয়ে এমন উৎপাত শুরু করব যে পালাবার পথ পাবে না কেউ। কথাটা বলে উঠে দাঁড়াল জাভেদ। প্রথম পাহারার পালাটা আমিই নিচ্ছি, জিকো। তোমরা বিশ্রাম নাও। আমি একটু ঘুরে দেখে আসি এলাকাটা। রাইফেল তুলে নিয়ে বেরিয়ে গেল সে।

প্রায় বিশ মাইল চক্কর দিয়ে আবার র‍্যাঞ্চের কাছাকাছি চলে এসেছে ওরা। এখান থেকে র‍্যাঞ্চটা মাত্র আট মাইল দক্ষিণে। জাভেদের পশুগুলো আছে পেনাস নেগ্রাসে-এখান থেকে বেশি দূরে নয়। দক্ষিণ আর পুবের এলাকা ওর ভাল করেই চেনা আছে। উত্তরের দিকে জাভেদ শুনেছে কিছু দাগী ডাকাত আর অসভ্য উতে ইন্ডিয়ানদের বাস।

দূরবীন চোখে লাগিয়ে ভাল করে চারদিকটা দেখে নিল জাভেদ। একদল হরিণ আর একটা ভালুক নজরে পড়ল ওর-কিন্তু কোন জনমানবের চিহ্ন দেখল না সে।

ফিরে এসে কিছু খেয়ে নিয়ে তার পরবর্তী প্ল্যানের কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ল জাভেদ। যখন ঘুম ভাঙল দেখল প্রায় বিকেল হয়ে এসেছে-কফির সুন্দর সুগন্ধ বাতাসে ভাসছে। গনগনে আগুনটার পাশে তারই দিকে চেয়ে বসে আছে জেনি।

উঠে বসে একটু মাথা চুলকে সে জিজ্ঞেস করল, কই, ঘুমালে না তুমি?

আমি পরে ঘুমাব। সবকিছু ঠিকই আছে, আমি ঘুরে দেখে এসেছি, আশেপাশে কোথাও কেউ নেই।

আচ্ছা মেয়ে বটে তুমি! বিপদের সাথে পরিচয়ও তোমার আছে মনে হচ্ছে। এতসব কোথায় শিখলে তুমি-কনভেন্টে নিশ্চয়ই না?

আমি আমার বাবার কাছে এসব ট্রেনিং পেয়েছি ছোটকালেই, হাতের ইশারায় জিকোকে দেখাল জেনি। সে-ও তোমার মতই সাবধানী

পশ্চিমের জীবনের ধারাই এই, একটা সিগারেট বানিয়ে আগুন থেকে একটা ছোট্ট কাঠের টুকরো তুলে নিয়ে সিগারেট ধরাল জাভেদ। জিকোর কাছে শুনেছি ইন্ডিয়ানরা তোমার আত্মীয়স্বজন সবাইকে মেরে ফেলেছে।

ওসব কিছুই প্রায় মনে নেই আমার…কেবল মনে আছে অনেক পথ চলেছি আমরা। বাবা, মা আর যতদূর মনে পড়ে আমার এক কাকা ছিলেন আমাদের সাথে। বাবার সাথে পানির ধারে গেছিলাম আমি, এমন সময়ে গুলি আর চিৎকারের শব্দ কানে যায় আমাদের। খুব ভয় পেয়েছিলাম আমি। বাবা আমাকে একটা ঝোঁপের পিছনে লুকিয়ে রেখে কী হয়েছে দেখতে গেলেন। অনেকক্ষণ পরেও তাকে ফিরতে না দেখে আমি খুঁজতে বেরিয়েই ইন্ডিয়ানদের চোখে পড়ে গেলাম

ওরা নির্যাতন করেনি তো?

না, আমার সোনালী চুল দেখে খুব অবাক হয়েছিল ওরা। একজন ইন্ডিয়ান আমাকে নিজের মেয়ের মতই আদর যত্নে রেখেছিল।

গুহা থেকে বেরিয়ে সারারাত ধরে জ্বালাবার জন্য বেশ কিছু শুকনো কাঠ জোগাড় করে নিয়ে এল জাভেদ। বিকেলের রোদটা এখন গোলাপী আভা ছড়াচ্ছে ন্যাসিমিয়েনটোর চূড়া থেকে। আকাশটা পরিষ্কার-রাতে খুব ঠাণ্ডা পড়বে।

ঘোড়ায় জিন চাপিয়ে ঘোড়া সেজে গুহায় ফিরে এককাপ কফি খেয়ে নিল জাভেদ। আর দেরি করা যায় না, উঠল সে। দিনের আলো ফুরিয়ে যাবার আগেই বেরিয়ে পড়তে হবে আমাকে।

সাবধানে থেকো কিন্তু।

সাবধান তো থাকতেই হবে।

উইনচেস্টারটা তুলে নিয়ে ঘোড়ার পিঠে খাপের ভিতর ঢুকাল জাভেদ। ওর পিছু পিছু জেনিও বেরিয়ে এল। জাভেদ-প্লীজ, নিজের দিকে খেয়াল রেখো?

জেনির সোনালী চুলের উপর এক ফালি বিকেলের রোদ পড়ে এক অদ্ভুত সুন্দর মায়াজালের সৃষ্টি করেছে।

তুমি চিন্তা কোরো না, খুবই সাবধান থাকব আমি। লাগাম টেনে ঘোড়ার মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে ক্যানিয়নে নেমে গেল জাভেদ।

ঘণ্টাখানেক পর তার ব্যাঞ্চ থেকে এক মাইল দূরে এবড়োখেবড়ো একটা পাহাড়ের মাথায় বসে দূরবীন দিয়ে র‍্যাঞ্চটাকে ভাল করে খুঁটিয়ে লক্ষ করল জাভেদ। এদিক ওদিক ইতস্তত দাঁড়িয়ে রয়েছে গরু-মহিষগুলো, একটা ঘোড়া বাধা রয়েছে দেখা যাচ্ছে। রাইফেল হাতে একজনকে বেরিয়ে আসতে দেখল সে কেবিন থেকে। আশেপাশে আর কোন লোকজন দেখা গেল না।

কিছু গরু-মহিষ সরে গেলে একটা আগুন নজরে পড়ল ওর। আগুনের পাশে কিছু লোকজনকেও হাঁটা-চলা করতে দেখা যাচ্ছে। গরুগুলো ইতস্তত হাঁটতে হাঁটতে জাভেদ যেখানে বসে আছে প্রায় সেই পাহাড়টার কাছাকাছি চলে এসেছে। একটা দুষ্টবুদ্ধি খেলে গেল ওর মাথায়।

অন্ধকার হয়ে আসতেই পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নীচে গরু-মহিষের ভিতর নেমে এল জাভেদ। উপত্যকায় ঘোড়া ছুটিয়ে এপাশ ওপাশ করতে করতে এগিয়ে পশুগুলোকে তাড়িয়ে ফিরিয়ে নিয়ে চলল সে র‍্যাঞ্চের দিকে। উত্তুরে হাওয়াটাও সাহায্য করল জাভেদকে-গরু-মহিষ দক্ষিণে হাঁটা ধরল ধীর পায়ে। আগুনটার সিকি মাইলের মধ্যে আসার আগেই প্রায় দুইশো জন্তু জড়ো করে ফেলল জাভেদ। হঠাৎ পিস্তল বের করে বিকট চিৎকার দিয়ে গুলির ফাঁকা আওয়াজ করে ঘোড়া ছুটিয়ে পশুর দলের ভিতর ঢুকে গেল সে। দলটা ছুটতে আরম্ভ করল আগুনের দিকে। দেখাদেখি সামনের জম্ভগুলোও লাফিয়ে ওই দিকেই ছুটতে শুরু করল।

আগুনের পাশ থেকে একটা ভয়ার্ত চিৎকারের সাথে সাথে একটা গুলির শব্দ পাওয়া গেল। কিন্তু থামল না গরু-মহিষের দল, ওদের পায়ের তলায় মাড়িয়ে আগুন পেরিয়ে নেমে গেল নীচের ক্যানিয়নে।

কেবিন থেকে একটা চিৎকার ভেসে এল। শব্দ করে দরজা বন্ধ করল কেউ। তারপর ঘোড়ার খুরের শব্দ উঠল। নিজের ঘোড়ার মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে জঙ্গলে ঢুকে গেল জাভেদ।

মার্শের ধার দিয়ে সিবোল্লা ট্রেইল ধরল সে। পাহাড়টা পার হয়ে দূরে গ্রামের বাড়িগুলো দেখা গেল। তৃতীয় বাড়িটার সামনে এসে ঘোড়া থামাল সে। কয়েকটা কুকুর ঘেউ ঘেউ করছে, দরজা খুলে একটা লোক বেরিয়ে এল।

পেড্রো, কেমন আছ?

আরে! সিনর জাভ! কী সৌভাগ্য আমার! আসুন, ভিতরে আসুন। সাদর অভ্যর্থনা জানাল পেড্রো

সময় নেই এখন, বলল জাভেদ। এই ঘোড়াটা তোমার কাছে রেখে তোমার সেই কালো ঘোড়াটা নিতে চাই আমি।

আসুন আমার সাথে, পথ দেখিয়ে নিজের আস্তাবলে নিয়ে গেল তাকে পেড্রো।

আমার ঘোড়াটা একটু আড়াল করে রেখো। গোলমাল চলছে-লোকগুলো বিশেষ সুবিধার নয়, সাবধান করে দিল জাভেদ।

আপনার কি সাহায্যের দরকার, সিনর জাভ?

না, সাহায্য দরকার পড়বে না।

লাগলে জানাবেন, লোমা কয়োটিতে অনেক ভাল ভাল যোদ্ধা আছে-আমি খবর দিলেই ওরা চলে আসবে।

না, এখনও সে সময় আসেনি।

ঘোড়ায় চেপে স্যান সিদ্ৰোর কাছাকাছি পৌঁছল জাভেদ ভোরের দিকে। সেখানে একঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে আবার শহরে গিয়ে হাজির হলো সে।

স্টেজ স্টেশনের সামনেটা ব্রাশ দিয়ে ঝেড়ে পরিষ্কার করছিল ফ্রেড। জাভেদকে আসতে দেখে ধীরে ধীরে সোজা হয়ে দাঁড়াল। শুনলাম ওরা নাকি র‍্যাঞ্চ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে তোমাকে?

তাই নাকি? ঘোড়াটাকে বেঁধে ঘুরে দাঁড়াল জাভেদ। স্নান করে শেভ সেরে পেট ভরে খেয়ে নেওয়া দরকার তার। আমি নিজেই স্বেচ্ছায় আমার কেবিন ছেড়ে চলে এসেছি, আসলে আটকা পড়তে চাইনি ওখানে।

বারের পাশ দিয়ে মোড় ঘুরেই জাভেদকে দেখে থমকে দাঁড়াল বব। ওকে ভাল করে একনজর দেখে নিয়ে প্রশ্ন করল, দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছ নাকি তুমি?

কে বলল?

তোমাকে আমি সেই উপদেশই দেব। তোমার র‍্যাঞ্চ তো আর তোমার নেই এখন, এখানে থেকে আর কী করবে তুমি?

তুমি তা হলে মনস্থির করে ফেলেছ?

তার মানে?

তুমি ওদের পক্ষ নিয়েছ, তাই না?

ডেপুটি শেরিফের মুখের ভাব গম্ভীর আর কঠিন হয়ে উঠল। তোমাকে আমি আগেই বলেছি, গোলমাল করলে হাজতে ভরব আমি।

জাভেদের মুখও গম্ভীর হলো। বোকামি করতে যেয়ো না, বব। জানি তোমার বৌ ছেলে-মেয়ে আছে আর ওদের খাতিরেই তুমি গোলমাল এড়িয়ে যেতে চাও। কিন্তু আমাকে হাজতে ভরার চেষ্টা যখনই করবে, তখনই মারা পড়বে তুমি।

চোয়াল শক্ত হলো ববের। এক পা থেকে অন্য পায়ে দেহের ভর পরিবর্তন করল সে। জাভেদের চোখে চোখে চেয়ে বুকের ভিতরটা কেমন যেন ঠাণ্ডা হয়ে এল তার।

জাভেদ ধাপ্পা দিচ্ছে না।

আমাকে বাধ্য কোরো না, জাভেদ, বলল শেরিফ, কিন্তু তার গলায় সেই জোর আর নেই। সে জানে ওকে গ্রেপ্তার করতে গেলে আসলেই মারা পড়বে সে।

যেদিনই তুমি আমাকে উপযুক্ত কারণ ছাড়া হাজতে ঢোকাতে চেষ্টা করবে সেদিনই মারা পড়বে তুমি। কোনও সন্দেহ নেই তাতে। তা ছাড়া এই বিশেষ ক্ষেত্রে আমি আইনসঙ্গত ভাবেই চলছি, তুমিই ওদের চাকচিক্য দেখে মোহে পড়ে গেছ। তাই তোমাকে ডিঙিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছি।

অর্থাৎ?

গভর্নর আর শেরিফের কাছে আমি লিখিতভাবে জানিয়েছি এখানকার সব ঘটনা। আমার দলিল সান্তা ফে’তে রেজিস্টারি করা আছে। তুমি যদি এই ব্যাপারে নাক গলাতে যাও তবে আইন বিরোধী হবে সেটা।

কথা একেবার বন্ধ হয়ে গেল ববের। জাভেদ যদি সত্যিই গভর্নর আর শেরিফের কাছে লিখে থাকে আর সত্যিই যদি ওর দলিলটাই ঠিক হয় তবে দুই পয়সা দামও থাকবে না আর চাকরির। তা ছাড়া এর মধ্যে নাক না গলানোর আরও একটা অকাট্য কারণ তার মনে উদয় হয়েছে-যে লোক শাইনি ডিকের মত দুর্দান্ত মানুষকে সামনাসামনি গুলি করে মারতে পারে তার সাথে গোলাগুলিতে নামার মত উটকো শখ তার নেই।

চিঠির কথায় নিজের মুখ রক্ষা করার মত একটা জবাব আপনাআপনি বেরিয়ে এল ওর মুখ থেকে। ঠিক আছে। আমি না হয় শেরিফের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করব-কিন্তু তাতে যদি তোমাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, মনে রেখো তোমাকে ছাড়ব না আমি।

কোন জবাব দিল না জাভেদ। ফ্রেডের সাথে বারের ভিতর ঢুকল সে। গ্লাসে হুইস্কি ঢেলে ওর দিকে এগিয়ে দিল ফ্রেড।

নাস্তা বানাতে বলব তোমার জন্যে?

নিশ্চয়ই।

ওদের একজনকে মেরে ফেলেছ তুমি।

আমারও তাই ধারণা।

আজ সকালে ওদের কিছু লোকের এখানে আসার কথা।

ওদের কথা নাস্তার পরে চিন্তা করা যাবে।

ববের কাছে চিঠির কথা বলে ভয় দেখিয়েছিল জাভেদ। তবে এবার সে সত্যিই সেই চিঠি দুটো লিখল। তৃতীয় একটা চিঠি লিখল সে ট্যাসকোসার রেঞ্জার ক্যাপ্টেনের কাছে। নীনা পেজদের দল আর ওদের দলিল সম্বন্ধে খোঁজখবর নিতে অনুরোধ করল তাকে জাভেদ

নাস্তা শেষ করে দ্বিতীয় কাপ কফিতে চুমুক দেওয়ার সময়ে বব এসে ঢুকল বারে। তোমার কি এখানেও মারপিট করার ইচ্ছা আছে নাকি?

কেন, ওরা কি আসছে?

হ্যাঁ, চার-পাঁচ জনকে আসতে দেখলাম।

ধন্যবাদ, বব, যাবার জন্য উঠে দাঁড়াল জাভেদ। কিন্তু সেই মুহূর্তেই ঘোড়ার খুরের শব্দ পাওয়া গেল বাইরে। জানালা দিয়ে জাভেদ দেখল পাচজন এসেছে ওরা।

আর কী? রাগের স্বরে বলল বব, দেরি হয়ে গেছে অনেক।

যাক, আর এক কাপ কফির দরকার ছিল আমার এমনিতেও। আবার নিজের চেয়ারে বসে পড়ল জাভেদ।

শিগগির ওঠো, পিছনের দরজা দিয়ে হয়তো এখনও বেরিয়ে যেতে পারবে তুমি।

না, বেশ আছি আমি এখানে।

কী যেন বলার জন্য মুখ খুলেছিল বব, কিন্তু তা না বলে ঘুরে বারের দিকে এগিয়ে গেল সে। বলল, ডাবল হুইস্কি, ফ্রেড। জলদি!

কফির পট তুলে নিয়ে নিজের কাপটা আবার ভরে নিল জাভেদ, তারপর আরাম করে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে দরজার দিকে সতর্ক নজর রাখল।

বুটের শব্দ পাওয়া গেল বারান্দায়। কেউ একজন জোরে হেসে উঠল।

দুলে উঠে দরজার দুটো পাটই সম্পূর্ণ খুলে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *