০৩. প্রায় মাসখানেক ডাকাত-ডাকাত খেললাম

প্রায় মাসখানেক ডাকাত-ডাকাত খেললাম আমরা। তারপর ইস্তফা। আমরা কারও ওপর রাহাজানি করিনি, খুনও করিনি কাউকে। কেবল ভান করেছি সেরকম। জঙ্গল থেকে হুঁট করে বেরিয়ে এসে রাখাল বা মেয়েদের ওপর, যারা বাজারে সবজি বিক্রি করে, হামলা করতাম। তবে ক্ষতি করিনি কখনও। টম শুয়োরগুলোকে বলত সোনা, সবজি আর অন্য আনাজপাতিকে অলঙ্কার। কিন্তু এতে মন ভরছিল না আমাদের।

একদিন জ্বলন্ত মশালহাতে একটা ছেলেকে শহরে পাঠাল টম। ওটা নাকি পরদিন দলের সবাইকে এক জায়গায় জড় হতে বলার সঙ্কেত।

গুপ্তচর মারফত খবর এসেছে, বলল ও, আরব আর স্পানিশ বণিকদের একটা দল আমাদের গুহার কাছে ছাউনি ফেলবে কাল। তাদের সঙ্গে থাকবে দুশ হাতি, ছশ উট আর এক হাজার মালবাহী খচ্চর-সব হীরে বোঝাই। ওদের মেরে হীরে-জহরত ছিনিয়ে নেব আমরা। তলোয়ার-বন্দুক নিয়ে তৈরি হও, বন্ধুগণ।

টমের কাজের এই এক ধরন, গাজরের গাড়ি আক্রমণ করতে হলেও বন্দুক বাগিয়ে যাওয়া চাই। আসলে ওগুলো ছিল কঞ্চি আর ঝাড়ুর শলা, কিন্তু ঢালতলোয়ার হিসেবে কল্পনা করে নিতাম আরকি! আমার বিশ্বাস-ই হল না, ওইসব খেলনা দিয়ে একটা বিশাল বণিক দলকে হারাতে পারব আমরা। আমার আগ্রহ উট আর হাতি দেখবার। তাই পরদিন, মানে শনিবার, ঝোপের ভেতর ওত পাতলাম। আক্রমণের সঙ্কেত পাওয়ামাত্র পিল পিল করে নেমে এলাম পাহাড় বেয়ে। কিন্তু, ওমা, কোথায়ই-বা বণিকদল, আর কোথায়-বা হাতি-ঘোড়া। ইশকুলের কিছু ছেলেপুলে পিকনিকে এসেছে, তাও আবার নিচের ক্লাসের। ওদের ধাওয়া করলাম। কিন্তু কয়েক টুকরো কেক আর অল্প জেলি ছাড়া কিছুই মিলল না। ইতিমধ্যে বাচ্চাদের টিচারেরা এসে পড়ায় সব কিছু ফেলে চম্পট দিলাম আমরা।

কই, তোমার হীরে-মানিক কই? টমকে জিজ্ঞেস করলাম। বণিক আর হাতিগুলোই-বা কোথায়?

ছিল, সত্যি, আমাকে বোঝাল টম। কই, দেখলাম না তো?

আরে, বুন্ধু, বলল টম, ডন কিহোতে বইটা পড়া থাকলে বোকার মত প্রশ্ন করতে না। সব ভোজবাজি, ওখানে লোক-লস্কর, হাতি, ধনরত্ন-সবই ছিল। আর ছিল আমাদের শত্রু, জাদুকর। আমাদের দুচোখে দেখতে পারে না ওরা। তাই ওদের পিকনিক পার্টিতে বদলে দিয়েছিল।

মানলাম, বললাম। তাহলে এখন থেকে জাদুকরদের পাকড়াও করতে হবে!

তুমি একটা আহাম্মক, বলল টম।

কেন?

জাদুকর ইচ্ছে করলেই দৈত্য-দানো ডেকে আনতে পারে। মুখের কথা সরতে সরতে ওরা কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলবে আমাদের। জান না, দৈত্যদানোরা গাছের মত লম্বা আর গির্জার থামের মত ইয়া মোটাসোটা হয়।

বেশ, বললাম। আমরাও তো দৈত্যের সাহায্য নিতে পারি। তাহলেই তো ওদের হারান যায়।

কীভাবে নেবে?

জানি না। ওরা কী করে পায়?

কেন, পুরোন পিদিম, অথবা লোহার আংটি ঘষে। ঘষলেই চারদিক আঁধার করে, ঝড় তুলে হাজির হয় দৈত্যেরা। তখন ওদের যা বলা যায়, তা-ই করে। এমন কি, দুর্গের বিশাল গম্বুজ পর্যন্ত গোড়াসুদ্ধ উপরে ফেলতে পারে।

কাদের ডাকে আসে ওরা?

যে কেউ আনতে পারে। ওই পিদিম অথবা আংটি থাকলেই হল। আংটি, পিদিম যার কাছে থাকবে, তার গোলাম ওরা। ওদের যদি বলা হয় চল্লিশ মাইল লম্বা একটা হীরের রাজপ্রাসাদ বানিয়ে, সেটা চুয়িংগাম দিয়ে ভরে দিতে, দেবে। যদি বল, বিয়ে করার জন্যে চীনের রাজকন্যাকে উড়িয়ে আনতে হবে-আনবে। আরও আছে, সেই রাজপ্রাসাদ তুমি যেখানে বলবে, সেখানেই রেখে আসবে তারা।

তোমার এই দৈত্যেরা, টম, বললাম আমি, সব মাথা মোটা। বাড়িটা নিজেদের জন্য না রেখে, তা দিয়ে যা-তা করা কেন, বাপু? আমি দৈত্য হলে কারও ডাকে আসার আগে শয়তানের সাথে পরামর্শ করে নিতাম।

হাকফিন! বিস্মিত গলায় বলল টম, কী বলছ পাগলের মত। ওই বাতি ঘষে ডাকলে তোমাকে আসতেই হত, তুমি চাও বা না চাও।

খেপেছ! ওই রকম গাছের মত লম্বা আর গির্জার থামের মত মোটাসোটা হলে, ডাকল আর মনি ছুটে এলাম! আর এলেও, দেশের সবচেয়ে উঁচু গাছের মগডালে চড়িয়ে ছাড়ব না ব্যাটাস্থেলেকে।

ধেৎ! আহত সুরে বলল টম, তোমার সঙ্গে তর্ক করে লাভ নেই, হাকফিন। তুমি কিছু বুঝতে চাও না—আহাম্মক!  ব্যাপারটা নিয়ে দুতিন দিন অনেক চিন্তা করলাম। শেষে স্থির করলাম, এর ভেতর সত্যিই কিছু আছে কি-না, দেখব। একটা অতি পুরোন পিদিম আর লোহার আংটি জোগাড় করে জঙ্গলে চলে গেলাম। আচ্ছাসে ঘষলাম দুটো। ইচ্ছে, একটা রাজপ্রাসাদ বানিয়ে বেচে দেব। ঘষতে ঘষতে ঘাম ছুটে গেল, কিন্তু জ্বিনের দেখা পেলাম না। পরে বিচার করে দেখলাম, সব টমের বানানো-গুলতাপ্লি!

দেখতে দেখতে তিন চার মাস পেরিয়ে গেল। শীতের মাঝামাঝি। মাঠেঘাটে পুরু বরফের চাদর। মাঝের এই সময়টায় প্রায় রোজই ইশকুলে গিয়েছি। এখন আমি এক-আধটু বানান করতে, আর লিখতে-পড়তে পারি। নামতাও শিখেছি ছয় সাতে পঁয়তিরিশ অবধি। অঙ্ক দেখলেই গায়ে জ্বর আসে; বুঝতে পারছি, এর চেয়ে ভাল করা, অন্তত আমার কষ্মে নয়।

প্রথম প্রথম খুব ঘেন্না করতাম ইশকুলকে, পরে সয়ে এল ধীরে ধীরে। যখন একঘেয়ে লাগে, তখন ক্লাস পালাই। এর জন্যে পরদিন পিঠে কিছু কিল-পুঁতো পড়লে ফের চাঙা বোধ করি। যত বেশি গেলাম, ততই ব্যাপারটা সহজ হয়ে এল আমার কাছে। বিধবার কথামত চলাফেরাটাও রপ্ত করে নিলাম একরকম। নিপাট বিছানায় ঘুমুতেও অভ্যস্ত হয়ে উঠলাম। তবে শীত জঁকিয়ে বসার আগে সময় করে বাইরে গিয়ে জঙ্গলেও ঘুমিয়েছি মাঝেমধ্যে। ওটাই আমার কাছে সবচেয়ে আরামের। পুরোন অভ্যেসগুলোই বেশি পছন্দ করি আমি, তবে একটু একটু করে নতুনগুলোও ভাল লাগতে শুরু করেছে। মনে হয়, বিধবাও আমার ওপর এখন বেশ খুশি।

একদিন সকালে নাস্তার টেবিলে নুনের পাত্রটা উল্টে ফেললাম। এটা কুলক্ষণ, জানি, বাঁ-কাঁধের ওপর দিয়ে এক চিমটে লবণ ফেলে না দেয়া অবধি রক্ষে নেই। তাড়াতাড়ি হাত বাড়ালাম পাত্রটার দিকে, কিন্তু বাদ সাধল মিস ওয়াটসন।

হাত সরিয়ে নাও, হাকলবেরি, বলল সে। কী বাদর ছেলেরে, বাবা!

বিধবাটি অবশ্য সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করল; কিন্তু তাতে কী? আমার দুর্ভাগ্য তো আর ফেরান যাবে না। একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে উঠে পড়লাম নাস্তার টেবিল থেকে। কেবল একটা চিন্তাই ঘুরপাক খাচ্ছে মাথার ভেতর-না জানি কপালে কী আছে। বাগানে গেলাম, সোপান বেয়ে বেড়ার ওপাশে নামলাম। সিড়ির গোড়ায়, লক্ষ্য করলাম, কিছু বরফকুচি পড়ে রয়েছে। তাজা। একসারি পায়ের ছাপও দেখতে পেলাম। খনির দিক থেকে এসেছে লোকটা, ওখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল, তারপর বেড়ার ধার ঘেঁষে ঘুরে গিয়েছে ওপাশে। লোকটা ভেতরে ঢুকল না কেন? ভাবতে লাগলাম। কিন্তু কূলকিনারা পেলাম না। ব্যাপারটা কৌতূহলী করে তুলল আমায়। উবু হয়ে বসে ছাপগুলো পরখ করতে লাগলাম। শয়তানকে দূরে রাখার জন্যে বাম বুটের গোড়ালির কাছে ক্রুশচিহ্ন আঁকা। তড়াক করে উঠে পড়লাম আমি। পাহাড় বেয়ে দ্রুত নামতে লাগলাম নিচে, ভয়ে ভয়ে। থেকে থেকে পেছন ফিরে তাকালাম। কিন্তু দেখতে পেলাম না কাউকে। অল্পক্ষণের ভেতর পৌঁছে গেলাম জাজ থ্যাচারের বাসায়।

কি ব্যাপার, বাছা, হাঁপাচ্ছ কেন? জিজ্ঞেস করলেন তিনি। সুদের জন্যে এসেছ?

না, স্যার। সব নিয়ে নেন আপনি। ওই ছহাজার ডলারও। প্লিজ, নেন, স্যার। কোনও প্রশ্ন করবেন না—তাহলে মিথ্যে বলতে হবে না আমাকে।

চিন্তিত মনে খানিকক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন জাজ থ্যাচার। তারপর একটা সাদা কাগজে কিছু লিখে বাড়িয়ে ধরলেন। বুঝেছি, বললেন তিনি, সম্পত্তিটা বিক্রি করতে চাও আমার কাছে-দান নয়। দাম হিসেবে এই এক ডলার নাও। আর সই কর।

আমি সই করে ডলারটা নিয়ে চলে এলাম। মিস ওয়াটসনের নিগ্রো চাকর জিমের কাছে একটা চুলের বল ছিল। দেখতে অনেকটা খোপার মত, এক মুঠির সমান বড়। বলটা নাকি একটা ষাঁড়ের চতুর্থ পাকস্থলীর ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই বল দিয়ে জাদু দেখাত জিম। বলত, ওর ভেতর একটা সবজান্তা ভূত আছে। সে রাতে ওর কাছে গেলাম আমি। বললাম, বাবা এসেছে। বরফে তার পায়ের ছাপ দেখেছি। বাবার মতলবটা এখন কী, জানা দরকার আমার।

সেই চুলের তৈরি বলটা বার করল জিম। বলের ওপর বিড়বিড় করে কিছু পড়ল, তারপর ওটা উঁচু করে ধরে গড়িয়ে দিল মেঝের ওপর। ধপাস করে বলটা পড়ে গড়িয়ে গেল ইঞ্চিখানেক। আবার ও-ই করল জিম, তারপর আরও একবার। প্রতিবারই বলটা একই রকম গড়িয়ে গেল। বলটার কাছে হাঁটু গেড়ে বসল জিম। কান পেতে শোনার চেষ্টা করল কিছু। লাভ হল না।

জিম বলল কথা বলবে না ওটা। অনেক সময় পয়সা না দিলে মুখ খোলে না বলটা। বললাম ওকে একটা পুরনো ঘষা সিকি আছে আমার কাছে। তবে চালানো যাবে না, চটা উঠে ভেতরের তামা বেরিয়ে পড়েছে। অবশ্য আগেই ঠিক করেছিলাম, জাজ সায়েবের কাছ থেকে যে ডলারটা এনেছি, সেটার কথা বলব না জিমকে।

সিকিটা মেকি, বললাম আমি, তবে চুলের ওই বলটাতো আর তা বুঝতে পারবে না।

সিকিটা শুঁকে দেখল জিম, দাঁত দিয়ে একটু কামড়াল। একটু ঘষল, তারপর বলল, এতেই চলবে। আরও জানাল, কাঁচা আইরিশ আলু কেটে তার ভেতর পুরে রাখবে পয়সাটা। পরদিন কেউ ধরতেই পারবে না যে সিকিটা অচল। ফলে শহরের যে-কেউ ওটা নিয়ে নেবে-চুলের কল তো কোন ছার।

আমি অবশ্য জানতাম, আলুতে এরকম কাজ হয়; তবে ভুলে গিয়েছিলাম সেটা।

সিকিটা চুলের বলের নিচে রাখল জিম। কান পেতে কিছু শুনল, তারপর বলল, তোমার বুড়ো বাপ এখনও জানে না কী করবে সে। একবার বলছে থাকব। আবার বলছে, চলে যাব। সবচেয়ে ভাল হচ্ছে, ওই বুড়ো মানুষটাকে তার নিজের মতই চলতে দাও। দুটো জ্বিন তার চারপাশে উড়ে বেড়াচ্ছে। একটা সাদা ঝকঝকে, অন্যটা কালো। হুঁ, সাদাটা তাকে ঠিক পথে চালাতে চায়। আর কালোটা সব ফুসমন্তর দেয়। শেষ অবধি কী হয় বলা মুশকিল।

তবে তোমার চিন্তা নেই। তুমি জীবনে অনেক কষ্ট পাবে, আবার আনন্দও পাবে প্রচুর। দুটো মেয়ে আসবে তোমার জীবনে। একটা ফরসা, অন্যটা শ্যামলা। একটা ধনী, আরেকটা গরিব। প্রথমে ওই গরিবটাকে বিয়ে করবে তুমি। পরে ধনীকে। আর যতটা পার, ঝামেলা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবে, কারণ, যা দেখা যাচ্ছে, ফাসি লেখা আছে তোমার কপালে।

এরপর নিজের কামরায় ফিরে গিয়ে মোমবাতি ধরালাম। দেখি, বাবা বিছানায় বসে, অপেক্ষা করছে আমার জন্যে। খোলা জানলা-পথে ঢুকে পড়েছে ঘরে। বাবাকে আমি সব সময়েই ভয় করতাম। কারণ আমাকে খুব মেরামত করত সে। অনুভব করলাম, তাকে এখানে দেখে বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছি। পরমুহূর্তে বুঝলাম, ওটা আমার মনের ভুল। আসলে হঠাৎ দেখে প্রথম ধাক্কায় দম বন্ধ হবার জো হয়েছিল, এখন সেটা নেই।

বাবার বয়েস পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই। দেখতেও সেরকম। চুল লম্বা, জট পাকান তেলচিটে। ঝুলে পড়েছে কাঁধ অবধি। চোখজোড়া চকচক করছে, যেন পাকা টুসটুসে আঙুর। ইয়া কাঁচা-পাকা গোঁফ। মাছের পেটের মত ফরসা মুখ; তাতে দাড়ির জঙ্গল। দেখলেই গা শিরশির করে ওঠে, কুঁকড়ে আসতে চায় শরীর। পরনের কাপড় শতছিন্ন, ময়লা।

পায়ের ওপর পা তুলে বসে ছিল বাবা। বুটের ডগাটা ফাটা, ভেতর থেকে উঁকি মারছে একজোড়া আঙুল। থেকে থেকে আঙুল দুটো নিয়ে খেলা করছে সে। টুপিটা পড়ে আছে মাটিতে। কালো, বিদঘুটে একটা জিনিস; ওপরটা গুহার মত, টোপ খাওয়া। কেমন বোঁটকা একটা গন্ধ আসছে তার গা থেকে।

মোমের আলোয় আমাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল বাবা। হুঁম! ইস্তিরি করা জামাকাপড় পরা হয়েছে, বলল। ভালো-কী মনে কর নিজেকে, কেউকেটা, আঁ? আবার শুনি লেখাপড়াও শিখহুঁ। ওরে আমার শিক্ষিত রে! কে বলেছে এই আহাম্মকি করতে? কার বুদ্ধি এটা?

বিধবার।

অন্যের ব্যাপারে নাক গলাতে কে বলেছে তাকে?

কেউ না, কেউ বলেনি।

বেশ। পরের ব্যাপারে বা-হাত দেয়ার মজা তাকে বোঝাব আমি। আর দ্যাখ, বাপু, তুমি ওই ইশকুল ছাড়। শুনছ, ফের যেন ওখানে ঘুরঘুর করতে না দেখি তোমায়। মরার আগে পর্যন্ত তোমার মা লেখাপড়া জানত না। গুষ্টির কেউ কোনদিন ওই কম্মোটি করেনি। আর তুমি কিনা এখানে থেকে বিদ্যের জাহাজ হয়ে উঠছ! দেখি, কেমন পড়তে পার।

একটা বই নিয়ে জেনারেল ওঅশিংটন সম্পর্কে কিছু পড়তে শুরু করলাম। আধ মিনিট মত পড়েছি; খপ করে হাত থেকে বইটা কেড়ে নিল বাবা। ছুড়ে ফেলল ঘরের আরেক মাথায়।

হুঁ, এইত দেখছি পড়তে পার, বলল বাবা। এবার শোন। ফের ওমুখো হয়েছ কি পিটিয়ে তোমার ছাল তুলে নেব।

খানিক বাদে আবার গজগজ করতে লাগল সে। বলল, বেশ ফুলবাবু হয়ে উঠছ দেখছি। বিছানায় চাদর, আয়না, মেঝেতে কার্পেট-আর, ওদিকে তোমার বাবা ঘুমায় শুয়োরপালের সাথে। বাহ্! এমন ছেলে জন্মেও দেখিনি। শুনলাম, মস্ত বড়লোক হয়ে গেছ তুমি। সত্যি?

না, মিছে কথা।

দ্যাখ, ছোকরা, ম্যালা ফ্যাচফ্যাচ কোরো না। দুদিন হল শহরে এসেছি, সবাই তোমার বড়লোক হবার কথা বলছে। সেজন্যেই এসেছি আমি। কাল ওই টাকা আমাকে এনে দেবে তুমি।

আমার কাছে টাকা নেই।

মিথ্যে কথা। জাজ থ্যাচারের কাছে আছে তোমার টাকা। ও টাকা আমার চাই।

বলছি তো নেই। জাজ থ্যাচারকে জিজ্ঞেস কর গিয়ে, উনিও একথাই বলবেন।

বেশ, জিজ্ঞেস করবখন। এখন বল, তোমার পকেটে কত আছে? মোটে এক ডলার। ওটা দরকার…

চোপ! দে…

ডলারটা নিয়ে বিদায় হল বাবা। যাবার আগে বলে গেল, মদ গিলতে শহরে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *