০৩. বিভুতিপাদ

বিভুতিপাদ / বিভুতি পাদ / বিভুতি-পাদ

 নাড়ীচক্রে, ভ্রুমধ্যে, নাসাগ্রে অথবা কোন দিব্যমূর্ত্তিতে চিত্ত আবদ্ধ রাখার নাম ধারণা।।১।।

সেই ধারনাশক্তি প্রভাবে  কোন শারীরিক অথবা অধ্যাত্ম পদার্থে চিত্ত নিবেশিত হইলে, সেই শারীরিক অথবা অধ্যাত্ম পদার্থে জ্ঞানময়ী চিত্তবৃত্তি নিচয়ের যে অবিচ্ছেদ স্থির আলম্বন তাহাকেই ধ্যান বলা যায়।।২।।

ধ্যাতৃ, ধ্যান জ্ঞানবিহীন ধ্যেয় স্বরূপবোধক যে বিজ্ঞানময়ীশক্তি, তাহাই সমাধি।।৩।।

পার্থিব কিম্বা অপার্থিব কোন বস্তুতে অথবা বিষয়ে ধারণা, ধ্যান, সমাধির যে সম্মিলিত প্রয়োগ, তাহারই এক নাম সংযম।।৪।।

সংযম আয়ত্ত হইলে দিব্যজ্ঞানময়ী পরমাবুদ্ধি স্ফূরিত হয়। সেই বুদ্ধিপ্রভাবে অসম্ভব সম্ভব হয়। অসাধ্য সাধ্য হয়। তৎপ্রভাবে করা যায় না এমন কার্য্যই নাই।।৫।।

প্রথমতঃ স্থূলবস্তু নিচয়ে সংযম প্রয়োগ করিতে পারিলে তৎপরে ক্রমে ক্রমে সূক্ষ্মে প্রয়োগ করা যাইতে পারে।।৬।।

সংযম অপেক্ষা যমনিয়মাদির সমাধির অন্তরঙ্গ নয়। সংযম বলে অতি সূক্ষ্ম বস্তুতেও চিত্ত সমাহিত হয়।।৭।।

সর্ব্বমনোবৃত্তির নিরোধের নাম নির্বীজ সমাধি। সংযম সেই নির্বীজ সমাধির বহিরঙ্গ ব্যতীত অন্তরঙ্গ নয়।।৮।।

পরমবৈরাগ্য প্রভাবে চিত্তের নানা বিবার সম্পন্ন রাজসিক সংস্কার সমূহের তিরোভাব হইলে, তাহাতে যে সর্ব্ববৃত্তিশূন্য বিশুদ্ধ অবসর হয়, তাহারই নামান্তর নিরোধপরিণাম।।৯।।

পুনঃ পুনঃ চিত্ত নিরোধপরিণাম উৎপন্ন হইলে, তৎপ্রভাবে যে সুদৃঢ় সংস্কার জন্মায়, সেই সংস্কার বলে সেই চিত্ত নিরোধপরিণামের প্রশান্ত স্থৈর্য্যস্রোত নিরন্তর প্রবাহিত হইতে থাকে।।১০।।

নানা বস্তু সম্বন্ধীয় নানা প্রকার মনোবৃত্তির নিবৃত্তি হইলে যে এক পরমবস্তু বিষয়ক পরমাবৃত্তি উদিত হয়, তাহাই সমাধি-পরিণাম।।১১।।

এক বস্তু সম্বন্ধে এক প্রকার ভাবময় বৃত্তি উদিত হইয়া, পুনর্ব্বার তাহা বিলীন হইতে হইতে, তত্তুল্য ভাবময় অপর এক বৃত্তি উদিত হইলে, সেই লয়মান ও উদয়মান বৃত্তিদ্বয়ের সম্মিলনই চিত্তের একাগ্রতা নামক পরিণাম।।১২।।

চিত্তের যেমন ত্রিবিধ পরিমাণ(১) আছে, তদ্রুপ পঞ্চভূত ও ইন্দ্রিয়গণেরও ধর্ম্ম, লক্ষণ ও অবস্থা নামক ত্রিবিধ পরিণাম পরিলক্ষিত হয়।।১৩।।

ধর্ম্ম অর্থে গুণময়ী শক্তি। ধর্ম্মী সেই গুণময়ী শক্তির আধার। প্রত্যেক প্রাকৃতিক পদার্থকেই ধর্ম্মী বলা যায়। প্রত্যেক প্রাকৃতিক পদার্থ প্রধান তিন প্রকার ধর্ম্ম বা গুণময়ী শক্তি নিহিত আছে। সেই ত্রিবিধ ধর্ম বা শক্তিত্রয় শান্ত, উদিত ও অব্যপদেশ্য নামে অভিহিত। কোন পদার্থের যে ধর্ম্মের কার্য্য সম্পন্ন হইয়াছে, যে ধর্ম্ম নিজে অব্যক্ত হইয়াছে, তাহাই শান্তধর্ম্ম। শান্তধর্ম্ম যে ধর্ম্মের উদয়ের কারণ, তাহাই উদিত ধর্ম্ম। সেই, উদিত ধর্ম্মের মধ্যে যে অস্ফুরিত নির্ণাম্নীশক্তি অব্যক্ত আছে, তাহাই অব্যপদেশ্য ধর্ম্ম।।১৪।।

এক পদার্থের ভিন্ন ভিন্ন পরিবর্ত্তনই তাহার ভিন্ন ভিন্ন ক্রমের(২) কারণ।।১৫।।

প্রত্যেক পদার্থের ত্রিবিধ পরিণাম সংযম দ্বারা, প্রত্যেক পদার্থ সম্বন্ধীয় অতীত ও অনাগত বৃত্তান্ত সমূল প্রত্যক্ষ হইতে থাকে।।১৬।।

অযোগী ব্যক্তি অভ্যাস বশতঃ শব্দ, শব্দের অর্থ এবং শব্দার্থবোধক শক্তি অভেদ বিবেচনা করেন। কেবল অভ্যাস বশতঃই একমাত্র শব্দে অপর দুয়ের আরোপ করা হয়। প্রকৃত অভ্যাস বিহীন অভ্রান্ত যোগী ঐ প্রকার ভ্রমে পতিত হন না। তিনি এমন প্রাণী নাই, যে প্রাণীর উচ্চারিত শব্দ, শব্দের অর্থ এবং সেই শব্দ শ্রবণজনিত জ্ঞান উপলব্ধি করিয়া সে সকলের প্রতি সংযম প্রয়োগ করিতে পারেন না। তিনি অদ্ভুত অভ্যাস বলে, এক প্রকার প্রাণীর উচ্চারিত শব্দে মনঃসংযম করিতে সক্ষম হইলে, তৎপ্রভাবে অন্যান্য প্রাণীর উচ্চারিত শব্দেরও তাৎপর্য্য প্রায় অভিপ্রায় অবগত হইতে পারেন।।১৭।।

যখন ধ্যান-ধারণা-সমাধি সমন্বিত অদ্ভুত সংযম বলে, পূর্ব্বজন্মকৃত সমস্ত পাপ পূণ্যই প্রত্যক্ষবৎ প্রতীয়মান হইতে থাকে, তখন পূর্ব্বজন্ম সম্বন্ধীয় অন্যান্য বিবরণ ও অপ্রত্যক্ষ থাকে না।।১৮।।

অন্যের মনোভাবব্যঞ্জক বাহ্যিক কোন চিহ্ন অথবা লক্ষণ অনুসারে তাঁহার চিত্তে সংযম প্রয়োগ করিলে, সেই চিত্ত অবগত হওয়া যায়।।১৯।।

পর চিত্ত জ্ঞান বিষয়ক সংযম দ্বারা সেই চিত্তের আলম্বনগুলি(৩) সম্বন্ধে জ্ঞান হয় না। সে গুলি জানিবার ইচ্ছা হইলে, স্বতন্ত্র সংযমের আবশ্যক হয়।।২০।।

যোগী আপনার শারীরিক রূপে এরূপ আশ্চর্য্যভাবে সংযম প্রয়োগ করেন যে, তৎপ্রভাবে সেই শারীরিক রূপ দর্শন কর্ত্তার দর্শনশক্তি স্তম্ভিত হইয়া যায়। যোগী সেই দর্শনকর্ত্তার সম্মুখে থাকিলেও তিনি তাঁহাকে দেখিতে পান না, তিনি সেই সংযম প্রভাবে অপ্রকাশিত যোগী অন্তর্হিত হইয়াছেন বিবেচনাই করেন।।২১।।

যে প্রকারে যোগীর রূপান্তর্ধ্যান হয়, সেই প্রকারে, শব্দ, স্পর্শ, রস ও গন্ধেরও অন্তর্ধ্যান হইতে পারে।।২২।।

পূর্ব্বজন্মে যে সকল সদাসৎ কর্ম্ম করা হইয়াছে, ইহশরীরে তাহার কতকগুলি নিরুপক্রমকর্ম্ম নামে অভিহিত হইতেছে। ঐ সোপক্রম(৪), আর নিরুপক্রম(৫), কর্ম্মে সংযম প্রয়োগ করিতে পারিলে, নিজ মৃত্যু সম্বন্ধে জ্ঞান হয়। কিম্বা মৃত্যুর পূর্ব্ব লক্ষণ সকল জানিতে পারা যায়।।২৩।।

মেত্রী, করুণা, এবং মুদ্রিতা নামক ভাবত্রয়ের প্রতি সংযম প্রয়োগ করিতে পারিলে, উহাদের প্রত্যেকটিই বর্দ্ধিত হয় এবং ঐ তিনের প্রাবল্য হেতু এত অধিক মানসিক বল বৃদ্ধি হয় যে, তৎপ্রভাবে অন্যের দুঃখ মোচন ও সুখের কারণ হইতে পারা যায়। তৎপ্রভাবে প্রাণী মাত্রের সুহৃদ হওয়া যায়।।২৪।।

হস্তী প্রভৃতির বলে মনঃসংযম করিলে, হস্তী প্রভৃতির ন্যায় বলবান হওয়া যায়।।২৫।।

জ্যোতিষ্মতী, প্রবৃত্তির সাত্বিক আলোক (সাত্ত্বিকী বিভাবতী প্রজ্ঞা), সূক্ষ্ম (পরমাণু), ব্যবহিত (ব্যবধানবিশিষ্ট বস্তু) ও বিপ্রকৃষ্ণ (দূরস্থ পদার্থ) পদার্থ নিচয়ে সংযম প্রয়োগ করা হইলে, তাহার আর অপ্রকাশিত থাকিতে পারে না।।২৬।।

সপ্তলোক জানিতে হইলে, সূর্য্যে মনঃসংযম করিতে হয়।।২৭।।

তারাগণ সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করিতে হইলে চন্দ্রে চিত্ত সংযম করতে হয়।।২৮।।

ধ্রুব নক্ষত্রে চিত্ত সংযম করিলে, তারাগণের গতি নিশ্চয় করা যায়।।২৯।।

দেহ তত্ত্ব জানিতে হইলে, নাভিচক্রে (নাভীমণ্ডলে) চিত্ত সংযম করা আবশ্যক।।৩০।।

কণ্ঠকূপে সংযম প্রয়োগ করিলে, ক্ষুধা তৃষ্ণা নিবৃত্তি হয়।।৩১।।

কূর্ম্মনামক নাড়ীতে সংযম প্রভাবে সমাহিত হইলে, শারীরিক ও মানসিক স্থৈর্য্য প্রাপ্তি হয়।।৩২।।

ব্রহ্মরন্ধ্রস্থিত দিব্যতেজময়ী কাশীশক্তিতে সংযম করিলে, অলক্ষিত দিব্য পুরুষদিগকে দর্শন করিয়া কৃতার্থ হওয়া যায়।।৩৩।।

প্রতিভা প্রসূত ভববিঘ্নবারক মন্ত্রজ্ঞানে (প্রাতিভ-জ্ঞান) চিত্ত সংযম করিলে সর্ব্বজ্ঞ হওয়া যায়।।৩৪।।

হৃদয়ে সংযম করিলে, চিত্ত সম্বন্ধীয় জ্ঞানোৎপন্ন হয়।।৩৫।।

অমলা বুদ্ধি এবং তাহার চেতয়িতা চৈতন্যপুরুষ (চিদাত্মা) অভিন্ন পদার্থ নহে। তাহাদের পরস্পর অনেক প্রভেদ আছে বোধ না হওয়ায়, সুখ দুঃখ প্রভৃতি বিবিধ মায়িক ব্যাপারে অভিভূত হইতে হয়। সেই কারণে ভোগ নামক পদার্থের অধীন হইতে হয়, সেই কারণেই ভোগ, পুরুষে আরোপিত হয়। যে অবস্থায় পুরুষ এক পদার্থ এবং তাহার প্রতিবিম্বস্বরূপ ভোগ অপর পদার্থ বোধ হয়, সেই ভেদাত্মক বোধশক্তির প্রতি কৃতসংযমী হইলে, আত্মজ্ঞান হয়।।৩৬।।

আত্মসংযম প্রভাবে সংসার-তারক জ্ঞান, দিব্য শব্দ শ্রবণ, দিব্য স্পর্শানুভব, দিব্য রূপদর্শন, দিব্য রসানুভব এবং দিব্য গন্ধবোধ হয়।।৩৭।।

যোগীর অসমাধি অবস্থাতেই ঐ সকল ক্ষমতা ফলপ্রদ হয়। কৈবল্যের কারণ সমাধি সম্বন্ধে উহারা বিষম বিঘ্ন।।৩৮।।

সংযম এবং সমাধি বলে বিবিধ বন্ধন কারণ ধর্ম্মাধর্ম্ম হইতে চিত্ত মুক্ত হইলে এবং তাহার প্রকৃত গমনাগমনের পথ নির্ণয় হইলে, তাহাকে পরশরীরে প্রবিষ্ট করা যায়।।৩৯।।

সংযম প্রভাদে উদান বশ হইলে জল, পঙ্ক এবং কণ্টক প্রভৃতিতে বিচরণ করিলেও নির্লিপ্ত থাকা যায়। নিজ ইচ্ছা অনুসারে মরণ হয়।।৪০।।

সমান আয়ত্ত হইলে শারীরিক ও মানসিক তেজ বৃদ্ধি হয়। সে তেজ অসামান্য তেজ।।৪১।।

শ্রোত্রাকাশে যে সম্বন্ধ আছে, সেই সম্বন্ধে মনঃসংযম করিলে, দিব্য শ্রবণশক্তি হয়। সেই শ্রবণশক্তি প্রভাবে অতি মৃদু, ব্যবহিত ও দূরস্থ শব্দ পর্য্যন্ত শ্রুতিগোচর হয়।।৪২।।

কায়ার সহিত আকাশের যে সম্বন্ধ, সেই সম্বন্ধে সংযম বলে, তুলার ন্যায় লঘু হইয়া, শূন্যে গমনাগমন করা যায়।।৪৩।।

বাহ্য বস্তু সম্বন্ধে ভ্রম অপণিত হইলে, অনাত্মায় আত্মজ্ঞান বিদূরিত হইয়া, মহাবিদেহাবৃত্তি স্ফূরিত হয়। সেই অপূর্ব্ব স্ফূর্ত্তির সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞানশক্তির আবরণ ক্ষয় হয়।।৪৪।।

ভূতেশ্বর হইতে হইলে, প্রত্যেক ভূতের স্থূল(৬), স্বরূপ(৭), সূক্ষ্ম(৮), অন্বয়(৯) ও অর্থবত্ত্ব(১০) নামক পঞ্চবিধ অবস্থার প্রতি সংযম প্রয়োগ করিতে হয়।।৪৫।।

ভূতগণকে ইচ্ছাধীন করিতে পারিলে, অণিমাদি অষ্ট মহৈশ্বর্য্যের প্রাদুর্ভাব হয়। ভূতগণ অধীন হইলে, সম্পৎ ও কায়িকধর্ম্ম ও অবিনশ্বর রহে।।৪৬।।

রূপ, লাবণ্য, বল এবং বজ্রতুল্য শারীতিক দৃঢ়তাই কায়সম্পৎ।।৪৭।।

গ্রহণ(১১), স্বরূপ(১২), অস্মিতা(১৩), অন্বয়(১৪) ও অর্থবত্ত্ব(১৫) নামে ইন্দ্রিয়গণেরও পঞ্চপ্রকার অবস্থা আছে। জিতেন্দ্রিয় হইতে হইলে, অগ্রে সংযম দ্বারা ঐ গুলিকে বশীভূত করিতে হয়।।৪৮।।

ইন্দ্রিয়গণের উপর আধিপত্য হইলে, মনের ন্যায় নির্ব্বিঘ্নে শরীরও সর্ব্বত্রে গমন করিতে পারে। বিদেহী হইলেও ইন্দ্রিয়গণ সম্বন্ধে জ্ঞানের অভাব হয় না এবং প্রধান (মূল প্রকৃতি) ও বশে থাকেন।।৪৯।।

পরমাবুদ্ধির সহিত পরমপুরুষ পরমাত্মার যে প্রভেদ জ্ঞান নির্ণয় হইয়া থাকে, সেই জ্ঞানের প্রতি সংযম প্রয়োগ করিলে, সর্ব্বভাবের উপর প্রভুত্ব হয়। তৎপ্রভাবে অবিদিত কিছুই থাকে না।।৫০।

কথিত সিদ্ধিদ্বয়ের প্রতি বৈরাগ্য জন্মিলে, অবিদ্যা জনিত বিবিধ দোষের বীজ ক্ষয় হইলে, কৈবল্য প্রাপ্তি হয়।।৫১।।

ঐ প্রকার কোন পরমবৈরাগী যোগী অমরগণ কর্ত্তৃক বিবিধ দিব্য ভোগে আমন্ত্রিত হইয়া, বিস্ময় এবং প্রলোভন পরতন্ত্র হইলে, কৈবল্য সম্বন্ধে বিষম বিঘ্ন উপস্থিত হয়।।৫২।।

ক্ষণ এবং তাহার পর্য্যায় পরস্পরা পদ্ধতির প্রতি সংযম প্রয়োগ করিলে, বিবেক প্রসূত জ্ঞানোদয় হয়। সেই জ্ঞান প্রভাবে মহতত্ত্ব হইতে সূক্ষ্ণাদপি সূক্ষ্মপরমাণু পর্য্যন্ত সুগোচর হয়।।৫৩।।

এমন এক প্রকার বস্তু আছে, যাহাদের জাতি অনুসারে প্রভেদ নির্ণয় ক্রয়া যায় না। এমন এক লক্ষণবিশিষ্ট অনেক বস্তু আছে, যাহাদের লক্ষণ অনুসারেও প্রভেদ নির্ণয় হয় না, এমন ঘটনা হইতে পারে, যদ্দ্বারা এক প্রকার দুই বস্তুর পূর্ব্বাপর অবস্থিতিস্থান নির্ণয় করা কঠিন হইয়া উঠে। জাতি, লক্ষণ এবং দেশের দ্বারা এক প্রকার বহু বস্তুর প্রভেদ জ্ঞান অবধারিত না হইলে, ক্ষণ এবং ক্ষণক্রম সংযম প্রসূত বিবেকজ্ঞান প্রভাবে পরস্পর পার্থক্য নির্ণয় সম্বন্ধে বিশেষ উপকার হয়।।৫৪।।

বিবেকপ্রসূত তারক-জ্ঞান প্রভাবে ঘোর সংসার হইতে যোগী মুক্ত হন। সেই নিষ্ক্রম-তারক-জ্ঞান হইলে, মহতত্ত্ব হইতে সমুদয় পদার্থ সুগোচর হইতে থাকে। তৎপ্রভাবে যুগপৎ সকলবস্তুর সকল লক্ষণ তন্ন তন্ন করিয়া জানা যাইতে পারে।।৫৫।।

নিষ্কলঙ্ক বৃত্তিশূন্য বুদ্ধি হইলে, বুদ্ধি শুদ্ধি হয়। বুদ্ধি শুদ্ধি, আত্মশুদ্ধি হয়। বুদ্ধি-শুদ্ধি এবং আত্ম-শুদ্ধির কারণ বিবেকপ্রসূত জ্ঞান। বুদ্ধি-শুদ্ধি এবং আত্ম-শুদ্ধি ব্যতীত মোক্ষ হয় না।।৫৬।।

।।ইতি বিভূতিপাদ।।

—————–
১. নিরোধ, সমাধি ও একগ্রতাই চিত্তের ত্রিবিধ পরিণাম।
২. পরিবর্ত্তিত অবস্থার।
৩. চিত্তের দ্বারা যে সকল বিষয় চিন্তা করা হইতেছে।
৪. যে কর্ম্মের ফল আরম্ভ হইয়াছে।
৫. যে কর্ম্মের ফল আরম্ভ হয় নাই।
৬. স্থূললাবস্থায় পঞ্চভূত দৃষ্টিগোচর হয়।
৭. ভূতের গুণই ভূতের স্বরূপাবস্থা।
৮. ভূতের সূক্ষ্মাবস্থায় নাম পরমাণু।
৯. ত্রিগুণের সহিত প্রত্যেক গুণের সম্বন্ধই অন্বয়।
১০. সুখ দুঃখাদি নানা প্রকার ভোগপ্রদাশক্তির নামই অর্থবত্ত্ব।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *