অধ্যায় ০০ : ভূমিকা

১৯৫১ সালের ১৩ই নভেম্বর করাচিতে অনুষ্ঠিত জামায়াত ইসলামীর বার্ষিক সম্মেলনের শেষ অধিবেশনে কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত বক্তৃতা। এই বইটিতে ১৮টি বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

আল্লাহর সাথে সম্পর্ক –

– নবী রাসূলগণ মানুষকে আল্লাহ কে ভয় করতে, মনে প্রাণে তার প্রতি ভক্তি পোষণ করতে এবং তার সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে তাকিদ দিয়েছেন।
– আমাদের সামগ্রিক জীবনরে সংস্কার সংশোধন এবং উন্নতির জন্য যাবতীয় চেষ্টা তৎপরতার মূলে অন্যান্য উদ্দেশ্যের তুলনায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আগ্রহই প্রাধান্য লাভ করাই বাঞ্চনিয়। আমাদের আন্দোলন আল্লাহ সন্তুষ্টির ভিত্তিতেই সম্পন্ন হবে।

ফজিলত

খোদার সাথে আমাদের যতখানি গভীর সম্পর্ক থাকবে আন্দোলন তত মজবুত হবে। আর সম্পর্ক যত দূর্বল হবে আন্দোলন তত দূর্বল হবে।
– এ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের সঠিক জবাব না জানার কারণে অনেকে নিস্তেজ হয়ে যায়, নিজেকে অসহায় মনে করে।
আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের অর্থ আল্লাহর সাথে সম্পর্কের সঠিক অর্থ কোরআনে বলে দিয়েছে।
অর্থ- নিশ্চয় আমার নামাজ, আমার কুরবানি, জীবন, মৃত্যূ সবই একমাত্র রব্বুল আলামিনের জন্যই উৎসর্গকৃত। (আনফাল-১৩)
– সে সম্পুর্ণ একাগ্রতার সাথে নিজের দ্বীনকে একমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট করে তার ইবাদত করবে।
– সকল প্রকার কাজ যদি আল্লাহর উদ্দেশ্য করে থাকে তবে সে খোদার সাথে সম্পর্ক পূর্ণ বহর। যেমন হাদিসে আছে
– দোয়া কুনুত যা আমরা নামাজের ভিতর পড়ে থাকি খোদার সাথে সম্পর্কের পরিচয় তুলে ধরে অত্যন্ত সুন্দর ভাবে।

আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির উপায়

আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের উপায় একটি আর সেটি হলো মানুষকে সর্বান্ত করনে এক ও লাশরিক আল্লাহকে নিজের এবং সমগ্র জগতের মালিক, উপাস্য এবং শাসক রুপে স্বীকার করতে হবে।
সম্পর্ক বৃদ্ধির উপায় ২টি

১. চিন্তা ও গবেষনার পন্থা
২. বাস্তব কাজের পন্থা

১) চিন্তা ও গবেষণার পন্থা

ক) পবিত্র কোরআন ও হাদিস বুঝে অধ্যয়ন করতে হবে
খ) বারবার অনুশীলন করতে হবে
গ) খোদার সাথে যেই রুপ সম্পর্ক থাকা উচিত সেই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে।
ঘ) কোরআন ও হাদিসের আলোকে যে সকল বিষয়ে আল্লাহর সাথে যোগসূত্র অনুভূত হবে সে বিষয়ে চিন্তা করা এই অনুভূতিই যতই ভাল হবে সম্পর্ক ততোই ভাল হবে।
ঙ) নিজের অবস্থা সম্পর্কে চিন্তা বিচার বিশ্লেষণ করতে হবে।
আল্লাহর সাথে আমাদের ৪টি সম্পর্ক রয়েছে যথা-
১. তিনি আমাদের মাবুদ ও আমরা তার গোলাম
২. পৃথিবীর বুকে আমরাই তার প্রতি ঈমান এনেছি

৩. আমরা ঈমান এনে তার সাথে একটি বিনিময় চুক্তি সম্পাদন করেছি।

৪. আমাদেরকে তার নিকট প্রতিদিন অনুপরিমান জিনিসের জবাব দিহি করতে হবে।

২) বাস্তব কাজের পন্থা

► বাস্তব কাজ বলতে বুঝায় নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর বিধানের আনুগত্য করা এবং তার সন্তুষ্টি বিধানের জন্য অনুরুপ প্রতিটি কাজে প্রাণপাত পরিশ্রম করা।
► আর নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর আনুগত্যের অর্থ হলো, কেবল অনিচ্ছায় নয় বরং স্বত:স্ফুর্ত আগ্রহ উৎসাহের সাথে গোপনে এবং প্রকাশ্যে সর্ব অবস্থায় আল্লাহর যাবতীয় নির্দেশিত কাজ সম্পন্ন করা।
► আল্লাহ তায়ালার পছন্দ অনুসারে প্রত্যেকটি সৎ কাজের প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় আগ্রহের সাথে আতœনিয়োগ করবে এবং তার অপছন্দনীয় প্রত্যেকটি কাজ প্রতিরোধ করতে ব্রত হবে।

আল্লাহর সম্পর্কের বিকাশ সাধনের উপায়

► সালাত – ফরজ নামাজের সাথে সুন্নাত ও নফল নামাজ বেশি করে আদায় করা।
► আল্লাহর জিকির – রাসূল (সা:) দোয়া ও যিকির যতখানি সম্ভব মুখস্ত করা এর শব্দের অর্থ জেনে নিয়ে তা সব সময় পড়ার চেষ্টা করা। পড়ার সময় অর্থের দিকে ল্য রাখা।
► সাওম – ফরজের সাথে সাথে নফল রোজা রাখার অভ্যাস করতে হবে। তবে শর্ত হলো দান যত ুদ্রই হোকনা কেন এখলাসের সাথে করা।

আল্লাহর সাথে সম্পর্ক যাচাই করার উপায় –

আল্লাহর সাথে সম্পর্ক যাচাই করার জন্য কাশফ কেরামতের ধ্যান-ধারনার কোন প্রয়োজন নেই। বরং নিজেই নিজের প্রাত্যহিক জীবনের প্রত্যেকটি নের হিসাব গ্রহণ করা, যে নিজের উপর খোদা প্রদত্ত যে দায়িত্ব ছিল তা যথাযথ ভাবে পূরণ হয়েছে কিনা।

আখিরাতকে অগ্রাধিকার দান –

সকল কাজে দুনিয়ার সুযোগ সুবিধার চেয়ে আখেরাতের প্রতি অধিক গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। এবং প্রত্যেকটি কাজের মূল্যে আখেরাতের সাফল্য লাভের আকাংখাকেই একমাত্র ল হিসাবে গ্রহণ করতে হবে।
আখেরাতের চিন্তার লালন –

আখেরাতে চিন্তার লালন দু’ভাবে করা যায় –

১. চিন্তা ও আদর্শ মূলক
২. বাস্তব কর্মপন্থা

১) চিন্তা ও আদর্শ মূলক : অনুশীলন হলে নিয়মিত কোরআন বুঝে পড়তে হবে এবং আখেরাতের চিত্র স্মৃতিপটে ফুটিয়ে তুলতে হবে

► রাসূল (সা:) এর আখিরাত সম্পর্কিত হাদিস গুলি গতির মনোনিবেস সহ অধ্যয়ন করতে হবে।
► সাহাবাদের আখিরাত সম্পর্কে অনুভূতি মনের মধ্যে সর্বদা জাগ্রত রাখতে হবে।
► বেশি বেশি কবর জিয়ারত করতে হবে। কারণ এর মাধ্যমে মনে মৃত্যু ভয় জাগে

২) বাস্তব কর্মপন্থা

 যখন নিজের সামনে দুনিয়া ও আখেরাত দুটি জিনিসের হাতছানি দেয় তখন আখিরাতের পথ বেছে নিতে হবে।
► যদি ভুল পথে অগ্রসর হয় এবং ভুল বুঝতে পারে তবে সাথে সাথে ফিরে আসতে হবে।
► দুনিয়ার কাছে কোন কোন েেত্র পরাজিত আর কোন কোন েেত্র জয়ী তা মাঝে মাঝে হিসাব করে দেখাতে হবে।
► এ চিন্তা থেকে বুঝা যাবে আখেরাত সম্পর্কে ধারণা বা সম্পর্ক কতখানি মজবুত আছে আর কতখানি ঘাটতি আছে এর মাধ্যমে যে, দূর্বলতা প্রকাশ পাবে তা কাটিয়ে উঠতে হবে।

অযথা অহমিকা বর্জন

► অহমিকা বর্জন করা একজন ইসলামী আন্দোলনের কর্মী একান্ত কর্তব্য। এর বিভিন্ন উপায় রয়েছে
► ইসলামী সংগঠনে এসে পড়ায় বিরাট কিছু করে ফেলা হয়েছে বা বিরাট ফামিলিয়াত হাসিল হয়েছে এমন ভাবার কোন কারণ নেই।
► সাহাবাদের আমলের কামিলিয়াত ও তাদের সামগ্রিক মনে রাখতে হবে। তাদের মান অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।
► সর্বদা উন্নত আমল সম্পন্ন লোকেদের অনুকরন করতে হবে।
► ধন সম্পদের ক্ষেত্রে গরিবদের দিকে নজর দিয়ে শুকরিয়া আদায় করতে হবে।

ট্রেনিং কেন্দ্র সমূহের উপকারিতা –

ট্রেনিং কোর্সের দুটি দিক রয়েছে –
১. শিক্ষা মূলক
২. অনুশীলন মূলক

শিক্ষা মূলক : এর লক্ষ্য হলো যাতে করে শিার্থীরা অল্প সময়ে কোরআন, হাদিস, ও ফেকাহর হুকুম আহকাম ও জামায়াতের পুস্তকাদি সম্পর্কে একটি ধারণা লাভ করতে পারে এবং এর আলোকে ময়দান কেমন ভূমিকা গ্রহণ করার প্রয়োজন তা জেনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অনুশীলন মূলক কার্যক্রমের উদ্দেশ্য এর ফলে কর্মীরা কিছু সময়ের জন্য সংসারের ঝামেলা রেখে একটি ইসলামিক পরিবেশে অবস্থান করে, নিয়মানুবর্তিতা, শৃংখলা ভ্রাতৃত্ব অর্জন এবং নিজেদের যাবতীয় ভুল ত্র“টি ও দূর্বলতা গুলি দুর করার সুযোগ লাভ করবে।

পারস্পরিক সমালোচনার সঠিক পন্থা –

► যেখানে সেখানে সমালোচনা না করা
► সার্বিক ভাবে সমালোচনার বিষয় সম্পর্কে জানা
► কল্যাণ কামনা উদ্দেশ্য থাকা
► সমালোচনার ভাষ্য নরম ও মিষ্টি হওয়া
► সমালোচনার পূর্বে এ সম্পর্কে যথেষ্ট প্রমান থাকা।
► সমালোচিত ব্যক্তির কথা ধৈর্য্যরে সাথে শুনা
► যুক্তির মাধ্যমে এর জবাব দেওয়া
► সমালোচনা এবং এর জবাবের ধারা সীমাহিন ভাবে চলা উচিত নয়। এর ফলে স্থায়ী বিবাদ সৃষ্টি হতে পারে।

আনুগত্য ও নিয়ম শৃংখলা সংরণ
আমাদের মধ্যে এ ব্যাপারে যথেষ্ট দূর্বলতা রয়েছে। তাই আনুগত্য ও নিয়ম শৃংখলাকে সঠিক ভাবে সংরণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *