তারাপ্রসন্নের কীর্তি

লেখকজাতির প্রকৃতি অনুসারে তারাপ্রসন্ন কিছু লাজুক এবং মুখচোরা ছিলেন। লোকের কাছে বাহির হইতে গেলে তাঁহার সর্বনাশ উপস্থিত হইত। ঘরে বসিয়া কলম চালাইয়া তাঁহার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ, পিঠ একটু কুঁজা, সংসারের অভিজ্ঞতা অতি অল্প। লৌকিকতার বাঁধি বোল-সকল সহজে তাঁহার মুখে আসিত না,...

তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী

তুমি     কেমন করে গান করো হে গুণী, আমি     অবাক্ হয়ে শুনি কেবল শুনি॥    সুরের আলো ভুবন ফেলে ছেয়ে,    সুরের হাওয়া চলে গগন বেয়ে,    পাষাণ টুটে ব্যাকুল বেগে ধেয়ে            বহিয়া যায় সুরের সুরধুনী॥      মনে করি অমনি সুরে গাই,      কণ্ঠে আমার সুর খুঁজে না পাই।...

তুমি যখন গান গাহিতে বল

তুমি যখন গান গাহিতে বল             গর্ব আমার ভ’রে উঠে বুকে; দুই আঁখি মোর করে ছলছল,             নিমেষহারা চেয়ে তোমার মুখে। কঠিন কটু যা আছে মোর প্রাণে গলিতে চায় অমৃতময় গানে, সব সাধনা আরাধনা মম             উড়িতে চায় পাখির মত সুখে।                         তৃপ্ত...

তুমি যে সুরের আগুন লাগিয়ে দিলে

তুমি যে    সুরের আগুন লাগিয়ে দিলে মোর প্রাণে, এ আগুন      ছড়িয়ে গেল সব খানে॥ যত সব       মরা গাছের ডালে ডালে              নাচে আগুন তালে তালে   রে, আকাশে       হাত তোলে সে কার পানে॥ আঁধারের      তারা যত অবাক হয়ে রয় চেয়ে, কোথাকার     পাগল হাওয়া বয় ধেয়ে।...

তোতা-কাহিনী

এক-যে ছিল পাখি। সে ছিল মূর্খ। সে গান গাহিত, শাস্ত্র পড়িত না। লাফাইত, উড়িত, জানিত না কায়দাকানুন কাকে বলে। রাজা বলিলেন, ‘এমন পাখি তো কাজে লাগে না, অথচ বনের ফল খাইয়া রাজহাটে ফলের বাজারে লোকসান ঘটায়।’ মন্ত্রীকে ডাকিয়া বলিলেন, ‘পাখিটাকে শিক্ষা দাও।’ ২ রাজার ভাগিনাদের উপর...

তোমার কাছে এ বর মাগি

তোমার কাছে এ বর মাগি,   মরণ হতে যেন জাগি              গানের সুরে॥ যেমনি নয়ন মেলি যেন    মাতার স্তন্যসুধা-হেন নবীন জীবন দেয় গো পুরে   গানের সুরে॥            সেথায় তরু তৃণ যত মাটির বাঁশি হতে ওঠে গানের মতো। আলোক সেথা দেয় গো আনি আকাশের আনন্দবাণী,...

তোমার বীণা আমার মনোমাঝে

তোমার বীণা আমার মনোমাঝে কখনো শুনি, কখনো ভুলি, কখনো শুনি না যে॥ আকাশ যবে শিহরি উঠে গানে গোপন কথা কহিতে থাকে ধরার কানে কানে— তাহার মাঝে সহসা মাতে বিষম কোলাহলে আমার মনে বাঁধনহারা স্বপন দলে দলে। হে বীণাপাণি, তোমার সভাতলে আকুল হিয়া উন্মাদিয়া বেসুর হয়ে বাজে॥...

তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায় তারি পারে

তোমার  সুরের ধারা ঝরে যেথায় তারি পারে দেবে কি গো বাসা আমায় একটি ধারে?।  আমি  শুনব ধ্বনি কানে,  আমি  ভরব ধ্বনি প্রানে,  সেই ধ্বনিতে চিত্তবীণায় তার বাঁধিব বারে বারে॥ আমার  নীরব বেলা সেই তোমারি সুরে সুরে  ফুলের ভিতর মধুর মতো উঠবে পুরে।  আমার  দিন ফুরাবে যবে,...

তোমার সোনার থালায় সাজাব আজ দুখের অশ্রুধার

তোমার   সোনার থালায় সাজাব আজ দুখের অশ্রুধার।     জননী গো, গাঁথব তোমার গলার মুক্তাহার॥       চন্দ্র সূর্য পায়ের কাছে   মালা হয়ে জড়িয়ে আছে, তোমার  বুকে শোভা পাবে আমার দুখের অলঙ্কার॥       ধন ধান্য তোমারি ধন কী করবে তা কও।       দিতে চাও তো দিয়ো আমায়, নিতে চাও তো লও।...

তোর আপন জনে ছাড়বে তোরে

          তোর   আপন জনে ছাড়বে তোরে,               তা ব’লে    ভাবনা করা চলবে না।           ও তোর          আশালতা পড়বে ছিঁড়ে,               হয়তো রে ফল ফলবে না॥ আসবে পথে আঁধার নেমে,       তাই ব’লেই কি রইবি থেমে—...

ত্যাগ

প্রথম পরিচ্ছেদ ফাল্গুনের প্রথম পূর্ণিমায় আম্রমুকুলের গন্ধ লইয়া নব বসন্তের বাতাস বহিতেছে। পুষ্করিণীতীরের একটি পুরাতন লিচু গাছের ঘন পল্লবের মধ্য হইতে একটি নিদ্রাহীন অশ্রান্ত পাপিয়ার গান মুখুজ্জেদের বাড়ির একটি নিদ্রাহীন শয়নগৃহের মধ্যে গিয়া প্রবেশ করিতেছে। হেমন্ত কিছু...