পরের দু’দিন ক্যাম্প রুটিন স্টাডি করল রানা। সূর্যোদয়ের পরপরই নাস্তা দেয়া হয় ক্রীতদাসদের, তারপর বিভিনড়ব ওঅর্ক পার্টিতে ভাগ হয়ে তারা বেরিয়ে পড়ে। ডানাকিল যোদ্ধারা পাহারা দিয়ে রাখে ওদের। আরও ক’জনের সঙ্গে কম্পাউন্ডে থেকে যায় রানা। স্বাধীন আমহারিক পুরুষদের উপত্যকার ধূলিধূসরিত, পাথুরে মেঝেতে হাঁটাহাঁটি করতে দেখেছে সে, এরা ইথিওপিয়া সরকারের হর্তা-কর্তা কিনা নিশ্চিত হতে পারেনি যদিও।

কম্পাউন্ডে রানার প্র ম পূর্ণ দিবসে, লাঞ্চের ঠিক আগে টনি গ্রেগ এসে হাজির হলো, ওকে সঙ্গ দিচ্ছে সাবমেশিনগানধারী জনৈক ডানাকিল। ক’খানা কাপড় হাতে এক কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাসও আছে সঙ্গে।

জেনারেল মালদিনি রানার জন্যে খাকি প্যান্ট, শার্ট ও পিথ হেলমেট পাঠিয়েছে, মরচে ধরা এক ধাতব ট্রাক থেকে পানি নিয়ে, মরুভূমির বালি ধুয়ে মুছে সাফ-সুতরো হলো রানা। ‘অনেক ভাল লাগছে এখন,’ টনিকে বলল ও।

‘মালদিনির দলে ভিড়ে যাচ্ছ?’ টনি প্রশ্ন করল।

‘বলল তো সুযোগ দেবে না।’

‘কপাল খারাপ, রানা। মালদিনি পাগল হতে পারে কিন্তু বুদ্ধিমানও বটে। আমি তো মনে করি ওর এই পাগলামি-প্ল্যান সফল হবে।’

‘আছ ওর সঙ্গে?’

‘হয়তো-মানে থাকার অফার পাই যদি।’

ওয়াটার ট্রাফের কাছে যাওয়া এবং ফিরে আসা ক্যাম্পের লেআউট সম্পর্কে রানাকে নতুন এক ধারণা দিল। খুব সংক্ষিপ্ত নোটিসে এর বেশিরভাগটাকে অদৃশ্য করে দেয়া যাবে। এবং ছোট্ট এক উপাদানের পাত্তা পাওয়া যাচ্ছে না-তেইশটা খুদে উপাদান। মিসাইলগুলো গেল কোন্‌ নরকে? ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে বিশেষ কিছু বলতে না পারলেও, এটুকু অনুমান করতে পারছে রানা, পাথর ভরা এক বিরান ওয়েইস্টল্যান্ডে এমুহূর্তে রয়েছে ওরা। ডানাকিল মরুভূমির মেঝের চাইতে বেশ উঁচু এ জায়গাটা। মিসাইলগুলো হয়তো লুকানো রয়েছে পাহাড় সারির ভেতরে কোথাও।

এই ক্যাম্প ত্যাগ করে পালাতে চাইলে, কাজটা করতে হবে মালদিনি জেরা শুরু করার আগেই। কেন যেন মনে হচ্ছে ওর জিওনিস্ট এজেন্টটি নির্যাতনের ফলে মারা পড়েছে। এমুহূর্তে অবশ্য পালানোর কোন রাস্তা দেখা যাচ্ছে না। দিনে ডানাকিলরা পাহারা দিচ্ছে চত্বর, আর রাতে পালাতে হলে একটাই পথ-বিশৃক্মখলা সৃষ্টির চেষ্টা। কিন্তু দাঙ্গা বাধাবে তেমন মারকুটে উদ্যম ক্রীতদাসদের মধ্যে দেখেনি ও। তাছাড়া এখান থেকে বেরিয়ে ও যাবেটাই বা কোথায়? চেনে কোনও কিছু? মরুভূমিতে ক্ষুধায় তৃষ্ণায় মারা যদি নাও যায়, ডানাকিলদের কোন গ্রামে গিয়ে হাজির হলে বেঘোরে প্রাণটা ঠিকই খোয়াবে। পরদিন সন্ধেয়, রানা তখনও মনে মনে সম্ভাব্য ছক আঁকছে কিভাবে সটকানো যায় – বৃদ্ধ কুদরত চৌধুরী, বাঙালী বিজ্ঞানী, ওর পাশে এসে বসলেন।

‘তোমাকে নিশ্চয়ই রাহাত পাঠিয়েছে?’ প্রশ্ন করলেন। রানা সায় জানাতে বললেন, ‘ও।’ তারপর চারধারে দৃষ্টি বুলালেন। ‘হতচ্ছাড়া টনি গ্রেগটা আরেকজনের ওপর স্পাইং করছে বলে সুযোগটা পেলাম। কাল তোমাকে মিসাইলগুলো দেখাব।’

‘কাল?’

‘হ্যাঁ, জেনারেল মালদিনি আর জুলেখাও থাকবে। আর আমার তিন জোড়াতালি মার্কা অ্যাসিস্ট্যান্ট, এক ডানাকিল, এক আমহারিক, আরেক সোমালী। রাহাত কেমন আছে?’

‘ভাল,’ শান্ত কণ্ঠে বলল রানা।

‘মালদিনিকে মনে করেছিলাম খেয়ালী লোক, বিজ্ঞানের সাধনা করতে চায়। নির্জন মরুভূমিতে দু’একটা মিসাইল ফাটাবে আর কি। তাই ওর প্রস্তাবে রাজি হই। কিন্তু এখন দেখছি সারা দুনিয়াকেই ও শত্রু ভাবছে।’ চকিতে চারপাশে দৃষ্টি বুলিয়ে দেখে নিলেন বৃদ্ধ, কাছেপিঠে কেউ আছে কিনা। ‘আমি কিন্তু,’ মৃদু সুরে বলল রানা। ‘আপনাকে নিয়ে কেটে পড়ার জন্যে এক পায়ে খাড়া।’

‘কালকের দিনটা সেজন্যে হয়তো উপযুক্ত নয়। তুমি সিক্রেট এজেন্ট যখন, রানা, নিশ্চয়ই আর্মস ব্যবহার করতে জানো?’

রানা মৃদু হেসে সম্মতি জানাল।

‘কাল গার্ড যদি কম সতর্ক থাকে,’ বললেন কুদরত চৌধুরী,‘তাহলে পালানোর চেষ্টা করতে পারি আমরা। জানো নিশ্চয়ই, ডানাকিলরা খুন করার জন্যেই লড়াই করে?’

ক্যারাভান আক্রমণের ঘটনা বৃদ্ধকে জানাল রানা।

‘ওই ক্যারাভানে তিনটে মিনিটম্যানের গাইডেন্স ইউনিট ছিল,’ বললেন বিজ্ঞানী। ‘কাল রাতে তাঁবু থেকে সরে পড়ব আমরা। আমার তিন সহকারীর সাথে কথা হয়েছে। ওরা সাহায্য করবে কথা দিয়েছে। এটা রাখো, কাজে লাগতে পারে।’

সরু, খোদাই করা ছোরাটা কাপড়ের ভেতর রানা চালান করতে পারার আগেই বৃদ্ধ হাওয়া। কুদরত চৌধুরী অ্যাঢেসিভ টেপ জোগান দিতেও ভুল করেননি, রানা যাতে ছুরিটা চামড়ার সঙ্গে সাঁটিয়ে রাখতে পারে।

 

উটের পিঠে চেপেছে মালদিনি। রানাদের সঙ্গ নেয়া চারজন গার্ডও উটচালনা করছে। জুলেখা, কুদরত চৌধুরী ও তাঁর তিন সহকারীর সঙ্গে হাঁটছে রানা। বিকেলের দিকে নিচু পাহাড়সারির রেঞ্জে পৌঁছল ওরা।

পিচ্চি এক নদী দূরে কেঁপে কেঁপে বয়ে যাচ্ছে। পানির কোল ঘেঁষে, পাথর আর বালির বুকে শুয়ে রয়েছে ডানাকিলদের একটা গ্রাম। স্থানীয় মাতব্বর উটে চেপে মালদিনির সঙ্গে মিলিত হতে এল। তার সঙ্গে আঞ্চলিক ভাষায় আবেগপূর্ণ কুশল বিনিময় করল মালদিনি।

‘এই সর্দারটা কে?’ জুলেখাকে জিজ্ঞেস করল রানা।

‘মালদিনির লোকদের শাসন করে ও,’ বলল যুবতী। ‘ওর বিশ্বাস মালদিনির দরবারে ও একটা ভাল পদ পাবে।’

রানা আর বলল না যে সর্দারের ইচ্ছাপূরণের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। হাতে নিউক্লিয়ার মিসাইল থাকলে মালদিনি তার পরিকল্পিত আন্তর্জাতিক ব্ল্যাকমেইল সফল করতে পারবে।

‘তুমি এলে কেন?’ জুলেখাকে জিজ্ঞেস করল ও।

‘আমাকে মালদিনির সঙ্গিনী হতে হবে, আমি এখন তার ক্রীতদাসী যদিও, আমার পারিবারিক ঐতিহ্য এই মাতব্বরটাকে প্রভাবিত করতে কাজে দেবে। মদের আসর বসবে আজ রাতে। আমাকে অবশ্য ওখানে থাকতে দেবে না মালদিনি। এদের চোখে

আমাকে হালকা হতে দেবে না।’

মালদিনি ও সর্দারটি কি যেন পান করল এক বড়সড় পাত্র থেকে। ওদের হাসাহাসি, ফুর্তি দেখে কে। কিছুক্ষণ পর ফিরে এল ও রানাদের কাছে। ‘মিসাইল, চৌধুরী, মিসাইল,’ বলল লোকটা।

কুদরত চৌধুরীর নির্দেশে এক গুহামুখ থেকে কাঁটাঝোপ আর পাথর সরাল তাঁর তিন সহকারী।

‘এটা তেইশটার একটা,’ মালদিনি বলল রানাকে। ‘শিগ্‌গিরিই সবচাইতে বড় তিনটে যোগ করা হবে।’

রানা উল্টেপাল্টে ভেবে দেখল কথাটা। একটা ট্রাকে বসে রয়েছে মিসাইলটা, গড়িয়ে নামার অপেক্ষায়। রাশান মডেল, পাঁচশো থেকে সাতশো মাইলের মধ্যে এর রেঞ্জ। নিক্ষেপ করা হলে লঞ্চিং প্যাড ও আশপাশে যে-ই থাকুক পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।

‘গাইডেন্স সিস্টেম কিভাবে সেট করা হয়েছে মিস্টার রানাকে দেখাও, চৌধুরী,’ মালদিনির হুকুম।

মিসাইল বিশেষজ্ঞ বিস্তারিত বর্ণনায় গেলেন, কন্ট্রোল ইউনিটের বিভিনড়ব নব, সুইচ তর্জনী তাক করে দেখালেন। অত্যন্ত আন্তরিক হাব-ভাব লক্ষ করা গেল তাঁর মধ্যে, এবং তিন সহকারী কোন ভুলচুক করলেই চড়া গলায় ধমকে উঠলেন। রানা লক্ষ করল, অশিক্ষিত-অদক্ষ লোক তিনটে কাজ বেশ ভালই রপ্ত করে নিয়েছে।

রানা ভীত-সন্ত্রস্ত অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলল মুখের চেহারায়, এবং কুদরত চৌধুরী যখন বললেন এই মিসাইলটা ইরাকের অয়েল রিফাইনারীতে আঘাত হানবে তখন মালদিনির উদ্দেশে, ‘মাই গড, আপনি কি মানুষ না পিশাচ,’ বলে উঠল উঁচু স্বরে। হা-হা করে

আত্মপ্রসাদের অট্টহাসি হাসল লোকটা।

‘আর কোথায় কোথায় তাক করা হয়েছে বললে না?’ মালদিনি উস্কে দিল কুদরত চৌধুরীকে।

‘ওয়াশিংটন। মস্কো। কায়রো। এথেন্স। বাগদাদ। দামাস্কাস। তেল আবিব। বড় বড় সব শহরের দিকে। মিডল ইস্ট বলে আর কিছু থাকবে না, মিস্টার রানা, দুনিয়া যদি জেনারেলকে তাঁর সাম্রাজ্য দিতে অস্বীকার করে।’

‘আরেকটা বসিয়েছি আদ্দিস আবাবার দিকে মুখ করে, ইথিওপিয়ানরা যদি আত্মসমর্পণ না করে তো-’ অর্থপূর্ণ হাসল মালদিনি।

জুলেখা ভীতিমাখা চোখে চেয়ে রয়েছে ওর দিকে।

‘তুমি এটাকে ঠেকাতে পারবে হয়তো,’ মেয়েটিকে বলল মালদিনি। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে বিজ্ঞানীর উদ্দেশে বলল, ‘চৌধুরী, ঢেকে দাও।’

একটা পাথরের ওপর নিদারুণ হতাশ অভিব্যক্তি নিয়ে বসে রইল রানা। কুদরত চৌধুরী তাঁর লোকদের নিয়ে ক্যামোফ্লেজ করছেন মিসাইলের গুপ্তস্থান। সব কটা মিসাইল নিষ্ক্রিয় কিনা ভাবছে রানা।

‘অত কি ভাবছেন, মিস্টার রানা?’ মালদিনি জিজ্ঞেস করল।

‘ভাবছি প্রচণ্ড প্রভাব ও প্রতিপত্তি না থাকলে এগুলো জোগাড় করতে পারতেন না আপনি। আমাদের রিপোর্ট বলছে চুরি গেছে এগুলো, এবং কোনও দেশের সরকারই জানে না কি ঘটেছে এগুলোর ভাগ্যে।’

‘সেটাই ওদেরকে ভাবতে বাধ্য করেছি আমি।’

‘মানে সব কটা দেশেই আপনার কন্ট্যাক্ট আছে।’

‘এই তো, ধরে ফেলেছেন।’

‘এত টাকা পেলেন কোথায়? আপনি লিভর্নো ছাড়ার এতদিন পরও এত কাঁচা টাকা আসে কোত্থেকে?’

‘সব কথা জানতে চান কেন?’ কর্কশ কণ্ঠে বলে উঠল মালদিনি। ‘আর জেনে করবেনই বা কি? কালই যখন আপনার ভাগ্য নির্ধারণ হবে।’

কুদরত চৌধুরী ও তাঁর সহকারীদের কাজ শেষ। গার্ডরা রানাদের ঘেরাও করে, কাছের গ্রামে ছোট্ট এক কুঁড়েঘরে নিয়ে এল। দরজায় লাগানো ডালপালার পর্দা সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করিয়ে ওদের সাবধান করা হলো ঝামেলা যাতে না পাকায়।

দরজার কাছে দাঁড়িয়ে খাবার আসার অপেক্ষা করছে জুলেখা। বড় পাত্রে স্টু এল।

‘এরপর?’ জিজ্ঞেস করল রানা।

‘ফিস্ট করতে যাবে মালদিনি। এখানে জনা দুই যোদ্ধা থাকবে।’

খাওয়ার পর্ব সারা হলে, গার্ডদের একজনের হাতে পাত্র দুটো তুলে দিল জুলেখা। লোকটা গর্জে উঠতে, দরজার কাছ থেকে সরে এল ও। গ্রাম থেকে হৈ হল্লা আর বিক্ষিপ্ত গুলিবর্ষণের শব্দ ভেসে আসছে।

রানা, জুলেখা, কুদরত চৌধুরী আর তাঁর তিন সহকারী আলোচনায় বসে ঠিক করল, আমহারিক, অর্থাৎ জোসেফ ক্রেন যোদ্ধা হিসেবে সঙ্গে থাকবে। ডানাকিল, অর্থাৎ আবু হাতেম, মরুভূমিতে গাইড করবে ওদের। আলী দাঈ, সোমালী; চুরি করবে উট। স্ত্রী উট, নাকি পুরুষ উট এ নিয়ে একদফা বচসা হয়ে গেল ডানাকিল আর সোমালীর মধ্যে। জুলেখা রানাকে ইংরেজিতে জানাল, ডানাকিল ও সোমালী গোত্র পরস্পরকে শত্রু জ্ঞান করে। এই দুই গোত্র আবার সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের কারণে ইথিওপিয়া শাসনকারী জুলেখার আত্মীয়দের অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে। ওরা চায় মেয়েটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে। সেজন্যে নিজেদের প্রাণের ওপর ঝুঁকি নিতেও পিছপা হবে না।

‘কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে আমাদের?’ কুদরত চৌধুরীর প্রশ্ন।

‘মাঝরাত পর্যন্ত,’ জানাল জুলেখা। ‘ভূরিভোজের পর সহজেই খুন করা যাবে ওদের। মিস্টার রানা, শুনেছি আপনি দুর্দান্ত লোক।’

‘আমাকে রানা বলে ডেকো।’

‘কুদরত চৌধুরী বিজ্ঞানী মানুষ, যোদ্ধা নন। আমরা তোমার ওপর ভরসা করছি, রানা।’

অপেক্ষা যখন করতেই হচ্ছে, ভাবল রানা, একটু জেরা করা যাক। কুঁড়ের দূরপ্রান্তের দেয়ালের দিকে সসম্ভ্রমে বিজ্ঞানীকে আমন্ত্রণ জানাল ও।

‘আমাকে যেটা দেখালেন সেটার মত বাকিগুলোও কি এরকম অকেজো?’ মৃদু স্বরে বলল।

‘স্বল্প পাল্লার চারটের নিজস্ব পোর্টেবল লঞ্চার আছে,’ বললেন বিজ্ঞানী। ‘এর দুটো আমার কন্ট্রোলে, কাজেই ওদুটো আপসে সাগরে গিয়ে পড়বে, কোন ক্ষতি হবে না।’

‘আর অন্য দুটো?’

‘জার্মানরা ওগুলো অপারেট করে। আমি দুঃখিত, রানা, ওদের আমি বিশ্বাস করি না। ড্রাগ খেয়ে একেবারে মালদিনির পায়ের তলায় চলে গেছে ওরা। আর বাকিগুলো যারাই অপারেট করুক কিছু এসে যায় না। ফায়ার করলে ধ্বংস এবং ক্ষতি যা করার এখানেই করবে। কিন্তু মিনিটমেনগুলোর কথা বলতে পারছি না। ওগুলো আমার হাতে আসেনি। ভয়টা সেখানেই, ওগুলো জুড়ে ফেলতে ওদের সময় লাগবে না, রানা।’

‘ও নিয়ে ভাববেন না,’ অভয় দিল রানা। ‘জোড়া দিতে পারবে না। বেশ কিছু পার্টস ওগুলোর বালিতে কবর দিয়েছি আমি। কিন্তু ধরুন, আপনাকে অন্য কারও মিসাইল অপারেট করতে দিল, তখন কি করতেন?’

‘কি আর করতাম,’ দৃঢ় কণ্ঠে বললেন বিজ্ঞানী। ‘এমনভাবে অপারেট করতাম যাতে ওখানেই ফাটে, কারও ক্ষতি না হয়।’

‘তাতে তো প্রাণটা হারাতেন,’ বলল রানা।

‘অনেক বছর তো বাঁচলাম, আর কত,’ বললেন বিজ্ঞানী।

‘চেষ্টা করতাম সঙ্গে মালদিনিকে নিয়ে যেতে।’

বৃদ্ধের কথা শুনে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে গেল রানার। মনে পড়ল এক জোড়া কাঁচা-পাকা ভ্রূর বন্ধু এই লোক। ভাঙবে তবু মচকাবে না।

শরীরের ভর পরিবর্তন করে ঊরুতে টেপ দিয়ে আটকানো ছুরিটা অনুভব করল রানা। ‘দু’জনই বাঁচব তা নাও হতে পারে,’ বলল ও। ‘কাজেই মন দিয়ে শুনুন। বাংলাদেশী দূতাবাস পর্যন্ত যেতে পারলে ভেতরে ঢুকে পড়বেন। দায়িত্বশীল কাউকে খুঁজে বের করে বলবেন, এম আর নাইনের কাছ থেকে মেসেজ এনেছেন আপনি। বিসিআইয়ের এম আর নাইন। মনে থাকবে তো?’

কোড ও এজেন্সির নাম পুনরাবৃত্তি করলেন বিজ্ঞানী।‘কি বলতে হবে ওদের?’

‘আমাকে এই মাত্র মিসাইল সম্বন্ধে যা বললেন।’

‘আরেকটা কথা, রানা, আমার কাছে আর তিনদিনের ড্রাগ আছে। এরপর অচল হয়ে পড়ব আমি। সাতদিনের ডোজ দেয় শয়তানটা। সাতদিন পর চেয়ে নিতে হয়। ডানাকিলদের ড্রাগ আর ক্ষমতার লোভ দেখিয়েই হাত করেছে মালদিনি। মরুভূমির মাঝে ওদের দিয়ে পপির চাষ করাচ্ছে সে।’

কথা শেষ হয়ে যেতেই সময় কাটানোর আর কোন উপায় নেই দেখে খানিক ঘুমিয়ে নেবে ভাবল রানা। জানে ও, বিশ্রামটুকু খুব কাজে দেবে পরে। একই পরামর্শ দিল ও প্রত্যেককে।

Share This