রবীন্দ্র রচনাবলী । রবীন্দ্র রচনাসংগ্রহ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । Rabindranath Tagore (২৫ বৈশাখ, ১২৬৮ - ২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ)

রবীন্দ্র রচনাবলী – সাম্প্রতিক আপডেট

এবারে ফাল্গুনের দিনে সিন্ধুতীরের কুঞ্জবীথিকায়

এবারে ফাল্গুনের দিনে সিন্ধুতীরের কুঞ্জবীথিকায় এই যে আমার জীবন-লতিকায় ফুটল কেবল শিউরে-ওঠা নতুন পাতা যত রক্তবরন হৃদয়ব্যথার মতো; দখিন হাওয়া ক্ষণে ক্ষণে দিল কেবল দোল, উঠল কেবল মর্মর কল্লোল। এবার শুধু গানের মৃদু গুঞ্জনে বেলা আমার ফুরিয়ে গেল কুঞ্জবনের প্রাঙ্গণে। আবার যেদিন...

যে-বসন্ত একদিন করেছিল কত কোলাহল

যে-বসন্ত একদিন করেছিল কত কোলাহল লয়ে দলবল আমার প্রাঙ্গণতলে কলহাস্য তুলে দাড়িম্বে পলাশগুচ্ছে কাঞ্চনে পারুলে; নবীন পল্লবে বনে বনে বিহ্বল করিয়াছিল নীলাম্বর রক্তিম চুম্বনে; সে আজ নিঃশব্দে আসে আমার নির্জনে; অনিমেষে নিস্তব্ধ বসিয়া থাকে নিভৃত ঘরের প্রান্তদেশে চাহি সেই...

স্বর্গ কোথায় জানিস কি তা ভাই

স্বর্গ কোথায় জানিস কি তা ভাই। তার    ঠিক-ঠিকানা নাই। তার    আরম্ভ নাই, নাই রে তাহার শেষ, ওরে    নাই রে তাহার দেশ, ওরে    নাই রে তাহার দিশা, ওরে নাই রে দিবস, নাই রে তাহার নিশা। ফিরেছি সেই স্বর্গে শূন্যে শূন্যে ফাঁকির ফাঁকা ফানুস কত যে যুগ-যুগান্তরের পুণ্যে জন্মেছি আজ...

কোন্‌ ক্ষণে সৃজনের সমুদ্রমন্থনে

কোন্‌ ক্ষণে সৃজনের সমুদ্রমন্থনে উঠেছিল দুই নারী অতলের শয্যাতল ছাড়ি। একজনা উর্বশী, সুন্দরী, বিশ্বের কামনা-রাজ্যে রানী, স্বর্গের অপ্সরী। অন্যজনা লক্ষ্মী সে কল্যাণী, বিশ্বের জননী তাঁরে জানি, স্বর্গের ঈশ্বরী। একজন তপোভঙ্গ করি উচ্চহাস্য-অগ্নিরসে ফাল্গুনের সুরাপাত্র ভরি...

যখন আমায় হাতে ধরে

যখন আমায় হাতে ধরে আদর করে ডাকলে তুমি আপন পাশে, রাত্রিদিবস ছিলেম ত্রাসে পাছে তোমার আদর হতে অসাবধানে কিছু হারাই, চলতে গিয়ে নিজের পথে যদি আপন ইচ্ছামতে কোনো দিকে এক পা বাড়াই, পাছে বিরাগ-কুশাঙ্কুরের একটি কাঁটা একটু মাড়াই। মুক্তি, এবার মুক্তি আজি উঠল বাজি অনাদরের কঠিন ঘায়ে,...

ওরে তোদের ত্বর সহে না আর

ওরে তোদের ত্বর সহে না আর? এখনো শীত হয় নি অবসান। পথের ধারে আভাস পেয়ে কার সবাই মিলে গেয়ে উঠিস গান? ওরে পাগল চাঁপা, ওরে উন্মত্ত বকুল, কার তরে সব ছুটে এলি কৌতুকে আকুল। মরণপথে তোরা প্রথম দল, ভাবলি নে তো সময় অসময়। শাখায় শাখায় তোদের কোলাহল গন্ধে রঙে ছড়ায় বনময়। সবার আগে উচ্চে...

রবীন্দ্র রচনাবলী - সূচীপত্র