রইল বলে রাখলে কারে

রইল বলে রাখলে কারে, হুকুম তোমার ফলবে কবে? তোমার     টানাটানি টিঁকবে না ভাই, রবার যেটা সেটাই রবে॥ যা খুশি তাই করতে পারো    গায়ের জোরে রাখ মারো; যাঁর গায়ে সব ব্যথা বাজে তিনি যা সন সেটাই সবে।। অনেক তোমার টাকাকড়ি,    অনেক দড়া অনেক দড়ি,    অনেক অশ্ব অনেক করী— অনেক তোমার আছে ভব।।  ভাবছ হবে তুমিই যা চাও,    জগত্‍‌টাকে তুমিই নাচাও, দেখবে হঠাত্‍‌ নয়ন খুলে হয় না যেটা সেটাও হবে।। প্রায়শ্চিত্ত

শুভ কর্মপথে ধর’ নির্ভয় গান

শুভ     কর্মপথে ধর’ নির্ভয় গান। সব      দুর্বল সংশয় হোক অবসান। চির-    শক্তির নির্ঝর নিত্য ঝরে লহ’          সে অভিষেক ললাট’পরে। তব     জাগ্রত নির্মল নূতন প্রাণ ত্যাগব্রতে নিক দীক্ষা, বিঘ্ন হতে নিক শিক্ষা— নিষ্ঠুর সঙ্কট দিক সম্মান। দুঃখই হোক তব বিত্ত মহান। চল’ যাত্রী, চল’ দিনরাত্রি— কর’ অমৃতলোকপথ অনুসন্ধান। জড়তাতামস হও উত্তীর্ণ, ক্লান্তিজাল কর’ দীর্ণ বিদীর্ণ— দিন-অন্তে অপরাজিত চিত্তে মৃত্যুতরণ তীর্থে কর’ স্নান॥ ভারততীর্থ। স্বরবিতান ৪৭

সঙ্কোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান

                সঙ্কোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান,                 সঙ্কটের কল্পনাতে হোয়ো না ম্রিয়মাণ। মুক্ত করো ভয়,    আপনা-মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়।                 দুর্বলেরে রক্ষা করো, দুর্জনেরে হানো,                 নিজেরে দীন নিঃসহায় যেন কভু না জানো। মুক্ত করো ভয়,    নিজের ‘পরে করিতে ভর না রেখো সংশয়।                 ধর্ম যবে শঙ্খরবে করিবে আহ্বান                 নীরব হয়ে নম্র হয়ে পণ করিয়ো প্রাণ। মুক্ত করো ভয়,    দুরূহ কাজে নিজেরই দিয়ো কঠিন পরিচয়॥

সাধন কি মোর আসন নেবে

          সাধন কি মোর আসন নেবে হট্টগোলের কাঁধে?           খাঁটি জিনিস হয় রে মাটি নেশার পরমাদে॥ কথায় তো শোধ হয় না দেনা,   গায়ের জোরে জোড় মেলে না—           গোলেমালে ফল কি ফলে জোড়াতাড়ার ছাঁদে?।           কে বলো তো বিধাতারে তাড়া দিয়ে ভোলায়?           সৃষ্টিকরের ধন কি মেলে জাদুকরের ঝোলায়? মস্ত-বড়োর লোভে শেষে               মস্ত ফাঁকি জোটে এসে,           ব্যস্ত-আশা জড়িয়ে পড়ে সর্বনাশার ফাঁদে॥ স্বরবিতান ৪৬

সার্থক জনম আমার

          সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে।           সার্থক জনম, মা গো, তোমায় ভালোবেসে॥ জানি নে তোর ধনরতন   আছে কি না রানীর মতন, শুধু   জানি আমার অঙ্গ জুড়ায় তোমার ছায়ায় এসে॥ কোন্ বনেতে জানি নে ফুল   গন্ধে এমন করে আকুল,           কোন্ গগনে ওঠে রে চাঁদ এমন হাসি হেসে। আঁখি মেলে তোমার আলো   প্রথম আমার চোখ জুড়ালো,           ওই আলোতেই নয়ন রেখে মুদব নয়ন শেষে॥ ভারততীর্থ। স্বরবিতান ৪৬

হে মোর চিত্ত, পুণ্য তীর্থে জাগো

হে মোর চিত্ত, পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে। হেথায় দাঁড়ায়ে দু বাহু বাড়ায়ে নমি নরদেবতারে— উদার ছন্দে, পরমানন্দে বন্দন করি তাঁরে। ধ্যানগম্ভীর এই-যে ভূধর,   নদী-জপমালা-ধৃত প্রান্তর, হেথায় নিত্য হেরো পবিত্র ধরিত্রীরে— এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে॥   কেহ নাহি জানে কার আহ্বানে কত মানুষের ধারা দুর্বার স্রোতে এল কোথা হতে, সমুদ্রে হল হারা। হেথায় আর্য, হেথা অনার্য, হেথায় দ্রাবিড় চীন— শক-হুন-দল পাঠান-মোগল এক দেহে হল লীন। পশ্চিমে আজি খুলিয়াছে দ্বার,   সেথা হতে সবে আনে উপহার, দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে, যাবে না ফিরে— এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে॥   এসো হে আর্য, এসো অনার্য, হিন্দু-মুসলমান। এসো এসো আজ তুমি ইংরাজ, এসো এসো খৃস্টান। এসো ব্রাহ্মণ, শুচি করি মন ধরো হাত সবাকার। এসো হে পতিত, হোক অপনীত সব অপমানভার।… Read more হে মোর চিত্ত, পুণ্য তীর্থে জাগো