৩৪. কুবায় অবস্থানের বিবরণ

কুবায় অবস্থানের বিবরণ

নবী করীম (সা) সঙ্গীদের সহ মদীনায় প্রবেশ করে কইবনয় বনু আমর ইবন আওফ-এর মহল্লায় অবস্থান করেন। ইতোপূর্বে সে কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং কথিত আছে যে, সেখানে সর্বোচ্চ ২২ রাত্রি, মতান্তরে ১৮ রাত্রি, আবার কারো কারো মতে ১০ রাত্রির কিছু বেশী অবস্থান করেন। মূসা ইবন উকবা তিন রাত্রের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে প্ৰসিদ্ধ উক্তি হচ্ছে, যা ইবন ইসহাক উল্লেখ করেছেন। আর তা হলো, নবী করীম (সা) কুবায় তাদের মধ্যে সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অবস্থান করেন। এ সময়ের মধ্যে—যার পরিমাণ নিয়ে পূর্বোল্লিখিত মতদ্বৈধতা রয়েছে, তিনি সেখানে মসজিদে কুবায় ভিত্তি স্থাপন করেন। সুহায়লী দাবী করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) কুবায় আগমনের প্রথম দিনেই এ মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেছেন আর এর সপক্ষে তিনি আল্লাহ তা’আলার নিম্নোক্ত বাণী প্রমাণ হিসাবে উল্লেখ করেন :

لمسجد اسبسر علی (ا۔ تقوی من اول یوم–প্রথম দিনেই যে মসজিদের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে তাকওয়ার উপর, অবশ্যই সে মসজিদ w & 8 আর *–J, ৬-৭–এর পূর্বে উহ্য ক্রিয়া স্বীকার করে নেয়ার তিনি প্রতিবাদ করেন। মসজিদে কুবায় এক বিশাল মর্যাদাপূর্ণ মসজিদ, যে সম্পর্কে আয়াত নাযিল হয়েছে :

“প্ৰথম দিন থেকেই যে মসজিদের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে তাকওয়া তথা আল্লাহর ভয়ের উপর, তোমার সালাতের জন্য তা-ই অধিকতর যোগ্য ও হকদার। সেখানে এমন লোক আছে, যারা পবিত্ৰতা অর্জন ভালবাসে। আর পবিত্রতা অর্জনকারীকে আল্লাহ ভালবাসেন (৯ : ১০৮)। এ আয়াতের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে তাফসীর গ্রন্থে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি; আর তা মদীনার মসজিদ বলে সহীহ মুসলিমে যে হাদীছ উক্ত হয়েছে, সেখানে আমরা সে হাদীছের জবাবও উল্লেখ করেছি। আর ইমাম আহমদ হাসান ইবন মুহাম্মদ সূত্রে উওয়ায়ম ইবন সাইদা থেকে বর্ণিত হাদীছও আমরা উল্লেখ করেছি। যাতে বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা) তাদের মধ্যে মসজিদে কুবায় উপস্থিত হয়ে বলেন :

তোমাদের মসজিদের কিসসা প্রসঙ্গে তোমাদের পবিত্রতা-পরিচ্ছনতার জন্য আল্লাহ তা’আলা তোমাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তবে এটা কি, যদ্বারা তোমরা পবিত্রতা অর্জন কর? তারা বললেন, : ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর কসম, আমরা কিছুই জানি না। তবে আমাদের কিছু ইয়াহুদী প্রতিবেশী ছিল, তারা পায়খানার পর মলদ্বার ধুয়ে ফেলতো। তাদের মতো আমরাও ধুয়ে নিতাম। ইবন খুযায়মা তার সহীহ গ্রন্থে হাদীছটি উল্লেখ করেছেন এবং তার অন্য কিছু প্রমাণও রয়েছে। খুযায়মা ইবন ছাবিত, মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন সালাম এবং ইবন আব্বাস (রা) থেকেও হাদীছটি বর্ণিত। আবু দাউদ, তিরমিয়ী ও ইবন মাজা ইউনুস ইবন হারিছ সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী করীম (সা) থেকে বর্ণনা করে বলেন :

উপরোক্ত আয়াতটি কুবাবাসীদের সম্পর্কে নাযিল হয়। তিনি বলেন যে, তারা পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করতো, তাই তাদের সম্পর্কে আয়াতটি নাযিল হয়েছে। এরপর তিরমিয়ী বলেনঃ এ সূত্রে হাদীছটি গরীব। আমি (গ্রন্থকার) বলি, এ ইউনুস ইবন হারিছ যাঈফ। আল্লাহই ভাল জানেন।

আর যারা বলেন যে, এই মসজিদ হল সে মসজিদ, যার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে তাকওয়ার উপর। তাদের মধ্যে আছে আবদুর রাযযাক… উরওয়া ইবন যুবােয়র থেকে যা বর্ণিত হয়েছে। আলী ইবন আবু তালহা ইবন আব্বাস সূত্ৰে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। এছাড়া শা’বী, হাসান বসৱী, কাতাদা, সাঈদ ইবন জুবায়র, আতিয়া আল-আওফী এবং আবদুর রহমান ইবন যায়দ ইবন আসলাম প্রমুখ সূত্রেও হাদীছটি বর্ণিত হযেছে। নবী করীম (সা) পরবতীকালে মসজিদটি দেখতে পেতেন এবং সেখানে নামায আদায় করতেন এবং প্রত্যেক শনিবার সেখানে যেতেন। কখনো পায়ে হেঁটে, আবার কখনো সওয়ার হয়ে। হাদীছ শরীফে আছে :

صلوة فى مسجد قباء كعمرة

হয়েছে :

ان جبرانیلی علیه السلام هو الذی اشار للنبی صلیب الله علیه و سلمالی

بل اول مسجد جعل لعموم الناس فى هذه الملة. জিবরাঈল (আ) মসজিদে কইবনর কিবলার দিক নির্ণয়ের জন্য নবী (সা)-কে ইঙ্গিত করেন। আর এটা ছিল ইসলামের ইতিহাসে মদীনায় নির্মিত প্ৰথম মসজিদ। বরং ইসলামী মিল্লাতে সাধারণ মানুষের জন্য নির্মিত প্রথম মসজিদ ছিল এটি। আবু বকর (রা) তাঁর বাড়ীর দরজায় যে মসজিদ নির্মাণ করান, সেখানে তিনি ইবাদত করতেন এবং নামায আদায় করতেন, তা ছিল একান্তই তার নিজের, তা সাধারণের জন্য ছিল না। আল্লাহই ভাল জানেন।

রাসূলুল্লাহ (সা)-এর আগমনের সুসংবাদ পর্যায়ে হযরত সালমান ফারসীর ইসলামগ্রহণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তা এই যে, সালমান ফারসী যখন রাসূলের আগমন সম্পর্কে শুনতে পেলেন মদীনায়, তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট গমনকালে তাঁর সঙ্গে কিছু জিনিস হাতে নিয়ে যান এবং তা রাসূলের সম্মুখে রাখলেন। আর রাসূলুল্লাহ্ (সা) তখন কুবায় অবস্থান করছিলেন। হযরত সালমান ফারসী এটা সাদাকা’ বললে রাসূলুল্লাহ্ (সা) হাত গুটিয়ে নেন। তিনি নিজে খেলেন না, কিন্তু তাঁর নির্দেশে তার সাহাবীরা তা থেকে কিছু আহার করলেন। পুনরায় তিনি এলেন এবং তাঁর সঙ্গে কিছু একটা জিনিস ছিল। এবার তিনি বললেন, এটা হাদিয়া। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) তা থেকে কিছু আহার করলেন এবং সাহাবীগণকে নির্দেশ দিলে তারাও তা থেকে আহার করলেন। দীর্ঘ হাদীছটি ইতিপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে।]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *