০৪. কৈবল্যপাদ / কৈবল্য পাদ / কৈবল্য-পাদ

কৈবল্যপাদ / কৈবল্য পাদ / কৈবল্য-পাদ

 জন্ম, ঔষধি, মন্ত্র, তপস্যা এবং সমাধিবলে বিবিধ সিদ্ধির উৎপত্তি হইয়া থাকে।।১।।

অদ্ভুত সিদ্ধিবলে প্রাকৃতিক আপূরণ (অনুপ্রবেশ) দ্বারা এক জাতি অপর জাতি হইতে পারে। কাষ্ঠ অগ্নি হইতে পারে। মনুষ্য দেবতা হইতে পারে।।২।।

কৃষক ক্ষেত্রে জল প্রবেশের প্রতিবন্ধক স্বরূপ উচ্চ বাঁধ ভঙ্গ করিলে, অবাধে স্বয়ং জল যেমন ক্ষেত্রমধ্যে প্রবিষ্ট হইতে থাকে, তদ্রুপ জীবের ধর্ম্ম অথবা অধর্ম্ম জাত্যন্তর পরিণামের প্রবর্ত্তক হয় না। উহাদের মধ্যে কোনটী কেবল প্রকৃতির আবরণ ক্ষয় করিয়া থাকে।।৩।।

বলবতী ইচ্ছাপ্রভাবে ইস্মিতা (অহংতত্ত্ব) হইতে একাধিক শরীর ও চিত্ত উৎপন্ন হইয়া থাকে।।৪।৫।।

পঞ্চ প্রকার সিদ্ধিচিত্তের মধ্যে, ধ্যানসিদ্ধ চিত্তই কর্ম্মবাসনাশূন্য। কর্ম্মবাসনাশূন্য হইলেই মুক্ত হওয়া যায়।।৬।।

সিদ্ধ যোগীগণের সকল কর্ম্মই নিষ্কাম। তজ্জন্য তাঁহাদের কৃত কোন কর্ম্মই তাঁহাদের বর্ত্তমানজীবনের পরবর্ত্তন করিতে পারে না এবং ভবিষ্যজীবনেও বিবিধ ফলভোগের বীজ হয় না। তাহাদের কর্ম্ম অশুক্লকৃষ্ণ। অযোগীদিগের কার্য্যকলাপ শুক্ল(১), কৃষ্ণ(২) এবং শুক্লকৃষ্ণ(৩) মিশ্রিত কর্মনিচয়ের অন্তর্গত।।৭।।

ঐ ত্রিবিধ কর্ম্মের যে সকল ফল ফলিতে আরম্ভ হইয়াছে, সেই সকলের অনুকূল বাসনা সকল প্রকাশিত হইতে থাকে। যে সকল ফল ফলে নাই, তাহার অনুকূল বাসনা সকল অব্যক্ত থাকে।।৮।।

তুমি বর্ত্তমান কালে, বর্ত্তমান দেশে, বর্ত্তমান জন্মে যে সকল সংস্কার সম্পন্ন হইয়াছ, সে সকল সংস্কার তোমার এইরূপ পুনর্জ্জন্মের জন্য অব্যক্তভাবে তোমাতেই সঞ্চিত থাকিবে। তোমার এই জন্মের পরে, তোমার এই জাতির পরে, তোমার নানা জন্ম, নানা জাতি হইলে, সেই সকল জাতি, সেই সকল জন্ম, বর্ত্তমান দেশ, বর্ত্তমান কাল হইতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন দেশে ও সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন কালে হওয়ার পরেও যদি তোমার এইরূপ জন্ম হয়, তাহা হইলে তোমার ইহজন্মের সংস্কার সকল সেই জন্মে স্ফূরিত হইবে। পিতা পুত্র যে প্রকারে অভিন্ন সংস্কার, আর স্মৃতিও সেই প্রকারে অভিন্ন।।৯।।

সুখ প্রার্থনার নিত্যতা বশতঃই বাসনানিচয়েরও অনাদিত্ব নিশ্চিয় করা যায়।।১০।।

বাসনা অনাদি হইলেও যোগবলে বাসনা শূন্য হওয়া যায়। বাসনা শূন্য না হইলেও পরিত্রাণ নাই। হেতু (অবিদ্যা ও তৎপ্রভাবোৎপন্ন নানা কার্য্য), ফল (পুনঃপুনঃ দেহ ধারণ ও তজ্জনিত নানা ভোগ), আশ্রয় (চিত্ত) ও অবলম্বন (রূপাদি) ব্যতীত বাসনা উৎপন্ন কিম্বা সঞ্চিত হয় না। উক্ত হেতু ফল প্রভৃতির অভাব হইলেই, বাসনার অভাব হয়।।১১।।

অতীতানাগতং স্বরূপতোহস্ত্যধ্বভেদাদ্ধর্ম্মনাম্‌।।১২।।
অবস্থার পরিবর্ত্তন অনুসারে অতীত ও অনাগত বলা হয়, অবস্থার পরিবর্ত্তন অনুসারে বিনষ্ট হইয়াছে ও উৎপন্ন হইবে বলা হয়। কিন্তু বাস্তবিক কিছুরই বিনাশ হয় নাই এবং কিছুরই বিনাশ হইবে না। কিন্তু বাস্তবিক কিছুরই উৎপত্তি হয় নাই এবং কিছুরই উৎপত্তি হইবে না। বস্তু নিত্য। তাহার উৎপত্তিও নাই, বিনাশও নাই। উৎপত্তি যাহাকে বল, তাহা একপ্রকার পরিবর্ত্তন। আর বিনাশ যাহাকে বল, তাহাও অপর একপ্রকার পরিবর্ত্তন।।১২।।

ঐ সমস্ত বস্তু ব্যক্ত(৪) সূক্ষ্ম (অব্যক্ত) এবং ত্রিবিধ গুণস্বভাববিশিষ্ট।।১৩।।

এমন বস্তু নাই, যাহা ত্রিগুণের পরিণাম নহে। ত্রিগুণের কোন গুণই পরস্পর পরস্পরের আনুকূল্য ব্যতীত পরিণত হইতে পারে না। ঐ পরিণামের ঐক্যবশতঃই বস্তুতত্ব একাধিক নহে।।১৪।।

বিজ্ঞানময় চিত্ত এবং তৎপ্রভাবে যে সকল বস্তু সম্বন্ধে বিশেষ জ্ঞান জন্মায়, সেই সকল বস্তু আর সেই বিশেষ জ্ঞান অভেদ নয়। সেই জন্যে উভয়ের পথও এক নয়। একই বস্তু সম্বন্ধে নানা লোকের নানা প্রকার বিজ্ঞান হইয়া থাকে, বস্তুর সমানতা বশতঃ তৎসম্বন্ধে নানা লোকের বিজ্ঞানের সমানতা হয় না। ঐ সুন্দরী তাহার স্বামীর পক্ষে সুখবিজ্ঞানের কারণ, অপর ব্যক্তি তাহার প্রতি আসক্ত অথচ সে তাহার প্রতি অনাসক্ত থাকায়, সে তাহার দুঃখবিজ্ঞানের কারণ হইয়াছে।।১৫।।

চিত্তে বস্তুর উপরাগ (প্রাতবিম্ব) বশতঃ তাহা জ্ঞাত হওয়া যায়। চিত্তে বস্তুর উপরাগ না হইলে, তাহা অজ্ঞাত থাকে। ইন্দ্রিয় সম্বন্ধ দ্বারা চিত্তে যখন যে বস্তুর উপরাগ হয়, তখন সেই বস্তু সম্বন্ধেই জ্ঞান হয়।।১৬।।

যে পরিণাম বিহীন নিত্য চৈতন্য পুরুষের সম্বন্ধে চিত্ত এবং চিত্তবৃত্তিগণ সর্ব্বদাই সুগোচর হইতেছে, যিনি তাহাদের প্রকাশক সেই পরিণাম বিহীন নিত্য চৈতন্যপুরুষই সর্ব্বজ্ঞ। তিনিই চিত্তের প্রভু।।১৭।।

পুরুষ চিত্তকে প্রকাশ না করিলে, নিজে প্রকাশ হইতে পারে না।।১৮।।

এককালে চিত্ত চৈত্ত্য অবধারিত না হওয়ায় স্থির করা যায়, উভয়ে অভিন্ন নহে। চৈত্তের প্রকাশক চিত্ত। চিত্তের প্রকাশক আত্মা। আত্মা স্বপ্রকাশ।।১৯।।

এক বুদ্ধি অপর বুদ্ধি প্রকাশ করে স্বীকার করিলে, অনেক বুদ্ধির প্রসঙ্গ করিতে হয়। তাহা করিলে স্মৃতিবিশৃঙ্খলা ঘটেও স্বীকার করিতে হয়(৫)।।২০।।

চিৎস্বরূপ দিব্যপুরুষ কখন সংকীর্ণ কিম্বা বিকৃত হয় না। সূর্যপ্রতিবিম্ব জলে পতিত হইলে যেমন, জলকেও সূর্য্য বলিয়া বোধ হয়, তদ্রুপ চিৎপ্রতিবিম্ব বুদ্ধিসত্ত্বরূপ জলে পতিত হইলে বুদ্ধিসত্ত্বকেও যেন চিদাকার বলিয়া বোধ হয়। চিৎপ্রতিবিম্ব ঐ প্রকারে বুদ্ধির আকার ধারণ করিলে, তাহাকে বুদ্ধি সম্বোদন (বুদ্ধিসাক্ষাৎকার) হয়।।২১।।

দ্রষ্টা আত্মা দৃশ্য বুদ্ধিতত্ত্ব উপরক্ত (প্রতিবিম্বিত) হইলে সেই বুদ্ধিতত্ত্ব বা চিত্ত সর্ব্বপ্রকাশক (সর্ব্ববস্তু প্রকাশক) হয়।।২২।।

চিত্ত অসংখ্য কামনাবিশিষ্ট হইয়া অসংখ্য রূপে প্রকাশিত হইলেও দেহ এবং ইন্দ্রিয়গণের সহিত মিলিত হইয়া তাহার গুণাদি নানা কার্য্যে ক্ষমতা থাকা প্রযুক্ত পরের ভোগের (আত্মার বা পুরুষের) ভোগ্য এবং নিমিত্ত হয়।।২৩।।

চিৎশক্তি (পুরুষ আত্মা) চিত্তের সহিত অভেদ নয় জানিতে পারিলে, আর আত্মতত্ত্ব বোধেচ্ছা থাকে না। কারণ তখন আত্মা সম্বন্ধে জানিবার অবশিষ্ট কিছুই থাকে না।।২৪।।

সেই সময়ে চিত্ত দৃক্‌ এবং দৃশ্য যে ভেদ আছে, তাহা বুঝিতে পারিলে, আর তাহা বাহ্য বস্তু সকলে রত না হইয়া, নির্ম্মল বিবেকের অধীন হইয়া ধর্ম্মমেঘনামক ধ্যান প্রভাবে কেবল তাহার আত্ম দর্শনই হইতে থাকে। সেই আত্ম-দর্শন বলে, কৈবল্যের অনুকূল লক্ষণ সকল তাহাতে প্রকাশ পাইতে থাকে।।২৫।।

ধ্যানারূঢ় হইলেও দারুণ পূর্ব্বসংস্কার বশতঃ ধ্যানের অন্তরাল পাইলেই অতি সূক্ষ্ম অহঙ্কার এবং মমতা প্রভৃতি বিবিধ বিকার স্ফূরিত হইতে থাকে। সেই স্ফূরণগুলির প্রত্যেকটীকেই এক একটী প্রত্যয় বলা যায়।।২৬।।

সাধন-পাদে যে উপায়ে (বৈরাগ্যই প্রধান উপায়) অবিদ্যা প্রভৃতি পঞ্চক্লেশক্ষয় করিতে বলা হইয়াছে, সেই উপায় অবলম্বন করিলেই ঐ পূর্ব্বসংস্কারের সহিত চিত্ত এবং সূক্ষ্ম চিত্তবৃত্তিগুলিও দগ্ধবীজের ন্যায় অবস্থা প্রাপ্ত হয়। তখন আর চিত্ত কোন পরিণাম দ্বারা বিকৃত হয় না।।২৭।।

যাঁহার পরম বৈরাগ্য প্রভাবে প্রসংখ্যান অথবা সর্ব্ববিজ্ঞানশক্তির প্রতিও অনাশক্তি হয়, তিনিই প্রকৃতি পুরুষে যে প্রভেদ আছে, তাহা বুঝিতে পারেন, তিনিই বিবেকখ্যাতি নাম্নী অদ্ভুতশক্তির অধিকারী হন। তিনিই সেই অদ্ভুতশক্তিবলে ধর্ম্মমেঘ(৬) নামক অমৃতসাগরে নিমগ্ন হন।।২৮।।

ঐ ধর্ম্মমেঘ বলেই অবিদ্যা প্রভৃতি পঞ্চক্লেশের এবং সর্ব্বকর্ম্মের নিবৃত্তি হয়।।২৯।।

তখন জ্ঞানের (বুদ্ধি সত্ত্বের) সমস্ত আবরণ (চিত্তের অবিদ্যা প্রভৃতি আবরণ) ক্ষয় হইয়া জ্ঞান অনন্ত হয়। অনন্ত-জ্ঞান হইলে জ্ঞেয় অল্পই থাকে। অনন্ত-জ্ঞান হইলে সহজেই সর্ব্বজ্ঞ হওয়া যায়।।৩০।।

পুরুষ ধর্ম্মমেঘ নামক অপূর্ব্ব সমাধিমগ্ন হইলে, প্রকৃতি এবং প্রাকৃতিক গুণনিশ্চয় সম্বন্ধে বিশেষ জ্ঞান লাভ করিলে, তখন আর তিনি প্রাকৃতিক প্রলোভনে প্রলোভিত হয় না। সুতরাং তখন প্রাকৃতিক গুণ পরিণামক্রম একেবারেই পরিসমাপ্ত হয়।।৩১।।

কোন ক্ষণের পরে যতক্ষণ হয়, সেই সমস্তই ঐ ক্ষণের প্রতিযোগী ক্ষণ। প্রত্যেক প্রাকৃতিক পদার্থেরই অসংখ্য পরিণাম। প্রত্যেক প্রাকৃতিক পদার্থই প্রতিক্ষণে পরিণত হইয়া থাকে। প্রাকৃতিক কোন পদার্থের বর্তমান ক্ষণ পর্য্যন্ত ক্রমান্বয়ে কতগুলি পরিণাম হইয়াছে জানিতে পারিলে, ধর্ম্মমেঘ নামক সমাধি দ্বারা সমস্ত প্রতিযোগী ক্ষণক্রম অনুসারে সেই পদার্থের সমস্ত পরিণামক্রমও জানিতে হয়। সেই সমাধি বলে সেই বস্তুর পূর্ব্বাক্ত(৭) পরিণাম হইতে ক্রমাগত পরান্ত পরিণাম পর্য্যন্ত যেরূপ যত প্রকার পরিণাম হইয়াছে, সে সমস্তই প্রত্যক্ষ হইতে থাকে।।৩২।।

চিৎস্বরূপ পুরুষে প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক চিত্তবৃত্তি নিচয়ের প্রতিবিন্বিত হইবার সামর্থ্য না হইলে, প্রকৃতি অস্মিতা প্রভৃতিতে পরিণত হইয়া পুরুষকে নিজভাবে বশীভূত করিতে আর না পারিলে, প্রকৃতি নিজ ঐশ্বর্য্যবলে পুরুষকে মুগ্ধ করিতে অসমর্থ হইলে, সেই গুণময়ী প্রকৃতি পুরুষার্থশূন্য হন। তাঁহার পুরুষের সঙ্গে একেবারে বিচ্ছেদ হইয়া যায়। সেই বিচ্ছেদ বশতঃ ঐ পুরুষ গুণশূন্য কেবল হন। চিৎস্বরূপ পুরুষে প্রকৃতি সারূপ্য নিবৃত্তিই কৈবল্য। প্রকৃতির সহিত পুরুষের নিঃসম্বন্ধই কৈবল্য। পুরুষের স্বরূপে অবস্থানই কৈবল্য। প্রকৃতিতে পুরুষের দিব্যবিবেক প্রসূত অসাধারণ ঔদাসীন্য বশতঃ সেই প্রকৃতির পুরুষার্থ ত্যাগ হইলে, সেই প্রকৃতির সর্ব্ব পরিণামের পরিসমাপ্তি হইলে, পুরুষের সঙ্গে তাঁহার যে অযোগ সংঘটিত হয়, সেই অযোগকেই কৈবল্য বলা যায়।।৩৩।।

।।ইতি কৈবল্য-পাদ।।

।।পাতঞ্জল দর্শন সমাপ্ত।।

——————-
১. তপস্যা সমন্বিত জ্ঞানপ্রসূত কর্ম্মকে শুক্লকর্ম্ম বলা যায়।
২. নরহত্যা প্রভৃতি কৃষ্ণকর্ম্মের অন্তর্গত।
৩. যাঁহারা সদাসৎ উভয়বিধ কার্য্য করিয়াছেন, তাঁহারাই শুক্ল কৃষ্ণ কর্ম্ম করিয়াছেন।
৪. প্রকাশিত পরিবর্ত্তিত অবস্থানিচয় ব্যক্ত থাকে, এইজন্য সেইগুলিকে ব্যক্ত বলা যায়।
৫. এক বুদ্ধি প্রকাশের জন্য অপর বুদ্ধি থাকিলে, সেই অপর বুদ্ধি প্রকাশের প্রকাশক আর এক বুদ্ধি আছে অবশ্যই মানিতে হয়। এই প্রকারে অসংখ্য বুদ্ধি স্বীকার করিলেও কোন বস্তুগান হয় না। কোন বস্তুজ্ঞান হয় স্বীকার করিলেও এই প্রকারে স্মৃতি বিপর্য্যয় দোষ ঘটে। বোধ কর, এক সময়ে যদ্যপি অগ্নিজ্ঞান, জলজ্ঞান এবং অন্যান্য বহু বস্তু বিষয়ে বহু জ্ঞান হয়, তাহা হইলে সেই সকল জ্ঞানের প্রকাশের জন্য আরো কত জ্ঞানের উদয়ও হয়, তাহা অস্বীকার করিতে পারা যায় না। তাহা হইলে আবার সেই সকল উদিত জ্ঞান সংস্কার ব্যতীত পূর্ব্বকথিত অগ্নিজল প্রভৃতি বহুজ্ঞান সংস্কার ও স্মৃতিরূপে পরিণত হইয়া, সেই সমস্ত স্মরণ-জ্ঞান এককালেই স্ফূরিত হইলে কোন্‌ বস্তুর কোন্‌ জ্ঞান, কোন বস্তুর কোন স্মৃতি? কোনটাই বা অগ্নিস্মৃতি, আর কোনটাই বা জলস্মৃতি, তাহা অবধারণ সম্বন্ধে বিশেষ বিশৃঙ্খলা ঘটে। সেই অবধারণ সম্বন্ধে বিশেষ বিশৃঙ্খলাই স্মৃতিশঙ্কর। সেই স্মৃতিশঙ্করেরই আর এক নাম স্মৃতিবিভ্রম বলা যায়।
৬. ইহা এক প্রকার সমাধি। ইহার ন্যায় আর অন্য উৎকৃষ্ট সমাধি নাই। এই সমাধি ব্যতীত কৈবল্য লাভের অন্য উপায় নাই। এই সমাধি-শক্তি-প্রভাবে কৈবল্যরূপ অমৃত বর্ষণ হয়, এইজন্য ইহার ধর্ম্মমেঘ নাম হইয়াছে। এই সমাধি বলে সর্ব্বোৎকৃষ্ট ঐশ্বর্য্যে পর্যন্ত বীতরাগ হয়।
৭. পূর্বান্ত-পরিণাম ও পরান্ত-পরিণাম নিম্নলিখিত উদাহরণ অনুশীলন করিলেই হৃদয়ঙ্গম হইবে। একটী বীজ কর প্রকার পরিণামক্রম অতিক্রম করিয়া বৃক্ষরূপে পরিণত হয়। বৃক্ষ পর্য্যন্ত সেই বীজের বিবিধ পরিণামক্রম জানিতে হইলে, বৃক্ষকেই সেই বীজের পরান্তপরিণাম বলা যায়, আর সেই বীজই স্বয়ং পূর্ব্বান্তপরিণাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *