দান প্রতিদান

বড়োগিন্নি যে কথাগুলা বলিয়া গেলেন তাহার ধার যেমন তাহার বিষও তেমনি। যে হতভাগিনীর উপর প্রয়োগ করিয়া গেলেন তাহার চিত্তপুত্তলি একেবারে জ্বলিয়া জ্বলিয়া লুটিতে লাগিল। বিশেষত কথাগুলা তাহার স্বামীর উপর লক্ষ্য করিয়া বলা – এবং স্বামী রাধামুকুন্দ তখন রাত্রের আহার সমাপন করিয়া...

দালিয়া

ভূমিকা পরাজিত শা সুজা ঔরঞ্জীবের ভয়ে পলায়ন করিয়া আরাকান-রাজের আতিথ্য গ্রহণ করেন। সঙ্গে তিন সুন্দরী কন্যা ছিল। আরাকান-রাজের ইচ্ছা হয়, রাজপুত্রদের সহিত তাহাদের বিবাহ দেন। সেই প্রস্তাবে শা সুজা নিতান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করাতে, একদিন রাজার আদেশে তাঁহাকে ছলক্রমে নৌকাযোগে...

দিদি

প্রথম পরিচ্ছেদ পল্লীবাসিনী কোনো-এক হতভাগিনীর অন্যায়কারী অত্যাচারী স্বামীর দুষ্কৃতিসকল সবিস্তারে বর্ণনপূর্বক প্রতিবেশিনী তারা অত্যন্ত সংক্ষেপে নিজের রায় প্রকাশ করিয়া কহিল, এমন স্বামীর মুখে আগুন। শুনিয়া জয়গোপালবাবুর স্ত্রী শশী অত্যন্ত পীড়া অনুভব করিল – স্বামীজাতির...

দিন পরে যায় দিন

দিন পরে যায় দিন,   বসি পথপাশে গান পরে গাই গান   বসন্তবাতাসে॥    ফুরাতে চায় না বেলা,  তাই সুর গেঁথে খেলা—        রাগিণীর মরীচিকা   স্বপ্নের আভাসে॥ দিন পরে যায় দিন,   নাই তব দেখা। গান পরে গাই গান,   রই বসে একা।    সুর থেমে যায় পাছে  তাই নাহি আস কাছে—...

দীন দান

নিবেদিল রাজভৃত্য, “মহারাজ, বহু অনুনয়ে সাধুশ্রেষ্ঠ নরোত্তম তোমার সোনার দেবালয়ে না লয়ে আশ্রয় আজি পথপ্রান্তে তরুচ্ছায়াতলে করিছেন নামসংকীর্তন। ভক্তবৃন্দ দলে দলে ঘেরি তাঁরে দরদর‐উদ্‌‍বেলিত আনন্দধারায় ধৌত ধন্য করিছেন ধরণীর ধূলি। শূন্যপ্রায় দেবাঙ্গন; ভৃঙ্গ যথা স্বর্ণময়...

দুঃসময়

যদিও সন্ধ্যা আসিছে মন্দ মন্থরে,       সব সংগীত গেছে ইঙ্গিতে থামিয়া, যদিও সঙ্গী নাহি অনন্ত অম্বরে,       যদিও ক্লান্তি আসিছে অঙ্গে নামিয়া, মহা‐আশঙ্কা জপিছে মৌন মন্তরে,       দিক্‌‍‐দিগন্ত অবগুণ্ঠনে ঢাকা— তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর,       এখনি, অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা।...

দুই বিঘা জমি

শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভুঁই   আর সবই গেছে ঋণে। বাবু বলিলেন, “বুঝেছ উপেন?   এ জমি লইব কিনে।” কহিলাম আমি, “তুমি ভূস্বামী,   ভূমির অন্ত নাই। চেয়ে দেখো মোর আছে বড়ো‐জোর   মরিবার মতো ঠাঁই।” শুনি রাজা কহে, “বাপু, জানো তো হে,   করেছি বাগানখানা, পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দীঘে  ...

দুরাশা

দার্জিলিঙে গিয়া দেখিলাম, মেঘে বৃষ্টিতে দশ দিক আচ্ছন্ন। ঘরের বাহির হইতে ইচ্ছা হয় না, ঘরের মধ্যে থাকিতে আরো অনিচ্ছা জন্মে। হোটেলে প্রাতঃকালের আহার সমাধা করিয়া পায়ে মোটা বুট এবং আপাদমস্তক ম্যাকিন্টশ পরিয়া বেড়াইতে বাহির হইয়াছি। ক্ষণে ক্ষণে টিপ্ টিপ্ করিয়া বৃষ্টি পড়িতেছে...

দেবতার গ্রাস

গ্রামে গ্রামে সেই বার্তা রটি গেল ক্রমে মৈত্রমহাশয় যাবেন সাগরসঙ্গমে তীর্থস্নান লাগি। সঙ্গীদল গেল জুটি কত বালবৃদ্ধ নরনারী; নৌকা দুটি প্রস্তুত হইল ঘাটে।                    পুণ্য লোভাতুর মোক্ষদা কহিল আসি, “হে দাদাঠাকুর, আমি তব হব সাথি।” বিধবা যুবতী— দুখানি করুণ আঁখি মানে...

দেশ দেশ নন্দিত করি

          দেশ দেশ নন্দিত করি মন্দ্রিত তব ভেরী           আসিল যত বীরবৃন্দ আসন তব ঘেরি।           দিন আগত ওই,   ভারত তবু কই?           সে কি রহিল লুপ্ত আজি সব-জন পশ্চাতে?           লউক বিশ্বকর্মভার মিলি সবার সাথে।...

দ্বিধা

    এসেছিলু তবু আস নাই, তাই                     জানায়ে গেলে     সমুখের পথে পলাতকা পদ-পতন ফেলে।                 তোমার সে উদাসীনতা         উপহাসভরে জানালো কি মোর দীনতা। সে কি ছল-করা অবহেলা, জানি না সে–           চপল চরণ সত্য কি ঘাসে ঘাসে                  গেল...