অধ্যায় ০৭ : রোজা ও আত্মসংযম

রোযার অসংখ্য নৈতিক এবং আধ্যাত্মিক সুফল রয়েছে। মানুষের মধ্যে আত্মসংযমের শক্তি সৃষ্টি করা তার অন্যতম। রোযা মানুষের মধ্যে আত্মসংযমের শক্তি কিরূপে জাগ্রত করে, তা সম্যকরূপে বুঝার জন্য সর্বপ্রথম আত্মসংযম এর অর্থ জানা আবশ্যক। ইসলাম কোন ধরনের আত্মসংযমের পক্ষপাতী এবং রোযা মানুষের মধ্যে সেই শক্তি কিরূপে বিকশিত করে, তাও জেনে নেয়া অপরিহার্য কর্তব্য।

মানুষের খুদী আত্মজ্ঞান যখন তার দেহ এবং অন্যান্য শক্তিসমূহকে পরিপূর্ণরূপে আয়ত্তাধীন করে নিতে পারে এবং মনের যাবতীয় কামনা-বাসনা ও আবেগ-উচ্ছাসকে নিজের সিদ্ধান্তের অধীন ও অনুসারী করে তুলতে পারে, ঠিক তখনই হয় আত্মসংযম। একটি রাষ্ট্রে প্রধান শাসনকর্তার মর্যাদা যেরূপ হয়ে থাকে মানুষের গোটা সত্তার তার খুদীরও ঠিক সেই মর্যাদাই হয়ে থাকে এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার হাতিয়ার। মানুষের দৈহিক ও মস্তিষ্কের শক্তি খুদীরই খিদমত করে। নফস বা প্রবৃত্তি খুদীর সামনে নিজের কামনা-বাসনার কেবল আবেদনই পেশ করতে পারে, আর কিছু করার মত ক্ষমতা তার নেই। এসব অস্ত্র বা শক্তিসমূহকে কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে এবং নফসের আবেদনকে মঞ্জুর করা হবে কিনা সেই সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারই একমাত্র খুদীরই। এখন কোনো খুদী যদি দুর্বল হয়, দেহ রাজ্যে নিজের ইচ্ছামত শাসন চালাবার ক্ষমতা যদি তার নাই থাকে এবং নফসের আবেদন যদি নির্দেশের অনুরূপ হয় তবে সেই খুদী বড় অসহায়, পরাজিত ও নিষ্ক্রিয়। যে অশ্বারোহী নিজের অশ্বকে কাবু করতে পারে না, বরং সেই নিজেই অশ্বকে কাবু করতে পারে না, বরং সে নিজেই অশ্বের আয়ত্বাধীন হয়; মানুষের এ খুদী ঠিক তারই মত অক্ষম। এ ধরনের দুর্বল মানুষ দুনিয়ার কোনোদিনই সফল জীবনযাপনব করতে পারে না। মানুষের ইতিহাসে যাঁরাই নিজেদের কোনো প্রভাব ও স্মৃতি চিহ্ন উজ্জ্বল করে রেখে গেছেন তাঁদের প্রত্যেকেই নিজের আভ্যন্তরীণ সমগ্র শক্তিকে বল প্রয়োগ করে হলেও নিজের অধীন ও অনুগত করে নিয়েছেন। তাঁরা কোনো দিনই-নফসের লোভ-লালসার দাস এবং আবেগ-উচ্ছাসের গোলাম হননি, তাঁরা সবসময়ই তার মনিব বা পরিচালক হিসেবেই রয়েছেন। তাঁদের কোনো দিনই নফসের লোভ-লালসার দাস এবং আবেগ-উচ্ছাসের গোলাম হননি, তাঁরা সবসময়ই তার মনিব বা পরিচালক হিসেবেই রয়েছেন। তাঁদের ইচ্ছা-বাসনা অত্যন্ত মযবুত এবং সংকল্প অটল ছিল।

কিন্তু যে খুদী নিজেই খোদা হয়ে বসে এবং যে খুদী আল্লাহর দাস ও আদেশানুগামী হয়ে থাকে, এ দু প্রকারের খুদীর মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। সফল জীবনযাপনের জন্য অনুগত খুদী একান্ত অপরিহার্য। কিন্তু যে খুদী সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করে, বিশ্ব মালিকের অধীনতা ও আনুগত্য স্বীকার করে না, বরং তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, যে খুদী কোনো উচ্চতর নৈতিক বিধান মেনে নিতে পস্তুত নয়, কোনো হিসেব গ্রহণকারীর কাছে জবাবদিহি করার ভয় যার নেই, যে যদি নিজের দেহ ও মনের সমগ্র শক্তি নিচয়কে করায়ত্ব করে অত্যন্ত শক্তিশালী এক খুদীতে পরিণত হয়, তবে তা দুনিয়ার ফেরাউন, নমরূদ, হিটলার ও মুসোলিনির ন্যায় বড় বড় প্রলয় সৃষ্টিকারীর-ই উদ্ভব করতে পারে। কিন্তু এরূপ আত্মসংযম কখনও প্রশংসনীয় হতে পারে না। ইসলাম ও এ ধরনের আত্মসংযম মোটেও সমর্থন করে না।প্রথমে মানুষের খুদী নিজ আল্লাহর সামনে বিনয়াবনত হবে, আনুগত্যের মস্তক অবনত করবে, তাঁর সন্তোষ লাভের জন্য চেষ্টা করা এবং তাঁর আইনের আনুগত্য করাকেই নিজের প্রধান কাজ হিসেবেই গ্রহণ করবে, তাঁরই সামনে নিজেকে দায়ী মনে করবে-ইসলাম এরূপ খুদীকেই সমর্থন করে। এরূপ অনুগত্য করাকেই নিজের প্রধান কাজ হিসেবেই গ্রহণ করবে, তাঁরই সামনে নিজেকে দায়ী মনে করবে- ইসলাম এরূপ খুদীকেই সমর্থন করে। এরূপ অনুগত ও বিশ্বস্ত খুদীই স্বীয় দেহ ও শক্তি নিচয়ের ওপর নিজের প্রভুত্ব ক্ষমতা এবং তার মন ও কামনা-বাসনার ওপর স্বীয় শক্তি-আধিপত্য কায়েম করবে-যেন তা দুনিয়ায় সংস্কার সংশোধন করার জন্য এক বিরাট শক্তিরূপে মাথা তুলতে পারে।

বস্তুত এটাই ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মসংযমের প্রকৃত ও মূল কথা। রোযা মানুষের মধ্যে এরূপ আত্মসংযোমের প্রবল শক্তি কিরূপে সৃষ্টি করে, এখন আমরা তাই আলোচনা করবো। নফস ও দেহের যাবতীয় দাবী-দাওয়া যাচাই করে দেখলে পরিষ্কাররূপে জানা যায় যে, তার মধ্যে তিনটি দাবী হচ্ছে মূল এবং ভিত্তিগত। বস্তুত এ তিনটিই অধিকতর শক্তিসম্পন্ন দাবী। প্রথমেই হচ্ছে ক্ষুন্নিবৃত্তির দাবী। মানুষের বংশ তথা মানব জাতির স্থিতির এটাই একমাত্র উপায় এবং তৃতীয়, শান্তি ও বিশ্রাম গ্রহণের দাবী। কর্মশক্তিকে নতুন করে জাগ্রত এবং বলিষ্ঠ করে তুলার জন্য এটা অপরিহার্য। মানুষের এ তিনটি দাবী যদি নিজ নিজ সীমার মধ্যে থাকে, তবে তা বিশ্বপ্রকৃতির অন্তনির্হিত ভাবধারার অনুরূপ হবে, সন্দেহ নেই। অন্যদিকে নফস ও দেহের কাছে এ জিনিসই হচ্ছে বড় ফাঁদ। একটু ঢিল- একটু সুযোগ পেলেই এ তিনটি ফাঁদ মানুষের খুদীকে বন্দী করে নিজের গোলাম-নিজের দাসানুদাস বানিয়ে নেয়। ফলে এর প্রত্যেকটি দাবীই সম্প্রসারিত হয়ে অসংখ্য দাবীর একটি সুদীর্ঘ ফিরিস্তি হয় পড়ে। একটি দুর্বল খুদী এসব দাবীর কাছে পরাজিত হয়, তখন খাদ্যের দাবী তাকে পেটের দাস বানিয়ে দেয়, যৌনাক্ষুধা তাকে পশু অপেক্ষাও নিন্মস্তরে ঠেলে দেয় এবং দেহের বিশ্রামপ্রিয়তা তার ইচ্ছাশক্তিকে বিলাপ করে। অতপর সে আর তার নফস ও দেহের শাসক বা পরিচালক থাকে না, বরং সে তখন এর অধীন আদেশানুগত দাসে পরিণত হয় এবং এর নির্দেশসমূকে-ভাল-মন্দ, সংগত, অসংগত সকল উপদেশ-পালন করে চলাই তার একমাত্র কাজ হয়।

রোযা নফসের এ তিনটি লালসা বাসনাকে নিয়ন্ত্রিত করে-নিয়মানুগ করে তোলে এবং খুদীকে তার ওপর প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারে অভ্যস্ত করে দেয়। যে খুদী আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছেন এ রোযা তাকে সম্বোধন করে বলে: আল্লাহ আজ সারাটি দিন পানাহার করাকে তোমার ওপর নিষেধ বা হারাম করেছে, এ সময়ের মধ্যে কোনো পবিত্র খাদ্য এবং সদুপায়ে অর্জিত কোনো খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করাও জায়েয নয়।

সে বলে : আজ তোমার মালিক মহান আল্লাহ তোমার যৌনক্ষুধা চরিতার্থ করার ওপরে-বিধি-নিষেধ আরোপ করেছেন। সুবহে সাদেক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিতান্ত হালাল উপায়েও নফসের লালসা-বাসনা পূর্ণ করা তোমার জন্য হারাম করে দিয়েছেন। সে আরও বলে দেয় যে, সারাদিনের দু:সহ ক্ষুধা পিপাসার পর যখন তুমি ইফতার করবে, তখন তুমি পরিশ্রান্ত হয়ে আরাম করার পরিবর্তে ওঠে এবং অন্যান্য দিনের চেয়েও বেশী ইবাদাত কর।

বস্তুত এতেই তোমার রাব্বুল আলামীনের সন্তোষ নিহিত আছে। রোযা তাকে এটাও জানিয়ে দেয় যে, বহু রাকাআতের নামায সমাপ্ত করে যখন বিশ্রাম করবে, তখন সকাল পর্যন্ত বেহুঁশ হয় ঘুমিয়ে থেকো না। সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম হলেও শেষ রাতে সেহরী খাওয়ার জন্য জায়গা জন্য জাগো এবং সুবহে সাদেকের আলোকচ্ছটা ফুটে ওঠার পূর্বেই তোমার দেহকে খাদ্য দ্বারা শক্তিশালী করে তোল। খুদী রোযার এসব হুকম-আহকাম মানুষকে শুনিয়ে তদনুযায়ী আমল করার সম্পূর্ণ ভার তার ওপরের ন্যস্ত করে। তার পিছনে কোনো পুলিশ কোনো সি, আই, ডি, কিংবা প্রভাব বিস্তার করার মত শক্তি নিযুক্ত করা হয় না। সে যদি গোপনে খাদ্য গ্রহণ করে, কিংবা যৌনক্ষুধার পরিতৃপ্তি সাধন করে, তবে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ তা দেখতে পায় না। তারাবীহ নামায পড়া থেকে বাঁচার জন্য সে যদি কোনো শরীয়াতী কৌশল অবলম্বন করে তবে কোনো পার্থিক শক্তিই তার প্রতিরোধ করতে পারে না। সবকিছুই তার নিজের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। মুমিন ব্যক্তির খুদী যদি বাস্তবিকই আল্লাহর অধীন ও অনুগত হয়ে থাকে, তার ইচ্ছাশক্তিতে যদি নফসকে নিয়ন্ত্রিত করার মত ক্ষমতা থাকে, তবে সে নিজেই আহারের তীব্র আগ্রহ, যৌনক্ষুধা ও লালসাকে এবং বিশ্রাম প্রিয়তাকে রোযার উপস্থাপিত অসাধারণ নিয়ম-নীতির বাঁধনে নিজেই মযবুত করে বেঁধে দেবে।

এটা কেবল একদিনেরই অনুশীলন নয়, এ ধরনের ট্রেনিং এর জন্য মাত্র একটি দিন কোটেই যথেষ্ট নয়। ক্রমাগত নিরবচ্ছিন্নভাবে দীর্ঘ ৩০টি দিন মানুষই মানুষের খুদীকে এমনি ট্রেনিং ও অনুশীলনের মধ্যেই অতিক্রম করতে হয়। বছরে একটি বার পুরো ৭২০ ঘন্টার জন্য এ প্রোগ্রাম রচনা করা হয় যে, শেষ রাতে জেগে সেহরী খাও, ঊষার শুভ্রচ্ছটার সূচনা হলেই পানাহার বন্ধ কর। সমগ্র দিন ভর সকল প্রকার খানাপিনা পরিহার কর। সূর্যাস্তের ঠিক পর মুহূর্তেই যথাসময়ে ইফতার কর। তারপর রাতের একটি অংশ তারাবীর নামায-যে নামায সাধারণত পড়া হয় না-অতিবাহিত কর। তারপর কয়েক ঘন্টা বিশ্রামের পর আবার নতুন করে কার্যসূচী অনুযায়ী কজ শুরু করে দাও। এভাবে পুরো একমাস ধরে ক্রমাগত নফসকে তার তিনটি সবচেয়ে বড়এবং সর্বাপেক্ষা বেশী শক্তিশালী দাবী ও লালসাকে এক কঠিন নিয়মের দুচ্ছেদ্য বাঁধনে আবদ্ধ করা হয়। এর ফলে খুদীর মধ্যে একটি বিরাট শক্তি স্ফূরিত হয়, তা আল্লাহর মর্জি অনুসারে নিজের নফস ও দেহের ওপরে শাসন ক্ষমতা চালাতে সমর্থ হয়। পরন্তু সারা জীবনভর মাত্র একবারের জন্য এ প্রোগ্রাম করা হয়নি। বালেগ হবার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রত্যেক বছর দীর্ঘ একটি মাস এ কাজেই ব্যায়িত হয়। ফলে নফসের ওপর খুদী র বাঁধন বার বার নূতন এবং শক্ত হয়ে যায়।

এরূপ শিক্ষাব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য কেবল এটাই নয় যে, মুমিনের খুদী তার ক্ষুধা, পিপাসা, যৌনবৃত্তি এবং বিশ্রাম অভিলাষকেই আয়ত্বাধীন করে নিবে আর কেবল রমযান মাসের জন্যই এরূপ হবে, এ উদ্দেশ্য তার নয়। মানুষের তিনটি সর্বপ্রধান এবং সবচেয়ে বেশী জোরদার ও শাণিত হাতিয়ারের সাথে মুকাবিলা করে তার খুদী অন্যান্য সমগ্র আবেগ-উচ্ছাস, হৃদয়বৃত্তি এবং সকল প্রকার লোভ-লালসাকে নিয়মানুগ ও বিধিবদ্ধ করে দেয়। তাতে এমন এক নতুন শক্তির উদ্ভব হয় যে, কেবল রমযান মাসেই নয় অতপর বাকী একারোটি মাস ধরে তা বলিষ্ঠ ও শাণিত থাকে রীতিমত কাজ করে। এ সময় আল্লাহর নির্ধারিত প্রত্যেকটি কাজেই সে তার দেহ ও যাবতীয় শক্তি নিযুক্ত করতে পারে, আল্লাহর নিষিদ্ধ ও অমনোনীত প্রত্যেকটি পাপ কাজকে রুখে দাঁড়াতে পারে এবং তার যাবতীয় লোভ-লালসাকে নিয়মানুগ ও বিধিবদ্ধ করে দেয়। তাতে এমন এক নতুন শক্তির উদ্ভব হয় যে, কেবল রমযান মাসেই নয় অতপর বাকী এগারোটি মাস ধরে তা বলিষ্ঠ ও শাণিত থাকে এবং রীতিমত কাজ করে। এ সময় আল্লাহর নির্ধারিত প্রত্যেকটি কাজেই সে তার দেহ ও যাবতীয় শক্তি নিযুক্ত করতে পারে, আল্লাহর সন্তোষ লাভ হয় এমন প্রত্যেকটি ভাল কাজের চেষ্টা করতে পারে, আল্লাহর সন্তোষ লাভ হয় এমন প্রত্যেকটি ভাল কাজের চেষ্টা করতে পারে, আল্লাহর নিষিদ্ধ ও অমনোনীতি প্রত্যেকটি পাপ কাজকে রুখে দাঁড়াতে পারে এবং তার যাবতীয় লোভ-লালসাকে আবেগ-উচ্ছাস ও হৃদয় বৃত্তিত আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে আবদ্ধ রাখতে সক্ষম হয়। তার নফসের হাতে ছেড়ে দেয় না, তাই যে দিকে ইচ্ছা সেই দিকেই টেনে নিতে পারে না।

প্রভুত্বের রজ্জু তার নিজের হাতেই ধরে রাখে।নফসের যেসব লালসাকে যে সময় যতখানি এবং যেভাবে পূর্ণ করার অনুমতি আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন সে তাকে সেই নিয়ম অনুসারেই পূর্ণ করে। তার ইচ্ছাশক্তিও এতখানি দুর্বল হয় না যে, সে ফরযকে ফরয জেনে এবং তা পালন করার ইচ্ছা সত্ত্বেও পালন করতে পারে না। শুধু এজন্য দেহ রাজ্যের ওপরে সে প্রবল পরাক্রমশালী এক শাসনকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বস্তুত এ শক্তি মানুষের অভ্যন্তরে মানুষের খুদীতে সৃষ্টি করাই রোযার প্রকৃত উদ্দেশ্য। যে ব্যক্তি রোযা রেখেও এ শক্তি লাভ করতে পারে না, সে নিজেকে ক্ষুৎ-পিপাসায় পরিশ্রান্ত ও জর্জরিত করেছে। তার উপবাস ও পানাহার পরিত্যাগ একেবারে নিষ্ফল।

কুরআন এবং হাদীস-দুটিতে একথা সুষ্পষ্টরূপে র‌্যক্ত করা হয়েছে। কুরআনে বলা হয়েছে যে, তোমাদের মধ্যে তাকওয়া সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই তোমাদের ওপর রোযা ফরয করা হয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা এবং মিথ্যা কাজ করা পরিহার করতে পারলো না, তার পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনোই আবশ্যকতা নই তিনি আরো বলেছেন যে, অনেক রোযাদার এমন আছে, যারা রোযা হতে ক্ষুৎ-পিপাসার ক্লান্তি ভিন্ন আর কিছুই লাভ করতে পারে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *