অতিথি

প্রথম পরিচ্ছেদ কাঁঠালিয়ার জমিদার মতিলালবাবু নৌকা করিয়া সপরিবারে স্বদেশে যাইতেছিলেন। পথের মধ্যে মধ্যাহ্নে নদীতীরের এক গঞ্জের নিকট নৌকা বাঁধিয়া পাকের আয়োজন করিতেছেন এমন সময় এক ব্রাহ্মণবালক আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “বাবু, তোমরা যাচ্ছ কোথায়।” প্রশ্নকর্তার বয়স...

অধরা

অধরা মাধুরী ধরা পড়িয়াছে           এ মোর ছন্দবন্ধনে। বলাকাপাঁতির পিছিয়ে-পড়া ও পাখি,           বাসা সুদূরের বনের প্রাঙ্গণে।      গত ফসলের পলাশের রাঙিমারে           ধরে রাখে ওর পাখা,      ঝরা শিরীষের পেলব আভাস           ওর কাকলিতে মাখা। শুনে যাও বিদেশিনী,      তোমার...

অনধিকার প্রবেশ

একদা প্রাতঃকালে পথের ধারে দাঁড়াইয়া এক বালক আর-এক বালকের সহিত একটি অসমসাহসিক অনুষ্ঠান সম্বন্ধে বাজি রাখিয়াছিল। ঠাকুরবাড়ির মাধবীবিতান হইতে ফুল তুলিয়া আনিতে পারিবে কি না, ইহাই লইয়া তর্ক। একটি বালক বলিল, “পারিব”, আর-একটি বালক বলিল, “কখনোই পারিবে...

অনবচ্ছিন্ন আমি

আজি মগ্ন হয়েছিনু ব্রহ্মাণ্ড‐মাঝারে, যখন মেলিনু আঁখি হেরিনু আমারে। ধরণীর বস্ত্রাঞ্চল দেখিলাম তুলি, আমার নাড়ীর কম্পে কম্পমান ধূলি। অনন্ত আকাশতলে দেখিলাম নামি, আলোকদোলায় বসি দুলিতেছি আমি। আজি গিয়েছিনু চলি মৃত্যুপরপারে, সেথা বৃদ্ধ পুরাতন হেরিনু আমারে। অবিচ্ছিন্ন আপনারে...

অনাবৃষ্টি

প্রাণের সাধন কবে নিবেদন                 করেছি চরণতলে, অভিষেক তার হল না তোমার                 করুণ নয়নজলে।      রসের বাদল নামিল না কেন                 তাপের দিনে।      ঝরে গেল ফুল মালা পরাই নি                 তোমার গলে।      মনে হয়েছিল, দেখেছি করুণা                ...

অপরাধী

     তুমি বল, তিনু প্রশ্রয় পায় আমার কাছে—                 তাই রাগ কর তুমি।           ওকে ভালোবাসি,                 তাই ওকে দুষ্টু বলে দেখি,                      দোষী ব’লে দেখি নে—                 রাগও করি ওর ’পরে                      ভালোও লাগে ওকে...

অবসান

জানি দিন অবসান হবে,     জানি তবু কিছু বাকি রবে।         রজনীতে ঘুমহারা পাখি             এক সুরে গাহিবে একাকী-                 যে শুনিবে, সে রহিবে জাগি         সে জানিবে, তারি নীড়হারা             স্বপন খুঁজিছে সেই তারা                 যেথা প্রাণ হয়েছে বিবাগী। কিছু...

অশেষ

                   আবার আহ্বান? যত‐কিছু ছিল কাজ               সাঙ্গ তো করেছি আজ                    দীর্ঘ দীনমান। জাগায়ে মাধবীবন                  চলে গেছে বহুক্ষণ                    প্রত্যুষ নবীন, প্রখর পিপাসা হানি                পুষ্পের শিশির টানি                   ...

অসম্ভব কথা

এক যে ছিল রাজা। তখন ইহার বেশি কিছু জানিবার আবশ্যক ছিল না। কোথাকার রাজা, রাজার নাম কী, এ সকল প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিয়া গল্পের প্রবাহ রোধ করিতাম না। রাজার নাম শিলাদিত্য কি শালিবাহন, কাশী কাঞ্চি কনোজ কোশল অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গের মধ্যে ঠিক কোন্‌খানটিতে তাঁহার রাজত্ব, এ-সকল ইতিহাস...

অসময়

হয়েছে কি তবে সিংহদুয়ার বন্ধ রে?        এখনো সময় আছে কি, সময় আছে কি? দূরে কলরব ধ্বনিছে মন্দ মন্দ রে—        ফুরালো কি পথ? এসেছি পুরীর কাছে কি? মনে হয় সেই সুদূর মধুর গন্ধ রে        রহি রহি যেন ভাসিয়া আসিছে বাতাসে। বহু সংশয়ে বহু বিলম্ব করেছি—        এখন বন্ধ্যা সন্ধ্যা...

অস্পষ্ট

জানলার ফাঁকে ফাঁকে দেখা যায় সামনের বাড়ির জীবনযাত্রা। রেখা আর ছেদ, দেখা আর না-দেখা দিয়ে সেই ছবি আঁকা। একদিন পড়ার বই পড়ে রইল, বনমালীর চোখ গেল সেই দিকে। সেদিন দেখে, সে বাড়ির ঘরকন্নার পুরোনো পটের উপর দুজন নতুন লোকের চেহারা। একজন বিধবা প্রবীণা, আর-একটি মেয়ের বয়স ষোলো হবে...

অয়ি ভুবনমনোমোহিনী, মা

              অয়ি   ভুবনমনোমোহিনী,   মা, অয়ি   নির্মলসূর্যকরোজ্জ্বল ধরণী   জনকজননিজননী॥ নীলসিন্ধুজলধৌতচরণতল,   অনিলবিকম্পিত-শ্যামল-অঞ্চল, অম্বরচুম্বিতভালহিমাচল, শুভ্রতুষারকিরীটিনী॥ প্রথম প্রভাত উদয় তব গগনে,   প্রথম সামরব তব তপোবনে,...