অধ্যায় ০৩ : নামাযে কি পড়েন

নামায মানুষকে আল্লাহর ইবাদাত, দাসত্ব ও আনুগ্যত স্বীকার করে চলার জন্য কিভাবে প্রস্তুত করে, তা পূর্বে বিস্তারিতরূপে আলোচনা করছি। এ প্রসঙ্গে যা কিছু লেখা হয়েছে তা পাঠ করে আপনি পরিস্কারভাবে বুঝতে পেরেছেন যে একজন মানুষ যদি আল্লাহর হুকুম এবং ফরয মনে করে রীতিমতো নামায আদায় করে, তবে সে নামাযে দোআ ও সুরাগুলের কোন অর্থ বুঝতে না পারলেও এ নামাজ তার মনে আল্লাহর ভয়ে, আল্লাহর হাজের-নাযের হওয়ার কথা এবং আদালতে একদিন উপস্থিত হওয়ার বিশ্বাস নিসন্দেহে সবসময়ই জাগরুক রাখবে । সবসময় সে মনে করবে যে, সে আল্লাহ ভিন্ন অন্য কোন দাস নয়- আল্লাহই তার প্রকৃত বাদশাহ এবং প্রভু। এরই ফলে তার মধ্যে কর্তব্য পালনের অভ্যাস হবে এবং সকল অবস্থায়ই সে আল্লাহর বিধান পালন করবে চলার জন্য প্রসতুত থাকবে । মানুষের সমগ্র জীবনকে আল্লাহর বন্দেগীর অধীনে যাপন করতে এবং গোটা জীবনকে এবাদাতে পরিনত করতে হলে যে সব গুন -সিফাত অবশ্য প্রয়োজনীয় তাও এ নামাযের সাহায্যে মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয় । নামায দ্বারা এ উপকার কিরূপে লাভ করা যায় তাতে

আপনার পৃর্বের প্রবন্ধে ভালভাবে বুঝতে পেরেছেন আশা করি।

জামায়াতের সাথে নামায

আগের প্রবন্ধগুলোতে আমি শুধু নামাযের বৈশিষ্ট্য এবং উপকারিতার কথাই বলেছি। তা দ্বারা আপনারা নিশ্চই বুঝতে পেরেছেন যে, এটা কত বড় গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত। এ নাময মনুষের মধ্যে জীবন ব্যাপী বন্দেগীর ভাবধারা কেমন করে জন্মায় এবং কেমন করে তাকে এ বন্দেগীর হক আদায়ের যোগ্য করে তোলে – সে কথাও অপনারা বুঝতে পেরেছেন। এক্ষণে আমি জামায়াতের সাথে নামায আদায়ের উপকারিতার কথা আপনাদেরকে বলবো। তা দ্বারা আপনারা খুব ভাল করে বুঝতে পারবেন যে, আল্লাহ দয়া ও অনুগ্রহ করে এ একই জিনিসের মধ্যে সবরকমের নিয়ামত কিভাব জমা করে রেখেছেন। শুধু নামাযই আমাদেও পক্ষে কম ছিল না ; কিন্তু সেই সাথে জামায়াতের সাথে নামায আদায়ের আদেশ কররে আল্লাহ পাক এটাকে দ্বিগুণ উপকারিতার ভান্ডার করে দিয়েছেন এবং তাতে এক অপূর্ব শক্তি দান করেছেন, যা মনুষের মধ্যে আমূল পরিবর্তন সৃষ্টি করতে অতুলনীয়।
পূর্বেই বলেছি, জীবনের সর্বক্ষণ নিজেকে আল্লাহর বান্দাহ বলে মনে করা, অনুগত গোলামের ন্যায় মালিকের অধীন হয়ে থাকা এবং মালিকের হুকুম পালনের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকার নামই হচ্ছে ইবাদাত, আর নামায মানুষকে এ ইবাদাতের জন্যই প্রস্তুত করে । এরূপ ইবাদাতের জন্য মানুষের মধ্যে যতগুলো গুণের দরকার, নামায তার সবই মনুষের মধ্যে সৃষ্টি করে। দাস হওয়ার অনুভূতি, আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং তাঁর কিতাবের প্রতি ঈমান, পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস, আল্লাহভীতি, আল্লাহকে ‘আলেমুল গায়েব’ বলে স্বীকার করা, তাকে সবসময়ই নিজের কাছে অনুভব করা, আল্লাহর হুকুম পালনের জন্য সর্বদা নিজেকে প্রস্তুত রাখা, আল্লাহর গুকুমগুলো ভাল করে জানা — নামায এ ধরনের বহু গুণই মনুষের মধ্যে সৃষ্টি করে এব তাকে আল্লাহ তালার খাঁটি বান্দাহরূপে গড়ে তোলে।

একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন যে, মানুষ নিজে যতই গুণসম্পন্ন হোক না কেন, অন্যান্য মানুষ যতক্ষণ তাঁর সহযোগী ও সাহায্যকারী না হবে ততক্ষণ সে আল্লাহর বন্দেগীর ‘হক’ পূর্ণরূপে আদায় করতে পারবে না। মানুষ যাদের সাথে দিন-রাত জীবনযাপন করে সবসময় যাদের সাথে একত্রে কাজ করে, আল্লাহর ফরমাবরদারী করার ব্যাপারেও তারা যদি সহযেগীতা না করে, হবে সে কিছুতেই আল্লাহর হুকুম পালনে সমর্থ হয় না।

মানুষ দুনিয়ায় একাকী আসেনি। একাকী থেকে সে কিছু করতেও পারে না। সে পাড়া-প্রতিবেশী ও সহকমীর্ এবং জীবন পথেও সঙ্গী-সাথীদেও সাথে নানাভাবে জড়িত। আল্লাহর হুকুম আহকামও কোন নিসঙ্গ একটি মানুষের জন্য নয়, বরং সকল মানুষের জন্য — জীবনের সকল প্রকার সম্পর্ক সম্বন্ধ সঠিকভাবে বজায় রাখার জন্যই তা আল্লাহর তরফ থেকে এসেছে। এখন আল্লাহর হুকুম পালন করার ব্যাপারে যদি সবাই পরস্পরকে সাহায্য করে, সহযোগগিতা করে, তবেই তারা এক সাথে আল্লাহর হুকুম পালনকারী হতে পারে। পক্ষন্তরে সকলে মিলে যদি আল্লাহ নাফরমানী শুরু করে কিংবা তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক যদি এমন হয় যে, আল্লাহর আদেশ পালনে পরস্পর সহযোগিতার না না করে , তবে একজন লোকের পক্ষে সঠিকভাবে নিয়মিত আল্লাহর হুকুম পালন করা এবং আল্লাহর বিধান অনুসারে কাজ করা একেবারেই অসম্ভব।

আপনারা যদি বিশেষ লক্ষ্যের সাথে কুরআন পাঠ করেন, তাহলে জানতে পারবেন যে, আল্লাহর তায়ালা কেবল আপনাকে আল্লাহর অধীন ও অনুগত হতে এবং আল্লাহর হুকুম পালন করে চলতে বলেন নি। বরং সেই সাথে আপনাক এ আদেশও দেওয়া হয়েছে, আপনি সমগ্র দুনিয়াকে আল্লাহর অধীনের অনুগত করে দিবেন, দুনিয়াতে আল্লাহর আইন জারী করবেন। দুনিয়ার যেখানে যেখানে ‘শয়তানের’ আইন চলছে, তা বন্ধ করবেন এবং সে স্থানে এক ও লা-শরীক আল্লাহ তাআলার আইনের হুকুমাত কায়েম করবেন। আপনার প্রতি আল্লাহ এতে‌ যে, বিরাট খেদমতের আদেশ দিয়েছেন একজন লোকের পক্ষে এ কাজ সমাধা করা কিছুতেই সম্ভব হতে পারে না। এ মতে বিশ্বাসী কোটি কোটি মুসলমানও যদি হয়ে আর তার বিভিন্ন ও বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকে — তাদের মধ্যে কোন যোগাযোগ বা সম্পর্ক না থাকে তবে তারাও ‘শয়তানের’ সুশৃংখলিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত শক্তিকে কিছুতেই পরাজিত করতে পারবে না। এজন্যই মুসলমানদেও দলবব্ধ হওয়া ও পরস্পরকে সহায্য করা, একে অন্যেও পৃষ্ঠ-পোষক ও সমর্থক হয়ে দাড়ান এবং সকলে একই উদ্দেশ্যে হাসিল করার জন্য সম্মিলতভাবে সংগ্রাম-সাধনা করা অপরিহার্য।

একটু গভীরভাবে দেখলে একথাও পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এতবড় বিরাট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য মুসলমানদের কেবল মিলিত ও একতাবদ্ধ হওয়াই যথেষ্ট নয়। তাদের মিলিত হতে হবে ঠিক পন্থা অনুসারে অর্থাত্‌ এমনভাবে মুসলমানদের একটি জামায়াত গঠন করতে হবে, যেন তাদের পরস্পরের সাথে সঠিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় — তাদের পরস্পরের সম্পর্কেও মধ্যে যেন কোনরূপ দোষ-ত্রুটি না থাকে। তাদের মত, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও কর্মনীতির পূর্ণ ঐক্য বর্তমান থাকা চাই। তাদের একজন অমির ও নেতা হওয়া দরকার, তাদের মধ্যে সেই নেতার ইশারা অনুসারে কাজ করার আভ্যাস ও স্পৃহা থাকা চই। তাদের কে নেতার হুকুম পালন করতে হবে আর তা কত দূরইবা করতে হবে এবং কোন্‌ কারণে‌ ঘটলে নেতার বিরধিতাও করা যেতে পারে — তাও তাদের ভাল করে বুঝে নেয়া আবশ্যক। এ গুলো মনে রখুন এৰং জামায়াতর সাথে নামায পড়লে এসব গুরুত্বপূর্ণ ভাবধারা নামাযীদেও মধ্যে কেমন করে জেগে উঠে তা চিন্তা করে দেখুন।

আযান শোনা মাত্রই সবকাজ-কর্ম ছেড়ে মসজিদের দিকে যাওয়ার হুকুম দেয়া হয়েছে। কাজেই আযানের সাথে সাথেই মুসলমানদেও নিজ নিজ কাজ ত্যাগ করা এবং একই কেন্দ্রেও (সমজিদ) দিকে সকলের অগ্রসর হওয়া একটি বিরাট সৈন্যবহিনীর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সৈন্য শিবিরে ‘বিউগলের’ আওয়ায হওয়ার সাথে সাথেই প্রত্যেকটি সৈনিক বুঝতে পারে যে, সেনাপতি সকলকে ডাকছেন। এ সময় সকলের মনে একই ভাব উদয় হয়। সেই ভাব হচ্ছে সেনাপতির নির্দেশ পালনের কর্তব্য ও দায়িত্ব। একথা মনে হওয়ার সাথে সাথে সকলে একই কাজ করে, অর্থাৎ যে যে খানে আছে সেখানে হতে সে আওয়ায শোনা মাত্র নির্দিষ্ট স্থানের দিকে দৌঁড়াতে থাকে। সৈন্যদেও জন্য এ অনন্য পন্থা কেন গ্রহণ করা হয়ছে।? প্রথম এজন্য যে যেন আলাদাভাবে প্রত্যেকটি সৈনিকের মধ্যে হুকুম পালন করার এবং হুকুম পলনের জন্য সবসময়ই প্রস্তুত থাকার অভ্যাস হবে। দ্বিতীয়ত, সেই সাথে এ ধরনের সকল অনুগত সিপাহীদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী দল গঠিত হবে এবং সেনাপতির আদেশে একই সময় একই স্থানে সমবেত হওয়ার অভ্যাস হবে। এ অভ্যাসটি এজন্য দরকার যে, হঠাত্‌ কোন ঘটনা যদি দেখা দেয় তখন যেন সকল সিপাহী এই আওয়াযে এ‌কইস্থানে হাজির হয়ে কাজ করতে পারে। প্রত্যেক সৈনিক ব্যক্তিগতভাবে যদি খুব বড় বাহাদুর হয়, কিন্তু কাজের সময় ডাকলে অবিলম্বে উপস্থিত হয়ে যদি লড়াই করতে না পারে, তাহলে তাদেরর বাহাদুরিগিরি কোন মূল্য থাকে ন। ডাক দেয়া মাত্র সৈন্যগন যদি একত্র না হয়ে বরং নিজ নিজ ইচ্ছামত একেক দিকে চলে যায়, তবে এ ধরনের হাজার বীর সৈনিকককে শত্রপক্ষের পঞ্চাশটি সৈনিকের এশটি শৃংখলাবদ্ধ দল নাস্তানাবুদ করে দিতে পারে।

ঠিক এ নিয়মেই আযান শুনা মাত্রই কাজ-কর্ম ছেড়ে নিকটস্থ মসজিদে হাজির হবার জন্য মুসলমানকে আদেশ করা হয়েছে যেন সব মুসলমান মিলে আল্লাহর একটি সৈন্যদলে পরিনত হতে পারে। এভাবে দৈনিক পাঁচবার আযান শুনামাত্র হাজির হওয়ার অভ্যাস করানো হয় এজন্য যে, দনিয়ার সকল প্রকার সৈনিকের তুলনায় এ খোদায়ী সেনাদেও কর্তব্য অনেক বেশী, অনেক কঠোর। অন্যান্য ফৌজের পক্ষে বহুকাল পরেও হয়ত যুদ্ধ করার প্রয়োজন পড়েনি এবং কবে কোন্‌ সময় যুদ্ধ বাধবে সে জন্য বহু পূর্বে থেকেই এত সব ট্রেনিং দেয় হয়। কিন্তু এ খোদায়ী ফৌজকে প্রত্যেক মুহূর্তেই শয়তানী শক্তির সাথে লড়াই করতে হয় এবং প্রত্যেকটি মুহূর্তেই সেনাপতির আদেশ পালনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয় । এজন্য মুসলমানদের দিন-রাতের মধ্য পাঁচবার খোদায়ী ‘বিউগল’ —- আযানের আওয়াযে আল্লাহর শিবির মসজিদের দিকে ছুটতে হয়, বলতে হবে , দায়িত্ব ও কর্তব্যেও তুলনায় তাদের প্রতি এটাকে অনেক অনুগ্রহ করা হয়েছে সন্দেহ নেই। এ যাবত শুধু আযানের সৌন্দর্যের কথাই আলোচনা করা হয়েছে। আযান শুনে সকল মুসলমান মসজিদে হাজির হয় কেবল সে জামায়েতের মধ্যেই অনেক সৌন্দর্য-সার্থকতা নিহিত ওয়েছে। এখানে মিলিত হয় মসলমানগণ পরস্পরকে দেখতে পান, চিনতে ও পরিচয় লাভ করতে পারেন।

কিন্তু আপনারা পরস্পরের সাথে এই যে মিলিত ও পরিচিত হন, তা কোন্‌ সূত্রে ? এ সূত্রে যে, আপনারা এক আল্লাহর বান্দাহ, এক রাসূলের অনুসরণকারী, এক কুরআন শরীফই আপনাদের সকলেরই কিতাব—- জীবন বিধান এবং আপনাদের সকলেরই জীবনের উদ্দেশ্য এক। সেই একই উদ্দেশ্য লাভ করার জন্য আপনারা মসজিদে একত্রিত হয়েছেন এবং এখানে থেকে ফিরে যাওয়ার পর ও অপনারা প্রত্যোকেই সে একই উ‌দ্দেশ্য হাসিলের জন্য চে‌ষ্টা করবেন ; বস্তুত এ ধরনের পরিচয় এবং এরূপ সাহচর্য স্বাভাবিক ভাবে আপনদের মনে এ খেয়াল জাগিয়ে দেয় যে, আপনার সকলেই একটি জাতির অন্তুভূক্ত‌, একই ফৌজের সিপাহী আপনারা । আপনাদের একে অপরের ভাই। দুনিয়ায় আপনাদের জীবেনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক, আপনাদের লাভ-লোকসানে সকলেই আপনারা শরীক ও অপনাদের পরস্পরের জীবন একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত।

আপনারা যখন পরস্পরের দিকে তাকাবেন তখন ঠিক চোখ-মন অন্তর খুলে উদার দৃষ্টিতে তাকাবেন। শত্রু যে দৃষ্টিতে দেখে থাকে অপনারা কারো প্রতি সেভাবে তাকান না বরং বন্ধু যেরূপ বন্ধুর দিকে তাকায়, ভাই যে চোখে ভাইয়ের দিকে তাকায়, ঠি্‌ক সেই দৃষ্টিতেই একজন অপরজেনের প্রতি তাকিয়ে থাকেন। এভাবে তাকাবার ফলে আপনি যখন কোন ভাইকে পুরাতন ও ছেড়া কাপড় পরিহিত দেখতে পাবেন, কাউকে বিশেষ চিন্তিত বিপদগ্রস্ত বা ক্ষুধার্ত দেখবেন, কাইকে দেখবেন অক্ষম-পংগু, পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও অন্ধ তখন অপনার অন্তরে আপনা আপনিই সহানভুতি ও দয়ার উদ্রেক হবে। অপনারা ধনী লোকেরা গরীব ও অসহায় দুঃস্থদের দুঃখ অনুভব করবেন, ফকীর-মিসকিন লোকেরা ধনীদের কাছে পৌঁছে নিজেদের দুরবস্থার কথা বলার সহস পবে। কারো সম্পর্কে যদি আপনি জানতে পারেন, যে সে অসুস্থ কিংবা বিপদগ্রস্ত বলে মসিজিদে আসতে পারেন নি তখন তাকে দেখতে যাবার জন্যু্য অপানার মনে অগ্রহ হবে। কারো মৃত্যুর্ সংবাদ পেলে জানাযা পড়তে যেতে পারেন এবং তার শোকসন্তপ্তপরিবারবর্গের পৃতি সমবেদনা প্রকাশ করতে পারেন। বস্তুত এ কাজই আপনাদের পরস্পরের মধ্যে গভীর ভালবাসা ও সহানুভুতি সৃস্টি করবে।

আর একটু ভেবে দেখুন — অপনারা যেখানে একত্র হন তা একটি পাক পবিত্র স্থান। এ পাক স্থানে মহান উদ্দেশ্য নিয়ৈ অপনারা একত্রিত হয়ে থাকেন। চোর-ডাকত, শরাবী আর জুয়াড়ী দলও একস্থানে একত্র হয় বটে ; কিন্তু তাদের সকলের মন অসত্‌ ইচ্ছায় পরিপুর্ণ থাকে। কিন্তু অপনাদের সমবেত হওয়াকে এদর সাথে তুলনা করা যায় না। কারণ এখনে আল্লাহর খাঁটি বান্দাগণই একতি হয়ে থাকেন — আল্লাহর ইবাদাদতের জন্য আপনাদের এ সম্মেলন আল্লাহর ঘরে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

আল্লাহর সামনে বন্দেগী ও দাসত্বের খালেছ মনে স্বীকার করার জন্যি এখনে সকলে সবমসেত হন। এমতাতাবস্থায় ইমানদার লোকদের মনে অপানা আপনি নিজ নিজ গুনাহের জন্য লজ্জার অনুভূতি জেগে উঠে। অন্য দিকে যদি কোন মানুষ অন্য কারো সামনে কোন গুনাহের কাজ করে থাকে, আর সেই ব্যক্তি যদি মসজিদে হাজির হয়, তাহলে কেবল এতেই গুনাহগার ব্যক্তি লজ্জায় মরে যায়। উপরন্তু মুসলমানদের মনে পরস্পরকে উপদেশ দেয়ার ভাবও যদি বর্তমান থাকে এবং সে যদি দরদ ভালবাসা ও সহানুভুতির সাথে একজনের দোষত্রুটি কেমন করে দূর করা যায়, তা ভাল করে জেনে নেয়, তবে তাদের এ সম্মেলনের প্রতি আল্লাহর অশেষ রহমত ও বরকত নাযিল হবে— তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। এভাবে জামায়াতে নামায পড়ার সুযোগে এক মুসলমান অন্য মুসলমানের দোষ-ত্রুটি সংশোধন করতে পারবেন— একজন অন্যজনের অভাব পূরণ করবেন। ফলে ধীরে ধীরে গোটা সমাজই সৎ‌ ও নেককার হতে পারবে।

মসজিদে কেবল মিলিত হওয়ার মধ্যেই এ বিরাট বরকত রয়েছে। এরপর জামায়াতের সাথে নামায পড়ার উপকারিতা ও বরকত যে কত অসীম তাও ভেবে দেখুন। নামাযীগণ সকলে একই সারিতে সমানভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাদের কেউ বড় নয়, কেউ ছোট নয়, কেউ উচ্চ নয়, কেউ নীচু নয়- আল্লাহর দরবারে, আল্লাহর সামনে সকল মানুষ একেবার সমান। কারো হাত লাগলে বা কারো স্পর্শ লাগলে তাদের কেউ নাপাক হয়ে যায় না। এখানে অস্পৃশ্যতার কোনো অবকাশ নেই। তাদের সকলেই পাক এবং পবিত্র ; কারণ এরা সকলেই মানুষ, সকলেই এক আল্লাহর বান্দাহ: একই দ্বীন ইসলামের অনুগামী। এ নামাযীদের মধ্যে বংশ, পরিবার, গোত্র, দেশ আর ভাষায় আদৌ কোনো পার্থক্য নেই। ব্যক্তিগতভাবে এদের কেউ সাইয়েদ, কেউ পাঠান, কেউ খাঁ সাবেহ, কেউ হাওলাদার আর কেউ চৌধুরী সাহেবও হতে পারেন। আবার এদের একজন হয়ত এক দেশের অধিবাসী আর একজন অন্য দেশের অধিবাসী। কেউ এক ভাষায় কথা বলে, কেউ অন্য ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আল্লাহর ইবাদাত করে। এর অর্থ এই যে, তারা সকলেই এক জাতির লোক। এখানে বংশ-গোত্র, দেশ-অঞ্চল ও জাতীয়তার প্রভেদ পার্থক্য একেবারে মিথ্যে। মানুষের পরস্পরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সম্পর্ক হচ্ছে আল্লাহর বন্দেগী, আল্লাহর ইবাদাত। এ ব্যাপারে আপনারা সকলেই যখন এক তখন অন্যান্য ব্যাপারেও আপনাদের ভিন্ন ভিন্ন ও বিচ্ছিন্ন কোনোই কারণ থাকতে পারে না।

আপনারা যখন সারি বেঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ান, তখন মনে হয় যেন একটি বিরাট সৈন্যবাহিনী বাদশাহের সামনে কর্তব্য পালনের জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। কাতার বেঁধে দাঁড়ানোর এবং একত্রে মিলে ওঠাবসা করায় নামাযীদের মনে পরম ঐক্যভাবের সৃষ্টি হয়। এভাবে নামাযের ভিতর দিয়ে সকলকে আল্লাহর বন্দেগী করার অভ্যাস করানো হয়-তাদের সকলের হাত একত্রে ওঠবে, সকলের পা এক সাথে চলবে। তাতে পরিস্কার মনে হবে যে, নামাযীরা বিশজন বিশজন কিংবা একশজন নয়-তারা একত্রে মিলে একটি অখন্ড মানুষে পরিণত হয়েছে।

জামায়াত ও কাতারবন্দী হওয়ার পরে কি করা হয়? সকল নামাযী একই ভাষায় আল্লাহর সামনে একই আরয জানায় : اِيَّاكَ وَاِيَّاكَ نَسْتَعِيْنُহে আল্লাহ আমরা কেবল তোমারই ইবাদাত করি এবং কেবল তোমারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি। اِهْدِنَا الصِّرَاظَ الْمُسْتَقِيْمَ হে আল্লাহ আমাদেরকে সহজ সঠিক পথ দেখাও। رَبِّنَا لَكَ الْحَمْدُ হে আল্লাহ! সব তারীফ প্রশংসা কেবল তোমারই জন্য। اَلسَّلاََمُ عَلَيْنَا وَعَلى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِيْنَ ـ আমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপরও। তারপরে নামায শেষ করে একে অপরকে এ বলে সালাম করে اَلسَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ ـ এর অর্থ এই যে, নামাযীদের প্রত্যেকেই পরষ্পর কল্যাণকামী এবং সকলে মিলে একই মালিকের কাছে সকলের মঙ্গল দাবী করেছে। কোনো নামাযী একাকী নয়, তাদের কেউই কেবলমাত্রই নিজের জন্য কল্যাণ কামনা করে না। বরং সকলের মুখে এ দোআ যে, হে আল্লাহ! আমাদের সকলেরই প্রতি তোমার অনুগ্রহ ও কল্যাণ বর্ষিত হোক, সকলকে একই সহজ ও সোজা পথে চলার তৌফিক দাও, সকলের ওপরেই শান্তি বর্ষিত হোক। নামায এভাবে সকল নামাযীর দিলকে পরস্পরের সাথে মিলিয়ে দেয়, সকলের মনে একই খেয়াল ও একই চিন্তাধারা জাগরিত করে, তাদের পরস্পরের মধ্যে গভীর ভালবাসা, ঐক্য ও মংগলাকাংখার সৃষ্টি হয়।

কিন্তু মনে রাখবেন, জামায়াতের সাথে ইমাম ছাড়া পড়া যায় না। দু’জন মিলে পড়লেও তাদের মধ্যে একজনকে ইমাম ও অপরজনকে মোকতাদী হতে হয়। জামায়াত শুরু হলে তা থেকে আলাদা হয়ে একাকী নামায পড়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। বরং হুকুম রয়েছে যে, জামায়াত আরম্ভ হওয়ার পর যেই আসবে, তাকে সেই ইমামের পিছেনেই (একতেদা করে) দাঁড়াতে হবে। এসব কাজ কেবল নামাযের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, আসলে এটা দ্বারা একটি বড় শিক্ষা এই দেয়া হচ্ছে যে, মুসলমান হিসেবে জীবন যাপন করতে হলে এভাবে জামায়তবন্দী হয়ে থাকতে হবে। আর আপনাদের মধ্যে একজন যদি ইমাম না হয় তাহলে আপনাদের সেই জামায়াত গঠনই হতে পারে না। জামায়াত গঠন হওয়ার পরেও তা থেকে আলাদা হয়ে থাকলে আপনাদের জীবন মোটেই ইসলামী জীবন নয়। মুসলিম জীবনরে সাথে এর আদৌ সম্পর্ক নেই।

এখানেই শেষ নয়। জামায়াতের সাথে নামায পড়ার মাধ্যমে ইমাম ও মোকতাদীদের মধ্যে একটা বিরাট মযবুত সম্পর্ক সৃষ্টি হয়-যার সাহায্যে প্রত্যেকটি মুসলমানই জানতে পারে যে, এ ছোট্ট মসজিদের বাইরে পৃথিবী নামক বিরাট মসজিদে ইমামের মর্যাদা কি? তার কর্তব্য কি? তাঁর কি কি হক আছে? সেই বড় মসজিদেরে ইমামের অনুসরণ আপনাকে কিভাবে করতে হবে, সে ভুল করলে আপনি কি করবেন? তার ভুলকে আপনি কতক্ষণ বরদাশত করবেন? কখন আপনি তার ভুল ধরতে পারবেন? আর তা শোধরাবার দাবী করতে পারবেন? আর কোন অবস্থায় ইমামকে পদচ্যুত করতে পারবেন? এ সমস্ত কথা

ছোটখাটোভাবে প্রত্যেক মুসলিমকে মসজিদের মধ্যে জামায়াতের সাথে নামায পড়ার ভিতর দিয়ে শিক্ষা দেয়া হয়। এক কথায় মসজিদে একটি ছোটখাট রাজ্য চালাবার নিয়ম-কানুন দৈনিক পাঁচবার শিক্ষা দেয়া হয় এবং তার অভ্যাস করানো হয়।
একথাগুলো বিস্তারিতভাবে বলার অবকাশ এখানে নেই। সংক্ষেপে কয়েকটি প্রয়োজনীয় কথা বলে রাখছি।

শরীয়াতের আদেশ এই যে, সমাজের লোকদের মধ্যে যে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশী পরহেযগার হবে, ইলম যার বেশী হবে কুরআন শরীফ যে সকলের অপেক্ষা ভাল করে পড়তে ও বুঝতে পারবে এবং সেই সাথে যার উপযুক্ত বয়স হয়েছে, ঠিক তাকেই নামাযের ইমাম বানাতে হবে। কর্মক্ষেত্রে যারা জাতির নেতা হবে তাদের মধ্যে কি কি গুণ থাকা অবশ্য দরকার-উক্ত ব্যবস্থা দ্বারা পরিস্কারভাবে তারই শিক্ষা দেয়া হয়েছে।

শরীয়াত ব্যবস্থা করা হয়েছে যে, নামাযের ইমাম এমন ব্যক্তিকে বানাতে হবে, যে সকল নামাযীর অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে নামায পড়বে। কারণ নামাযদের মধ্যে অনেক রুগ্ন, বৃদ্ধ, অসুস্থ আর দুর্বল লোকও থাকতে পারে। এমতবস্থায় কেবল যুবক, শক্তিমান আর অবসর বিশিষ্ট মানুষদের প্রতি লক্ষ্য রেখে নামাযে লম্বা লম্বা কেরাত পড়লে এবং লম্বা লম্বা রুকূ সেজদা করতে থাকলে অন্যের পক্ষে অনেক কষ্ট ও অসুবিধা হতে পারে। তাই ইমামের মনে রাখতে হবে যে, নামাযীদের মধ্যে অনেক বৃদ্ধ আছে, রুগ্ন ও দুর্বল ব্যক্তি আছে, রুগ্ন ও দুর্বল ব্যক্তি আছে এবং এমন অনেক লোক যারা তাড়াতাড়ি নামায পড়ে নিজ নিজ কাজে ফিরে যেতে চায়। হযরত নবী করীম (সা) এ ব্যাপারে অনেক সহানুভূতি দেখিয়েছেন। নামায পড়াবার সময় কোন শিশুর কান্নার আওয়ায শুনতে পেলেও তিনি নামায অনেক সংক্ষেপ করতেন। কারণ শিশুর মাতা (কিংবা পিতা) এ জামায়াতে শরীক থাকলে তার মনে কষ্ট হতে পারে-তাই নামাযের ব্যাঘ্যত হতে পারে। এ নিয়ম দ্বারা জাতির নেতৃবৃন্দকে শিক্ষা দেয়া হয়েছে, তখন প্রত্যেক কাজেই জাতির সকল প্রকার লোকের প্রতি তার লক্ষ্য থাকা বাঞ্চনীয়। শরীয়াতের ব্যবস্থা এই যে, নামায পড়াবার সময় ইমামের যদি এমন কোনো অবস্থা হয়, যাতে সে আর নামায পড়াতে পারছে না, তাহলে অবিলম্বে তার সরে গিয়ে অন্য এক ব্যক্তিকে ইমাম পড়াতে পারছে না, তাহলে অবিলম্বে তার সরে গিয়ে অন্য এক ব্যক্তিকে ইমাম করে দেয়া আবশ্যক। এ থেকে এ নির্দেশ পাওয়া যায় যে, জাতির নেতা যখন নিজ পার্থক্য পালনে অক্ষম হবে, তখন সে নিজেই পদত্যাগ করে অন্য কোনো উপযুক্ত লোককে সেখানে নিযুক্ত করার ব্যবস্থা করবে। এটা করা তার পক্ষে ফরয। এ কাজে তার কোনো লজ্জা হওয়া উচিত হয়, এতে স্বার্থপরতাও নেই।

শরীয়াতের আদেশ এই যে, ইমাম যা করবে মোকতাদীগণও তার অনুসরণ করতে বাধ্য থাকবে। ইমামের কোনো কাজ করার আগে মোকতাদীর তা করা একেবারে নিষিদ্ধ। এমনকি হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমামের আগে কেউ রুকূ বা সিজদা করলে কিয়ামতের দিন তাকে গাধা বানিয়ে ওঠানো হবে। নেতাকে অনুসরণ করে চলা অবশ্য কর্তব্য এখানে মুসলিম জাতেকে তাই শিক্ষা দেয়া হয়েছে।

নামাযের মধ্যে ইমাম কোনো ভুল করলে অর্থাৎ যখন দাঁড়ান দরকার তখন বসলে, কিংবা যখন বসা দরকার তখন দাঁড়ালে সুবহানাল্লাহ বলে তার ভুল ধরে দেয়া মোকতাদীগণকে পক্ষে অবশ্য কর্তব্য। সুবহানাল্লাহ অর্থ হচ্ছে আল্লাহ তাআলা পাক ও মহান। ইমামের ভুল ধরার সময় সুবহানাল্লাহ বলার তাৎপর্য এই যে, কেবল আল্লাহ তাআলাই সকল প্রকার ভুল-ত্রুটি হতে পবিত্র; তুমি মানুষ, তোমার ভুল হওয়া কোনো অসম্ভব ব্যাপার নয়। ইমামের ভুল ধরার জন্য ইসলামে এটাই নিয়ম করা হয়েছে।

নামাযের মধ্যে ইমাম কোনো ভুল করলে অর্থাৎ যখন দাঁড়ান দরকার তখন বসলে, কিংবা যখন বসা দরকার তখন দাঁড়ালে সুবহানাল্লাহ বলে তার ভুল ধরে দেয়া মোকতাদীগণের পক্ষে অবশ্য কর্তব্য। সুবহানাল্লাহ অর্থ হচ্ছে আল্লাহ তাআলা পাক ও মহান। ইমামের ভুল ধরার সময় সুবহানাল্লাহ বলার তাৎপর্য এই যে, কেবল আল্লাহ তাআলাই সকল প্রকার ভুল ত্রুটি হতে পবিত্র; তুমি মানুষ, তোমার ভুল হওয়া কোনো অসম্ভব ব্যাপার নয়। ইমামের ভুল ধরার জন্য ইসলামে এটাই নিয়ম করা হয়েছে।

এ নিয়মে যখনই ইমামের ভুল ধরা হবে, তখন কোনো প্রকার লজ্জা-শরমের প্রশ্রয় না দিয়ে তার নিজ ভুল সংশোধন করে নেয়া উচিত। অবশ্য ভুল ধরে দেয়ার পরেও ইমাম যদি নিসন্দেহে মনে করে যে, তার কোন ভুল হয়নি সে ঠিক কাজ করেছে, তখন সে নিজ বিশ্বাস অনুসারে যতারীতি নামায সমাধা করবে। এমতবস্থায় জামায়াতের লোকদের পক্ষে ইমামের ভুলকে ভুল মনে করেও তার অনুসরণ করা কর্তব্য। নামায শেষ হওয়ার পরে ইমামের সামনে তার ভুল প্রমাণ করে পুনরায় নামায পড়াবার দাবী করার অধিকার সকল নামাযীরই আছে।

ইমামের সাথে জামায়াতের লোকদের এরূপ ব্যবহার মাত্র ছোটখাট ভুলের ব্যাপারে হবে। কিন্তু ইমাম যদি নবীর সুন্নাতের খেলাফ নামায পড়াতে শুরু করে কিংবা নামাযের মধ্যে জেনে বুঝে কুরআন শরীফ ভুল পড়ে অথবা নামায পড়াবার সময় কোনো কুফরী, শিরকী বা প্রকাশ্য গুনাহের কাজ করে বসে-তখন নামায ছেড়ে দিয়ে সেই ইমাম পরিত্যাগ করা প্রত্যেক নামাযীর পক্ষেই ফরয।

মুসলমান সমাজকে জাতীয় জীবনে তাদের নেতাদের সাথে কিরূপ ব্যবহার করতে হবে, নামায সম্পর্কে শরীয়াতের এসব হেদায়াত দ্বারা তা চমৎকারভাবে শিক্ষা দেয়া হয়েছে।

জামায়াতের সাথে নামায পড়ার সার্থকতা ও সুফলের কথা এখানে বলা হলো-তা দ্বারা আপনারা পরিস্কারভাবে জানতে পারলেন যে, আল্লাহ তাআলার এ একটি কথা মাত্র ইবাদাত-যা দিন ও রাতে পাঁচবার মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য করতে হয়-তাতে মুসলমানদের জন্য দুনিয়া আখেরাতে সকল স্থানেই বড় কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তা দ্বারা বুঝতে পারা যায় যে, মাত্র এ একটি জিনিস মুসলমানকে যথার্থ ভাগ্যবান করে দিতে পারে এবং এটা কেমন করে মুসলমানকে আল্লাহর গোলামী এবং দুনিয়ায় নেতৃত্ব করার জন্য তৈরি করে দেয়। এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন উঠতে পারে যে, নামায যখন সকল কল্যাণে পরিপূর্ণ তখন বর্তমান সময় এর এতসব কল্যাণ কোথায় গেল? এ প্রশ্নের জবাব পরবর্তী প্রবন্ধে দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *