০৩. মাথার ওপর হাত তুলল কিশোর

মাথার ওপর হাত তুলল কিশোর। ঘাড়ের কাছে শিরশির করছে। আমি…আমি…।

চুপ কর, শান্তকণ্ঠে আদেশ হল।

কাঠের মেঝেতে পায়ের শব্দ। চওড়া দরজায় দেখা দিলেন ধূসর চুল মানুষটা। হাতের লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে মাথা সামান্য কাত করে তাকালেন কিশোরের দিকে। ভুরু কোঁচকানো। কি হয়েছে, কিম? ছেলেটা কে? …

ভ্রূকুটি করল কিশোর। লোকটাকে কোথায় দেখেছে। কণ্ঠস্বর, ওভাবে মাথা কাত করে কথা বলার ভঙ্গি…কোথায় দেখেছে? কবে?

চুরি করে ঢুকেছে এখানে, জবাব দিল কিম। এখানে দাঁড়িয়ে আড়িপেতে, আপনার কথা শুনছিল।

আমি শুধু ঠিকানা জানতে এসেছি, নিরীহ কণ্ঠে বলল কিশোর। সাইনবোর্ড দেখলাম, মুমেরিজ ইন। রেস্টুরেন্ট, তাই না? চুরি করে ঢুকিনি। দরজা খোলাই ছিল।

ছিল, হাসলেন তিনি। লাঠিতে ভর দিয়ে দিয়ে এগিয়ে এলেন কাছে। রেস্টুরেন্ট ছিল আগে। তা দরজা খোলা ছিল, না?

রক্তিম গাল তার। চোখা পাতলা নাক। রোদে পোড়া মুখের চামড়া। কালচেধূসর ঘন ভুরুর নিচে চোখ দুটো নীল। রিল্যাক্স, ইয়াং ফ্রেণ্ড, ভয়ের কিছু নেই। ইচ্ছে করলেও কিম তোমাকে গুলি করতে পারবে না।

সাবধানে হাত নামাল কিশোর। ফিরে তাকাল কিমের দিকে।

তুমি মনে কুরেছিলে পিস্তল ঠেকিয়েছি, নিজের চালাকিতে খুব সন্তুষ্ট কিম। বাড়ি এশিয়ায়, চেহারা দেখেই বোঝা যায়। কিশোরের সমান লম্বা, স্বাস্থ্যও প্রায় তার মতই, মুখের চামড়া মসৃণ। হাতে একটা কাঠের চামচ, সেটাই ঠেকিয়ে রেখেছে কিশোরের পিঠে। দেখলে তো, পিস্তল নয়। টেলিভিশন দেখে শিখেছি।

ও নিসান জাং কিম, ভিয়েতনামে বাড়ি। পরিচয় দিলেন ধূসর-চুল দ্রলোক। অল্প দিন হল এসেছে এদেশে। সুযোগ পেলেই টেলিভিশনের সামনে। গিয়ে বসে, ইংরেজি শেখার চেষ্টা করে। এখন তো দেখি আরও অনেক কিছুই। শিখছে।

বাউ করল ভিয়েতনামী। ওপর তলায় আটকা পড়লে কি করতে হবে জান? কিশোরকে বলল সে। বিছানার চাদর ছিঁড়ে পাকিয়েলড়ি বানাতে হবে। সেটা বেয়ে নেমে গেলেই হল। আর যদি বিছানা না-ই পাও, নাগালের মধ্যে পাইপ পেয়েই যাবে।

আরেকবার বাউ করে কফি শপের দিকে চলে গেল কিম। কৌতূহলী চোখে সেদিকে তাকিয়ে রইল কিশোর।

কি যেন শুধু জানতে এসেছিলে? জিজ্ঞেস করলেন ভদ্রলোক।

আঁ, ও! ও, হ্যাঁ…এদিকে একটা নদী আছে। নদীর ওপারেও কি আছে রাস্তাটা? নদী পেরোনোর ব্যবস্থা আছে?

রাস্তা এপারেই শেষ। আর নদী পেলে কোথায়, ওটা তো গিরিখাত। এখন পেরোনোর চেষ্টাও কর না, নির্ঘাত মরবে। যা স্রোত।

অ, আনমনে বলল কিশোর, কথা শুনছে বলে মনে হল না। লবির কোণে রাখা একটা বাক্সের দিকে চেয়ে আছে। ওটার ওপরে ছটা বই, একই বইয়ের ছটা কপি। কালো মলাটের ওপর উজ্জ্বল লাল রঙে লেখা নাম। কভারের ছবি-নীল পায়রার বুকে ছুরি বিদ্ধ। বইটার নাম বু পিজিয়ন।

ভিকটর সাইমন! হঠাৎ বলে উঠল কিশোর। এগিয়ে গিয়ে একটা বই তুলে পেছনটা উল্টে দেখল। পেছনের কভারে একটা ফটোগ্রাফ।

এ-তো আপনার ছবি! বলল সে। আপনিই ভিকটর সাইমন। টেলিভিশনে দেখেছি আপনাকে।

দেখতে পার। কয়েকবার সাক্ষাৎকার দিয়েছি।

ব্লু পিজিয়ন পড়েছি আমি, নিজের কানেই অদ্ভুত লাগছে কিশোরের কণ্ঠস্বর। ভীষণ উত্তেজিত। সাংঘাতিক বই! দারুণ লেখা! কিলারস গেমও পড়েছি। মিস্টার সাইমন, আপনার তো ব্যাংক ডাকাতির দরকার পড়ে না!

করেছি ভাবছ নাকি! হাসলেন সাইমন। নদীর খোঁজ নিতে এখানে আসনি তুমি। কেন এসেছ?

লাল হল কিশোরর গাল। আমি…আমি…সরি, মিস্টার সাইমন, মিথ্যে কথা বলেছি। আপনার মানিব্যাগ হারানো গেছে?

তাকিয়ে আছেন সাইমন। জ্যাকেটের পকেটে হাত ঢোকালেন। চাপড় দিয়ে দেখলেন অন্যান্য পকেটগুলো। আরে! নেই তো। তুমি পেয়েছ?

রবিন পেয়েছে, আমার বন্ধু! সংক্ষেপে সব জানাল কিশোর।

আশ্চর্য! একেবারে ডেভিস ক্রিস্টোফারের সিনেমার মত। …কি ব্যাপার? হাসছ যে?

উনি আমাদের বন্ধু, স্যার। আমাদের কেসের কাহিনী লেখে রবিন, গল্প ভাল হলে সেটা দিয়ে ছবি করে ফেলেন মিস্টার ক্রিস্টোফার।

কি ধরনের কেস? আর তোমার বন্ধু রনি এখন কোথায়?

রাস্তায়। নিয়ে আসছি। ছুটে ঘর থেকে চত্বরে বেরোল কিশোর। পার্কিং লটে এসে হাত নেড়ে ডাকল, এই, তোমরা এস। কাছে এল দুই সহকারী গোয়েন্দা।

কি ব্যাপার? জিজ্ঞেস করল রবিন। মিস্টার ভিকটর সাইমন। জান তিনি কে? পরস্পরের দিকে তাকাল মুসা আর রবিন। মাথা নাড়ল মুসা। জানি না।

হাসল কিশোর। বু পিজিয়নের লেখক। কিলারস গেম, শক ট্রিটমেন্টও তিনিই লিখেছেন। টিভিতে দেখাল না তাঁর সাক্ষাৎকার? একটা বই সিনেমাও হতে, যাচ্ছে, কিলারস গেম।

ও, হ্যাঁ, মাথা দোলাল মুসা। মনে পড়েছে। কিলারস গেম-এর কথা সেদিন বাবা আলোচনা করছিল। ইনিই ভিকটর সাইমন?

হ্যাঁ, কণ্ঠের উত্তেজনা যায়নি এখনও কিশোরের। নিউ ইয়র্ক সিটিতে গোয়েন্দা ছিলেন তিনি অনেকদিন, রিপোর্টেও থেকেছেন। প্লেন চালাতে গিয়ে অ্যাক্সিডেন্ট করেছিলেন। একটা পা ভেঙে গিয়েছিল। পা সারার জন্যে ঘরে বসে থাকতে হয় অনেকদিন। তখনই ঠিক করলেন, বই লিখবেন। নিজের জীবনের

অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেও ফেললেন শক ট্রিটমেন্ট। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বেস্টসেলার হয়ে গেল বইটা। এই সেই ভিকটর সাইমন, গোয়েন্দা-কাম-লেখক। চল, চল, দেখা করবে না তার সঙ্গে? রবিন, মানিব্যাগটা আছে তো?

তোমাকেই তো দিয়েছিলাম, রবিন বলল। ভুলে গেছ?

আঁ, ও তাই তো, নিজের পকেট চাপড়াল কিশোর। আছে। চল।

লেখকের সঙ্গে দুই সহকারীর পরিচয় করিয়ে দিল গোয়েন্দাপ্রধান। ওদেরকে বড় জানালাওয়ালা ঘরটায় নিয়ে এলেন সাইমন। কয়েকটা ফোল্ডিং চেয়ার দেখিয়ে বসতে বললেন। একটা টেবিল ঘিরে রাখা হয়েছে চেয়ারগুলো। টেবিলটার ওপরের অংশ কাচের তৈরি। টেবিল, চেয়ার, টেলিফোনটা ছাড়া আর কোন আসবাবপত্র নেই ঘরে।

মাত্র গত হপ্তায় এসে উঠেছি, জানালেন সাইমন। আমি আর কিম।

এখানে থাকবেন? মুসা জিজ্ঞেস করল।

হ্যাঁ। খোঁড়াতে খোঁড়াতে লবিতে গিয়ে কিমকে ডাকলেন তিনি।

কফির সরঞ্জাম নিয়ে এল ভিয়েতনামী। তাকে জিজ্ঞেস করলেন লেখক, ছেলেদের জন্যে কিছু আছে ফ্রিজে?

লেমোনেড। একেবারে খাঁটি জিনিস, নেচারাল ফ্লেভার।

হাসল কিশোর। নেচারাল ফ্লেভার শব্দটাও নিশ্চয় টেলিভিশন থেকে শিখেছে কিম, লেমোনেডের বিজ্ঞাপন দেখে।

লেমোনেড চলবে? ছেলেদের জিজ্ঞেস করলেন সাইমন। মাথা ঝাঁকাল তিনজনে।

রান্নাঘরে চলে গেল কিম। বাড়ির একেবারে দূরতম কোণে রান্নাঘরটা, কফি শপ ছাড়িয়ে ওপাশে।

বিজ্ঞাপনগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে দেখে ও, হেসে বললেন লেখক। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আলোচনাগুলো শোনে। ইস্, খাবার যা এনে হাজির করে না, ভয়ঙ্কর।

পুরানো রেস্টুরেন্টের কথা তুললেন এরপর সাইমন। কি করে এখানে এলেন, এটাকে মেরামত করে কি করবেন, এসব। বসবাসের যোগ্য সুন্দর একটা বাড়ি বানানোর ইচ্ছে আছে তাঁর। বললেন, কফি শপটাকে করব ডাইনিং রুম। লবির একধারে একটা স্টোর আছে, ওটাকে কিমের বেডরুম বানানো হবে। আর ওর বাথরুমটা করব ওই যে ওই ওদিকে, সিঁড়ির নিচে।

লবির দেয়াল ঘেঁষে উঠে যাওয়া সিঁড়িটা দেখল ছেলেরা। সিঁড়ির মাথায় একটা গ্যালারি, অনেক বড়। ওখান থেকে এ ঘর দেখা যায়, যেখানে ওরা বসেছে। ঘরটার ছাত অনেক ওপরে, প্রায় দোতলার সমান উচুতে। এই ঘরটাই বাড়ির প্রায় অর্ধেক। বাকি অর্ধেকের নিচের তলায় রয়েছে লবি, স্টোররুম, কফি শপ, রান্নাঘর। আর ওগুলোর ওপরে রয়েছে দোতলার অন্যান্য ঘর, সবগুলোর দরজা দিয়েই গ্যালারিতে আসা যায়।

অনেক কিছুই ভেঙেচুরে গেছে, সাইমন বললেন। তবে কাঠামোটা অত্যন্ত মজবুত, আর্কিটেক্ট আর একজন বিল্ডিং কন্ট্রাকটরকে দেখিয়ে তবেই কিনেছি। সাগরের ধারে এরকম জায়গায় এত বড় বাড়ি কিনতে খরচ কত পড়েছে কল্পনা করতে পার?

নিশ্চয় অনেক, কিশোর বলল।

মাথা ঝাঁকালেন লেখক। আরও অনেক খরচ আছে। তবে মেরামত হয়ে গেলে দেখার মত বাড়ি হবে। এত বড়, উঁচু একটা ঘর পেয়েছি। সাগর দেখা যায়। ছাতে একটা ফুটোও নেই। থাকলে এরকম জায়গায়ই থাকা উচিত। অথচ তেইশটা বছর কি এক খুপরিতে যে কাটিয়েছি, ব্রুকলিনের এক অ্যাপার্টমেন্ট হাউসে। বৃষ্টি হলেই ছাত দিয়ে পানি পড়ত। সব সময় হাতের কাছে কয়েকটা বালতি রাখতে হত, বৃষ্টি নামলেই ফুটোর তলায় বসানোর জন্যে।

হাসলেন সাইমন। কেউ কেউ যে বলে ধনী হওয়ার চেয়ে গরিব থাকা ভাল, ওগুলো গাধা। আরে ব্যাটা পয়সাই যদি না থাকল আরামে থাকবি কি করে?

লেমোনেড নিয়ে হাজির হল কিম। মানিব্যাগটা বের করে কাচের সুন্দর টেবিলটায় রাখল কিশোর।

তুলে নিলেন সাইমন। অন্ধ ভিখিরি ফেলে গেছে, না? টাকার ঠেকা নেই ওর, মনে হচ্ছে। একটা পয়সাও খরচ করেনি।

কিন্তু সে ভিক্ষে করছিল, রবিন বলল। হাতে টিনের মগ। তাতে পয়সা।

চিন্তিত দেখাল তাঁকে। পেল কি করে ব্যাগটা? যদি অন্ধই হবে…।

ঠিক বলেছেন, স্যার, কিশোর বলল। চোখে দেখে না, রাস্তায় পড়া থাকলে দেখল কি করে? তবে, ব্যাগটার ওপর লাঠি লাগলে বোঝার কথা…এটা কোথায় রেখেছিলেন?

পেশাদারি গন্ধ পাচ্ছি তোমার কথায়? এখুনি নোটবুক আর পেন্সিল বের করবে না তো? ও, কেসের কথা বললে না তখন? কি কেস? গোয়েন্দাগিরির তালিম নিচ্ছ নাকি?

তালিম নয়, গোয়েন্দাই আমরা, বলতে বলতে পকেট থেকে কার্ড বের করে দিল কিশোর।

কার্ডটা দেখে আনমনে মাথা দোলালেন সাইমন। ইউ। ভাল।

সামনে ঝুঁকল রবিন। আমরা সন্দেহ করছি, ব্যাংক ডাকাতির সঙ্গে অন্ধ ভিখিরির সম্পর্ক আছে। কাল কি সান্তা মনিকায় গিয়েছিলেন আপনি? ওখানেই কোথাও মানিব্যাগটা ফেলেছেন? নাকি আপনার পকেট মেরে দিয়েছে?

না, চেয়ারে হেলান দিলেন লেখক। কাল সকালেও এটা আমার পকেটে ছিল। মনে আছে। বাড়ি থেকে বেরোচ্ছিলাম, তখন দেখেছি। তারপর আর এটার খোঁজ করিনি। তোমরা মনে করালে। মনে হয় নিকারোদের ওখানেই কোথাও ফেলেছি। কাল ওখানে ছাড়া আর কোথাও যাইনি। কি করে পড়ল জানি না। ভিড়ের মধ্যে যাইনি, কারও সঙ্গে ধাক্কাও লাগেনি, পকেটমারা গেল কখন? কোন অন্ধকেও দেখিনি, তাহলে মনে থাকত।

নিকারো? মুসা বলল। উপকূলের ওদিকে না? শখের মাছশিকারিদের নৌকা ভাড়া দেয় যারা? নিকারোজ অ্যাণ্ড কোং?

মাথা ঝোঁকালেন সাইমন। আমার স্পীডবোট ওখানেই রাখি। এখান থেকে সর চেয়ে কাছের ম্যারিনা ওটাই। বোট নিয়ে বেরোনোর দরকার হলে ওদের ওখানে চলে যাই। মিসেস নিকারোর ওখানে চাকরি করে দুটো ছেলে। নৌকায় করে আমাকে বয়ার কাছে নিয়ে যায়, ওখানেই আমার বোট বাঁধা থাকে। কাল বোটে করে কিছুক্ষণ হাওয়া খেয়ে এসেছি। পকেট থেকে ব্যাগটা কোনভাবে পড়ে গিয়ে থাকতে পারে। পার্কিং লটে, কিংবা ডকের কাছে।

এবং অন্ধ সেটা কুড়িয়ে নিয়েছে, মুসা বলল।

ওটা নিয়ে তারপর চলে গেছে সান্তা মনিকায়, রবিন বলল। ঠিক সময়ে গিয়ে হাজির হয়েছে বাস স্টপে, ঝাড়ুদারের ছদ্মবেশে যখন ডাকাত ঢুকেছে ব্যাংকে। মগ ফেলাটা তার একটা ছুতোই, যাতে আমরা পয়সা কুড়ানোয় ব্যস্ত থাকি, ব্যাংকের দিকে চোখ না দিতে পারি।

না-ও হতে পারে, বললেন সাইমন। ভিজে পিচ্ছিল হয়ে গিয়েছিল মগটা, হাত থেকে সত্যি হয়ত ছুটে গিয়েছিল, অভিনয় নয়। মপ ফেলার মধ্যে তেমন কোন গুরুত্ব দেখি না।

চলে যাওয়ার সময় ব্যাগটা পড়ে গিয়েছিল, কিশোর বলল। রবিন সেটা পেয়ে তাকে ফিরিয়ে দিতে যাচ্ছিল, এই সময় একটা গাড়ি এসে ধাক্কা মেরে ফেলে দিল লোকটাকে।

অস্বাভাবিক নয়। অন্যের জিনিস তার কাছে ছিল, সেটা পড়ল আরেকজনের কাছে। যদি তাকে চোর মনে করে বসে? যদি পুলিশ এসে ধরে, জিজ্ঞেস করে কি করে পেল সে? ভয় পাওয়া স্বাভাবিক। তাড়াহুড়ো করে ছুটে চলে যাচ্ছিল হয়ত সে-কারণেই। মগ পড়া, মানিব্যাগ পড়া, পালিয়ে যাওয়া, কোনটাই প্রমাণ করে না সে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এসব কথা পুলিশকে গিয়ে জানাচ্ছ না কেন? ইচ্ছে করলে আমার নামও বলতে পার ওদের। পুলিশকে সাহায্য করতে পারলে খুশিই হব।

যাব, হতাশ মনে হল কিশোরকে। আপনি ঠিকই বলেছেন, অন্ধ ভিখিরির ব্যাপারটা কাকতালীয়ও হতে পারে। আমার দুঃখ, কেসটা শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে গেল।

তাই? শোন, কষ্ট করে ব্যাগটা নিয়ে আসায় খুব খুশি হয়েছি।

না না, কষ্ট আর কি? তাড়াতাড়ি বলল মুসা।

লেখককে ব্যাগ থেকে নোট বের করতে দেখে হাত নাড়ল রবিন, না না, আমাদেরকে কিছু দেবেন না, প্লীজ।

তাহলে কি পুরস্কার দেয়া যায়? জিজ্ঞেস করলেন সাইমন। আমার বোটে চড়ে হাওয়া খেতে যাবে? পরের বার যখন যাব আমি?

খালি জানাবেন, আনন্দে দাঁত বেরিয়ে পড়েছে মুসার। আধ ঘন্টার মধ্যে হাজির হয়ে যাব।

বেশ, তোমাদের ফোন নাম্বার দাও।

বাড়ির ফোন নাম্বার জানাল মুসা। রবিন আর কিশোরও জানাল যার যারটা।

বারান্দায় ওদেরকে এগিয়ে দিয়ে গেলেন গোয়েন্দা-কাম-লেখক। ওরা সাইকেলে উঠে রওনা হওয়ার পরও দাঁড়িয়ে রইলেন।

দারুণ লোক, মুসা বলল।

হ্যাঁ, একমত হল কিশোর। আমাদের দেখে খুব খুশি হয়েছেন। লোকটাকে নিঃসঙ্গ মনে হল। ক্যালিফোর্নিয়ায় কেমন লাগছে কে জানে, নিউ ইয়র্ক থেকে এসেছেন

তো?

মুখ খুলতে যাচ্ছিল রবিন, একটা গাড়ি দেখে থেমে গেল। বাদামি রঙের একটা। সেডান। ওদের পাশ কাটিয়ে গিয়ে মিস্টার সাইমনের বাড়ির সামনের চত্বর থামল। গাড়ি থেকে নেমে বারান্দায় উঠল একজন বয়স্ক লোক, সাইমন তখনও ওখানে দাঁড়িয়ে আছেন।

কি কথা হল, শোনা গেল না।

দুজনে ঢুকে গেলেন ভেতরে।

কিশোর, রবিন বলল। কেসটা বোধহয় শেষ হয়নি।

কেন? মুসার প্রশ্ন।

সিকিউরিটি ম্যান। যে ব্যাংকে ডাকাতি হয়েছে ওটার সিকিউরিটি গার্ড, ওকেই দেখেছি কাল সন্ধ্যায়। এই লোক মিস্টার সাইমনের বাড়িতে কেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *