০১. অথ শৌনকাদি ঋষিগণের প্রতি ভাগবত বিষয়ক প্রশ্ন

হরিক্ষেত্র মাঝে খ্যাত নৈমিষ কাননে।
হরি লভিবারে যত মহামুনিগণে।।
সহস্র বৎসর যজ্ঞ করেন হরষে।
বুঝিতে যজ্ঞের মায়া প্রকৃতির বশে।।
শৌনকাদি মুনি তথা আনন্দিত মনে।
শুনেন শাস্ত্রের কথা সূতের বদনে।।
বেদাদি ভারত কথা অমৃতের সার।
প্রকাশিতে স্তব ঋষি বুদ্ধির আগার।।
একদা প্রভাত হ’লো তিমির শর্ব্বরী।
জাগিল যতেক ঋষি নিদ্রা পরিহরি।।
সাধিয়া যজ্ঞের কর্ম্ম যত ঋষিজন।
জিজ্ঞাসে সূতেরে তবে করি অভ্যর্থন।।
হে সূত তোমার মুখে শাস্ত্র আলাপন।
শুনিয়া সার্থক হ’লো মোদের জীবন।।
স্বগুণ নির্গুণ ব্রহ্ম কহে সর্ব্বজনে।
ব্যাসাদি প্রবল বুদ্ধি করে আলোচন।।
সকল শাস্ত্রের মর্ম্ম ব্যাসের ভারতী।
শুনিয়াছ তুমি সূত করি স্থিরমতি।।
বিষম প্রমাদ বশে আমরা সকলে।
না জানি নির্গুণ ব্রহ্ম ব্রহ্মমায়া বলে।।
কহ আয়ুষ্মান্‌ ক্রমে ভাগবত সার।
যাহাতে হইবে মুক্ত এ ঘোর সংসার।।
কলিযুগে অল্পবুদ্ধি যতেক মানব।
অল্পায়ু অলস হবে পাপে রত সব।।
কেমনে সংসার হ’তে হইবে উদ্ধার।
কহ সূত সে সংবাদ সর্ব্ব সারাৎসার।।
আগম নিগম বেদ তন্ত্র ইতিহাস।
সকলি আছয়ে সূত ব্রহ্মার আভাস।।
অল্পায়ু মানব যবে কলিতে জন্মিবে।
জলধি সমান শাস্ত্র কেমনে বুঝিবে।।
কৃপা করি ওহে সূত কহ সেই বাণী।
সর্ব্বশাস্ত্র সার কথা যাছে তরে প্রাণী।।
ভক্তের পালন কর্ত্তা সেই ভগবান।
দেবকীর গর্ভে জন্মি কেন দেহবান।।
কাহার মঙ্গল হেতু ত্যজি দেবদেহ।
উদিলেন এ সংসারে ছাড়ি স্বর্গগেহ।।
কর সেই ইতিহাস হে সূত! বর্ণন।
যা শুনি জীবের হবে মঙ্গল সাধন।।
শুনিয়াছি নারায়ণ ভুবন ভিতরে।
অবতাররূপে আসি সর্ব্বদুঃখ হরে।।
কঠিন মানব যদি কভু কায়মনে।
ডাকে ‘নারায়ণ’ বলি জিনে পাপগণে।।
ভবের বন্ধন তায় ছিন্ন হ’য়ে যায়।
সেইক্ষণে সেই নর মুক্তিপদ পায়।।
আছয়ে যতেক ভয় সংসার বন্ধনে।
সকলেই কম্পান্বিতা শুনি নারায়ণে।।
নারায়ণে যেই ঋষি সঁপিয়াছে প্রাণ।
যথায় উদয় তাঁর পবিত্র সে স্থান।।
যথা গঙ্গাবারি বিনা শুদ্ধি নাহি হয়।
হরিনাম বিনা তথা দেহ শুদ্ধ নয়।।
দারুণ কর্ম্মের ভয়ে যদি কোনজন।
ইচ্ছা করে ত্যজিবারে কর্ম্মের ভুবন।
হরিনাম বিনা আর নাহি অন্যগতি।
হরিযশঃ না গাহিলে নহে শুদ্ধ মতি।।
দেখহ প্রমাণ তার নারদাদি মুনি।
হরিগানে পূণ্যবান পুরাণেতে শুনি।।
হরিনাম শুনিবারে আমরা সকলে।
হইয়াছি অভিলাষী কহ পূণ্যবলে।।
লীলাক্রমে এ ভুবনে সেই নারায়ণ।
যেইরূপে অবতার করহ কীর্ত্তন।।
তৃপ্ত নাহি মোরা প্রভু নামমাত্র শুনি।
কহ তাঁর ইতিহাস ওহে মহামুনি।।
অজ্ঞান আঁধার যাহে হয় দূরীভূত।
জ্ঞানময় ব্রহ্মবুদ্ধি যাহে মূলীভূত।।
সেই কথা সাধুজন করেন শ্রবণ।
কহ কহ ওহে সূত সেই বিবরণ।।
বসুদেব পিতা বলি কেমনে কেশব।
প্রকাশিলা নিজ লীলা ব্যাপিয়া এ ভব।।
কলিরে আসিতে হেরি সংসার ভিতরে।
হইয়াছি অভিলাষী হরি জানিবারে।।
বিষ্ণু লাগি এই ক্ষেত্র এই যজ্ঞস্থল।
সমাগত এই যজ্ঞে মুনীন্দ্র সকল।।
শুনিতে হরির কথা সকলের মন।
কহ সূত ব্রহ্মময় হরি বিবরণ।।
ভকত বৎসল হরি সেই নারায়ণ।
শুনাইতে সেই কথা তব আগমন।।
ধর্ম্মের আধার কৃষ্ণ ত্যজিয়া সংসার।
বৈকুণ্ঠেতে তিরোভাব হ’লেন আবার।।
কহ সূত ধর্ম্ম এবে থাকিয়া ভুবন।
কাহারে আশ্রয় ভাবি করিল স্মরণ।।
উপেন্দ্র রচিল গীত হরি আশা করি।
ভাবহ সংসারবাসী ব্রহ্মময় হরি।।

ইতি ঋষি প্রশ্ন সমাপ্ত।

2 thoughts on “০১. অথ শৌনকাদি ঋষিগণের প্রতি ভাগবত বিষয়ক প্রশ্ন

  1. আমি
    ভাগবত,গীত গোবিন্দ এবং ধর্মের বই গুলো মুল সংস্কৃত সহ বাংলা অনুবাদ(pdf) কিভাবে পেতে পারি ? লেখক যেমন মহানামব্রত ব্রহ্মচারি বা অন্য। জানালে উপকৃত হব ।

    1. গীতগোবিন্দ লাইব্রেরির হোম পেজে পাবেন। ভাগবত ধীরে ধীরে আপলোড করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *