১৯. রাসূলুল্লাহ (সা)-এর যামানায় চন্দ্ৰ বিদীর্ণ হওয়া

রাসূলুল্লাহ (সা)-এর যামানায় চন্দ্ৰ বিদীর্ণ হওয়া

রাসূলুল্লাহ (সা) যে হিদায়াত ও সত্য দীন নিয়ে এসেছেন তার সত্যায়নে চন্দ্রের খণ্ডিত হয়ে যাওয়াকে আল্লাহ তা’আলা একটি নিদর্শন করে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ইশারার সাথে সাথে চন্দ্ৰ দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ এ সম্পর্কে বলেন :

– কিয়ামত আসন্ন, চন্দ্ৰ বিদীর্ণ হয়েছে। ওরা কোন নিদর্শন দেখলে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, এটি তো চিরাচরিত জাদু। ওরা সত্য প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজ খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে। আর প্রত্যেক ব্যাপারেই তার লক্ষ্যস্থলে পৌঁছবে (৫৪ : ১-৩)।

প্রিয়নবী (সা)-এর জীবদ্দশায় চন্দ্ৰ খণ্ডিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে দলমত নির্বিশেষে সকল মুসলমান একমত। বহু মুতাওয়াতির হাদীছ এ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। হাদীছ বিশারদ ও হাদীছ গবেষকদের নিকট এ ঘটনা অকাট্য সত্যরূপে প্রমাণিত। আল্লাহ চাহেন তো আমরা এ বিষয়ে কিছু আলোচনা পেশ করব। তাওয়াকুল ও নির্ভরতা আল্লাহর উপর। .

তাফসীর গ্রন্থে অবশ্য আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সেখানে আট হাদীছ গুলোর সনদ ও ভাষ্য উল্লেখ করেছি। এখানে ওই সনদগুলো এবং প্রসিদ্ধ কিতাবগুলোর দিকে ইঙ্গিত করব। এসব হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। হযরত আনাস ইবন মালিক, জুবায়রা ইত্ৰন মুক্ত ঈম, হুযায়ফা, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবন উমর ও আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) প্রমুখ

হযরত আনাস (রা)-এর হাদীছ সম্পর্কে ইমাম আহমদ (র) বলেনঃ আবদুর রাযযাক. আনাস ইবন মালিৰু (য়) থেকে, বর্ণিত। তিনি ধ্বলেন, মক্কার অধিবাসিগণ। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট, একটি নিদর্শন দেখানের অনুরোধ করে। ফলে মক্কায় চাঁদ দু’ BBB BBB BBB SSSSSS BBB DBB BB BBB BBB BBBSS SSSSS S SSJS

*** ~ ( ..!,–** &ጎኗ *.`-, ጂጓ”, ዴ ~ጽ፦ ” † Š’I$ *﷽c የ:t :”

তখনই চীদ দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় এবং ঘটনাটি দুইবার ঘটে। ইমাম মুসলিম (র) উক্ত হাদীছ মুহাম্মদ ইবন ব্রাফি’ সূত্রে-আবদুর রাযযাক থেকে বর্ণনা করেছেন–এটি হল সাহাবীগণের মুরসাল হাদীছের অন্তর্ভুক্ত। বাহ্যত বুঝা যায় যে, বহু সংখ্যক সাহাবী থেকে তিনি এই হাদীছ পেয়েছেন। অথবা সরাসরি নবী করীম (সা) থেকে তিনি এটি শুনেছেন। অথবা সকল সাহাবী থেকে তিনি এটি পেয়েছেন। ইমাম বুখারী ও মুসলিম (র) এ হাদীছখানা উদ্ধৃত করেছেন শােয়র্বান সূত্রে।” (ইমাম বুখারী (র) সাঈদ ইবন আবু আরুবার’ নাম এবং ইমাম মুসলিম (র) শু’বার নাম অতিরিক্ত যোগ করেছেন () তাঁরা তিন জনেই ধর্ণনা করেছেন ‘কাতাদা সূত্রে আঁনাস (রা) থেকে। হযরত আনাস (রা) বলেছেন যে, মক্কার অধিবাসিগণ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে অনুরোধ করেছিল-কিনি যেন তাদেরকে একটি নিদর্শন” দেখান। তিনি চন্দ্রের দু’-খণ্ডে খণ্ডিত হয়ে

যাওয়ার নিদর্শনটি দেখালেন। তারা চাদের উভয় খণ্ডের মধ্যখান দিয়ে হেরার পাহাড় দেখতে পেলেন। এটি সহীহ বুখারী গ্রন্থের ভাষ্য।

জুবায়র ইবন মুতঙ্গমের হাদীছ প্রসংগে ইমাম আহমদ (র) বলেন, যে, তিনি বর্ণনা করেন। যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর যুগে চন্দ্ৰ দ্বিখণ্ডিত হয়ে গিয়েছিল। একখণ্ড এই পাহাড়ের উপর অপর খণ্ড ওই পাহাড়ের উপর দেখা যাচ্ছিল। এটি দেখে তারা বলেছিল মুহাম্মদ তো আমাদেরকে জাদু করেছে। তারা এও বলেছিল যে, সে আমাদেরকে জাদু করতে পারলেও সকল মানুষকে জাদু করতে পারবে না। এটি ইমাম আহমদ একাই বৰ্ণনা করেছেন। ইবন জারীর. হুসাইন থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

বায়হাকী (র) একজন অতিরিক্ত রাবীর নাম যোগ করে জুবােয়র ইবন মুহাম্মদ ইবন জুবােয়র ইবন মুতঙ্গম থেকে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। আবু নুআয়ম তাঁর দালাইল গ্রন্থে হুযায়ফা ইবন ইয়ামান সূত্রে বর্ণনা করেন যে, একদিন তিনি মাদাইন নগরীতে একটি জুমুআর খুতবা দেন। আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা ও স্তৃতি বর্ণনার পর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন :

” ک

اقتربت الساعة وانشق القمر

এবং বললেন, শুনে রেখো কিয়ামত অবশ্যই নিকটবতী হয়ে এসেছে। শুনে রেখো, চন্দ্ৰ দ্বিখণ্ডিত হয়ে গিয়েছে। শুনে রেখো, দুনিয়ার বিদায় ঘণ্টা বেজে গিয়েছে আজ। (দুনিয়ায়) হচ্ছে মহড়ার দিন। আগামীকাল (আখিরাতে) প্রতিযোগিতার দিন। পরবতী জুমুআ আমার বাবার সাথে আমি জুমুআর নামাযে যাই। সেদিনও তিনি আল্লাহর প্রশংসার পর পূর্বদিনের ন্যায় খুতবা দিলেন। তবে এতটুকু অতিরিক্ত বললেন, শুনে রেখো, অগ্রগামী সে ব্যক্তি, যে আগে আগে জুমুআর নামাযে আসে। বাড়ী ফেরার পথে আমি আমার বাবাকে বললাম, “পরীকালে থাকবে প্রতিযোগিতায় অগ্রগামীদের প্রতাপ” বক্তব্য দ্বারা উনি কি বুঝাতে চেয়েছেন? উত্তরে আমার পিতা বললেন, এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে, এরা জান্নাতে প্রবেশে অগ্রগামী থাকবে।

ইবন আববাসের (রা) হাদীছ সম্পর্কে ইমাম বুখারী (র) বলেন, ইয়াহইয়া ইবন কাহীর ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর যুগে চাদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল। ইমাম বুখারী ও মুসলিম (র) বকর ইবন নাসর সূত্রে জাফর থেকে বর্ণনা করেছেন যে,

سنتمرআয়াত সম্পর্কে তিনি বলেন, এ ঘটনা ইতোমধ্যেই ঘটে গিয়েছে। হিজরতের পূর্বে চাদ খণ্ডিত হয়েছিল এবং কুরায়শরা চাঁদের দুটো খণ্ড স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিল। ইবন আব্বাস (রা) থেকে আওকীও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনা আওফীর মুরসাল বর্ণনা সমূহের একটি।

হাফিয আবু নুআয়ম বলেন, সুলায়মান ইবন আহমদ……. ইবন আব্বাস (রা) থেকে বৰ্ণিত ‘2 411 552.41, 4–L.J। এ…. …। আয়াত সম্পর্কে তিনি বলেছেন, মুশরিকদের নেতৃস্থানীয়

লোকজন একদিন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট সমবেত হয়। তাদের মধ্যে ওয়ালীদ ইবন মুগীরা,

ইয়াগুছ, আসওয়াদ ইবন মুত্তালিব, যাম’আ ইবন আসওয়াদ, নাযার ইবন হারিছ ও এ জাতীয় লোকজন অন্তর্ভুক্ত ছিল। তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বলল, তুমি যদি সত্যবাদী হও, তবে আমাদের সম্মুখে চাদকে দ্বিখণ্ডিত করে দেখাও। একখণ্ড থাকবে আবু কুবায়স পাহাড়ে আর অপর খণ্ড থাকবে কাঈকাআন পাহাড়ে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে বললেন, আমি যদি তা করে দেখাই, তবে তোমরা ঈমান আনবে কি? তারা বলল, হ্যা অবশ্যই। ওই রাত ছিল পূর্ণিমার রাত। ওদের প্রস্তাব মুতাবিক ঘটনা ঘটিয়ে দেয়ার জন্যে রাসূলুল্লাহ (সা) আল্লাহর নিকট দুআ করলেন। ফলে আকাশ থেকে চাঁদ যেন ঝরে পড়েছিল। এর অর্ধেক যেন পড়েছিল আবু কুবায়স পাহাড়ে আর অর্ধেক যেন পড়েছিল কাঈকাআন পাহাড়ে। রাসূলুল্লাহ (সা) ওদেরকে ডেকে ডেকে বলেছিলেন, “হে আবু সালামা ইবন আবদুল আসাদ, হে আরকাম ইবন আরকাম, এসো, দেখ! দেখ!!

এরপর আবু নুআয়ম বলেছেন যে, সুলায়মান ইবন আহমদ… ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, মক্কার অধিবাসীরা একদিন রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলেছিল যে, এমন কোন নিদর্শন আছে কি, যা দেখে আমরা বুঝতে পারব যে, আপনি আল্লাহর রাসূল? এ সময়ে জিবরাঈল নেমে এলেন এবং বললেন, হে মুহাম্মদ! মক্কাবাসীদেরকে আপনি বলে দিন, আজ রাতে তারা যেন একস্থানে সমবেত হয়, অবিলম্বে তারা এমন একটি নিদর্শন দেখবে যা দ্বারা তারা উপকৃত হবে। জিবরাঈল (আ.)-এর বক্তব্য রাসূলুল্লাহ (সা) ওদেরকে জানালেন। চাদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার রাতে অর্থাৎ ওই চান্দ্ৰ মাসের চৌদতম রাতে তারা সকলে বেরিয়ে এল। তখন চাঁদ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ল। অর্ধেক সাফা পাহাড়ে আর অপর অর্ধেক মারওয়া পাহাড়ে। সকলে স্বচক্ষে তা প্ৰত্যক্ষ করলো। এবার তারা নিজ নিজ চোখ রগড়ে নিল এবং পুনরায় তাকিয়ে দেখলো। তারপর আবার চোখ রগড়ে আবার তাকালো। তারপর তারা বলল, হে মুহাম্মদ! এটি তো একজন যাজকের জাদুমন্ত্র। এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ! اقتربیت الساعة والشق القمر 8 FIF) آ5T‘SITCTINifR{6|| <R5\

দাহহাক ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, কয়েকজন ইয়াহুদী যাজক রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হয়েছিল। তারা বলেছিল। আপনি আমাদেরকে একটি নিদর্শন দেখান, তাহলে আমরা ঈমান আনিব। রাসূলুল্লাহ (সা) তার প্রতিপালকের নিকট দুআ করলেন। তিনি তাদেরকে চাঁদের নিদর্শন দেখালেন যে, সেটি দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একভাগ সাফায় আর অপর ভাগ মারওয়ায়। আসরের ওয়াকত থেকে মাগরিবের ওয়াকত পর্যন্ত এতটুকু সময় পরিমাণ চাদ খণ্ডিত অবস্থায় ছিল। তারা সবাই তা তাকিয়ে দেখছিল। তারপর চাদ অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। পরীক্ষণে তারা বলেছিল, এটি তো বানােয়াট জাদু।

হাফিয আবুল কাসিম তাব্বারানী বলেন, আহমদ ইবন আমরা … ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সময়ে একদিন চন্দ্রগ্রহণ হয়েছিল। তা দেখে কাফিররা বলেছিল যে, চন্দ্ৰকে জাদু করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে নাযিল হয়। :

১, ১ এটি একটি উত্তম সনদ। এই বর্ণনায় এসেছে যে, ওই রাতে চন্দ্রগ্রহণ হয়েছিল। সে সূত্রে বলা যায়ু যে, চন্দ্রগ্রহণের রাতেই চন্দ্র বিদীর্ণের ঘটনা ঘটেছিল। এজন্যে পৃথিবীর অনেক লোকের নিকট তা অদৃশ্য ছিল। তা সত্ত্বেও পৃথিবীর বহু লোকের নিকট তা দৃশ্যমান হয়েছিল। কথিত আছে যে, ভারতীয় উপমহাদেশের কোন কোন স্থানে ওই রাতটিকে ঐতিহাসিক রাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ওই রাতে চন্দ্র বিদীর্ণের ঐতিহাসিক স্মারকরূপে একটি

হয়রত্ন-ইরান উমর (রা)-এর হাদীছ সম্পর্কে বায়হাকী (র) বলেন, আবু আবদুল্লাহ হাফিয মুজাহিদ থেকে অনুরূপ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। মুসলিম বলেন, মুজাহিদের বর্ণনার ন্যায় আবু মামার সূত্রে ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিরমিয়ী বলেন, এটি হাসান ও সহীহ

আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা)-এর হাদীছ সম্পর্কে ইমাম আহমদ (রা) বলেন, সুফিয়ান. ইবনু মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর যুগে চাঁদ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। কুরায়শরা তাকিয়ে তাকিয়ে তা দেখেছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তোমরা স্বাক্ষী থেকে সুফিয়ান ইবন উয়ায়না থেকে বুখারী ও মুসলিম অনুরূপ উদ্ধৃত করেছেন। অন্যদিকে আমাশ… ইবুন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, চন্দ্র বিদীর্ণ হল, আমরা তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে মিনায় অবস্থান করছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, তোমরা

ভাষ্য। এরপর ইমাম বুখারী (র) বলেন, আবু দাহহাক মাসরুক সূত্রে মক্কায় আবদুল্লাহ থেকে বৰ্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবুন মুসলিম …… আবদুল্লাহ থেকে এর সমর্থক হাদীছ বর্ণনা

আবু দাউদ তায়ালিসী আবু যুহা আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত হাদীছটির সনদ উল্লেখ করেছেন। ইবুন মাসউদ (রা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর যুগে চন্দ্ৰ বিদীর্ণ হয়েছিল। তখন কুৱায়ুশের লোকেরা বলেছিল, এটি আবু কাবশার ছেলের জাদু। তারা বলল, সফরে থাকা লোকজন, ফিৱে-না। আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর, ওরা কি সংবাদ নিয়ে আসে তা দেখ। মুহাম্মদ (সাঃ) তো সকল মানুষক্লে জাদু করতে পারবে না। সফরে থাকা লোকজন ফিরে এলে তারাও

* বায়হাৰ্কী বলেন, আবু অাকদুল্লাহ হাফিয … আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, মক্কায় চাঁদ দু’টুিকরো হয়ে পড়েছিল। তখন কুরায়শ বংশীয় কাফিররা মক্কার অধিবাসীদেরকে বলল, এটি তো একটি জাদু। আবু কাবাশার পুত্ৰ তোমাদেরকে জাদু করেছে। সফরে থাকা।” লোকদেৱ ফিরে না। আমাসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর। তোমরা যেমনটি দেখেছ, ওরাও যদি তেমনটি দেখে থাকে, তবে মুহাম্মদ (সা) যা করেছে তা সত্য বটে। আর ওরা যদি

তেমনটি না দেখে থাকে, তবে এটি নিশ্চিত জাদু, সে তোমাদেরকে জাদু করেছে। বর্ণনাকারী বলেন, সফরকারীরা ফিরে এল ওরা বিভিন্ন স্থান থেকে চতুর্দিক থেকে প্রত্যাবর্তন করল। তাদেরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করার যায় তারা সকলে বলল, আমরা তো তা দেখেছি। আবু নুআয়াম…আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আহমদ (র) বলেন, মুআম্মাল…আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর যুগে চাঁদ বিদীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি চাঁদের দু খণ্ডের ফাঁক দিয়ে আমি পাহাড় দেখতে পেয়েছিলাম। ইবন জারীর (র) আসবাত সূত্রে সাম্মাক থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। হাফিয আবু নুআয়ম বলেন, আবু বকর তালাহী…আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে মিনায় ছিলাম। তখন চাঁদ বিদীর্ণ হওয়া দুখণ্ডে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একখণ্ড পাহাড়ের পেছনে। রাসূলুল্লাহ’ (সা) বললেন, তোমরা দেখে নাও! তোমরা সাক্ষী থেকে!

আবু নুআয়ম, বলেন, সুলায়মান ইবন আহমদ……… ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন চাঁদ বিদীর্ণ করে গেল। আমরা তখন মক্কায় অবস্থান করছিলাম। আমি নিজের চোখে দেখেছি যে, চাঁদের একটি অংশ মিনায় অবস্থিত পাহাড়ে গিয়ে পড়েছে। আমরা মক্কা থেকে তা দেখছিলাম।

আহমদ ইবন ইসহাক আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন মক্কায় চাঁদ বিদীর্ণ হয়ে পড়ে, আমি দেখেছি যে, সেটি দুখণ্ডে বিভক্ত হয়ে যায়। আলী ইবন সাঈদ. আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আল্লাহর কসম আমি চাদকে খণ্ডিত দেখেছি। সেটি দুখণ্ডে দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়েছিল। উভয় খণ্ডের মাঝ দিয়ে হেরা পাহাড় দেখা গিয়েছিল। আবু নুআয়ম বর্ণনা করেছেন সুদী সাগীর সূত্রে ইবন আব্বাস (রা) থেকে, তিনি বলেন, চাঁদ দুখণ্ডে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। একখণ্ড অদৃশ্য হয়ে যায় এবং একখণ্ড অবশিষ্ট থাকে। ইবন মাসউদ (রা) বলেন চাঁদের উভয় খণ্ডের মাঝ দিয়ে আমি হেরা পাহার দেখেছি। একখণ্ড অদৃশ্য হয়ে যায়। এটা দেখে মক্কাবাসি অবাক হয়ে গিয়েছিল। তারা বলেছিল, এটি একটি কৃত্রিম জাদু, অবিলম্বে এটির অবসান হবে। লায়ছ ইবন সুলায়ম বর্ণনা করেছেন, মুজাহিদ থেকে তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর যুগে চাঁদ বিদীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। ফলে এটি দু’খণ্ডে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবু বকর (রা)-কে বললেন, হে আবু বকর! দেখে নাও এবং সাক্ষী থেকে! মুশরিকরা বলেছিল, চাঁদের উপর জাদু করা হয়েছে, যার ফলে এটি বিদীর্ণ হয়ে গিয়েছে।

বস্তৃত এগুলো হল চন্দ্ৰ বিদীর্ণ ও খণ্ডিত হওয়া সম্পর্কিত হাদীছ। এগুলোর সনদ এত বেশী সংখ্যক ও মযবুত যে, এগুলো দ্বারা অকাট্য ও সন্দেহাতীত জ্ঞান অর্জিত হয়। এ সনদগুলোর বর্ণনাকারীদের চরিত্র ও যোগ্যতা সম্পর্কে যারা গভীর পর্যবেক্ষণ করবেন তারা তা বুঝতে

পারবেন।

কতক কাহিনীকার বর্ণনা করে যে, চাঁদ আকাশ থেকে মাটিতে পড়ে যায় এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর জামার এক আন্তীনের মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং অন্য আন্তীন দিয়ে তা বেরিয়ে পড়ে। এ

সব কিসসা, কাহিনীর কোন ভিত্তি নেই। এগুলো সরাসরি মিথ্যা ও বানোয়াট কথা। এগুলো মোটেই শুদ্ধ নয়। বস্তৃত চাঁদ যখন বিদীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, তখনও আকাশেই ছিল। তবে রাসূলুল্লাহ (সা) যখন সেটির দিকে ইঙ্গিত করলেন, তখন তার ইঙ্গিতে সেটি দুই খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যায় এবং একখণ্ড চলতে চলতে হেরা পাহাড়ের উল্টো দিক বরাবর চলে আসে। তখন দর্শকরা এই খণ্ড আর ওই খণ্ড উভয় খণ্ডের মাঝ দিয়ে হেরা পর্বত দেখতে পান। যেমনটি বলেছেন ইবন মাসউদ (রা) যে, তিনি নিজে তা প্ৰত্যক্ষ করেছেন। পক্ষান্তরে মুসনাদে আহমদ গ্রন্থে হযরত আনাস (র) সূত্রে যা বর্ণিত হয়েছে যে, মক্কায় চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে দু’বার— বাহ্যত তা দ্বারা একথা বুঝানো হয়েছে যে, দু’বার নয়, বরং বিদীর্ণ হয়ে চাঁদ দু’খণ্ডে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। আল্লাহই ভাল জানেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *