০৯.৪ বিবাহ পড়াইবার নিয়ম

বিবাহ পড়াইবার নিয়ম

প্রথমতঃ দুইজন সাক্ষীর মোকাবিলা ‘বর’ বা বরের অলী, পাত্রী বা পাত্রীর অলীর নিকট মন্তব্য প্রকাশ করিবে। পাত্রী সাবালেগা হইলে সাক্ষীদ্বয়কে লইয়া পাত্রীর অলী পাত্রীর নিকটে গিয়া এইরূপ প্রস্তাব করিবে যে, অমুক জায়গায় অমুকের পুত্র অমুক অত টাকা ‘মোহর’ দিয়া তোমাকে বিবাহ করিতে আসিতেছে, ইহাতে তোমার মত কি? পাত্রী সন্তুষ্ট চিত্তে নিজের মত প্রকাশ করিলে অলী আসিয়া হাযিরানা মজলিসে সমস্ত বিবৃত করিবেন। তারপর পাত্রকে পশ্চিম রোখ বসাইয়া পাত্রীর অলী পাত্রের (পাত্র নাবেলেগ হইলে তাহার অলীর) মুখামুখি বসিয়া বলিবে, “আমি আমার কন্যা অমুককে এত টাকা মোহরের এওয়াজে ওকালাতান্‌ ও বেলায়াতান্‌ অমুকের পুত্র (অঙ্গুলির ইশারায়) অমুকের নিকট বিবাহ দিলাম।” পাত্র বলিবে, “আমি এত টাকা মোহর স্বীকার করতঃ এই বিবাহ কবুল করিলাম।” আর পাত্র নাবালেগ হইলে তাহার অলী বলিবে, “আমি এত টাকা মোহর স্বীকার করিয়া অমুক সাবালেগ হওয়া পর্যন্ত তাহার পক্ষ হইতে এই বিবাহ কবুল করিলাম।” তৎপর নিম্নলিখিত খুৎবা পাঠ করতঃ বিবাহকারীদের ও হাজিরানা মজলিসের লোকদের জন্য দোয়ায়ে-খায়ের করতঃ মোনাজাত করিবে। বিবাহ মসলিজে এই খুৎবা পাঠ করা ছুন্নতে মোয়াক্কাদা।–(জামেউর রুমজ, আলমগীরী)

বিবাহের খুৎবা

আল্‌হামদু লিল্লাহি নাহ্‌মার্দুর্হু ও নাস্তাঈনুহু ওয়া নাস্তাগ্‌ফিরুহু, ওয়া নাইজু বিল্লাহি মিন্‌ শুরুরি আনফুছিনা ওয়া মিন ছাইয়্যিয়্যাতি আ’মালিনা মাইইয়াহ্‌ দিহিল্লাহু ফালা মুদিল্লা লাহু ওয়া মাইইউদ্‌লিল্‌হু ফালা-হাদিয়া লাহ্‌। ওয়া নাশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অয়াহ্‌ লা-শারীকা লাহু ওয়া নাশহাদু আন্না মুহাম্মাদান্‌ আবদুহু ওয়া রাছুলুহ। ইয়া আইয়্যুহান্নাছুত্তাকু রাব্বকুমুল্লাজী খালাক্বাকুম্‌ মিন নাফছিওঁ ওয়াহিদাতিওঁ ওয়া খালাক্বা মিন্‌হা যাওযাহা ওয়া বাছ্‌ছা মিন্‌হুমা রিজালান কাছীরাওঁ ওয়া নিছা-যা। ওয়াত্তাকুল্লা-হাল্লাজী তাছাআলূ-না বিহী ওয়াল আরহাম। ইন্নাল্লাহা কানা আলাইকুম রাক্বীবা। ইয়া আইয়্যুহাল্লাজী না, আমানুত্তাকু ল্লা-হা হাক্কা তুক্বাতিহী-ওয়ালা তামূতুন্না ইল্লা ওয়া আনতুম্‌ মুছলিমূন। ইয়া আইয়্যুহাল্লাজীনা আমানুত্তাকুল্লাহু ওয়া ইয়াগ্‌ফিরলাকুম্‌ জুনুবাকুম ওয়া মাইয়্যুতিয়িল্লাহা ওয়া রাছুলাহু ফাক্বাদ ফা-যা ফাওয়ান্‌ আজীমা।

অর্থাৎ, সমস্ত প্রশংসাই আল্লাহ্‌র জন্য। আমরা তাঁহার প্রশংসা করি ও তাঁহারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমার প্রভুর নিকট আমি মা’ফ চাহিতেছি, যেন তিনি আমাদিগকে আমাদের নফছের বুরাই ও কু-কর্ম হইতে রক্ষা করেন। আল্লাহ যাহাকে সৎপথে লন, কেহই তাহাকে অসৎপথে লইয়া যাইতে পারে না। আর আল্লাহ যাহাকে অসৎ পথে লন, কেহই তাহাকে সৎ পথে আনিতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আল্লাহ ব্যতীত দ্বিতীয় উপাস্য নাই এবং তাঁহার অংশী নাই। তিনি এক। হযরত মোহাম্মদ (দঃ) তাঁহার বান্দা ও প্রেরিত রছুল। হে মানব জাতি! তোমরা ঐ খোদাকে ভয় কর, যিনি একটি মনুষ্য হইতে তোমাদিগকে ও তোমাদের জোড়কে সৃষ্টি করিয়াছেন এবং সেই দুই জন হইতে বহু লোক সৃষ্টি করিয়াছেন। তোমরা পরস্পর সম্বন্ধ ত্যাগ করার ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের রক্ষক। হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ তাআলাকে উচিত মত ভয় কর এবং তোমরা ঈমানদার হইয়া মরিও। হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর ও সত্য কথা বল। যদ্দ্বারা আল্লাহ তাআলা তোমাকের আমলসমূহ দুরস্ত করিয়া দিবেন ও তোমাদের পাপসমূহ মার্জনা করিয়া দিবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও রছুলের হুকুম পালন করিবে, নিশ্চয়ই সে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার নিকট পুরস্কার পাইবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *