০৩০. কুম্ভকর্ণের যুদ্ধ

পলায় বানর-ঠাট কেহ নাহি তিষ্ঠে। কোপ করি অঙ্গদ চাহিছে এক দৃষ্টে।। অঙ্গদ বলে, বানরগণ ভঙ্গ কি কারণ। এক চড়ে রাক্ষসের বধিব জীবন।। জীবন মরণ নাহি আপনার বশে। যুদ্ধ করি মরিলে ভুবন ভরে যশে।। যত যুদ্ধ করিলে সে সব নাহি গণি। আজি রণ জিনিলে পৌরুষ বলে মানি।। দেবতার পুত্র তোরা...

০২৯. কুম্ভকর্ণের যুদ্ধযাত্রা

কুম্ভকর্ণ বলে কিবা করেছ যন্ত্রণা। তোমার সভাতে নাহি মন্ত্রী এক জনা।। সমুদ্রের পারে কেন নাহি দিলে থানা। তবে আর সাগর বান্ধিবে কোন্ জনা।। ঘরেতে বসিয়া বড় দেখহ আপনা। কোন্ ছার মন্ত্রী লয়ে তোমার মন্ত্রণা।। আপনারে বড় দেখ বসে লঙ্কাপুরে। বেড়িল এ হেন লঙ্কা বনের বানরে।। বালি হৈতে...

০২৮. কুম্ভকর্ণের অকালে নিদ্রাভঙ্গ ও রাবণের সহিত কথোপকথন

ভঙ্গ দিয়া গেল রাবণ পেয়ে অপমান। পাত্রমিত্র লয়ে বৈসে করিয়া দেয়ান।। ছত্রিশ কোটি সেনাপতি চৌদিকে বেষ্টন। সভামধ্যে সিংহানসেন বসিল রাবণ।। রাবণ বলে, বুঝিলাম দেবতার ফন্দি। এতদিনে গড়াইল যা বলিল নন্দী।। কুবেরে জিনিয়া আসি কৈলাস-শিখরে। নন্দী দাঁড়াইয়াছিল শিবের ‍দুয়ারে।। শিব-দুর্গা...

০২৭. রাম রাবণের প্রথম যুদ্ধ

রাবণ বসিয়া আছে আপনার রথে। সংগ্রামেতে যান রাম ধনুর্ব্বাণ হাতে।। রাবণে মারিতে যান পূরিয়া সন্ধান। হেনকালে যোড়হাতে বলে হনুমান।। রথে চড়ে যুঝে রাবণ শ্রম নাহি জানে। ভূমিতে থাকিয়া তুমি যুঝিবে কেমনে।। মোর পৃষ্ঠে রঘুনাথ কর আরোহণ। আমার পৃষ্ঠেতে চড়ি মারহ রাবণ।। হনুমানের পৃষ্ঠেতে...

০২৬. রাবণের প্রথম দিবস যুদ্ধ

বিভীষণ কহিছে লঙ্কার সমাচার। রাম বলে, বিভীষণ হও আগুসার।। জিজ্ঞাসা করিল যদি প্রভু রঘুনাথ। কটক চিনায়ে দেয় তুলে ডানি হাত।। রাবণের ধনু ওই রতনে খচিত। রাজার দক্ষিণে ঐ কুমার ইন্দ্রজিৎ।। মেঘ সম অঙ্গ তাম্রবর্ণ দ্বি-লোচন। নাগপাশে বেঁধেছিল তোমা দুইজন।। নগেন্দ্র দেবেন্দ্র আদি রণে...

০২৫. রাবণ সৈন্যের পরিচয়

কহিতেছে, বিভীষণ,                     রথে দেখ নারায়ণ, ছত্রদণ্ড ধরে দেবগণ। কপালেতে দশ মণি,                    দীপ্ত যেন দিনমণি, ঐ রাজা লঙ্কার রাবণ।। হেসে রঘুনাথ কন,                     চিনিলাম দশানন, যোগ্য বটে লঙ্কা-অধিকারী। কুবুদ্ধি এমন কেনে,                    ...

০২৪. রাবণের প্রথম দিবস যুদ্ধে গমন

প্রহস্ত পড়িল রণে শুন লঙ্কেশ্বর। রাবণ বলে কাল হলো নর ও বানর।। রাবণ বলিলা, যেন ধনু ধর্ত্তে জানে। ছোট বড় রাক্ষস চলুক মোর সনে।। সেনাপতি পড়িল রাজ্যের চূড়ামণি। আর কারে পাঠাইব যাইব আপনি।। ছত্রিশ কোটি রাবণের মুখ্য সেনাপতি। সাজিয়া চলিল সবে রাবণ সংহতি।। ভাই ভাইপো আদি কুমার ভাগ...

০২৩. প্রহস্তের যুদ্ধ ও পতন

এখানেতে ভগ্নদূত যাইয়া লঙ্কায়। বজ্রদংষ্ট্র-মৃত্যু-কথা কহিল রাজায়।। বজ্রদংষ্ট্র পড়ে রণে রাবণ চিন্তিত। প্রহস্ত মামাকে তবে ডাকিল ত্বরিত।। রাবণ বলে, মামা তুমি রাজ্যের ঠাকুর। তিন কোটি বৃন্দ ঠাট তোমার প্রচুর।। তুমি আমি নিকুম্ভ কুম্ভকর্ণ ইন্দ্রজিৎ। এই কয়জন আছি সমরে পণ্ডিত।।...

০২২. বজ্রদংষ্ট্রের যুদ্ধ ও পতন

অকম্পন-মৃত্যু শুনি চরের বদনে। কিছু ভয় উপজিল রাবণের মনে।। হৃদয়ে করিল বিবেচনা বহুতর। যুদ্ধ বিনা হিত নাহি দেখিল অপার।। তবে আগে দেখি বজ্রদংষ্ট্র নিশাচরে। কহিতে লাগিল তারে অতি সমাদরে।। বজ্রদংষ্ট্র তুমি হও সুপণ্ডিত রণে। তোমার সবার বীর না দেখি ভুবনে।। ধনুক ধরিয়া তুমি দাঁড়ালে...

০২১. অকম্পনের যুদ্ধ ও পতন

ধূম্রাক্ষ পড়িল বার্ত্তা পাইল রাবণ। অকম্পন বলি ডাক ছাড়ে ঘনে ঘন।। আজ্ঞামাত্র উপনীত অকম্পন বীর। রাজার নিকটে আসি নোঙইল শির।। রাবণ বলে, শুন অকম্পন সেনাপতি। আজিকার যুদ্ধে তুমি কুলাবে আরতি।। বীরের মধ্যে বীর তুমি সকলেতে জানে। ত্রৈলোক্য জিনিতে তুমি পার একদিনে।। তোমার সম্মুখে...