অধ্যায় ০৯ : ট্রেনিং কেন্দ্রসমূহের উপকারিতা

এ কাজে আপনাদের সাহায্যের জন্যই জামায়াতের পক্ষ থেকে ট্রেনিং-এর নতুব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ কার্যসূচী অনুসারে যে সমস্ত ট্রেনিং কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে তাতে জামায়াতের রুকন বা মুত্তাফিক সকলেই শরীক হতে পারেন। ট্রেনিং-এর মেয়াদ ইচ্ছা করেই সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, যেন ব্যবসায়ী, কর্মচারী, কৃষিজীবী সকল শ্রেণীর লোকই এটা হতে সহজে ফায়াদা হাসিল করতে পারেন। ট্রেনিং কোর্সের দুটি ভাগ রয়েছেঃ একটি শিক্ষা মূলক, অপরটি অনুশীলনমূলক। প্রথম অংশে আমাদের লক্ষ্য হলো-শিক্ষার্থীগণ অল্প সময়ের সধ্যেই যেন পবিত্র কুরআন ও হাদীসের শিক্ষা, ফিকাহ শাস্ত্রের হুকুম ও আহকাম এবং জামায়াতের পুস্তকাদির একটি প্রয়োজনীয় অংশ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভে সক্ষম হয়। এর ফলে ট্রেনিং গ্রহণকারী কর্মী যেন সহজেই দীনি

যে ব্যক্তি নিজের দীনের ব্যাপারে অপেক্ষাকৃত উন্নত লোকের প্রতি দৃষ্টি রেখে তার অনুসরণ করবে এবং পার্থিব বিষয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ব্যক্তিকে দেখে আল্লাহ তাআলার দান সামগ্রীর শুকরিয়া প্রকাশ করবে, সে আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞ ও ধৈর্যশীলরূপে পরিগণিত হবে। আর যে ব্যক্তি দীনের ব্যাপারে অপেক্ষাকৃত দুর্বল লোকের প্রতি লক্ষ্য করবে এবং পার্থিব ব্যাপারে অধিক ধনশীলতার প্রতি লক্ষ্য করবে, কোনো বিষয়ের অভাব থাকলে সেই জন্য সে আফসোস করবে, আল্লাহর দরবারে সেই ব্যক্তি কৃতজ্ঞ এবং ধৈর্যলীরূপে পরিগণিত হতে পারবে না।

ব্যবস্থা, তার দাবী, তদনুযায়ী জীবনযাপনের পন্থা এবং এর প্রতিষ্ঠার জন্য গৃহীত কর্মসূচী স্পষ্ট বুঝতে পারে। সেই সাথে ইসলামী জীবন ব্যবস্থার বাস্তব রূপায়ণের জন্য কোন ধরনের ব্যক্তিগত ও সামাজিক চরিত্রের আবশ্যক, তাও যেন সে উপলব্ধি করতে পারে। কর্মসূচীর অনুশীলনমূলক অংশের উদ্দেশ্য এই যে, এর মাধ্যমে আমাদের কর্মগণ অনন্ত কিছুদিন এ স্থানে সমবেতভাবে স্বচ্ছ ও নির্মল ইসলামী পরিবেশে বসবসের সুযোগ স্থানে সমবেতভাবে স্বচ্ছ ও নির্মল ইসলামী পরিবেশে বসবাসের সুযোগ লাভ করতে পারবে। এর ফলে তাদের মধ্যে নিয়মানুবর্তীতা, শৃঙ্খলা রক্ষা, সৌভ্রাতৃত্ব এবং প্রীতি সৌহার্দের অভ্যাস জন্মাবে, এছাড়া একে অপরের গুণাবলী আহরণ করতে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে নিজেদের দোষ-ত্রুটি ও দুর্বলতসমূহ দূর করার সুযোগ লাভ করবে। সর্বোপরি তারা কয়েক দিনের জনব্য হলেও নিরবচ্ছিন্ন সাংসারিক কাজ-কর্ম হতে যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করে একান্তভাবে আল্লাহ তাআলার জন্যই নিজেদের সমস্ত চিন্তা,লক্ষ্য এবং কর্মতৎপরতা কেন্দ্রিভূত করতে সক্ষম হবে।

এজন্য অন্ততপক্ষে প্রত্যেক জেলায় এক একটি করে ট্রেনিং কেন্দ্র স্থায়ীভাবে স্থাপন করার জন্য আমরা আন্তরিক আগ্রহ পোষণ করি। কিন্তু এ ধরনের ট্রেনিং কেন্দ্র পরিচালনার জ্য আমাদের কাছে যোগ্যতাসম্পন্ন লোক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপায়-উপাদানের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এ কারণেই আপাতত লাহোর, রাওয়ালপিন্ডি, মূলতান ও করাচীতে সাময়িকভাবে ট্রেনিং কেন্দ্র স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এতদসত্ত্বেও এ সামান্য ব্যবস্থা দ্বারাই আপনাদের যথেষ্ট উপকার হবে বলে আমি আশা করি। ইনশাআল্লাহ ট্রেনিং কেন্দ্রের কর্মসূচী অনুশীলনের পর নিজেরাই এর বিরাট উপাকারিতা অনুভব করতে পারবেন। তখন আপনারা বুঝতে পারবেন যে, জামায়াত যথার্থই একটি প্রয়োজনীয় কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।

আমি এ কর্মসূচীর মাধ্যমে যতবেশী সম্ভব ফায়দা হাসিল করার জন্য সমস্ত কর্মীকে অনুরোধ করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *