২০. রাসূলুল্লাহ (সা)-এর চাচা আবু তালিবের ইনতিকাল

রাসূলুল্লাহ (সা)-এর চাচা আবু তালিবের ইনতিকাল

চাচা আবু তালিবের ইনতিকালের পর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সহধর্মিণী হযরত খাদীজা বিনত খুওয়াইলিদ (রা) ইনতিকাল করেন। কারো কারো মতে, চাচা আবু তালিবের পূর্বে হযরত খাদীজার (রা) ইনতিকাল হয়। প্রথম অভিমতই প্ৰসিদ্ধ। এ দুটো ঘটনা-ই বেদনাদায়ক। আবু তালিবের বিয়োগ অনুভূত হয় বহিরাঙ্গনে। খাদীজার (রা) অনুপস্থিতির প্রতিক্রিয়া হয় মৰ্মমূলে। আবু তালিব ছিলেন কাফির। আর খাদীজা (রা) ছিলেন ঈমানদার ও সিন্দীকা। আল্লাহ তার প্রতি প্ৰসন্ন হোন এবং তাকে সন্তুষ্ট করুন।

ইবন ইসহাক বলেন, হযরত খাদীজা (রা) এবং আবু তালিব দু’জনে একই বছরে ইনতিকাল করেন। এদের দু’জনের অবর্তমানে বিরামহীনভাবে বিপদাপদ আসতে থাকে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উপর। সকল বিপদাপদে হযরত খাদীজা (রা) ছিলেন তার সত্যিকার ও যোগ্য পরামর্শদাত্রী। তাঁর নিকট এসেই রাসূলুল্লাহ্ (সা) শান্তি পেতেন। চাচা আবু তালিব ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা)-এর শক্তি ও সাহায্যকারী, বিপদাপদে রক্ষাকর্তা এবং আপনি সম্প্রদায়ের হাত থেকে নিরাপত্তা প্রদানকারী। তাদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মদীনায় হিজরতের তিন বছর পূর্বে। চাচা আবু তালিবের ইনতিকালের পর কুরায়শী কফিরেরা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর উপর এমন অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করল-যা আবু তালিবের জীবদ্দশায় তারা চিন্তাও করতে পারত না। তাদের এক মূখ ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর উপর চড়াও হয় এবং তাঁর মাথায় ধূলি নিক্ষেপ করে। হিশাম, ইবন উরওয়া তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তারপর ধূলি-ধূসরিত মাথায় বাড়ী ফিরেন। তখন তাঁর এক কন্যা কেঁদে কেঁদে পিতার মাথা ধুয়ে দিচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, প্ৰিয় কন্যা! কেন্দো না মহান আল্লাহ তোমার পিতাকে অবশ্যই রক্ষা করবেন। তিনি তখন এও বলেছিলেন যে, আবু তালিবের ইনতিকালের পূর্ব পর্যন্ত কুরায়শরা আমার সাথে এমন কোন আচরণ করতে পারেনি, যা আমাকে কষ্ট দেয়। ইবন ইসহাক আরো উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রান্নাবান্নার সময় তাদের এক দুৰ্বত্ত এ যে ওই হাঁড়িতে আবর্জনা নিক্ষেপ করতো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) নিজে লাঠি দিয়ে তা উঠিয়ে নিজের দরজার সম্মুখে ফেলে দিতেন এবং বলতেন, হে আবদ মানাফের বংশধরগণ! প্রতিবেশীর সাথে তোমাদের একী আচরণ তারপর তিনি ওই ময়লা রাস্তায় ফেলে দিতেন।

ইবন ইসহাক বলেন, আবু তালিব অন্তিম শয্যায় শায়িত এ সংবাদ পেয়ে কুরায়শ (রা) একে অন্যকে বলাবলি করতে লাগলো, হামযা ও উমর (রা:) ইতোমধ্যে ইসলাম গ্ৰহণ করেছে। আর মুহাম্মদ (সা)-এর আনীত বিষয়টি কুরায়শের সকল গোত্রের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন চল, আমরা আবু তালিবের নিকট যাই এবং তার ভাতিজার স্বার্থে সে আমাদের থেকে কিছু অঙ্গীকার নিক আর আমাদের স্বার্থে তার থেকে কিছু প্রতিশ্রুতি নিয়ে দিক। আল্লাহর কসম, আরবগণ যে আমাদের উপর তাকে প্রাধান্য দিবে না। সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিন্ত নাই।

ইবন ইসহাক বলেন, আব্বাস ইবন আবদুল্লাহ। ..ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, তারা আবু তালিবের নিকট গেল এবং তার সাথে আলাপ আলোচনা করল। এ প্রতিনিধি দলে ছিল কুরায়শ বংশের অভিজাত নেতৃবর্গ। তাদের মধ্যে উতবা ইবন রাবীআ, শায়বা ইবন রাবীআ, আবু জাহল ইবন হিশাম, উমাইয়া ইবন খালফ, আবু সুফিয়ান ইবন হারব প্রমুখ ছিল। তারা বলল, হে আবু তালিব! আমাদের মধ্যে আপনাব স্থান যে কত উর্ধে তাতো আপনি জানেন। এখন আপনার অন্তিম অবস্থা, তাও আপনি দেখছেন। আপনার মৃত্যু ঘটবে এ আশংকায় আমরা শংকিত। আমাদের মাঝে এবং আপনার ভাতিজার মাঝে যে মতবিরোধ রয়েছে তাতে আপনি জানেনই। আপনি তাকে একটু ডেকে পাঠান। তারপর তার স্বার্থে আমাদের কিছু অঙ্গীকার নিন। আর আমাদের স্বার্থে তার কিছু অঙ্গীকার নিয়ে দিন যাতে পরে আমরা তার থেকে বিরত থাকি, সেও আমাদের পেছনে লাগা থেকে বিরত থাকে। যাতে সে আমাদের এবং আমাদের ধর্মের ব্যাপারে বিরূপ সমালোচনা না করে আর আমরাও তাকে এবং তার ধর্মকে গালমন্দ না করি। আবু তালিব রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে ডেকে পাঠালেন। তিনি এলে আবু তালিব বললেন, ভাতিজা! এই যে তোমার সম্প্রদায়ের সন্ত্রান্ত ব্যক্তিবর্গ। তারা তোমার নিকট এসেছেন যাতে তুমি ওদের থেকে কিছু অঙ্গীকার নিয়ে নাও এবং ওদেরকে তুমি কিছু অঙ্গীকার দিয়ে দাও। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, চাচা! আপনারা আমাকে শুধু একটি কথা দিন যার মাধ্যমে আপনারা সম্পূর্ণ আরব জাহানের অধিপতি হতে পারবেন এবং সমগ্ৰ অনারব অঞ্চল আপনাদের করতলগত থাকবে। তখন আবু জাহল বলল, হ্যা এরূপ হলে আমরা তোমার পিতার কসম, একটি কেন দশটি কথাও মানতে পারি। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তবে আপনারা সবাই বলুন— “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ”।

আর আল্লাহ ব্যতীত যেগুলোর উপাসনা করছেন সেগুলো আপনারা পরিত্যাগ করুন। তার একথা শুনে তারা হাত তালি দিয়ে উঠলো এবং বলল “হে মুহাম্মদ! তুমি কি বহু উপাস্যের পরিবর্তে একজন মাত্র ইলাহ সাব্যস্ত করতে চাও? এতো তোমার এক আশ্চর্যজনক প্রস্তাব! এরপর তারা পরস্পরে বলাবলি করলো, আল্লাহর কসম, এই লোকের নিকট তোমরা যা চোচ্ছ তার কিছুই সে তোমাদেরকে দেবে না। সুতরাং চলে যাও এবং নিজেদের পিতৃধর্মে অবিচল থাক যতক্ষণ না আল্লাহ তোমাদের ও তার মধ্যে ফায়সালা করে দেন। একথা বলে তারা নিজ নিজ

পথে চলে গেল।

এবার আবু তালিব বললেন, ভাতিজা! আমি তো দেখলাম যে, তুমি ওদের নিকট অন্যায় কিছু চাওনি। আবু তালিবের একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা:) আশাবাদী হলেন যে, আবু তালিব

VSDO–

বুঝি ঈমান আনয়ন করবেন। তাই তিনি বলতে লাগলেন, চাচা! তবে আপনি ওই কালেমাটি বলুন, তাহলে কিয়ামতের দিনে আপনার জন্যে সুপারিশ করা আমার জন্যে বৈধ হবে। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আগ্রহ দেখে আবু তালিব বললেন, ভাতিজা! যদি আমার মৃত্যুর পর তোমাকে ও তোমার নিজ গোষ্ঠীর প্রতি গাল-মন্দের আশংকা না থাকত এবং আমি মৃত্যু ভয়ে ভীত হয়ে এ কথা উচ্চারণ করছি এমন অপবাদের আশংকা না থাকত, তবে আমি অবশ্যই ওই কালেমা পাঠ করতাম। শুধু তোমাকে খুশী করার জন্যে আমি ওই কথাটি বলেছি।

অবশেষে আবু তালিবের মৃত্যুর মুহুর্তটি যখন খুবই নিকটবতী হলো, তখন আব্বাস তার দিকে তাকিয়ে দেখলেন যে, তার ঠোঁট দুটো নড়ছে। আব্বাস তার ঠোঁটে নিজের কান লাগালেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-কে ডেকে বললেন, ভাতিজা? আল্লাহর কসম, আমার ভাইকে তুমি যা বলতে অনুরোধ করেছিলে তিনি এখন তাই বলছেন। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, আমি তো তা শুনিনি। বর্ণনাকারী বলেন, আগত কুরায়শ প্রতিনিধিদল সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা নাযিল

করলেন :

صی و القران ذی الزگر بل الذین کفر وافی عزة و شقاق

“সোয়াদ, শপথ উপদেশপূৰ্ণ কুরআনের, তুমি অবশ্যই সত্যবাদী। কিন্তু কাফিররা ঔদ্ধত্য ও বিরোধিতায় ডুবে আছে (৩৮ : ১-২)।

তাফসীর গ্রন্থে আমি এ আয়াতের ব্যাখ্যা দিয়েছি। উপরোক্ত হাদীছে উল্লিখিত হযরত আব্বাস (রা)-এর বক্তব্য “ভাতিজা! আমার ভাইকে তুমি যা বলতে অনুরোধ করেছিলে অর্থাৎ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” আমার ভাই তো এখন তাই বললেন” দ্বারা প্রমাণ উপস্থাপন করে শিয়া সম্প্রদায়ের কতক গোড়া ব্যক্তি এই অভিমত পোষণ করে যে, আবু তালিব মুসলিম রূপে ইনতিকাল করেছেন। তাদের এই অভিমতের বিরুদ্ধে একাধিক যুক্তি পেশ করা যায়। প্রথমত, এই হাদীছের সনদে অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছে যার পরিচয় অস্পষ্ট। যেমন বলা হয়েছে আবদুল্লাহ ইবন মা’বাদ তাঁর পরিবারের জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম এবং অবস্থা দুটোই অজ্ঞাত রয়েছে। এ প্রকারের অস্পষ্টতাসম্পন্ন একক বৰ্ণনা অগ্রহণযোগ্য বটে। এ সম্পর্কে ইমাম আহমদ, নাসাঈ ও ইবন জারীর প্রমুখ আবু উসামা.. সাঈদ ইবন জুবােয়র থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ওই বর্ণনায় হযরত আব্বাস (রা)-এর বক্তব্য নেই। সুফিয়ান ছাওরী. সাঈদ ইবন জুবায়র (রা) সূত্রে ইবন আব্বাস (রা) থেকে এই হাদীছখানা বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাতে হযরত আব্বাসের (রা) বক্তব্য নেই। তিরমিয়ী, নাসাঈ ও ইবন জারীর (র) এই বর্ণনা উল্লেখ করেছেন এবং ইমাম তিরমিয়ী এটি হাসান পর্যায়ের হাদীছ বলে মন্তব্য করেছেন। আল্লামা বায়হাকী (র) ছাওরী . ইবন আব্বাস (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন, আবু তালিব যখন মৃত্যু শয্যায়, তখন কুরায়শের লোকজন তার নিকট উপস্থিত হয়। রাসূলুল্লাহ (সা) ছিলেন আবু তালিবের মাথার নিকট। অন্য এক লোক এসে সেখানে বসে পড়ে। তাকে বাধা দেয়ার জন্যে আবু জাহল উদ্যত হয়। তারা সকলে আবু তালিবের নিকট রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করল। এরপর তাকে উদ্দেশ্য করে আবু তালিব বললেন, ভাতিজা! তোমার সম্প্রদায়ের নিকট তুমি কি চাও? উত্তরে

রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, আমি তাদের নিকট শুধু একটি কালেমার ঘোষণা চাই, যার ফলে সমগ্র আরব জাতি তাদের অনুগত হবে, সমগ্ৰ অনারব লোক তাদেরকে কর দেবে। শুধু একটি কালেমা’র ঘোষণা চাই। আবু তালিব জিজ্ঞেস করলেন, ওই কালেমাটি কী? রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, সেটি হল “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”। তখন উপস্থিত কুরায়শগণ বলল, সে কি সকল উপাস্যের পরিবর্তে একজন মাত্র উপাস্য নির্ধারণ করতে চায়? এটি তো আশ্চর্য ব্যাপার। এ

ংগে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন :

ض والقرأن …………….. الأ اختلاق

“সোয়াদ, শপথ উপদেশপূৰ্ণ কুরআনের, তুমি অবশ্যই সত্যবাদী; কিন্তু কাফিররা ঔদ্ধত্য ও বিরোধিতায় ডুবে আছে। তাদের পূর্বে আমি কত জনগোষ্ঠী ধ্বংস করেছি। তখন ওরা আর্ত চীৎকার করেছিল। কিন্তু তখন পরিত্রাণের কোন উপায় ছিল না। তারা বিস্ময় বোধ করছে যে, তাদের নিকট তাদেরই মধ্য থেকে একজন সতর্ককারী এল এবং কাফিররা বলে এতো এক জাদুকর মিথ্যাবাদী। সে কি বহু ইলাহের পরিবর্তে এক ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে? এতো এক অত্যাশ্চর্য ব্যাপার। তাদের প্রধান প্রধান ব্যক্তিরা সরে পড়ে এই বলে, “তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের দেবতাদের পূজায় তোমরা অবিচল থাক। নিশ্চয়ই এ ব্যাপারটি উদ্দেশ্যমূলক। আমরা তো অন্য ধর্মাদর্শে এরূপ কথা শুনিনি। এটি একটি মনগড়া উক্তি মাত্ৰ।”

এ ছাড়াও ইবন ইসহাকের উদ্ধৃত একটি অধিকতর বিশুদ্ধ বর্ণনা উপরোক্ত বর্ণনার বিপরীত মৰ্ম প্রকাশ করছে। তা হল, ইমাম বুখারী. ইবন মুসায়্যাব তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু তালিবের মৃত্যু যখন ঘনিয়ে এলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সা) সেখানে উপস্থিত হন। আবু জাহল তখন সেখানে ছিল। আবু তালিবের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, ‘চাচা! আপনি একটিমাত্র কালেমা-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলুন, সেটির ওসীলায় আমি আল্লাহর নিকট আপনার জন্যে সুপারিশ করব।” একথা শুনে আবু জাহল ও আবদুল্লাহ ইবন উমাইয়া বলল, “আবু তালিব! আপনি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম পরিত্যাগ করছেন?” তারা অনবরত একথা বলে যাচ্ছিল। সর্বশেষে আবু তালিব বললেন, আমি আবদুল মুত্তালিবের ধর্মে অবিচল আছি। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, “আমাকে নিষেধ না করা পর্যন্ত আমি আপনার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেই যাব। তখনই নাযিল হল :

ماکان للنبی و الذین آمنوا آن یسنتغفر و اللمشرکین ولوا کاناوا اولی قربی

من بعد ما تبين لهم أنهم أصحاب الجحيم . . “আত্মীয়-স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী এবং মু’মিনদের জন্যে ংগত নয়। যখন এটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, তারা জাহান্নামী (৯ : ১১৩-১১৪) এবং নাযিল

शल् १

انلف لاتهدی من احبت–

“তুমি যাকে ভালবাসো ইচ্ছা করলেই তাকে সৎপথে আনতে পারবে না” (২৮ : ৫৬)।

ইমাম মুসলিম (র) এটি ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রাযযাকের বরাতে উদ্ধৃত করেছেন। তাঁরা দু’জনে যুহরী সূত্রে সাঈদ ইবন মুসাইয়াবের মাধ্যমে তাঁর পিতা থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ওই বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবু তালিবের নিকট বারবার তাঁর প্রস্তাব পেশ করছিলেন আর আবু জাহল ও আবদুল্লাহ ইবন উমাইয়া তাদের কথা পুনরুল্লেখ করে যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত আবু তালিব বললেন, “আমি আবদুল মুত্তালিবের ধর্মমতে অবিচল রইলাম এবং তিনি “লাইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলতে অস্বীকৃতি জানালেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, “আপনার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনার ব্যাপারে নিষেধ না করা পর্যন্ত আমি আপনার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেই যাব।” তখন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন :

JSS S S L SSS S SSS S SS S A S S S L S S S S S S SASASA S 2 % 2 ༦.༠༦༠༠.་ཡ༧ །བ་པ་ i مسیر ماکسان للنبی و الذین امنوا ان ایستغفاروا للمـــشـــرکين و لو کانوا او لی

سم سمبر

قربی–এবং আবু তালিব সম্পর্কে নাযিল হল :

أنك لا تهدي من أطبيبات ولكن اللّه يهدى من يشاء وهو أعلم

بال و به نامه ين. তুমি যাকে ভালবাসো ইচ্ছা করলেই তাকে সৎপথে আনতে পারবে না। তবে আল্লাহই

যাকে ইচ্ছা করেন তাকে সৎপথে আনয়ন করেন এবং তিনিই ভাল জানেন সৎপথ অনুসারীদেরকে। ইমাম আহমদ, মুসলিম তিরমিয়ী ও নাসাঈ (র) হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আবু তালিবের মৃত্যু যখন ঘনিয়ে এলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর নিকট এলেন এবং বললেন–“চাচা। আপনি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলুন, তাহলে আমি কিয়ামতের দিনে আপনার পক্ষে সাক্ষ্য দিব।” আবু তালিব বললেন, “মৃত্যুভয় আবু তালিবকে একত্ববাদের সাক্ষ্য প্রদানে প্ররোচিত করেছে” কুরায়শদের এরূপ অপবাদ দানের আশংকা না থাকলে আমি অবশ্যই ওই সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে তোমার মন শান্ত করতাম এবং কেবলমাত্র তোমাকে খুশী করার জন্যে আমি ওই কালেমা উচ্চারণ করতাম। এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন :

انك y تهدي من أحببت الخ– আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা), ইবন উমর (রা), মুজাহিদ (র), কাতাদা (র), শা’বী প্রমুখ তাফসীরকারগণও একথা বলেছেন যে, আয়াতটি নাযিল হয়েছে। আবু তালিব সম্পর্কে। রাসূলুল্লাহ (সা) আবু তালিবকে “লাইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন যে, তিনি পূর্বপুরুষদের ধর্মমতে অবিচল থাকবেন। তাঁর শেষ কথা ছিল তিনি আবদুল মুত্তালিবের ধর্মমতেই আছেন।

ইমাম বুখারী (র)-এর একটি বর্ণনা এসকল বর্ণনাকে শক্তিশালী করে। তা হল ইমাম

বুখারী বর্ণিত আর তা হচ্ছে এই : আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব হযরত রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বলেছিলেন, আপনার চাচা আবু তালিব তো আপনাকে রক্ষা করতেন এবং আপনার জন্যে

অন্যান্য কুরায়শদের বিরাগভাজন হয়েছেন। আপনি তার কতটুকু উপকার করতে পেরেছেন? উত্তরে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন :

هو فیضیحتضاح متن النار

“তিনি এখন জাহান্নামের উপরের স্তরে রয়েছেন।” আমি না থাকলে তিনি জাহান্নামের গভীরতম নিম্নস্তরে থাকতেন। ইমাম মুসলিম (র) উক্ত হাদীছ আবদুল মালিক ইবন উমােয়র থেকে তাঁর সহীহ গ্রন্থে উদধূত করেছেন। আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বলতে শুনেছেন, তার নিকট তার চাচার কথা আলোচিত হচ্ছিল। তখন তিনি বলছিলেন?

“আশা করি কিয়ামতের দিনে আমার সুপারিশ তার উপকারে আসবে।” ফলে তাকে আগুনের উপরের স্তরে রাখা হবে। যাতে তার পায়ের গিট পর্যন্ত আগুন থাকবে। তাতে তার মাথার মগয টগবগ করে ফুটতে থাকবে। এটি সহীহ বুখারীর ভাষ্য। এক বর্ণনায় আছে, “তাতে তার মগয্যের মূল অংশ ফুটতে থাকবে।”

ইমাম মুসলিম……. ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন :

دماغهٔ

“জাহান্নামে সবচেয়ে হালকা ও সহজ। আযাব ভোগ করবেন আবু তালিব। তাকে আগুনের দুটো পাদুকা পরানো হবে। তাতে তার মাথার মগয টগবগ করে ফুটতে থাকবে।” ইউনুস ইবন বুকায়রের মাগায়ী গ্রন্থে আছে, “পাদুকা দুটোর তাপে তার মাথার মগয ফুটবে এবং গলে গলে তাঁর পদদ্বয় পর্যন্ত গড়াবে।” সুহায়লী এটি উল্লেখ করেছেন।

ইবন মুজালিদ . জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, আপনি কি আবু তালিবের কোন উপকার করতে পেরেছেন? তিনি বললেন, আমি তাকে জাহান্নামের গভীর থেকে উপরের স্তরে তুলে এনেছি। বাযযার একাই এটি উদধূত করেছেন। সুহায়লী বলেন, হযরত আব্বাস (রা) তাঁর ভাই আবু তালিব সম্পর্কে যে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, আবু তালিব কালেমা উচ্চারণ করেছেন রাসূলুল্লাহ্ (সা) “আমি তো শুনিনি” বলে ওই সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করলেন এজন্যে যে, সে সময়ে আব্বাস (রা) কাফির ছিলেন। কাফিরের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।

আমি বলি, সনদের দুর্বলতার কারণে ওই বর্ণনা বিশুদ্ধ নয়। তার প্রমাণ হল পরবতীতে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে আবু তালিব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তখন তিনি ওই উত্তর দিয়েছিলেন যা ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আর যদি বর্ণনাটি বিশুদ্ধ বলে ধরা হয়, তবে প্রত্যাখ্যানের কারণ এই যে, প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার পর মৃত্যুর ফেরেশতাদেরকে দেখে আবু

তালিব কালেমা উচ্চারণ করেছিলেন। এ অবস্থায় ঈমান আনয়নে কোন লাভ হয় না। আল্লাহই ভাল জানেন।

আবু দাউদ তায়ালিসী বলেন……. আলী (রা) বলছিলেন, আমার পিতার ইনতিকালের পর আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলি, “আপনার চাচার ওফাত হয়েছে। উত্তরে তিনি বললেন, যাও তাকে দাফন করে ফেল। আমি বললাম, তিনি তো মুশরিক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি বললেন, “যাও, তাকে দাফন কর।” এরপর আমার নিকট না আসা পর্যন্ত কোন মন্তব্য করো না। হযরত আলী (রা) বলেন, এরপর আমি তাই করলাম এবং তার নিকট ফিরে এলাম। এবার তিনি আমাকে গোসল করার নির্দেশ দিলেন। এ হাদীছটি ইমাম নাসাঈ, উদধূত করেছেন।

আবু দাউদ ও নাসাঈ দু’জনে এটি বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান……. আলী (রা) সূত্রে। হযরত আলী (রা) বলেছেন, আবু তালিবের মৃত্যুর পর আমি বললাম, “ইয়। রাসূলাল্লাহ! আপনার পথ-ভ্ৰষ্ট অভিভাবক মারা গেছেন। এখন তাকে দাফন করবে কে?” তিনি বললেন, “তুমি যাও, তোমার পিতাকে দাফন করে ফেল এবং আমার নিকট না আসা পর্যন্ত কোন মন্তব্য করো না।” দাফন করে আমি তার নিকট ফিরে আসি। তিনি আমাকে নির্দেশ দেয়ায় আমি গোসল করি। তারপর তিনি এমন কতক দুআ করলেন সেগুলোর পরিবর্তে দুনিয়ার অন্য যে কোন কিছু গ্ৰহণে আমি খুশী নই।

হাফিয বায়হাকী বলেন.ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) আৰু তালিবের দাফন-কাফন শেষে ফিরে এলেন এবং বললেন, “আমি আপনার আত্মীয়তা রক্ষা করেছি এবং হে চাচা, আপনাকে উত্তম প্রতিদান প্ৰদান করেছি।” আবুল। ইয়ামান হাওযানী মুরসালভাবে রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু তালিবের দাফন-কাফনে শরীক হননি। এ বর্ণনায় ইবরাহীম নামক রাবীর বিশ্বস্ততা সম্পর্কে সমালোচনা রয়েছে।

আমি বলি, একাধিক বর্ণনাকারী এই ইবরাহীম থেকে হাদীছ বৰ্ণনা করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে। ফযল ইবন মূসা সায়নানী এবং মুহাম্মদ ইবন সালাম বায়কান্দী। এতদসত্ত্বেও ইবন আব্দী বলেছেন যে, তিনি প্ৰসিদ্ধ ও পরিচিত ব্যক্তি নন এবং যার নিকট থেকেই তিনি হাদীছ বর্ণনা করুন না কেন, সেগুলো বিশুদ্ধ নয়।

আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, চাচা আবু তালিব প্রচণ্ডভাবে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে এবং তার সাহাবীদেরকে রক্ষা করতেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রভৃতি সুনাম ও প্রশংসা করতেন। আমরা তার সে সব কবিতাও উল্লেখ করেছি, যেগুলোতে তিনি রাসূলুল্লাহ (সা) ও তার সাহাবীদের প্রতি তার মায়া-মমতা ও ভালবাসার কথা প্ৰকাশ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধাচরণকারীদেরকে দোষারোপ করেছেন। এ সকল কবিতা তিনি এত বিশুদ্ধ। ১ওঁ উচ্চাঙ্গের ভাষায় রচনা করেছেন যে, তার কোন তুলনা হতে পারে না। কোন আরবী ভাষাভায়ী ব্যক্তি তার সম মানের কবিতা রচনায় সক্ষম নয়। এসব বক্তব্য-বিবৃতি প্রদানের সময় তিনি জানতেন। যে, রাসূলুল্লাহ (স্লা) সূত্র্য, পুণ্যবান ও মন্ত্য পথপ্রাপ্ত। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি:আন্তরিকভাঁদৰা:। ঈমান আনয়ন করেননি। বরং তিনি তাঁর অন্তবের জ্ঞান ও স্বীকারোক্তির মধ্যে,পার্থক্য সৃষ্টি।

করেছেন। সহীহ বুখারী গ্রন্থের “আল ঈমান” অধ্যায়ের ব্যাখ্যায় আমরা জ্ঞান ও বিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এ প্রসংগে ইঙ্গিত পাওয়া যায় আল্লাহ তা’আলার বাণীতে। আল্লাহ তা’আলা বলেন :

الذين أتيناهم الكتب بغرفونة كما يعرفون أبناء هم وان فريقا منهم

لیکتنمون الحق و هم یغلمون . আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি তারা তাকে সেরূপ জানে যেরূপ তারা নিজেদের

সন্তানদেরকে চেনে এবং তাদের একদল জেনেশুনে সত্য গোপন করে থাকে। (২ : ১৪৬) ফিরআওনের সম্প্রদায় সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেন :

و جحدوا بها واستيقنتها أنفسهم ظلما وعلوا. “তারা অন্যায় ও উদ্ধতভাবে নিদর্শনগুলো প্ৰত্যাখ্যান করল। যদিও তাদের অন্তর এ গুলোকে সত্য বলে গ্রহণ করেছিল।” হযরত মূসা (আ) ফিরআওনকে বলেছিলেন :

لقد عاشت ما أنزل هؤلاء الأرب السماوات والأرض بصائر وانى لأظنّك يا

فرعون مثبورا. “তুমি তো অবশ্যই অবগত আছ যে, এ সমস্ত স্পষ্ট নিদর্শন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালকই অবতীর্ণ করেছেন প্রত্যক্ষ প্রমাণ স্বরূপ। হে ফিরআওন! আমি তো দেখছি তোমার

