০২. সেদিন বিকেলে কিশোরদের বাগানে

সেদিন বিকেলে কিশোরদের বাগানের ছাউনিতে জমায়েত হলো সবাই। কিশোর, মুসা, রবিন, ফারিহা টিটু তো রয়েছেই-দলে নতুন যুক্ত হয়েছে আরও তিনজন: বব, অনিতা ও ডলি। গ্ৰীনহিলস স্কুলে পড়ে। মুসা আর রবিনের বন্ধু।

গোয়েন্দাগিরির বেজায় শখ। বহুদিন ধরে চাপাচাপি করছে মুসা আর, রবিনকে।

ওদের অনুরোধে প্রথমবারের মত ওই তিনজনকে দলে নিতে রাজি হয়েছে কিশোর। তবে শর্ত আছে, ওদের আচরণ বা কাজকর্ম তার পছন্দ না হলে কোন রকম কৈফিয়ত ছাড়াই দল থেকে বাদ দিয়ে দেবে। বব, অনিতা আর ডলি শর্তে রাজি।

সকাল বেলা রবিনের আম্মা ফোন সেরে বাজারের লিস্টে শেষবারের মত

চোখ বুলিয়ে রবিনকে ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে বেরিয়ে পড়েছিল কিশোরের সঙ্গে

দেখা করার জন্যে। মুদ্রা সম্পর্কে তার দুর্দান্ত আবিষ্কারের খবরটা জানাতে।

দলের সবাইকে খবরটা জানানোর দায়িত্ব নিয়েছে এরপর কিশোর, রবিন চলে গেছে বাজারে। খবর জানিয়ে বিকেল বেলা জরুরী মীটিং ডেকেছে কিশোর। সেই মিটিঙেই হাজির হয়েছে এখন ওরা।

শীতকালে ছাউনির মধ্যে আরাম নেই। ঠাণ্ডা থেকে বাঁচার জন্যে গরম কাপড়-চোপড় পরে জবরজং সেজে বসেছে একেকজন। সবাই এসে গেছে, একজন বাদে, নতুন সদস্য ডলি।

ডলি! মুখ বাকাল বব। জীবনে কোনদিন সময় ঠিক রেখেছে? বাকি সবার মতই অধৈর্য হয়ে উঠেছে সে। আলোচনা শুরু করার জন্যে তর সইছে না।

এই সময় থাবা পড়ল দরজায়।

কে? ডেকে জিজ্ঞেস করল বব।

ডলি! ফিসফিস করে এমন ভঙ্গিতে বলল, যেন সাংঘাতিক কিছু ঘটে গেছে।

অকারণে এমন করছে। হাত নাড়ল বব, দেখবে, কিছুই হয়নি।

হু! তার কথায় মনে হলো কান নেই কিশোরের। পঞ্চাশ যোগ পঞ্চাশ

সমান আটাশ! নিচের ঠোঁটে চিমটি কাটল সে।

সেরেছে! শুরু হলো ল্যাটিন ভাষা! মুখ বাকাল মুসা। বলা যায় না, এখুনি হয়তো বলে বসবে পঞ্চাশ মিনিটে এক ঘণ্টা হয়।

কি বললে? মুসার মন্তব্য শুনে যেন বাস্তবে ফিরে এল কিশোর। আসলেই

তো তাই-পঞ্চাশে পঞ্চাশে আটাশই তো হওয়ার কথা।

অঙ্ক ভুলে গেলে নাকি তুমি?

দরজা খুলে দিয়েছে বব। ঘরে ঢুকল ডলি।

এত দেরি করলে যে? জিজ্ঞেস করল বব।

ইশারায় তাকে কথা বলতে নিষেধ করে ডলিকে বসতে ইশারা করল কিশোর।

হঠাৎ চিৎকার করে উঠল রবিন। কিশোরের কথা বুঝে ফেলেছে। ঠিকই

বলেছে ও! পঞ্চাশে পঞ্চাশে তো আটাশই হওয়ার কথা। কারণ পঞ্চাশ পেন্সের একটা মুদ্রার ওজন যদি চোদ্দ গ্ৰাম হয়, দুটোর হবে আটাশ। কিন্তু আজ সকালে একটা মুদ্রা পেয়েছি, যেটার ওজন চার গ্রাম কম, অর্থাৎ দশ গ্রাম। ওরকম দুটো হলে দশে আর দশে দাড়াবে বিশ। এতক্ষণে বুঝেছ নিশ্চয় সবাই?

খাইছে! কপাল চাপড়াল মুসা। এটার ভাষা তো আরও ভারী, প্রাচীন গ্রীক। কিছুই বুঝিনি আমি।

আমিও না! ফারিহা বলল। রবিন, একটা বর্ণও বুঝিনি আমি তোমার

কথা।

আমিও না, ফারিহার সঙ্গে সুর মেলাল অনিতা। আমার বিশ্বাস টিটুও কিছু বোঝেনি। কি রে, টিটু?

খোলসা করে বলো না সব, মুসা বলল, তাহলেই তো হয়ে যায়। এত কথা বলা লাগে না আর।

বলছি, বলছি, কিশোরের দিকে তাকাল রবিন। কিশোর, তুমিই বলো না।

ঠিক আছে নাটকীয় ভঙ্গিতে সবার দিকে তাকাল কিশোর। সকাল বেলা এক অদ্ভুত জিনিস রবিন লক্ষ করেছে।

সেটা কি? অধৈর্য হয়ে হাত নাড়ল মুসা। তাই তো জানতে চাচ্ছি। অত

ভূমিকা না করে বলে ফেলো না।

কিশোরের পায়ের কাছে বসেছে টিটু। মাথা চাপড়ে তাকে আদর করে দিল

সে। সবাই শোনার জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।। ঘরে পিনপতন নীরবতা। সবাইকে একটা অস্থিরতায় রাখার জন্যে যেন ইচ্ছে করে সময় নিচ্ছে কিশোর।

হ্যাঁ, শোনো, অবশেষে মুখ খুলল সে। সকাল বেলা বাজারে যাওয়ার জন্যে রেডি হয়ে বসে ছিল রবিন। আন্টি তখন টেলিফোনে কথা বলছেন। ও শুনছে আর অপেক্ষা করছে। সময় কাটছে না দেখে শেষে কতগুলো মুদ্রা নিয়ে ওজন মাপতে শুরু করে ওজন মাপক যন্ত্রে। বুঝলে কিছু? মাথা নাড়ল সবাই।

গুড, বলল কিশোর। না বোঝাতে গুড-এর কি হলো বোঝা গেল না।

অনেকগুলো মুদ্রা মেপেছে সে। আন্টি ওকে বাজার করার জন্যে দিয়েছিলেন ওগুলো। তার মধ্যে পঞ্চাশ পেন্সের মুদ্রা ছিল দুটো। মজার ব্যাপারটা হলো, দুটোর ওজন এক রকম নয়।

বলো কি! এমন ভঙ্গি করে বলল ডলি, যেন কি ভয়ঙ্কর অঘটন ঘটে গেছে।

হ্যাঁ, তাই,! মাথা ঝাকাল রবিন।

সে-জন্যেই তোমাদেরকে এখানে ডাকলাম,  কিশোর বলল। জিজ্ঞেস করার জন্যে তোমাদের কার কাছে কয়টা পঞ্চাশ পেন্সের মুদ্রা আছে।

যাতে ওগুলো নিয়ে মেপে দেখতে পারি আমরা কিশোরের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বলল রবিন।

এই যে আমার কাছে দুটো আছে, সঙ্গে সঙ্গে বের করে দিল ফারিহা। আর নেই। আমার মানি-বক্সে দুটোই ছিল।

আমার পাঁচটা আছে, গর্বের সঙ্গে বলল অনিতা।এখনও কাছে কাছে। ক্রিস্টমাসের বাজার করিনি তো, তাই রয়ে গেছে।

বাকি সবাইও তাদের যার কাছে যতগুলো পঞ্চাশ পেন্সের মুদ্রা আছে বের করতে লাগল। মহা হই-চই, হট্টগোল। একসঙ্গে কথা শুরু করে দিয়েছে সব।

আরে আস্তে, আস্তে! তাড়াতাড়ি সাবধান করল কিশোর। এত চেঁচামেচি, করলে চাচী চলে আসবে দেখতে..রবিন, তোমার গবেষণাটা আরেকবার চালাও তো দেখি আমাদের সামনে।

সঙ্গে সঙ্গে কাজে লেগে গেল রবিন। একটা কমলার বাক্সের ওপর ওজন

মাপক যন্ত্রটা রাখল সে। বাক্সটাকে টেবিল হিসেবে ব্যবহার করে ওরা। পকেট থেকে মুদ্রা দুটো বের করে দেখাল সে। মায়ের বাজারের পয়সা থেকে সরিয়ে ফেলেছি এ দুটো। অবশ্য মেরে দিইনি, এক ডলারের একটা নোট দিয়ে দিয়েছি  তাকে।

ছোট মাপক যন্ত্রটার থালায় একটা মুদ্ৰা রাখল সে। কাটার দিকে তাকিয়ে বলল, দেখো, ওজন ঠিক চোদ্দ গ্রাম। প্রথমটা তুলে নিয়ে দ্বিতীয়টা রাখল

থালায়। এবার এটা দেখো। দশ গ্রাম। চার গ্রামই কম।

হ্যাঁ, তাই তো দেখছি, কাটাটার দিকে তাকিয়ে আছে মুসা। এদিক ওদিক

কেঁপে কেঁপে আস্তে করে স্থির হলো এক জায়গায়।

এখন ফারিহারগুলোর অবস্থা দেখা যাক, রবিন বলল।

মুদ্রা দুটো তার হাতে তুলেদিল ফারিহা।

দুটোই দেখা হলো।

চোদ্দ গ্রাম এবং চোদ্দ গ্রাম, কাটার দিকে তাকিয়ে থেকে মুসা বলল।

দেখি, তোমারগুলো দাও তো এবার, বব, হাত বাড়াল কিশোর।

তিনটে মুদ্রা তার হাতে ফেলে দিল বব।

চোদ্দ, চোদ্দ, এবং চোদ্দ, ওজন দেখে ঘোষণা করল রবিন।

এরপর অনিতার পালা। তার কাছে আছে পাঁচটা মুদ্রা। সবগুলো চোদ্দ গ্রাম।

কিশোরের চারটে আর মুসার দুটোর একই ওজন।

কি ডলির তিনটে মুদ্রার শেষটাকে ওজন দিয়েই চিৎকার করে উঠল। রবিন,দেখো, ওজন কম। আমার দ্বিতীয়টার সমান!

কান পেতে শব্দ শুনল সবাই।

তারপর মুসা হঠাৎ তার একটা ভারী মুদ্রা আছড়ে ফেলে দিয়ে শুনে বলল,

শুনলে? এক রকম না কিন্তু।

একমত হয়ে মাথা নাড়াল সবাই।

ভেতরে কি আছে দেখা দরকার, মুসা বলল তখন।

কি করে? ডলির প্রশ্ন।

অবশ্যই একটাকে কেটে ফেলে। জবাব দিল রবিন।

ওহ, মাথা নাড়ল কিশোর, একটা নয়, দুটোকে। বেশির ভাগ মুদ্ৰাই যেহেতু

চোদ্দ গ্রাম ওগুলোকেই স্বাভাবিক ধরব আমরা। স্বাভাবিক একটাকে কাটব প্রথমে, তারপর হালকা একটাকে। দুটোর তুলনা করতে পারব তাহলে।

মুহূর্ত দেরি না করে দেয়ালের ছকে ঝোলানো একটা লোহাকাটা করাত খুলে নিয়ে এল সে। আরও বেশ কিছু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ঝোলানো রয়েছে ওখানে।

ওগুলো রাখার সময় কিশোর বলেছিল, কোনটা যে কখন দরকার হয়ে যাবে, কেউ বলতে পারে না। সে-জন্যেই রাখলাম।

প্রথমে ভারীটা কেটে দেখা যাক, বব বলল।

ভাইসে আটকে নেয়া উচিত না? রবিন বলল। ধাতব জিনিস। হাত দিয়ে

ধরে কাটা বিপজ্জনক হয়ে যাবে।

ভাইসও একটা আছে। কোন অসুবিধে নেই। রীতিমত একটা ওঅর্কশপ এই ছাউনিটা। চোদ্দ গ্রামের একটা মুদ্রা ভাইসে আটকে নিয়ে কাটা শুরু করল কিশোর।

জোরাল ঘ্যাচর ঘ্যাচর আওয়াজ। ঘুমিয়ে পড়েছিল টিটু। চমকে একটা কান

খাড়া করে ফেলল। কিন্তু চোখ মেলল না সে। খাওয়ার আগে আর মেলবে বলেও মনে হয় না।

অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বাকি সবাই। কিশোরের হাতের দিকে তাকিয়ে

আছে।

মিনিটের পর মিনিট পার হয়ে যাচ্ছে। কাটা আর শেষ হয় না।

করাতের দাতের ঘষায় ধোয়ার মত উড়ছে ধাতুর সূক্ষ্ম কণা।

শেষ হয়ে এসেছে, তাই না? তর সইছে না আর রবিনের।

হঠাৎ সবাইকে চমকে দিয়ে মুদ্রাটা দুই টুকরো হয়ে একটা টুকরো মাটিতে।

পড়ে ঠন করে উঠল।

যাক, হলো শেষ পর্যন্ত! উত্তেজিত ভঙ্গিতে মাটি থেকে টুকরোটা তুলে নিয়ে দেখতে লাগল কিশোর। তারপর বাড়িয়ে দিল রবিনের দিকে। হাতে হাতে ঘুরতে থাকল ওটা। সবাই দেখল। করাতে কাটা সমান, মসৃণ ধারটায় আভুল বোলাল ডলি।

কিশোর, কি বোঝা যাচ্ছে এতে? আমার তো মনে হচ্ছে খামোকা কাটা হলো, মাঝাখান থেকে পঞ্চাশ পেন্স গরীব হয়ে গেলাম আমি।

একটু ধৈর্য ধরো, মুসা বলল, বাকিটারও একই গতি করা যাক। তারপর বোঝা যাবে লাভটা কি হলো। কি বলো কিশোর?

মাথা ঝাকাল কেবল কিশোর।

নিজের দুটো মুদ্রার মধ্যে হালকা মুদ্রাটা বের করে ডলিকে দেখাল রবিন।

এই যে, তোমার মত আমিও পঞ্চাশ পেন্স গরীব হতে চলেছি। মুদ্রাটা নিজেই ভাইসে লাগিয়ে কাটা শুরু করে দিল সে।

এবার আর আগেরটা কাটার মত এত শব্দ হলো না, কাটাও অত কঠিন হলো না। যে রকম তাড়াতাড়ি কেটে ফেলছ, ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে আছে মুসা, মনে হচ্ছে ধাতুটাই নরম, তাই না?

মাথা ঝাকাল রবিন। কোন সন্দেহ নেই তাতে। আগেরটার চেয়ে অনেক

তাড়াতাড়ি এটা কেটে ফেলল রবিন। কিশোর যেটা কেটেছে তার অর্ধেক সময়

লাগল।

ভাইসে আটকানো টুকরোটার দিকে এক নজর তাকিয়েই চিৎকার করে উঠল,

দেখো, ধাতুর দুটো স্তর!

হাঁ, তাই তো, মাটিতে পড়ে যাওয়া টুকরোটা তুলে নিয়ে বলল অনিতা।

বাইরের আস্তরটা একেবারে পাতলা। ভেতরেরটা পুরু, তবে অন্য রকম, কালো

রঙের।

হালকা, সস্তা কোন ধাতু দিয়ে তৈরি, গম্ভীর মুখে কিশোর বলল।

কেন, সস্তা কেন? প্রশ্ন করল ফারিহা।

কারণ, এই মুদ্রাগুলো জাল! জবাব দিল কিশোর। আসল মুদ্রার মত দামী

ধাতু দিয়ে তৈরি করে জালিয়াতদের কোন লাভ নেই, সেজন্যে সস্তা ধাতু ব্যবহার করে।

জালিয়াত স্তদ্ধ হয়ে গেল ডলি। কিন্তু আমার কয়েনটা জাল হতেই পারে

না। নিজের হাতের হালকা মুদ্রাটার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল সে, আমার আপা এটা দিয়েছে আমাকে।

তোমার আপার কোন দোষ নেই, ডলি, তাকে বোঝাল রবিন। এটা তো

আর তিনি নিজে বানাননি। অন্য কেউ তাকে দিয়েছে। যে দিয়েছে সে আবার

কারও কাছ থেকে পেয়েছে, সেই জন আবার অন্য কারও কাছ থেকে-এ ভাবেই। হাত বদল হতে থাকে কয়েন। আমার প্রশ্ন, প্রথম কার হাত থেকে বেরোল এটা?

হ্যাঁ, ঠিক আমারও প্রশ্ন সেটা, উত্তজিত স্বরে কিশোর বলল। এবং

প্রশ্নটার জবাব খুঁজে বের করতে হবে আমাদের। রবিন আর ডলির প্রথম কাজ

হলো এখন মুদ্রা দুটো কার কার হাত ঘুরে এসেছে যতটা সম্ভব সেটা জানার চেষ্টা করা। আমরাও ঘুরে ঘুরে খোজ-খবর নিয়ে দেখব কিছু জানা যায় কিনা।

আপাতত এটাই আমাদের প্রথম কাজ।

মীটিং শেষ হলো। ছাউনি থেকে বাগানে বেরিয়ে এল সবাই। চারটেও

বাজেনি, কিন্তু এখনই দিনের আলো মুছে যেতে আরম্ভ করেছে। ধূসর আকাশটা যেন অনেক নিচে নেমে এসে খুলে রয়েছে। তুষার পড়া শুরু হবে মনে হচ্ছে।

হ্যাঁ, পড়বে, কিশোর বলল।

সাইকেলে চেপে সবার উদ্দেশে হাত নেড়ে চলে গেল বব।

একে একে সবাই চলে গেল বিদায় নিয়ে। বাগানের গেটটা লাগিয়ে দিল

কিশোর। রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আনমনে নিচের ঠোঁটে চিমটি

কাটল একবার সে। বিড়বিড় করে বলল, মনে হচ্ছে রহস্য আরেকটা পেয়ে গেলাম!

বাড়ি ফিরে সোজা মার দিকে এগিয়ে গেল রবিন। আগের দিন যে যুদ্রাটা তাকে দিয়েছেন তিনি, সেটার কথা জিজ্ঞেস করার জন্যে। কার কাছ থেকে নিয়েছেন, বলতে পারলেন না। তবে তার আগের দিন কোন কোন দোকানে জিনিস কিনতে গিয়েছিলেন, সেটা মনে করতে পারলেন। যত্ন করে নোটবুকে তালিকাটা লিখে নিল রবিন।

ডলিও একই কাজ করল। তার বড় বোনকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিল গত

চব্বিশ ঘণ্টায় কোথায় কোথায় গিয়েছিল। ডলির বড় বোন জানাল, পাশের শহরটাতে হেয়ারড্রেসারের দোকানে গিয়েছিল চুল ঠিক করতে। তারপর গিয়েছিল একটা পোশাকের দোকান আর কেমিস্টের দোকানে। গায়ে ফিরে যায় পোস্ট অফিসে, সেখান থেকে মুদীর দোকান আর বেকারিতে।

পাঁচটার সময় ডলির সঙ্গে দেখা করল রবিন, তালিকা দুটো মিলিয়ে নেয়ার জন্যে। কিন্তু দুজনের তালিকায় একটা দোকানের নামও পেল না যেগুলো মিলে।

অর্থ্যাৎ,,রবিনের আম্মা যেখানে যেখানে গিয়েছেন, তার কোনটাতেই যায়নি ডলির বোন। এর দুটো মানে হতে পারে। হয় ভিন্ন ভিন্ন দিনে যে কোন এক জায়গা থেকে মুদ্রা দুটো তাদের হাতে এসেছে, নয়তো দুই জায়গা থেকে ওগুলো পেয়েছে তারা। কোখান থেকে এসেছে, বের করা অসম্ভব বলে মনে হলো ওদের কাছে।

বাকি গোয়েন্দারাও চুপ করে বসে রইল না। যার যার মানি-বক্স খালি করে

টাকা-পয়সা যা আছে সব নিয়ে বেরিয়ে পড়ল সেগুলো ভাঙিয়ে পঞ্চাশ পেলের

মুদ্রা জোগাড়ের জন্যে। ভাগ্যিস স্কুল এখন ছুটি, নইলে এসব করার সময়ই পেত না কেউ। রহস্যটা হাতছাড়া হয়ে যেত।

কিশোর, ফারিহা আর টিটু গেল পোস্ট অফিসে। কাউন্টারে বসা মেয়েটা

উৎসাহের সঙ্গেই ওদের টাকা-পয়সা ভাঙিয়ে পঞ্চাশ পেন্সের মুদ্রা দিয়ে দিল।

বব দাড়িয়ে রইল রাস্তায়। পথচারী দেখলেই একটা করে ডলার বাড়িয়ে ধরে অনুরোধ করতে লাগল পঞ্চাশ পেন্সের দুটো মুদ্রা দেয়ার জন্য।

মুসা করতে গেল বাজারে,টুকিটাকি জিনিষ কিনতে লাগল। এমন করে

কিনল, যাতে প্রচুর পঞ্চাশ পেলের মুদ্রা জোগাড় হয়। যেমন, এক টিউব পেপারমিট লজেন্স কিনলে দিতে হবে বিশ পেন্স, দোকানিকে এক ডলার দিলে খুশি হয়েই সে বাকি পয়সার সঙ্গে একটা পঞ্চাশ পেন্স দিয়ে দিল। প্রতি দোকান

থেকে একটার বেশি জিনিস কিনল। আর এই কাজটা করতে গিয়েই একটা মজার আবিষ্কার করে বসল সে।

মুদী দোকান থেকে এক প্যাকেট বিস্কুট কিনে, টাকা দিয়ে দোকানির বউকে

জিজ্ঞেস করল পঞ্চাশ পেন্সের মুদ্রা দিতে পারবে কিনা।

পারব। তারপর মাথা নাড়তে নাড়তে যোগ করল মহিলা, বুঝলাম না

লোকের কি হয়েছে আজ। সবাই এসে খালি পঞ্চাশ পেন্সের মুদ্রা চাইছে।

খানিক দূরে একটা বেকারিতে অনিতার বেলায়ও প্রায় একই ব্যাপার ঘটল।

একটা লোক কেক কিনে দাম মিটিয়ে দেয়ার পর মহিলাকে কয়েকটা ডলার দিয়ে জিজ্ঞেস করল, এগুলোর বিনিময়ে তাকে পঞ্চাশ পেলের মুদ্রা দিতে পারবে কিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *