চোখের চাতক

আঁধার রাতে কে গো একেলা

দেশ-পিলু – দাদরা আঁধার রাতে কে গো একেলা নয়ন-সলিলে ভাসালে ভেলা। কাঁদিয়া কারে খোঁজো ওপারে আজও যে তোমার প্রভাতবেলা॥ কী দুখে আজি যোগিনী সাজি আপনারে লয়ে এ হেলাফেলা॥ সোনার কাঁকন ও দুটি করে হেরো গো জড়ায়ে মিনতি করে। খুলিয়া ধুলায় ফেলো না গো তায় সাধিছে নূপুর চরণ ধরে। হেরো গো...

আজি এ শ্রাবণ-নিশি কাটে কেমনে

মিঁয়া কী মল্লার – কাওয়ালি আজি এ শ্রাবণ-নিশি কাটে কেমনে গুর দেয়া-গরজন কাঁপে হিয়া ঘনঘন শনশন কাঁদে বায়ু নীপ-কাননে॥ অন্ধ নিশীথ, মন খোঁজে কারে আঁধারে, অন্ধ নয়ন ঝরে শাওন-বারিধারে। ভাঙিয়া দুয়ার মম এসো এসো প্রিয়তম, শ্বসিছে বাহির ঘর ভেজা পবনে॥ কার চোখে এত জল ঝরে দিক প্লাবিয়া,...

আজি বাদল ঝরে মোর একেলা ঘরে

ভৈরবী-আশাবরি – আদ্ধা কাওয়ালি আজি বাদল ঝরে মোর একেলা ঘরে হায় কী মনে পড়ে মন এমন করে॥ হায় এমন দিনে কে নীড়হারা পাখি যাও কাঁদিয়া কোথায় কোন, সাথিরে ডাকি। তোর ভেঙেছে পাখা কোন্‌ কুল ঝড়ে॥ আয় ঝড়ের পাখি আয়এ একা বুকে, আয় দিব রে আশয় মোর গহন-দুখে, আয় রচিব কুলায় আজ নূতন করে॥ এই ঝড়ের...

আমার কোন কূলে আজ ভিড়ল তরি

খাম্বাজ-পিলু – দাদরা আমার কোন কূলে আজ ভিড়ল তরি এ কোন্ সোনার গাঁয়। আমার ভাটির তরি আবার কেন উজান যেতে চায়॥ আমার দুঃখের কাণ্ডারি করি আমি ভাসিয়েছিলাম ভাঙা তরি, তুমি ডাক দিলে কে স্বপনপরি নয়ন-ইশারায়॥ আমার নিভিয়ে দিয়ে ঘরের বাতি ডেকেছিল ঝড়ের রাতি, তুমি কে এলে মোর সুরের সাথি...

আমার গহিন জলের নদী

ভাটিয়ালি – কাহারবা আমার গহিন জলের নদী। আমি তোমার জলে রইলাম ভেসে জনম অবধি॥ তোমার বানে ভেসে গেল আমার বাঁধা ঘর চরে এসে বসলাম রে ভাই ভাসালে সে চর। এখনসব হারায়ে তোমার জলে রে আমি ভাসি নিরবধি॥ আমার ঘর ভাঙিল ঘর পাব ভাই ভাঙলে কেন মন, হারালে আর পাওয়া না যায় মনের রতন। জোয়ার মন...

আমার দুখের বন্ধু, তোমার কাছে

ছায়ানট-কেদারা – একতালা আমার দুখের বন্ধু, তোমার কাছে চাইনি তো এ সুখ। আমিজানিনি তো বুকে পেয়েও কাঁদবে এমন বুক॥ আমারশাখায় যবে ফোটেনি ফুল আমি চেয়েছি পথ আশায় আকুল, আজ ফোটা ফুলে কাঁদে কেন কুসুম ঝরার দুখ॥ প্রিয়, মিলন-আশায় ছিনু সুখে ছিলে যবে দূর। আজ কাছে পেয়ে পরান কাঁদে...

আমার সাম্পান যাত্রী না লয়

ভাটিয়ালি – কার্ফা আমার সাম্পান যাত্রী না লয় ভাঙা আমার তরি। আমিআপনারে লয়ে রে ভাই এপার ওপার করি॥ আমায় দেউলিয়া করেছে রে ভাই যে নদীর জল আমি ডুবে দেখতে এসেছি ভাই সেই জলেরই তল। আমি ভাসতে আসি, আসিনিকো কামাতে ভাই কড়ি॥ আমি এই জলেরই আয়নাতে ভাই দেখেছিলাম তায় এখন আয়না আছে পড়ে রে...

আমি কী সুখে লো গৃহে রব

কীর্তন আমি কী সুখে লো গৃহে রব। আমার শ্যাম হল যদি যোগী ওলো সখী আমিও যোগিনী হব॥ সেআমারই ধেয়ান করিত গো সদা তার সে ধ্যান ভাঙিল যদি, ওলো সে ভোলে ভুলুক, আমি ওই রূপ ধেয়াইব নিরবধি। আমিও যোগিনী হব। শ্যামযে তরুর মূলে বসিবে লো ধ্যানে সেথা আঁচল বিছায়ে রব। আমি ধুলায় বসতে দেব না...

আসিলে কে অতিথি সাঁঝে

ভূপালি – আদ্ধা-কাওয়ালি আসিলে কে অতিথি সাঁঝে পূজার ফুল ঝরে বন-মাঝে॥ দেউল মুখরিত বন্দনা-গানে, আকাশ-আঁখি চাহে তব পানে। দোলে ধরাতল দীপ-ঝলমল, নৌবতে ভূপালি...

এত কথা কি গো কহিতে জানে

খাম্বাজ-দেশ – দাদরা এত কথা কি গো কহিতে জানে চঞ্চল ওই আঁখি। নীরব ভাষায় কী যে কহে যায় মনের বনের পাখি – চঞ্চল ওই আঁখি॥ মুদিত কমলে ভ্রমরেরই প্রায় বন্দি হইয়া কাঁদিয়া বেড়ায়, চাহিয়া চাহিয়া মিনতি জানায় সুনীল আকাশে ডাকি – চঞ্চল ওই আঁখি॥ বুঝিতে পারি না ও আঁখির ভাষা জলে ডুবে তবু...

এলে কী শ্যামল পিয়া কাজল মেঘে

কাজরি – কাহারবা এলে কী শ্যামল পিয়া কাজল মেঘে চাঁচর চিকুর ওড়ে পবন-বেগে॥ তোমার লাবণি ঝরে পড়িছে অবনি পরে, কদম শিহরে কর-পরশ লেগে॥ তড়িত ত্বরিত পায়ে বিরহী-আঁখের ছায়ে তরাসে লুকায়। ছুটিতে পথের মাঝে ঝুমুর ঝুমুর বাজে ঘুঙুর দু-পায়। অশনি হানার ছলে প্রিয়ারে ধরাও গলে, রাতের মুকুল...

ওগো সুন্দর আমার

(ভজন) ভৈরবী – দাদরা ওগো সুন্দর আমার! সুন্দর আমার, এ কী দিলে উপহার॥ আমি দিনু পূজা-ফুল, বর দিতে দিলে ভুল, ভাঙিল আমার কূল, তব স্রোতধার॥ গরল দিলে যে এই অমৃত আমার সেই, শুকাল নিশি-শেষেই রাতের নীহার॥ তোমার সুখ-ছোঁয়ায় ফুটেছে ফুল শাখায়, তোমারই উতল বায় ঝরিল...

ওরে মাঝি ভাই

ভাটিয়ালি – কাহারবা ওরে মাঝি ভাই। তুইকী দুখ পেয়ে কূল হারালি অকূল দরিয়ায়॥ তোর ঘরের রশি ছিঁড়ে রে গেল – ঘাটের কড়ি নাই, তুই মাঝদরিয়ায় ভেসে চলিস ভাসিয়ে তরি তাই। ও ভাই দরিয়ায় আসে জোয়ার-ভাটি রে তোর ওই চক্ষের পানি চাই॥ তোর চোখের জল ভাই ছাপাতে চাস নদীর জলে এসে, শেষে নদীই এল...

কাঁদিতে এসেছি আপনার লয়ে

জয়জয়ন্তী – একতালা কাঁদিতে এসেছি আপনার লয়ে কাঁদাতে আসিনি হে প্রিয় তোমারে। এ মম আঁখি-জল আমারই নয়নের ঝরিবে না এ জল তোমার দুয়ারে॥ ভালো যদি বাসি একাকী বাসিব, বিরহ-পাথারে একাকী ভাসিব। কভু যদি ভুলে আসি তব কূলে, চমকি চলিয়া যাব দূর-পারে॥ কাঁটার বনে মোর ক্ষণিকের তরে ফুটেছ রাঙা...

কার বাঁশরি বাজে মুলতানি-সুরে

মুলতান – একতালা কার বাঁশরি বাজে মুলতানি-সুরে নদীকিনারে কে জানে। সে জানে না কোথা সে সুরে ঝরে ঝর-নির্ঝর পাষাণে॥ একে চৈতালি-সাঁঝ অলস তাহে ঢলঢল কাঁচা বয়স রহে চাহিয়া ভাসে কলস ভাসে হৃদি বাঁশুরিয়া পানে॥ বেণি বাঁধিতে বসি অঙ্গনে বধূ কাঁদে গো বাঁশরি-স্বনে। যারে হারায়েছে হেলাভরে...

কী হবে লাল পাল তুলে ভাই

ভাটিয়ালি – কার্ফা কী হবে লাল পাল তুলে ভাই সাম্পানের উপর। তোর পালে যত লাগবে হাওয়া রে ও ভাই ঘর হবে তোর ততই পর॥ তোর কী দুঃখ হায় ভুলতে চাস ভাই, ছেঁড়া পাল রাঙিয়ে, এবার পরান ভরে কেঁদে নে তুই অগাধ জলে নেয়ে॥ তোর কাঁদনে উঠে আসুক রে ওই নদীর থেকে বালুর চর॥ তুই কীসের আশায় দিবি রে...

কে এল ডাকে চোখ গেল

কালাংড়া – কাহারবা-দাদরা কে এল। ডাকে চোখ গেল, ডাকে চোখ গেল, ডাকে চোখ গেল॥ ওলো ও ডাকে কী ও ঘুমের সতিনি ও, ও যে চোখের বালি। ঘুম ভাঙায় খালি। সখী আঁখি মেলো॥ মেলোআঁখি...

কে ডাকিল আমারে আঁখি তুলে

ভৈরবী – কার্ফা কে ডাকিল আমারে আঁখি তুলে, এই প্রভাতে তটিনি-কূলে কূলে॥ ওই ঘুমায়ে সকলই, জাগেনি কেউ, জল নিতে আসেনি এখনও বউ, শুধু তব নদীতে জেগেছে ঢেউ, মেলেছে নয়ন কানন-ফুলে॥ যে সুবাস ঝরে ও এলোকেশে কমলে তা দিলে নাহিতে এসে, তব তনুবাস দিঘিতে ভেসে মাতাইছে, মধুপ পথ ভুলে॥ ও শিশির...

কে তুমি দূরের সাথি

পুরবি – একতালা কে তুমি দূরের সাথি এলে ফুল ঝরার বেলায়। বিদায়ের বংশী বাজে ভাঙা মোর প্রাণের মেলায়॥ গোধূলির মায়ায় ভুলে এলে হায় সন্ধ্যা-কূলে, দীপহীন মোর দেউলে এলে কোন্‌ লোর খেলায়॥ সেদিনও প্রভাতে মোর বেজেছে আশাবরি, পুরবির কান্না শুনি আজি মোর শূন্য ভরি। অবেলায় কুঞ্জবীথি এলে...

কেউ ভোলে না কেউ ভোলে

মান্দ – কাহারবা কেউ ভোলে না কেউ ভোলে অতীত দিনের স্মৃতি। কেউ দুখ লয়ে কাঁদে, কেউ ভুলিতে গায় গীতি॥ কেউ শীতল জলদে হেরে অশনির জ্বালা, কেউ মঞ্জুরিয়া তোলে তার শুষ্ক কুঞ্জ-বীথি॥ হেরে কমল-মৃণালে কেউ কাঁটা কেহ কমল। কেউ ফুল দলি চলে কেউ মালা গাঁথে নিতি॥ কেউ জ্বালে না আর আলো তার...