ংস আসন্ন।” (১৭ : ১০২) {

5)}م آقا مه)IT।|।|।| 5–و هم یهون عنه و یشاون عنه–: TC2 )۹ قم) قم বিরত রাখে এবং নিজেরাও তা থেকে দূরে থাকে (৬ : ২৬)। আয়াতটি নাযিল হয়েছে আবু তালিব সম্পর্কে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে যে, তিনি লোকজনকে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর উপর আক্রমণ-নির্যাতন করা থেকে বিরত রাখতেন আর এদিকে রাসূলুল্লাহ (সা) যে হিদায়াত ও সত্য দীন নিয়ে এসেছেন তা গ্ৰহণ থেকে তিনি নিজে বিরত থাকতেন। কথিত আছে যে, ইবন আব্বাস (রা), কাসিম ইবন মুখায়মারাহ, হাবীব। ইবন ছাবিত, আতা ইবন দীনার, মুহাম্মদ ইবন কা’ব ও অন্যান্যরা এরূপ অভিমত পোষণ করেন। মূলত তাদের এ বক্তব্য সন্দেহমুক্ত নয়। আল্লাহই ভাল জানেন।

হযরত ইবন আব্বাসের অন্য বর্ণনাটি অধিকতর প্রসিদ্ধ। তা হল, আয়াতের ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, “তারা লোকজনকে মুহাম্মদ (সা) প্রতি ঈমান আনয়নে বাধা দেয়। তাফসীরকার মুজাহিদ, কাতাদা ও জাহাহাক প্রমুখ এ ব্যাখ্যা প্ৰদান করেন। ইবন জারীরও এ মত পোষণ করতেন। বস্তৃত মুশরিকদের চূড়ান্ত দুর্নােম বর্ণনার জন্যে এ আয়াত নাযিল করা হয়েছে যে, তারা অন্যান্য লোকজনকে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর অনুসরণ থেকে বাধা দিত। আর নিজেরাও তার থেকে উপকৃত হত না। এ জন্যে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন :

ومنهم من يستمع اليك وجعلنا على قلوبهم أكثة أن يفقهوة وفى أذانهم

X \; X ~w. • X X و فرا তাদের মধ্যে কতক আপনার দিকে কান পেতে রাখে। কিন্তু আমি তাদের অন্তরের উপর আবরণ দিয়ে রেখেছি যেন তারা তা উপলব্ধি করতে না পারে। তাদেরকে বধির করেছি এবং সমস্ত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করলেও তারা তাতে ঈমান আনবে না। এমনকি তারা যখন আপনার নিকট উপস্থিত হয়ে তর্কে লিপ্ত হয়, তখন কাফিররা বলে, “এটি তো অতীতের উপাখ্যান ব্যতীত আর কিছুই নয়। তারা অন্যকে তা থেকে বিরত রাখে এবং নিজেরাও তা থেকে বিরত থাকে। আর তারা শুধু নিজেদেরকে ধ্বংস করে অথচ তারা উপলব্ধি করে। না।” (৬ : ২৫-২৬) আয়াতে উল্লিখিত ৯, (তারা) শব্দ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, এটি দ্বারা একক ব্যক্তি নয় বরং ব্যক্তি সমষ্টিকে বুঝানো হয়েছে আর তারা হল বাক্যের প্রথমে উল্লিখিত ব্যক্তির }

وان بهلگون s انفسهم و ما یشعر ون . (তারা নিজেরা শুধু নিজেদেরকে ধ্বংস করে অথচ তারা তা উপলব্ধি করে না) আয়াতাংশ তাদের পূর্ণাঙ্গ ধ্বংস ও দুর্নােম নির্দেশ করে। আবু তালিব এই প্রকৃতির লোক ছিলেন না। তিনি বরং তাদের কথায় ও কাজে সর্বশক্তি দিয়ে রাসূলুল্লাহ (সত্ত্বেও তার সাথীদেরকে শক্ৰদের হাত থেকে রক্ষা করতেন। কিন্তু তা সত্ত্বে ও আল্লাহ তা’আলার মহান হিকমত ও প্রজ্ঞা এবং অনন্য যৌক্তিকতার প্রেক্ষাপটে আল্লাহ তা’আলা আবু তালিবের ভাগ্যে ঈমান আনয়ন বরাদ্দ করেননি। আল্লাহ তা’আলার ওই প্রজ্ঞা ও যৌক্তিকতার প্রতি বিশ্বাস রাখা আমাদের কর্তব্য এবং তার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে আমরা বাধ্য। মুশরিকদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনার ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা। যদি আমাদেরকে নিষেধ না করতেন, তাহলে আমরা অবশ্যই আবু তালিবের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতাম এবং তার জন্যে আল্লাহর রহমত কামনা করতাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *