১৭. রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে রুকানার কুস্তি এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর আহবানে বৃক্ষের আগমন

রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে রুকানার কুস্তি এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর আহবানে বৃক্ষের আগমন

ইবন ইসহাক বলেন, আবু ইসহাক ইবন ইয়াসার বলেছেন, রুকােনা ইবন আবদ ইয়ামীদ ইবন হাশিম ইবন মুত্তালিব ইবন আবদ মানাফ ছিল কুরায়শ বংশের সেরা মল্লবীর। এক দিন এক গিরিসংকটে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে তার সাক্ষাত হয়। রাসূলুল্লাহ (সা) তাকে বললেন, হে রুকােনা! তুমি কি আল্লাহকে ভয় করবে না। আর আমি তোমাকে যে দিকে আহবান করছি তাতে কি সাড়া দেবে না? সে বলল, আমি যদি বিশ্বাস করতাম যে, আপনি যা বলছেন তা সত্য, তাহলে আমি অবশ্যই আপনার অনুসরণ করতাম। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তখন তাকে বললেন,

করবে যে, আমার আনীত ধর্ম সত্য? সে বলল, হ্যা, বিশ্বাস করব। তিনি বললেন, তবে প্ৰস্তুত হও। এসো, কুস্তিতে আমি তোমাকে পরাস্ত করি! সে মতে কুস্তি শুরু হল। রাসূলুল্লাহ (সা) তাকে মাটিতে ফেলে এমন জোরে চেপে ধরলেন যে, তার কিছুই করার শক্তি রইল না। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে ছেড়ে দিলেন। সে বলল, পুনরায় শক্তি-পরীক্ষা হোক। পুনরায় কুস্তি শুরু হল। এবারও সে পরাস্ত হল। সে বলল, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহর কসম, এটা তো পরম বিস্ময়ের কথা যে, আপনি আমাকে পরাজিত করলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তুমি যদি আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুসরণ কর, তবে আমি তোমাকে আরো অধিক বিস্ময়কর ঘটনা দেখাতে পারি। সে জিজ্ঞেস করল, সেটি কি? তিনি বললেন, ওই যে, দূরে বৃক্ষ দেখছ, আমি সেটিকে ডাকলে সেটি আমার নিকট এসে পৌঁছবে। রুকােনা বলল, তবে সেটিকে ডাকুন। তিনি বৃক্ষটিকে ডাকলেন। সেটি এগিয়ে এল এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সম্মুখে দাঁড়িয়ে গেল। এবার তিনি সেটিকে নিজের জায়গায় ফিরে যেতে নির্দেশ দিলেন। সেটি স্বস্থানে ফিরে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রুকান্য তার সম্প্রদায়ের নিকট গিয়ে বলল, হে বনু আবদ মানাফা! তোমাদের এই লোককে নিয়ে তোমরা বিশ্ববাসীকে জাদু প্ৰতিযোগিতায় চ্যালেঞ্জ করতে পারো। আল্লাহর কসম, তার চাইতে বড় জাদুকর আমি কখনো দেখিনি। সে যা দেখেছে এবং রাসূলুল্লাহ (সা) যা করেছেন তার সবই সে তাদেরকে জানাল। ইবন ইসহাক এ ঘটনা মুরসালভাবে এরূপই বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আবু দাউদ ও তিরমিয়ী (র) আবুল হাসান আসকালানীর সনদে রুকােনা সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রুকােনা একদিন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে কুস্তি লড়েছিল। কুস্তি লড়াইয়ে রাসূলুল্লাহ

(সা) তাকে পরাজিত করেন। এরপর ইমাম তিরমিয়ী বলেছেন, এটি একটি গরীব তথা একক বর্ণনাকারীর বর্ণনা। তিনি এও বলেছেন যে, আমরা আবুল হাসানকে চিনি না। আমি বলি, আবু বকর শাফিঈ উত্তম সনদে হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইয়াযীদ ইবন রুকােনা একে একে তিনবার রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে কুস্তি লড়েছিল এবং তিনবারই তিনি তাকে পরাস্ত করেছিলেন। অবশ্য প্রতিবারের পরাজয়ের জন্যে ১০০ করে বকরী প্ৰদানের শর্ত ছিল। তৃতীয়বারে সে বলেছিল, হে মুহাম্মদ! আপনার পূর্বে অন্য কেউ কোন দিন আমার পিঠ মাটিতে ঠেকাতে পারেনি। আর আমার নিকট আপনার চাইতে ঘূণতের কেউ ছিল না। এখন আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) উঠে দাঁড়ালেন এবং তার বকরীগুলো ফেরত দিয়ে দিলেন।

রাসূলুল্লাহ (সা)-এর আহবানে বৃক্ষের এগিয়ে আসার ঘটনাটি সীরাত অধ্যায়ের পর নবুওয়াতের দলীল অধ্যায়ে উত্তম ও বিশুদ্ধ সনদে একাধিকবার উল্লিখিত হবে ইনশাআল্লাহ। ইতোপূর্বে আবু আশাদায়ন থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, সে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সাথে কুস্তি লড়েছিল। তাতে রাসূলুল্লাহ (সা) তাকে পরাজিত করেছিলেন। এরপর ঐতিহাসিক ইবন ইসহাক আবিসিনিয়া থেকে খৃস্টানদের আগমনের ঘটনা উল্লেখ করেছেন। আগমনকারী খৃস্টানদের সংখ্যা ছিল প্রায় বিশজন। তারা মক্কায় এসেছিল এবং তাদের সকলেই ইসলাম গ্রহণ করেছিল। নাজাশীর আলোচনার পর এই ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।

ইবন ইসহাক বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) মসজিদে বসলে খাববাব, আম্মার, আবু ফুকায়হা, সাকওয়ান ইবন উমাইয়ার আযাদকৃত দাস ইয়াসা, সুহায়ব (রা) এবং অন্যান্য দরিদ্র সাহাবীগণ তার নিকট বসতেন। তাদেরকে দেখে কুরায়শের লোকেরা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত। তারা একে অন্যকে বলত, ওই যে দেখ দেখ, ওরা মুহাম্মদের সঙ্গী-সাথী। আমাদেরকে বাদ দিয়ে আল্লাহ কি ওদেরকেই হিদায়াত ও সত্যধর্ম দ্বারা ধন্য করেছেন? মুহাম্মদ (সা) যা এনেছে তা যদি প্রকৃতই কল্যাণকর হত, তবে ওই দীনহীন দরিদ্র লোকগুলো সেটি গ্রহণে আমাদের থেকে অগ্রগামী হতে পারত না এবং আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে বাদ দিয়ে ওদেরকে সেটি দ্বারা ধন্য করতেন না। এই প্রেক্ষাপটে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন :

আপনি বিতাড়িত করবেন না। তাদের কর্মের জবাবদিহিতার দায়িত্ব আপনার নয় এবং আপনার কর্মের জবাবদিহিতার দায়িত্ব তাদের নয় যে, আপনি তাদেরকে বিতাড়িত করবেন। তা করলে আপনি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। এভাবে ওদের একদলকে অপরদিল দ্বারা পরীক্ষা করেছি যেন তারা বলে, আমাদের মধ্যে কি ওদের প্রতিই আল্লাহ অনুগ্রহ করলেন? আল্লাহ কি কৃতজ্ঞ লোকদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত নন? যারা আমার আয়াতে ঈমান আনে, তারা যখন আপনার নিকট আসে, তখন তাদেরকে বলবেন, “তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক,

তোমাদের প্রতিপালক দয়া করা তার কর্তব্য বলে স্থির করেছেন। তোমাদের মধ্যে কেউ অজ্ঞতাবশত মন্দকার্য করে তারপর তাওবা করে এবং সংশোধিত হয়, তবে তো আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু (৬ : ৫২-৫৪)।

বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) মারওয়া পর্বতের নিকট গেলে অধিকাংশ সময় জাবর নামের এক খৃস্টান বালকের দোকানে বসতেন। বালকটি ছিল বনী হাযরামী গোত্রের ক্রীতদাস। ওরা বলত যে, জাবর যা নিয়ে আসে মুহাম্মদ (সা) তার অতিরিক্ত কিছুই জানতে ও বলতে পারেন না। তাদের এ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন যে, তারা বলে–

তাকে শিক্ষা দেয় এক ব্যক্তি। তারা যার প্রতি এটি আরোপ করে তার ভাষা তো আরবী নয়। কিন্তু কুরআনের ভাষা স্পষ্ট আরবী। (সূরা নাহল : ১০৩ ৷৷

এরপর ইবন ইসহাক ‘আস ইবন ওয়াইলকে উপলক্ষ সূরা কাওছার নাযিল হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেছেন। ‘আস ইবন ওয়াইল রাসূলুল্লাহ (সা) সম্পর্কে বলেছিল যে, তিনি নির্বংশ। অর্থাৎ তার কোন উত্তরাধিকারী নেই। তার ইনতিকালের সাথে সাথে তার চর্চা বন্ধ হয়ে যাবে। এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, “……..৩১, ১৯ নিশ্চয়ই আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই নিবংশ () (১০৮ কাওছার ১-৩) অৰ্থাৎ মৃত্যুর আপনার শত্রুর পর কেউই তাকে সুনাম সুখ্যাতির সাথে স্মরণ করবে না। যদিও তার প্রচুর সন্তান-সন্ততি রয়েছে। বস্তুতঃ শুধু ছেলে মেয়ে ও বংশধর বেশী হলে সুনাম-সুখ্যাতি ও প্রশংসার অধিকারী হওয়া যায় না। এ সূরা সম্পর্কে তাফসীর গ্রন্থে আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সকল প্রশংসা আল্লাহর।

আবু জাফর বাকির থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পুত্র হযরত কাসিম (রা)-এর। ওফাতের সময় ‘আস ইবন ওয়াইল এ মন্তব্য করেছিল। ইনতিকালের সময় হযরত কাসিমের (রা) বয়স এতটুকু হয়েছিল যে, তিনি তখন বাহনের পিঠে সওয়ার হতে পারতেন এমনকি উটের পিঠেও ভ্ৰমণ করতে পারতেন।

এরপর ইবন ইসহাক আল্লাহ তা’আলার বাণী–

তারা বলে, তার নিকট কোন ফেরেশতা কেন নাযিল হন না? যদি আমি ফেরেশতাই নাযিল করতাম, তাহলে তাদের কর্মের চূড়ান্ত ফায়সালাই তো হয়ে যেত (আনআম : ৮) নাযিল হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেছেন। বস্তুতঃ উবায় ইবন খালিফ, যাম’আ ইবন আসওয়াদ, আস ইবন ওয়াইল এবং নাযার ইবন হারিছ প্রমুখের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয়। তারা বলেছিল, হে মুহাম্মদ (সা)! তোমার নিকট একজন ফেরেশতা প্রেরিত হন না কেন যিনি— তোমার পক্ষ থেকে লোকজনের সাথে কথা বলতেন?

ইবন ইসহাক বলেন, আমার নিকট বর্ণনা পৌঁছেছে যে, একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ওয়ালীদ ইবন মুগীরা, উমাইয়া ইবন খালফ এবং আবু জাহল ইবন হিশাম প্রমুখের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন।

তারা তার নিন্দা করল এবং তাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করল। এতে রাসূলুল্লাহ (সা) রেগে গেলেন। তখন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন :

“তোমার পূর্বে অনেক রাসূলকেই ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হয়েছে। পরিণামে তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করছিল তা-ই বিদ্রহৃপকারীদেরকে পরিবেষ্টন করেছে।”

আমি বলি, মহান আল্লাহ আরো বলেছেন :

তোমার পূর্বেও অনেক রাসূলকে অবশ্যই মিথ্যাবদী বলা হয়েছিল। কিন্তু তাদেরকে মিথ্যাবাদী বলা ও ক্লেশ দেয়া সত্ত্বেও তারা ধৈর্যধারণ করেছিল যে পর্যন্ত না আমার সাহায্য তাদের নিকট এসেছে। আল্লাহর আদেশ কেউ পরিবর্তন করতে পারে না প্রেরিত পুরুষদের সম্বন্ধে কিছু সংবাদ তো তোমার নিকট এসেছে (৬ : ৩৪)।

BDBDBB DBSLDBD BBB SSSSS SSAAA AASAAAS SSAAA ATTAq qq A SLLS SJDBBB BBB বিদ্রুপকারীদের জন্যে আমিই যথেষ্ট (১৫ : ৯৫)। ” بری

সুফিয়ান……. ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর বিরুদ্ধে বিদ্রপকারীরা হল ওয়ালীদ ইবন মুগীরা, আসওয়াদ ইবন আবদ। ইয়াগুছ যুহরী, আসওয়াদ ইবন মুত্তালিব আবু যুামআ, হারিছ ইবন১ আয়তল এবং ‘আস ইবন ওয়াইল সাহিমী।

একদিন হযরত জিবরাঈল (আ) রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট আসলেন। রাসূলুল্লাহ (সা) জিবরাঈল (আ.)-এর নিকট ওদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করলেন। তিনি জিবরাঈল (আ.)-এর নিকট ওয়ালীদকে চিহ্নিত করে দিলেন। জিবরাঈল (আ.) ওয়ালীদের আঙ্গুলের মাথাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করলেন এবং বললেন, আমি তার উপযুক্ত ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) আসওয়াদ ইবন মুত্তালিবের দিকে ইঙ্গিত করে জিবরাঈল (আঃ)-কে দেখিয়ে দিলেন। জিবরাঈল (আঃ) তার গর্দানের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, আমি তার উপযুক্ত ব্যবস্থা করেছি। এরপর তিনি জিবরাঈল (আঃ)-কে আসওয়াদ ইবন আবদ ইয়াগুছকে দেখিয়ে দিলেন। তিনি তার মাথার দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, আমি তার ব্যবস্থা করেছি। এরপর হারিছ ইবন আয়তালকে দেখিয়ে দিলেন। জিবরাঈল (আঃ) তার পেটের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, আমি তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্ৰহণ করেছি। ‘আস ইবন ওয়াইল জিবরাঈল (আ:)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি তার চোখের ভ্র-এর দিকে ইঙ্গিত করেন এবং বলেন যে, আমি তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়েছি।

১. মূল কিতাবে তার নাম ঈতাল। পরে আসবে যে, তার পরিচয় ইবন তালাতিলাহ।

ওয়ালীদা খুযাআ গোত্রের এক লোকের সাথে যাচ্ছিল। সে ওয়ালীদের জন্যে একটি তীর তৈরী করছিল। হঠাৎ করে তার আঙ্গুলে আঘাত লাগে। পরে সে ওই আঙ্গুল কেটে ফেলে। আসওয়াদ ইবন আবদ ইয়াগৃছের মাথায় একটি ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল। তাতে তার মৃত্যু হয়। আসওয়াদ ইবন মুত্তালিব অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তার কারণ এই ছিল যে, সে একটি বাবলা গাছের নীচে যাত্ৰা বিরতি করেছিল। তখন সে অনবরত চীৎকার করে বলছিল, হে পুত্ৰ! তোমরা আমাকে রক্ষা করছি না কেন? আমাকে তো মেরে ফেলা হচ্ছে। এই যে, আমার চোখে কাটার খোচা লাগছে। ওরা বলছিল কই আমরা তো কিছুই দেখছি না। এরূপ বলতে বলতে তার চক্ষু অন্ধ হয়ে যায়। হারিছ ইবন আয়তলের পেট থেকে হলুদ বর্ণের পানি বের হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে তার পায়খানা মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে এবং তাতে তার মৃত্যু হয়। আস ইবন ওয়াইলের মাথায় একটি কাটা ঢুকে পড়ে। তাতে তার মৃত্যু হয়। এ হাদীছের অন্য বর্ণনাকারী বলেছেন। যে, “আস ইবন ওয়াইল একদিন গাধায় চড়ে তাইফের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। গাধা তাকে নিয়ে এক কাটা বনে ঢুকে পড়ে। ‘আস-এর পায়ে কাটা বিদ্ধ হয় তাতে সে মারা যায়। বায়হাকীও এরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইবন ইসহাক বলেন, ইয়ায়ীদ ইবন রাওমান উরওয়া ইবন যুবায়র (রা)-এর বরাতে। আমাকে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা)-কে ঠাট্টা-বিদ্রুপকারীদের মধ্যে প্রধান ছিল পাঁচজন। নিজ নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে তারা বয়ােবৃদ্ধ এবং মর্যাদাশীল ছিল। আসওয়াদ ইবন মুত্তালিব আবু যািমঅ’। তার প্রতি বদদুআ করে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছিলেন, হে আল্লাহ তার চোখ অন্ধ করে দিন এবং তাকে নির্বংশ করে দিন। অন্যরা হল আসওয়াদ ইবন আবদ ইয়াগুছ, ওয়ালীদ ইবন মুগীরা, ‘আস ইবন ওয়াইল এবং হারিছ ইবন তালাতিলা। উল্লেখ্য যে, আল্লাহ তা’আলা।

فاصند غ بیما نومر و اعراضی عن المشرکین ، انتا کفینالت المستهزنین الذین

يجعلون مع اللّه الها أخر فسوف يعلمون . অতএব তুমি যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছ তা প্রকাশ্যে প্রচার কর এবং মুশরিকদেরকে উপেক্ষা কর। তোমার বিরুদ্ধে বিদ্রহৃপকারীদের জন্যে আমিই যথেষ্ট। যারা আল্লাহর সাথে অপর ইলাহ নির্ধারণ করেছে। শীঘই তারা জানতে পারবে (১৫ : ৯৪-৯৬)।

তিনি আরো উল্লেখ করেছেন যে, হযরত জিবরাঈল (আঃ) রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট এসেছিলেন। ওই বিদ্রহৃপকারীরা তখন কাবাঘর প্রদক্ষিণ করছিল। জিবরাঈল (আঃ) সেখানে দীড়ালেন। তাঁর পাশে ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (সা)। আসওয়াদ ইবন মুত্তালিব তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। হযরত জিবরাঈল (আঃ) তার চোখে একটি সবুজ পাতা নিক্ষেপ করেন। তাতে সে অন্ধ

হয়ে যায়। আসওয়াদ ইবন আবদ। ইয়াগুছ, তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তখন জিবরাঈল (আ) তার পেটের দিকে ইঙ্গিত করলেন। তাতে তার দেহের মধ্যে তৃষ্ণারোগ সৃষ্টি হয়। অবশেষে

পিপাসার্ত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ওয়ালীদ ইবন মুগীরা তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তার পায়ের একটি ক্ষতস্থানের দিকে জিবরাঈল (আঃ) ইঙ্গিত করলেন। ঐ ক্ষত তার পায়ে সৃষ্টি হয়েছিল। কয়েক বছর পূর্বে। সে গিয়েছিল তার জন্যে একটি তীর তৈরী করার জন্যে বর্শ প্ৰস্তুতকারী খুযাআ গোত্রের জনৈক ব্যক্তির নিকট। তখন একটি তীর তার লুঙ্গিতে জড়িয়ে যায়। ঐ বর্শার খোচায় তার পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়। জিবরাঈল (আ.)-এর ইঙ্গিতের ফলে ঐ ক্ষত থেকে রক্ত পড়া শুরু হয় এবং তাতে তার মৃত্যু হয়।

‘আস ইবন ওয়াইল জিবরাঈল (আ.)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি তার পায়ের দিকে ইঙ্গিত করলেন। একদিন সে তাইফ যাওয়ার উদ্দেশ্যে গাধার পিঠে চড়ে বসে। গাধাটি তাকে নিয়ে এক কাটাবনে প্রবেশ করে। আস-এর পায়ে একটি কাটা ঢুকে পড়ে। তাতে তার মৃত্যু হয়। হারিছ ইবন তালাতিল হযরত জিবরাঈল (আঃ)-কে অতিক্রম করছিল। তিনি তার মাথার দিকে ইঙ্গিত করলেন। তার সমগ্র মাথায় পুঁজ ছড়িয়ে পড়ে। তাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

এরপর ইবন ইসহাক উল্লেখ করেছেন যে, ওয়ালীদ ইবন মুগীরা তার মৃত্যুর সময় তিন পুত্ৰকে ডেকে ওসীয়্যত করেছিল। তার তিন পুত্র ছিল যথাক্রমে খালিদ, হাশিম ও ওয়ালীদ। সে বলেছিল। বৎসরা। আমি তোমাদেরকে তিনটি উপদেশ দিয়ে যাচ্ছি। খুযাআ গোত্রের নিকট আমার খুনের প্রতিশোধ গ্রহণের দাবী রয়েছে। তোমরা ঐ প্রতিশোধের দাবী ছেড়ে দিও না। অবশ্য আমি জানি যে, ওদের নিকট আমি যে দাবী করেছি তা থেকে তারা মুক্ত ও নির্দোষ। কিন্তু আমি আশংকা করছি যে, আমার মৃত্যুর পর তোমরা যদি ঐ দাবী বহাল না রাখ, তবে সেজন্যে তোমরা সমালোচিত হবে। ছাকীফ গোত্রের নিকট আমার সুন্দ পাওনা রয়েছে। উসুল না করা পর্যন্ত এই দাবী তোমরা ছেড়ে দিবে না। আবু আয়ীহার দাওসীর নিকট আমি দেন-মোহর বাবদ পরিশোধিত অর্থ ফেরত পাব। সে যেন তা থেকে তোমাদেরকে বঞ্চিত না। করে। আবু আয়ীহার তার এক কন্যার বিয়ে দিয়েছিল ওয়ালীদ ইবন মুগীরার নিকট। পরে সে ঐ কন্যাকে ওয়ালীদের নিকট থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। ফলে ওদের দু’জনের মেলামেশা হয়নি। কিন্তু আবু আয়ীহার মেয়ের দেন-মােহর বাবদ ধার্যকৃত অর্থ ওয়ালীদ থেকে উসুল করে নিয়েছিল। ওয়ালীদের মৃত্যুর পর বনু মাখিযুম গোত্রের লোকেরা খুযাআ গোত্রের নিকট রক্তপণ দাবী করে। তারা বলে যে, তোমাদের খুযাআ গোত্রের এক লোকের তীরের আঘাতে ওয়ালীদের মৃত্যু হয়েছে। খুযাআ গোত্র ঐ দাবী অস্বীকার করে। ফলে এ বিষয়ে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি কবিতা রচনা করে এবং উভয় গোত্রের মাঝে সংঘর্ষ সৃষ্টির উপক্রম হয়। শেষ পর্যন্ত খুযাআ গোত্ৰ আংশিক রক্তপণ প্ৰদান করে আপোস মীমাংসা করে এবং সংঘাত থেকে রক্ষা পায়।

ইবন ইসহাক বলেন, এরপর হিশাম, ইবন ওয়ালীদ একদিন আবু উদ্যাইহিরের উপর চড়াও হয়। সে তখন যুল-মাজায্যের বাজারে ছিল। হিশামের আক্রমণে তার মৃত্যু হয়। বস্তৃত আপন সম্প্রদায়ের মধ্যে আবু উদ্যায়হির একজন সম্মানিত লোক ছিল। তার এক মেয়ে ছিল আবু সুফিয়ানের স্ত্রী। আবু উদ্যায়হির-এর হত্যাকাণ্ডের সময় আবু সুফিয়ান বিদেশে ছিলেন। তার পুত্র

ইয়াখীদ ইবন আবু সুফিয়ান প্রতিশোধ গ্রহণের প্রস্তুতি নেয়। বনু মাখিযুমের উপর আক্রমণ করার জন্যে সে লোক সংগ্রহ করে। ইতোমধ্যে আবৃ সুফিয়ান দেশে ফিরে আসেন এবং পুত্ৰ ইয়াষীদের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হন। তাকে গাল-মন্দ এবং প্রহার করেন। তিনি উযায়হিরের হত্যাকাণ্ডের শাস্তি স্বরূপ দিয়াত বা রক্তপণ গ্রহণে রায়ী হন এবং তার পুত্ৰকে লক্ষ্য করে বলেন, দাওস বংশীয় একজন লোকের মৃত্যুকে উপলক্ষ করে তুমি কি এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চেয়েছিলে যাতে কুরায়শগণ গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হয়। হাস্সান ইবন ছাবিত উদ্যায়হিরের খুনের প্রতিশোধ নেয়ার জন্যে উদ্ধৃদ্ধ করে আবু সুফিয়ানের নিকট একটি কবিতা লিখে পাঠান। এর

হাস্সান যে কবিতা লিখেছেন তা অত্যন্ত মন্দ কাজ। অথচ ইতোপূর্বে বদরের যুদ্ধে আমাদের বহু শীর্ষস্থানীয় লোক নিহত হয়েছেন। পরবতীতে খালিদ ইবন ওয়ালীদ যখন ইসলাম গ্ৰহণ করেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে তাইফ গমন করেন, তখন তাইফের অধিবাসীদের নিকট প্রাপ্য তাঁর পিতার সুদ উসুল করা সম্পর্কে তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট জানতে চান। ইবন ইসহাক বলেন, জনৈক আলিম আমাকে বলেছেন যে, এই ঘটনার প্রেক্ষাপটেই নীচের আয়াতগুলো নাযিল হয়েছে :

يائها الذين أمنوا اتَّقُوا اللّه وذر وا مابقی من الربوا أن كنتم مؤمنين. হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও— যদি তোমরা মু’মিন হও। এর পরবতী আয়াতগুলোও এ প্রেক্ষাপটে নাযিল হয়েছে (Հ 3 Հ ԳԵ)।

ইবন ইসহাক বলেন, আবু উদ্যাইহিরের পুত্ররা তাদের পিতার খুনের প্রতিশোধ নিয়েছে বলে আমার জানা নেই। অবশেষে ইসলাম এসে খুনের প্রতিশোধ নেয়ার কুপ্ৰথা থেকে তাদেরকে রক্ষা করে। তবে যিরার ইবন খাত্তাব ইবন মিরদাস আসলামী কতক কুরায়শী লোকের সাথে একবার দাওসের এলাকায় সফরে গিয়েছিল। তখন তারা উন্মে গায়লান নামে দাওস গোত্রের আযাদকৃত এক ক্রীতদাসীর ঘরে উঠে। মহিলাদের খোপা বেঁধে দেয়া এবং বিয়ের কনে সাজিয়ে দেয়া ছিল ঐ ক্রীতদাসীর পেশা। আবু উদ্যাইহিরের খুনের প্রতিশোধরূপে দাওস গোত্রের লোকেরা কুরায়শী মেহমানদেরকে হত্যার চক্রান্ত করে। উন্মে গায়লান ও তার সাথী কতক মহিলা ওদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় এবং মেহমানদেরকে রক্ষা করে। সুহায়নী বলেন, উন্মে গায়লান তখন যিরার ইবন খাত্তাবকে রক্ষার জন্যে তার জামার নীচে শরীরের সাথে জড়িয়ে রাখে।

ইবন হিশাম বলেন, হযরত উমর (রা)-এর শাসনামলে উম্মে গায়লান তাঁর নিকট আসে। সে ধারণা করেছিল যে, যিরার ইবন খাত্তাব হযরত উমর (রা)-এর সহোদর ভাই। হযরত উমর (রা) তাকে বললেন, আমি যিারারের সহোদর ভাই নই। বরং দীনী ভাই। তবে যিারারের প্রতি তোমার যে অসামান্য অনুগ্রহ রয়েছে তা আমার জানা আছে। অতঃপর মুসাফির হিসেবে হযরত উমর (রা) উন্মে গায়লানকে কিছু সাদাকা প্ৰদান করেন।

ইবন হিশাম বলেন, উহুদ দিবসে যুদ্ধক্ষেত্রে যিরার ইবন খাত্তাব এবং উমর ইবন খাত্তাব মুখোমুখি হন। তখন যিরার ইবন খাত্তাব হযরত উমর (রা)-কে নাগালে পেয়েও বর্শার ধারালো

অংশ দ্বারা আঘাত না করে ধারবিহীন পাশ দিয়ে গুতো দিতে থাকে এবং বলতে থাকে, হে খাত্তাব তনয়! সরে যান, সরে যান। আমি আপনাকে হত্যা করব না। পরবতীতে যিরার ইবন খাত্তাব ইসলাম গ্রহণ করার পর হযরত উমর (রা) যিরার (রা)-এর ঐ সহানুভূতির কথা স্মরণ

করতেন।

পরিচ্ছেদ

বায়হাকী (র) এ পর্যায়ে কুরায়শদের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বদ দু’আর ঘটনা উল্লেখ করেছেন। কুরায়শগণ যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নাফরমানী ও অবাধ্যতায় সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন তাদের উপর ইউসুফ (আ:)-এর সম্প্রদায়ের ভোগকৃত সাত বছর ব্যাপী দুর্ভিক্ষের মত টানা সাত বছরের দুর্ভিক্ষ নাযিল করার জন্যে রাসূলুল্লাহ (সা) আল্লাহর নিকট দু’আ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে উল্লিখিত ‘আমাশ… ইবন মাসউদ সূত্রে বর্ণিত হাদীছটি উদ্ধৃত করেছেন। ইবন মাসউদ (রা) বলেছেন, পাঁচটি বিযয় বাস্তবায়িত হয়ে গিয়েছে। কাফিরদের জন্যে প্রতিশ্রুত ধ্বংস১, রোম বিজয়, ধূম আগমন, চরম পাকড়াও এবং চন্দ্রের দ্বিখণ্ডিত হওয়া। অন্য বর্ণনায় ইবন মাসউদ (রা) বলেছেন, কুরায়শগণ যখন রাসূলুল্লাহ (সা)-এর অবাধ্যতায় অটল রইল এবং ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত থাকল, তখন রাসূলুল্লাহ (সা) দুআ করলেন, হে আল্লাহ! ইউসুফ (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের উপর নাযিলকৃত সাত বছরব্যাপী

ইবন মাসউদ (রা) বলেন, এরপর তাদের উপর দুৰ্ভিক্ষ নেমে আসে। তাদের সব কিছু নিঃশেষ হয়ে যায়। এমনকি ক্ষুধার তাড়নায় তারা মরা জীবজন্তু খেতে থাকে। এমন হল যে, উপোস করার কারণে তারা আকাশে ধোয়া দেখতে পেতো। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা) তাদের বিপদ মুক্তির জন্যে দুআ করলেন। আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে এ দুরবস্থা থেকে মুক্তি দিলেন। এ প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন :

ফিরে যাবে। (৪৪, : ১৫)।

তিনি বলেন, তারা পুনরায় তাদের কুফরীতে ফিরে যায় এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাদের শাস্তি বিলম্বিত করা হয়। তিনি একথা বলেছেন যে, বদর দিবস পর্যন্ত তাদের শাস্তি বিলম্বিত করা হয়। ইবন মাসউদ (রা) বলেন, আলোচ্য শান্তি দ্বারা যদি কিয়ামত দিবসের শাস্তি বুঝানো হয়, তবে ওই শাস্তি তো রহিত করা হবে না।

দেবই (৪৪ : ১৬)। এ আয়াত সম্পর্কে ইবন মাসউদ (রা) বলেন যে, এখানে বদর দিবসের ” শাস্তির কথা বুঝানো হয়েছে। ইবন মাসউদ (রা) থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন,

১. এতদ্বারা বদর দিবসকে বুঝানো হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন দেখলেন মক্কার লোকজন তাঁকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করছে এবং তারা তাঁর নিকট থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তখন তিনি বলেন, হে আল্লাহ! ইউসুফ (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের প্রতি নাযিলকৃত সাত বছর ব্যাপী দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষ নাযিল করুন। ফলে তারা দুর্ভিক্ষে পতিত হয়। শেষ পর্যন্ত তারা মৃত জীব-জন্তু, চামড়া এবং হাডিড খেতে থাকে। ঐ প্রেক্ষিতে মক্কার অধিবাসী কতক লোক নিয়ে আবু সুফিয়ান রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকটে উপস্থিত হন। তারা বলে, হে মুহাম্মদ (সা:)! তুমি তো দাবী করা যে, তুমি দয়া ও করুণার আধার রূপে প্রেরিত হয়েছ। এখন তো তোমার সম্প্রদায়ের লোকজন সব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তুমি ওদের রক্ষার জন্যে আল্লাহর নিকট দুআ কর। রাসূলুল্লাহ (সা) ওদের জন্যে দুআ করলেন। মক্কার লোকদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হল। টানা সাত দিন বর্ষণ চলল। অবশেষে লোকজন তাঁর নিকট অতিবৃষ্টির অনুযোগ করল। তিনি দুআ করে বললেন, :

اللَّهُمْ حوالينا ولا علينا

হে আল্লাহ! আমাদের উপর নয়, অন্যদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করুন {” ফলে তাদের উপর থেকে মেঘ কেটে গেল এবং মক্কাবাসীদেরকে ছেড়ে আশেপাশে অন্যত্র বৃষ্টি বর্ষিত হল।

ইবন মাসউদ (রা) বলেন, ধোঁয়া দেখার নিদর্শনও বাস্তাবায়িত হয়েছে। আর তা’ হ’ল তাদের উপর আপতিত ক্ষুধার জ্বালা। যার ফলে তারা আকাশে ধোয়া দেখত। অর্থাৎ চোখে অন্ধকার দেখত।

انگا کاشفوا العذاب قلیلا انگام عائدون .

ফিরে যাবে। আয়াতে সে দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, রোমানদের বিজয় সম্পর্কিত আয়াতও বাস্তবায়িত হয়েছে। আল্লাহ্ তা’আলার ঘোষণা মুতাবিক কাফিরদেরকে প্রচণ্ডভাবে পাকড়াও করার আয়াতও বাস্তবায়িত হয়েছে। চাদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার আয়াতও বাস্তবায়িত হয়েছে। এগুলোর অধিকাংশ-ই বদর দিবসে বাস্তবায়িত হয়েছে।

বায়হাকী (র) বলেন, আল্লাহই ভাল জানেন। তবে চরমভাবে পাকড়াও করা, ধোয়া দেখা এবং কাফিরদের ধ্বংস হওয়া সম্পর্কিত আয়াতগুলো বদর দিবসে বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, ইমাম বুখারী (র) এ বর্ণনার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। এরপর আবদুর রাযযাক…….. ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, শেষ পর্যন্ত আবৃ সুফিয়ান উপস্থিত হন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট। ক্ষুধার জ্বালায় অতিষ্ট হয়ে তিনি বৃষ্টি কামনা করছিলেন। তখন কোন খাদ্য দ্রব্য না পেয়ে তারা খেজুরের ১ ডাল পর্যন্ত চিবিয়ে খেয়েছিল। তখন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন।

ولقد أخذناهم بالعذاب فما استكانوا لربهم و ما يتضرعون. আমি ওদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলাম, কিন্তু ওরা ওদের প্রতিপালকের প্রতি বিনীত হলানা এবং কাতর প্রার্থনা করল না (২৩ : ৭৬)।

১. সূরা রূম আয়াত ১, ২, ৩, :, ৫ ৷৷

বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সা) ওদের বিপদমুক্তির জন্যে আল্লাহ তা’আলার দরবারে দু’আ করলেন। আল্লাহ তা’আলা তাদের বিপদ দূর করে দিলেন। হাফিয বায়হাকী (র) বলেন, আবু সুফিয়ান সম্পর্কিত এক বর্ণনায় কিছু বাক্য রয়েছে যা দ্বারা বুঝা যায় যে, এ ঘটনা ঘটেছিল হিজরতের পর। অবশ্য এমনও হয়ে থাকতে পারে যে, এরূপ ঘটনা দু’বার ঘটেছিল। একবার ঘটেছিল হিজরতের পর এবং একবার ঘটেছিল হিজরতের পূর্বে। আল্লাহই ভাল ७ी(काव्!

এরপর বায়হাকী (র) পারসিক ও রোমানদের ঘটনা এবং নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট আলোচনা করেছেন। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন : الكم غلبت الروم فى أذنى الارض وهم من بعد غلبهم سيغليون فى بضع

سنين … . . . . . . و هو العزيز الرحيم .

আলিফ-লাম-মীম। রোমকগণ পরাজিত হয়েছে নিকটবতী অঞ্চলে। কিন্তু ওদের এই পরাজয়ের পর ওরা শীঘ্রই বিজয়ী হবে। কয়েক বছরের মধ্যেই পূর্ব ও পরের সিদ্ধান্ত আল্লাহরই। আর সেদিন মু’মিনগণ আল্লাহর সাহায্য লাভে হৰ্ষোৎফুল্ল হবে… (৩০ : ১-৫)। বায়হাকী (র) এরপর সুফিয়ান ছাওরী. ইবন আব্বাস (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, পারসিকদের বিরুদ্ধে রোমকগণ বিজয়ী হোক মুসলমান তাই কামনা করতেন। কারণ, রোমকগণ ছিল আহলে কিতাব, খৃস্টান। পক্ষান্তরে, আরবের মুশরিক লোকেরা কামনা করত যে, পারসিকগণ যেন বিজয়ী হয়। কারণ, ওরা ছিল মূর্তি পূজারী! এই মনােভাবের কথা মুসলমানগণ হযরত আবু বকর (রা)-কে জানান। তিনি এটি জানান রাসূলুল্লাহ (সা:)-কে। উত্তরে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, “বস্তৃত রোমকগণ অবিলম্বে বিজয়ী হবে।” হযরত আবু বকর (রাঃ) এ সংবাদ মুশরিকদেরকে জানালেন। তারা বলল, তাহলে আসুন আমরা একটি মেয়াদ নির্ধারিত করি। এই মেয়াদের মধ্যে যদি রোমকগণ বিজয়ী হয়, তবে এই অমুক বস্তু আমরা আপনাকে দিব। আর যদি পারসিকগণ বিজয়ী হয়, তবে আপনি অমুক অমুক বস্তু আমাদেরকে দেবেন। এ সকল কথা হযরত আবু বকর (রা) এসে রাসূলুল্লাহ (সা:)-কে জানালেন। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, আপনি দশ বছরের কম সময়টাকে মেয়াদ নির্ধারিত করলেন না কেন? পরবর্তীতে সত্য সত্যই রোমকগণ বিজয়ী হয়েছিল।

এই হাদীছের সনদগুলো আমরা তাফসীর গ্রন্থে সন্নিবেশিত করেছি। আমরা উল্লেখ করেছি যে, আবু বকর (রা)-এর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ঘোষণাকারী ছিল উমাইয়া ইবন খালফ। আর চ্যালেরে মূল্য ছিল ৫টি বিশাল বপু উট ॥১ চ্যালেঞ্জের একটি মেয়াদ নির্ধারিত ছিল। পরে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পরামর্শে হযরত আবু বকর (রা)। ওই মেয়াদ বৃদ্ধি করে দেন এবং চ্যালেঞ্জের মূল্যমানও বাড়িয়ে দেন। পারসিকদের বিরুদ্ধে রোমকদের বিজয় সংঘটিত হয়েছিল বদর যুদ্ধের দিবসে। অথবা হুদায়বিয়ার সন্ধির দিবসে ওই বিজয় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আল্লাহই তাল জানেন।

১. ৩১-১ ব্ল। বড় বড় উট।

এরপর তিনি ওয়ালীদ ইবন মুসলিম…… আলা। ইবন যুবােয়র কিলাবী সনদে বর্ণনা করেছেন যে, তার পিতা যুবােয়র কিলাবী বলেছেন, আমি রোমকদের উপর পারসিকদের বিজয় এবং পারসিকদের উপর রোমকদের বিজয় দুটোই দেখেছি। এরপর রোমক এবং পারসিক উভয় জাতির উপর মুসলমানদের বিজয় দেখিছি। মুসলমানদের সিরিয়া এবং ইরাক জয়ও আমি দেখেছি। মাত্র পনের বছরের মধ্যে এসব ঘটনা সংঘটিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *