২১. কবন্ধ এবং শবরীর স্বর্গগমন

রজনী আইল, স্থান থাকিবার নাই। শূন্যঘরে পুনঃ আইলেন দুই ভাই।। বাহিরে ছিলেন রাম বরঞ্চ আশ্বস্ত। শূন্যঘর দেখি হইলেন আরো ব্যস্ত।। শ্রীরাম বলেন শুন ভাই রে লক্ষ্মণ। গোদাবরী সলিলেতে ত্যজিব জীবন।। এতেক বলিয়া লক্ষ্মণেরে করি কোলে। গাঁথিল মুক্তার হার নয়নের জলে।। রজনীতে নিদ্রা নাহি,...

২০. জটায়ুর উদ্ধার

শ্রীরাম বলেন, পক্ষী পিতার সমান। সীতার কারণে পক্ষী হারাইল প্রাণ।। বনজন্তু খাইলে অধর্ম্ম অপযশ। অগ্নিকার্য্য করি রাখ লক্ষ্মণ পৌরুষ।। তবে ত লক্ষ্মণ দিব্য অগ্নিকুণ্ড কাটি। জ্বালিলেন কুণ্ড বীর করি পরিপাটি।। তুলিলেন চিতায় জটায়ু পক্ষিরাজ। দুই ভাই তাহার করেন অগ্নিকাজ।। সৎকার...

১৯. জটায়ুর মুখে সীতার বার্ত্তা শ্রবণ ও জটায়ুর স্বর্গলাভ

এইরূপে শ্রীরাম ভ্রমেণ চতুর্দ্দিকে। রক্তে রাঙ্গা জটায়ুকে দেখেন সম্মুখে।। পক্ষীকে কহেন রাম করি অনুমান। খাইলি সীতারে তুই বধি তোর প্রাণ।। পক্ষীরূপে আছিস রে তুই নিশাচর। পাঠাইব এক বাণে তোরে যমঘর।। সন্ধান পূরেন রাম তাকে মারিবারে। মুখে রক্ত উঠে, বীর বলে ধীরে ধীরে।। অন্বেষিয়া...

১৮. শ্রীরাচন্দ্রের বিলাপ ও সীতার অন্বেষণ

হাতে ধনুর্ব্বাণ রাম আইসেন ঘরে। পথে অমঙ্গল যত দেখেন গোচরে।। বামে সর্প দেখিলেন, শৃগাল দক্ষিণে। তোলাপাড়া করেন শ্রীরাম কত মনে।। বিপরীত ধ্বনি করিলেক নিশাচর। লক্ষ্মণ আইসে পাছে শূন্য রাখি ঘর।। মারীচের আহ্বানে কি লক্ষ্মণ ভুলিবে। সীতারে রাখিয়া একা অন্যত্র যাইবে।। দুঃখের উপরে...

১৭. সুপার্শ্ব পক্ষী কর্ত্তৃক রাবণের লঙ্কা-গমনে বাধা দান

রামে জানাইতে সীতা ফেলেন ভূষণ। সীতার ভূষণ-পুষ্পে ছাইল গগন।। আভরণ গলার ফেলেন সীতাদেবী। সে ভূষণে সুশোভিতা হইল পৃথিবী।। ছিঁড়িয়া ফেলেন মণি মুক্তার সে ঝারা। হিমালয় শৈলে যেন বহে গঙ্গাধারা।। শ্রীরাম বলিয়া সীতা করেন ক্রন্দন। অন্তরীক্ষে হাহাকার করে দেবগণ।। জানকী বলেন, কোথা...

১৬. জটায়ুর সহিত রাবণের যুদ্ধ

জটায়ু নামেতে পক্ষী গরুড়-নন্দন। দূর হৈতে শুনিল সে সীতার ক্রন্দন।। আকাশে উঠিয়া পক্ষী চতুর্দ্দিকে চায়। দেখিল, রাবণ রাজা সীতা লয়ে যায়।। ত্রিভুবনে যত বীর পক্ষীর গোচর। দেখিয়া চিনিল পক্ষী রাজা লঙ্কেশ্বর।। দুই পাখা পসারিয়া আগুলিল বাট। রাবণেরে গালি দিয়া মারে পাখসাট।। ডাক দিয়া...

১৫. ব্রহ্মচারীবেশে রাবণ কর্ত্তৃক সীতা হরণ

দূরেতে রাক্ষস করে রামতুল্য ধ্বনি। রাক্ষসের মায়ায় রামের শব্দ শুনি।। হেথা শুনিলেন সীতা করুণ বচন। বলিলেন, ঝাট যাও দেবর লক্ষ্মণ।। আর্ত্তস্বরে শ্রীরাম ডাকেন যে তোমারে। দেখ গিয়া তাঁহারে কি রাক্ষসেতে মারে।। লক্ষ্মণ বলেন, নাহি শ্রীরামের ভয়। মৃগ মারি আসিবেন কিসের বিস্ময়।।...

১৪. মায়ামৃগ রূপধারী মারীচ বধ

বনমধ্যে লুকাইয়া রহিল রাবণ। আলো করি মায়ামৃগ করিল গমন।। দেখিয়া আপন মূর্ত্তি আপনি উলটে। চলিতে চলিতে গেল রামের নিকটে।। রাম সীতা বসিয়া আছেন দুই জন। সেইখানে মৃগ গিয়া দিল দরশন।। রাক্ষস-বংশের ধ্বংস করিবার তরে। ডুবাইতে জানকীরে বিপদ-সাগরে।। দেবগণে বিপদে করিতে পরিত্রাণে। বিধাতা...

১৩. মারীচের মায়ামৃগ রূপ ধারণ

তিন কাণ্ড পুঁথি গেল শ্রীরাম-মাহাত্ম্য। আর তিন কাণ্ড শুন রাবণ-চরিত্র।। সুর্পণখা বলে ভাই এই পঞ্চবটী। এই স্থানে কাটা গেল নাক কাণ দুটি।। রাবণ চড়িয়া রথে চলিল গগনে। রথ হৈতে ভূমিতে নামিল দুই জনে।। মারীচের করে ধরি কহে লঙ্কেশ্বর। মৃগরূপ ধর তুমি, দেখিতে সুন্দর।। মৃগরূপ ধরিল...

১২. রাবণের প্রতি মারীচের সুমন্ত্রণা প্রদান

ঔষধ না খায় যার নিকট মরণ। যত বলে মারীচ, তা না শুনে রাবণ।। রুষিয়া রাবণ কহে মারীচের প্রতি। কুবুদ্ধি ঘটিল তোর, শুন রে দুর্ম্মতি।। নরের গৌরব রাখ মন্দ বল মোরে। আমি তোরে মারিলে কে কি করিতে পারে।। আমার প্রতাপে সদা কম্পিতা মেদিনী। মনুষ্যের কিবা কথা দেব দৈত্য জিনি।। আইলাম আমি...