০১. নিত্যকৃত্য

নিত্যকৃত্য

সাধারণতঃ দিবারাত্রি আট ভাগে বিভক্ত। উহার এক এক ভাগের নাম প্রহর বা যাম। তাহার অর্দ্ধাংশকে যামার্দ্ধ বা প্রহরার্দ্ধ কহে। যামার্দ্ধ বা প্রহরার্দ্ধ ধরিয়াই স্মৃতিশাস্ত্রে নিত্যক্রিয়াগুলির নির্দ্ধারণ হয়। সুতরাং প্রতি যামার্দ্ধের পরিমাণ দেড় ঘটিকা। এই হেতু যামার্দ্ধের কর্ত্তব্য প্রতি দেড় ঘটিকার করণীয় বলিয়াই নিরূপিত। রাত্রির শেষ যামার্দ্ধ সাড়ে ৪টা হইতে ৬টা পর্যন্ত। দিবার প্রথম যামার্দ্ধ ৬টা হইতে সাড়ে ৭টা। এই প্রকার পর পর ভাগ করিলেই ষোড়ষসংখ্য যামার্দ্ধে দিবারাত্রি শেষ হয় এবং ষোড়শ যামার্দ্ধই রাত্রি সাড়ে ৪টা হইতে ৬টা পর্য্যন্ত হইয়া থাকে। উল্লিখিত ষোড়শ যামার্দ্ধের প্রত্যেকটিতে সাধারণতঃ যাহা তাহা করণীয়, তাহারই স্থূল স্থূল বিষয় বিবৃত হইতেছে।–

নিত্যকৃত্য সাধারণতঃ ছয় ভাগে বিভক্ত;–(১) প্রাতঃকৃত্য, (২) পূর্ব্বাহ্নকৃত্য, (৩) মধ্যাহ্নকৃত্য, (৪) অপরাহ্নকৃত্য, (৫) সায়াহ্নকৃত্য, (৬) রাত্রিকৃত্য।

তন্মধ্যে প্রাতঃস্মরণীয় বিষয় চিন্তন, দৈনিক কর্ম্ম ও তদবিরোধী অর্থাদি চিন্তন, পৃথিবীকে নমস্কার, মলমূত্রত্যাগ, শৌচাচরণ, আচমন, দন্তধাবন, প্রাতঃস্নান, তিলকধারণ, তর্পণ, প্রাতঃসন্ধ্যা এই কয়েকটি ক্রিয়া প্রাতঃকৃত্যের অন্তর্গত। অর্থাৎ রাত্রির শেষ যামার্দ্ধ (সাড়ে ৪টা হইতে ৬টা পর্যন্ত) প্রাতঃকৃত্যের সময়।

তৎপরে দিনকৃত্যের আরম্ভ। দেবগৃহমার্জ্জনাদি, গুরু ও মঙ্গলদ্রব্য দর্শন, কেশ-প্রশাধন, দর্পণে মুখ দর্শন, পুষ্পচয়ন এইগুলি প্রথমযামার্দ্ধে অর্থাৎ ৬টা হইতে সাড়ে ৭টা পর্য্যন্ত সময়ের মধ্যে নিষ্পাদন করিবে।

দ্বিতীয় যামার্দ্ধে অর্থাৎ সাড়ে ৭টা হইতে ৯টা পর্য্যন্ত বেদাভ্যাস ও শাস্ত্রালোচনা করিতে হয়।

তৃতীয় যামার্দ্ধে অর্থাৎ ৯টা হইতে সাড়ে ১০টা পর্য্যন্ত অর্থসাধন (পোষ্যবর্গের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সাধনচেষ্টা করিবে।

চতুর্থ যামার্দ্ধে (সাড়ে ১০টা হইতে ১২টা পর্য্যন্ত) মধ্যাহ্নস্নান, তর্পণ ও মধ্যাহ্ন-সন্ধ্যাপূজাদি করিবে। এইগুলিই পূর্ব্বাহ্নকৃত্য।

তৎপরে মধ্যাহ্নকৃত্য অর্থাৎ পঞ্চম যামার্দ্ধে (১২টা হইতে দেড়টা পর্যন্ত) হোম, বৈশ্বদেব, বলি, অতিথি সৎকার, নিত্যশ্রাদ্ধ, গোগ্রাসদান ও ভোজন এই সমস্ত সম্পন্ন করিতে হয়।

তদনন্তর অপরাহ্নকৃত্য অর্থাৎ ষষ্ঠ যামার্দ্ধ, (দেড়টা হইতে ৩টা) সপ্তম যামার্দ্ধ (৩টা হইতে সাড়ে ৪টা) এবং অষ্টম যামার্দ্ধের অর্থাৎ সাড়ে ৪টা হইতে ৬টা পর্য্যন্তের কিয়দংশ পর্য্যন্ত, এই সময়ে নিরুদ্বেগ হইয়া চিত্তরঞ্জক ও ধর্ম্ম-জ্ঞানবিবর্দ্ধক কার্য্যে মনোনিবেশ করিবে অর্থাৎ নিদ্রা-ক্রিড়াদি ত্যাগ করিয়া ধর্মশাস্ত্রাদির আলোচনা করিবে এবং দিবার শেষ অংশ ভ্রমণে ও সাধুজন সহ আলাপে অতিবাহিত করিবে।

তৎপরে সায়াহ্নকৃত্য অর্থাৎ সূর্য্যাস্তের একদণ্ড বিলম্ব থাকিতে সায়ংসন্ধ্যোপাসনা করিতে হয়।
তদনন্তর রাত্রিকৃত্য।–প্রথমযামে অর্থাৎ ৬টা হইতে ৯টার মধ্যে দিবাকৃত কর্ম্মের আলোচনা ও অননুষ্ঠিত ক্রিয়ার সম্পাদন করিবে।

তৎপরে দ্বিতীয় যাবে বৈশ্বদেব, বলি, অতিথিসৎকার, স্বয়ং ভোজন প্রভৃতি নিষ্পাদন পূর্ব্বক তৎপরে শয়ন ও যথাবিধি দারোপগমনাদি দ্বারা রাত্রি অতিবাহিত করিতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *