০০৪. সীরাতে ইবনে ইসহাক

উল্লিখিত সীরাত গ্রন্থাবলীর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ, সর্বাধিক প্রামাণ্য ও নির্ভরযোগ্য এবং সবচেয়ে উন্নতমানের গ্রন্থ হলো সীরাতে মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক। [১. “মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াসার ইবনে আবদুল মুত্তালিব ইবনে আবদে মানাফের আযাদকৃত দাস। তাঁর দাদা ইয়াসার কুফার পশ্চিমে বারিয়ার দিকে অবস্থিত শহর আইনুত তামারের অন্যতম যুদ্ধবন্দী ছিলেন। হযরত আবু বাক্রের খিলাফতকালে ১২ হিজরী সনে এই শহর মুসলমানদের অধিকারভুক্ত হলে ইয়াসারকে মদীনায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে ৮৫ হজিরী সনে তাঁর পৌত্র মুহাম্মাদ জন্মগ্রহণ করেন। মদীনাতেই তিনি যৌবন কাটান। অত:পর মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলো ভ্রমণে বের হন। ১১৫ হিজরী সনে তিনি ইস্কান্দারিয়া গমন করেন এবং মিসরীয় একদল হাদীসবেত্তার নিকট থেকে হাদীস সংগ্রহ ও বর্ণনা করেন। এরপর তিনি আলজাজিরা, কুফা, রাই, বুহায়রা ও সর্বশেষে বাগদাদ সফর করেন। এখানেই ১৫২ হিজরী সনে তাঁর ইনতিকাল হয়। প্রখ্যাত মনীষী ইবনে আদী তাঁর সম্পর্কে এই বলে মন্তব্য করেন যে,“সমসাময়িক বাদশাহদেরকে আজেবাজে পুস্তকাদি প্রণয়নের কাজ থেকে নিবৃত্ত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সশস্ত্র সংগ্রাম, তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তি ও বিশ্ব সৃষ্টির ইতিহাস রচনার কাজে আত্ননিয়োগ করতে উদ্বুদ্দ করা যদি ইবনে ইসহাকের একমাত্র কৃতিত্বও হতো, তথাপি এ কৃতিত্বে তিনিই অগ্রণী এবং সর্বশ্রেষ্ঠ বলে পরিগণিত হতেন।”] এ গ্রন্থ তিনি রচনা করেন আব্বাসী শাসনামলের গোড়ার দিকে। বর্ণিত আছে যে, তিনি একবার বাগদাদে আব্বাসী শাসক মানসূরের দরবারে প্রবেশ করেন। মানসূরের সামনেই তাঁর পুত্র মাহদী উপবিষ্ট ছিলেন। মানসূর বললেন, “ইবনে ইসহাক, তুমি জানো ইনি কে?” ইবনে ইসহাক বললেন, “হাঁ, আমীরুল মুমিনীনের (মানসূর) ছেলে”। তখন মানসূর বললেন, “যাও, ওর জন্য এমন একখানা গ্রন্থ রচনা কর, যাতে আদমের (আ) সৃষ্টি থেকে শুরু কের আজকের দিন পর্যন্ত যবাতীয় ঘটনাবলীর বর্ণনা থাকবে”। তখন ইবনে ইসহাক চলে গেলেন এবং কিছুকালের মধ্যে উক্ত গ্রন্থ রচনা করে মানসূরের নিকট উপস্থপন করলেন। মানসূর বললেন, “ইবনে ইসহাক, তুমি গ্রন্থকে অতি মাত্রায় দীর্ঘ করে ফেলেছো। এখন গ্রন্থখানি সংক্ষিপ্ত করে লিখ”। এরপর ঐ বিশাল গ্রন্থখানি খলীফার কোষাগারে রেখে দেয়া হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *