০৭. প্রথম বাইয়্যেতে আকাবা

ইতিপুর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবুয়তের দশম বর্ষে হজ্জ মওসুমে ইয়াসরেবের ছয়জন মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তারা আল্লাহর রসুল (সাঃ)’র সাথে ওয়াদা করেছিলেন যে, নিজেদের কওমের কাছে ফিরে গিয়ে নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রেসালাতের তাবলীগ করবেন।
এর ফলে পরবর্তী হজ্জ মওসুমে ১৩জন লোক সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আসেন। এদের মধ্যে জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ ছাড়া অন্য ৫জন ছিলেন, যারা গত বছরও এসেছিলেন। এরা ছাড়া বাকি সাতজনের পরিচয় নিম্নরুপ।
ক্রমিক——————–নাম—————————–গোত্র
০১———-মায়া’য ইবনে হারেস ইবনে আফরা———-বনি নাজ্জার,খাযরাজ
০২———-যাকওয়ান ইবনে আব্দুল কায়েস————-বনি যুরাইক, খাযরাজ
০৩———-ওবাদা ইবনে সামেত———————- বনি গানাম, খাযরাজ
০৪———-ইয়াজিদ ইবনে ছালাবা———————বনি গানামের মিত্র, খাযরাজ
০৫———-আব্বাস ইবনে ওবাদা ইবনে নাযালাহ——–বনি সালেম , খাযরাজ
০৬———-আবুল হায়ছাম ইবনে তাইহান————–বনি আবদে আশহাল,আওস
০৭———-ওযাইম ইবনে সায়েদাহ———————বনি আমার ইবনে আওফ, আওস

এদের মধ্যে শেষোক্ত দু’জন ছিলেন আওস এবং বাকি সবাই খাযরাজ গোত্রের। এরা সবাই মিনায় আকাবার কাছে রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাতে কয়েকটি বিষয়ে বাইয়েত নেন। পরবর্তীতে হোদাইবিয়ার সন্ধির পর এবং মক্কা বিজয়ের সময়ে এসব কথার উপরেই মহিলাদের কাছ থেকেও বাইয়েত গ্রহণ করা হয়। আকাবার এই বাইয়েতের বিবরণ বোখারী শরিফে ওবাদা ইবনে সামেতের বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। তিনি বলেন, রসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এসো আমার কাছে এ মর্মে বাইয়েত করো যে, আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, যেনা করবে না, নিজের সন্তানকে হত্যা করবে না, মনগড়া কোন অপবাদ কারো উপর দিবে না, ভাল কাজে আমার অনুসরণ করবে, কোন প্রকার অবাধ্যতা করবে না। যে ব্যক্তি এসব কিছু পালন করবে, তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে। আর যে ব্যক্তি এসব বিষয়ের কোন কিছু অমান্য করবে, যদি তাকে সেই অবাধ্যতার জন্য শাস্তি দেয়া হয়, তবে তার শাস্তি তার পাপের কাফ্ফারা হবে। যদি কেউ অবাধ্যতা সত্ত্বেও আল্লাহ যদি তার পাপ গোপন রাখেন তাহলে তার কাজের পরিণাম আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল।
হযরত উবাদা বলেন, এসব বিষয়ে আমরা আল্লাহর রসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট বাইয়েত গ্রহণ করলাম।