রবীন্দ্র রচনাবলী । রবীন্দ্র রচনাসংগ্রহ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । Rabindranath Tagore (২৫ বৈশাখ, ১২৬৮ - ২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ)

রবীন্দ্র রচনাবলী – সাম্প্রতিক আপডেট

আনন্দ-গান উঠুক তবে বাজি

আনন্দ-গান উঠুক তবে বাজি এবার আমার ব্যথার বাঁশিতে। অশ্রুজলের ঢেউয়ের 'পরে আজি পারের তরী থাকুক ভাসিতে। যাবার হাওয়া ওই যে উঠেছে--ওগো ওই যে উঠেছে, সারারাত্রি চক্ষে আমার ঘুম যে ছুটেছে। হৃদয় আমার উঠছে দুলে দুলে অকূল জলের অট্টহাসিতে, কে গো তুমি দাও দেখি তান তুলে এবার আমার...

আমি যে বেসেছি ভালো এই জগতেরে

আমি যে বেসেছি ভালো এই জগতেরে; পাকে পাকে ফেরে ফেরে আমার জীবন দিয়ে জড়ায়েছি এরে; প্রভাত-সন্ধ্যার আলো-অন্ধকার মোর চেতনায় গেছে ভেসে; অবশেষে এক হয়ে গেছে আজ আমার জীবন আর আমার ভুবন। ভালোবাসিয়াছি এই জগতের আলো জীবনেরে তাই বাসি ভালো। তবুও মরিতে হবে এও সত্য জানি। মোর বাণী একদিন...

যতক্ষণ স্থির হয়ে থাকি

যতক্ষণ স্থির হয়ে থাকি ততক্ষণ জমাইয়া রাখি যতকিছু বস্তুভার। ততক্ষণ নয়নে আমার নিদ্রা নাই; ততক্ষণ এ বিশ্বেরে কেটে কেটে খাই কীটের মতন; ততক্ষণ চারি দিকে নেমে নেমে আসে আবরণ; দুঃখের বোঝাই শুধু বেড়ে যায় নূতন নূতন; এ জীবন সতর্ক বুদ্ধির ভারে নিমেষে নিমেষে বৃদ্ধ হয় সংশয়ের শীতে,...

হে ভুবন আমি যতক্ষণ তোমারে না বেসেছিনু ভালো

হে ভুবন আমি যতক্ষণ তোমারে না বেসেছিনু ভালো ততক্ষণ তব আলো খুঁজে খুঁজে পায় নাই তার সব ধন। ততক্ষণ নিখিল গগন হাতে নিয়ে দীপ তার শূন্যে শূন্যে ছিল পথ চেয়ে। মোর প্রেম এল গান গেয়ে; কী যে হল কানাকানি দিল সে তোমার গলে আপন গলার মালাখানি। মুগ্ধচক্ষে হেসে তোমারে সে গোপনে দিয়েছে...

বিশ্বের বিপুল বস্তুরাশি

বিশ্বের বিপুল বস্তুরাশি উঠে অট্টহাসি; ধুলা বালি দিয়ে করতালি নিত্য নিত্য করে নৃত্য দিকে দিকে দলে দলে; আকাশে শিশুর মতো অবিরত কোলাহলে। মানুষের লক্ষ লক্ষ অলক্ষ্য ভাবনা, অসংখ্য কামনা, রূপে মত্ত বস্তুর আহ্বানে উঠে মাতি তাদের খেলায় হতে সাথি। স্বপ্ন যত অব্যক্ত আকুল খুঁজে মরে...

মোর গান এরা সব শৈবালের দল

মোর গান এরা সব শৈবালের দল, যেথায় জন্মেছে সেথা আপনারে করে নি অচল। মূল নাই, ফুল আছে, শুধু পাতা আছে, আলোর আনন্দ নিয়ে জলের তরঙ্গে এরা নাচে। বাসা নাই, নাইকো সঞ্চয়, অজানা অতিথি এরা কবে আসে নাইকো নিশ্চয়। যেদিন-শ্রাবণ নামে দুর্নিবার মেঘে, দুই কূল ডোবে স্রোতোবেগে, আমার শৈবালদল...

রবীন্দ্র রচনাবলী - সূচীপত্র