চিত্রাঙ্গদা – ০

উৎসর্গ স্নেহাস্পদ শ্রীমান অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর’ পরমকল্যাণীয়েষু বৎস, তুমি আমাকে তোমার যত্নরচিত চিত্রগুলি উপহার দিয়াছ, আমি তোমাকে আমার কাব্য এবং স্নেহ-আশীর্বাদ… Read more চিত্রাঙ্গদা – ০

চিত্রাঙ্গদা – ০১

১ অনঙ্গ-আশ্রম চিত্রাঙ্গদা মদন ও বসন্ত চিত্রাঙ্গদা।       তুমি পঞ্চশর? মদন।                            আমি সেই মনসিজ, টেনে আনি নিখিলের নরনারী-হিয়া বেদনাবন্ধনে। চিত্রাঙ্গদা।                                কী বেদনা কী বন্ধন জানে তাহা দাসী। প্রণমি তোমার পদে। প্রভু, তুমি কোন্‌ দেব? বসন্ত।                                        আমি ঋতুরাজ। জরা মৃত্যু দৈত্য নিমেষে নিমেষে বাহির করিতে চাহে বিশ্বের কঙ্কাল; আমি পিছে পিছে ফিরে পদে পদে তারে করি আক্রমণ; রাত্রিদিন সে সংগ্রাম। আমি অখিলের সেই অনন্ত যৌবন।… Read more চিত্রাঙ্গদা – ০১

চিত্রাঙ্গদা – ০২

২ মণিপুর। অরণ্যে শিবালয় অর্জুন অর্জুন।                 কাহারে হেরিনু? সে কি সত্য, কিম্বা মায়া? নিবিড় নির্জন বনে নির্মল সরসী– এমনি নিভৃত নিরালয়, মনে হয়, নিস্তব্ধ মধ্যাহ্নে সেথা বনলক্ষীগণ স্নান করে যায়, গভীর পূর্ণিমারাত্রে সেই সুপ্ত সরসীর স্নিগ্ধ শষ্পতটে শয়ন করেন সুখে নিঃশঙ্ক বিশ্রামে স্খলিত-অঞ্চলে। সেথা তরু-অন্তরালে অপরাহ্নবেলাশেষে, ভাবিতেছিলাম আশৈশবজীবনের কথা; সংসারের মূঢ় খেলা দুঃখসুখ উলটি পালটি; জীবনের অসন্তোষ, অসম্পূর্ণ আশা, অনন্ত দারিদ্র৻ এই মর্ত মানবের। হেনকালে ঘনতরু-অন্ধকার হতে ধীরে ধীরে বাহিরিয়া, কে আসি দাঁড়াল… Read more চিত্রাঙ্গদা – ০২

চিত্রাঙ্গদা – ০৩

৩ তরুতলে চিত্রাঙ্গদা চিত্রাঙ্গদা।                    হায়, হায়, সে কি ফিরাইতে পারি! সেই থরথর ব্যাকুলতা বীরহৃদয়ের তৃষার্ত কম্পিত এক ষ্ফুলিঙ্গনিশ্বাসী হোমাগ্নিশিখার মতো; সেই, নয়নের দৃষ্টি যেন অন্তরের বাহু হয়ে কেড়ে নিতে আসিছে আমায়; উত্তপ্ত হৃদয় ছুটিয়া আসিতে চাহে সর্বাঙ্গ টুটিয়া, তাহার ক্রন্দনধ্বনি প্রতি অঙ্গে যেন যায় শুনা। এ তৃষ্ণা কি ফিরাইতে পারি? বসন্ত ও মদনের প্রবেশ হে অনঙ্গদেব, এ কী রূপহুতাশনে ঘিরেছ আমারে, দগ্ধ হই, দগ্ধ করে মারি। মদন।                     বলো, তন্বী, কালিকার বিবরণ। মুক্ত পুষ্পশর মোর কোথা কী সাধিল কাজ শুনিতে বাসনা।… Read more চিত্রাঙ্গদা – ০৩

চিত্রাঙ্গদা – ০৪

৪ অর্জুন ও চিত্রাঙ্গদা চিত্রাঙ্গদা।       কী দেখিছ বীর। অর্জুন।                             দেখিতেছি পুষ্পবৃন্ত ধরি, কোমল অঙ্গুলিগুলি রচিতেছে মালা; নিপুণতা চারুতায় দুই বোনে মিলি, খেলা করিতেছে যেন সারাবেলা চঞ্চল উল্লাসে, অঙ্গুলির আগে আগে। দেখিতেছি আর ভাবিতেছি। চিত্রাঙ্গদা।                                         কী ভাবিছ। অর্জুন।                    ভাবিতেছি অমনি সুন্দর ক’রে ধরে, সরসিয়া ওই রাঙা পরশের রসে, প্রবাস দিবসগুলি গেঁথে গেঁথে প্রিয়ে অমনি রচিবে মালা, মাথায় পরিয়া অক্ষয় আনন্দ-হার গৃহে ফিরে যাব। চিত্রাঙ্গদা।… Read more চিত্রাঙ্গদা – ০৪

চিত্রাঙ্গদা – ০৫

৫ মদন ও বসন্ত মদন।                   আমি পঞ্চশর, সখা; এক শরে হাসি, অশ্রু এক শরে; এক শরে আশা, অন্য শরে ভয়, এক শরে বিরহ-মিলন- আশা-ভয়-দুঃখ-সুখ এক নিমেষেই। বসন্ত।                   শ্রান্ত আমি, ক্ষান্ত দাও সখা! হে অনঙ্গ, সাঙ্গ করো রণরঙ্গ তব; রাত্রিদিন সচেতন থেকে, তব হুতাশনে আর কতকাল করিব ব্যজন। মাঝে মাঝে নিদ্রা আসে চোখে, নত হয়ে পড়ে পাখা, ভস্মে ম্লান হয়ে আসে তপ্তদীপ্তিরাশি। চমকিয়া জেগে, আবার নূতন শ্বাসে জাগাইয়া তুলি তার নব-উজ্জ্বলতা। এবার বিদায় দাও সখা। মদন।                                      জানি তুমি অনন্ত অস্থির, চিরশিশু। চিরদিন… Read more চিত্রাঙ্গদা – ০৫

চিত্রাঙ্গদা – ০৬

৬ অরণ্যে অর্জুন অর্জুন।                    আমি যেন পাইয়াছি, প্রভাতে জাগিয়া ঘুম হতে, স্বপ্নলব্ধ অমূল্য রতন। রাখিবার স্থান তার নাহি এ ধরায়; ধরে রাখে এমন কিরীট নাই কোথা, গেঁথে রাখে হেন সূত্র নাই, ফেলে যাই হেন নরাধম নহি; তারে লয়ে তাই চিররাত্রি চিরদিন ক্ষত্রিয়ের বাহু বদ্ধ হয়ে পড়ে আছে কর্তব্যবিহীন। চিত্রাঙ্গদার প্রবেশ চিত্রাঙ্গদা।        কী ভাবিছ। অর্জুন।                        ভাবিতেছি মৃগয়ার কথা। ওই দেখো বৃষ্টিধারা আসিয়াছে নেমে পর্বতের ‘পরে; অরণ্যেতে ঘনঘোর ছায়া; নির্ঝরিণী উঠেছে  দুরন্ত হয়ে, কলগর্ব-উপহাসে তটের তর্জন… Read more চিত্রাঙ্গদা – ০৬

চিত্রাঙ্গদা – ০৭

৭ মদন ও চিত্রাঙ্গদা চিত্রাঙ্গদা।  হে মন্মথ, কী জানি কী দিয়েছ মাখায়ে সর্বদেহে মোর। তীব্র মদিরার মতো রক্তসাথে মিশে, উন্মাদ করেছে মোরে। আপনার গতিগর্বে মত্ত মৃগী আমি ধাইতেছি মুক্তকেশে, উচ্ছ্বসিত বেশে পৃথিবী লঙ্ঘিয়া। ধনুর্ধর ঘনশ্যাম ব্যাধেরে আমার করিয়াছি পরিশ্রান্ত আশাহতপ্রায়, ফিরাতেছি পথে পথে বনে বনে তারে। নির্দয় বিজয়সুখে হাসিতেছি কৌতুকের হাসি। এ খেলায় ভঙ্গ দিতে হইতেছে ভয়– এক দণ্ড স্থির হলে পাছে ক্রন্দনে হৃদয় ভরে, ফেটে পড়ে যায়। মদন।  থাক্‌। ভাঙিয়ো না খেলা। এ খেলা আমার। ছুটুক ফুটুক বাণ, টুটুক হৃদয়। আমার মৃগয়া আজি… Read more চিত্রাঙ্গদা – ০৭

চিত্রাঙ্গদা – ০৮

৮ অর্জুন ও চিত্রাঙ্গদা অর্জুন।                    কোনো গৃহ নাই তব, প্রিয়ে, যে ভবনে কাঁদিছে বিরহে তব প্রিয়পরিজন? নিত্য স্নেহসেবা দিয়ে যে আনন্দপুরী রেখেছিলে সুধামগ্ন করে, যেথাকার প্রদীপ নিবায়ে দিয়ে এসেছ চলিয়া অরণ্যের মাঝে? আপন শৈশবস্মৃতি যেথায় কাঁদিতে যায় হেন স্থান নাই? চিত্রাঙ্গদা।                    প্রশ্ন কেন। তবে কি আনন্দ মিটে গেছে। যা দেখিছ তাই আমি, আর কিছু নাই পরিচয়। প্রভাতে এই-যে দুলিতেছে কিংশুকের একটি পল্লবপ্রান্তভাগে একটি শিশির, এর কোনো নামধাম আছে? এর কি শুধায় কেহ পরিচয়। তুমি যারে ভালোবাসিয়াছ, সে এমনি শিশিরের কণা, নামধামহীন। অর্জুন।… Read more চিত্রাঙ্গদা – ০৮

চিত্রাঙ্গদা – ০৯

৯ বনচরগণ ও অর্জুন বনচর।          হায় হায়, কে রক্ষা করিবে। অর্জুন।                                         কী হয়েছে। বনচর।                    উত্তর-পর্বত হতে আসিছে ছুটিয়া দস্যুদল, বরষার পার্বত্য বন্যার মতো বেগে, বিনাশ করিতে লোকালয়। অর্জুন।         এ রাজ্যে রক্ষক কেহ নাই? বনচর।                                          রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা আছিলেন দুষ্টের দমন; তাঁর ভয়ে রাজ্যে নাহি ছিল কোনো ভয়, যমভয় ছাড়া। শুনেছি গেছেন তিনি তীর্থপর্যটনে, অজ্ঞাত ভ্রমনব্রত। অর্জুন।          এ রাজ্যের রক্ষক রমণী?… Read more চিত্রাঙ্গদা – ০৯

চিত্রাঙ্গদা – ১০

১০ মদন বসন্ত ও চিত্রাঙ্গদা মদন।  শেষ রাত্রি আজি। বসন্ত।  আজ রাত্রি-অবসানে তব অঙ্গশোভা ফিরে যাবে বসন্তের অক্ষয় ভাণ্ডারে। পার্থের চুম্বনস্মৃতি ভুলে গিয়ে তব ওষ্ঠরাগ, দুটি নব কিশলয়ে মঞ্জরি উঠিবে লতিকায়। অঙ্গের বরন তব, শত শ্বেত ফুলে ধরিয়া নূতন তনু গতজন্মকথা ত্যজিবে স্বপ্নের মতো নব জাগরণে। চিত্রাঙ্গদা।  হে অনঙ্গ, হে বসন্ত, আজ রাত্রে তবে এ মূমূর্ষরূপ মোর, শেষ রজনীতে, অন্তিম শিখার মতো শ্রান্ত প্রদীপের, আচম্বিতে উঠুক উজ্জ্বলতম হয়ে। মদন।  তবে তাই হোক। সখা, দক্ষিণ পবন… Read more চিত্রাঙ্গদা – ১০

চিত্রাঙ্গদা – ১১ (শেষ)

১১ শেষ রাত্রি অর্জুন ও চিত্রাঙ্গদা চিত্রাঙ্গদা।                    প্রভু, মিটিয়াছে সাধ? এই সুললিত সুগঠিত নবনীকোমল সৌন্দর্যের যত গন্ধ যত মধু ছিল সকলি কি করিয়াছ পান। আর-কিছু বাকি আছে? আর-কিছু চাও? আমার যা-কিছু ছিল সব হয়ে গেছে শেষ? হয় নাই প্রভু! ভালো হোক, মন্দ হোক, আরো কিছু বাকি আছে, সে আজিকে দিব। প্রিয়তম ভালো লেগেছিল ব’লে করেছিনু নিবেদন এ সৌন্দর্যপুষ্পরাশি চরণকমলে– নন্দনকানন হতে তুলে নিয়ে এসে বহু সাধনায়। যদি সাঙ্গ হল পূজা তবে আজ্ঞা করো প্রভু, নির্মাল্যের ডালি ফেলে দিই মন্দিরবাহিরে। এইবার প্রসন্ন নয়নে চাও সেবিকার পানে।… Read more চিত্রাঙ্গদা – ১১ (শেষ)

বিসর্জন – ০

নাটকের পাত্রগণ গোবিন্দমাণিক্য – ত্রিপুরার রাজা; নক্ষত্ররায় – গোবিন্দমাণিক্যের কনিষ্ট ভ্রাতা; রঘুপতি – রাজপুরোহিত; জয়সিংহ – রঘুপতির পালিত রাজপুত যুবক,… Read more বিসর্জন – ০

বিসর্জন – ১

প্রথম অঙ্ক প্রথম দৃশ্য মন্দির গুণবতী গুণবতী। মার কাছে কী করেছি দোষ! ভিখারি যে সন্তান বিক্রয় করে উদরের দায়ে, তারে দাও শিশু–পাপিষ্ঠা যে লোকলাজে সন্তানেরে বধ করে, তার গর্ভে দাও পাঠাইয়া অসহায় জীব। আমি হেথা সোনার পালঙ্কে মহারানী, শত শত দাস দাসী সৈন্য প্রজা ল’য়ে, বসে আছি তপ্ত বক্ষে শুধু এক শিশুর পরশ লালসিয়া, আপনার প্রাণের ভিতরে আরেকটি প্রাণাধিক প্রাণ করিবারে অনুভব–এই বক্ষ, এই বাহু দুটি, এই কোল, এই দৃষ্টি দিয়ে, বিরচিতে নিবিড় জীবন্ত নীড়, শুধু একটুকু প্রাণকণিকার তরে। হেরিবে আমারে একটি নূতন আঁখি প্রথম আলোকে,… Read more বিসর্জন – ১

বিসর্জন – ২

দ্বিতীয় অঙ্ক প্রথম দৃশ্য   মন্দির রঘুপতি জয়সিংহ ও নক্ষত্ররায় নক্ষত্ররায়।              কী জন্য ডেকেছ গুরুদেব? রঘুপতি।                                           কাল রাত্রে স্বপন দিয়েছে দেবী, তুমি হবে রাজা নক্ষত্ররায়।               আমি হব রাজা! হা হা! বল কী ঠাকুর রাজা হব? এ কথা নূতন শোনা গেল! রঘুপতি।              তুমি রাজা হবে। নক্ষত্ররায়।                                  বিশ্বাস হয় না মোর। রঘুপতি।              দেবীর স্বপন সত্য। রাজটিকা পাবে তুমি, নাহিকো সন্দেহ। নক্ষত্ররায়।… Read more বিসর্জন – ২

বিসর্জন – ৩

তৃতীয় অঙ্ক প্রথম দৃশ্য মন্দির রঘুপতি।                তোরা এখানে সব কী করতে এলি? সকলে।               আমরা ঠাকরুন দর্শন করতে এসেছি। রঘুপতি।                বটে! দর্শন করতে এসেছ? এখনো তোমাদের চোখ দুটো যে আছে সে কেবল বাপের পুণ্যে। ঠাকরুন কোথায়! ঠাকরুন এ রাজ্য ছেড়ে চলে গেছেন। তোরা ঠাকরুনকে রাখতে পারলি কই? তিনি চলে গেছেন। সকলে।               কী সর্বনাশ! কে কী কথা ঠাকুর! আমরা কী অপরাধ করেছি? নিস্তারিণী।                আমার বোনপো’র ব্যামো ছিল বলেই যা আমি ক’দিন পুজো দিতে আসতে পারি নি। গোবর্ধন।                আমার পাঁঠা দুটো ঠাকরুনকেই দেব বলে অনেক দিন থেকে মনে করে রেখেছিলুম, এরই মধ্যে রাজা বলি বন্ধ করে দিলে তো আমি কী করব! হারু।              এই আমাদের গন্ধমাদন যা মানত করেছিল তা মাকে দেয় নি বটে, কিন্তু মাও তো তেমনি তাকে শাস্তি দিয়েছেন। তার পিলে বেড়ে ঢাক হয়ে উঠেছে– আজ ছ’টি মাস বিছানায় প’ড়ে। তা বেশ হয়েছে, আমাদেরই যেন সে মহাজন, তাই বলে কি মাকে ফাঁকি দিতে পারবে!  অক্রূর।               চুপ কর্‌ তোরা। মিছে গোল করিস নে। আচ্ছা ঠাকুর, মা কেন চলে গেলেন, আমাদের কী অপরাধ হয়েছিল? রঘুপতি।… Read more বিসর্জন – ৩

বিসর্জন – ৪

চতুর্থ অঙ্ক প্রথম দৃশ্য বিচারসভা গোবিন্দমাণিক্য রঘুপতি নক্ষত্ররায় সভাসদ্‌গণ ও প্রহরীগণ রঘুপতিকে   গোবিন্দমাণিক্য।              আর কিছু বলিবার আছে?রঘুপতি।                                            কিছু নাই।   গোবিন্দমাণিক্য।              অপরাধ করিছ স্বীকার?   রঘুপতি।                                               অপরাধ? অপরাধ করিয়াছি বটে। দেবীপূজা করিতে পারি নি শেষ–মোহে মূঢ় হয়ে বিলম্ব করেছি অকারণে। তার শাস্তি দিতেছেন দেবী, তুমি উপলক্ষ শুধু।  … Read more বিসর্জন – ৪

বিসর্জন – ৫

পঞ্চম অঙ্ক প্রথম দৃশ্য মন্দির। বাহিরে ঝড় রঘুপতি পুজোপকরণ লইয়া রঘুপতি।             এতদিনে আজ বুঝি জাগিয়াছে দেবী! ওই রোষহুহুংকার! অভিশাপ হাঁকি নগরের ‘পর দিয়া ধেয়ে চলিয়াছ তিমিররূপিণী! ওই বুঝি তোর প্রলয়-সঙ্গিণীগণ দারুণ ক্ষুধায় প্রাণপণে নাড়া দেয় বিশ্বমহাতরু! আজ মিটাইব তোর দীর্ঘ উপবাস। ভক্তেরে সংশয়ে ফেলি এতদিন ছিলি কোথা দেবী? তোর খড়্গ তুই না তুলিলে আমরা কি পারি? আজ কী আনন্দ, তোর চণ্ডীমূর্তি দেখে! সাহসে ভরেছে চিত্ত, সংশয় গিয়েছে; হতমান নতশির উঠেছে নূতন তেজে। ওই পদধ্বনি শুনা যায়, ওই আসে তোর পূজা। জয়… Read more বিসর্জন – ৫

মালিনী – ০ সূচনা

মালিনী নাটিকার উৎপত্তির একটা বিশেষ ইতিহাস আছে, সে স্বপ্নঘটিত। কবিকঙ্কণকে দেবী স্বপ্নে আদেশ করেছিলেন তাঁর গুণকীর্তন করতে। আমার স্বপ্নে দেবীর… Read more মালিনী – ০ সূচনা

মালিনী – ১

প্রথম দৃশ্য রাজান্তঃপুর মালিনী ও কাশ্যপ মহাক্ষণ আসিয়াছে। অন্তর চঞ্চল যেন বারিবিন্দুসম করে টলমল পদ্মদলে। নেত্র মুদি শুনিতেছি কানে আকাশের কোলাহল; কাহারা কে জানে কী করিছে আয়োজন আমারে ঘিরিয়া, আসিতেছে যাইতেছে ফিরিয়া ফিরিয়া অদৃশ্যমুরতি। কভু বিদ্যুতের মতো চমকিছে আলো ; বায়ুর তরঙ্গ যত শব্দ করি করিছে আঘাত। ব্যথাসম কী যেন বাজিছে আজি অন্তরেতে মম বারম্বার– কিছু আমি নারি বুঝিবারে জগতে কাহারা আজি ডাকিছে আমারে। রাজমহিষীর প্রবেশ