খ্যাপা তুই আছিস আপন খেয়াল ধরে।

খ্যাপা তুই  আছিস আপন খেয়াল ধরে। যে আসে    তোরই পাশে, সবাই হাসে দেখে তোরে॥ জগতে       যে যার আছে আপন কাজে দিবানিশি। তারা        পায় না বুঝে তুই কী খুঁজে ক্ষেপে-বেড়াস জনম ভ’রে॥ তোর        নাই অবসর, নাইকো দোসর ভবের মাঝে। তোরে       চিনতে যে চাই, সময় না পাই নানান কাজে। ওরে, তুই  কী শুনাতে এত প্রাতে মরিস ডেকে? এ যে        বিষম জ্বালা ঝালাপালা, দিবি সবায় পাগল করে। ওরে, তুই  কী এনেছিস, কী টেনেছিস ভাবের জালে? তার কি     মূল্য আছে কারো কাছে কোনো কালে?। আমরা       লাভের কাজে হাটের মাঝে ডাকি তোরে! তুই কি     সৃষ্টিছাড়া, নাইকো সাড়া, রয়েছিস কোন্ নেশায় ঘোরে? এ জগত্‍‌      আপন মতে আপন পথে চলে যাবে— বসে তুই    আর-এক কোণে নিজের মনে নিজের ভাবে॥ ওরে ভাই,  ভাবের সাথে ভবের মিলন হবে কবে— মিছে তুই   তারি লাগি আছিস জাগি না জানি কোন্ আশার জোরে॥ স্বরবিতান ৫১

ঘরে মুখ মলিন দেখে গলিস নে

     ঘরে মুখ মলিন দেখে গলিস নে— ওরে ভাই,      বাইরে মুখ আঁধার দেখে টলিস নে— ওরে ভাই॥ যা তোমার আছে মনে   সাধো তাই পরানপণে,      শুধু তাই দশজনারে বলিস নে— ওরে ভাই॥ একই পথ আছে ওরে,   চলো সেই রাস্তা ধরে,      যে আসে তারই পিছে চলিস নে— ওরে ভাই! থাক্‌-না আপন কাজে,   যা খুশি বলুক-না যে,      তা নিয়ে গায়ের জ্বালায় জ্বলিস নে— ওরে ভাই॥ বাউল সুর

চলো যাই, চলো, যাই চলো

চলো   যাই, চলো, যাই চলো, যাই—      চলো   পদে পদে সত্যের ছন্দে           চলো   দুর্জয় প্রাণের আনন্দে!               চলো   মুক্তিপথে,      চলো বিঘ্নবিপদজয়ী মনোরথে করো ছিন্ন, করো ছিন্ন, করো ছিন্ন—               স্বপ্নকুহক করো ছিন্ন।           থেকো না জড়িত অবরুদ্ধ                         জড়তার জর্জর বন্ধে।      বলো   জয় বলো, জয় বলো, জয়—           মুক্তির জয় বলো ভাই॥        চলো   দুর্গমদূরপথযাত্রী   চলো দিবারাত্রি,                    করো জয়যাত্রা,      চলো বহি নির্ভয় বীর্যের বার্তা,           বলো   জয় বলো, জয় বলো, জয়—               সত্যের জয় বলো ভাই॥        দুর করো সংশয়শঙ্কার ভার,           যাও চলি তিমিরদিগন্তের পার।… Read more চলো যাই, চলো, যাই চলো

ছি ছি, চোখের জলে ভেজাস নে

          ছি ছি,  চোখের জলে ভেজাস নে আর মাটি।           এবার   কঠিন হয়ে থাক্‌-না ওরে, বক্ষোদুয়ার আঁটি—               জোরে       বক্ষোদুয়ার আঁটি॥           পরানটাকে গলিয়ে ফেলে   দিস নে, রে ভাই, পথে ঢেলে                              মিথ্যে অকাজে—           ওরে    নিয়ে তারে চলবি পারে কতই বাধা কাটি,               পথের       কতই বাধা কাটি॥           দেখলে ও তোর জলের ধারা   ঘরে পরে হাসবে যারা                              তারা চার দিকে—           তাদের      দ্বারেই গিয়ে কান্না জুড়িস,   যায় না কি বুক ফাটি,               লাজে        যায় না কি বুক ফাটি?। দিনের বেলা জগত্‍‌-মাঝে   সবাই যখন চলছে কাজে   আপন গরবে—           তোরা  পথের ধারে ব্যথা নিয়ে করিস ঘাঁটাঘাঁটি—                         কেবল   করিস ঘাঁটাঘাঁটি॥ স্বরবিতান ৪৬

জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা

জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা! পঞ্জাব সিন্ধু গুজরাট মরাঠা দ্রাবিড় উত্‍‌কল বঙ্গ বিন্ধ্য হিমাচল যমুনা গঙ্গা উচ্ছলজলধিতরঙ্গ      তব শুভ নামে জাগে,    তব শুভ আশিস মাগে,                    গাহে তব জয়গাথা। জনগণমঙ্গলদায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!      জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয়, জয় হে॥ অহরহ তব আহ্বান প্রচারিত, শুনি তব উদার বাণী হিন্দু বৌদ্ধ শিখ জৈন পারসিক মুসলমান খৃস্টানী      পূরব পশ্চিম আসে  তব সিংহাসন-পাশে                    প্রেমহার হয় গাঁথা। জনগণ-ঐক্য-বিধায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!      জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয়, জয় হে॥ পতন-অভ্যুদয়-বন্ধুর পন্থা, যুগ-যুগ ধাবিত যাত্রী। হে চিরসারথি, তব রথচক্রে মুখরিত পথ দিনরাত্রি।      দারুণ বিপ্লব-মাঝে  তব শঙ্খধ্বনি বাজে                    সঙ্কটদুঃখত্রাতা। জনগণপথপরিচায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!      জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয় জয় হে॥ ঘোরতিমিরঘন নিবিড় নিশীথে পীড়িত মূর্ছিত দেশে… Read more জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা

জননীর দ্বারে আজি

জননীর দ্বারে আজি ঐ শুন গো শঙ্খ বাজে। থেকো না থেকো না, ওরে ভাই, মগন মিথ্যা কাজে॥      অর্ঘ্য ভরিয়া আনি ধরো গো পূজার থালি,      রতনপ্রদীপখানি যতনে আনো গো জ্বালি,      ভরি লয়ে দুই পাণি বহি আনো ফুলডালি,               মার আহ্বানবাণী রটাও ভুবনমাঝে॥ আজি প্রসন্ন পবনে নবীন জীবন ছুটিছে। আজি প্রফুল্ল কুসুমে নব সুগন্ধ উঠিছে।      আজি উজ্জ্বল ভালে তোলো উন্নত মাথা,      নবসঙ্গীততালে গাও গম্ভীর গাথা,      পরো মাল্য কপালে নবপল্লব-গাঁথা,               শুভ সুন্দর কালে সাজো সাজো নব সাজে॥ ভারততীর্থ। স্বরবিতান ৪৬

তোর আপন জনে ছাড়বে তোরে

          তোর   আপন জনে ছাড়বে তোরে,               তা ব’লে    ভাবনা করা চলবে না।           ও তোর          আশালতা পড়বে ছিঁড়ে,               হয়তো রে ফল ফলবে না॥ আসবে পথে আঁধার নেমে,       তাই ব’লেই কি রইবি থেমে—           ও তুই      বারে বারে জ্বালবি বাতি,               হয়তো বাতি জ্বলবে না॥ শুনে তোমার মুখের বাণী         আসবে ঘিরে বনের প্রাণী—           হয়তো তোমার আপন ঘরে               পাষাণ হিয়া গলবে না। বদ্ধ দুয়ার দেখলি ব’লে  অমনি কি তুই আসবি চলে—           তোরে       বারে বারে ঠেলতে হবে,               হয়তো দুয়ার টলবে না॥

দেশ দেশ নন্দিত করি

          দেশ দেশ নন্দিত করি মন্দ্রিত তব ভেরী           আসিল যত বীরবৃন্দ আসন তব ঘেরি।           দিন আগত ওই,   ভারত তবু কই?           সে কি রহিল লুপ্ত আজি সব-জন পশ্চাতে?           লউক বিশ্বকর্মভার মিলি সবার সাথে। প্রেরণ কর’ ভৈরব তব দুর্জয় আহ্বান হে,   জাগ্রত ভগবান হে॥             বিঘ্নবিপদ দুঃখদহন তুচ্ছ করিল যারা           মৃত্যুগহন পার হইল, টুটিল মোহকারা।           দিন আগত ওই,   ভারত তবু কই?           নিশ্চল নিবীর্যবাহু কর্মকীর্তিহীনে           ব্যর্থশক্তি নিরানন্দ জীবনধনদীনে প্রাণ দাও, প্রাণ দাও, দাও দাও প্রাণ হে,   জাগ্রত ভগবান হে॥             নূতনযুগসূর্য উঠিল, ছুটিল তিমিররাত্রি,           তব মন্দির-অঙ্গন ভরি মিলিল সকল যাত্রী।           দিন আগত ওই,   ভারত তবু কই?           গতগৌরব, হৃত-আসন, নতমস্তক লাজে—           গ্লানি তার মোচন কর’ নরসমাজমাঝে। স্থান দাও, স্থান দাও, দাও দাও স্থান হে,   জাগ্রত ভগবান হে॥… Read more দেশ দেশ নন্দিত করি

নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়

নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়, খুলে যাবে এই দ্বার— জানি জানি তোর বন্ধনডোর ছিঁড়ে যাবে বারে বার॥ খনে খনে তুই হারায়ে আপনা   সুপ্তিনিশীথ করিস যাপনা— বারে বারে তোরে ফিরে পেতে হবে বিশ্বের অধিকার॥ স্থলে জলে তোর আছে আহ্বান, আহ্বান লোকালয়ে— চিরদিন তুই গাহিবি যে গান সুখে দুখে লাজে ভয়ে। ফুলপল্লব নদীনির্ঝর   সুরে সুরে তোর মিলাইবে স্বর— ছন্দে যে তোর স্পন্দিত হবে আলোক অন্ধকার॥

নিশিদিন ভরসা রাখিস

নিশিদিন   ভরসা রাখিস,   ওরে মন,   হবেই হবে। যদি পণ     করে থাকিস      সে পণ তোমার রবেই রবে।               ওরে মন,   হবেই হবে॥ পাষাণসমান আছে পড়ে,          প্রাণ পেয়ে সে উঠবে ওরে,      আছে যারা বোবার মতন তারাও কথা কবেই কবে॥ সময় হল, সময় হল— যে যার আপন বোঝা তোলো রে—      দুঃখ যদি মাথায় ধরিস সে দুঃখ তোর সবেই সবে। ঘণ্টা যখন উঠবে বেজে     দেখবি সবাই আসবে সেজে—      এক সাথে সব যাত্রী যত একই রাস্তা লবেই লবে॥

বাংলার মাটি, বাংলার জল

বাংলার মাটি, বাংলার জল,   বাংলার বায়ু, বাংলার ফল— পুণ্য হউক, পুণ্য হউক, পুণ্য হউক হে ভগবান॥ বাংলার ঘর, বাংলার হাট,   বাংলার বন, বাংলার মাঠ— পূর্ণ হউক, পূর্ণ হউক, পূর্ণ হউক হে ভগবান॥ বাঙালির পণ, বাঙালির আশা, বাঙালির কাজ, বাঙালির ভাষা— সত্য হউক, সত্য হউক, সত্য হউক হে ভগবান॥ বাঙালির প্রাণ, বাঙালির মন,   বাঙালির ঘরে যত ভাই বোন— এক হউক, এক হউক, এক হউক হে ভগবান॥ স্বরবিতান ৪৬। গীতিচর্চা ২

বিধির বাঁধন কাটবে তুমি

          বিধির বাঁধন কাটবে তুমি এমন শক্তিমান—               তুমি কি   এমন শক্তিমান! আমাদের   ভাঙাগড়া তোমার হাতে এমন অভিমান—               তোমাদের   এমনি অভিমান॥      চিরদিন টানবে পিছে,   চিরদিন   রাখবে নীচে—      এত বল   নাই রে তোমার,   সবে না সেই টান॥ শাসনে   যতই ঘেরো   আছে বল   দুর্বলেরও,      হও-না   যতই বড়ো   আছেন ভগবান।           আমাদের   শক্তি মেরে   তোরাও   বাঁচবি নে রে,               বোঝা তোর   ভারী হলেই ডুববে তরীখান। স্বরবিতান ৪৬

বুক বেঁধে তুই দাঁড়া দেখি

     বুক বেঁধে তুই দাঁড়া দেখি,   বারে বারে হেলিস নে ভাই!      শুধু তুই    ভেবে ভেবেই হাতের লক্ষ্ণী   ঠেলিস নে ভাই॥ একটা কিছু করে নে ঠিক,       ভেসে ফেরা মরার অধিক—      বারেক এ দিক বারেক ও দিক,  এ খেলা আর খেলিস নে ভাই॥ মেলে কিনা মেলে রতন   করতে তবু হবে যতন—      না যদি হয় মনের মতন   চোখের জলটা ফেলিস নে ভাই! ভাসাতে হয় ভাসা ভেলা,   করিস নে আর হেলাফেলা—      পেরিয়ে যখন যাবে বেলা   তখন আঁখি মেলিস নে ভাই॥ স্বরবিতান ৪৬

ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা

ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে আগুন জ্বালো। একলা রাতের অন্ধকারে   আমি চাই   পথের আলো॥      দুন্দুভিতে হল রে কার আঘাত শুরু,      বুকের মধ্যে উঠল বেজে গুরুগুরু— পালায় ছুটে সুপ্তিরাতের স্বপ্নে-দেখা মন্দ ভালো॥      নিরুদ্দেশের পথিক আমায় ডাক দিলে কি—      দেখতে তোমায় না যদি পাই নাই-বা দেখি।      ভিতর থেকে ঘুচিয়ে দিলে চাওয়া পাওয়া, ভাব্‌নাতে মোর লাগিয়ে দিলে ঝড়ের হাওয়া বজ্রশিখায় এক পলকে মিলিয়ে দিলে সাদা কালো॥ স্বরবিতান ৫৬

মা কি তুই পরের দ্বারে

     মা কি তুই       পরের দ্বারে পাঠাবি তোর ঘরের ছেলে?      তারা যে         করে হেলা, মারে ঢেলা, ভিক্ষাঝুলি দেখতে পেলে॥                         করেছি      মাথা নিচু,    চলেছি   যাহার পিছু                              যদি বা     দেয় সে কিছু অবহেলে—      তবু কি          এমনি করে ফিরব ওরে আপন মায়ের প্রসাদ ফেলে?।                         কিছু মোর  নেই ক্ষমতা    সে যে ঘোর   মিথ্যে কথা,                         এখনো     হয় নি মরণ শক্তিশেলে—      আমাদের         আপন শক্তি আপন ভক্তি চরণে তোর দেব মেলে॥                         নেব গো          মেগে-পেতে   যা আছে    তোর ঘরেতে,                              দে গো তোর   আঁচল পেতে চিরকেলে— আমাদের    সেইখেনে মান,   সেইখেনে প্রাণ,   সেইখেনে দিই হৃদয় ঢেলে॥ স্বরবিতান ৪৬

মাতৃমন্দির-পুণ্য-অঙ্গন কর

মাতৃমন্দির-পুণ্য-অঙ্গন কর’ মহোজ্জ্বল আজ হে বর      -পুত্রসঙ্ঘ বিরাজ’ হে। শুভ     শঙ্খ বাজহ বাজ’ হে। ঘন      তিমিররাত্রির চির প্রতীক্ষা           পূর্ণ কর’, লহ’ জ্যোতিদীক্ষা,           যাত্রীদল সব সাজ’ হে। শুভ     শঙ্খ বাজহ বাজ’ হে। বল      জয় নরোত্তম, পুরুষসত্তম,           জয় তপস্বিরাজ হে।           জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় হে। এস’     বজ্রমহাসনে মাতৃ-আশীর্ভাষণে, সকল সাধক এস’ হে,   ধন্য কর’ এ দেশ হে। সকল যোগী, সকল ত্যাগী, এস’ দুঃসহদুঃখভাগী— এস’ দুর্জয়শক্তিসম্পদ মুক্তবন্ধ সমাজ হে। এস’ জ্ঞানী, এস’ কর্মী নাশ’ ভারতলাজ হে।             এস’ মঙ্গল, এস’ গৌরব,             এস’ অক্ষয়পুণ্যসৌরভ, এস’ তেজঃসূর্য উজ্জ্বল কীর্তি-অম্বর মাঝ হে বীরধর্মে পুণ্যকর্মে বিশ্বহৃদয় রাজ’ হে। শুভ     শঙ্খ বাজহ বাজ’ হে।… Read more মাতৃমন্দির-পুণ্য-অঙ্গন কর

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে

যদি তোর   ডাক শুনে কেউ না আসে   তবে   একলা চলো রে। একলা চলো,   একলা চলো,   একলা চলো,   একলা চলো রে॥ যদি   কেউ কথা না কয়,   ওরে ওরে ও অভাগা, যদি   সবাই থাকে মুখ ফিরায়ে   সবাই করে ভয়—                    তবে   পরান খুলে ও তুই   মুখ ফুটে তোর মনের কথা   একলা বলো রে॥ যদি   সবাই ফিরে যায়,   ওরে ওরে ও অভাগা, যদি   গহন পথে যাবার কালে কেউ ফিরে না চায়—                    তবে   পথের কাঁটা ও তুই   রক্তমাখা চরণতলে   একলা দলো রে॥ যদি   আলো না ধরে,   ওরে ওরে ও অভাগা, যদি   ঝড়-বাদলে আঁধার রাতে   দুয়ার দেয় ঘরে—                    তবে   বজ্রানলে আপন   বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে   একলা জ্বলো রে॥

যদি তোর ভাবনা থাকে

যদি তোর   ভাবনা থাকে ফিরে যা-না।   তবে তুই   ফিরে যা-না।               যদি তোর   ভয় থাকে তো করি মানা॥ যদি তোর   ঘুম জড়িয়ে থাকে গায়ে   ভুলবি যে পথ পায়ে পায়ে, যদি তোর   হাত কাঁপে তো নিবিয়ে আলো সবারে করবি কানা॥ যদি তোর   ছাড়তে কিছু না চাহে মন   করিস ভারী বোঝা আপন— তবে তুই   সইতে কভু পারবি নে রে   এ বিষম পথের টানা॥ যদি তোর   আপনা হতে অকারণে   সুখ সদা না জাগে মনে তবে তুই   তর্ক ক’রে সকল কথা করিবি নানাখানা॥ স্বরবিতান ৪৬

যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক

     যে তোমায়  ছাড়ে ছাড়ুক,    আমি তোমায় ছাড়ব না মা!                         আমি    তোমার চরণ— মা গো, আমি   তোমার চরণ করব শরণ,   আর কারো ধার ধারব না মা॥           কে বলে তোর দরিদ্র ঘর,    হৃদয় তোর রতনরাশি— আমি    জানি গো তার মূল্য জানি,   পরের আদর কাড়ব না মা॥      মানের আশে দেশবিদেশে   যে মরে সে মরুক ঘুরে— তোমার   ছেঁড়া কাঁথা আছে পাতা,   ভুলতে সে যে পারব না মা!।      ধনে মানে লোকের টানে     ভুলিয়ে নিতে চায় যে আমায়— ও মা,    ভয় যে জাগে শিয়র-বাগে,   কারো কাছেই হারব না মা॥ স্বরবিতান ৪৬

যে তোরে পাগল বলে

যে তোরে   পাগল বলে   তারে তুই   বলিস নে কিছু॥ আজকে তোরে কেমন ভেবে   অঙ্গে যে তোর ধুলো দেবে কাল সে প্রাতে মালা হাতে আসবে রে তোর পিছু-পিছু॥ আজকে আপন মানের ভরে   থাক্ সে বসে গদির’পরে— কালকে প্রেমে আসবে নেমে, করবে সে তার মাথা নিচু॥ স্বরবিতান ৪৬